আহ্বায়কের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম আর সদস্যসচিব হচ্ছেন এম নাজমুল ইসলাম।
<p>রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান। সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েও ক্লান্তি কাটে না। আবার সপ্তাহের একেক দিন ঘুমানোর সময়ও একেক রকম। বিষণ্নতায় ভোগা অনেক মানুষেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়। এত দিন ঘুমের এসব সমস্যাকে বিষণ্নতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক বলছেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির ছন্দে গোলমালই বিষণ্নতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে</p><figure><img alt="রাতজাগা ফোন ঘুম" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/x2rs7hq2/photo-1571597361969-958f6a7b7675.avif"><figcaption>অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক বলছেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির ছন্দে গোলমালই বিষণ্নতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে</figcaption></figure><p>গবেষকেরা বিষণ্নতার সম্ভাব্য এই নতুন ধরনের নাম দিয়েছেন ‘সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন’ বা শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষণ্নতা। তবে এটি এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত আলাদা কোনো ধরন নয়।</p><h3>শরীরের ঘড়ির সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক কী </h3><p>আমাদের শরীরে একটি স্বাভাবিক ঘড়ি আছে। এটি প্রায় ২৪ ঘণ্টার চক্রে কাজ করে। কখন ঘুম পাবে, কখন জেগে থাকতে ইচ্ছা করবে, শরীর কখন বেশি সক্রিয় থাকবে—এসব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই ঘড়ি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘সারকাডিয়ান রিদম’।</p><p>সূর্যের আলো এই ঘড়িকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু নিয়মিত রাতজাগা, ঘুমের সময় বদলে যাওয়া কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমানোর মতো অভ্যাসের সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের অমিল তৈরি হতে পারে।</p><p>বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের মধ্যে ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ। তবে প্রশ্ন হলো, বিষণ্নতার কারণে কি ঘুমের সমস্যা হয়, নাকি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে গোলমাল থেকে কারও কারও বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে?</p><p>অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দ্বিতীয় কারণটিও খতিয়ে দেখছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/cv821k37ln">মা–বাবার বিষণ্নতা যেভাবে সন্তানের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে</a></aside><h3>ঘুমের ছয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনটি </h3><p>‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি’তে প্রকাশিত গবেষণায় বিষণ্নতায় ভোগা ১১ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।</p><p>গবেষকেরা ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছয়টি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন।</p><ul><li><p>বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে বিষণ্নতার লক্ষণ বাড়া বা কমা।</p></li><li><p>স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া।</p></li><li><p>রাত জেগে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা।</p></li><li><p>অতিরিক্ত ঘুমানো।</p></li><li><p>সকালে ঘুম থেকে উঠেও খুব ক্লান্ত লাগা।</p></li><li><p>কর্মদিবস ও ছুটির দিনে ঘুমানোর সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকা।</p></li></ul><p>শেষের বৈশিষ্ট্যটিকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’। যেমন কেউ কর্মদিবসে সকাল ৭টায় ওঠেন, কিন্তু ছুটির দিনে ঘুম থেকে ওঠেন বেলা ১১টায়। নিয়মিত এমন পার্থক্য থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দের সঙ্গে দৈনন্দিন রুটিনের অমিল তৈরি হতে পারে।</p><p>গবেষণায় যাঁদের মধ্যে ছয়টি বৈশিষ্ট্যের অন্তত তিনটি পাওয়া গেছে, তাঁদের সম্ভাব্য সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন দলে রাখা হয়।</p><h3>প্রতি চারজনের প্রায় একজন </h3><p>গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৬০৪ জন, অর্থাৎ প্রায় ২৩ শতাংশের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া গেছে।</p><p>গবেষণায় দেখা যায়, অন্যদের তুলনায় এই দলের মানুষের বিষণ্নতা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে শুরু হয়েছে। তাঁদের বিষণ্নতার লক্ষণও ছিল বেশি গুরুতর।</p><p>জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা আরও দেখেন, এই দলের মানুষের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তাজনিত সমস্যা (এডিএইচডি), বাইপোলার ডিজঅর্ডার এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।</p><p>তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁদের সবার এসব রোগ আছে বা ভবিষ্যতে হবেই। গবেষণায় শুধু জিনগত ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।</p><figure><img alt="ঘুম বিষণ্নতা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/p4pbdeau/photo-1639905517755-dfc96e6e7fb7.avif"><figcaption>বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের মধ্যে ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ</figcaption></figure><h3>প্রচলিত ওষুধে কি কম কাজ হয় </h3><p>গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। সম্ভাব্য সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন দলের অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কিছু বিষণ্নতার ওষুধে তাঁরা তুলনামূলক কম উপকার পেয়েছেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁদের বেশি।</p><p>বিশেষ করে এসএসআরআই ও এসএনআরআই শ্রেণির অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক পাওয়া গেছে।</p><p>গবেষণার অন্যতম লেখক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যাকব ক্রাউসের মতে, বিষণ্নতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় সাড়াও ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীদের মধ্যে এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।</p><p>তবে গবেষণায় ওষুধ কতটা কাজ করেছে, তা মূলত অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা হয়েছে। ফলে শুধু শরীরের জৈবিক ঘড়ির সমস্যার কারণেই ওষুধ কম কাজ করেছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।</p><h3>নতুন ধরনের বিষণ্নতা কি সত্যিই পাওয়া গেছে </h3><p>এখানেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভিন্নতা আছে। গবেষকেরা মনে করছেন, শরীরের জৈবিক ঘড়ির সমস্যা বিষণ্নতার একটি আলাদা ধরন শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু অন্য বিশেষজ্ঞরা এখনই বিষয়টিকে স্বীকৃত নতুন ধরন হিসেবে দেখতে রাজি নন।</p><p>লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ ডেভিড কার্টিসের মতে, গবেষণায় চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যগুলো হয়তো এমন ব্যক্তিদের আলাদা করেছে, যাঁদের বিষণ্নতা আগে থেকেই বেশি গুরুতর। সে কারণেও তাঁদের ঘুমের সমস্যা ও চিকিৎসায় কম সাড়া দেওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কলিন ম্যাকক্লাংও সতর্ক করেছেন, অংশগ্রহণকারীদের কারও কারও বাইপোলার ডিজঅর্ডার থাকতে পারে।</p><p>গবেষণাটির আরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই। শরীরে পরার বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ঘুমের সময় বা মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা মেপে জৈবিক ঘড়ির সমস্যা নিশ্চিত করা হয়নি।</p><p>সবচেয়ে বড় কথা, এই গবেষণা থেকে বোঝা যায় না ঘুমের সমস্যার কারণে বিষণ্নতা হয়েছে, নাকি বিষণ্নতার কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/daaelhllzd">যে ১০ ‘অজানা’ কারণে আপনি সব সময় হতাশা, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে ভোগেন</a></aside><h3>ঘুমের সময় ঠিক করলে কি বিষণ্নতা কমবে </h3><p>এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গবেষকেরা। শরীরের জৈবিক ঘড়ির ছন্দ ঠিক রাখতে আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিষণ্নতার চিকিৎসায় উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করে ‘লাইট থেরাপি’ দেওয়া হয়।</p><p>২০২৫ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঋতুভিত্তিক নয়, এমন বিষণ্নতায় ভোগা আট শতাধিক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষায় লাইট থেরাপি পাওয়া ব্যক্তিদের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বিষণ্নতার উপসর্গ এতটাই কমেছে যে তাঁরা রোগমুক্তির নির্ধারিত মানদণ্ডে পৌঁছেছেন। তুলনায় নিয়ন্ত্রণ দলের প্রায় ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন ফল পাওয়া গেছে।</p><p>তবে ওই গবেষণাগুলোয় বিশেষভাবে সারকাডিয়ান ডিপ্রেশনের সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা বেশি কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।</p><p>শরীরের ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা মেলাটোনিন হরমোন নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে বিষণ্নতার চিকিৎসায় মেলাটোনিন সেবনের উপকারিতা সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।</p><p>সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এখন পরীক্ষা করছেন, সম্ভাব্য সারকাডিয়ান ডিপ্রেশনের বৈশিষ্ট্য থাকা তরুণদের ক্ষেত্রে মেলাটোনিন কতটা কার্যকর।</p><figure><img alt="রাতজাগা ঘুম বিষণ্নতা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/jqsdkm73/photo-1512080701059-1cbffe38d1c9.avif"><figcaption>রাত জাগার অভ্যাস থাকলেই কারও বিষণ্নতা আছে বা হবে, এমন নয়</figcaption></figure><h3>রাত জাগলেই কি বিষণ্নতার আশঙ্কা </h3><p>না। রাত জাগার অভ্যাস থাকলেই কারও বিষণ্নতা আছে বা হবে, এমন নয়। আবার সকালে ক্লান্ত লাগা কিংবা ছুটির দিনে বেশি ঘুমানোর অর্থও বিষণ্নতা নয়।</p><p>গবেষণাটি মূলত বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের মধ্যে ঘুমের কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসার সম্পর্ক খুঁজেছে। সাধারণ মানুষের বিষণ্নতা হওয়ার ঝুঁকি নির্ধারণ করেনি।</p><p>তবে নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে, বিশেষ করে এর সঙ্গে দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, আগের পছন্দের কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।</p><p>বিষণ্নতার চিকিৎসা চললে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা কিংবা মেলাটোনিন বা লাইট থেরাপি শুরু করাও ঠিক নয়।</p><p>গবেষণাটি নতুন একটি সম্ভাবনার কথা বলছে। ভবিষ্যতে হয়তো ঘুমের ধরন বুঝে বিষণ্নতার চিকিৎসা আরও নির্দিষ্টভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।</p><p><sup>সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/4nd0d9qe57">নিজে নিজে যেভাবে বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠলাম</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/2fqnutkxpk">ঘুম আসে না? ৭ নিয়মে শরীর আর মনকে তৈরি করুন</a></aside>
মনের ভেতরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার ইচ্ছাটা বেঁচে ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি।
এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে, ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে বেড়েছে সোনার দাম। সোমবার ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছে বাজুস।
গত বুধবার সকালে বনানীর ৭ নম্বর সড়কের একটি বাসায় রান্নার কাজে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে লিকেজ থেকে আগুন ধরে দগ্ধ হন কেইস্টিন ভার বুনাগ।
<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২০২৬ সালের ২০ মে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা.মোহিত কামাল। এইবারের বিষয়টি ছিল — ‘ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার কার্যকর বা নিরাপদ বিকল্প নয়।' উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p>সভার আলোচনায় ভ্যাপিং বা মাদকের পাশাপাশি মোবাইল আসক্তি ও টিকটকের কথাও ওঠে এসেছে। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো মিল আছে কি? এর উত্তরে অধ্যাপক ডা.মোহিত কামাল বলেন, ‘অবশ্যই মিল আছে। মাদক নিলে মস্তিষ্কে যেভাবে আনন্দ বা উত্তেজনার হরমোন 'ডোপামিন' নিঃসৃত হয়, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, টিকটক দেখা বা পাবজি-ফ্রি ফায়ারের মতো গেমিং আসক্তিতেও ঠিক একইভাবে ডোপামিন লেভেল বেড়ে যায়। এটাকে আমরা বলি 'নেট অ্যাডিকশন' বা ইন্টারনেট আসক্তি। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ । এর ফলেও বাচ্চার পড়াশোনা ধ্বংস হয়, মেধা কমে যায় এবং আচরণে চরম পরিবর্তন আসে। সতরাং এ সব ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’ </p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।