স্যানিটারি প্যাড পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যুবক!
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করেছে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী।
৫২ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক নিউ ইংল্যান্ড।
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ীতে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে গোপনে ধারণ করা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিব...
চাকরির পরীক্ষায় নকল করার উদ্দেশ্যে ইলেকট্রিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে একজন প্রার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুরের শ্রীপুরে কাঠবোঝাই টমটমের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ফয়সাল শেখ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
বিএমসি হেলথ সার্ভিসেস রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেশের ২০১টি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাজুল ইসলামকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দাবি করেছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি।
সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মিরপুরে নতুন করে পোশাকশ্রমিকদের কোনো বিক্ষোভ হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
<p>ফর্মুলা ওয়ান রেসিং প্রতিযোগিতায় গাড়িতে গতির ঝড় তুলে অনেক চালকই তারকা বনে গেছেন। রেসিং প্রতিযোগিতায় গাড়ি চালানোর পেছনে শুধু চালকের বুদ্ধিমত্তা নয়, তথ্যনির্ভর বিশাল কার্যক্রমও ভূমিকা রেখে থাকে। তাই মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড কম্পিউটিং এবং অ্যাজুর ব্যাচের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে রেসের কৌশলবিদেরা হাজার হাজার সিমুলেশন রিয়েল-টাইমে পরিচালনা করছেন।</p><p> মার্সিডিজ-এএমজি পেট্রোনাস এফ১ টিমের লিড রেস কৌশলবিদ জোসেফ ম্যাকমিলান বলেন, ‘অ্যাজুর ব্যাচ আমাদের রেস স্ট্র্যাটেজিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে আমরা পুরো রেসের প্রতিটি ল্যাপ, পিট স্টপ ও ওভারটেকের দৃশ্যপট মুহূর্তেই সিমুলেশন করতে পারি। ভালো কৌশলবিদ হতে গেলে যৌক্তিক চিন্তা, ডেটা বিশ্লেষণ ও মডেলিংয়ে দক্ষ হতে হয়। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এআই কোডিং টুল ব্যবহারের ফলে অতি দ্রুত জটিল সিমুলেশন দ্রুত চালু করা সম্ভব হচ্ছে।’</p><p>ম্যাকমিলান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে গণিতে পিএইচডি শেষ করে মার্সিডিজ এফ১ টিমে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির কৌশল বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ৩ মে মিয়ামি গ্রাঁ প্রি শুরুর আগে ম্যাকমিলান ট্র্যাকের পাশের কনসোলে বসে একাধিক তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন। ব্রিটেনের জর্জ রাসেল পঞ্চম স্থানে এবং ১৯ বছর বয়সী কিমি আন্তোনেল্লি পোল পজিশন থেকে রেস শুরু করেন। কার রেসে এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ সময় জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। রেস স্ট্র্যাটেজিস্টের মূল কাজ রেসের সময় চাকার টায়ার পরিবর্তন ও সঠিক সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া।</p><p>রেস চলাকালে প্রতিপক্ষের গাড়ি, আবহাওয়াসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে কম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মিয়ামি গ্রাঁ প্রিতে আন্তোনেল্লি শুরুতে রেসের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাকমিলান তাৎক্ষণিক আন্ডারকাট কৌশল গ্রহণ করেন। আন্ডারকাট হলো সামনের গাড়ির আগেই পিট স্টপ নেওয়া, যাতে নতুন টায়ারের সুবাদে গতি বাড়িয়ে সামনের গাড়িকে টেক ওভার করা যায়। মেঘলা আবহাওয়া সত্ত্বেও হালকা ড্রাই টায়ারে আন্তোনেল্লির গাড়ি গতি বাড়ানোর ঝুঁকি নেন ম্যাকমিলান। রেডিও ইন্টারকমে নির্দিষ্ট মেসেজ পাঠিয়ে নিখুঁত সময়ে আন্তোনেল্লিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কৌশলটি শতভাগ সফল হওয়ায় আন্তোনেল্লি আবার রেসের নেতৃত্বে ফেরেন এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয় করেন।</p><p>রেস শেষে চালক কিমি আন্তোনেল্লি জানান, কৌশলবিদেরা চমৎকার কাজ করেছেন। দুর্দান্ত কৌশলের মাধ্যমে বড় একটা জয় নিশ্চিত করেছেন তাঁরা। ম্যাকমিলান জানান, এ জয় প্রমাণ করে তথ্য ও কৌশলবিদ দলের নেওয়া নিখুঁত কৌশল ফর্মুলা ওয়ান রেসিং প্রতিযোগিতায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>সূত্র: মাইক্রোসফট</p>
<p>ধরুন, শীতের রাতে একটি পানির বোতল ফ্রিজে রেখে দিলেন। পরদিন সকালে বোতলটি বের করে দেখলেন, পানি এখনো স্বচ্ছ ও তরল (অবাক হবেন না, বিশেষ পরিস্থিতে এমনটা সম্ভব)। অথচ থার্মোমিটার বলছে, পানির তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস! অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। কারণ, আমরা জানি, ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বরফ হয়ে যায়। তাহলে মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পানি তরল থাকল কীভাবে?</p><p>এবার বোতলটিতে আলতো করে একটা টোকা দিন, বা একটু ঝাঁকিয়ে নিন। আশ্চর্যজনকভাবে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোতলের ভেতরের পানি বরফে পরিণত হতে শুরু করবে। স্বচ্ছ পানির ভেতর দিয়ে সাদা বরফের স্তর ছড়িয়ে পড়বে। দেখতে মনে হবে, চোখের সামনেই পানি জমে যাচ্ছে! এ ঘটনাকে বলে অতিশীতলীকরণ। বিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো তরল তার স্বাভাবিক হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রাতেও তরল অবস্থায় থাকলে তাকে অতিশীতল অবস্থা বলে। পানি সাধারণত ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে জমে যায়। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই তাপমাত্রার অনেক নিচেও তরল থাকতে পারে।</p><p>এখানে মজার ব্যাপার হলো, পানি জমার জন্য শুধু ঠান্ডা হওয়াই যথেষ্ট নয়; অনেক সময় বরফের স্ফটিক তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিবেশও দরকার হয়। সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারলে অতিশীতল পানি মুহূর্তের মধ্যেই বরফ হয়ে যেতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/bkdda7ypez">বালি কেন দ্রুত গরম হয়, পানি কেন দেরিতে</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো তরল তার স্বাভাবিক হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রাতেও তরল অবস্থায় থাকলে তাকে অতিশীতল অবস্থা বলে। পানি সাধারণত ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে জমে যায়।</blockquote><p>কয়েক বছর আগে এক প্রকৌশলী অন্য প্রকৌশলীদের একটি অনলাইন ফোরামে মজার প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে দ্রুত ঘুরতে থাকা সিমেন্ট মেশানোর ড্রাম কি পানিকে তরল রাখতে পারবে? ধরুন, বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ড্রামটি অবিরাম ঘুরছে। ঘর্ষণ ও আলোড়নের ফলে কিছু তাপও তৈরি হচ্ছে। তাহলে কি সেই তাপ পানিকে জমতে দেবে না?</p><p>প্রশ্নটির উত্তরে প্রকৌশলীরা দুই দলে ভাগ হয়ে গেলেন। একদল মনে করলেন, ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পানি তরল থাকতেই পারে না। অন্য দলের যুক্তি ছিল, তাঁরা এমন ভিডিও দেখেছেন, যেখানে ফ্রিজার থেকে বের করা স্বচ্ছ পানির বোতলে টোকা দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বরফ জমে যায়। তাহলে কোন দলের উত্তর সঠিক ছিল?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/eoqyw436/supercooled_bottle_before_after.webp"><figcaption>একই পানির বোতলের দুটি মুহূর্তের ছবি। বাঁয়ের ছবিতে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও পানি তরল অবস্থায় রয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পর বোতলটি একবার ঝাঁকাতেই পানি বরফকুচি মেশানো আধা জমাট অবস্থায় পরিণত হয়েছে</figcaption></figure><p>আসলে দুই দলেরই কিছুটা ভুল ছিল। কারণ, ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পানি তরল থাকতে পারে। কিন্তু সেই অবস্থায় পানি জমে যেতে পারে খুব অল্পতেই। বিশেষ করে পানি যদি আলোড়িত হয় বা কোনো উপযুক্ত পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসে, তাহলে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়। কিন্তু কেন এমন হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আগে জানতে হবে, পানি জমে যাওয়ার জন্য আসলে কী প্রয়োজন?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/wv7gyrt9bm">পানি কি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম হতে পারে</a></aside><blockquote>তরল পানিতে অণুগুলো ক্রমাগত নড়াচড়া করে। তাদের মধ্যে বন্ধন তৈরি হয়, আবার ভেঙেও যায়। তাপমাত্রা কমলে অণুগুলোর গড় গতিশক্তি কমে আসে।</blockquote><h2><strong>০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেই পানি জমে যায় না কেন</strong></h2><p>ফ্রিজ থেকে একটি বরফের টুকরো বের করে দেখুন। বরফের ভেতরে পানির অণুগুলো একটি নির্দিষ্ট সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সাজানো থাকে। এই বিন্যাসে অণুগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বরফের সাধারণ গঠনে অণুগুলো অনেকটা ষড়ভুজাকৃতির কাঠামো তৈরি করে। এই কাঠামোর ভেতরে ফাঁকা জায়গা থাকে। ফলে একই ভরের তরল পানির তুলনায় বরফ বেশি জায়গা দখল করে। এ কারণেই বরফ পানির ওপর ভেসে থাকে। অন্যদিকে তরল পানিতে অণুগুলো ক্রমাগত নড়াচড়া করে। তাদের মধ্যে বন্ধন তৈরি হয়, আবার ভেঙেও যায়। তাপমাত্রা কমলে অণুগুলোর গড় গতিশক্তি কমে আসে। তখন উপযুক্ত পরিস্থিতিতে তারা বরফের সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি করতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/ojsi8s7ztf">ফুটন্ত পানি চুলা থেকে নামালে বেশি ধোঁয়া বেরোয় কেন</a></aside><blockquote>বরফের সাধারণ গঠনে অণুগুলো অনেকটা ষড়ভুজাকৃতির কাঠামো তৈরি করে। এই কাঠামোর ভেতরে ফাঁকা জায়গা থাকে। ফলে একই ভরের তরল পানির তুলনায় বরফ বেশি জায়গা দখল করে।</blockquote><p>কিন্তু এখানেই একটি সমস্যা আছে। বরফ তৈরি হতে হলে প্রথমে কয়েকটি পানির অণুকে একসঙ্গে এমনভাবে সাজতে হবে, যাতে একটি ক্ষুদ্র বরফের স্ফটিক তৈরি হয়। এরপর সেই স্ফটিকটিকে যথেষ্ট বড় ও স্থিতিশীল হতে হবে। নইলে আশপাশের অণুর নড়াচড়ায় সেটি আবার ভেঙে যাবে। তরল পানিতে এমন ক্ষুদ্র গুচ্ছ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বেশির ভাগ গুচ্ছই স্থায়ী হতে পারে না। বরফের একটি স্থিতিশীল সূচনাকারী কণা তৈরি হলে তবেই তার চারপাশে আরও অণু যুক্ত হয়ে বরফ বড় হতে পারে। বরফ তৈরির এই প্রাথমিক প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়েশন। আর যে ক্ষুদ্র কণাটি বরফ তৈরির সূচনা করে, তাকে বলা যায় বরফের বীজ। সহজভাবে বললে, পানি জমতে শুরু করার জন্য অনেক সময় একটি ছোট্ট সূচনাবিন্দু প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো মানেই সেই সূচনাবিন্দু তৈরি হয়ে গেছে, এমন নয়। এই কারণেই পরিষ্কার ও স্থির পানি কখনো কখনো ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও তরল থাকতে পারে। পানি তখন জমে যাওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় থাকলেও বরফ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/v1mlj236yr">পানি: সরল থেকে সরলতর, বিস্ময়ের চেয়ে বিস্ময়কর</a></aside><blockquote>বরফের একটি স্থিতিশীল সূচনাকারী কণা তৈরি হলে তবেই তার চারপাশে আরও অণু যুক্ত হয়ে বরফ বড় হতে পারে। বরফ তৈরির এই প্রাথমিক প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়েশন।</blockquote><h2><strong>পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকে কীভাবে</strong></h2><p>বাস্তব জগতে বরফ তৈরির সূচনা সাধারণত কোনো পৃষ্ঠ, ধুলার কণা কিংবা আগে থেকে থাকা বরফের স্ফটিকের মাধ্যমে হয়। এমন পৃষ্ঠ বা কণা পানির অণুগুলোকে বরফের মতো সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সাজতে সাহায্য করতে পারে। ধরুন, এক বোতল পানি খুব ভালোভাবে পরিশোধন করে একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখা হলো। পানিতে বরফের কণা নেই, পাত্রের ভেতরের পৃষ্ঠও মসৃণ। এরপর বোতলটি নাড়াচাড়া না করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হলো। এমন পরিস্থিতিতে বরফ তৈরির সূচনা দেরিতে হতে পারে। সাধারণ বাড়ির ফ্রিজারের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় পরিষ্কার ও স্থির পানি জমে যাওয়ার কথা থাকলেও উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সেটি তরল থাকতে পারে। কারণ, পানি জমার জন্য যে বরফের বীজ প্রয়োজন, সেটি তখনো তৈরি হয়নি।</p><p>২০১৭ সালে <em>সায়েন্টিফিক রিপোর্টস</em> সাময়িকীতে প্রকাশিত ক্লডিয়া মারকোলি ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় অতিশীতল পানির ফোঁটায় বরফ তৈরির বিষয়টি আলোচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, পানির অণুগুলোকে বরফের কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করে এমন পৃষ্ঠ থাকলে বরফ তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় তৈরি হতে পারে। পরিষ্কার ও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ছোট পানির ফোঁটার ক্ষেত্রে প্রায় ২৫০ কেলভিনের ওপরে বরফ তৈরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেলসিয়াস স্কেলে এই তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ২৩ ডিগ্রি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/ki5q6jzo6m">পৃথিবীতে যত ধরনের পানি আছে</a></aside><blockquote>ক্লডিয়া মারকোলি ও তাঁর সহকর্মীদের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, পানির অণুগুলোকে বরফের কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করে এমন পৃষ্ঠ থাকলে বরফ তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় তৈরি হতে পারে।</blockquote><p>পানি যত ঠান্ডা হয়, উপযুক্ত বরফের বীজ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও সাধারণত তত বাড়ে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নির্ভর করে পানির বিশুদ্ধতা, পাত্রের পৃষ্ঠ, ফোঁটার আকার এবং কতক্ষণ অপেক্ষা করা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর। এ ঘটনা শুধু ফ্রিজারের বোতলে ঘটে না। আমাদের মাথার ওপরের মেঘেও এমন পানি থাকে। মেঘের ক্ষুদ্র জলকণাগুলো ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রাতেও তরল অবস্থায় ভেসে থাকতে পারে। কারণ, এত ছোট ফোঁটার মধ্যে বরফ তৈরির উপযুক্ত সূচনাবিন্দু পাওয়া সব সময় সহজ নয়।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিভাষাতেও বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডলে তরল পানি ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদেরা এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগান। অতিশীতল মেঘে সিলভার আয়োডাইডের মতো পদার্থ ছড়িয়ে দিলে তার কণাগুলো বরফ তৈরির সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মেঘের জলকণাগুলো বরফে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/others/vpa8fzh3x7">পৃথিবীর এত পানি এল কোথা থেকে</a></aside><blockquote>যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিভাষাতেও বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডলে তরল পানি ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদেরা এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগান।</blockquote><h2><strong>পানি সর্বনিম্ন কত তাপমাত্রায় ঠান্ডা হয়েও তরল থাকতে পারে</strong></h2><p>পানিকে অতিশীতল করারও একটি সীমা আছে। পৃষ্ঠতল বা বাইরের কোনো কণা বরফ তৈরির সূচনা না করলেও পানির অণুগুলো নিজেরাই দৈবক্রমে এমন গুচ্ছ তৈরি করতে পারে, যা স্থায়ী বরফের স্ফটিকে পরিণত হয়। তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে গেলে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটতে থাকে। মেঘের আকারের ছোট পানির ফোঁটার ক্ষেত্রে এই সীমা প্রায় ২৩৫ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফোঁটার আকার ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সীমাটি কিছুটা বদলাতে পারে। তাই মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে অনেক সময় অতিশীতল পানির একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর চেয়েও কম তাপমাত্রায় তরল পানি থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। পানির এমন একটি তাপমাত্রার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে তরল অবস্থা এত দ্রুত বরফে পরিণত হতে পারে যে তা পরিমাপ করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা একে কখনো কখনো ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বলেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/0l442ea65a">সাগরের পানি লবণাক্ত, কিন্তু নদীর পানি নয় কেন</a></aside><blockquote>মেঘের আকারের ছোট পানির ফোঁটার ক্ষেত্রে এই সীমা প্রায় ২৩৫ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফোঁটার আকার ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সীমাটি কিছুটা বদলাতে পারে।</blockquote><p>২০১৪ সালে জোনাস সেলবার্গের নেতৃত্বে একদল গবেষক ভ্যাকুয়ামে বা শূন্যস্থানে ছড়িয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র পানির ফোঁটার ওপর এক্স-রে লেজার ব্যবহার করেন। ফোঁটাগুলো বাষ্পীভবনের কারণে দ্রুত ঠান্ডা হচ্ছিল। গবেষকেরা প্রায় ২২৭ কেলভিন বা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো চরম তাপমাত্রাতেও তরল পানির উপস্থিতি শনাক্ত করেন। কিছু ফোঁটা প্রায় এক মিলিসেকেন্ডের জন্য তরল অবস্থায় ছিল। তবে এই তাপমাত্রার হিসাব নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে। </p><p>২০১৮ সালে ক্লডিয়া গয় ও তাঁর সহকর্মীরা বাষ্পীভবনের সময় পানির ফোঁটার আকার ও তাপমাত্রা নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁদের পরীক্ষায় প্রায় ৬.৪ মাইক্রোমিটার চওড়া কিছু ফোঁটা ২৩০.৬ কেলভিন বা মাইনাস ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও তরল ছিল। তাঁদের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, আগের গবেষণায় পানির তাপমাত্রার সীমা হয়তো আরও কম ধরে নেওয়া হয়েছিল।</p><p>২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একদল গবেষক ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাঁরা বরফের পাতলা স্তরের ওপর লেজার রশ্মি প্রয়োগ করে অতি অল্প সময়ের জন্য তরল পানির মতো অবস্থা তৈরি করেন। এই অবস্থার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৪৫ থেকে ১৯০ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ২৮ থেকে মাইনাস ৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই পরীক্ষা ছিল ভিন্ন ধরনের নমুনা ও পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। তাই একে পানির ক্ষুদ্র ফোঁটার আগের রেকর্ডগুলোর সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/2yx5iim51d">দৈনিক কতটুকু পানি পান করতে হবে</a></aside><blockquote>গবেষকেরা প্রায় ২২৭ কেলভিন বা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো চরম তাপমাত্রাতেও তরল পানির উপস্থিতি শনাক্ত করেন। কিছু ফোঁটা প্রায় এক মিলিসেকেন্ডের জন্য তরল অবস্থায় ছিল।</blockquote><h2><strong>অতিশীতল পানিতে টোকা দিলেই বরফ জমে যায় কেন</strong></h2><p>এবার ফিরে আসা যাক সেই বোতলের ঘটনায়। ফ্রিজার থেকে বের করা পানির বোতলটি স্বচ্ছ ও তরল। কিন্তু টেবিলে টোকা দিতেই বরফ জমতে শুরু করে। অথচ বোতলের গায়ে থাকা পৃষ্ঠ বা পানির ভেতরে থাকা কণাগুলো তো আগেও ছিল। তাহলে একটি টোকা কীভাবে এত বড় পরিবর্তন ঘটায়? বিজ্ঞানীরা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ১৯০৬ সালে বার্নস দেখান, প্রবল আলোড়নের ফলে পাতিত পানি তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় জমে যেতে পারে। তাঁর পরীক্ষায় পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৬৯ থেকে ২৭০ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ৪ থেকে মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।</p><p>১৯১৩ সালে ইয়ং ও ভ্যান সিকলেন পানির ট্যাংকে ডোবানো একটি নেহাইয়ের ওপর হাতুড়ি ফেলে অতিশীতল পানিকে জমিয়ে দেন। ১৯৪৮ সালে ডরসি দেখান, অতিশীতল পানি একটি নলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঢাললেও সব সময় জমে যায় না। তবে প্রবল ঝাঁকুনিতে পানি জমার আগে প্রায় ২ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে। পানি ঝাঁকালে কেন জমে যায়, তার ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আকস্মিক ধাক্কায় পানির মধ্যে খুব অল্প সময়ের জন্য চাপের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোনো তরলকে শুধু চাপ দিলেই হয় না, বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে টানার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। পানির প্রসারণের ফলে স্থানীয়ভাবে ঋণাত্মক চাপ তৈরি হলে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/pkpcbl4rut">বৃষ্টি পড়লে গাড়ির জানালায় বাষ্প জমে কেন? </a></aside><blockquote>১৯৪৮ সালে ডরসি দেখান, অতিশীতল পানি একটি নলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঢাললেও সব সময় জমে যায় না। তবে প্রবল ঝাঁকুনিতে পানি জমার আগে প্রায় ২ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে।</blockquote><p>ক্লডিয়া মারকোলির একটি মডেলে দেখানো হয়েছে, প্রায় ২৬২ কেলভিন বা মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঋণাত্মক চাপ প্রায় ১৮৯ মেগাপ্যাসকেল, যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রায় ১ হাজার ৯০০ গুণ। বোতলে টোকা দিলে এমন চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি ক্ষণস্থায়ী ও স্থানীয় হতে পারে। তবে ঝাঁকালে পানি জমে যাওয়ার সব ঘটনাকে শুধু এই ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানো যায় না। ধাক্কা বা আলোড়ন বরফ তৈরির সূচনা ঘটাতে পারে অন্যভাবেও। পাত্রের দেওয়ালে থাকা ক্ষুদ্র আঁচড়, পানির মধ্যে থাকা কণা কিংবা আগে থেকেই থাকা ক্ষুদ্র বরফের স্ফটিক এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। একবার স্থিতিশীল বরফের স্ফটিক তৈরি হয়ে গেলে তার চারপাশে আরও পানির অণু যুক্ত হতে থাকে। ফলে বরফ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/r5vvt8gkup">বাষ্পায়ন কী, এটা কীসের ওপর নির্ভরশীল</a></aside><blockquote>ক্লডিয়া মারকোলির একটি মডেলে দেখানো হয়েছে, প্রায় ২৬২ কেলভিন বা মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে।</blockquote><h2><strong>নাড়াচাড়া করে কি পানি জমে যাওয়া রোধ করা যায়</strong></h2><p>এবার সেই প্রকৌশলীর প্রশ্নে ফেরা যাক। দ্রুত ঘুরতে থাকা সিমেন্ট মিক্সারের ড্রাম কি প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও পানিকে তরল রাখতে পারবে? প্রশ্নটির একটি অংশের উত্তর হ্যাঁ। নড়াচড়া ও ঘর্ষণের কারণে যান্ত্রিক শক্তির কিছু অংশ তাপে রূপান্তরিত হতে পারে। উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে বিজ্ঞানী জেমস প্রেসকট জুল একটি পাত্রে রাখা পানির মধ্যে প্যাডেল ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন, যান্ত্রিক কাজের ফলে পানির তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তাঁর পরীক্ষা শক্তি সংরক্ষণ নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলোড়নের ফলে তৈরি হওয়া তাপ সত্যিই পানিকে উষ্ণ করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তাপ কি বাইরের ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট?</p><p>ধরুন, বাইরে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। স্টিলের তৈরি সিমেন্ট মিক্সারের ড্রাম বাইরের পরিবেশে ক্রমাগত তাপ হারাচ্ছে। মোটর থেকে তৈরি হওয়া তাপ যদি এই তাপক্ষয়ের চেয়ে কম হয়, তাহলে পানি ঠান্ডা হতেই থাকবে। শুধু ড্রাম ঘোরালেই পানি জমে যাওয়া ঠেকানো যাবে না। বরং সিমেন্ট মিক্সারের ভেতরের পরিবেশ বরফ তৈরির জন্য অনুকূল হতে পারে। ড্রামের স্টিলের দেওয়াল, বালি বা অন্যান্য কণা, পানির মধ্যে থাকা বুদবুদ এবং অবিরাম যান্ত্রিক আঘাত—সবই বরফ তৈরির সূচনা ঘটাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পানির তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটি অতিশীতল অবস্থায় থাকার সুযোগ কম পেতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/oj3caotzbs">গভীর সমুদ্রের পানি জমে বরফ হয় না কেন</a></aside><blockquote>উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে বিজ্ঞানী জেমস প্রেসকট জুল একটি পাত্রে রাখা পানির মধ্যে প্যাডেল ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন, যান্ত্রিক কাজের ফলে পানির তাপমাত্রা বাড়তে পারে।</blockquote><h2><strong>উত্তাল নদী পুরোপুরি জমে যায় না কেন</strong></h2><p>শীতকালে নদীর পানি জমে যাওয়ার দৃশ্য আমরা অনেক ছবিতে দেখি। কিন্তু নদীর সব পানি একসঙ্গে জমে যায় না কেন? বিশেষ করে যেখানে স্রোত প্রবল, সেখানে কী ঘটে? একটি নদীকে বিশাল আকারের মিশ্রণযন্ত্র হিসেবে কল্পনা করা যায়। নদীর স্রোত পানিকে নড়াচড়া করায়। ফলে ওপরের ঠান্ডা পানি ও নিচের তুলনামূলক উষ্ণ পানির মধ্যে মিশ্রণ ঘটে। নদীর তলদেশ থেকে উঠে আসা উষ্ণ পানি ওপরের স্তরকে ঠান্ডা হতে বাধা দিতে পারে। তাই নদীর পানি স্থির পুকুরের মতো আচরণ করে না। তবে নদীর পানি খুব ঠান্ডা হয়ে গেলে অন্য একটি ঘটনা ঘটে। স্রোতের মধ্যে থাকা পানি সামান্য পরিমাণে অতিশীতল হতে পারে। তখন নদীর ওপর বরফের একটানা চাদর তৈরির বদলে পানির ভেতরেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফের স্ফটিক তৈরি হতে থাকে। এ ধরনের বরফকে বলে ফ্রাজিল আইস।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/q9s5n759m9">গরম পানি পান করলে কি ত্বক উজ্জ্বল হয়</a></aside><blockquote>নদীর স্রোত পানিকে নড়াচড়া করায়। ফলে ওপরের ঠান্ডা পানি ও নিচের তুলনামূলক উষ্ণ পানির মধ্যে মিশ্রণ ঘটে। নদীর তলদেশ থেকে উঠে আসা উষ্ণ পানি ওপরের স্তরকে ঠান্ডা হতে বাধা দিতে পারে।</blockquote><p>নদীর বরফ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন বার্নার্ড মিশেল। ১৯৬৭ সালে তিনি দেখান, প্রবাহিত পানি সাধারণত খুব সামান্য পরিমাণেই অতিশীতল হয়। তাঁর পর্যবেক্ষণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে মাত্র কয়েক শতাংশ ডিগ্রি কম ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার একটি পরীক্ষাতেও প্রায় ০.০৫ থেকে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিশীতল অবস্থায় ফ্রাজিল আইস তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।</p><p>ফ্রাজিল আইস দেখতে অনেকটা সুচের মতো ক্ষুদ্র স্ফটিক বা পাতলা, গোলাকার বরফের টুকরোর মতো। এগুলো পানিতে ভেসে থাকে এবং একে অন্যের সঙ্গে লেগে দলা পাকাতে পারে। ফলে পানির মধ্যে বরফের কাদার মতো মিশ্রণ তৈরি হয়। এই বরফ নদীর তলদেশে জমে পাথর বা অন্য কোনো পৃষ্ঠের সঙ্গে আটকে যেতে পারে। একে বলে অ্যাঙ্কর আইস। নদীর সেতুর স্তম্ভ, পানির প্রবেশপথ কিংবা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অংশে এই বরফ আটকে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি জলপ্রপাতের প্রবল স্রোতেও ফ্রাজিল বরফ তৈরি হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/4a0eqvsmtl">পানি আমাদের কেন দরকার</a></aside><blockquote>১৯৬৭ সালে বার্নার্ড মিশেল দেখান, প্রবাহিত পানি সাধারণত খুব সামান্য পরিমাণেই অতিশীতল হয়। তাঁর পর্যবেক্ষণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে মাত্র কয়েক শতাংশ ডিগ্রি কম ছিল।</blockquote><h2><strong>অতিশীতল পানির ফোঁটা থেকে জমাট বৃষ্টি তৈরি হয় কীভাবে</strong></h2><p>শুধু ফ্রিজারের বোতলেই নয়, শীতের বৃষ্টিতেও অতিশীতল পানির ভূমিকা আছে। কখনো কখনো আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, কিন্তু মাটিতে পড়ার সঙ্গেই তা বরফে পরিণত হয়। রাস্তা, গাছের ডাল, গাড়ির কাচ কিংবা বিদ্যুতের তারের ওপর বরফের আস্তরণ তৈরি হয়। এ ঘটনাকে বলে জমাট বৃষ্টি বা ফ্রিজিং রেইন। এর জন্য বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার একটি বিশেষ বিন্যাস প্রয়োজন। প্রথমে ওপরের ঠান্ডা অঞ্চলে বরফের কণা বা তুষার তৈরি হয়। </p><p>নিচের দিকে নামতে নামতে এগুলো উষ্ণ বায়ুর স্তরে প্রবেশ করে এবং গলে বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হয়। এরপর ফোঁটাগুলো মাটির কাছাকাছি ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের একটি ঠান্ডা বায়ুস্তরের মধ্য দিয়ে যায়। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/p17wu2ow/freezing_rain_glaze_branch.webp"><figcaption>কখনো কখনো আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, কিন্তু মাটিতে পড়ার সঙ্গেই তা বরফে পরিণত হয়। গাছের ডালের ওপর বরফের আস্তরণ তৈরি হয়। এ ঘটনাকে বলে জমাট বৃষ্টি</figcaption></figure><p>এই ঠান্ডা স্তরটি অগভীর হলে ফোঁটাগুলো পুরোপুরি জমে যাওয়ার মতো সময় পায় না। ফলে সেগুলো তরল অবস্থাতেই মাটির দিকে নেমে আসে। কিন্তু ফোঁটাগুলো যখন কোনো ঠান্ডা পৃষ্ঠে আঘাত করে, তখন বরফ তৈরির সূচনা ঘটে এবং সেগুলো দ্রুত জমে যায়।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জমাট বৃষ্টি হলো এমন বৃষ্টি, যা মাটির সংস্পর্শে এসে জমে বরফের আস্তরণ তৈরি করে। এ ঘটনাকে ফ্রিজারের বোতলে টোকা দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা যায়। বোতলের ক্ষেত্রে পানি অতিশীতল অবস্থায় থাকে, তারপর টোকা বরফ তৈরির সূচনা ঘটায়। জমাট বৃষ্টির ক্ষেত্রে ফোঁটাগুলো অতিশীতল অবস্থায় মাটিতে পৌঁছায় আর ঠান্ডা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে জমে যায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/qcpfskwlvy">পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করার সহজ পদ্ধতি</a></aside><blockquote>বৃষ্টির ফোঁটাগুলো মাটির কাছাকাছি ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের একটি ঠান্ডা বায়ুস্তরের মধ্য দিয়ে যায়। এই ঠান্ডা স্তরটি অগভীর হলে ফোঁটাগুলো পুরোপুরি জমে যাওয়ার মতো সময় পায় না।</blockquote><h2><strong>তাহলে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও পানি তরল থাকে কীভাবে</strong></h2><p>এতক্ষণে নিশ্চয়ই বোঝা গেছে, পানি জমে যাওয়ার বিষয়টি শুধু তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না। পানি বরফে পরিণত হওয়ার জন্য একটি সূচনাবিন্দু প্রয়োজন হতে পারে। পরিষ্কার ও স্থির পানিতে সেই সূচনাবিন্দু তৈরি হতে দেরি হলে পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকতে পারে। এই অবস্থাকে বলে অতিশীতলীকরণ। ফ্রিজারে রাখা একটি পরিষ্কার বোতলের পানি মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও তরল থাকতে পারে। কিন্তু বোতলে টোকা দিলে বা ঝাঁকালে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একবার বরফের স্থিতিশীল স্ফটিক তৈরি হলে তার চারপাশে আরও বরফ জমতে থাকে।</p><p>তবে পানি ঝাঁকালেই যে সব সময় জমে যাবে, তা নয়। পানির বিশুদ্ধতা, তাপমাত্রা, পাত্রের পৃষ্ঠ এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। একইভাবে প্রবাহিত নদীর পানিও সামান্য অতিশীতল হয়ে ফ্রাজিল বরফ তৈরি করতে পারে। আবার অতিশীতল বৃষ্টির ফোঁটা ঠান্ডা কোনো পৃষ্ঠে পড়লে জমে যায়। বিমানের ডানায় বরফ জমার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদার্থবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কাজ করে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4995lqoo58">পানি কি জ্বলতে পারে</a></aside><blockquote>পানি বরফে পরিণত হওয়ার জন্য একটি সূচনাবিন্দু প্রয়োজন হতে পারে। পরিষ্কার ও স্থির পানিতে সেই বিন্দু তৈরি হতে দেরি হলে পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকতে পারে। একে বলে অতিশীতলীকরণ।</blockquote><p>আর বরফ জমার সময় নির্গত তাপের কারণে অতিশীতল পানির বোতল সাধারণত একবারে পুরোপুরি জমে যায় না। মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানির ক্ষেত্রে আনুমানিক এক-অষ্টমাংশ পানি জমলেই নির্গত তাপ বাকি পানিকে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উষ্ণ করতে পারে। ফলে তৈরি হয় বরফকুচি ও পানির মিশ্রণ। এ ঘটনার সঙ্গে আরেকটি মজার বিষয়ের মিল আছে। মাইক্রোওয়েভে কখনো কখনো পানিকে না ফুটিয়েই ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি গরম করা যায়। পরে কাপ নাড়ালে বা পানি সরালে হঠাৎ বুদবুদ তৈরি হয়ে পানি উপচে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে বলে অতিতাপন বা সুপারহিটিং। অতিশীতলীকরণের ক্ষেত্রে পানি হিমাঙ্কের নিচে থেকেও তরল থাকে, আর অতিতাপনের ক্ষেত্রে পানি স্ফুটনাঙ্কের ওপরে থেকেও তরল থাকতে পারে।</p><h4>লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা</h4><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/r1gayg28ox">বন্যায় সুপেয় পানি</a></aside>
<p>খন্দকের যুদ্ধ চলছে। শত্রুর একটি তির এসে বিঁধল সাদ ইবনে মুয়াজের (রা.) হাতের শিরায়, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আনসার সাহাবিদের অন্যতম নেতা তিনি। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিলেন, ‘তাঁকে এমন এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন।’</p><p>সেই নারীর নাম রুফাইদা। হাদিসের বর্ণনা তাঁকে ইতিহাসে এমন এক জায়গা দিয়েছে, যেখানে আধুনিক নার্সিংয়ের ইতিহাসেও তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হয়।</p><h3>কে ছিলেন রুফাইদা </h3><p>তাঁর নাম রুফাইদা আল-আসলামিয়া। ইবনে সাদ তাঁর আরেক নাম বলেছেন কুআইবা বিনতে সাদ আল-আসলামিয়া। (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৮/২৯১, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)</p><p>‘আল-আসলামিয়া’ নিসবত অনুযায়ী তিনি বনু আসলাম গোত্রের নারী। তবে আধুনিক অনেক লেখায় তাঁকে খাজরাজ গোত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।</p><aside><cite>আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১২৯</cite>খন্দকের যুদ্ধে সাদ ইবনে মুয়াজের হাতের শিরায় তির লাগলে বলা হলো, তাঁকে রুফাইদা নামের এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/m2n7gk0vi3">মসজিদে দাঁড়িয়ে খলিফা ওমরের ভুল শুধরে দিয়েছেন এক নারী</a></aside><p>ইবনে হাজার লিখেছেন, রুফাইদা হিজরতের পর নবীজির কাছে বাইআত গ্রহণ করেন। (আল-আসকালানি, <em>তাহজিবুত তাহজিব,</em> ১২/৪২৬, দাইরাতুল মাআরিফ আন-নিজামিয়্যাহ, হায়দরাবাদ, ১৯০৭)</p><p>এ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মদিনায় নবীজির আগমনের আগে ইসলাম গ্রহণকারী নন। তাঁর পিতা সাদ আল-আসলামি চিকিৎসক ছিলেন এবং কন্যাকে চিকিৎসা শিখিয়েছেন।</p><h3>মসজিদের পাশের তাঁবু </h3><p>রুফাইদার একটি তাঁবু ছিল মসজিদে নববির চত্বরে। সেখানে তিনি আহত ও অসুস্থদের সেবা করতেন।</p><p>খন্দকের যুদ্ধে সাদ ইবনে মুয়াজের হাতের শিরায় তির লাগলে বলা হলো, তাঁকে রুফাইদা নামের এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন। (ইমাম বুখারি, <em>আল-আদাবুল মুফরাদ,</em> হাদিস: ১১২৯)</p><p>সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) এই তাঁবুতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মহানবী (সা.) তাঁকে দেখতে আসতেন। (আল-ওয়াকিদি, <em>কিতাবুল মাগাজি,</em> ২/৫১০, দারুল আলামি, বৈরুত, ১৯৮৯)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/ftldhr515f">প্রজ্ঞাবতী নারী উম্মে সালামা: নবীজি যাঁর পরামর্শ নিতেন</a></aside><blockquote>রুফাইদা মুসলিম বিশ্বে ‘প্রথম নার্স’ হিসেবে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে নব্বইয়ের দশক থেকে নার্সিং-সাহিত্যে এ পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর তাঁবুকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল বলা হয়।</blockquote><p>রুফাইদা খায়বারের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ গনিমতের অংশ পেয়েছিলেন। যুদ্ধের বাইরেও তিনি অসুস্থ, অসহায় ও অনাথদের পাশে ছিলেন।</p><h3> ইসলামের ইতিহাস ‘প্রথম নার্স’ </h3><p>রুফাইদা মুসলিম বিশ্বে ‘প্রথম নার্স’ হিসেবে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে নব্বইয়ের দশক থেকে নার্সিং-সাহিত্যে এ পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর তাঁবুকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল বলা হয়।</p><p>কেউ কেউ বলেন, তিনি নারীদের নার্সিং প্রশিক্ষণ দিতেন এবং চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিতেন। যদিও নবীজির যুগের পেশাদার ‘নার্সিং’ বলতে আজকের অর্থে কী বোঝায়, সেটি নিশ্চিত নয়। তবে ওমর হাসান কাসুলে (২০০৩) বা আর. জানের (১৯৯৬) গবেষণায় তার জীবনের অনেক অনালোচিত অধ্যায় উঠে এসেছে।</p><p>তারা দেখান, প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে কীভাবে একজন নারী প্রকাশ্যে ও স্বীকৃতিসহ চিকিৎসাসেবা দিতেন, আর নবীজি (সা.) নিজে সেখানে রোগী পাঠাতেন।</p><ul><li><p><em><strong>ড. সাজেদা হোমায়রা :</strong> আলেমা ও গ্রন্থপ্রণেতা</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/dwrzmzfvxy">পৃথিবীতে বেহেশতের সুসংবাদ পেলেন যে ১০ নারী</a></aside>
<p>ডেঙ্গুতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিয়া হাসিন আরোশী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল তার দুই ছোট বোনও। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি বড় মেয়েকে। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
<p>বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি, যার শুরুটা ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাধ্যমে হয়েছিল। তখন সাংবাদিকদের প্রধান কর্মক্ষেত্রই ছিল সংবাদপত্র। পরে রেডিও ও টেলিভিশনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজের পরিধিও বাড়ে। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ চালু হয়। নব্বইয়ের দশকে এসে এই শিক্ষা পাবলিকের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও।</p><p> এর মধ্যে বদলে গেছে সংবাদমাধ্যম; বদলে গেছে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের ধরন। এসেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, পডকাস্ট, ওটিটি ও নানা ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যম। বিজ্ঞাপন ও জনসংযোগের কাজও অনেকখানি চলে গেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এখন যোগাযোগের জগতে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও।</p><p> মিডিয়া খাতের পরিধি এভাবে বাড়লেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ, গণযোগাযোগ, যোগাযোগ বা চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যে পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার জন্য কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়, তাঁরা সন্তানের পেশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ করেন। সাংবাদিকতা বা মিডিয়া পড়ে ভবিষ্যতে কী করা যাবে, আয় কেমন হবে, চাকরির নিশ্চয়তা কতটা—এসব প্রশ্ন তাদের ভাবায়। এই বাস্তবতা বুঝতে হলে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাস এবং পরিবর্তিত গণমাধ্যমের দিকে একসঙ্গে তাকাতে হয়।</p><p><strong>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা—</strong></p><p>বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ইতিহাসবিষয়ক প্রকাশনা অনুযায়ী, ১৯৬২ সালে এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স দিয়ে এই শিক্ষার শুরু। ১৯৭৭ সালে বিভাগের নাম হয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। পরে স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা চালু হয়। দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে গণযোগাযোগ বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা করা হয়। এরপর জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, বেগম রোকেয়াসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগের বিভাগ চালু হয়। এই বিস্তারের সঙ্গে বদলাতে থাকে বিষয়টির ধরনও। সাংবাদিকতার সঙ্গে গণযোগাযোগ, গণমাধ্যম, গবেষণা, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ, চলচ্চিত্র ও উন্নয়ন যোগাযোগের মতো বিষয় যুক্ত হতে থাকে।</p><p><strong>বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অধ্যায়—</strong></p><p>নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ শিক্ষার নতুন পর্ব শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ৫০ ইয়ার্স অব জার্নালিজম স্টাডিজ ইন বাংলাদেশ সংকলনে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভস, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশসহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ-সংক্রান্ত বিভাগ বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>বিষয়টির বিস্তারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও ঘটে। সাংবাদিকতা আর শুধু সংবাদপত্রে রিপোর্টার তৈরির বিষয় থাকল না। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ, উন্নয়ন যোগাযোগ ও ডিজিটাল মাধ্যমও এর সঙ্গে যুক্ত হলো।</p><p><strong>সাংবাদিকতা থেকে গণমাধ্যম—</strong></p><p>বর্তমানের গণমাধ্যমের কর্মক্ষেত্র শুধু সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, পডকাস্ট, চলচ্চিত্র, ওটিটি, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ ও করপোরেট যোগাযোগ—এ সবই এখন বৃহত্তর গণমাধ্যম ও যোগাযোগশিল্পের অংশ। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা যায়, ২০০৪ সালে তাদের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মিডিয়া ল্যাব, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসায় সাংবাদিকতা, ডিজিটাল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা এবং জনসংযোগের মতো বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয়। এই পরিবর্তন শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও মিডিয়া বিভাগের পাঠ্যক্রমেও ধীরে ধীরে নতুন মাধ্যম ও নতুন পেশার বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হয়েছে।</p><p>ফলে একজন মিডিয়া শিক্ষার্থীর সামনে এখন শুধু নিউজরুম নয়; বিজ্ঞাপনী সংস্থা, জনসংযোগ, করপোরেট যোগাযোগ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন, ডিজিটাল কনটেন্ট, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল পেশার দরজাও খোলা রয়েছে।</p><p><strong>নতুন প্রজন্মের একটি উদাহরণ—</strong></p><p>সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি অফিশিয়ালি ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সূচনা করে। বিভাগের পাঠ্যক্রমে সাংবাদিকতার প্রচলিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি গ্রাফিক সাংবাদিকতা, রেডিও সাংবাদিকতা ও পডকাস্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, সামাজিক ও ডিজিটাল যোগাযোগ, যোগাযোগ গবেষণা এবং গণমাধ্যমের ব্যবসা পরিকল্পনার মতো বিষয় রয়েছে। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিষয়ও রয়েছে।</p><p>এ ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে বোঝা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রজন্মের মিডিয়া শিক্ষা বিভাগগুলো সাংবাদিকতাকে শুধু সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের পেশা হিসেবে দেখছে না। বরং সাংবাদিকতা, যোগাযোগ, ডিজিটাল মাধ্যম, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের ব্যবসাকে একই বৃহত্তর পরিসরের মধ্যে দেখার চেষ্টা করছে। তবে একটি নতুন বিভাগ চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে একটি বিষয়কে আকর্ষণীয় করে তোলা এক বিষয় নয়। একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীর আস্থা তৈরি করতে হলে সেই শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কও স্পষ্ট করতে হয়।</p><p><strong>আগ্রহ আছে, কিন্তু পথ পরিষ্কার নয়—</strong></p><p>২০২৫ সালে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন এডুকেটর’–এ প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪০ জন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীর ওপর একটি জরিপ করা হয়। গবেষণাটি শিক্ষার্থীদের মিডিয়া পেশায় যাওয়ার আগ্রহের পেছনে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেছে।</p><p>গবেষণায় শিক্ষার্থীরা যে বিষয়টি পড়ছেন, সেটি উপভোগ করলে এবং আগে থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে এ বিষয়ে পড়ার আগ্রহ বাড়ে। অন্যদিকে গণমাধ্যম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থাকলে সেই আগ্রহ কমে। একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা পড়ছেন বলেই যে তিনি শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশায় যাবেন, এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর ধারণা বদলাতে পারে। একইভাবে যিনি শুরুতে সাংবাদিকতায় আগ্রহী নন, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর আগ্রহ তৈরি হতে পারে।</p><p>এ জায়গা বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একজন শিক্ষার্থী যখন কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করছেন, তখন বিষয়টির সঙ্গে সম্ভাব্য পেশার সম্পর্কটি তাঁর কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।</p><p><strong>আর্থসামাজিক অবস্থানও কি ভূমিকা রাখে—</strong></p><p>২০২৬ সালে ‘SAGE Open’-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা এ প্রশ্নকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। আগের গবেষণার সঙ্গে একই গবেষক দলের এ গবেষণায়ও ১৬টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪০ জন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণাটির বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক পটভূমি, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, পেশাগত পছন্দ এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে মিডিয়া পেশা বেছে নেওয়ার সম্পর্ক।</p><p>গবেষণায় পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থানের সঙ্গে মিডিয়া পেশায় আগ্রহের একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যে পরিবারের আয় বেশি, সে পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিডিয়া পেশায় আগ্রহ তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি একই সঙ্গে দেখিয়েছে, পরিবারের আয় একাই শিক্ষার্থীর পেশা নির্বাচনের প্রধান পরিমাপক নয়; শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ, কোন ধরনের মিডিয়া পেশায় যেতে চান এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে তার ধারণাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় যে শিক্ষার্থীর আর্থসামাজিক অবস্থা তাঁর পেশাগত প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত।</p><p><strong>চাকরির বাজারের বাস্তবতা—</strong></p><p>মিডিয়া বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের পেছনে শুধু পরিবারের ধারণা দায়ী নয়। গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশও একটি বড় বিষয়। ২০২৬ সালের একটি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলগুলোর একটি হলো, গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশ ও পেশাগত বাস্তবতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা শিক্ষার্থীদের মিডিয়া পেশায় যাওয়ার আগ্রহ কমায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইউনেসকো ও ইউএনডিপির এক জরিপে গণমাধ্যমের আর্থিক চাপ, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও পেশাগত নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও সেখানে বলা হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, এসব বিষয় মিডিয়া পেশায় যাওয়ার অনাগ্রহ থাকার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত। ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অনিশ্চয়তাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।</p><p>একটি পরিবার যখন সন্তানের উচ্চশিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইতে পারে যে পড়াশোনা শেষ করে সন্তান কী ধরনের পেশায় যাবে, সেই পেশায় আয় ও নিরাপত্তা কেমন এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ কতটা। এ উদ্বেগকে পুরোপুরি অমূলক বলা যায় না।</p><p>কিন্তু এখানেই আরেকটি পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ‘মিডিয়ায় চাকরি’ এখন আর শুধু সাংবাদিকতার চাকরি নয়। একজন মিডিয়া স্নাতকসম্পন্নকারী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করতে পারেন, জনসংযোগে যেতে পারেন, করপোরেট যোগাযোগে কাজ করতে পারেন, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন প্রযোজনায় যুক্ত হতে পারেন, উন্নয়ন সংস্থায় যোগাযোগবিষয়ক কাজ করতে পারেন, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন, গবেষণায় যেতে পারেন।</p><p><strong>বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম কতটা বদলেছে—</strong></p><p>এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রযুক্তি দ্রুত বদলালেও অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সেই গতিতে বদলায়নি—এমন সমালোচনা গবেষণায় এসেছে। সাংবাদিকতা শিক্ষার ক্ষেত্রে নিউজরুমের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতির কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>একজন শিক্ষার্থী যদি চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বের হওয়ার পরও সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা না পান, তাহলে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে তার দক্ষতার দূরত্ব তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এই জায়গায় শুধু নতুন কোর্স চালু করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভালো শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব, ব্যবহারিক কাজ, সংবাদমাধ্যম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপ।</p><p><strong>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ—</strong></p><p>এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একসময় সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীকে সংবাদ লেখা, ছবি তোলা, ভিডিও সম্পাদনা কিংবা তথ্য সংগ্রহের জন্য যে সময় দিতে হতো, প্রযুক্তির কারণে তার কিছু কাজ এখন অনেক দ্রুত করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লেখা তৈরি করতে পারে, অডিও থেকে লেখা তৈরি করতে পারে, অনুবাদ করতে পারে, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনায় সহায়তা করতে পারে।</p><p>কিন্তু এর সঙ্গে নতুন কিছু দক্ষতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি তথ্য কীভাবে যাচাই করা হবে? ভুল তথ্য কীভাবে শনাক্ত করা হবে? কোনো ছবি বা ভিডিও আসল কি না, তা কীভাবে বোঝা যাবে? প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় সাংবাদিকতার নৈতিকতা কীভাবে বজায় থাকবে? এই প্রশ্নগুলোই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা শিক্ষার অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ, প্রযুক্তি তথ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু তথ্যের সামাজিক মূল্য, সত্যতা ও নৈতিকতা বিচার করার দায়িত্ব এখনো মানুষের।</p><p><strong>টিকে থাকার প্রশ্নটি তাই অন্য জায়গায়—</strong></p><p>বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, মিডিয়া, যোগাযোগ ও চলচ্চিত্র বিভাগগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়তো শিক্ষার্থী কম-বেশি হওয়া নয়। বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে এই শিক্ষার ভবিষ্যৎ কতটা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে, সেটি। একটি পরিবার যদি মনে করে সাংবাদিকতা মানেই শুধু সংবাদপত্রে রিপোর্টার হওয়া, তাহলে তারা হয়তো বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হবে না। কিন্তু যদি তারা জানেন, এই শিক্ষার মাধ্যমে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ, করপোরেট যোগাযোগ, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল কনটেন্ট, গবেষণা ও নতুন ধরনের যোগাযোগ পেশায় যাওয়ার সুযোগ আছে, তাহলে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা সম্ভব।</p><p>তবে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নিজেদের বদলাতে হবে। শুধু বিভাগের নামের সঙ্গে ‘মিডিয়া’ বা ‘ডিজিটাল’ শব্দ যুক্ত করলেই হবে না। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ, তথ্য যাচাই, নির্ভুলতা, নৈতিকতা, জনস্বার্থ ও দায়িত্বশীলতা—এ ব্যাপারগুলো অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।</p><p><strong>ছয় দশক পর নতুন সংজ্ঞা—</strong></p><p>১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা শিক্ষা শুরু হওয়ার সময় যে কর্মজগতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হতো, তার সঙ্গে আজকের কর্মজগতের অনেক পার্থক্য। তখন সংবাদপত্র ও রেডিও ছিল প্রধান মাধ্যম। পরে টেলিভিশন এসেছে। এরপর অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, পডকাস্ট, ওটিটি এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে গণমাধ্যমের কাজের ধরন বদলেছে। বদলেছে মিডিয়া শিক্ষার প্রয়োজনও। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া পড়তে শিক্ষার্থীরা কেন আগ্রহী হবে—এ প্রশ্নের উত্তর শুধু ‘চাকরি হবে কি না’ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।</p><p>প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে হবে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কের মধ্যে। যে বিভাগ শুধু পুরোনো সাংবাদিকতার জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করবে, তার এ বিভাগের প্রতি আগ্রহ কমতে পারে। আর যে বিভাগ সাংবাদিকতার মূল শিক্ষা ধরে রেখে নতুন গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র, যোগাযোগ, বিজ্ঞাপন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে, তার সামনে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।</p><p>বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শিক্ষার বয়সও এখন কয়েক দশকের। ফলে এখন আর প্রশ্নটি শুধু নতুন বিভাগ খোলার নয়, প্রশ্নটি হলো, পরিবর্তিত গণমাধ্যমের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেমন মানুষ তৈরি করবে? সম্ভবত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিভাগগুলোর টিকে থাকার লড়াই শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী পাওয়ার লড়াই নয়। এটি নিজেদের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে প্রমাণ করার লড়াই, সেটি শিক্ষার্থীর কাছে, পরিবারের কাছে এবং বদলে যাওয়া গণমাধ্যমশিল্পের কাছে।</p><p>*লেখক: কাজী কামরুন নাহার তানিয়া, শিক্ষক ও গবেষক, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা</p>
অনেকেরই মনে হয়, দিনের ২৪ ঘণ্টা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন কাজের তালিকা দীর্ঘ হয়, কিন্তু সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না। এতে মানসিক চাপ বাড়ে এবং কাজের প্রতি অনীহাও তৈরি হতে পারে।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ইয়োতোভা ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী।
নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্যেই সরকার একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশেরই ইমারজেন্সি ওয়ার্নিং সিস্টেম বা জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। মস্কোর ইমারজেন্সি বা দূর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অ্যালার্ট অ্যাপে একটি "বড় ধরনের সাইবার হামলা" চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারতো।
আজ সোমবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয় প্রাধান্য পেয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষে ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরে সহংসিতার খবর। এর বাইরে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল নিয়ে এখনও চলছে বিশ্লেষণ। সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তও আছে আলোচনায়।
বাংলাদেশে যেসব এলাকায় শীত বেশি থাকে সেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি জন্মায়। এর মধ্যে পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রংপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, শরিয়তপুর ও মাদারীপুরসহ বেশ কিছু জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে এবং এটি প্রতিবছরই বাড়ছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসলে কেমন? এ নিয়ে কেন আগ্রহী কৃষকরা?
সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে দরকষাকষির জেরে দূরত্ব বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জোটের শরীক দলগুলোর ভেতর থেকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরে আসলে কী হচ্ছে?
উদ্ভিদজাত খাবার, চর্বি এবং গাঁজানো খাবার বলিরেখা কমাতে, কোলাজেন বাড়াতে এবং আমাদের ত্বকের গঠন উন্নত করতে পারে।
এ যাবতকালে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এটিকে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বাইন্যান্স। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে হারানোর পর এবার রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।
দিল্লির সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে বলিউড রাজত্ব করছেন শাহরুখ খান। খুব অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান কিং খান। কিন্তু সেই কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করেন তিনি।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ চলছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে আন্দোলন চলাকালে যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বৈঠক বসেছেন গার্মেন্টস মালিক নেতারা।
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাজুল ইসলামকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দাবি করেছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি।
বিএমসি হেলথ সার্ভিসেস রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেশের ২০১টি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।