ইসলাম

মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন

নভেম্বর ২, ২০২৬
মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন
মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন
<p>খন্দকের যুদ্ধ চলছে। শত্রুর একটি তির এসে বিঁধল সাদ ইবনে মুয়াজের (রা.) হাতের শিরায়, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আনসার সাহাবিদের অন্যতম নেতা তিনি। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিলেন, ‘তাঁকে এমন এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন।’</p><p>সেই নারীর নাম রুফাইদা। হাদিসের বর্ণনা তাঁকে ইতিহাসে এমন এক জায়গা দিয়েছে, যেখানে আধুনিক নার্সিংয়ের ইতিহাসেও তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হয়।</p><h3>কে ছিলেন রুফাইদা </h3><p>তাঁর নাম রুফাইদা আল-আসলামিয়া। ইবনে সাদ তাঁর আরেক নাম বলেছেন কুআইবা বিনতে সাদ আল-আসলামিয়া। (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৮/২৯১, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)</p><p>‘আল-আসলামিয়া’ নিসবত অনুযায়ী তিনি বনু আসলাম গোত্রের নারী। তবে আধুনিক অনেক লেখায় তাঁকে খাজরাজ গোত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।</p><aside><cite>আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১২৯</cite>খন্দকের যুদ্ধে সাদ ইবনে মুয়াজের হাতের শিরায় তির লাগলে বলা হলো, তাঁকে রুফাইদা নামের এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/m2n7gk0vi3">মসজিদে দাঁড়িয়ে খলিফা ওমরের ভুল শুধরে দিয়েছেন এক নারী</a></aside><p>ইবনে হাজার লিখেছেন, রুফাইদা হিজরতের পর নবীজির কাছে বাইআত গ্রহণ করেন। (আল-আসকালানি, <em>তাহজিবুত তাহজিব,</em> ১২/৪২৬, দাইরাতুল মাআরিফ আন-নিজামিয়্যাহ, হায়দরাবাদ, ১৯০৭)</p><p>এ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মদিনায় নবীজির আগমনের আগে ইসলাম গ্রহণকারী নন। তাঁর পিতা সাদ আল-আসলামি চিকিৎসক ছিলেন এবং কন্যাকে চিকিৎসা শিখিয়েছেন।</p><h3>মসজিদের পাশের তাঁবু </h3><p>রুফাইদার একটি তাঁবু ছিল মসজিদে নববির চত্বরে। সেখানে তিনি আহত ও অসুস্থদের সেবা করতেন।</p><p>খন্দকের যুদ্ধে সাদ ইবনে মুয়াজের হাতের শিরায় তির লাগলে বলা হলো, তাঁকে রুফাইদা নামের এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন। (ইমাম বুখারি, <em>আল-আদাবুল মুফরাদ,</em> হাদিস: ১১২৯)</p><p>সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) এই তাঁবুতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মহানবী (সা.) তাঁকে দেখতে আসতেন। (আল-ওয়াকিদি, <em>কিতাবুল মাগাজি,</em> ২/৫১০, দারুল আলামি, বৈরুত, ১৯৮৯)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/ftldhr515f">প্রজ্ঞাবতী নারী উম্মে সালামা: নবীজি যাঁর পরামর্শ নিতেন</a></aside><blockquote>রুফাইদা মুসলিম বিশ্বে ‘প্রথম নার্স’ হিসেবে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে নব্বইয়ের দশক থেকে নার্সিং-সাহিত্যে এ পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর তাঁবুকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল বলা হয়।</blockquote><p>রুফাইদা খায়বারের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ গনিমতের অংশ পেয়েছিলেন। যুদ্ধের বাইরেও তিনি অসুস্থ, অসহায় ও অনাথদের পাশে ছিলেন।</p><h3> ইসলামের ইতিহাস ‘প্রথম নার্স’ </h3><p>রুফাইদা মুসলিম বিশ্বে ‘প্রথম নার্স’ হিসেবে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে নব্বইয়ের দশক থেকে নার্সিং-সাহিত্যে এ পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর তাঁবুকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল বলা হয়।</p><p>কেউ কেউ বলেন, তিনি নারীদের নার্সিং প্রশিক্ষণ দিতেন এবং চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিতেন। যদিও নবীজির যুগের পেশাদার ‘নার্সিং’ বলতে আজকের অর্থে কী বোঝায়, সেটি নিশ্চিত নয়। তবে ওমর হাসান কাসুলে (২০০৩) বা আর. জানের (১৯৯৬) গবেষণায় তার জীবনের অনেক অনালোচিত অধ্যায় উঠে এসেছে।</p><p>তারা দেখান, প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে কীভাবে একজন নারী প্রকাশ্যে ও স্বীকৃতিসহ চিকিৎসাসেবা দিতেন, আর নবীজি (সা.) নিজে সেখানে রোগী পাঠাতেন।</p><ul><li><p><em><strong>ড. সাজেদা হোমায়রা :</strong> আলেমা ও গ্রন্থপ্রণেতা</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/dwrzmzfvxy">পৃথিবীতে বেহেশতের সুসংবাদ পেলেন যে ১০ নারী</a></aside>

Prothomalo

View more
ভাবুক সম্রাট
ভাবুক সম্রাট

এতটুকু রাস্তা এত ভাড়া?

নভেম্বর ২, ২০২৬
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন  ইউপি সদস্য আমিনুল
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্য আমিনুল

মনের ভেতরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার ইচ্ছাটা বেঁচে ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি।

নভেম্বর ২, ২০২৬
ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ
ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ

ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ

নভেম্বর ২, ২০২৬
এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে, ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
আবার বাড়ল সোনার দাম, আজ ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা
আবার বাড়ল সোনার দাম, আজ ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা

টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে বেড়েছে সোনার দাম। সোমবার ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছে বাজুস।

নভেম্বর ২, ২০২৬
বনানীতে আগুনে দগ্ধ ফিলিপাইনের নারী মারা গেছেন
বনানীতে আগুনে দগ্ধ ফিলিপাইনের নারী মারা গেছেন

গত বুধবার সকালে বনানীর ৭ নম্বর সড়কের একটি বাসায় রান্নার কাজে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে লিকেজ থেকে আগুন ধরে দগ্ধ হন কেইস্টিন ভার বুনাগ।

নভেম্বর ২, ২০২৬
ইন্টারনেট আসক্তি এক ধরনের মানসিক রোগ
ইন্টারনেট আসক্তি এক ধরনের মানসিক রোগ

<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২০২৬ সালের ২০ মে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা.মোহিত কামাল। এইবারের বিষয়টি ছিল — ‘ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার কার্যকর বা নিরাপদ বিকল্প নয়।' উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p>সভার আলোচনায় ভ্যাপিং বা মাদকের পাশাপাশি মোবাইল আসক্তি ও টিকটকের কথাও ওঠে এসেছে। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো মিল আছে কি? এর উত্তরে অধ্যাপক ডা.মোহিত কামাল বলেন, ‘অবশ্যই মিল আছে। মাদক নিলে মস্তিষ্কে যেভাবে আনন্দ বা উত্তেজনার হরমোন 'ডোপামিন' নিঃসৃত হয়, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, টিকটক দেখা বা পাবজি-ফ্রি ফায়ারের মতো গেমিং আসক্তিতেও ঠিক একইভাবে ডোপামিন লেভেল বেড়ে যায়। এটাকে আমরা বলি 'নেট অ্যাডিকশন' বা ইন্টারনেট আসক্তি। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ । এর ফলেও বাচ্চার পড়াশোনা ধ্বংস হয়, মেধা কমে যায় এবং আচরণে চরম পরিবর্তন আসে। সতরাং এ সব ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’ </p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাব বাংলাদেশে কতটা পড়বে
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাব বাংলাদেশে কতটা পড়বে

<p>ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আঘাত হানতে যাচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে। বাংলাদেশে এর প্রভাব কতটা পড়বে? দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ২, ২০২৬
নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের স্কোয়াডে নেই রোনালদো
নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের স্কোয়াডে নেই রোনালদো

রোনালদো ছাড়াও স্কোয়াডে রাখা হয়নি কিংসলে কোমান ও মোহামেদ সিমাকানকে। কোচ আঙ্গে পোস্তেকোগলু অবশ্য দীর্ঘ ভ্রমণের কথা বলেছেন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।