ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর ঘাস কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ‘দুর্গম’ নামক অসুরের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত জীবজগৎ ও দেবকুলের দুর্গতি দূর করতেই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, সকাল নয়টায় দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হবে।
১৯ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত বিডিআরআইএস সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
<p>ফাইনালে ওঠার হিসাবটা কী?<br>শারজায় আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে নিশ্চিতভাবেই ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটা। প্রথম হিসাবটা সোজাসাপটা—ম্যাচটা আগে জিততে হবে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলতে শুধু জয়ই যথেষ্ট হবে না বাংলাদেশের জন্য। অলিখিত সেমিফাইনালের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠা মেলাতে হবে অন্য হিসাবও।</p><p>প্রথমে ব্যাটিং করলে বাংলাদেশ আজ যত রানই করুক, ম্যাচটা জিততে তো হবেই, জয়ের ব্যবধান হতে হবে কমপক্ষে ৪১ রানের। পরে ব্যাট করলে হিসাবটা হবে আরও জটিল। ধরুন, আফগানিস্তান যদি ৩০০ রান করে, বাংলাদেশকে তখন জিততে হবে ৪২.২ ওভারের মধ্যে। এভাবে প্রতিপক্ষের রানের হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশকে কত ওভারে জিততে হবে, সেই সমীকরণটাও বদলে যাবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/cfpr7p4o/423967.6.webp"><figcaption>জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় জয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান</figcaption></figure><p>এসব অঙ্ক মেলানোর আগে প্রথমে যে ম্যাচ জেতার কাজ, সেটাই বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ, যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৯৯ রানে হেরে গেছে, তাদের তেমন পাত্তাই দেয়নি আফগানিস্তান। পরশু এই দুই দলের ম্যাচে ব্যাটিং–বোলিং কোথাওই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।<br>আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসও খুব সুখকর নয়। সর্বশেষ দুটি সিরিজেই তাদের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ, গত বছর যার শেষটিতে হতে হয়েছে ধবলধোলাইও। ওদিকে সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডের চারটিতেই জিতেছে আফগানিস্তান। আর বাংলাদেশের অবস্থা পুরোপুরি উল্টো—পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই তারা হেরেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/fvv1uvlp/prothomalo-bangla2026-10-20hqkisbd3WhatsApp-Image-2026-10-20-at-2.25.59-PM.avif"></figure><p>মাঠের ক্রিকেটেও বাংলাদেশের জন্য বর্তমান বাস্তবতাটা কঠিন। ওয়ানডের ব্যাটিংটা বাংলাদেশের জন্য অনেক দিন ধরেই দুশ্চিন্তার। কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় রান তাড়া করতে নামলে। গত তিন বছরে ১৫ বার দুই শর বেশি রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ সফল হয়েছে মাত্র চারবার। এখনকার ক্রিকেটে যেখানে তিন শ রানই তাড়া হয় নিয়মিত, সেখানে কি না বাংলাদেশ দুই শ রানই তাড়া করতে পারছে না!</p><p>বলা বাহুল্য, এই সংকটের মূলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে গত তিন বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের চেয়ে মিডল অর্ডারে কম গড়ে রান করেছে শুধু জিম্বাবুয়ে আর আয়ারল্যান্ড। মিডল অর্ডারের এই দুঃসময়ে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন রশিদ খান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/u8nxq60kej">জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ক্রিকেটারদের কী বার্তা দিয়েছিলেন তামিম</a></aside><aside><cite>তানজিদ হাসান</cite>যদি স্কিলের সমস্যা থাকত তাহলে কিন্তু আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, যদি একই মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বাইরেও খেলতে পারি, দল হিসেবে খুব ভালো করব।</aside><p><br>রশিদের স্পিনের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বরাবর অস্বস্তিতেই থাকেন। ১৯ গড়ে তিনি ৩৫ উইকেট পেয়েছেন শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তার ওপর অভিজ্ঞ এই লেগ স্পিনার দারুণ ফর্মেও আছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের সর্বশেষ ম্যাচে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে এগোতে দেননি তো তিনিই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-05/d1dad507-0a86-4763-84b3-61aa9c7d8661/Tanjid_T_reacts_after_his_50_runs_______1.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই সংকটকে অবশ্য মানসিক বলেই মনে করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। </figcaption></figure><p><br>বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই সংকটকে অবশ্য মানসিক বলেই মনে করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। গতকাল দলের পক্ষে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি বলব এটা মানসিক ব্যাপার। ৩০০-৩৫০ রানের কথা চিন্তা না করে যদি আমরা এটা ছোট ছোট লক্ষ্য বানিয়ে খেলি, তাহলে আমার মনে হয় সহজ হবে। এভাবেই আমাদের মানসিকভাবে নিজেদের ঠিক করতে হবে।’</p><p>এ বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ টানা চার সিরিজে জিতলেও দেশের বাইরের পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে আগে থেকেই। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর দেশের বাইরে বাংলাদেশ যে ১৭টি ওয়ানডে খেলেছে, হেরেছে তার ১৩টিতেই। অথচ এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা–জিম্বাবুয়ে–নামিবিয়ার মতো বিরুদ্ধ কন্ডিশনেই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/6nk9youc5a">আইসিসির নতুন নিয়মে বিপদে বাংলাদেশ: ব্যাটিংয়ে ধস, বোলিংয়ে লাগামহীন রান</a></aside><p><br>তানজিদ অবশ্য তাঁদের সামর্থ্যে কোনো ঘাটতি দেখছেন না। এ নিয়ে বলতে গিয়ে আবারও মানসিকতার প্রসঙ্গই আনলেন সামনে, ‘যদি স্কিলের সমস্যা থাকত তাহলে কিন্তু আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, যদি একই মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বাইরেও খেলতে পারি, দল হিসেবে খুব ভালো করব।’</p><p><br>সেটা আজ থেকে করতে পারলেই ভালো। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং জয়ের ব্যবধানের সমীকরণ মিলিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠাটাই এখন মুখ্য। তুলনামূলক কাছাকাছি বা খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানকে নিয়ে সিরিজের ফাইনালেও যদি খেলতে না পারে, বিশ্বকাপের আগে সেটি যে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেবে!</p>
<p>বাড়িতে অদক্ষ দাইয়ের হাতে প্রসব করাতে গিয়ে প্রসবজনিত ফিস্টুলায় নীরবে ভুগছেন দেশের হাজারো নারী। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতায় এই রোগ পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
পাহাড়ের সবুজ, মেঘের লুকোচুরি আর প্রকৃতির মায়ায় মুগ্ধ হতে দুর্গাপূজার ছুটিতে বান্দরবানে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।
<p>‘প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়ালে চোখ কিছুক্ষণ থমকে থাকে। একবার দেখে চলে যাওয়ার মতো নয় ছবিগুলো ধীরে ধীরে পাঠ করতে হয়। লাবণ্যময় রং-রেখা, সংযত বিন্যাস ও সূক্ষ্ম বিবরণ মিলে তৈরি করে এক মায়াবী আবেশ। বাংলার লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য, প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এই চিত্রমালার দৃশ্যভাষায় প্রবহমান।’</p><p>এভাবেই শুরু হয়েছে একটি চিত্র প্রদর্শনীর রিভিউ। প্রদর্শনীটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী’র। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর অন্য আলোর অনলাইনে ‘শিল্পভাষায় আত্মপরিচয় নির্মাণ’ শিরোনামে রিভিউটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক মলয় বালা।</p><p>এ লেখা কেস স্টাডি হিসেবে ধরে ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে আমরা মূল বিষয়বস্তুতে প্রবেশ করব। এখানে চারটি বাক্য আছে। কোনো বাক্যই বলছে না, এটা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রদর্শনীর রিভিউ! দেশীয় প্রদর্শনীর সমস্ত চিত্রকলা প্রদর্শনীর রিভিউগুলো যে একটি সুনির্দিষ্ট ছাঁচের হয়ে উঠছে, এই রিভিউ তার উত্তম উদাহরণ। বৈচিত্র্য না থাকা দোষের কিছু নয়, কিন্তু যা বলা হচ্ছে তা ইতিহাসের নিরিখে কতটুকু যৌক্তিক? সমালোচক বলছেন, ‘বাংলার লোকশিল্পকে দীর্ঘ ঐতিহ্য, প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এই চিত্রমালার দৃশ্যভাষায় প্রবহমান।’ বাংলার চিত্রকলা কি সত্যিই প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার? বাংলার চিত্রকলা কি সত্যিই লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য?</p><blockquote>এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যতত্ত্বও আমাদের তাই বলে। এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বাইরে প্রাচ্যকে কেউ এখনো বড় আকারে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। এটাই সর্বশেষ হিসেবে ধরে নিতে হচ্ছে আমাদের। ইউরোপীয় সমালোচকেরা এই তত্ত্বের কিছু জায়গা সমালোচনা করলেও, সম্পূর্ণ ধারণাটি খারিজ করে দিতে পারেনি।</blockquote><p>প্রাচ্যচিত্র কি? প্রাচ্যচিত্র ধারণাটির কি কোনো ভিত্তি আছে? প্রাচ্যে তো ৩৬টি দেশ। ৩৬টি দেশ মিলে কখনো কি একটা শিল্পরীতি তৈরি করেছে? প্রাচ্যের মিসরীয় শিল্পরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় শিল্পরীতির কি আদৌ কোনো মিল আছে? আরব-চীন-জাপানের চিত্রকলার সঙ্গে আমাদের চিত্রকলার মিল আছে কি? থাকলে এই মিলটা কবে থেকে হয়েছে? ওরিয়েন্টাল বা প্রাচ্যকলার ধারণা হওয়ার পর থেকেই এই মিলটা আমরা পাচ্ছি। প্রাচ্যকলার ধারণা যতটা না সাংস্কৃতিক কারণে তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি এটা তৈরি হয়ে রাজনৈতিক কারণে। আমরা সবাই জানি পশ্চিম এই বিভাজন করেছে প্রাচ্যকে শাসনের প্রয়োজনে। এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যতত্ত্বও আমাদের তাই বলে। এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বাইরে প্রাচ্যকে কেউ এখনো বড় আকারে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। এটাই সর্বশেষ হিসেবে ধরে নিতে হচ্ছে আমাদের। ইউরোপীয় সমালোচকেরা এই তত্ত্বের কিছু জায়গা সমালোচনা করলেও, সম্পূর্ণ ধারণাটি খারিজ করে দিতে পারেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/t3va0eyi/%E0%A7%A7.jpg"><figcaption>ভারতের অমরাবতী স্তূপের চুনাপাথরের গম্বুজাকার শিলাখণ্ড, খ্রিস্টীয় ৫০–১০০ অব্দ</figcaption></figure><p>সমালোচক বাংলার চিত্রকলাকে যে প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার বলছেন, তার পেছনে তিনি লেখায় একটি যুক্তিও দিয়েছেন। শেষ লাইনে তিনি বলছেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এই চিত্রমালার দৃশ্যভাষায় প্রবহমান।’ তবে এর পূর্বসূরি কারা। লেখক মলয় বালা এই রিভিউতেই জবাব দিচ্ছেন, ‘এই শিল্পভাবনার ঐতিহাসিক শিকড় খুঁজতে গেলে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কথা অনিবার্যভাবেই সামনে আসে। তাঁর শিল্পচেতনার গভীরে ছিল দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ। পঞ্চাশের দশকে ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পদৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও তিনি দেশীয় শিল্প–ঐতিহ্যের শিকড়ের সন্ধান থেকে বিচ্যুত হননি। বরং আধুনিক শিল্প-অভিজ্ঞতাকে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াসে তাঁর আগ্রহ ও উদ্যোগে তৎকালীন গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে প্রাচ্যকলা বিভাগের সূচনা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন চিত্র–ঐতিহ্য, বেঙ্গল স্কুল, মিনিয়েচার ও লোকশিল্পের চর্চার মধ্য দিয়ে দেশীয় শিল্পভাষার বিকাশের যে ভিত্তি তিনি নির্মাণ করেছিলেন, তারই একটি ধারাবাহিক প্রতিফলন আজকের এই চিত্রচর্চায় দেখা যায়।’ এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পূর্বসূরি জয়নুল হলেও গোটা ভারতবর্ষে এর পূর্বসূরি হলেন নন্দলাল বসু, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং যামিনী রায়ের মতো শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধারা। তাঁদের বেঙ্গল স্কুলের ধারণাই মূলত এখানে প্রাচ্যকলার ধারণা দেয়। এই প্রাচ্যকলাকেই তাঁরা বেঙ্গল স্কুল হিসেবে পরিচিত করাতে লাগলেন। এখনো বাংলাদেশের কোথাও ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ নামে আলাদা কোনো বিভাগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ প্রাচ্যকলা নামেই রয়েছে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ বা ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ’ নেই। আমাদের যেসব পূর্বসূরি শিল্পবোদ্ধারা এই বিভাগ খুলেছেন, তা এই উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়ে এসে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারণ, প্রাচ্যকলা ধারণাটিই সদ্য আরোপিত একটি ধারণা। যে ধারণার বয়স সাকল্যে তিন শ বছর।</p><p>এই বিভাগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি রানী দত্ত তাঁর ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ: প্রতিষ্ঠাকালীন বাস্তবতা’ প্রবন্ধের শুরুতে উল্লেখ করেন, ‘জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। দেশভাগের কারণে ১৯৪৮ সালে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত জয়নুল কলকাতা আর্ট স্কুল ত্যাগ করেন ঢাকায় আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। ১৯৪৮ সালেই তিনি তা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। জয়নুল যে শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন, তার শিক্ষাপদ্ধতি কলকাতা আর্ট স্কুলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সম্ভবত ওই শিক্ষাপদ্ধতিকে অনুসরণ করেই জয়নুল ১৯৫৫ সালে নতুন আরেকটি বিভাগ—প্রাচ্যকলা শুরু করেছিলেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/szeksfif/%E0%A7%A8.jpg"><figcaption>শিকারির বেশে শিবকে চিত্রিত করা পোড়ামাটির ফলক, ভারত, আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৪০০–৫০০ অব্দ</figcaption></figure><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চারুশিল্পের সম্পাদক নজরুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে প্রশ্ন করেন, আপনি যখন কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন, তখন তো বাংলাদেশে চিত্রকলায় অবনীন্দ্র নাথের নেতৃত্বে ভারতীয় তথা ওরিয়েন্টাল আর্টকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার একটা আন্দোলন চলছিল। কিন্তু আপনি ইউরোপীয় চিত্রাঙ্কন পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ কী?</p><p>জবাবে শিল্পাচার্য বলেন, আসলে মুকুল দে–ও আমাকে ওরিয়েন্টাল আর্টেই যেতে উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার মারাত্মক দুর্বলতা ছিল ইউরোপীয় চিত্রাঙ্কন রীতির প্রতি। আমি ছোটবেলা থেকেই নিসর্গ থেকে ছবি এঁকেছি। সেই আঁকার রীতি আমার নিজস্ব এবং বস্তুত ইউরোপিয়ান একাডেমিক পদ্ধতির। মনে হতো, ওভাবেই প্রকৃতির দৃশ্যাবলি, গাছপালা, নদী ইত্যাদি আমি ঠিকভাবে দেখাতে পারব। ওরিয়েন্টাল রীতি তো বেশ স্টাইলাইজ, তাতে যেন তৃপ্তি পেতাম না। (সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ৩৯তম সংখ্যা, ১৫ মার্চ ১৯৭৪)</p><blockquote>এখনো বাংলাদেশের কোথাও ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ নামে আলাদা কোনো বিভাগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ প্রাচ্যকলা নামেই রয়েছে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ বা ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ’ নেই। আমাদের যেসব পূর্বসূরি শিল্পবোদ্ধারা এই বিভাগ খুলেছেন, তা এই উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়ে এসে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারণ, প্রাচ্যকলা ধারণাটিই সদ্য আরোপিত একটি ধারণা। যে ধারণার বয়স সাকল্যে তিন শ বছর।</blockquote><p>স্বয়ং শিল্পাচার্য যখন তাঁর ইউরেসেন্ট্রিক মানসিকতার কথা প্রকাশ করছেন, তখন কি আমাদের সাবধান হওয়া উচিত নয়? সেই সময়ের পরিস্থিতিতে তিনি যতটুকু সম্ভব আমাদের এগিয়ে দিয়ে গেছেন, আমাদের জন্য শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক দ্বার উন্মোচন করেছেন। এই সময়ে এসে আমরা যদি পূর্বসূরিদের পুনর্মূল্যায়ন না করি, তবে এটা তাদের প্রতিও অবিচার করা হবে। কারণ, তারা এই প্রাচ্যকলা ধারণাটি তৈরি করেছে কোনো না কোনো পূর্বধারণা ভেঙে। কতগুলো দেশের একটা সমন্বিত সংস্কৃতি বাস্তবসম্মত কি না তা শুধু প্রশ্নসাপেক্ষই নয়, সম্ভবত এই চিন্তা করাটা এই সময়ের অপরাধ। বাংলাদেশে আমরা যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে অন্য আদিবাসীদেরও এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চাই, এটা সে ধরনের একটি অপরাধ। বহুজাতিক রাষ্ট্রের একক সংস্কৃতির ধারণাটি যদি সঠিক হতো, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয় না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/2ps4c56b/%E0%A7%A9.jpeg"><figcaption>৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর অন্য আলোর অনলাইনে ‘শিল্পভাষায় আত্মপরিচয় নির্মাণ’ শিরোনামে রিভিউটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক মলয় বালা।</figcaption></figure><p>প্রাচ্যকলা বা প্রাচ্যচিত্রের ধারণা আমাদের চারুকলার শিক্ষার্থীরা মর্মে মর্মে অনুধাবন করেন বলে হীনম্মন্যতায়ও ভুগছেন। পশ্চিম আমাদের মধ্যে এই হীনম্মন্যতাই তৈরি করতে চেয়েছিল। সে ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছে। আমাদের চিত্রশিল্পীদের অধিকাংশ সব সময়ই বিদেশমুখী। দেশীয় মিডিয়ামেও তারা আর ছবি আঁকতে পছন্দ করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক মো. রকিবুল হাসান অতিসাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারুকলা অনুষদে ‘পেইন্টিং’ বা পশ্চিমা তৈলচিত্রকে বানানো হয়েছে ‘আধুনিকতা’র প্রতীক। আর আমাদের নিজস্ব মাটি ও রীতির ‘প্রাচ্যকলা’ (Oriental Art)-কে কেবল ব্যাকডেটেড বা অতীতমুখী ঐতিহ্য বানিয়ে এক পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।</p><p>এটা কি কেবলই অনিচ্ছাকৃত? নাকি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্ত? আমাদের মনস্তত্ত্বকে পরাধীন করে রাখার ফলে শিক্ষার্থীরা আজ নিজেদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগছে।</p><p>নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলে পশ্চিমা ফ্রেমে বন্দী করার এই ষড়যন্ত্র ভাঙার সময় এসেছে। চারুকলা সংস্কার হোক, বাংলাদেশের শিল্পকলা থেকে ঔপনিবেশিক আধিপত্য নিপাত যাক, বাংলার নিজস্ব শিল্পভাষা মুক্তি পাক।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/b28208zy/%E0%A7%AA.jpeg"><figcaption>বঙ্গীয় শিল্পকলা নিয়ে দ্রাবিড় সৈকতের বই।</figcaption></figure><p>মলয়বালার চিত্রপ্রদর্শনীর রিভিউতে লেখা ‘বাংলার লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য’ ধারণাটিও যে একটি গোলকধাঁধা, তার উত্তর পাই এই সময়ের চিত্রশিল্পী ও গবেষক ড. দ্রাবিড় সৈকতের গবেষণাকর্মে। ‘বাঙলার চিত্রকলা : ইউরোপমুখীতার মর্মভেদ’ বইয়ে দ্রাবিড় সৈকত বলতে চেয়েছেন, সত্যিকারার্থে বাংলার চিত্রকলা বলে যে চিত্রকলাগুলোকে আমরা সামনে আনছি, তা মূলত লোকশিল্প। লেখকের মতে, এই জীর্ণ আদিপ্রকরণের শিল্প কখনোই বাঙালির শিল্প ছিল না, বাঙালির চিত্রকলায়ও আছে যথেষ্ট গাণিতিক ফর্মুলা, যা আমাদের একটি উন্নততর সাংস্কৃতিক পথ রচনা করতে সক্ষম। শুধু পথ রচনা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এই পথ যাতে অটল অটুট থাকে, তার জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বঙ্গীয় শিল্পের রীতি, ব্যাকরণ, গাণিতিক ফর্মুলা। তার ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা: দেহতত্ত্বের দার্শনিক উত্তরাধিকার’ নামক বইটি পড়লে আমরা এই ধারণা সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট হব হয়তো।</p><blockquote>বাংলা চিত্রকলার ব্যাকরণ কবে থেকে থেকে হারিয়ে গেল? কেন হারিয়ে গেল? কীভাবে হারিয়ে গেল? এই উত্তরগুলো খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। এই ব্যাকরণ খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল বাৎসায়ন, বরাহমিহির, নগ্নজিৎ, সমরাঙ্গন সূত্রধার, সরস্বতী কুমার পালের গাণিতিক ফর্মুলা ও নন্দনতাত্ত্বিক ঐতিহ্য অনুসরণ করলেই হচ্ছে না। কারণ, এগুলো সব কটিই বাংলার দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলা-বঙ্গের দর্শন আসলে কী? এর প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে যে বিতর্ক, তার অবসান কীভাবে হবে?</blockquote><p>ভারতীয় উপমহাদেশে মনীষীদের প্রণীত বাৎসায়নের ‘কামসূত্র’, বরাহমিহিরের ‘বৃহৎ সংহিতা’, নগ্নজিৎের ‘চিত্রলক্ষণ’, ভোজদেবের ‘সমরাঙ্গন সূত্রধার’ কিংবা সরস্বতী কুমারের পাল ‘চিত্রকলা’র মতো সুনির্দিষ্ট গাণিতিক ফর্মুলা ও দেহতাত্ত্বিক নন্দনতাত্ত্বিক ঐতিহ্য থাকার পরও আমরা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক আধুনিকতার প্রভাবে প্রভাবিত। তার প্রমাণ স্বয়ং চারুকলা নামটি। চারুকলা মানে কী? চারুকলা মানেই কি শিল্পকলা? শিল্পকলা মানেই কি চারুকলা? দুটি কি এক শব্দ? প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো ব্যবচ্ছেদ করে দেখেছি কি? আমরা জানি চারু শব্দের অর্থ সুন্দর, আর কলা শব্দের অর্থ বিদ্যা। তবে সূচিশিল্প বা ব্র্যান্ডের পোশাকগুলোও কি শিল্প? এগুলোকে আমরা বড়জোর নান্দনিক বলতে পারি, শিল্প নয়। কেন শিল্প নয়, তা শিল্পের সংজ্ঞা পড়লেই আমরা বুঝতে পারব। চারুকলায় কি চারুচর্চা প্রাধ্যান্য পাবে, নাকি শিল্পচর্চা। আমরা চারুশিল্প এবং শিল্পকলাকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছি। যেটা জাদুঘরে থাকার কথা, গ্রামীণ ঐতিহ্য বিভাগে থাকার কথা, সেটা দখল করেছে শিল্পকলার স্থানে। কারুশিল্পের দক্ষতা আর সৃজনশীলতাকে আমরা এক রেখায় দেখছি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/aqj98a2b/%E0%A7%AB.jpg"><figcaption>অজন্তা গুহার ভেতরে প্রাচীন ২৪ ফুট দীর্ঘ শায়িত বুদ্ধমূর্তি</figcaption></figure><p>বাংলা চিত্রকলার ব্যাকরণ কবে থেকে থেকে হারিয়ে গেল? কেন হারিয়ে গেল? কীভাবে হারিয়ে গেল? এই উত্তরগুলো খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। এই ব্যাকরণ খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল বাৎসায়ন, বরাহমিহির, নগ্নজিৎ, সমরাঙ্গন সূত্রধার, সরস্বতী কুমার পালের গাণিতিক ফর্মুলা ও নন্দনতাত্ত্বিক ঐতিহ্য অনুসরণ করলেই হচ্ছে না। কারণ, এগুলো সব কটিই বাংলার দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলা-বঙ্গের দর্শন আসলে কী? এর প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে যে বিতর্ক, তার অবসান কীভাবে হবে? দ্রাবিড় সৈকত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন। তাঁর ‘ফ্রয়েডীয় লিবিডো তত্ত্ব এবং তান্ত্রিক দেহাত্মবাদ’ বইয়ে বাংলার দর্শনের একটি রূপরেখা পাওয়া যাবে। বইটিতে বলা হয়, ‘প্রথানুসারে ভারতীয় দার্শনিক সম্প্রদায় নয়টি (চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন, সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, মীমাংসা, বেদান্ত) ধারায় বিভক্ত। সাধারণত তান্ত্রিক মতাদর্শকে আলাদা করে দার্শনিক সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয় না। কিন্তু গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যাবে ভারতীয় দর্শনধারায় তন্ত্রই হবার কথা ছিল প্রথম দার্শনিক সম্প্রদায়। কেন তন্ত্রকে আলাদা করে দর্শনপ্রস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না, সেটি বিস্তারিত আলোচনার বিষয় হতে পারে।’ এই বইটিও আমাদের চিত্রকলার দর্শন খোঁজার একটি আকরগ্রন্থ হিসেবে মূল্যায়িত হতে পারে আমাদের কাছে।</p><p>বাংলাদেশে এখন সংস্কারের হাওয়া চলছে। চারুকলা যদি এই সময়ে এসেও সংস্কার না হয়, আর কখন হবে? প্রচলিত একাডেমিক কাঠামোর পরিবর্তন, ‘প্রাচ্যকলা’ বা ‘ফোক’ শব্দাবলির রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক সমালোচনার কারণে প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রবীণ শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া বা অসহযোগিতা আসবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই বলে শিল্পীরা দেশীয় শিল্পের ব্যাকরণ খুঁজবে না, চারুকলার সংস্কার করবে না, এটা এখনো মানা যায় না। কারণ, এ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে চারুকলার ভূমিকা আছে।</p><p>শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটা লেখা দিয়ে শেষ করতে চাই, ‘আমাদের এ ধরনের শিল্পীদের অধিকাংশই কিছুটা অপরিণত বয়সে বিদেশে গিয়েছিল এবং গিয়ে সেখানে যেসব চিত্রাঙ্কন ধারা দেখেছে, তাতে তাদের চোখ আটকে গিয়েছিল এবং সেই সব ধারাকে অনুসরণ করে তারা ছবি এঁকেছে, ভালো ছবিও এঁকেছে, কিন্তু আমার মনে হয় ওরা যতই পরিণত হবে, ততই আবার প্রকৃতিতে, জীবনে, জনতায় ও স্বপরিবেশের মধ্যে ফিরে আসবে। নিজ ঐতিহ্য ও নিজ জনমানুষকে তারা জানতে পারবে এবং তাদের চিত্রকলায় তা ফুটাতেও পারবে।’</p><p><strong>অনার্য মুর্শিদ</strong></p><p>গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা</p>
বীজি (সা.) এমন কিছু মানুষের জন্য শহিদ হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন, যাঁদের মৃত্যু বাহ্যিকভাবে বেদনাদায়ক হলেও আল্লাহর কাছে তাঁদের মর্যাদা হতে পারে অত্যন্ত সম্মানজনক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন