শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

ফান্সের ছাত্র বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় চারশরও বেশি আটক ফ্রান্সজুড়ে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার দেশটিতে বেশিরভাগ অপ্রাপ্তবয়স্কসহ চারশরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কিশোর-কিশোরীরা কয়েক দিন ধরে তাদের স্কুলগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রেখেছে। ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংকটের মতো বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪০০টি স্কুল এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ময়লার ঝুড়িতে আগুন দিচ্ছে এবং বাস স্টপ ভাঙচুর করছে। ১৬ বছর বয়সী এক ফরাসি ছাত্রী এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেন, “আমরা এখানে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে এসেছি। সবকিছু বিনা কারণে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা এখানে আসিনি। শিক্ষাব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, সেটি পরিষ্কারভাবে বলতেই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপে আছেন।” এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্জ জেফ্রে (Édouard Geffray) বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে, তবে সহিংসতার খবরগুলোকে তিনি ‘অমার্জনীয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ (Laurent Nuñez) বিএফএমটিভিকে (BFMTV) ৪৪০ জনকে আটকের কথা জানিয়ে বলেন, “আমাদের কাছে এখনও চূড়ান্ত হিসাব নেই, তবে আমাকে জানানো হয়েছে যে তাদের দুই-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে পুলিশি হেপাজত বা আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।” ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে নানা বস্তু ছুড়ে মারে এবং এর জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা `ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েন`-এর (Union Syndicale Lycéenne) সভাপতি রিয়াদ রানি (Ryad Rani) এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে ‘দমনপীড়ন’ এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনেছেন। বেশ কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিবিদের সমালোচনার মুখে থাকা এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পুলিশি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নুনেজ বলেন, পুলিশ অত্যন্ত ‘পরিমিত পন্থায়’ দায়িত্ব পালন করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে লিখেছেন: “বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা, যা এ ধরনের কাজের অজুহাত হতে পারে না।” “এগুলোকে বৈধতা দেওয়া বা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ দীর্ঘায়িত করার ডাক দেওয়া মানে আমাদের শিক্ষার্থী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিতে ফেলা। এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।” যুক্তরাজ্যের সিক্সথ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাই স্কুলের সমতুল্য ফ্রান্সের লিসে (lycées) বা উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর এই আন্দোলন গত সপ্তাহে প্যারিস সংলগ্ন ইল-দ্য-ফ্রঁস (Île-de-France) অঞ্চলে শুরু হয়। এর আগে সোমবার ১৬৪ জনকে আটকের পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু (Sébastien Lecornu) সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ছাত্র বিক্ষোভের যেকোনো ধরনের বাড়াবাড়ি হবে “দায়িত্বজ্ঞানহীন”। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিক্ষোভের সময় ঘটিত বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে লেকর্নু বলেন, “আতশবাজি, আগুন এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি সহিংসতা: কোনো কিছু দিয়েই শিক্ষার্থী, কর্মী বা পুলিশ অফিসারদের ঝুঁকির মুখে ফেলাকে যৌক্তিক বলা যায় না।” নিম্ন মজুরি ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষক, হাসপাতালের কর্মী এবং সিভিল সার্জনদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর দেশব্যাপী কর্মবিরতির সাথেই মঙ্গলবার এই ছাত্র বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা মিলে যায়। নুনেজ জানান যে, অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভগুলোর বেশিরভাগই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। =============== ফাঁস হলো ছাত্র বিক্ষোভ: ফ্রান্সে একদিনে চারশর বেশি আটক, আহত অর্ধশতাধিক ফ্রান্সজুড়ে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সংঘটিত সহিংসতার জেরে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীসহ চারশরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের অন্তত ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই আন্দোলনের প্রভাবের মুখে পড়েছে। বিক্ষোভের নেপথ্য কারণ ও পরিস্থিতি প্যারিসের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে গত সপ্তাহে এই আন্দোলন শুরু হয়। কিশোর-কিশোরীরা কয়েক দিন ধরে তাদের স্কুলগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রেখেছে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার প্রতিবাদ জানিয়ে জানান, প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন ছাড়িয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষকরাও অতিরিক্ত চাপে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্জ জেফ্রে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও সহিংসতার ঘটনাগুলোকে ‘অমার্জনীয়’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিক্ষোভ করার অধিকার মৌলিক স্বাধীনতা হলেও তা সহিংসতার অজুহাত হতে পারে না। অবরোধ দীর্ঘায়িত করা শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।” পুলিশি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে নানা বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশও লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বিএফএমটিভিকে জানান, মঙ্গলবার ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে পুলিশি হেফাজতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে নুনেজ দাবি করেন, পুলিশ অত্যন্ত ‘পরিমিত ও পেশাদার পন্থায়’ দায়িত্ব পালন করেছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা `ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েন`-এর সভাপতি রিয়াদ রানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘দমনপীড়ন’ ও পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে সোমবার ১৬৪ জনকে আটকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুও ছাত্র বিক্ষোভের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এদিকে, একই দিনে শিক্ষক, হাসপাতাল কর্মী ও সিভিল সার্জনদের ইউনিয়নগুলোর দেশব্যাপী কর্মবিরতির পাশাপাশি এই ছাত্র আন্দোলন ফ্রান্সের সার্বিক জনজীবনকে বেশ কিছুটা নাড়া দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত অন্যান্য পেশাজীবীদের এই বিক্ষোভগুলো মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আছে?

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

শিক্ষা

View more
অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয়দের ইট নিক্ষেপ, ওসি আহত
অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয়দের ইট নিক্ষেপ, ওসি আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে নিয়ে ফেরার সময় স্থানীয়দের ছোড়া ইটের আঘাতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহত হয়েছেন।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প

রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প

এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী
আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

  এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখানে প্রতিটি স্টল ঘুরে আমাদের মনে হলো দেশে নিউটন–আইনস্টাইনের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনে সময় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। প্রতিজনকে প্রশ্ন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট: এক শিক্ষকেই সামলাচ্ছেন একাধিক শ্রেণি

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে শিখন ঘাটতি

করোনা মহামারির সময় থেকেই দেশে অনলাইন ক্লাসের প্রচলন শুরু হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতির এই প্রয়োগ অনেকটাই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার অংশ ছিল। শুরুতে শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিষয়টি গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে এর প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করে। এখন দেখা যাচ্ছে, অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতির হার বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর হতে হলে নির্দিষ্ট অবকাঠামো, উপযুক্ত পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে, দেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পায় না। আবার অনেকের বাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় ডিভাইস, কিংবা থাকলেও তা পরিবারের একাধিক সদস্যের মাঝে ভাগ করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার অভাব শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ হারানোর অন্যতম কারণ।   শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যাই নয়, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না। অনেক সময় তারা বুঝেও না বোঝার ভান করে ক্লাস শেষ করে দেয়। এতে করে বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং শিখনে ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস অনেক সময় একঘেয়েমি ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, ফলে শেখার গতি ব্যাহত হয়।   শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, অনলাইন ক্লাসে পাঠদানের পদ্ধতি এখনও যথাযথভাবে মানসম্মত হয়নি। অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনান, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। অপরদিকে, অনেক শিক্ষক নিজেরাও প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, ফলে ক্লাস পরিচালনায় তারা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাসে সম্পৃক্ততা কমে যায় এবং তারা পড়াশোনা থেকে ধীরে ধীরে বিমুখ হয়ে পড়ে।   অভিভাবকরাও বলছেন, শিশুদের ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনায় আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় তারা মোবাইল বা ল্যাপটপে ক্লাসের নাম করে অন্য কিছুর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করে। এছাড়া দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা ও একাকীত্বও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন হাইব্রিড লার্নিং পদ্ধতি—যেখানে অফলাইন ও অনলাইন উভয় মাধ্যমকে ভারসাম্যের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসের কনটেন্টকে আরও ইন্টারেক্টিভ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও আগ্রহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।   দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নয়তো এই ধারাবাহিক শিখন ঘাটতি আগামী দিনে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও দক্ষতার মানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0

ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার বাড়ছে

সরকারি স্কুলে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল হাজিরা চালু, নজরদারিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় আবেদন ও মেধাতালিকা

0 Comments