এমবাপের জোড়া আঘাতে তছনছ বার্সেলোনার দম্ভ
রাত পোহালেই প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম।
গোলটির পেছনে বড় অবদান বদলি হিসেবে নামা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার। মাঝমাঠে গুলারকে বল দিয়ে সামনে এগিয়ে যান তিনি। পরে সতীর্থের ফিরতি পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে।
শেষ উইকেটে তখনও প্রয়োজন ছিল অনেক রান, জয়ের পাল্লা হেলে পড়েছিল ইংল্যান্ডের দিকে। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে বিমানবন্দরে চলমান হামলার...
কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের হিসাব নেই রেজিস্ট্রারে, ওয়ার্কারস প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) বিতরণ করেনি।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি...
রবিবার ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার হোয়াইট হাউস থেকে মিশিগানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।
<p>(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের ‘পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই’ কবিতার ছায়া অবলম্বনে)</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই,</p><p>চেয়ারটিকে শেষ প্রণাম জানাই।</p><p>ফিরিয়ে দিলাম দপ্তর-চাবি,</p><p>রাখব না আর আসন দাবি,</p><p>শেষবিদায়ের মিষ্টি বাণী চাই—</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!</p> <p>কত দিনই ছিলাম পদে,</p><p>কত লোকই ঘুরত পিছে রথে!</p><p>গাড়ি, পতাকা, স্যার সম্বোধন,</p><p>সবই আজ অতীতের স্মরণ—</p><p>আগের মতো ডাকটি আর না পাই!</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!<br></p><p>নির্দেশ এসে বলল, ‘এবার</p><p>নামতে হবে, সময় হয়েছে তোমার!’</p><p>নিভল বাতি, সরল ফলক,</p><p>চেয়ারখানায় পড়ল পলক,</p><p>নতুন বসার অপেক্ষাতে তাই—</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!</p> <p>গণেশ বলে, ‘কাঁদছ কেন ভাই?</p><p>ছুটি পেলে খুশি হওয়াই চাই!’</p><p>বললাম, ‘ছুটি চেয়েছি কবে?</p><p>ছুটি এসে হাজির তবে!</p><p>স্বেচ্ছায় আর নির্দেশে ফারাক যে ভাই!’</p> <p>চেয়ার বলে, ‘যেয়ো তবে,</p><p>আবার দেখা হতে পারে সবে।</p><p>তোমার আগে কতজনই</p><p>আমায় ভেবে আপন মানে—</p><p>কেউই তো আর চিরদিনের</p><p>নাই!’</p><p>বাবু কয়, ‘প্রণাম জানাই!’</p> <p>পদটি গেল, থাকল খাতা, থাকল কত প্রশ্নেরই পাতা।</p><p>চাবি দিলাম, দরজা ছাড়ি,</p><p>দায়ের হিসাব কোথায় পাড়ি?</p><p>জবাব দেওয়ার বেলায় যেন</p><p>ছুটির কথা না ওঠে তাই!</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dyjhf6zp9h">একটি আনপেইড ইন্টার্নশিপের গল্প</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside>
ব্যালন ডি’অর আজ। কে পাবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি, সরাসরি দেখতে চোখ রাখুন ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ডিএজেডএনে।
বিকেলের মিষ্টি ক্ষুধা মেটাতে খেজুর ও কুমড়ার বীজ হতে পারে সহজ, সুস্বাদু নাশতা। প্রাকৃতিক শর্করা, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজের এই মেলবন্ধন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করবে পুষ্টির বৈচিত্র্য।
<p>১০০ বছর আগে কথা। বিপ্লব হয়ে গেছে, জারের পতন ঘটেছে। কিন্তু গৃহযুদ্ধ থামেনি। একের পর এক বদলাচ্ছে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ। সেই অস্থির সময়ে একটি পরিবার নিজেদের ঘরের ভেতর আঁকড়ে ধরে আছে আগের জীবন, মূল্যবোধ আর স্মৃতি। বাইরে গোলাগুলি, মৃত্যু আর অনিশ্চয়তা। আজ যারা ক্ষমতাসীন, কাল তারাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। দরজা ভেঙে যেন ঘরে ঢুকে পড়ছে ইতিহাস।<br> রুশ ইতিহাসের অস্থির এই সময়ের গল্প নিয়েই মিখাইল বুলগাকভ লিখেছিলেন উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’। সেই উপন্যাস অবলম্বনে পরে নিজেই রচনা করেন নাটক ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। কঠিন শর্ত সাপেক্ষে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে ৫ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাটকের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে নাটকটির কথা উঠে আসছে। শতবর্ষের এই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক, কীভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ ও নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে নাটকটি হয়ে উঠেছিল মস্কোর মঞ্চের অন্যতম আলোচিত প্রযোজনা।<br> এই নাটকের ইতিহাসে পাশাপাশি রয়েছে দুটি বিপরীত ছবি। একদিকে দর্শকের ভিড়, অন্যদিকে মঞ্চায়ন বন্ধের দাবি। বুলগাকভের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ কমিউনিস্ট শাসক জোসেফ স্তালিন নিজেই নাটকটি দেখতে গেছেন বারবার। তাঁর আগ্রহও অবশ্য নাটকটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/6qd8tjqn/premera.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><strong>উপন্যাস থেকে মঞ্চে</strong><br> ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর মূল পটভূমি ১৯১৮ সালের কিয়েভ। আগের বছর রাশিয়ায় জারের শাসনের পতন হয়েছে, পরে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু সাবেক রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তখনো যুদ্ধ ও ক্ষমতার লড়াই চলছে।<br> জারের পতন পুরোনো শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটালেও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কার অবস্থান কোথায় হবে, তা তখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে কিয়েভে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের হিসাব। সামরিক পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যও হয়ে উঠতে পারত বিপদের কারণ।<br> কিয়েভে বসবাসকারী টারবিন পরিবারকে ঘিরে এগিয়েছে উপন্যাসের গল্প। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যে একটি শিক্ষিত পরিবারের পরিচিত পৃথিবী কীভাবে ভেঙে পড়ছে, বুলগাকভ তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতা। পরিবারের সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কথাবার্তা, ভয়, সংশয় আর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সামনে আসে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিপর্যয়।<br> ঘর এখানে শুধু আশ্রয় নয়। পরিচিত মানুষ, সম্পর্ক ও জীবনযাপনের ধারাবাহিকতাও। বাইরে যে পক্ষই ক্ষমতায় আসুক, ঘরের ভেতর মানুষ স্বাভাবিক জীবনের কিছুটা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে সেই চাওয়াটুকুও ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ে। নাটকের ব্যক্তিগত সংকট ও রাজনৈতিক পটভূমি এভাবেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।<br> মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে নাটকটি তৈরি করেন তিনি।<br> মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, ১৯২৫ সালে মস্কো আর্ট থিয়েটার ও ভাখতাঙ্গভ থিয়েটার—দুই প্রতিষ্ঠানই উপন্যাসটির নাট্যরূপ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। মস্কো আর্ট থিয়েটারকে বেছে নেন বুলগাকভ। ওই বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম সংস্করণটি লেখেন। সব মিলিয়ে নাটকটির তিনটি সংস্করণ তৈরি হয়।</p><p>উপন্যাসের বিস্তৃত ঘটনাপ্রবাহকে মঞ্চের সীমিত পরিসরে আনার জন্য গল্প পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। চরিত্রের সংখ্যা কমানো, ঘটনাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং সংলাপের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার কাজ চলছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক আপত্তি। ফলে নাটকটির পরিবর্তন শুধু মঞ্চের প্রয়োজনেই হয়নি; অনুমতি পাওয়ার লড়াইও তার চূড়ান্ত রূপ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9cyfgqze/85739.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><br><strong>প্রথম প্রদর্শনীর আগে গোপন নির্দেশনা</strong><br>বিপ্লবের এক দশকও তখন পেরোয়নি। গৃহযুদ্ধের স্মৃতিও টাটকা। সেই সময়ে মস্কোর অন্যতম প্রধান থিয়েটারের মঞ্চে আসছে এমন একটি গল্প, যার কেন্দ্রে বলশেভিকদের প্রতিপক্ষ শ্বেতরক্ষীদের সঙ্গে যুক্ত কিংবা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ। শুরু থেকেই তাই নাটকটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।<br>এই চরিত্রগুলোকে কীভাবে দেখানো হবে, সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন। পরাজিত রাজনৈতিক পক্ষের মানুষও কি মঞ্চে দর্শকের সহানুভূতি পেতে পারে? তাদের ব্যক্তিগত দুঃখ, সম্পর্ক কিংবা সংকট তুলে ধরা কি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার শামিল? নাটকটি ঘিরে আপত্তির কেন্দ্রে ছিল এমন টানাপোড়েন।<br>উপন্যাসকে মঞ্চে আনার কাজটিও সহজ ছিল না। গল্প সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে, বাদ দিতে হয়েছে চরিত্র ও দৃশ্য। মহড়া, থিয়েটারের শিল্প পরিষদের আলোচনা এবং সরকারি সেন্সরদের আপত্তির মুখে বারবার বদলেছে নাটকের কাঠামো। ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর বদলে নাম হয় ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’।</p><p>বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহভুক্ত ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবরের একটি গোপন পরিপত্রে সেই সময়ের বিধিনিষেধের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রধান রেপার্টরি কমিটির ওই পরিপত্রে চলতি মৌসুমে শুধু মস্কো আর্ট থিয়েটারকে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রদর্শনীর চার দিন আগে জারি করা এই নির্দেশনায় অনুমতির সঙ্গে মঞ্চায়নের সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। রুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অন্য থিয়েটারগুলোর জন্য মঞ্চায়ন ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।<br>অর্থাৎ একটি থিয়েটারে মঞ্চায়নের ছাড়পত্র মিললেও নাটকটি অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। অনুমতি ছিল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মৌসুমের জন্য। প্রথম প্রদর্শনীর প্রস্তুতির মধ্যেও তাই প্রযোজনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গিয়েছিল।<br>একই সংগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি সেন্সররা নাটকে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। মঞ্চায়নের অনুমতি নিয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলেছিল কর্তৃপক্ষ। ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত গোপন পুলিশ সংস্থা ওজিপিইউও মঞ্চায়নের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, পরিবর্তনগুলো করার পরও শ্বেতরক্ষী অফিসারদের আদর্শায়িত করা হয়েছে।<br>শেষ পর্যন্ত ১৯২৬ সালের ৫ অক্টোবর মস্কো আর্ট থিয়েটারের মঞ্চে নাটকটির পর্দা ওঠে। নির্দেশক ছিলেন ইলিয়া সুদাকভ; শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন কনস্তান্তিন স্তানিস্লাভস্কি। প্রথম প্রযোজনায় অ্যালেক্সেই টারবিনের চরিত্রে ছিলেন নিকোলাই খমেলিয়ভ, মিশলায়েভস্কির চরিত্রে বরিস দবরোনরাভভ, এলেনার ভূমিকায় ভেরা সোকোলোভা, লারিওসিক চরিত্রে মিখাইল ইয়ানশিন এবং শেরভিনস্কির ভূমিকায় মার্ক প্রুদকিন।</p><p><strong>দর্শকের ভিড়, রাজনৈতিক আক্রমণ</strong><br>মঞ্চে ওঠার পর দর্শকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। গবেষক লিদিয়া ইয়ানোভস্কায়ার ‘মিখাইল বুলগাকভের সৃষ্টির পথ’ বই অনুযায়ী, প্রথম মঞ্চায়নের মাসে, অর্থাৎ ১৯২৬ সালের অক্টোবরে এর ১৩টি প্রদর্শনী হয়।<br>বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ অনুযায়ী, নাটকটি যেকোনো সময় নিষিদ্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দর্শকেরা ভিড় করতেন। থিয়েটারের সামনে তিন গুণ দামে টিকিট বিক্রির কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।<br>দর্শকের কাছে ঘটনাগুলো নিছক দূর অতীতের ইতিহাস ছিল না। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের অভিজ্ঞতা তখনো মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মঞ্চের চরিত্রগুলোর ভয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা পরিচিত জীবন হারানোর বেদনা সেই স্মৃতিকে নাড়া দেওয়ার মতোই ছিল।<br>কিন্তু দর্শকের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি চলছিল রাজনৈতিক সমালোচনা। বুলগাকভের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শ্বেতরক্ষীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। পরাজিত পক্ষের মানুষকে কেন এত মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন মানবিক উপস্থাপন সমালোচকদের একাংশ মেনে নিতে পারেনি।<br>টারবিন পরিবারের সদস্যরা ভয় পায়, ভালোবাসে, ভুল করে। বিপর্যয়ের মধ্যে তারা কখনো পুরোনো বিশ্বাস আঁকড়ে থাকে, কখনো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাদের এই ব্যক্তিগত জীবনও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দর্শকের সহানুভূতি তৈরি হওয়ার জায়গাটি সেখানেই; সমালোচকদের আপত্তিরও অন্যতম কারণ ছিল সেটি। অথচ নাটকটিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছিলেন স্তালিন।</p><p><strong>স্তালিনের ভিন্ন পাঠ</strong><br>স্তালিন নাটকটি কতবার দেখেছিলেন, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে পার্থক্য আছে। মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘মস্কোভস্কিয়ে নোভোস্তি’ পত্রিকায় ২০০৪ সালে প্রকাশিত নিনা আগিশেভার একটি লেখায় সংখ্যাটি ১৪। একই সাইটে সংরক্ষিত আরেকটি লেখায় থিয়েটার-মিউজিয়ামের নথির বরাতে বলা হয়েছে ১৫ বার।<br>নাটকটির বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নিজের লেখা চিঠিতে। ১৯২৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নাট্যকার ভ্লাদিমির বিল-বেলোৎসেরকোভস্কিকে লেখা এক চিঠিতে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন স্তালিন।<br>স্তালিনের যুক্তি ছিল, টারবিনদের মতো বলশেভিকবিরোধী মানুষও যখন শেষ পর্যন্ত অস্ত্র নামিয়ে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে, তখন দর্শকের কাছে বলশেভিকদের অজেয়তার ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বিচারে নাটকটি ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে।<br>সমালোচকদের একাংশ চরিত্রগুলোর প্রতি সহানুভূতিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর মনে করেছিল। স্তালিন গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাদের পরাজয়ের পরিণতিতে। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী কিংবা মর্যাদাবানই হোক, শেষ পর্যন্ত বলশেভিকদের বিজয় মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের পথ নেই।<br>এভাবে একই নাটকের দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পাঠ তৈরি হয়েছিল। তবে এই চিঠি থেকে স্তালিনের বারবার নাটকটি দেখতে যাওয়ার সব ব্যক্তিগত কারণ নিশ্চিত করা যায় না। চিঠিতে পাওয়া যায় নাটকটির রাজনৈতিক উপযোগিতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/5nvgjwni/85737.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><strong>পছন্দের নাটকও নিষিদ্ধ</strong><br>স্তালিনের আগ্রহ থাকলেও নাটকটির মঞ্চযাত্রা নির্বিঘ্ন হয়নি। ১৯২৯ সালে এটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। বুলগাকভ নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, নাটকটি ২৮৯তম প্রদর্শনীর পর নিষিদ্ধ হয়েছিল।<br>দর্শকপ্রিয়তা যে মঞ্চে টিকে থাকার নিশ্চয়তা নয়, প্রযোজনাটির অভিজ্ঞতায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টিকিটের চাহিদা ছিল, অভিনয় নিয়ে আগ্রহ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক আপত্তির মুখে সেসব যথেষ্ট হয়নি।</p><p>এই সময় বুলগাকভের নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠছিল। একের পর এক কাজ প্রকাশ ও মঞ্চায়নের সুযোগ হারায়। একজন লেখকের জন্য এটি শুধু আয়ের সংকট ছিল না; নিজের লেখা পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।<br>১৯৩০ সালের ২৮ মার্চ বুলগাকভ সোভিয়েত সরকারকে দীর্ঘ একটি চিঠি লেখেন। সেখানে কাজের সুযোগ না থাকলে দেশ ছাড়ার অনুমতি চান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/y5g3r4yh/85540.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p>কয়েক সপ্তাহ পর, ১৮ এপ্রিল, বুলগাকভকে টেলিফোন করেন স্তালিন। সেই কথোপকথনের পর মস্কো আর্ট থিয়েটারে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু তাঁর নাটকটি মঞ্চে ফেরেনি। অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় দুই বছর।<br>বুলগাকভের কাজের সুযোগ পাওয়া এবং তাঁর নাটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া—দুটি ঘটনা একই সঙ্গে ঘটেনি। থিয়েটারে যুক্ত হতে পারলেও নিজের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনাটি ফিরে পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।<br><strong>ফিরে এসে প্রায় এক হাজার প্রদর্শনী</strong><br>১৯৩২ সালের শুরুতে আবার ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’ মঞ্চায়নের সুযোগ পায় মস্কো আর্ট থিয়েটার। নিষেধাজ্ঞার বিরতি পেরিয়ে শুরু হয় প্রযোজনাটির মঞ্চযাত্রার পরবর্তী অধ্যায়।<br>শতবর্ষ উপলক্ষে ৫ অক্টোবর প্রকাশিত মস্কো আর্ট থিয়েটারের মিডিয়া সেন্টারের নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রথম প্রযোজনাটি সব মিলিয়ে ৯৮৭ বার মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই হিসাবে নিষেধাজ্ঞার আগের ও পরের প্রদর্শনীগুলো রয়েছে। শর্তসাপেক্ষ অনুমতিতে শুরু হওয়া প্রযোজনাটি এভাবেই পৌঁছায় প্রায় এক হাজার প্রদর্শনীতে।<br>তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধেই থেমে যায় তার পথচলা। ১৯৪১ সালের জুনে মিনস্কে থিয়েটারের সফরের সময় বোমার আঘাতে প্রযোজনার মঞ্চসজ্জা ধ্বংস হয়। এরপর প্রযোজনাটি আর ফিরিয়ে আনা হয়নি।<br><sup>সূত্র: মস্কো আর্ট থিয়েটারের প্রযোজনা-ইতিহাস, বুলগাকভের জীবনী ও মিডিয়া সেন্টারের শতবর্ষের নিবন্ধ; মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ ও আত্মজীবনী; রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘আর্টেফ্যাক্ট’ সংগ্রহ; স্তালিনের রচনাবলি।</sup></p>
<figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rs21l0h2/867258585183485923482817678817076538220493034n.jpg"><figcaption>প্যাস্টেল গোলাপি সাটিনের পোশাকে মোহনীয় এক লুকে ধরা দিয়েছেন জয়া আহসান। মসৃণ ও চকচকে কাপড়ের স্লিপ ড্রেসটিতে আছে গভীর নেকলাইন, ক্রিসক্রস স্ট্র্যাপ আর বুকের কাছে কুঁচি দিয়ে তৈরি নকশা। বৃত্তাকার অলংকারের মতো ডিটেইলিং পোশাকটিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rfqz7ypc/860410221183485923692817673284675272154023835n.jpg"><figcaption>জয়ার খোলা চুল এক পাশে এনে স্টাইল করে দিয়েছেন হেয়ার স্টাইলিস্ট সুদীপ্তা বিশ্বাস। চোখে গাঢ় আইলাইনার ও মাসকারার প্রাধান্য, ঠোঁটে হালকা নুড রঙের আভা। সব মিলিয়ে সাজে আভিজাত্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/907veci3/86067776218348592306281767650242762233989688n.jpg"><figcaption>পোশাকের সঙ্গে ভারী অলংকারের বদলে ডান হাতে ব্রেসলেটই রেখেছেন জয়া। চোখের গাঢ় মেকআপ আর মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি ছবিতে এনেছে আলাদা ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই লুকে পোশাকের নকশা ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিই প্রধান আকর্ষণ</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9wng1gyr/861376908183485923332817676210771760474389417n.jpg"><figcaption>ছবির আলোছায়া আর পোশাকের কোমল গোলাপি আভা মিলে তৈরি করেছে ফ্যাশন ফটোশুটের দারুণ আবহ। গতকাল ২৫ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলোর সঙ্গে জয়ার ক্যাপশন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’, যা লুকটির মেজাজের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/t3n15rnzya">রাফসান-সুনেরাহর কি সত্যিই বাগদান হয়েছে?</a></aside>
<p>মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে ঠিক কী ঘটে? প্রশ্নটা শুনলে মনে হতে পারে, উত্তরটা বুঝি খুব সহজ। হৃৎপিণ্ড থেমে যায়, মস্তিষ্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায় আর নিথর শরীরটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে পচনের দিকে। বহুকাল ধরে মৃত্যুর এই ছবিটিই চূড়ান্ত সত্যি বলে মেনে নিয়েছি আমরা। কিন্তু এই চেনা পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক অজানা গল্প।</p><p>ধরুন, একজন মানুষের মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর গবেষকেরা তাঁর শরীর থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করলেন। তারপর সেগুলোকে রাখলেন ল্যাবরেটরির বিশেষ এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে সেই কোষগুলো শুধু টিকে থাকল তা-ই নয়, বরং নতুন করে বিভাজিত হয়ে জন্ম দিল আরও নতুন কোষের!</p><p>ঘটনাটা শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হতে পারে। কারণ, আমরা ভাবি মৃত্যুই বুঝি জীবনের শেষ স্টেশন। কিন্তু ক্ষুদ্র কোষের জগতে গল্পটা মোটেও এত সরল নয়। একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি আর তাঁর শরীরের প্রতিটি কোষের চিরবিদায় ঠিক একই মুহূর্তে ঘটে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/7cthdmb3z0">স্টেম-কোষ গবেষণায় কি অমরত্ব মিলবে</a></aside><blockquote>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</blockquote><p>বিষয়টা থমকে যাওয়া এক বিশাল শহরের গল্প হিসেবে কল্পনা করা যাক। কোনো এক রাতে যদি পুরো শহরের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, মুহূর্তেই নিভে যাবে সব আলো, থমকে দাঁড়াবে বিশালাকার যন্ত্রগুলো। কিন্তু শহরের কোনো এক কোণে ব্যাটারির শক্তিতে হয়তো তখনো মিটমিট করে জ্বলবে কিছু বাতি, কোথাও হয়তো সচল থাকবে জরুরি জেনারেটর। অর্থাৎ পুরো শহর এক নিমেষে কিন্তু পুরোপুরি নিভে যায় না।</p><p>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</p><p>গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিভিন্ন গবেষণা আমাদের এনে দাঁড় করিয়েছে নতুন এক দরজায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষের মৃত্যু ঘটার পরও কোষের ভেতরে অনবরত চলতে থাকে বিস্ময়কর সব পরিবর্তন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%AF%E0%A6%96%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87">কোষ যখন সুইসাইড করে</a></aside><blockquote>কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না।</blockquote><h2><strong>মৃত্যু কি সবার জন্য একই মুহূর্তে আসে</strong></h2><p>হৃৎপিণ্ড থমকে দাঁড়ালে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন। থামতে শুরু করে কোষে কোষে অক্সিজেন আর পুষ্টির চালান, স্তব্ধ হয়ে যায় শক্তির উৎপাদন। বিশাল এক সাম্রাজ্যের মতো শরীরের চেনা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো একে একে ভেঙে পড়তে থাকে। তবে এই তীব্র সংকটে শরীরের সব কোষ কিন্তু একভাবে সাড়া দেয় না। মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</p><p>এখানেই ফুটে ওঠে সূক্ষ্ম এক সত্য। কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না। কারণ, মানুষের জীবন মূলত মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড আর শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো বিশাল সব অঙ্গের এক সমন্বিত ছন্দ।</p><p>কোষের এই অদ্ভুত সহনশীলতার পার্থক্যই বিজ্ঞানীদের সামনে ছুড়ে দেয় বড় এক রহস্য। একজন মানুষের মৃত্যুর পরও কি এমন কিছু কোষ থেকে যায়, যাদের আবার নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই গবেষকেরা থমকে দাঁড়ান শরীরের বিশেষ একধরনের কোষের সামনে। এই কোষের নাম স্টেম সেল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/3r9gmei89k">পাঠ্যবইয়ের পুরোনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল, আবিষ্কৃত হলো কোষ বিভাজনের নতুন কৌশল</a></aside><blockquote>মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর ১৭ দিন পরও কার্যক্ষম স্টেম সেল!</strong></h2><p>বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় এই রহস্যের মোড়। <em>নেচার কমিউনিকেশনস</em> জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত পাস্তুর ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ফ্যাব্রিস শ্রেতিয়াঁ ও তাঁর দল কাজ করছিলেন মানুষের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়ে। গবেষণাগারে তাঁরা যে সত্যটি উন্মোচন করেছিলেন, তা ছিল রীতিমতো কল্পনাতীত! দেখা যায়, মানুষের মৃত্যুর ১৭ দিন পরও মৃতদেহ থেকে সেই স্টেম সেলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব! আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ল্যাবরেটরির কৃত্রিম ও উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পর সেই কোষগুলো আবার নতুন করে বিভাজিত হতে শুরু করে এবং জন্ম দেয় একদম নতুন পেশিকোষ।</p><p>তবে ‘উদ্ধার করা’ কথাটির পেছনে লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম এক হিসাব। এর মানে কিন্তু এই নয় যে মৃতদেহের সব পেশিকোষ ১৭ দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে জীবিত ছিল। আসল সত্যটা হলো, মৃত্যুর এত দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কিছু স্টেম সেল তাদের ভেতরের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেনি। সুবিধাজনক পরিবেশ পেলেই নিজেদের পুনর্গঠন করার এবং নতুন কোষ তৈরির অদ্ভুত সেই ক্ষমতা তারা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল।</p><p>আসলে স্টেম সেল হলো শরীরের সেই জাদুকরী কোষ, যা প্রয়োজনে বিভাজিত হয়ে হুবহু নিজের মতো নতুন কোষ বানাতে পারে, এমনকি রূপ নিতে পারে বিশেষ কিছু অঙ্গের কোষেও। পেশির ক্ষত মেটাতে বা পেশিকোষ পুনর্গঠনে এসব স্টেম সেলের কোনো জুড়ি নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/jjs2byyqhc">কোষ কীভাবে বোঝে তাকে কী কাজ করতে হবে</a></aside><blockquote>পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</blockquote><p>শুধু মানুষের ওপরই থেমে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়েও তাঁরা চালিয়েছিলেন একই পরীক্ষা। সেখানে ১৭ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা না পাওয়া গেলেও মূল সত্যটা কিন্তু বদলায়নি। মৃত্যুর পরও কিছু স্টেম সেল আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পুনর্গঠনক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারে। এমনকি ইঁদুরের অস্থিমজ্জা থেকেও মৃত্যুর বেশ কয়েক দিন পর কার্যকর স্টেম সেল উদ্ধারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।</p><p>কিন্তু এই অদ্ভুত আবিষ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানীদের মনে জন্ম নেয় আরও বড় এক রহস্য। রক্ত সঞ্চালন বন্ধ, অক্সিজেনের অভাব আর শক্তির চরম সংকটের মাঝেও এই ক্ষুদ্র কোষগুলো মৃত্যুর পর এত দিন ধরে টিকে থাকে কীভাবে?</p><p>এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর লুকিয়ে আছে কোষের বিপাকক্রিয়ায়। কোষের বেঁচে থাকা ও কাজ করার জন্য নিরন্তর শক্তি দরকার। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সব কোষ একইভাবে শক্তি খরচ করে না। পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/4p9smlmdm7">মানুষের দেহে কোষ কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে?</a></aside><blockquote>ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</blockquote><p>বিষয়টা সহজে বোঝার জন্য ভালুকের শীতনিদ্রার কথা ভাবা যেতে পারে। শীতনিদ্রার সময় ভালুকের শরীরে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের গতি কমে যায়। ফলে শক্তির খরচও অনেক কমে আসে। পেশির স্টেম সেলের সুপ্ত অবস্থার সঙ্গে এই তুলনার বেশ মিল আছে। তবে দুটি প্রক্রিয়া কিন্তু হুবহু এক নয়। এটি শুধু মূল ধারণাটা বোঝানোর একটি চমৎকার উপমা মাত্র।</p><p>মৃত্যুর পর কোষের সুপ্ত অবস্থায় যাওয়ার পেছনে ঠিক কোন প্রক্রিয়াগুলো কাজ করে, তার সব উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই। ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</p><p>তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোষের এই টিকে থাকার ক্ষমতা মানে কিন্তু পুরো মৃতদেহ জীবিত থাকা নয়। একটি কোষকে ল্যাবরেটরিতে উদ্ধার করে বংশবৃদ্ধি করানো আর মৃতদেহের ভেতরে তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আর এখানেই এই গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। মৃত্যুর পর কিছু কোষ শুধু টিকেই থাকে না, বরং কোষের ভেতরে জিনের কার্যকলাপসংশ্লিষ্ট দারুণ কিছু পরিবর্তনও ঘটাতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/so3sqopeq2">একটি মাত্র কোষ থেকে কীভাবে তৈরি হয় মস্তিষ্ক</a></aside><blockquote>ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর পরও বদলে যায় জিনের কার্যকলাপ</strong></h2><p>কোষের এই অদ্ভুত বেঁচে থাকার রহস্য ভেদ করতে বিজ্ঞানীরা শুধু তাদের টিকে থাকার দৃশ্য দেখেই থমকে যাননি। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন আরও গভীরে। মৃত্যুর এই আলো-আঁধারির মাঝে কোষের আণবিক বা পারমাণবিক পর্যায়ে, বিশেষ করে জিনের জগতে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তাঁরা সেটাই জানতে চেয়েছেন।</p><p>২০১৭ সালের কথা। <em>ওপেন বায়োলজি</em> জার্নালে প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীদের এক যুগান্তকারী গবেষণা। ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক, অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন তাঁরা। ইঁদুরের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ৪৮ ঘণ্টা এবং জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।</p><p>সেই পরীক্ষাগারে এক অভাবনীয় দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেল, মৃত্যুর পরও ১ হাজার ৬৩টি জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমআরএনএ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিমাণ আগের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে!</p><p>গল্পের এই মোড়ে এমআরএনএর ভূমিকা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ। সহজ কথায়, এমআরএনএর পরিমাণ বাড়া বা কমার মানে কোষের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু জিনের কার্যকলাপে বড় ধরনের নড়াচড়া শুরু হওয়া।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zqtx3wxvii">নির্দিষ্ট বয়সের পরে কোষ কেন বৃদ্ধি পায় না?</a></aside><blockquote>ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীরা।</blockquote><p>তবে মৃত্যুর পর এমআরএনএর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অর্থ কিন্তু এই নয় যে, জিনগুলো শুধুই নতুন উৎসাহে জেগে উঠে ঝড়ের বেগে এমআরএনএ বানিয়ে চলেছে। এখানে কাজ করে অন্য আরেকটি বিষয়। কত দ্রুত নতুন এমআরএনএ তৈরি হচ্ছে আর কত দ্রুত পুরোনো এমআরএনএ ভেঙে যাচ্ছে—এই দুই ব্যবস্থার ওঠানামার ওপরই নির্ভর করে মূল হিসাবটা।</p><p>দেখা গেল, মৃত্যুর পর যেসব জিনের কার্যকলাপে এই পরিবর্তনগুলো ঘটছে, সেগুলো সাধারণ কোনো জিন নয়। এর মধ্যে রয়েছে চাপের বিরুদ্ধে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, প্রদাহ, কোষের নিয়মতান্ত্রিক মৃত্যু বা অ্যাপোপটোসিস, কোষের ভেতরে জরুরি পদার্থ পরিবহন আর ভ্রূণের বিকাশের সঙ্গে জড়িত জিনগুলোও!</p><p>এই পরিবর্তনগুলোর সময়কালও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কিছু পরিবর্তন ঘটে মৃত্যুর মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আণবিক এই রূপান্তর ধরা পড়ে আরও অনেক পরে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/k2xs0t1rv4">সারা জীবনে আমাদের কী পরিমাণ কোষ ঝরে পড়ে?</a></aside><blockquote>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি।</blockquote><p>বিষয়টা সত্যিই দারুণ ভাবনার খোরাক জোগায়। মৃত্যু মানেই তো সবকিছুর চিরতরে নিভে যাওয়া! কিন্তু মৃত্যুর পরও কোষের ভেতরে জিনের আণবিক কার্যকলাপে এই সক্রিয়তা দেখা যায় কেন? এর কোনো চূড়ান্ত উত্তর বিজ্ঞানীরা এখনো খুঁজে পাননি। তবে তাঁদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চরম চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে। এ ছাড়া কোষের ভেতরে বিভিন্ন অণুর স্থায়িত্ব ও ভেঙে যাওয়ার গতির তারতম্যের কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।</p><p>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি। ঠিক যেমন গোধূলিলগ্নে আলো ও অন্ধকারের এক অদ্ভুত মায়াবী সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়, তেমনি মৃত্যুর পরও শরীরের ভেতরের জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো একবারে নিভে না গিয়ে এক ঝাপসা আলোয় যেন তাদের শেষ অধ্যায়টি লিখে চলে।</p><p> এখানে অবশ্য একটি জরুরি সতর্কতাও জড়িয়ে আছে। এই গবেষণার মূল পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছিল ইঁদুর ও জেব্রাফিশের ওপর। মানুষের টিস্যুতেও মৃত্যুর পর জিনগত পরিবর্তনের কিছু প্রমাণ মিললেও প্রাণীদের ওপর করা এই পরীক্ষার ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই জটিল রহস্যের পুরো জট খুলতে বিজ্ঞানীদের এখনো পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক দূর।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7">ক্যানসার কোষ থেকে মেদ কোষ</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানীর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে।</blockquote><p>হাজারো জটিল গবেষণার পর শেষ পর্যন্ত এসে যে প্রশ্নটা মনকে দোলা দেয় তা হলো, এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারগুলো আসলে আমাদের কী কাজে আসবে?</p><p><strong>অঙ্গ প্রতিস্থাপনে:</strong> একজন দাতার দেহ থেকে অঙ্গ সংগ্রহের পর সেই অঙ্গের কোষগুলোতে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে, তা গভীরভাবে বুঝতে পারলে অঙ্গ সংরক্ষণের পুরো চিত্রটাই বদলে যেতে পারে। এর ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলোকে আরও দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখা এবং পরবর্তী সময়ে গ্রহণকারীর দেহে তা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব।</p><p><strong>স্টেম সেল থেরাপিতে:</strong> মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও বেঁচে থাকা এই ক্ষুরধার স্টেম সেলগুলো ভবিষ্যতে পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তবে এই কোষগুলো সত্যিই অন্য কোনো জীবিত মানুষের দেহে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে কোষের মান ধরে রাখা, সঠিক সংগ্রহপদ্ধতি এবং সেই সঙ্গে বিস্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সাফল্যের ওপর।</p><p><strong>ফরেনসিক বিজ্ঞানে:</strong> মৃত্যুর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিনের ক্ষণস্থায়ী এই রূপান্তরগুলো মেপে নিখুঁতভাবে মৃত্যুর সময় নির্ধারণের একেবারেই নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। যদিও প্রাণীদের শরীরে পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে কতটা নির্ভরযোগ্য, তা জানতে আরও কিছু পথ হাঁটা বাকি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87-2">কত্ত কোষ আমাদের শরীরে!</a></aside><blockquote>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়।</blockquote><p>তাই এই আবিষ্কারগুলোই যে আগামীকাল থেকে মৃতদেহের কোষ দিয়ে বড় ধরনের চিকিৎসা শুরু করার মন্ত্র দিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা মোটেও সে রকম নয়। এটা আসলে আমাদের শেখাচ্ছে যে মৃত্যুর ঠিক পরমুহূর্তে শরীরের ভেতর ঠিক কী ঘটে। সেটা অনুধাবন করতে পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফরেনসিক গবেষণায় উন্মোচিত হবে নতুন নতুন পথ।</p><p>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অণুবীক্ষণিক কোষের জগতে তখনো নিঃশব্দে চলতে থাকে জীবনের অন্য এক লড়াই। প্রদীপ নিভে গেলেও যেমন তার উত্তাপ কিছু সময় থেকে যায়, মৃত্যুর পরের সময়টাও ঠিক তেমনি এক গোধূলিলগ্ন। মৃত্যুর এই অচেনা রাজ্য থেকেই হয়তো বিজ্ঞান একদিন খুঁজে নেবে আমাদের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর!</p><h4>লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া</h4><h4>সূত্র: ১. Latil M. et al. (2012). Skeletal muscle stem cells adopt a dormant cell state post mortem and retain regenerative capacity. <em>Nature Communications</em>.</h4><h4>২. Pozhitkov A.E. et al. (2017). Tracing the dynamics of gene transcripts after organismal death. <em>Open Biology</em>.</h4><h4>৩. <em>Live Science</em>, <em>FierceBiotech</em> & <em>BioSpectrum Asia</em></h4><h4>৪. Testing cellular life after death</h4><h4>৫. Human Postmortem Life project</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/wgadkojbjz">আপনার শরীরেই বাস করছে অন্য কারো কোষ</a></aside>
বিকেলের আলো পড়ে এসেছে। ধানখেতের ধারে ছোট একটা খাল, পানি প্রায় নড়ছে না। তুমি পাড়ে উবু হয়ে বসেছ। হঠাৎ পানির নিচে কী যেন ঝিলিক দিয়ে গেল
সম্প্রতি সৌদি আদালত দুই বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে শরিয়া আইনে ‘তাজির’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, ‘তাজির’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় কি না।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে বিমানবন্দরে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ১৪৬টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা পিরোজপুরে এক ব্যক্তির দাফনের জন্য তার মেয়ে ও বোনেরা কবর খুঁড়ছেন এমন ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মি. সাঈদীর অনুসারীরা ওই ব্যক্তির জন্য কবর খুঁড়তে ও দাফনে বাধা দিয়েছে এবং তাদের বাধার কারণেই প্রশাসন থেকে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মধ্যরাতে মেয়ে ও বোনদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করতে হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় যাতে গত সপ্তাহের মতো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আজ রোববার ২৫শে আক্টোবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়াও গুরুত্ব পেয়েছে সাতটি ইসলামী দলের জোট গঠন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ রাজনীতির নানা খবর।
ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা হিসেবে অ্যাথেলস্ট্যানের অভিষেকের ১১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি ইতিহাসের বইগুলোতে আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত। তবে তিনি নিজে অনেকটাই বিস্মৃত হলেও, তার সময়ে চালু হওয়া বহু আচার ও আনুষ্ঠানিকতা আজও পালিত হচ্ছে যুক্তরাজ্যে।
ওই শিশুর বাবার দায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষককে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষও শিশুটির বাবাকে আসামি করে পাল্টা একটি মামলা করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এটি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
আখের এই জাতটি রসালো, নরম ও চিবোতে খুব মজার। এছাড়া আখের রসে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ যে পরিমাণ থাকলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সমস্যা হতে পারে এই জাতে তার পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম।
গোলটির পেছনে বড় অবদান বদলি হিসেবে নামা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার। মাঝমাঠে গুলারকে বল দিয়ে সামনে এগিয়ে যান তিনি। পরে সতীর্থের ফিরতি পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে।
রাত পোহালেই প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম।
শেষ উইকেটে তখনও প্রয়োজন ছিল অনেক রান, জয়ের পাল্লা হেলে পড়েছিল ইংল্যান্ডের দিকে। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান।
রবিবার ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার হোয়াইট হাউস থেকে মিশিগানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের হিসাব নেই রেজিস্ট্রারে, ওয়ার্কারস প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) বিতরণ করেনি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সরকারের এ সিদ্ধান্তে আনন্দিত দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’—ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসা সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।