নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনোয়ার

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহী বাগমারার আনোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি...

প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা-উইন্ডোতে আমানতের বড় লাফ

দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি শাখা ও উইন্ডোতে আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত এক বছরে প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখায় আমানত বেড়েছে...

প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা-উইন্ডোতে আমানতের বড় লাফ
ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকে নারী পরিচয়ে ২৭ ফেইক আইডি, হানিট্র্যাপে পড়লেন ৮২ জন

ভারতের তেলেঙ্গনার হায়দারাবাদে হানিট্র্যাপ পরিচালনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার দায়ে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই যুবক না...

ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকে নারী পরিচয়ে ২৭ ফেইক আইডি, হানিট্র্যাপে পড়লেন ৮২ জন
রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির ও শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এ সময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন...

রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর ঘাস কাটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো দুই পক্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর জন্য ঘাস কাটা নিয়ে রাতের অন্ধকারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টা থেকে...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর ঘাস কাটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো দুই পক্ষ
বাবা-মায়ের পর এবার বিধবা নারীকে মারধর, আবারও বহিষ্কার যুবদল নেতা

এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে...

বাবা-মায়ের পর এবার বিধবা নারীকে মারধর, আবারও বহিষ্কার যুবদল নেতা
ইশরাকের পদত্যাগে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। সে অনুযায়ী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংবিধানসম্মত হয়েছে, এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি...

ইশরাকের পদত্যাগে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল

সারা দেশ

View more
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, চালু হবে যৌথ পরিদর্শন
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, চালু হবে যৌথ পরিদর্শন

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Video news

Rss feed news

সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বেতন প্রায় দেড় লাখ টাকা
সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বেতন প্রায় দেড় লাখ টাকা

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনে নির্বাহী পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বেতন ১. ৫ লাখ, আবেদন শেষ ৩ নভেম্বর।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
‘মায়ের পায়ে পথ চলে’ রাজিয়ার, প্রতিবন্ধকতার বাধা ডিঙিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন
‘মায়ের পায়ে পথ চলে’ রাজিয়ার, প্রতিবন্ধকতার বাধা ডিঙিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/9c9oggkc/razia1.jpeg"><figcaption>মা নাজনীন বেগমের সঙ্গে রাজিয়া সুলতানা</figcaption></figure><p>তিনতলা বাড়ির দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে মেয়েকে নিয়ে ওঠানামা করতে করতে ক্লান্ত মা নাজনীন বেগম। বয়স বেড়েছে, শরীরেও আগের মতো শক্তি নেই। অথচ শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে নিয়ে প্রতিদিনই চলে তাঁর এই সংগ্রাম। যে মেয়েকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে গেছেন, সেই মেয়েকেই নিজের চেষ্টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এখন মেয়ের চাওয়া, চাকরি করে বাকি জীবন মাকে যদি একটু স্বস্তিতে রাখতে পারেন।</p><p>রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়ার জন্ম ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর। হাফিজুর রহমান ও নাজনীন বেগম দম্পতির দুই সন্তানের একজন রাজিয়া। হাফিজুর রহমান একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। প্রায় সারা দিন তাঁকে সেখানে থাকতে হয়। ছোট ভাই পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কাজ করেন।</p><p>ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রাজিয়ার জীবনের অংশ। আট বছর বয়স পর্যন্ত কিছুতে ভর দিয়ে কিংবা অন্যের সাহায্যে দাঁড়াতে পারতেন তিনি। পরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেই সক্ষমতাও হারান। রাজিয়ার চলাফেরায় এখন তাঁর মা-ই একমাত্র ভরসা।</p><p>পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাড়ির কাছের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন রাজিয়া। পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে নানার উৎসাহ ও জোরাজুরিতে আবারও পড়াশোনায় ফেরেন তিনি। রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পাস করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/k5bq3dys/razia2.jpeg"><figcaption>তিনতলা বাড়ির দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে মেয়েকে নিয়ে ওঠানামা করতে হয় মা নাজনীন বেগমকে</figcaption></figure><p><strong>সিঁড়ি ভাঙতে হয় বলে পাল্টানো হয় বিভাগ</strong></p><p>পরে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান রাজিয়া। কিন্তু সেখানেও সিঁড়ি ভাঙতে হয়। তিনতলায় মেয়েকে নিয়মিত ওঠানো-নামানো তাঁর মা নাজনীন বেগমের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। পরে বিভাগ পরিবর্তনের আবেদন করে বাংলা বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঁড়ি ভাঙা থেকে রেহাই পেলেও বাড়ির সিঁড়ি ভাঙতে হয় রাজিয়াকে। বৃষ্টির দিনে সেই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। চূড়ান্ত পরীক্ষা চলাকালে একদিন বৃষ্টির মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পান রাজিয়া। ফলে সেদিন আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তাঁর।</p><p>এত বাধা পেরিয়েও থেমে থাকেননি রাজিয়া। মায়ের সাহায্যে ২০২৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এখন চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে চান। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোচিং সেন্টারে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়স বাড়ায় প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করাও তাঁর মায়ের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।</p><p>রাজিয়ার বাবারা সাত ভাই। তাঁদের একজন মারা গেছেন। তিনতলাবিশিষ্ট বাড়ির নিচতলার তিনটি কক্ষে রাজিয়ার ছোট চাচা আমিনুল ইসলাম থাকেন। নিচতলার তিনটি কক্ষ দোতলায় রাজিয়াদের তিনটি কক্ষের সঙ্গে বিনিময় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। অন্তত একটি কক্ষ হলেও বিনিময় করতে বলা হয়েছিল। তবে নিচতলায় দোকান থাকায় সেই জায়গা ছাড়তে চান না চাচা। তিনি বলছেন, তাহলে দোকান নিয়ে কোথায় যাবেন?</p><p>ছোটবেলা থেকে মায়ের পায়ে পথচলা রাজিয়ার স্বপ্ন মায়ের কষ্ট কিছুটা কমানো। তবে তাঁর দীর্ঘদিনের এই লড়াই কখন শেষ হবে, তা এখনো অজানা।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেও বিপদ, রাখলেও বিপদ—নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়ল মোদি সরকার
জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেও বিপদ, রাখলেও বিপদ—নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়ল মোদি সরকার

<p>একজন কর্মকর্তাকে বাঁচাতে রাজধানী অবরুদ্ধ করেছে ভারতের মোদি সরকার। ৩০ হাজার পুলিশ, হাজার হাজার আটক, তবু ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রশ্নে অনড় তারা। বিশ্লেষকদের মতে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ মানে অপরাধ স্বীকার, আর সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দিল্লি।</p><p>নয়াদিল্লিতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুলিশের একটি দল ভেতরে ঢুকল। তাদের এগিয়ে আসতে দেখে অভিজিৎ দিপকে বললেন, ‘আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি। আপনাদের ভয় পাই না।’ তাঁর পোস্ট করা ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে দৃশ্যটি ধরা আছে।</p><p>মুম্বাই থেকে আসা ওই উড়োজাহাজ থেকেই আটক করা হয় ভারতে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা দিপকেকে (কয়েক দিন পর মুচলেকায় মুক্ত)। সঙ্গে আটক হন দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা (তাঁদের কারা হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে)। রাঙ্কার পোস্ট করা আরেকটি ভিডিওতে শোনা যায় দিপকের কণ্ঠ—‘এটা স্বৈরাচারী শাসন।’</p><p>দিনটি ছিল ১০ অক্টোবর। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো। সরকার সেই সমাবেশ ঠেকাতে রাজধানীকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপরও জ্ঞানেশ কুমার নিজের পদে আছেন, আর সরকার তাঁর পাশে অনড় দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষমতাসীন বিজেপিদলীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে সরাসরি বলে দিয়েছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনাই নেই।’</p><p>প্রশ্ন হলো, একজন কর্মকর্তাকে রাখতে সরকার এত বড় রাজনৈতিক মূল্য দিচ্ছে কেন? কী আছে এ লড়াইয়ের পেছনে, আর কেনই–বা সরকার এক পা-ও সরতে রাজি নয়?</p><blockquote>পরদিন ১১ অক্টোবর (রোববার) পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টায়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসব আটককে অবৈধ বলে উল্লেখ করলে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে অভিজিৎ দিপকে এক্সে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য “অস্বস্তির কারণ”। এই দেশ আগে কখনো তাঁর চেয়ে বড় কাপুরুষ ও দাদাগিরি করা লোক দেখেনি।’</blockquote><h3>অবরুদ্ধ রাজধানী </h3><p>১০ অক্টোবর (শনিবার) বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি মানুষের এই শহরে তাঁদের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারের বেশি। লক্ষ্য ছিল একটাই, বিক্ষোভকারীরা যেন পার্লামেন্টের কাছে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন। এ জন্য যা যা করা হয়েছে:</p><p>—ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা</p><p>—বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে দেওয়া</p><p>—ব্যারিকেড দিয়ে যন্তর মন্তর বন্ধ করা</p><p>—শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে তল্লাশিচৌকি বসানো</p><p>—বাসে তল্লাশি, যানবাহন পরীক্ষা করা</p><p>—সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠন যাতে অনলাইনে লোকজনকে সংগঠিত করতে না পারে, সে জন্য রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা</p><p>সমাবেশ শুরুর আগেই আটক করা হয় আন্দোলনের পরিচিত মুখ রত্না সিং, অভিজিৎ দিপকে ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। আটক হন বামপন্থী সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা। এ সংগঠন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) সঙ্গে যুক্ত। মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীসহ আরও বহু স্বনামধন্য অধিকারকর্মীও আটক হন। টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/bbph7t2o/india-002.jpg"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় এক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ভারত</figcaption></figure><p>এত বাধার মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নামেন। দিনভর পুলিশ আর আন্দোলনকারীদের মধ্যে চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। এক জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিলে তাঁরা অন্য কোনায় গিয়ে জড়ো হন। জনপ্রিয় বাজার দিল্লি হাটেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়, যদিও পুলিশ সেসব ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকেরাও রেহাই পাননি। সন্ধ্যার মধ্যে অন্তত ২ হাজার ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ১৫ সাংবাদিককে আটক করে আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ ঘিরে আটক করা হয় প্রায় ৬০০ জনকে।</p><p>পরদিন ১১ অক্টোবর (রোববার) পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টায়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসব আটককে অবৈধ বলে উল্লেখ করলে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে অভিজিৎ দিপকে এক্সে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য “অস্বস্তির কারণ”। এই দেশ আগে কখনো তাঁর চেয়ে বড় কাপুরুষ ও দাদাগিরি করা লোক দেখেনি।’</p><p>সৌরভ দাস লেখেন, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করে নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তরুণ প্রজন্ম জবাবদিহি চেয়ে যাবে; ভয় দেখিয়ে বা কণ্ঠ রোধ করে তাদের থামানো যাবে না, তারা আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসবে।</p><p>সরকারের এমন কড়াকড়ি দেখে অনেকের মনে পড়ছে সত্তরের দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় জারি করা জরুরি অবস্থার দিনগুলোর কথা।</p><h3>একটি প্রতিবেদন, তারপর আগুন </h3><p>এ বিক্ষোভের শুরুটা কীভাবে? ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুজন কমিশনার উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারকে সেই উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।</p><aside><cite>রামদাস আঠাওয়ালে, ভারতের মন্ত্রিসভার সদস্য</cite>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনাই নেই।</aside><p>ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ তিনজনের মধ্যে দুজনই কুমারের সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকার ভুল সংশোধনে বাধা দিচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী এ সংশোধনের ক্ষমতা তাঁদেরই আছে।</p><p>প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন সিজেপি দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। কয়েকটি শহরে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমে বড় আকার নেয়।</p><h3>১৩ কোটি নাম উধাও </h3><p>বিতর্কের কেন্দ্রে আছে ভোটার তালিকার এ বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)। প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের এ উদ্যোগ শুরু হয়েছিল গত বছর, বিহার রাজ্যের নির্বাচনের আগে। সেখানে এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায়। এখন ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে তালিকা পর্যালোচনা হয়েছে। উত্তর প্রদেশে এ যাচাই শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সেখানে তালিকা থেকে ১৩ শতাংশ নাম বাদ গেছে।</p><p>ভোটার তালিকা সংশোধন ভারতে নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিপুলসংখ্যক ভোটার তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন। অনেকে ভোটও দিতে পারেননি। বিরোধীদের দাবি, নির্বিচার নাম বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘ আপিলপ্রক্রিয়ার কারণে দুই রাজ্যে লাখ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে বিজেপি।</p><p>সংখ্যাটা বিশাল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, যাচাইয়ে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিজেপির হিসাবে বাদ পড়াদের মধ্যে আছেন:</p><p>—২ কোটি ৮০ লাখ ব্যক্তি মৃত</p><p>—৬ কোটি ৩০ লাখ ব্যক্তি আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন</p><p>—১ কোটি নাম একাধিকবার রয়েছে</p><p>—৩ কোটি ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি</p><p>নির্বাচন কমিশন অবশ্য বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের দাবি, এসআইআরের উদ্দেশ্য ছিল শুধু তালিকা হালনাগাদ করা। এ জন্য মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এমন ব্যক্তি বা একাধিক নির্বাচনী এলাকায় নাম থাকা ভোটারদের শনাক্ত করার কথা। প্রায় ১৩ কোটি নামকে এমন শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে।</p><p>কিন্তু কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, এর অর্থ এ নয় যে সব নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের আবার অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগও আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/h7ktlhsd/india-003.jpg"><figcaption>ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার কাজটি হয়েছে সরাসরি আইনকে মাড়িয়ে। এর জন্য দায়ী হিসেবে যাঁর নাম আসছে, তিনি হলেন আজকের ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমার</figcaption></figure><p>বিরোধী দল ও সমালোচকদের কাছে এ ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে কৌশলগতভাবে কোটি কোটি ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ। তাঁদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক নাম যাচাই, আবার অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল এবং ভুল সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে যোগ্য ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।</p><p>যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের আবার ভোটার হতে নিজেদের পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে এই ভোটারদের অনেকেও অভিযোগ করেছেন।</p><p>আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাদ পড়াদের মধ্যে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটার তুলনামূলক বেশি। এসব জনগোষ্ঠীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম।</p><p>প্রক্রিয়াটির কারিগরি ত্রুটি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা বলছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলেও কোটি কোটি ভোটার বাদ পড়ার প্রভাব পড়েছে, আর ওই নির্বাচনগুলোয় জিতেছে বিজেপি।</p><blockquote>এ বিক্ষোভের শুরুটা কীভাবে? ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।</blockquote><p>বিজেপির জবাব অন্য রকম। দলটির দাবি, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ নানা কারণেই তারা নির্বাচনে আধিপত্য ধরে রেখেছে। বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছে তারা।</p><p>দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ কমিশন অস্বীকার করছে। তবে কমিশন স্বীকার করছে, কমিশনাররা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে কমিশনের ভাষ্য, নিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তা তোলা হয়েছিল।</p><h3>ঝুঁকি কোথায় </h3><p>সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে আছে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশও। দেশের সবচেয়ে জনবহুল এ রাজ্যকে জাতীয় রাজনীতির প্রবণতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। বিরোধীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই পদ্ধতিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁদের মতে, বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।</p><p>বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাত করছেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় লাভবান হচ্ছে বিজেপি। এ জায়গা থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।</p><aside><cite></cite>অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করে নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তরুণ প্রজন্ম জবাবদিহি চেয়ে যাবে; ভয় দেখিয়ে বা কণ্ঠ রোধ করে তাদের থামানো যাবে না, তারা আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসবে।</aside><h3>‘পদত্যাগই গণতান্ত্রিক রীতি’, কিন্তু জ্ঞানেশ বহাল </h3><p>এখানেই আসে সেই প্রশ্ন: সরকার কেন সিইসি জ্ঞানেশকে ছাড়ছে না? রাজনৈতিক তাত্ত্বিক রাজীব ভার্গব দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় শিক্ষকতা করেছেন। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে তিনি বলেন, প্রশ্নটি শুধু কুমার কেন পদত্যাগ করবেন না, তা নয়; সরকার তাঁকে রক্ষা করতে এতটা মরিয়া কেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>ভার্গবের কথায়, ‘কোনো সন্দেহ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ওই ব্যক্তিকে পদত্যাগ করাত।’</p><p>ভার্গব মনে করিয়ে দেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু নয়—এমন যুক্তিসংগত সন্দেহ দূর করা। ভার্গবের ভাষায়, ‘তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/8o7xv6rj/india-004.jpg"><figcaption>ভারতের নির্বাচন কমিশনার (ইসি) সুখবীর সিং সান্ধু (বাঁয়ে), সিইসি জ্ঞানেশ কুমার (মাঝে) ও ইসি বিবেক যোশি</figcaption></figure><p>দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনকে ভার্গব হালকাভাবে দেখছেন না। তাঁর মতে, ওই প্রতিবেদনে কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহের যথার্থতা অনেকটাই প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর যুক্তি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ তিন নির্বাচন কমিশনারেরই সেদিন পদত্যাগ করা উচিত ছিল।</p><p>‘তাঁরা (তিন কমিশনার) তা করেননি। এতে মানুষের এই সন্দেহই আরও জোরালো হয়েছে যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পরস্পরের যোগসাজশে কাজ করছে।’</p><p>এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে। ভার্গবের মতে, জ্ঞানেশের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যার নির্বাহী বিভাগের বাইরে থেকে কাজ করার কথা। কিন্তু সরকারের প্রতিনিধিরা যখন কমিশনপ্রধানকে নিজেদের প্রশাসনেরই একজন সদস্যের মতো রক্ষা করেন, তখন আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়।</p><h3>সরকার কেন ছাড়ছে না </h3><p>আল-জাজিরা ও দ্য ইনডিপেনডেন্টের সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষকদের বক্তব্য থেকে সরকারের অনড় অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।</p><p>প্রথমত, পদত্যাগ মানে স্বীকারোক্তি। আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলা সমালোচক ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি মেনে নিলে ভোট চুরির বিষয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে ‘সচেতন’ প্রধানমন্ত্রী মোদির দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।</p><p>দ্বিতীয়ত, উত্তরসূরির অনিশ্চয়তা। ভার্গবের ধারণা, জ্ঞানেশ কুমারকে পদে রাখার পেছনে তাঁর সরে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিণতির ভয় কাজ করতে পারে। সরকার চাইলে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাতে পারত এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থা ফেরানোর দাবি করতে পারত। কিন্তু ভার্গবের মতে, সরকার সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কারণ, জ্ঞানেশের উত্তরসূরি মোদি সরকারের স্বার্থের প্রতি অনুকূল হবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।</p><p>তৃতীয়ত, লড়াইটা একজন মানুষের নয়। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ (তিনি নিজের নামের সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো নাম ব্যবহার করেন না) বলেন, ‘বিষয়টি আসলে শুধু জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে নয়।’ তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এর মধ্য দিয়ে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হচ্ছে এবং বিজেপির স্বার্থ পূরণে কারসাজি করা হচ্ছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/k9ikzfzm/india-005.jpg"><figcaption>সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ভারতে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ</figcaption></figure><p>অপূর্বানন্দের ব্যাখ্যায়, সরকার শুধু জ্ঞানেশকে নয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্তৃত্বকেও রক্ষা করছে। একজন কর্মকর্তাকে বদলালেই নির্বাচনী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাম্প্রতিক পদ্ধতি নিয়ে ওঠা মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান হবে না। জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি না মেনে সরকার বরং কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেও তিনি মনে করেন।</p><p>চতুর্থত, ‘অপরাজিত নেতা’র ভাবমূর্তি। মোদির জীবনীকার ও লেখক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় আল-জাজিরাকে বলেন, ‘মোদি এমন এক নেতার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চান, যিনি জনদাবিতে কখনো নতিস্বীকার করেন না এবং যিনি অপরাজিত। তাই এবার তিনি আন্দোলনকারীদের সেন্ট্রাল দিল্লিতে জমায়েত হওয়া ঠেকাতে চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।’</p><p>এখানে একটা বৈপরীত্যও আছে। নীলাঞ্জনের মতে, জনগণের দৃষ্টিতে মোদি এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে নিম্ন অবস্থানে। অথচ দেশের প্রধান স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, আমলাতন্ত্রের বড় অংশ ও সরকারি সংস্থাগুলো এখনো তাঁর শক্ত নিয়ন্ত্রণে। অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে মোদি যে সাধারণ মানুষকে সংকট থেকে বের করে আনার নেতা, সেই ভাবমূর্তি দ্রুত হারাচ্ছেন বলেও তিনি মনে করেন।</p><blockquote>আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে আছে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশও। দেশের সবচেয়ে জনবহুল এ রাজ্যকে জাতীয় রাজনীতির প্রবণতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। বিরোধীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এটিকে (এসআইআর) রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁদের মতে, বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।</blockquote><h3>আলোচনা নয়: নীরবতা, তারপর শক্তি </h3><p>বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় কেন বসছে না সরকার? ভার্গব বলেন, গণতন্ত্রে এ ধরনের বিরোধের মীমাংসা হওয়া উচিত সংসদে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে। কিন্তু এসব পথ অকার্যকর মনে হলে ও আদালত সময়মতো সমাধান দিতে না পারলে—এ ঘটনায় যেমন ঘটছে—মানুষের মনে হতে পারে, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।</p><p>ভার্গবের বিশ্লেষণে সরকারের কৌশল স্পষ্ট। প্রথমে নীরব থাকা, পরে শক্তি প্রয়োগ। প্রত্যাশা, একসময় জনরোষ এমনিতেই কমে আসবে। তাঁর ভাষায়, ‘এ সরকার বেশ একগুঁয়ে। কোনো দাবির প্রতিই সাড়া দেয় না। তাদের প্রতিক্রিয়া হলো শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা, নির্লজ্জভাবে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকা। আলোচনা বা কথোপকথনের বদলে নীরব থাকা, তারপর শক্তি প্রয়োগ করা। আর অপেক্ষা করা, কখন পরিস্থিতি ঠান্ডা হবে।’</p><p>এ নীরবতার প্রমাণ পাওয়া যায় অমিত শাহর আচরণে। মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের। বিক্ষোভ শুরুর পর তিনি দীর্ঘদিন মুখ খোলেননি। অবশেষে সম্প্রতি মুখ খুললেন। বারবার নির্বাচনে হারের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার বদলে তিনি প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে আত্মসমালোচনার পরামর্শ দিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/l84ush89/india-006.jpg"><figcaption>ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে</figcaption></figure><p>বিজেপির অন্য নেতারাও বিক্ষোভকে বৈধ ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের চোখে বিক্ষোভ ও অনলাইনে সরকারের সমালোচনা সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত রাজনৈতিক চেষ্টা। ১১ অক্টোবর দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বিক্ষোভকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের ‘ব্যর্থ প্রদর্শনী পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে’। যন্তর মন্তরে যা ঘটছে এবং টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা দেখানো হচ্ছে, তা ভারতের সামগ্রিক চিত্র নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভারতের পরিস্থিতি শান্ত।</p><p>অথচ গত জুলাইয়ে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। তখন সরকার তরুণ সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাময়িকভাবে আলোচনায় বসেছিল। এবার সাংবিধানিক ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পদত্যাগের দাবির মুখে তারা অনেক বেশি কঠোর।</p><h3>বিরোধীদের নিয়ে ‘গোপন হিসাব’ </h3><p>অপূর্বানন্দের বিশ্লেষণের আরেকটি দিক আছে, যা সরকারের নিরাপত্তা-তৎপরতাকে নতুন আলোয় দেখায়। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মধ্য দিয়ে সরকার বিজেপির মূল সমর্থক গোষ্ঠীকে একটি বার্তা দিতে চাইছে। তা হলো, রাজনৈতিক বয়ান বাধার মুখে পড়লেও নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই। বিরোধীদের সমালোচনা মেনে নেওয়ার বদলে নিজেদের কর্তৃত্ব তুলে ধরতেই এই দমন-পীড়ন।</p><p>সিইসিকে বাঁচাতে মোদি সরকারের এমন অনড় অবস্থানের আরও একটি কারণ এই বিশেষজ্ঞ দেখেন। রাহুল গান্ধীর মতো বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার অর্থ হলো, তাঁদের দেশের বৈধ রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। অপূর্বানন্দ বলছেন, ক্ষমতায় থাকার ১২ বছরে বিজেপি তা করতে বরাবরই অনাগ্রহ দেখিয়েছে।</p><aside><cite>রাজীব ভার্গব, রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক</cite>প্রশ্নটি শুধু জ্ঞানেশ কুমার কেন পদত্যাগ করবেন না, তা নয়; সরকার তাঁকে রক্ষা করতে এতটা মরিয়া কেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।</aside><h3>সীমানা পেরোচ্ছে আন্দোলন </h3><p>বিরোধীরাও পিছিয়ে নেই। ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেস তরুণদের সঙ্গে বিক্ষোভে নেমেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁরা বিস্তারিত বৈঠক করেছেন। তাঁর কথা, ‘জ্ঞানেশকে বিদায় নিতেই হবে। আমরা পিছু হটব না।’</p><p>বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কয়েক মাস ধরে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচনসংক্রান্ত এক বিক্ষোভে তাঁকেও অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। ১০ অক্টোবরের সমাবেশের আগের শুক্রবার তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেয়। তাতে বলা হয়, বর্তমান সরকার ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্সে লেখেন, ‘আটক, গ্রেপ্তার, কারাগার, লাঠিপেটা কিংবা ছররা গুলি ভারতের মানুষকে দমাতে পারবে না।’ তাঁর মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই তরুণেরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/y5q5azkw/india-007.jpg"><figcaption>বিক্ষোভের সময় ছাত্রনেতাদের আটক করে পুলিশ। নয়াদিল্লি, ভারত, ১৩ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>দক্ষিণ ভারতেও জোট বিস্তৃত হচ্ছে। চেন্নাইয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ভোটার তালিকার নানা অনিয়ম ও এসআইআরের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি আয়োজন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা সেখানে অংশ নেন।</p><p>৩ অক্টোবর এ জোটে যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। সাউথ ফার্স্টের খবর, কংগ্রেস নেতৃত্বের বরাতে জানা গেছে, বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের নানা আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় ও তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল।</p><p>আন্দোলন সীমানাও পেরিয়েছে। ১৫ অক্টোবর নিউইয়র্কে এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের তহবিল সংগ্রহের এক নৈশভোজে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদী ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘ভারতে একটা ঘটনা ঘটছে বটে। পরিস্থিতি ফুটন্ত অবস্থায় রয়েছে।’</p><blockquote>জ্ঞানেশ কুমারকে পদে রাখার পেছনে তাঁর সরে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিণতির ভয় কাজ করতে পারে। সরকার চাইলে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাতে পারত এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থা ফেরানোর দাবি করতে পারত। কিন্তু ভার্গবের মতে, সরকার সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কারণ, জ্ঞানেশের উত্তরসূরি মোদি সরকারের স্বার্থের প্রতি অনুকূল হবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।</blockquote><p>ভারতে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই লেখক। গেরুয়া শিবিরেরও সমালোচনা করেন। উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা কথা বলব, যা হয়তো রেস্তোরাঁয় বলা উচিত নয়—ককরোচদের আন্দোলনকে “উদ্‌যাপন” করুন। ভারতের অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েরা দীর্ঘদিন পর আমাদের মধ্যে একটা আশার আলো জাগিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান।’</p><h3>জুলাইয়ের স্মৃতি, সামনের পথ </h3><p>এ আন্দোলনের সঙ্গে ভারতে জুলাই বিক্ষোভের তুলনা টানা হচ্ছে। গ্রীষ্মে গড়ে ওঠা সিজেপি তখন একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (নিটসহ) প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেছিল।</p><p>কয়েক সপ্তাহের সেই আন্দোলনের মুখে নয়াদিল্লির প্রধান সড়কগুলো অচল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। ভারতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের ঘটনা খুবই বিরল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি ছিল মোদির কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।</p><p>ভার্গবের মতে, সে সময় ২০ জুলাই পুলিশের নৃশংস দমন-পীড়নে একটি প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপরই সরকার পিছু হটেছিল। এতে বিরোধী নেতাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়। অপূর্বানন্দ বলেন, তখন ‘তরুণেরা সরকারের আসল চেহারা দেখতে পেয়েছিল’। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষের চোখের সামনে বাস্তবতা খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এরপর মানুষ বিরোধীদের কথা শুনতে ও তাদের দেখতে শুরু করে। রাহুল গান্ধীকেও তারা স্পষ্ট বুঝতে শুরু করে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/n706yqkb/india-008.jpg"><figcaption>দিল্লিতে এক বিক্ষোভে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র</figcaption></figure><p>এ আন্দোলনের শক্তির একটি বড় উৎস জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ধরন। ভার্গব বলেন, তরুণ কর্মীরা ব্যঙ্গ, প্রচলিত রীতির বাইরে যাওয়া স্লোগান এবং এমন কিছু কৌশল ব্যবহার করতে পারেন, যা প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো এড়িয়ে চলে। তাঁর মতে, এ আন্দোলন বিরোধীদের কাজের বিকল্প নয়; বরং তাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করছে।</p><p>তবে জুলাইয়ের মতো এবার দ্রুত সমাধান আসবে বলে মনে করেন না অপূর্বানন্দ। তাঁর কথায়, ‘এটা চলতে থাকবে। কারণ, এখন লড়াইটা সরকার ও জনগণের মধ্যে।’ জুলাইয়ে সরকার তরুণদের দাবির প্রতি সাড়া দিচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এবারের বিরোধ সামলানো তাদের জন্য কঠিন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/k91yldq4td">দিল্লিতে বিক্ষোভ: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে</a></aside><h3>সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে মোদি </h3><p>সম্প্রতি মোদি ও তাঁর দল বিজেপি ক্ষমতায় থাকার ২৫ বছর উদ্‌যাপন করেছে। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদি। ৭ অক্টোবর তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন।</p><p>কিন্তু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে কখনোই এখনকার মতো এত দুর্বল দেখা যায়নি।</p><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হার্ডনিউজ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর আল-জাজিরাকে বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই চান না মোদির বিজেপি ক্ষমতায় থাকুক। মোদি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই কমতে শুরু করেছে বলে তিনি মনে করেন।</p><p>সঞ্জয় কাপুরের মতে, ‘বিজেপি ভয় পাচ্ছে যে জনমত দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। পরে ক্ষমতায় ফিরে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’</p><p>বিক্ষোভ এখন আর শুধু ভোটার তালিকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। মোদি সরকারের আমলে গণতন্ত্র, ভিন্নমত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতাই বোধ হয় ব্যাখ্যা করে, একজন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি কেন এই সরকারের কাছে এত বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার সরে গেলে সরকার বিরোধীদের অভিযোগে সায় দিয়েছে বলে ধরা হবে। ভাবমূর্তিতে চিড় ধরবে, আর জ্ঞানেশের উত্তরসূরি কেমন হবেন, তা-ও অনিশ্চিত। অন্যদিকে না সরলে বাড়তে থাকবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রাস্তার বিক্ষোভ। আর তা ঠেকাতে না পারলে, গদিচ্যুতও হওয়া লাগতে পারে মোদিকে।</p><p>[তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, রয়টার্স, ইনডিপেনডেন্ট, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস]</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/kbbxla0xw3">দিল্লিতে নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভ: ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দোরগোড়ায় জনস্রোত</a></aside>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
মস্কো থেকে সিআইএর সদর দপ্তর, কী ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি ক্রিস?
মস্কো থেকে সিআইএর সদর দপ্তর, কী ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি ক্রিস?

<p>প্রতিশোধের তালিকা শেষ হয়েছে, লড়াই শেষ হয়নি। সহযোদ্ধা, স্ত্রী ও কন্যাকে হারানো জেমস রিস এবার খুঁজছেন বেঁচে থাকার নতুন উদ্দেশ্য। কিন্তু সবকিছু থেকে দূরে সরে গেলেও বিপদ তাঁর পিছু ছাড়ে না। নতুন এক ষড়যন্ত্র তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে অভিযানে। এবার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নিজের পরিবারের অতীতও। </p><p>চার বছরের বেশি সময় পর ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে জেমস রিসের চরিত্রে ফিরছেন ক্রিস প্র্যাট। মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নেভি সিলের এই কমান্ডারকে দর্শক প্রথম মৌসুমে দেখেছিলেন ব্যক্তিগত প্রতিশোধের লড়াইয়ে। এবার তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জট।</p><p>ডেভিড ডিজিলিওর সৃষ্ট অ্যাকশন–থ্রিলার সিরিজটির নতুন মৌসুম বুধবার, ২১ অক্টোবর, প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাচ্ছে। আটটি পর্বই একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে। নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানেও আছেন ডিজিলিও।  </p><p><strong>প্রথম মৌসুমে কী ঘটেছিল</strong></p><p>২০২২ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পায় ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট’-এর প্রথম মৌসুম। মার্কিন লেখক ও সাবেক নেভি সিল সদস্য জ্যাক কারের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয় সিরিজটি। </p><p>গল্পের শুরুতে একটি গোপন সামরিক অভিযানে জেমস রিসের দল অতর্কিত হামলার শিকার হয়। সহযোদ্ধাদের হারিয়ে ফিরে আসার পরও সেই অভিযানের স্মৃতি তাঁকে তাড়া করতে থাকে। কী ঘটেছিল সেখানে, কারা দায়ী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/5t1437bd/shmrexe1787233812396792707386128919565001700965.jpg"><figcaption>ডেভিড ডিজিলিওর সৃষ্ট অ্যাকশন–থ্রিলার সিরিজটির নতুন মৌসুম বুধবার, ২১ অক্টোবর, প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাচ্ছে</figcaption></figure><p>সত্যের সন্ধানে নামার পর রিস বুঝতে পারেন, বিপদ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে। এরপর স্ত্রী ও কন্যার হত্যার ঘটনা তাঁকে নামিয়ে দেয় প্রতিশোধের লড়াইয়ে। একে একে খুঁজে বের করতে থাকেন ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের।</p><p>প্রথম মৌসুমের উত্তেজনার বড় জায়গা ছিল রিসের এই অনুসন্ধান। কাকে বিশ্বাস করবেন, তাঁর বিরুদ্ধে কারা কাজ করছে এবং কেন—এসব প্রশ্নের সঙ্গে এগিয়েছে প্রতিশোধের গল্প। </p><p> <strong>এবার গল্পের শুরু কোথায়</strong></p><p>দ্বিতীয় মৌসুম নির্মিত হয়েছে জ্যাক কারের ‘ট্রু বিলিভার’ উপন্যাস অবলম্বনে। জেমস রিসকে নিয়ে লেখা উপন্যাস সিরিজের দ্বিতীয় বই এটি। প্রকাশক সাইমন অ্যান্ড শুস্টারের দেওয়া কাহিনি সংক্ষেপ অনুযায়ী, পরিবার ও সহযোদ্ধাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পর আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে আশ্রয় নেন রিস। পরিচিত জীবন থেকে দূরে থাকা এই মানুষটির সামনে তখন নতুন করে বাঁচার প্রশ্ন।</p><p>কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ঘটতে থাকলে তাঁকে আবার অভিযানে ফেরাতে চায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। রিসের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাদের। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও নতুন মৌসুমের পরিচিতিতে রিসের মোজাম্বিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেছে।</p><p><strong>মস্কো থেকে ল্যাংলি</strong></p><p>প্রাইম ভিডিওর প্রকাশিত কাহিনি সংক্ষেপ বলছে, এবারের ষড়যন্ত্রের সূত্র ছড়িয়ে থাকবে মস্কো থেকে সিআইএর সদর দপ্তর ল্যাংলি পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ রয়েছে রিসের পারিবারিক ইতিহাসেরও।</p><p>ফলে নতুন অভিযান শুধু বাইরের শত্রুকে খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরিবারের অতীতের মুখোমুখিও হতে হবে তাঁকে। ভারত মহাসাগর থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে এগোবে গল্প।</p><p>প্রথম মৌসুমের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিশোধের গল্প এভাবেই এবার বিস্তৃত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির জগতে। সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের গল্প যাঁদের পছন্দ, তাঁদের আগ্রহের উপাদান থাকছে নতুন মৌসুমে।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/ott/vzwne76aj2">৬ কোটি ৭৩ লাখ ঘণ্টা ভিউ! ঝড় তুলেছে যে জাপানি সিরিজ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/obpnf4bm/WhatsApp-Image-2026-10-20-at-5.04.52-PM.jpeg"><figcaption>গল্পের শুরুতে একটি গোপন সামরিক অভিযানে জেমস রিসের দল অতর্কিত হামলার শিকার হয়</figcaption></figure><p><strong>কারা থাকছেন নতুন মৌসুমে</strong></p><p>জেমস রিস চরিত্রে ক্রিস প্র্যাটের পাশাপাশি সাংবাদিক কেটি বুরানেক চরিত্রে ফিরছেন কনস্ট্যান্স উ। আরও থাকছেন টম হপার, দার সেলিম ও লুক হেমসওয়ার্থ।</p><p>অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন গ্যাব্রিয়েল লুনা, ওলগা কুরিলেঙ্কো, কোস্টা রোনিন ও আর্নল্ড ভসলোসহ অনেকে। গ্যাব্রিয়েল লুনাকে দেখা যাবে ফ্রেডি স্ট্রেইন চরিত্রে।</p><p>সিরিজটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করছেন প্র্যাট। অন্য নির্বাহী প্রযোজকদের মধ্যে রয়েছেন ডেভিড ডিজিলিও, জ্যাক কার ও অঁতোয়ান ফুকুয়া। প্রযোজনায় আছে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস, এমআরসি ও সিভিক সেন্টার মিডিয়া।</p><p><strong>সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন নির্মাতারা</strong></p><p>সামরিক অভিযানের দৃশ্য বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন নির্মাতারা। মূল উপন্যাসের লেখক জ্যাক কার নিজেই নেভি সিলের সাবেক সদস্য। নির্মাণে যুক্ত আছেন সাবেক নেভি সিল সদস্য জ্যারেড শ ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার ম্যাক্স অ্যাডামস।</p><p>তাঁদের পাশাপাশি সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরও অনেকে চিত্রনাট্য, অভিনয়, শুটিংয়ে কারিগরি পরামর্শ ও পরিচালনায় কাজ করেছেন। উদ্দেশ্য শুধু অভিযানের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা নয়; বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়গুলোও বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখানো।</p><p>প্রাইম ভিডিওর মূল প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে প্র্যাট জানিয়েছেন, বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত সদস্যদের কাজ ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো ছিল তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য। অ্যাকশন আর রোমাঞ্চের পাশাপাশি আড়ালে থেকে কাজ করে যাওয়া সেই মানুষদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা।</p><p><strong>মাঝখানে এসেছে ‘ডার্ক উলফ’</strong>  </p><p>মূল সিরিজের দুই মৌসুমের মাঝখানে এসেছে ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট: ডার্ক উলফ’। এটি একই গল্পজগতের প্রিকুয়েল, অর্থাৎ মূল সিরিজের আগের সময়ের ঘটনা নিয়ে তৈরি।<br>বেন এডওয়ার্ডস চরিত্রকে কেন্দ্রে রেখে তাঁর সামরিক ও গোয়েন্দা জীবনের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন টেলর কিটশ। নতুন মৌসুমের আগে প্রথম মৌসুমের পাশাপাশি এই সিরিজটিও দেখা যাবে প্রাইম ভিডিওতে।</p><p>এবার অবশ্য মনোযোগ আবার জেমস রিসের দিকে। প্রতিশোধের তালিকা মেলানোর পর জীবন তাঁকে কোথায় নিয়ে যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই শুরু হচ্ছে ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট’-এর নতুন অধ্যায়।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণ
কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণ

<p>আন্তর্জাতিক কৈশোর স্বাস্থ্য সপ্তাহ (১২-১৯ অক্টোবর ২০২৬) উপলক্ষে ‘কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি) ও প্রথম আলো। এই আয়োজনে সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।</p><h3>অংশগ্রহণকারী</h3><p><strong>অধ্যাপক ডা. কোহিনূর বেগম</strong></p><p>সভাপতি, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি); সাবেক সভাপতি, ওজিএসবি।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম</strong></p><p>সভাপতি, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, (ওজিএসবি)।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. রওশন আরা</strong></p><p>সাবেক সভাপতি, ওজিএসবি; চেয়ারপারসন, প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা</strong></p><p>মহাসচিব, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ</p><p>(পিএজিএসবি); সাবেক মহাসচিব, ওজিএসবি।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন মোল্লা</strong></p><p>শিশুবিশেষজ্ঞ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী</strong></p><p>মহাসচিব, এন্ডোমেট্রিওসিস অ্যাডেনোমাইয়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ইএএসবি); সাবেক সহসভাপতি, ওজিএসবি।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ</strong></p><p>বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ,</p><p>শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. নাজনীন বেগম</strong></p><p>বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ,</p><p>স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।</p><p><strong>অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন</strong></p><p>মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।</p><p><strong>ডা. শারমিন আব্বাসি</strong></p><p>সহযোগী অধ্যাপক, বন্ধ্যত্ব ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।</p><p><strong>ফারহান আহমেদ</strong></p><p>সিনিয়র পোর্টফোলিও মানেজার,</p><p>এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।</p><p><strong>ফিরোজ চৌধুরী</strong></p><p>সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।</p><h3>আলোচনা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/uh6ptjsd/01.-Kohinur-Begum.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. কোহিনূর বেগম</strong></p><p>সভাপতি, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি);</p><p>সাবেক সভাপতি, ওজিএসবি</p> <p>কিশোর-কিশোরীদের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছর। এই সময়টা শৈশব ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনকাল। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের স্বাস্থ্যসমস্যাও প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা। তাই তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এই বয়সে যেমন নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তেমনি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষারও বড় সুযোগ রয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সহিংসতার কারণে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক সমস্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তাদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আজকের কিশোর-কিশোরীরাই ভবিষ্যতে একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলবে।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; স্কুল, সহপাঠী, অভিভাবক, বেসরকারি সংস্থা, সমাজকর্মীসহ সবারই রয়েছে। যেকোনো কর্মসূচি নেওয়ার আগে সেটি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য থাকতে হবে। শুধু কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না, বাস্তবায়নের সময়ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক জায়গায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য কর্নার থাকলেও সেগুলোর যথাযথ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। এসব কেন্দ্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিবীক্ষণ প্রয়োজন।</p><p>কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠন, যেমন ওজিএসবি ও পিএজিএসবিকে সম্পৃক্ত করা দরকার। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে কিশোরীদের মাসিকসংক্রান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে এ ধরনের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে সরকার, পেশাজীবী, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/fybcgftx/02.-Feroza-Begum.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম</strong></p><p>সভাপতি, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, (ওজিএসবি)</p> <p>দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কিশোর-কিশোরী। এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার নির্ধারিত চারটি বিষয়—যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধ—বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ওজিএসবি বিভিন্নভাবে কাজ করছে। শিশু ও কৈশোর গাইনোকোলজিকে স্বতন্ত্র চিকিৎসা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করেছি, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যসমস্যায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া যায়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরি ও নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখছি। ২০১৬ সালে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করে আমরা কিশোর স্বাস্থ্য কর্নার প্রতিষ্ঠা করেছি, যা তৃণমূল থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।</p><p>সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কিশোর-কিশোরী ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে তারা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। এ ছাড়া সুখী জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে কাজ করেছি। স্কুলভিত্তিক একটি মডেলও তৈরি করেছি, যেখানে কৈশোরের পরিবর্তন, মাসিকের পরিচ্ছন্নতা, যৌনস্বাস্থ্য, পিসিওএস ও এন্ডোমেট্রিওসিস সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।</p><p>দেশে ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গ্রামাঞ্চলে অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও নিরাপদ গর্ভনিরোধক নিশ্চিত করার জন্য আমরা সরকারকে সুপারিশ করছি। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। অল্প বয়সে গর্ভধারণে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, প্রসবজনিত জটিলতা, অপরিণত শিশু জন্ম ও কম ওজনের শিশুর ঝুঁকি বেশি থাকে। ওজিএসবির হাসপাতাল ও আইআরসিএইচে সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের স্বল্পমূল্যে সেবাও দেওয়া হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/z9upu9rh/03.-Rawshan-Ara.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. রওশন আরা</strong></p><p>সাবেক সভাপতি, ওজিএসবি;</p><p>চেয়ারপারসন, প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া</p> <p>আমরা কি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছি? পরিবার থেকেই এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। কৈশোরে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে, তৈরি হয় নতুন চাহিদা। পরিবেশের প্রভাবও তাদের ওপর পড়ে। অথচ পরিবারে এসব বিষয়ে আমরা খুব একটা আলোচনা করি না, তাদেরও যথাযথ মূল্যায়ন করি না। পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপরও। বছরে এক দিন আলোচনা করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; সারা বছর তাদের স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে ভাবতে হবে। অনেক কিশোর-কিশোরী ক্লাব তৈরি হলেও কোথাও বসার ব্যবস্থা নেই, কোথাও আবার সুযোগ থাকলেও কিশোর-কিশোরীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। অথচ এসব জায়গায় তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলা, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকা দরকার।</p><p>পরিবারেও আমরা কিশোর-কিশোরীদের কথা বলতে বাধা দিই। মাসিক শুরু হওয়া স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন। এ বিষয়ে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও জানা প্রয়োজন। ভাইয়েরাও যেন বোনের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে আনতে পারে—সেই স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাদের মুখ বন্ধ করে না রেখে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।</p><p>পরিবেশদূষণসহ পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সহিংসতা ও বুলিংও ভয়াবহ সমস্যা হয়ে উঠেছে। স্কুলে বুলিংয়ের কারণে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও পড়াশোনা করতে পারছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানির ঘটনাও ঘটছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/dvdz1v20/04.-Gulshan-Ara.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা</strong></p><p>মহাসচিব, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি);</p><p>সাবেক মহাসচিব, ওজিএসবি</p> <p>বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সহিংসতা প্রতিরোধ—এই চার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ক্ষমতায়ন, মতপ্রকাশের অধিকার ও স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।</p><p>ওজিএসবি সরকারের কারিগরি সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সরকারের কাছে অ্যাডভোকেসি, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।</p><p>স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে হলে কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী, দরিদ্র, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করা জরুরি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।</p><p>কিশোরীদের পিসিওএস, অনিয়মিত মাসিক ও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্যশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সম্প্রতি ছয়টি স্কুল ও কলেজে সচেতনতা তৈরির কাজ করেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। তাই এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নিতে হবে।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারে তাদের শুধু সন্তান হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। মাসিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করতে হবে। স্যানিটারি প্যাড সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, পরিবার ও পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/8uw1ah1i/05.-Abed-Hosen-Molla.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন মোল্লা</strong></p><p>শিশুবিশেষজ্ঞ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ</p> <p>এত দিন আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবিনি। স্বাস্থ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শারীরিক, মানসিক ও প্রজননস্বাস্থ্য। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ও মননে প্রজননস্বাস্থ্যকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পাঠ্যক্রমেও এ বিষয়ে স্বতন্ত্র অধ্যায় নেই; বিষয়টি শারীরস্থান ও শারীরবৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই চিকিৎসাশিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসাপূর্ব শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়েও কৈশোরস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কৈশোরের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অস্পষ্টতা ও গোপনীয়তার বাধা দূর হবে।</p><p>কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নির্দেশিকা প্রয়োজন। এতে প্রান্তিক এলাকার কিশোর-কিশোরী, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। শুধু আলোচনা বা সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।</p><p>কৈশোরস্বাস্থ্যসেবায় গোপনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের চিকিৎসার তথ্য ও নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সবার জন্য সেবা পাওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যসমতা মানে সবাইকে একই ধরনের সেবা দেওয়া নয়; বরং প্রত্যেকের প্রয়োজন, প্রতিবন্ধকতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সেবা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।</p><p>দরিদ্রদের বিনা মূল্যে বা সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য চলাচল, ওঠা-বসা, সেবাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।</p><p>এসব বিষয়ে নিয়ম থাকলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ও সচ্ছল ব্যক্তিরাই বেশি সুযোগ পান। তাই বিদ্যমান নির্দেশিকা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/kxn79p5k/06.-Saleha-Begum.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী</strong></p><p>মহাসচিব, এন্ডোমেট্রিওসিস অ্যাডেনোমাইয়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ইএএসবি);</p><p>সাবেক সহসভাপতি, ওজিএসবি</p> <p>প্রজননস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাসিক। এখনো সমাজে মাসিক নিয়ে নানা কুসংস্কার ও ট্যাবু রয়েছে। সাধারণত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সে মাসিক শুরু হলে অনেক কিশোরী দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। তাদের জানাতে হবে, মাসিক স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এটি লজ্জার বিষয় নয়। মাসিকের পরিচ্ছন্নতা ও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কেও তাদের সঠিক তথ্য দিতে হবে।</p><p>মাসিক শুরুর প্রথম দিকে অনিয়মিত হতে পারে, যা নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিশোরীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) একটি পরিচিত সমস্যা। মাসিকের অনিয়ম বা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা হতে পারে। তাই সহানুভূতিশীল পরামর্শ ও অভিভাবকদের সচেতন করা জরুরি। শুধু আলট্রাসনোগ্রামে সিস্ট দেখা গেলেই পিসিওএস শনাক্ত করা উচিত নয়; স্থায়ী লক্ষণগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।</p><p>কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।</p><p>আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ এখনো বড় সমস্যা। ১৮ বছরের আগে বিয়ের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি প্রতিরোধে বাল্যবিবাহ বন্ধের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা ও গর্ভনিরোধক পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হলে উপযুক্ত বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।</p><p>কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে সরকার, চিকিৎসক, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই তাদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/kzrpbp6x/07.-Sultana-Afroz.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ</strong></p><p>বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ,</p><p>শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল</p> <p>কিশোরীদের মাসিক ও মাসিকের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে যথাযথভাবে বোঝানো হয় না। অথচ মাসিক একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া, প্রজননস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এটি কোনো রোগ নয়। কিন্তু এ নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণা, লজ্জা, সংকোচ ও কুসংস্কার রয়েছে। কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে প্রথমেই এসব বাধা দূর করতে হবে।</p><p>কিশোরীদের বয়সোপযোগী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে। মাসিক কেন হয়, কীভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হয়, কোন লক্ষণ স্বাভাবিক এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।</p><p>পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে ও নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।</p><p>মাসিকের সময় স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি প্যাড বা উপযুক্ত বিকল্পের নিরাপদ ব্যবহার, প্রয়োজনমতো পরিবর্তন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর সঠিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বও বোঝাতে হবে।</p><p>মাসিকের সমস্যাকে অবহেলা করা যাবে না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অসহনীয় ব্যথা, দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকা কিংবা বারবার অনিয়মিত মাসিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এসব সমস্যার পেছনে রক্তস্বল্পতা, হরমোনজনিত সমস্যা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের মতো কারণ থাকতে পারে।</p><p>এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ শুধু হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে কার্যক্রম চালাতে হবে।</p><p>চিকিৎসক, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/1dhh91v1/08.-Naznin-Begum.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. নাজনীন বেগম</strong></p><p>বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল</p> <p>কিশোরীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারা শুধু স্বাস্থ্যসেবার গ্রহীতা নয়, নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে হলে তাদের মতামত, অনুভূতি ও অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।</p><p>এ ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মা–বাবাকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কিশোরীরা নির্ভয়ে নিজেদের সমস্যা প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। পরিবারে মাসিক, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ভয় দেখানো বা লজ্জা দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে তাদের উৎসাহিত করতে হবে।</p><p>কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী সহজ ভাষায় রোগের প্রকৃতি, চিকিৎসার বিকল্প, সেগুলোর ভালো-মন্দ দিক এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে, যাতে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত নেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্মতি প্রদানের প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আলাদাভাবে তাদের মতামত শোনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।</p><p>কিশোরীদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের বয়স, পরিপক্বতা, নিরাপত্তা ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যসেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কিশোরীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবেই তাদের অধিকার ও আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করা সম্ভব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/b2tyi0ak/09.-Sultana-Algin.JPG"></figure><p><strong>অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন</strong></p><p>মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়</p> <p>কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় কিশোরীদের স্বাস্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিই; কিন্তু কিশোরদের প্রজননস্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাসিক ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আলোচনা হলেও ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে কথা হয় না। এসব বিষয়ে বাবা, ভাই বা বড়দের সঙ্গে কথা বলতে তারা অস্বস্তি বোধ করে। ফলে অনেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। তাই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। কৈশোর থেকে মেনোপজ ও অ্যান্ড্রোপজ পর্যন্ত প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।</p><p>বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ব্যাপকতা প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, আর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঘাটতি ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ। কিশোরদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ, আর কিশোরীদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। শহরের তুলনায় গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা মানসিক সমস্যায় বেশি ভুগছে। বয়ঃসন্ধিকাল শারীরিক, মানসিক ও আবেগ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময়ে ঘুমের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ, আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা ও আত্মহানির প্রবণতা দেখা দিতে পারে।</p><p>বর্তমানে গ্যাজেটের ব্যবহার ও সম্পর্কের জটিলতা কিশোর-কিশোরীদের ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আত্মহত্যা ও ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ক্ষতি করার প্রবণতাও উদ্বেগজনক।</p><p>এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুল, মেডিকেল কলেজ ও সামাজিক পর্যায়ে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং, মনোরোগ চিকিৎসা, পারিবারিক সচেতনতা ও যথাযথ রেফারালের ব্যবস্থা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক উদ্যোগ নিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/5976g8ii/10.-Sharmin-Abbasi.JPG"></figure><p><strong>ডা. শারমিন আব্বাসি</strong></p><p>সহযোগী অধ্যাপক, বন্ধ্যত্ব ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগ,</p><p>আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল</p> <p>কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন, স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণমাধ্যমের প্রভাব রয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।</p><p>প্রথমত, স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরি করতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা, পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভয়, লজ্জা ও ভুল ধারণা কাজ করে। টেলিভিশন, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য পৌঁছে দিয়ে এসব কুসংস্কার দূর করা সম্ভব।</p><p>দ্বিতীয়ত, কিশোর-কিশোরীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এবারের প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হলো আমাদের বিষয়ে আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। গণমাধ্যম তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।</p><p>তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা, ভুয়া স্বাস্থ্যতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, পুষ্টিহীনতা, মাদকাসক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বাধাগুলোও তুলে ধরতে হবে। এ জন্য চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের কাজের সমন্বয় প্রয়োজন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/yrwtygo2/11.-Farhan-Ahmed.JPG"></figure><p><strong>ফারহান আহমেদ</strong></p><p>সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার,</p><p>এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড</p> <p>কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সবারই দায়িত্ব রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাজ করার পাশাপাশি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসেরও সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানসম্মত ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনে অবদান রাখাও আমাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই আমরা।</p><p>এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা প্রতিটি ওষুধের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএমপিসহ আন্তর্জাতিক মান ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এসকেএফের অবস্থান আমাদের এই অঙ্গীকারের প্রতিফলন।</p><p>আজকের আলোচনায় কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।</p><p>আমি মনে করি, এই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবার পাশাপাশি এসকেএফের মতো ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কল্যাণে আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকতে চাই। পিএজিএসবি এবং প্রথম আলোকে এসকেএফের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।</p><h3>সুপারিশ</h3><ul><li><p>কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।</p></li><li><p>দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক এবং গ্রাম ও শহরের সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।</p></li><li><p>কিশোর স্বাস্থ্য কর্নার ও ক্লাবগুলোর পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং কার্যকারিতা নিয়মিত পরিবীক্ষণ করতে হবে।</p></li><li><p>সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, যৌন হয়রানি ও ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।</p></li><li><p>স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরকার, চিকিৎসক, পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যমের সমন্বয় বাড়াতে হবে।</p></li><li><p>বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও নিরাপদ গর্ভনিরোধক সেবা দিতে হবে।</p></li></ul>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
টাচস্ক্রিন ও ওএলইডি পর্দার ম্যাকবুক প্রো আনতে পারে অ্যাপল
টাচস্ক্রিন ও ওএলইডি পর্দার ম্যাকবুক প্রো আনতে পারে অ্যাপল

নতুন এই ল্যাপটপে এম৫ প্রো ও এম৫ ম্যাক্স চিপ ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এতে এম৬ চিপ ব্যবহার না-ও করা হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ম্যাকওএস ২৭.২-এর পরীক্ষামূলক সংস্করণে টাচস্ক্রিন-সম্পর্কিত কিছু সংকেত পাওয়া গেছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
কালো আমার হৃদয়ের আলো
কালো আমার হৃদয়ের আলো

মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের প্রেমের গল্পে বলা হয় ভালোবাসা রূপের চেয়ে মনের সৌন্দর্য ও বোঝাপড়ার ওপর নির্ভরশীল। স্ত্রীর গায়ের রং কালো হলেও ভালোবাসা অকৃত্রিম এবং বিশ্বস্ত।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
শারদীয় আবহে সাদা শাড়িতে স্নিগ্ধ ভাবনা
শারদীয় আবহে সাদা শাড়িতে স্নিগ্ধ ভাবনা

একরাশ স্নিগ্ধতা নিয়ে যেন ধরা দিয়েছেন আশনা হাবিব ভাবনা। সাদা শিয়ার শাড়ি, স্টেটমেন্ট ব্লাউজ আর সোনালি গয়নায় ধরা পড়েছে তাঁর সৌন্দর্য ।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের কমিটি ঘোষণা
ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের কমিটি ঘোষণা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের ২০২৭-২৮ সেশনের ২৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হয়েছে...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রামেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
রামেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের সুর
আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের সুর

টানা ছয় দিনের আনন্দ উৎসবের পর আজ বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
জয়ের জ্ঞাতসারে পলকের পোস্ট, দেশজুড়ে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড
জয়ের জ্ঞাতসারে পলকের পোস্ট, দেশজুড়ে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্ট, ইন্টারনেট বন্ধ এবং দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
আলজেরিয়া পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
আলজেরিয়া পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের সরকারি সফরে আলজেরিয়ায় পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
৯ মাসে কর্মক্ষেত্রে ৩৯০ শ্রমিকের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
৯ মাসে কর্মক্ষেত্রে ৩৯০ শ্রমিকের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

দেশে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
পূজায় যাওয়ার পথে ভ্যান থামিয়ে নারীর স্বর্ণালংকার লুট
পূজায় যাওয়ার পথে ভ্যান থামিয়ে নারীর স্বর্ণালংকার লুট

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নির্জন সড়কে গাছের ডাল ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। মুখোশ পরা দেশীয় অস্ত্রধারী ৫-৬ জনের একটি দল পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে একটি ভ্যানের নারী...

অক্টোবর ২১, ২০২৬
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার নিচে

অক্টোবর ২১, ২০২৬
একজন ওপার থেকে পয়সা দিচ্ছে, আরেকজন এখানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: তারেক রহমান
একজন ওপার থেকে পয়সা দিচ্ছে, আরেকজন এখানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: তারেক রহমান

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, তারা এক হয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দারা বিমান হামলার হুমকি সম্পর্কে ফোনে সতর্কবার্তা পেয়েছেন।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
মিষ্টির পর ইশরাক: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নাকি দল সামলানোর চেষ্টা তারেক রহমানের?
মিষ্টির পর ইশরাক: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নাকি দল সামলানোর চেষ্টা তারেক রহমানের?

এ দুটি ঘটনায় কী বোঝাতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কী দলের ভেতরে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া নেতাদের সামলানোর চেষ্টা থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ? নাকি শুধু দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করেছেন তিনি? কিংবা 'বিতর্ক তৈরি করলেই' পদ হারাতে হবে- এই কঠিন বার্তাই দিতে চেয়েছেন দলের নেতাদের।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাংলাদেশি নারী কারাগার থেকেই যোগাযোগ রাখতেন, দাবি পরিবারের
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাংলাদেশি নারী কারাগার থেকেই যোগাযোগ রাখতেন, দাবি পরিবারের

সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিবন্ধিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের কারাগারে থাকার কথা তারা জানতেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
হুথি হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য
হুথি হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য

হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
নাটোরে বালুর ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ১২ জন নিহত
নাটোরে বালুর ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ১২ জন নিহত

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, "ট্রাকটি কিন্তু তার লাইনেই ছিল। বাসের ড্রাইভারের তন্দ্রা বা ঘুম ভাব চলে এসেছিল। সে কারণেই ট্রাকটিকে ধাক্কা দিয়েছে"।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
বলিউডে কোন সিনেমা কীভাবে হিট বা ফ্লপ হয়? 'বক্স অফিস' আয়ের হিসাব কীভাবে হয়?
বলিউডে কোন সিনেমা কীভাবে হিট বা ফ্লপ হয়? 'বক্স অফিস' আয়ের হিসাব কীভাবে হয়?

'ধুরান্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' বিশ্বব্যাপী ১,৮৪৮ কোটি রুপি, 'ধুরান্ধর' ১,৩৫০ কোটি রুপি, 'চাওয়া' ৮০৯ কোটি রুপি, 'সাইয়ারা' ৫৭৯ কোটি রুপি এবং 'বর্ডার ২' ৪৬৪ কোটি রুপি আয় করেছে। এ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে এ বছর বক্স অফিসে বলিউড সিনেমাগুলোর পারফরম্যান্স কেমন ছিল।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা, প্যারিসের কিছু জায়গা এবং অন্যান্য শহরে কারফিউ জারি
ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা, প্যারিসের কিছু জায়গা এবং অন্যান্য শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু শহরে পুলিশের ‘নিয়ন্ত্রণ হারানোর’ কথা স্বীকার করার পরেই কারফিউ জারির ঘোষণা এলো। এখন রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ইশরাক হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন নাকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে?
ইশরাক হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন নাকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে?

সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে তিনি কোন ভুল করেননি।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
খুশি কাপুরের ভাঙা প্রেম জোড়া লাগল?
খুশি কাপুরের ভাঙা প্রেম জোড়া লাগল?

প্রয়াত বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবী ও নির্মাতা বনি কাপুরের দুই মেয়ে—জাহ্নবী ও খুশি কাপুর। বলিউড সিনেমায় নাম লেখিয়ে বেশ খ্যাতি কুড়িয়েছেন তাদের বড় মেয়ে জাহ্নবী।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী আজ
দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী আজ

শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী আজ। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চলাইটের আলোয় সংঘর্ষ, আহত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চলাইটের আলোয় সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জমি থেকে ঘাস কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ভালুকায় হামলায় আহত ২ পুলিশ
ভালুকায় হামলায় আহত ২ পুলিশ

ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
আবাসিক হোটেলে শিক্ষকের মরদেহ, মালিক পলাতক
আবাসিক হোটেলে শিক্ষকের মরদেহ, মালিক পলাতক

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

অক্টোবর ২০, ২০২৬
টোকিওতে ২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি বৈঠক
টোকিওতে ২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি বৈঠক

বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
বেনাপোলে ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
বেনাপোলে ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ফ্লেভারের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য খালাসের চেষ্টা ধরা পড়েছে। এতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
বিএনপি নেতার বাবার নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি, গ্রেপ্তার ১
বিএনপি নেতার বাবার নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি, গ্রেপ্তার ১

সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদের দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কথা বলে বিভিন্ন হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে ফোন করে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬