রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানানো নিয়ে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও।জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে—এই খবর জানাজানি হলে রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি গতকাল বিকেলে ডাকসু সংগ্রহশালায় টানিয়ে দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।দিনভর প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিরল আলোকচিত্র, পেপার কাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল ডাকসু সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে। সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত রোববার আবার চালু করা হয়। এতে নতুন করে রাখা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা আগে ছিল।জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জিন্নাহর ছবি না দিলে বলা হতো, তাঁর (জিন্নাহ) বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান লুকানো হয়েছে।ছিঁড়ে ফেলা ছবিজিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘যিনি ছবিটি ছিঁড়েছেন, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। এ কারণে তিনি জিন্নাহর প্রতি আলাদা দরদ থেকে এমনটি করে থাকতে পারেন।’এর আগে গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদএক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অঙ্গসংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদারগতকাল বেলা তিনটার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানান। জিন্নাহর ছবি যেখানে লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানানো হয়।অর্ক বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল—এই তিন বাম ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করে। রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অবস্থিত ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি টানানো নিয়ে প্রতিবাদ জানান।ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনঅধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে করা কমিটি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনা তদন্ত করবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার বিষয়েও তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছবি লাগানো বা ডাকসুর নেওয়া এই কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছে। এ এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন-সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করেন। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক হরিদাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম আই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত হরিদাস চন্দ্র তরণীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, ওবাইদুল ইসলাম তার কলেজজীবনের বন্ধু। তারা দুজনই রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় বসবাস করেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে বলে মাহবুবকে জানান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ পরিচয়ের সূত্র ধরে নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে ওবাইদুলের সঙ্গে মাহবুবের কথা হয়। এক পর্যায়ে তিনি প্রথম দফায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হলে মাহবুব সেই টাকাও পরিশোধ করেন। কিন্তু, টাকা নেওয়ার পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ওবাইদুল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মাহবুব। পরে টাকা ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে আসবেন। পরে হরিদাস ওই অফিসে এসে মাহবুবকে জানান, তার কাছে নগদ টাকা নেই; তবে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি সেটি মাহবুবকে দিতে পারবেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হরিদাসের ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে মাহবুব আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। সব মিলিয়ে ওবাইদুল ও হরিদাস মিলে তার কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এরপরও তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করেন মাহবুব। এর আগে, ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলাটি করেন ইউনিটটির এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলার পরদিন হরিদাসকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, ১২ জুলাই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেফতার করে। এমডিএএ/এএমএ
দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা লেখেন। পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবু সাদিক কায়েমকে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন। তিনি আরও লেখেন, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতের ভিন্নতা থাকুক, তবে থাকুক সৌহার্দ্য, সৌজন্য ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে এনসিপি। এএমএ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে।২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের পর সম্ভবত দেশটির দায়িত্ব নেবেন তাঁর মেয়ে। ধারণা করা হয়, ওই মেয়ের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর। তাঁর নাম কিম জু এ।বিবৃতিতে এনআইএস বলেছে, কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তবে কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও, সে হয়তো তাঁর উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থায় নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে নাকি মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।কিমের পর তাঁর মেয়ে দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হয়এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস জানিয়েছিল, কিম জু এর একজন বড় ভাই আছে। তবে সেবারও পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা এখনো যাচাই করে দেখছে।কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিকতা। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য।সে হিসেবে কিমের উত্তরসূরি তাঁর মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব মেনে না–ও নিতে পারেন। এ ছাড়া কিম জু এ যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাও পান, তাহলে দেশটির শাসনভার তাঁর পরিবারের হাত থেকে চলে যেতে পারে। কারণ, কিম জু এ যদি বিয়ে করেন এবং তাঁদের সন্তান যদি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হন, তাহলে কিম পরিবারের বাইরে ক্ষমতা চলে যাবে।তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। এরপর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।হাসপাতাল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির ও ময়মনসিংহ–৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। আমরা ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের রেজিস্টারও যাচাই করেছি। পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’পাঁচজনের মৃত্যুর একটি তালিকার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, এর মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।কমিশনার আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য-প্রমাণ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে রোগী মারা যেতে পারেন। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যটি অসত্য।’ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। সোমবার রাত ১১টার দিকেতবে আগুনের পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার। তাঁদের কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি। ধোঁয়ায় কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির একটি বন্ধ থাকার কারণে রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন—এমন অভিযোগের বিষয়ে কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সাংবাদিকদের ওই রোগীকে দেখে তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।সংসদ সদস্য বলেন, ‘জাহানারা নামে যে রোগীর নাম মৃতের তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তিনি জীবিত। তিনি এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তালিকার সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’এদিকে হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দুজনের স্বজন। তাঁরা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারাকান্দার কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, কুলসুম ১২ দিন ধরে তাঁর জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। কুলসুমের সঙ্গে তাঁর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিমও ছিলেন।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজমা বলেন, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যান। পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন, লোকজন তাঁর ভাই স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।নাজমার ভাষ্য, পরে কুলসুমকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তখনো তাঁর শ্বাস ছিল। খবর পেয়ে নাজমা হাসপাতালে আসার পথে ছিলেন। এর মধ্যেই কুলসুমের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযোগ আছে।’ হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে শাহাজাহান মনির প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে পলাশ মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, আগুন লাগার সময় তাঁর বাবা, মা হারিসা আক্তার ও খালা জাহানারা আক্তার একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তাঁরা পড়ে যান। পরে তাঁর মা ও খালাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুজনই বর্তমানে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর যে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা যাচাই করছি: বিভাগীয় কমিশনারপলাশ বলেন, তিনি তখন হাসপাতালে ছিলেন না। পরে এসে মায়ের কাছে যান। তাঁর বাবার মরদেহ স্বজনেরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মুঠোফোনে বাবার মরদেহের ছবি দেখেছেন তিনি।ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান। ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর যে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা যাচাই করছি: বিভাগীয় কমিশনার
ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধে কোনো পরোয়ানা কার্যকর করার আগে পুলিশের সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ন হোসেন তুহিন। রিটের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও নাসরিন সুলতানা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে প্রথমে কেন্দ্রীয় ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করতে হবে। এরপরই গ্রেফতারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আরও পড়ুন অ্যাটর্নি জেনারেল-বিচারপতিদের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল আদালতের এই নির্দেশনা উল্লেখ করে আইজিপিকে সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে তা আইনের লঙ্ঘন হবে। ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এসব অধিকার নিশ্চিত করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালত আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথায় একজন নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এফএইচ/এএমএ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তাঁকে ‘বীরত্বপূর্ণভাবে’ উপস্থাপনের সমালোচনা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।সোমবার রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা এ কথাগুলো বলেন।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, ‘শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যোগেন মণ্ডল, মাওলানা ভাসানী কিংবা আবুল হাশিম—তাঁদের যখন জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী যায়, তখন কি আপনাদের (ডাকসুর) মনে থাকে না তাঁদের ছবি টাঙানো কিংবা তাঁদের স্মরণ করার কথা? কিন্তু ঠিকই ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানিয়ে উদ্যাপন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা এই মাটির জন্য, এই মানুষের জন্য, এই বাংলা ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের নিয়ে ডাকসুকে কখনো কোনো আলোচনা সভা করতে আমরা দেখিনি।’সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিছু কাজ করলেও সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় বিভিন্ন দল-গোষ্ঠী মধুর ক্যানটিনকে অস্বীকার করতে চায়, ’৭১-এর শহীদকে অস্বীকার করতে চায়, আবার সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের নাম শুনলে অনেকের গা জ্বলে ওঠে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মধুদাও আমাদের, রাজু ভাস্কর্যও আমাদের। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি নিদর্শন, প্রতিটি ঐতিহ্যকে আমরা ধারণ করতে চাই।’সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান তিনটি পরিবেশন করেন।কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌসসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, একটি গান বা একটি কলি সমাজে বা রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। একটি গান ও একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রিজভী বলেন, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি...’-এ ধরনের একটি গান বা কলি সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে সমাজে বা রাষ্ট্রে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আসামে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ সেখানে কট্টরপন্থি সরকার ছিল। একটি গান, একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা হচ্ছে বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। সাংস্কৃতিক বাহিনী হচ্ছে প্রত্যেকটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। তারা যদি সুসংগঠিত না থাকে, তাহলে আন্দোলন সফল হয় না। পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকের অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিল। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা নয়। আরও পড়ুন গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। এরইমধ্যে আপনারা দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই যে তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে, তা কিন্তু নয়। সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, যার মধ্যে নজরুলের (জাতীয় কবি) গুণাবলি রয়েছে। নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার ভেতর আছে, সেই হবে প্রকৃত অর্থে শিল্পী। তিনি আরও বলেন, আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ-এদের যে মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো, সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়া, কিন্তু ওরা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি। ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে। জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে এবং জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ। কেএইচ/এএমএ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্পিডবোট ও স্টিলের বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার ছেলে মো. দয়াল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে এক অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোটটি চাতলপাড় ফিরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দয়াল মিয়া ও সজীব মিয়া নামের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে এরমধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এএমএ
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল তথ্যচিত্র ‘নাজা’। তবে উৎসবে সাফল্যের পর এবারই কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন ছবিটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ছবিটির প্রদর্শনী শেষে দর্শকেরা প্রায় ২৪ মিনিটের দীর্ঘ করতালি দেন, যা উৎসবটির ইতিহাসে দীর্ঘতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ছবিটির নির্মাতারা তাদের কাজের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কারও পান। তবে ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘নাজা’তে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও এর পেছনের ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে ছবিটির আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে ‘চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নির্মাতারা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভেনিসে পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করা তার জন্য সহজ নয়। তার দাবি, ছবিটি না দেখেই অনেকে এর সমালোচনা ও অস্বীকার করছেন। আব্রাহাম আরও বলেন, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তাই ইসরায়েলি নাগরিকদের এই ছবি দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান নির্মাতা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পর ‘নাজা’ এখন রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে। ছবিটির দুই নির্মাতাকে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এলআইএ
এই রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, জায়গামতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। এনসিপির এই নেতা লেখেন, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুড়ি ভুড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক। আরও পড়ুন আসিফ মাহমুদ / বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন। শেষে তিনি লেখেন, এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল। এএমএ
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পাশাপাশি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সোমবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। দুদক সূত্র জানায়, রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। এ ছাড়া তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা।সব মিলিয়ে রুহুল হকের নিট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। অর্থাৎ ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।দুদক আরও জানায়, রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অর্থের বৈধ উৎসের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।এসব অভিযোগে রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।ছেলের নামে সাড়ে ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদরুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের নামেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটি জানায়, জিয়াউলের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা।জিয়াউল হকের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা। ব্যয়সহ তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা। এতে জিয়াউল হকের নামে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।দুদকের তথ্যানুযায়ী, জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল হকও এসব অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন।প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন নগর পুলিশের এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী, এএসআই বশির উদ্দিন এবং রেশন শাখার এএসআই মো. সুফিয়ান। এসি শরীফুলকে নগর পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পিএমও) মো. বদরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মুঠোফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বাইন্যান্স ডলার রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় এলআইসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসি শরীফুল তাঁর কক্ষে তাঁদের কাছে প্রথমে এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির পর শাকিলের মুঠোফোনে থাকা সাড়ে ১২ হাজার বাইন্যান্স ডলার ও নগদ ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।শাকিলের অভিযোগ, শুরুতেই তাঁর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় সাড়ে ১০ হাজার ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরে সিটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা বাইন্যান্সের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া দামপাড়া পুলিশ লাইনের পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে তাঁকে দিয়ে আরও টাকা তোলানো হয়। আর্থিক মুঠোফোন সেবাদাতা অ্যাপের মাধ্যমেও নেওয়া হয় ৮০ হাজার টাকা।শাকিলের ভাষ্য, পরদিন আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাঁর গাড়ি হস্তান্তর করা হয়। তবে তাঁর ১৪টি মুঠোফোন রেখে দেন এসি শরীফুল।আখতারুজ্জামান শাকিল প্রথম আলোকে বলেন, গেম খেলাকে জুয়া হিসেবে উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মুঠোফোনে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থাকায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলেন। মুঠোফোনগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য একটি আইফোন দেওয়ার দাবি করা হয়। তা না হলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।শাকিলের খামার ও খাতুনগঞ্জে প্লাস্টিক দানার ব্যবসা রয়েছে। তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে গেম খেলেন বলে জানান।চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এলআইসি শাখাটি অত্যন্ত গোপনীয়। অপরাধী শনাক্ত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এ শাখার কাজ। সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত শাখাটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির দরজা থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। এ শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত কোনো অভিযানে যাওয়ারও সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নগর পুলিশ।
ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।রিমান্ড শেষে সোমবার হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আদালত সূত্র জানায়, ফ্ল্যাট প্রতারণার এ মামলায় ১০ সেপ্টেম্বর আদালত হরিদাসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ও ওবায়দুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার মামলাটি করেন।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে বাদী মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণা: গাইবান্ধার হরিদাস রিমান্ডে, কারাগারে ওবায়দুল
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের পর তুমুল আলোচনা। টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধারকে নির্মাতা দেখিয়েছেন ক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক অস্বস্তিকর প্রতিচ্ছবি হিসেবে। মাস্কের দাবি, ছবিটি মিথ্যা ও বিরক্তিকর; সমালোচকদের বড় অংশের চোখে আবার এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে নির্মম সিনেমাটিক পাঠ। একজন মানুষ। টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স; একাধিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। মহাকাশ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনীতি; একুশ শতকের প্রযুক্তি ও ক্ষমতার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেই কোনো না কোনোভাবে চলে আসে ইলন মাস্কের নাম।ইলন মাস্ককে কেউ দেখেন ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। কেউ মনে করেন, তিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আবার সমালোচকদের চোখে মাস্ক এমন এক ধনকুবের, যার হাতে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীভবন গণতন্ত্রের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এই দুই বিপরীত ছবির মধ্যখানে দাঁড়িয়েই নির্মিত হয়েছে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির ‘মাস্ক’। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রে শুধু মাস্কের ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তাঁর ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার ব্যবহার এবং নিজের তৈরি জন-ইমেজ; সবকিছুকে খতিয়ে দেখা হয়েছে।চার ঘণ্টায় কোন ‘মাস্ক’?ছবিটির শুরু মাস্কের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার দিনগুলো থেকে। ডটকম যুগে তাঁর উত্থান, জিপ২ ও পেপালে সাফল্য, এরপর টেসলা ও স্পেসএক্স—ক্রমে কীভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীদের একজন হয়ে উঠলেন, তারই দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরেছেন গিবনি।কিন্তু প্রচলিত জীবনীচিত্রের মতো ‘সংগ্রাম থেকে সাফল্য’ দেখিয়ে থেমে যাননি নির্মাতা। বরং প্রশ্ন তুলেছেন, এত ক্ষমতা একজন মানুষের হাতে চলে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে?মাস্কের টুইটার কেনা, সেটির নাম বদলে এক্স করা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাব, সবই এসেছে ছবিতে। গিবনির দৃষ্টিতে মাস্কের গল্প তাই আর শুধু প্রযুক্তি উদ্যোক্তার গল্প নয়; এটি ক্ষমতা কীভাবে একজন ব্যক্তির হাতে জমা হতে পারে, সেই গল্পও।রয়টার্সকে গিবনি বলেছেন, ছবিটি বানানোর সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মাস্কের প্রভাব নিয়ে অনেক মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মানুষদের মধ্যেও ছিল ভয়। ফলে ছবিটি যত এগিয়েছে, ততই গিবনির কাছে মাস্কের গল্প হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও তাঁর জবাবদিহির গল্প।সামনে নেই মাস্ক, আছে তাঁর ‘ডিজিটাল রূপ’তথ্যচিত্রটির সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, মাস্ক নিজে ছবিতে সাক্ষাৎকার দেননি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি ঢাকতে গিবনি ব্যবহার করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটারনির্মিত চেহারা।স্ক্রিনে দেখা যায়, মাস্কের মতো দেখতে একটি ডিজিটাল চরিত্র। তার কণ্ঠও তৈরি করা হয়েছে মাস্কের আগের সাক্ষাৎকার ও প্রকাশ্য বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ নির্মাতা নতুন কোনো বক্তব্য মাস্কের মুখে বসাননি; বরং তাঁরই পুরোনো কথাগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে হাজির করেছেন।ভেনিস উৎসবে নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। এএএফপি এই কৌশলকে কেউ বলেছেন সৃজনশীলভাবে অসাধারণ। দ্য হলিউড রিপোর্টারের ডেভিড রুনি এটিকে প্রশংসা করেছেন। কারণ, মাস্ক সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করলেও তাঁর নিজের কথাকেই তাঁর বিরুদ্ধে একধরনের আয়না হিসেবে ব্যবহার করেছেন নির্মাতা।অন্যদিকে এই পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি তথ্যচিত্রে জীবিত ব্যক্তির কৃত্রিম অবতার ও কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার কতটা নৈতিক, সেই বিতর্কও তৈরি হয়েছে।ব্যক্তিজীবনের অন্ধকার অধ্যায়গিবনির ছবিতে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিজীবনও। প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক কথা বলেছেন তাঁদের সম্পর্ক, সন্তান এবং তাঁদের এক সন্তানের মৃত্যুকে ঘিরে অভিজ্ঞতা নিয়ে। ছবিতে তাঁর বয়ানের সঙ্গে মাস্কের নিজের বলা কথার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও ছবিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, মাস্ক একসময় গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন। সেন্ট ক্লেয়ার আরও জানিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চুপ থাকার বিনিময়ে তাঁকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।ছবিটি মাস্কের সন্তানদের নিয়েও আলোচনা করে। তাঁর ব্যক্তিজীবনে একাধিক সম্পর্ক ও সন্তান জন্মের বিষয়টি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ধারণার সঙ্গে যুক্ত, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন গিবনি।‘মাস্কা’–এর পোস্টার। আইএমডিবি ‘বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যবসায়ী?’গিবনির সবচেয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ সম্ভবত এখানেই। তিনি মাস্ককে শুধু ‘প্রতিভাবান প্রযুক্তিবিদ’ হিসেবে দেখেননি। তাঁর চোখে মাস্ক এমন একজন, যিনি মানুষের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও নিজের তৈরি গল্পকে ব্যবহার করে ক্ষমতা বাড়িয়েছেন।ভেনিসে ছবিটির প্রদর্শনের পর ভ্যারাইটি অভিহিত করেছে প্রযুক্তিনির্ভর মেধা, ক্ষমতার লালসা ও উদ্ভট বিভ্রমের এক তীক্ষ্ণ প্রতিকৃতি হিসেবে। আরেকটি গণমাধ্যম ডেডলাইন আরও কঠোর ভাষায় বলেছে, ছবিটি বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষকে নির্মমভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।ভালচারের রিভিউতেও ছবিটিকে অস্বস্তিকর ও ভীতিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছবিটি মাস্কের নিজের তৈরি জন-চরিত্রের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বয়ানকে পাশাপাশি রেখে এক ভিন্ন ছবি তৈরি করেছে।তবে ছবিটির প্রশংসা করলেও সব সমালোচক যে একমত, তা নয়। প্রায় চার ঘণ্টার দৈর্ঘ্য, বিপুল তথ্যের ভার এবং মাস্ককে নিয়ে ইতিমধ্যে পরিচিত বিতর্কগুলো আবার সামনে আনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে কারও কাছে এটি অনুসন্ধানী ও জরুরি দলিল, কারও কাছে আবার দীর্ঘ এক অভিযোগপত্র।২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্রক্ষুব্ধ মাস্ক, আইনি ব্যবস্থার হুমকিছবিটি ভেনিসে প্রদর্শনের আগেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মাস্ক। তিনি ছবিটিকে মিথ্যা ও একপেশে বলে আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের সারকথা—ছবিটি শুধু সত্য থেকে দূরে নয়, চার ঘণ্টা ধরে বিরক্তিকরও।এতেই শেষ নয়। মাস্কের আইনজীবীরা নির্মাতা ও ছবিটির পরিবেশকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে তাঁর সম্পর্কে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।গিবনি অবশ্য পিছু হটেননি। তাঁর বক্তব্য, ছবিটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং মুক্তির আগে আইনজীবীরাও ছবিটি খুঁটিয়ে দেখেছেন।মজার ব্যাপার হলো, গিবনি যখন ছবির কাজ শুরু করেন, তখন তিনি নিজেও মাস্কের প্রতি একধরনের মুগ্ধতা অনুভব করতেন। কিন্তু কাজ এগোতে থাকলে সেই মুগ্ধতা বদলে যায়। বিশেষ করে মাস্কের ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নির্মাতাকে ছবিটির পরিধি বাড়াতে বাধ্য করে। প্রথমে প্রায় দুই ঘণ্টার ছবি ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় চার ঘণ্টায় পৌঁছায়।‘মাস্ক’ আসলে মাস্কের চেয়েও বড় গল্পগিবনির ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো ইলন মাস্ক কী ধরনের মানুষ, তা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, একজন ব্যক্তির হাতে এত ক্ষমতা থাকা উচিত কি না।একদিকে ইলন মাস্কের হাতে মহাকাশে পৌঁছানোর প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে রয়েছে বিপুল সম্পদ এবং রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা।গিবনির আশঙ্কা, এমন ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে দুর্বল করতে পারে। ভেনিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মাস্কের এই অবারিত প্রভাবকে বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান খুব দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে (ওয়াশিংটনের সঙ্গে) একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবে কি না, তা আমিই নির্ধারণ করব। অবশ্য এই ধারণার বিষয়ে আমাদের অবস্থান উন্মুক্ত।’ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে না, তারা মার্কিন প্রশাসনকে অর্থ পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্পএর আগে গত রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, এ বছরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সম্ভবত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেই জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে হোঁচট
পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবিকে কেন্দ্র করে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে দেওয়া) করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ সোমবার এ আদেশ দেন। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গ্রামীৃণ কল্যাণের চেয়ারম্যানও ছিলেন। এর আগে পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত বৈধতা পায়।হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি আবেদন করে, যা আজ চেম্বার আদালতে ওঠে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের না করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। কেননা এই রায়ের ভিত্তিতে যাতে কোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রম না নেওয়া হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে রাষ্ট্রপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আইনজীবী আশ্বস্ত করেছেন। আদালত গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, যেহেতু হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই আমরা এখন হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।’তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। আবেদনকারী পক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি গ্রহণের পর লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়েছে।’পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল (অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে) করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় রায়ে।হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় ঘোষণা করেন। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।পাশাপাশি ওই মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চ শুনানি শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রুল ডিসচার্জ (রুল খারিজ) করে রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটির দিনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেশের নয়টি নাট্যদল নয়টি নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ উল্লেখযোগ্য।জাতীয় নাট্যশালায় সমাপনী আয়োজনে নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাসমাপনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য ডিএসসিসির আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ একটি নাটকের দৃশ্য। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাপরে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন