biology

মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে যেসব কোষ

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে যেসব কোষ
মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে যেসব কোষ
<p>মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে ঠিক কী ঘটে? প্রশ্নটা শুনলে মনে হতে পারে, উত্তরটা বুঝি খুব সহজ। হৃৎপিণ্ড থেমে যায়, মস্তিষ্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায় আর নিথর শরীরটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে পচনের দিকে। বহুকাল ধরে মৃত্যুর এই ছবিটিই চূড়ান্ত সত্যি বলে মেনে নিয়েছি আমরা। কিন্তু এই চেনা পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক অজানা গল্প।</p><p>ধরুন, একজন মানুষের মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর গবেষকেরা তাঁর শরীর থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করলেন। তারপর সেগুলোকে রাখলেন ল্যাবরেটরির বিশেষ এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে সেই কোষগুলো শুধু টিকে থাকল তা-ই নয়, বরং নতুন করে বিভাজিত হয়ে জন্ম দিল আরও নতুন কোষের!</p><p>ঘটনাটা শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হতে পারে। কারণ, আমরা ভাবি মৃত্যুই বুঝি জীবনের শেষ স্টেশন। কিন্তু ক্ষুদ্র কোষের জগতে গল্পটা মোটেও এত সরল নয়। একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি আর তাঁর শরীরের প্রতিটি কোষের চিরবিদায় ঠিক একই মুহূর্তে ঘটে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/7cthdmb3z0">স্টেম-কোষ গবেষণায় কি অমরত্ব মিলবে</a></aside><blockquote>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</blockquote><p>বিষয়টা থমকে যাওয়া এক বিশাল শহরের গল্প হিসেবে কল্পনা করা যাক। কোনো এক রাতে যদি পুরো শহরের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, মুহূর্তেই নিভে যাবে সব আলো, থমকে দাঁড়াবে বিশালাকার যন্ত্রগুলো। কিন্তু শহরের কোনো এক কোণে ব্যাটারির শক্তিতে হয়তো তখনো মিটমিট করে জ্বলবে কিছু বাতি, কোথাও হয়তো সচল থাকবে জরুরি জেনারেটর। অর্থাৎ পুরো শহর এক নিমেষে কিন্তু পুরোপুরি নিভে যায় না।</p><p>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</p><p>গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিভিন্ন গবেষণা আমাদের এনে দাঁড় করিয়েছে নতুন এক দরজায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষের মৃত্যু ঘটার পরও কোষের ভেতরে অনবরত চলতে থাকে বিস্ময়কর সব পরিবর্তন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%AF%E0%A6%96%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87">কোষ যখন সুইসাইড করে</a></aside><blockquote>কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না।</blockquote><h2><strong>মৃত্যু কি সবার জন্য একই মুহূর্তে আসে</strong></h2><p>হৃৎপিণ্ড থমকে দাঁড়ালে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন। থামতে শুরু করে কোষে কোষে অক্সিজেন আর পুষ্টির চালান, স্তব্ধ হয়ে যায় শক্তির উৎপাদন। বিশাল এক সাম্রাজ্যের মতো শরীরের চেনা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো একে একে ভেঙে পড়তে থাকে। তবে এই তীব্র সংকটে শরীরের সব কোষ কিন্তু একভাবে সাড়া দেয় না। মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</p><p>এখানেই ফুটে ওঠে সূক্ষ্ম এক সত্য। কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না। কারণ, মানুষের জীবন মূলত মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড আর শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো বিশাল সব অঙ্গের এক সমন্বিত ছন্দ।</p><p>কোষের এই অদ্ভুত সহনশীলতার পার্থক্যই বিজ্ঞানীদের সামনে ছুড়ে দেয় বড় এক রহস্য। একজন মানুষের মৃত্যুর পরও কি এমন কিছু কোষ থেকে যায়, যাদের আবার নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই গবেষকেরা থমকে দাঁড়ান শরীরের বিশেষ একধরনের কোষের সামনে। এই কোষের নাম স্টেম সেল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/3r9gmei89k">পাঠ্যবইয়ের পুরোনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল, আবিষ্কৃত হলো কোষ বিভাজনের নতুন কৌশল</a></aside><blockquote>মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর ১৭ দিন পরও কার্যক্ষম স্টেম সেল!</strong></h2><p>বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় এই রহস্যের মোড়। <em>নেচার কমিউনিকেশনস</em> জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত পাস্তুর ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ফ্যাব্রিস শ্রেতিয়াঁ ও তাঁর দল কাজ করছিলেন মানুষের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়ে। গবেষণাগারে তাঁরা যে সত্যটি উন্মোচন করেছিলেন, তা ছিল রীতিমতো কল্পনাতীত! দেখা যায়, মানুষের মৃত্যুর ১৭ দিন পরও মৃতদেহ থেকে সেই স্টেম সেলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব! আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ল্যাবরেটরির কৃত্রিম ও উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পর সেই কোষগুলো আবার নতুন করে বিভাজিত হতে শুরু করে এবং জন্ম দেয় একদম নতুন পেশিকোষ।</p><p>তবে ‘উদ্ধার করা’ কথাটির পেছনে লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম এক হিসাব। এর মানে কিন্তু এই নয় যে মৃতদেহের সব পেশিকোষ ১৭ দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে জীবিত ছিল। আসল সত্যটা হলো, মৃত্যুর এত দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কিছু স্টেম সেল তাদের ভেতরের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেনি। সুবিধাজনক পরিবেশ পেলেই নিজেদের পুনর্গঠন করার এবং নতুন কোষ তৈরির অদ্ভুত সেই ক্ষমতা তারা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল।</p><p>আসলে স্টেম সেল হলো শরীরের সেই জাদুকরী কোষ, যা প্রয়োজনে বিভাজিত হয়ে হুবহু নিজের মতো নতুন কোষ বানাতে পারে, এমনকি রূপ নিতে পারে বিশেষ কিছু অঙ্গের কোষেও। পেশির ক্ষত মেটাতে বা পেশিকোষ পুনর্গঠনে এসব স্টেম সেলের কোনো জুড়ি নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/jjs2byyqhc">কোষ কীভাবে বোঝে তাকে কী কাজ করতে হবে</a></aside><blockquote>পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</blockquote><p>শুধু মানুষের ওপরই থেমে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়েও তাঁরা চালিয়েছিলেন একই পরীক্ষা। সেখানে ১৭ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা না পাওয়া গেলেও মূল সত্যটা কিন্তু বদলায়নি। মৃত্যুর পরও কিছু স্টেম সেল আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পুনর্গঠনক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারে। এমনকি ইঁদুরের অস্থিমজ্জা থেকেও মৃত্যুর বেশ কয়েক দিন পর কার্যকর স্টেম সেল উদ্ধারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।</p><p>কিন্তু এই অদ্ভুত আবিষ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানীদের মনে জন্ম নেয় আরও বড় এক রহস্য। রক্ত সঞ্চালন বন্ধ, অক্সিজেনের অভাব আর শক্তির চরম সংকটের মাঝেও এই ক্ষুদ্র কোষগুলো মৃত্যুর পর এত দিন ধরে টিকে থাকে কীভাবে?</p><p>এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর লুকিয়ে আছে কোষের বিপাকক্রিয়ায়। কোষের বেঁচে থাকা ও কাজ করার জন্য নিরন্তর শক্তি দরকার। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সব কোষ একইভাবে শক্তি খরচ করে না। পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/4p9smlmdm7">মানুষের দেহে কোষ কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে?</a></aside><blockquote>ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</blockquote><p>বিষয়টা সহজে বোঝার জন্য ভালুকের শীতনিদ্রার কথা ভাবা যেতে পারে। শীতনিদ্রার সময় ভালুকের শরীরে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের গতি কমে যায়। ফলে শক্তির খরচও অনেক কমে আসে। পেশির স্টেম সেলের সুপ্ত অবস্থার সঙ্গে এই তুলনার বেশ মিল আছে। তবে দুটি প্রক্রিয়া কিন্তু হুবহু এক নয়। এটি শুধু মূল ধারণাটা বোঝানোর একটি চমৎকার উপমা মাত্র।</p><p>মৃত্যুর পর কোষের সুপ্ত অবস্থায় যাওয়ার পেছনে ঠিক কোন প্রক্রিয়াগুলো কাজ করে, তার সব উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই। ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</p><p>তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোষের এই টিকে থাকার ক্ষমতা মানে কিন্তু পুরো মৃতদেহ জীবিত থাকা নয়। একটি কোষকে ল্যাবরেটরিতে উদ্ধার করে বংশবৃদ্ধি করানো আর মৃতদেহের ভেতরে তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আর এখানেই এই গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। মৃত্যুর পর কিছু কোষ শুধু টিকেই থাকে না, বরং কোষের ভেতরে জিনের কার্যকলাপসংশ্লিষ্ট দারুণ কিছু পরিবর্তনও ঘটাতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/so3sqopeq2">একটি মাত্র কোষ থেকে কীভাবে তৈরি হয় মস্তিষ্ক</a></aside><blockquote>ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর পরও বদলে যায় জিনের কার্যকলাপ</strong></h2><p>কোষের এই অদ্ভুত বেঁচে থাকার রহস্য ভেদ করতে বিজ্ঞানীরা শুধু তাদের টিকে থাকার দৃশ্য দেখেই থমকে যাননি। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন আরও গভীরে। মৃত্যুর এই আলো-আঁধারির মাঝে কোষের আণবিক বা পারমাণবিক পর্যায়ে, বিশেষ করে জিনের জগতে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তাঁরা সেটাই জানতে চেয়েছেন।</p><p>২০১৭ সালের কথা। <em>ওপেন বায়োলজি</em> জার্নালে প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীদের এক যুগান্তকারী গবেষণা। ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক, অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন তাঁরা। ইঁদুরের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ৪৮ ঘণ্টা এবং জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।</p><p>সেই পরীক্ষাগারে এক অভাবনীয় দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেল, মৃত্যুর পরও ১ হাজার ৬৩টি জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমআরএনএ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিমাণ আগের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে!</p><p>গল্পের এই মোড়ে এমআরএনএর ভূমিকা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ। সহজ কথায়, এমআরএনএর পরিমাণ বাড়া বা কমার মানে কোষের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু জিনের কার্যকলাপে বড় ধরনের নড়াচড়া শুরু হওয়া।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zqtx3wxvii">নির্দিষ্ট বয়সের পরে কোষ কেন বৃদ্ধি পায় না?</a></aside><blockquote>ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীরা।</blockquote><p>তবে মৃত্যুর পর এমআরএনএর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অর্থ কিন্তু এই নয় যে, জিনগুলো শুধুই নতুন উৎসাহে জেগে উঠে ঝড়ের বেগে এমআরএনএ বানিয়ে চলেছে। এখানে কাজ করে অন্য আরেকটি বিষয়। কত দ্রুত নতুন এমআরএনএ তৈরি হচ্ছে আর কত দ্রুত পুরোনো এমআরএনএ ভেঙে যাচ্ছে—এই দুই ব্যবস্থার ওঠানামার ওপরই নির্ভর করে মূল হিসাবটা।</p><p>দেখা গেল, মৃত্যুর পর যেসব জিনের কার্যকলাপে এই পরিবর্তনগুলো ঘটছে, সেগুলো সাধারণ কোনো জিন নয়। এর মধ্যে রয়েছে চাপের বিরুদ্ধে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, প্রদাহ, কোষের নিয়মতান্ত্রিক মৃত্যু বা অ্যাপোপটোসিস, কোষের ভেতরে জরুরি পদার্থ পরিবহন আর ভ্রূণের বিকাশের সঙ্গে জড়িত জিনগুলোও!</p><p>এই পরিবর্তনগুলোর সময়কালও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কিছু পরিবর্তন ঘটে মৃত্যুর মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আণবিক এই রূপান্তর ধরা পড়ে আরও অনেক পরে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/k2xs0t1rv4">সারা জীবনে আমাদের কী পরিমাণ কোষ ঝরে পড়ে?</a></aside><blockquote>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি।</blockquote><p>বিষয়টা সত্যিই দারুণ ভাবনার খোরাক জোগায়। মৃত্যু মানেই তো সবকিছুর চিরতরে নিভে যাওয়া! কিন্তু মৃত্যুর পরও কোষের ভেতরে জিনের আণবিক কার্যকলাপে এই সক্রিয়তা দেখা যায় কেন? এর কোনো চূড়ান্ত উত্তর বিজ্ঞানীরা এখনো খুঁজে পাননি। তবে তাঁদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চরম চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে। এ ছাড়া কোষের ভেতরে বিভিন্ন অণুর স্থায়িত্ব ও ভেঙে যাওয়ার গতির তারতম্যের কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।</p><p>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি। ঠিক যেমন গোধূলিলগ্নে আলো ও অন্ধকারের এক অদ্ভুত মায়াবী সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়, তেমনি মৃত্যুর পরও শরীরের ভেতরের জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো একবারে নিভে না গিয়ে এক ঝাপসা আলোয় যেন তাদের শেষ অধ্যায়টি লিখে চলে।</p><p> এখানে অবশ্য একটি জরুরি সতর্কতাও জড়িয়ে আছে। এই গবেষণার মূল পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছিল ইঁদুর ও জেব্রাফিশের ওপর। মানুষের টিস্যুতেও মৃত্যুর পর জিনগত পরিবর্তনের কিছু প্রমাণ মিললেও প্রাণীদের ওপর করা এই পরীক্ষার ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই জটিল রহস্যের পুরো জট খুলতে বিজ্ঞানীদের এখনো পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক দূর।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7">ক্যানসার কোষ থেকে মেদ কোষ</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানীর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে।</blockquote><p>হাজারো জটিল গবেষণার পর শেষ পর্যন্ত এসে যে প্রশ্নটা মনকে দোলা দেয় তা হলো, এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারগুলো আসলে আমাদের কী কাজে আসবে?</p><p><strong>অঙ্গ প্রতিস্থাপনে:</strong> একজন দাতার দেহ থেকে অঙ্গ সংগ্রহের পর সেই অঙ্গের কোষগুলোতে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে, তা গভীরভাবে বুঝতে পারলে অঙ্গ সংরক্ষণের পুরো চিত্রটাই বদলে যেতে পারে। এর ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলোকে আরও দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখা এবং পরবর্তী সময়ে গ্রহণকারীর দেহে তা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব।</p><p><strong>স্টেম সেল থেরাপিতে:</strong> মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও বেঁচে থাকা এই ক্ষুরধার স্টেম সেলগুলো ভবিষ্যতে পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তবে এই কোষগুলো সত্যিই অন্য কোনো জীবিত মানুষের দেহে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে কোষের মান ধরে রাখা, সঠিক সংগ্রহপদ্ধতি এবং সেই সঙ্গে বিস্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সাফল্যের ওপর।</p><p><strong>ফরেনসিক বিজ্ঞানে:</strong> মৃত্যুর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিনের ক্ষণস্থায়ী এই রূপান্তরগুলো মেপে নিখুঁতভাবে মৃত্যুর সময় নির্ধারণের একেবারেই নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। যদিও প্রাণীদের শরীরে পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে কতটা নির্ভরযোগ্য, তা জানতে আরও কিছু পথ হাঁটা বাকি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87-2">কত্ত কোষ আমাদের শরীরে!</a></aside><blockquote>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়।</blockquote><p>তাই এই আবিষ্কারগুলোই যে আগামীকাল থেকে মৃতদেহের কোষ দিয়ে বড় ধরনের চিকিৎসা শুরু করার মন্ত্র দিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা মোটেও সে রকম নয়। এটা আসলে আমাদের শেখাচ্ছে যে মৃত্যুর ঠিক পরমুহূর্তে শরীরের ভেতর ঠিক কী ঘটে। সেটা অনুধাবন করতে পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফরেনসিক গবেষণায় উন্মোচিত হবে নতুন নতুন পথ।</p><p>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অণুবীক্ষণিক কোষের জগতে তখনো নিঃশব্দে চলতে থাকে জীবনের অন্য এক লড়াই। প্রদীপ নিভে গেলেও যেমন তার উত্তাপ কিছু সময় থেকে যায়, মৃত্যুর পরের সময়টাও ঠিক তেমনি এক গোধূলিলগ্ন। মৃত্যুর এই অচেনা রাজ্য থেকেই হয়তো বিজ্ঞান একদিন খুঁজে নেবে আমাদের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর!</p><h4>লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া</h4><h4>সূত্র: ১. Latil M. et al. (2012). Skeletal muscle stem cells adopt a dormant cell state post mortem and retain regenerative capacity. <em>Nature Communications</em>.</h4><h4>২. Pozhitkov A.E. et al. (2017). Tracing the dynamics of gene transcripts after organismal death. <em>Open Biology</em>.</h4><h4>৩. <em>Live Science</em>, <em>FierceBiotech</em> &amp; <em>BioSpectrum Asia</em></h4><h4>৪. Testing cellular life after death</h4><h4>৫. Human Postmortem Life project</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/wgadkojbjz">আপনার শরীরেই বাস করছে অন্য কারো কোষ</a></aside>

Prothomalo

View more
দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফাদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও
দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফাদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও

<p>‘জানফাদা’ কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সব বয়সী মানুষই এতে যোগ দিতে পারেন। তাঁদের অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য সরকারের ‘বিপ্লবী’ মূল্যবোধ রক্ষা করা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/nnoyuvbi/Iran_01.jpg"><figcaption>দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে অস্ত্র হাতে নিচ্ছেন ইরানের তরুণীরা</figcaption></figure><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের আবারও যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রাতে বলেছেন, শিগগিরই হামলা চালাচ্ছেন না। আর আগের দিন বলেছিলেন, রোববারের (গতকাল) মধ্যে হামলা চালাবেন নয়তো ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে। </p><p>এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র দেওয়া ও সামরিক প্রশিক্ষণের একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ইরান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিরা দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন জীবন বাজি রেখে। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় তাঁদের কাজে লাগানো হবে।</p><p> এই গণসংগঠিতকরণ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জানফাদা’। এর অর্থ ‘যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেন’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে গত মার্চের শেষ দিকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এখন ইরানের বড় অংশে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নারী ও পুরুষদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সব বয়সী মানুষই এতে যোগ দিতে পারেন।</p><p>ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীন বাসিজ মিলিশিয়া এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য বুথ ও কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। সেখানে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য সরকার ও তার ‘বিপ্লবী’ মূল্যবোধ রক্ষা করা।</p><p>এই কর্মসূচির আওতায় তেহরান, ইসফাহান, জানজান, শিরাজ, কেরমান, মাশহাদ, বোজনুর্দ, আহভাজসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠান ও সশস্ত্র ‘মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের অনেক বড় ও ছোট শহরেও এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।</p><aside><cite>আলী কাউসারি, বাসিজের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপপ্রধান </cite>তেহরানের অন্তত ১৪টি প্রধান চত্বরকে জানফাদা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আইআরজিসি।</aside><p>চলতি মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাসিজের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপপ্রধান আলী কাউসারি বলেন, তেহরানের অন্তত ১৪টি প্রধান চত্বরকে জানফাদা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আইআরজিসি। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রদেশের রাজধানীতে অন্তত এক থেকে তিনটি চত্বর ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে কতটি শহরে এই কর্মসূচি চলছে, তা তিনি জানাননি।<br>সরকারি উদ্যোগে রাতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কখনো কখনো দিনের বেলায় সমাবেশ ও গাড়িবহর নিয়ে শোভাযাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশের এক বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, প্রদেশটির বড় ও ছোট শহরগুলোর সড়কে নিয়মিত সরকারি কেন্দ্র দেখা যাচ্ছে। যাতায়াতের পথে সাধারণ মানুষ এসব কেন্দ্র দেখতে পান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside><p>নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাসিন্দা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে তারা ছোটখাটো পুরস্কার দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তারা তাজা গুলি নিয়ে আসে। কীভাবে ম্যাগাজিনে গুলি ভরতে হয়, কীভাবে পিস্তল ও রাইফেল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে হয় এবং কীভাবে নিশানা করে গুলি চালাতে হয়, তা শেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আয়োজকদের বেশির ভাগই বয়স্ক পুরুষ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই তাঁরা প্রধান চত্বরে জড়ো হচ্ছেন। সেখানে প্রায়ই বিপ্লবী গান বাজানো হয়। লাউডস্পিকারে স্লোগানও দেওয়া হয়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/y66t0nmd/Iran_Reuters.jpg"><figcaption>অস্ত্র দিয়ে তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে। ইরান, ৪ অক্টোবর, ২০২৬</figcaption></figure><p>১৫ অক্টোবর গিলান প্রদেশের রাশত শহরে রাতে সরকারপন্থী একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় উচ্চশব্দ ও সড়ক বন্ধ করে রাখার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।</p><p> গত শনিবার তেহরানের কাছে আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বলা হয়, জানফাদা কর্মসূচির একটি মহড়া থেকে বিস্ফোরণ ও বিকট শব্দ শোনা যেতে পারে।</p><h3>‘বিপ্লব হলো সাইকেল চালানোর মতো’</h3><p>গত সপ্তাহে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের গণসংগঠিতকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রদেশটির সঙ্গে ইরাকের সীমান্ত রয়েছে। আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রাদেশিক রাজধানী সানানদাজে আয়োজিত এক শোভাযাত্রাকে শিয়া ও সুন্নি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘ঐক্যের’ মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছে।</p><aside><cite>অধ্যাপক মেহরান কামরাভা, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়</cite>বিপ্লব হলো সাইকেল চালানোর মতো। খারাপভাবে পড়ে যাওয়া এড়াতে হলে জোরে প্যাডেল চালিয়ে যেতে হয়। জানফাদা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ও তাঁদের নেতারা ঠিক সেটিই করার চেষ্টা করছেন।</aside><p>তবে দেশের বাইরে থাকা ইরানি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কয়েকটি এসব সশস্ত্র কর্মসূচিকে মানুষকে ‘ভয় দেখানোর’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। ওই বিক্ষোভের কয়েক মাস পর থেকে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানুয়ারির বিক্ষোভে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অনেক তরুণও ছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/qz2eycnuzw">হুতিদের ভান্ডারে কতটা ভয়ংকর অস্ত্র আছে, কোথা থেকে আসছে, সৌদি আরব কেন হামলা ঠেকাতে পারছে না</a></aside><p>ইরান সরকার স্বীকার করেছে, দেশটির সব প্রদেশের ৪০০টির বেশি জেলায় বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে সরকার এসব বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারের দাবি, ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরোপুরি পরিকল্পিতভাবে এসব বিক্ষোভ সংগঠিত করেছিল।</p><p>এ ছাড়া জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধান মিশনের অনুসন্ধানও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান সরকার। ওই মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/es6jsenqri">ইরানে একা ইসরায়েল আসলে কী করতে পারবে, তেহরানের সক্ষমতা কোথায়</a></aside><p>কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বিপ্লবপন্থী অংশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বিপ্লব হলো সাইকেল চালানোর মতো। খারাপভাবে পড়ে যাওয়া এড়াতে হলে জোরে প্যাডেল চালিয়ে যেতে হয়। জানফাদা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ও তাঁদের নেতারা ঠিক সেটিই করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে চাইছেন।’</p><p>এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘জানফাদার প্রশিক্ষণ ও গণসংগঠিতকরণ কর্মসূচি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে যাঁরা বেশি বিপ্লবপন্থী, তাঁদের জন্যও একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিকল্পিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিপ্লব ও এর আদর্শের প্রতি নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক আনুগত্য প্রকাশ করতে পারছেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/3wgk54tz/IRan_02.jpg"><figcaption>অস্ত্র হাতে ইরানের নারীরা। মার্কিন– ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুতি তাঁদের</figcaption></figure><h3>‘অবরুদ্ধ হয়ে থাকার মানসিকতা’</h3><p>ইরান সরকার জানিয়েছে, জানফাদা কর্মসূচির ওয়েবসাইটে ৩ কোটি ৩০ লাখ ইরানি নিবন্ধন করেছেন। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি সরকার। এই সংখ্যা ইরানের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি। আর ১২ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষের মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি।</p><p>চলতি বছরের শুরুর দিকে বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন অধিকারকর্মী ওয়েবসাইটটির সোর্স কোডে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সেখানে দেখা যায়, নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৪০ লাখের কম।</p><aside><cite>নেমাতোল্লাহ বাঘেরি, আইআরজিসি কমান্ডার </cite>জানফাদা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো দেখানো যে সরকার যেমন জনগণকে সমর্থন করে, তেমনি জনগণও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও ইসলামি বিপ্লবকে সমর্থন করে।</aside><p>ওয়েবসাইটটিতে নিবন্ধনের জন্য শুধু একটি ফোন নম্বর প্রয়োজন ছিল। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।</p><p>গত সপ্তাহে এই কর্মসূচির রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন লোরেস্তান প্রদেশের আইআরজিসি কমান্ডার নেমাতোল্লাহ বাঘেরি। তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো দেখানো যে সরকার যেমন জনগণকে সমর্থন করে, তেমনি জনগণও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও ইসলামি বিপ্লবকে সমর্থন করে।’ কর্মসূচির আয়োজকেরা বলেছেন, নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে উদ্ধার অভিযানে কাজে লাগানো হতে পারে। সামাজিক সেবা, গণমাধ্যমসংক্রান্ত কাজ ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও তাঁদের ব্যবহার করা যেতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-13/15548ouy/Airspace.webp"><figcaption>ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর একটি স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে </figcaption></figure><p>যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট চাপ কমাতেও নিবন্ধনকারীদের সহায়তা চেয়েছে সরকার। এ জন্য তাঁদের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রায় আট মাস ধরে চলা ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দেশের বেসামরিক অবকাঠামোর একাংশ ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জানফাদা কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা আরও জোরদার করেছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। এই কর্মসূচিতে শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোও ক্রমেই এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনে সহযোগিতা করছে।</p><p>গত সপ্তাহে ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি বলেন, বাসিজ মিলিশিয়া ‘শিক্ষার্থী জানফাদা’ হিসেবে নিবন্ধন করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে শিশুদের নিয়ে আরও কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রয়েছে।</p><p>জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরাভা বলেন, এ ধরনের গণসংগঠিতকরণ কর্মসূচি যে বৃহত্তর সমাজে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, এমন নয়। তবে তাঁর মতে, সরকারের বিদ্যমান সমর্থকদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও দৃঢ় করতে এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখে। কামরাভা বলেন, ‘এর মাধ্যমে সরকারের বর্তমান সমর্থকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও গভীর হয়। বিপ্লবের আদর্শিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে তাঁদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। একই সঙ্গে সব বিপ্লবপন্থীর মধ্যে যে অবরুদ্ধ হয়ে থাকার মানসিকতা রয়েছে, তা আরও শক্তিশালী ও বাস্তব রূপ পায়।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/bd3sjkz8jg">ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে গোপনে টোল আদায় করছে</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার
নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার

<p>১০০ বছর আগে কথা। বিপ্লব হয়ে গেছে, জারের পতন ঘটেছে। কিন্তু গৃহযুদ্ধ থামেনি। একের পর এক বদলাচ্ছে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ। সেই অস্থির সময়ে একটি পরিবার নিজেদের ঘরের ভেতর আঁকড়ে ধরে আছে আগের জীবন, মূল্যবোধ আর স্মৃতি। বাইরে গোলাগুলি, মৃত্যু আর অনিশ্চয়তা। আজ যারা ক্ষমতাসীন, কাল তারাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। দরজা ভেঙে যেন ঘরে ঢুকে পড়ছে ইতিহাস।<br> রুশ ইতিহাসের অস্থির এই সময়ের গল্প নিয়েই মিখাইল বুলগাকভ লিখেছিলেন উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’। সেই উপন্যাস অবলম্বনে পরে নিজেই রচনা করেন নাটক ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। কঠিন শর্ত সাপেক্ষে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে ৫ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাটকের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে নাটকটির কথা উঠে আসছে। শতবর্ষের এই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক, কীভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ ও নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে নাটকটি হয়ে উঠেছিল মস্কোর মঞ্চের অন্যতম আলোচিত প্রযোজনা।<br> এই নাটকের ইতিহাসে পাশাপাশি রয়েছে দুটি বিপরীত ছবি। একদিকে দর্শকের ভিড়, অন্যদিকে মঞ্চায়ন বন্ধের দাবি। বুলগাকভের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ কমিউনিস্ট শাসক জোসেফ স্তালিন নিজেই নাটকটি দেখতে গেছেন বারবার। তাঁর আগ্রহও অবশ্য নাটকটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/6qd8tjqn/premera.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><strong>উপন্যাস থেকে মঞ্চে</strong><br> ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর মূল পটভূমি ১৯১৮ সালের কিয়েভ। আগের বছর রাশিয়ায় জারের শাসনের পতন হয়েছে, পরে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু সাবেক রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তখনো যুদ্ধ ও ক্ষমতার লড়াই চলছে।<br> জারের পতন পুরোনো শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটালেও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কার অবস্থান কোথায় হবে, তা তখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে কিয়েভে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের হিসাব। সামরিক পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যও হয়ে উঠতে পারত বিপদের কারণ।<br> কিয়েভে বসবাসকারী টারবিন পরিবারকে ঘিরে এগিয়েছে উপন্যাসের গল্প। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যে একটি শিক্ষিত পরিবারের পরিচিত পৃথিবী কীভাবে ভেঙে পড়ছে, বুলগাকভ তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতা। পরিবারের সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কথাবার্তা, ভয়, সংশয় আর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সামনে আসে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিপর্যয়।<br> ঘর এখানে শুধু আশ্রয় নয়। পরিচিত মানুষ, সম্পর্ক ও জীবনযাপনের ধারাবাহিকতাও। বাইরে যে পক্ষই ক্ষমতায় আসুক, ঘরের ভেতর মানুষ স্বাভাবিক জীবনের কিছুটা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে সেই চাওয়াটুকুও ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ে। নাটকের ব্যক্তিগত সংকট ও রাজনৈতিক পটভূমি এভাবেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।<br> মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে নাটকটি তৈরি করেন তিনি।<br> মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, ১৯২৫ সালে মস্কো আর্ট থিয়েটার ও ভাখতাঙ্গভ থিয়েটার—দুই প্রতিষ্ঠানই উপন্যাসটির নাট্যরূপ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। মস্কো আর্ট থিয়েটারকে বেছে নেন বুলগাকভ। ওই বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম সংস্করণটি লেখেন। সব মিলিয়ে নাটকটির তিনটি সংস্করণ তৈরি হয়।</p><p>উপন্যাসের বিস্তৃত ঘটনাপ্রবাহকে মঞ্চের সীমিত পরিসরে আনার জন্য গল্প পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। চরিত্রের সংখ্যা কমানো, ঘটনাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং সংলাপের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার কাজ চলছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক আপত্তি। ফলে নাটকটির পরিবর্তন শুধু মঞ্চের প্রয়োজনেই হয়নি; অনুমতি পাওয়ার লড়াইও তার চূড়ান্ত রূপ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9cyfgqze/85739.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><br><strong>প্রথম প্রদর্শনীর আগে গোপন নির্দেশনা</strong><br>বিপ্লবের এক দশকও তখন পেরোয়নি। গৃহযুদ্ধের স্মৃতিও টাটকা। সেই সময়ে মস্কোর অন্যতম প্রধান থিয়েটারের মঞ্চে আসছে এমন একটি গল্প, যার কেন্দ্রে বলশেভিকদের প্রতিপক্ষ শ্বেতরক্ষীদের সঙ্গে যুক্ত কিংবা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ। শুরু থেকেই তাই নাটকটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।<br>এই চরিত্রগুলোকে কীভাবে দেখানো হবে, সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন। পরাজিত রাজনৈতিক পক্ষের মানুষও কি মঞ্চে দর্শকের সহানুভূতি পেতে পারে? তাদের ব্যক্তিগত দুঃখ, সম্পর্ক কিংবা সংকট তুলে ধরা কি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার শামিল? নাটকটি ঘিরে আপত্তির কেন্দ্রে ছিল এমন টানাপোড়েন।<br>উপন্যাসকে মঞ্চে আনার কাজটিও সহজ ছিল না। গল্প সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে, বাদ দিতে হয়েছে চরিত্র ও দৃশ্য। মহড়া, থিয়েটারের শিল্প পরিষদের আলোচনা এবং সরকারি সেন্সরদের আপত্তির মুখে বারবার বদলেছে নাটকের কাঠামো। ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর বদলে নাম হয় ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’।</p><p>বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহভুক্ত ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবরের একটি গোপন পরিপত্রে সেই সময়ের বিধিনিষেধের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রধান রেপার্টরি কমিটির ওই পরিপত্রে চলতি মৌসুমে শুধু মস্কো আর্ট থিয়েটারকে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রদর্শনীর চার দিন আগে জারি করা এই নির্দেশনায় অনুমতির সঙ্গে মঞ্চায়নের সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। রুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অন্য থিয়েটারগুলোর জন্য মঞ্চায়ন ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।<br>অর্থাৎ একটি থিয়েটারে মঞ্চায়নের ছাড়পত্র মিললেও নাটকটি অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। অনুমতি ছিল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মৌসুমের জন্য। প্রথম প্রদর্শনীর প্রস্তুতির মধ্যেও তাই প্রযোজনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গিয়েছিল।<br>একই সংগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি সেন্সররা নাটকে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। মঞ্চায়নের অনুমতি নিয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলেছিল কর্তৃপক্ষ। ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত গোপন পুলিশ সংস্থা ওজিপিইউও মঞ্চায়নের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, পরিবর্তনগুলো করার পরও শ্বেতরক্ষী অফিসারদের আদর্শায়িত করা হয়েছে।<br>শেষ পর্যন্ত ১৯২৬ সালের ৫ অক্টোবর মস্কো আর্ট থিয়েটারের মঞ্চে নাটকটির পর্দা ওঠে। নির্দেশক ছিলেন ইলিয়া সুদাকভ; শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন কনস্তান্তিন স্তানিস্লাভস্কি। প্রথম প্রযোজনায় অ্যালেক্সেই টারবিনের চরিত্রে ছিলেন নিকোলাই খমেলিয়ভ, মিশলায়েভস্কির চরিত্রে বরিস দবরোনরাভভ, এলেনার ভূমিকায় ভেরা সোকোলোভা, লারিওসিক চরিত্রে মিখাইল ইয়ানশিন এবং শেরভিনস্কির ভূমিকায় মার্ক প্রুদকিন।</p><p><strong>দর্শকের ভিড়, রাজনৈতিক আক্রমণ</strong><br>মঞ্চে ওঠার পর দর্শকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। গবেষক লিদিয়া ইয়ানোভস্কায়ার ‘মিখাইল বুলগাকভের সৃষ্টির পথ’ বই অনুযায়ী, প্রথম মঞ্চায়নের মাসে, অর্থাৎ ১৯২৬ সালের অক্টোবরে এর ১৩টি প্রদর্শনী হয়।<br>বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ অনুযায়ী, নাটকটি যেকোনো সময় নিষিদ্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দর্শকেরা ভিড় করতেন। থিয়েটারের সামনে তিন গুণ দামে টিকিট বিক্রির কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।<br>দর্শকের কাছে ঘটনাগুলো নিছক দূর অতীতের ইতিহাস ছিল না। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের অভিজ্ঞতা তখনো মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মঞ্চের চরিত্রগুলোর ভয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা পরিচিত জীবন হারানোর বেদনা সেই স্মৃতিকে নাড়া দেওয়ার মতোই ছিল।<br>কিন্তু দর্শকের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি চলছিল রাজনৈতিক সমালোচনা। বুলগাকভের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শ্বেতরক্ষীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। পরাজিত পক্ষের মানুষকে কেন এত মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন মানবিক উপস্থাপন সমালোচকদের একাংশ মেনে নিতে পারেনি।<br>টারবিন পরিবারের সদস্যরা ভয় পায়, ভালোবাসে, ভুল করে। বিপর্যয়ের মধ্যে তারা কখনো পুরোনো বিশ্বাস আঁকড়ে থাকে, কখনো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাদের এই ব্যক্তিগত জীবনও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দর্শকের সহানুভূতি তৈরি হওয়ার জায়গাটি সেখানেই; সমালোচকদের আপত্তিরও অন্যতম কারণ ছিল সেটি। অথচ নাটকটিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছিলেন স্তালিন।</p><p><strong>স্তালিনের ভিন্ন পাঠ</strong><br>স্তালিন নাটকটি কতবার দেখেছিলেন, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে পার্থক্য আছে। মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘মস্কোভস্কিয়ে নোভোস্তি’ পত্রিকায় ২০০৪ সালে প্রকাশিত নিনা আগিশেভার একটি লেখায় সংখ্যাটি ১৪। একই সাইটে সংরক্ষিত আরেকটি লেখায় থিয়েটার-মিউজিয়ামের নথির বরাতে বলা হয়েছে ১৫ বার।<br>নাটকটির বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নিজের লেখা চিঠিতে। ১৯২৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নাট্যকার ভ্লাদিমির বিল-বেলোৎসেরকোভস্কিকে লেখা এক চিঠিতে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন স্তালিন।<br>স্তালিনের যুক্তি ছিল, টারবিনদের মতো বলশেভিকবিরোধী মানুষও যখন শেষ পর্যন্ত অস্ত্র নামিয়ে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে, তখন দর্শকের কাছে বলশেভিকদের অজেয়তার ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বিচারে নাটকটি ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে।<br>সমালোচকদের একাংশ চরিত্রগুলোর প্রতি সহানুভূতিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর মনে করেছিল। স্তালিন গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাদের পরাজয়ের পরিণতিতে। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী কিংবা মর্যাদাবানই হোক, শেষ পর্যন্ত বলশেভিকদের বিজয় মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের পথ নেই।<br>এভাবে একই নাটকের দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পাঠ তৈরি হয়েছিল। তবে এই চিঠি থেকে স্তালিনের বারবার নাটকটি দেখতে যাওয়ার সব ব্যক্তিগত কারণ নিশ্চিত করা যায় না। চিঠিতে পাওয়া যায় নাটকটির রাজনৈতিক উপযোগিতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/5nvgjwni/85737.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p><strong>পছন্দের নাটকও নিষিদ্ধ</strong><br>স্তালিনের আগ্রহ থাকলেও নাটকটির মঞ্চযাত্রা নির্বিঘ্ন হয়নি। ১৯২৯ সালে এটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। বুলগাকভ নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, নাটকটি ২৮৯তম প্রদর্শনীর পর নিষিদ্ধ হয়েছিল।<br>দর্শকপ্রিয়তা যে মঞ্চে টিকে থাকার নিশ্চয়তা নয়, প্রযোজনাটির অভিজ্ঞতায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টিকিটের চাহিদা ছিল, অভিনয় নিয়ে আগ্রহ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক আপত্তির মুখে সেসব যথেষ্ট হয়নি।</p><p>এই সময় বুলগাকভের নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠছিল। একের পর এক কাজ প্রকাশ ও মঞ্চায়নের সুযোগ হারায়। একজন লেখকের জন্য এটি শুধু আয়ের সংকট ছিল না; নিজের লেখা পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।<br>১৯৩০ সালের ২৮ মার্চ বুলগাকভ সোভিয়েত সরকারকে দীর্ঘ একটি চিঠি লেখেন। সেখানে কাজের সুযোগ না থাকলে দেশ ছাড়ার অনুমতি চান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/y5g3r4yh/85540.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি , স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার</figcaption></figure><p>কয়েক সপ্তাহ পর, ১৮ এপ্রিল, বুলগাকভকে টেলিফোন করেন স্তালিন। সেই কথোপকথনের পর মস্কো আর্ট থিয়েটারে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু তাঁর নাটকটি মঞ্চে ফেরেনি। অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় দুই বছর।<br>বুলগাকভের কাজের সুযোগ পাওয়া এবং তাঁর নাটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া—দুটি ঘটনা একই সঙ্গে ঘটেনি। থিয়েটারে যুক্ত হতে পারলেও নিজের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনাটি ফিরে পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।<br><strong>ফিরে এসে প্রায় এক হাজার প্রদর্শনী</strong><br>১৯৩২ সালের শুরুতে আবার ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’ মঞ্চায়নের সুযোগ পায় মস্কো আর্ট থিয়েটার। নিষেধাজ্ঞার বিরতি পেরিয়ে শুরু হয় প্রযোজনাটির মঞ্চযাত্রার পরবর্তী অধ্যায়।<br>শতবর্ষ উপলক্ষে ৫ অক্টোবর প্রকাশিত মস্কো আর্ট থিয়েটারের মিডিয়া সেন্টারের নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রথম প্রযোজনাটি সব মিলিয়ে ৯৮৭ বার মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই হিসাবে নিষেধাজ্ঞার আগের ও পরের প্রদর্শনীগুলো রয়েছে। শর্তসাপেক্ষ অনুমতিতে শুরু হওয়া প্রযোজনাটি এভাবেই পৌঁছায় প্রায় এক হাজার প্রদর্শনীতে।<br>তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধেই থেমে যায় তার পথচলা। ১৯৪১ সালের জুনে মিনস্কে থিয়েটারের সফরের সময় বোমার আঘাতে প্রযোজনার মঞ্চসজ্জা ধ্বংস হয়। এরপর প্রযোজনাটি আর ফিরিয়ে আনা হয়নি।<br><sup>সূত্র: মস্কো আর্ট থিয়েটারের প্রযোজনা-ইতিহাস, বুলগাকভের জীবনী ও মিডিয়া সেন্টারের শতবর্ষের নিবন্ধ; মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ ও আত্মজীবনী; রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘আর্টেফ্যাক্ট’ সংগ্রহ; স্তালিনের রচনাবলি।</sup></p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৬ অক্টোবর ২০২৬)
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৬ অক্টোবর ২০২৬)

ব্যালন ডি’অর আজ। কে পাবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি, সরাসরি দেখতে চোখ রাখুন ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ডিএজেডএনে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
পদত্যাগ
পদত্যাগ

<p>(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের ‘পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই’ কবিতার ছায়া অবলম্বনে)</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই,</p><p>চেয়ারটিকে শেষ প্রণাম জানাই।</p><p>ফিরিয়ে দিলাম দপ্তর-চাবি,</p><p>রাখব না আর আসন দাবি,</p><p>শেষবিদায়ের মিষ্টি বাণী চাই—</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!</p> <p>কত দিনই ছিলাম পদে,</p><p>কত লোকই ঘুরত পিছে রথে!</p><p>গাড়ি, পতাকা, স্যার সম্বোধন,</p><p>সবই আজ অতীতের স্মরণ—</p><p>আগের মতো ডাকটি আর না পাই!</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!<br></p><p>নির্দেশ এসে বলল, ‘এবার</p><p>নামতে হবে, সময় হয়েছে তোমার!’</p><p>নিভল বাতি, সরল ফলক,</p><p>চেয়ারখানায় পড়ল পলক,</p><p>নতুন বসার অপেক্ষাতে তাই—</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!</p> <p>গণেশ বলে, ‘কাঁদছ কেন ভাই?</p><p>ছুটি পেলে খুশি হওয়াই চাই!’</p><p>বললাম, ‘ছুটি চেয়েছি কবে?</p><p>ছুটি এসে হাজির তবে!</p><p>স্বেচ্ছায় আর নির্দেশে ফারাক যে ভাই!’</p> <p>চেয়ার বলে, ‘যেয়ো তবে,</p><p>আবার দেখা হতে পারে সবে।</p><p>তোমার আগে কতজনই</p><p>আমায় ভেবে আপন মানে—</p><p>কেউই তো আর চিরদিনের</p><p>নাই!’</p><p>বাবু কয়, ‘প্রণাম জানাই!’</p> <p>পদটি গেল, থাকল খাতা, থাকল কত প্রশ্নেরই পাতা।</p><p>চাবি দিলাম, দরজা ছাড়ি,</p><p>দায়ের হিসাব কোথায় পাড়ি?</p><p>জবাব দেওয়ার বেলায় যেন</p><p>ছুটির কথা না ওঠে তাই!</p><p>পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dyjhf6zp9h">একটি আনপেইড ইন্টার্নশিপের গল্প</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
খেজুরের মিষ্টতা, কুমড়ার বীজের পুষ্টি: নাশতায় দারুণ এক জুটি
খেজুরের মিষ্টতা, কুমড়ার বীজের পুষ্টি: নাশতায় দারুণ এক জুটি

বিকেলের মিষ্টি ক্ষুধা মেটাতে খেজুর ও কুমড়ার বীজ হতে পারে সহজ, সুস্বাদু নাশতা। প্রাকৃতিক শর্করা, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজের এই মেলবন্ধন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করবে পুষ্টির বৈচিত্র্য।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
গোলাপি সাটিনে জয়া আহসানের গ্ল্যামারাস লুক, দেখুন নতুন ছবিগুলো
গোলাপি সাটিনে জয়া আহসানের গ্ল্যামারাস লুক, দেখুন নতুন ছবিগুলো

<figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rs21l0h2/867258585183485923482817678817076538220493034n.jpg"><figcaption>প্যাস্টেল গোলাপি সাটিনের পোশাকে মোহনীয় এক লুকে ধরা দিয়েছেন জয়া আহসান। মসৃণ ও চকচকে কাপড়ের স্লিপ ড্রেসটিতে আছে গভীর নেকলাইন, ক্রিসক্রস স্ট্র্যাপ আর বুকের কাছে কুঁচি দিয়ে তৈরি নকশা। বৃত্তাকার অলংকারের মতো ডিটেইলিং পোশাকটিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rfqz7ypc/860410221183485923692817673284675272154023835n.jpg"><figcaption>জয়ার খোলা চুল এক পাশে এনে স্টাইল করে দিয়েছেন হেয়ার স্টাইলিস্ট সুদীপ্তা বিশ্বাস। চোখে গাঢ় আইলাইনার ও মাসকারার প্রাধান্য, ঠোঁটে হালকা নুড রঙের আভা। সব মিলিয়ে সাজে আভিজাত্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/907veci3/86067776218348592306281767650242762233989688n.jpg"><figcaption>পোশাকের সঙ্গে ভারী অলংকারের বদলে ডান হাতে ব্রেসলেটই রেখেছেন জয়া। চোখের গাঢ় মেকআপ আর মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি ছবিতে এনেছে আলাদা ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই লুকে পোশাকের নকশা ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিই প্রধান আকর্ষণ</figcaption></figure><figure><img alt="জয়া আহসান" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9wng1gyr/861376908183485923332817676210771760474389417n.jpg"><figcaption>ছবির আলোছায়া আর পোশাকের কোমল গোলাপি আভা মিলে তৈরি করেছে ফ্যাশন ফটোশুটের দারুণ আবহ। গতকাল ২৫ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলোর সঙ্গে জয়ার ক্যাপশন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’, যা লুকটির মেজাজের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/t3n15rnzya">রাফসান-সুনেরাহর কি সত্যিই বাগদান হয়েছে?</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে যেসব কোষ
মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে যেসব কোষ

<p>মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে ঠিক কী ঘটে? প্রশ্নটা শুনলে মনে হতে পারে, উত্তরটা বুঝি খুব সহজ। হৃৎপিণ্ড থেমে যায়, মস্তিষ্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায় আর নিথর শরীরটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে পচনের দিকে। বহুকাল ধরে মৃত্যুর এই ছবিটিই চূড়ান্ত সত্যি বলে মেনে নিয়েছি আমরা। কিন্তু এই চেনা পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক অজানা গল্প।</p><p>ধরুন, একজন মানুষের মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর গবেষকেরা তাঁর শরীর থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করলেন। তারপর সেগুলোকে রাখলেন ল্যাবরেটরির বিশেষ এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে সেই কোষগুলো শুধু টিকে থাকল তা-ই নয়, বরং নতুন করে বিভাজিত হয়ে জন্ম দিল আরও নতুন কোষের!</p><p>ঘটনাটা শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হতে পারে। কারণ, আমরা ভাবি মৃত্যুই বুঝি জীবনের শেষ স্টেশন। কিন্তু ক্ষুদ্র কোষের জগতে গল্পটা মোটেও এত সরল নয়। একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি আর তাঁর শরীরের প্রতিটি কোষের চিরবিদায় ঠিক একই মুহূর্তে ঘটে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/7cthdmb3z0">স্টেম-কোষ গবেষণায় কি অমরত্ব মিলবে</a></aside><blockquote>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</blockquote><p>বিষয়টা থমকে যাওয়া এক বিশাল শহরের গল্প হিসেবে কল্পনা করা যাক। কোনো এক রাতে যদি পুরো শহরের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, মুহূর্তেই নিভে যাবে সব আলো, থমকে দাঁড়াবে বিশালাকার যন্ত্রগুলো। কিন্তু শহরের কোনো এক কোণে ব্যাটারির শক্তিতে হয়তো তখনো মিটমিট করে জ্বলবে কিছু বাতি, কোথাও হয়তো সচল থাকবে জরুরি জেনারেটর। অর্থাৎ পুরো শহর এক নিমেষে কিন্তু পুরোপুরি নিভে যায় না।</p><p>আমাদের শরীরের কোষগুলোর গল্পটাও ঠিক ওই শহরের মতোই। হৃৎযন্ত্র থেমে গেলে, শরীরের মূল সাম্রাজ্যটা ভেঙে পড়লেও ক্ষুদ্র কোষগুলো নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গতিতে বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায়।</p><p>গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিভিন্ন গবেষণা আমাদের এনে দাঁড় করিয়েছে নতুন এক দরজায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষের মৃত্যু ঘটার পরও কোষের ভেতরে অনবরত চলতে থাকে বিস্ময়কর সব পরিবর্তন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%AF%E0%A6%96%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87">কোষ যখন সুইসাইড করে</a></aside><blockquote>কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না।</blockquote><h2><strong>মৃত্যু কি সবার জন্য একই মুহূর্তে আসে</strong></h2><p>হৃৎপিণ্ড থমকে দাঁড়ালে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন। থামতে শুরু করে কোষে কোষে অক্সিজেন আর পুষ্টির চালান, স্তব্ধ হয়ে যায় শক্তির উৎপাদন। বিশাল এক সাম্রাজ্যের মতো শরীরের চেনা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো একে একে ভেঙে পড়তে থাকে। তবে এই তীব্র সংকটে শরীরের সব কোষ কিন্তু একভাবে সাড়া দেয় না। মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</p><p>এখানেই ফুটে ওঠে সূক্ষ্ম এক সত্য। কোনো মানুষের মৃত্যু হওয়া মানেই তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্র কোষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু নয়। আবার শরীরের কোনো এক কোণে কয়েকটি কোষ বেঁচে আছে বলেই পুরো মানুষটিকে জীবিত বলা চলে না। কারণ, মানুষের জীবন মূলত মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড আর শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো বিশাল সব অঙ্গের এক সমন্বিত ছন্দ।</p><p>কোষের এই অদ্ভুত সহনশীলতার পার্থক্যই বিজ্ঞানীদের সামনে ছুড়ে দেয় বড় এক রহস্য। একজন মানুষের মৃত্যুর পরও কি এমন কিছু কোষ থেকে যায়, যাদের আবার নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই গবেষকেরা থমকে দাঁড়ান শরীরের বিশেষ একধরনের কোষের সামনে। এই কোষের নাম স্টেম সেল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/3r9gmei89k">পাঠ্যবইয়ের পুরোনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল, আবিষ্কৃত হলো কোষ বিভাজনের নতুন কৌশল</a></aside><blockquote>মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। অন্যদিকে ত্বকের কোষ, কিছু পেশিকোষ এবং স্টেম সেল দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সহনশীলতা বজায় রাখে।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর ১৭ দিন পরও কার্যক্ষম স্টেম সেল!</strong></h2><p>বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় এই রহস্যের মোড়। <em>নেচার কমিউনিকেশনস</em> জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত পাস্তুর ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ফ্যাব্রিস শ্রেতিয়াঁ ও তাঁর দল কাজ করছিলেন মানুষের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়ে। গবেষণাগারে তাঁরা যে সত্যটি উন্মোচন করেছিলেন, তা ছিল রীতিমতো কল্পনাতীত! দেখা যায়, মানুষের মৃত্যুর ১৭ দিন পরও মৃতদেহ থেকে সেই স্টেম সেলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব! আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ল্যাবরেটরির কৃত্রিম ও উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পর সেই কোষগুলো আবার নতুন করে বিভাজিত হতে শুরু করে এবং জন্ম দেয় একদম নতুন পেশিকোষ।</p><p>তবে ‘উদ্ধার করা’ কথাটির পেছনে লুকিয়ে আছে সূক্ষ্ম এক হিসাব। এর মানে কিন্তু এই নয় যে মৃতদেহের সব পেশিকোষ ১৭ দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে জীবিত ছিল। আসল সত্যটা হলো, মৃত্যুর এত দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কিছু স্টেম সেল তাদের ভেতরের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেনি। সুবিধাজনক পরিবেশ পেলেই নিজেদের পুনর্গঠন করার এবং নতুন কোষ তৈরির অদ্ভুত সেই ক্ষমতা তারা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল।</p><p>আসলে স্টেম সেল হলো শরীরের সেই জাদুকরী কোষ, যা প্রয়োজনে বিভাজিত হয়ে হুবহু নিজের মতো নতুন কোষ বানাতে পারে, এমনকি রূপ নিতে পারে বিশেষ কিছু অঙ্গের কোষেও। পেশির ক্ষত মেটাতে বা পেশিকোষ পুনর্গঠনে এসব স্টেম সেলের কোনো জুড়ি নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/jjs2byyqhc">কোষ কীভাবে বোঝে তাকে কী কাজ করতে হবে</a></aside><blockquote>পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</blockquote><p>শুধু মানুষের ওপরই থেমে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের কঙ্কালপেশির স্টেম সেল নিয়েও তাঁরা চালিয়েছিলেন একই পরীক্ষা। সেখানে ১৭ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা না পাওয়া গেলেও মূল সত্যটা কিন্তু বদলায়নি। মৃত্যুর পরও কিছু স্টেম সেল আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পুনর্গঠনক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারে। এমনকি ইঁদুরের অস্থিমজ্জা থেকেও মৃত্যুর বেশ কয়েক দিন পর কার্যকর স্টেম সেল উদ্ধারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।</p><p>কিন্তু এই অদ্ভুত আবিষ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানীদের মনে জন্ম নেয় আরও বড় এক রহস্য। রক্ত সঞ্চালন বন্ধ, অক্সিজেনের অভাব আর শক্তির চরম সংকটের মাঝেও এই ক্ষুদ্র কোষগুলো মৃত্যুর পর এত দিন ধরে টিকে থাকে কীভাবে?</p><p>এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর লুকিয়ে আছে কোষের বিপাকক্রিয়ায়। কোষের বেঁচে থাকা ও কাজ করার জন্য নিরন্তর শক্তি দরকার। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সব কোষ একইভাবে শক্তি খরচ করে না। পেশির কিছু স্টেম সেল বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে একধরনের সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে তাদের শক্তির চাহিদাও কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়ে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/4p9smlmdm7">মানুষের দেহে কোষ কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে?</a></aside><blockquote>ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</blockquote><p>বিষয়টা সহজে বোঝার জন্য ভালুকের শীতনিদ্রার কথা ভাবা যেতে পারে। শীতনিদ্রার সময় ভালুকের শরীরে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের গতি কমে যায়। ফলে শক্তির খরচও অনেক কমে আসে। পেশির স্টেম সেলের সুপ্ত অবস্থার সঙ্গে এই তুলনার বেশ মিল আছে। তবে দুটি প্রক্রিয়া কিন্তু হুবহু এক নয়। এটি শুধু মূল ধারণাটা বোঝানোর একটি চমৎকার উপমা মাত্র।</p><p>মৃত্যুর পর কোষের সুপ্ত অবস্থায় যাওয়ার পেছনে ঠিক কোন প্রক্রিয়াগুলো কাজ করে, তার সব উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই। ধারণা করা হয়, কোষের আশপাশের পরিবেশে রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন হয়তো কোনো না কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।</p><p>তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোষের এই টিকে থাকার ক্ষমতা মানে কিন্তু পুরো মৃতদেহ জীবিত থাকা নয়। একটি কোষকে ল্যাবরেটরিতে উদ্ধার করে বংশবৃদ্ধি করানো আর মৃতদেহের ভেতরে তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আর এখানেই এই গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। মৃত্যুর পর কিছু কোষ শুধু টিকেই থাকে না, বরং কোষের ভেতরে জিনের কার্যকলাপসংশ্লিষ্ট দারুণ কিছু পরিবর্তনও ঘটাতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/so3sqopeq2">একটি মাত্র কোষ থেকে কীভাবে তৈরি হয় মস্তিষ্ক</a></aside><blockquote>ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ।</blockquote><h2><strong>মৃত্যুর পরও বদলে যায় জিনের কার্যকলাপ</strong></h2><p>কোষের এই অদ্ভুত বেঁচে থাকার রহস্য ভেদ করতে বিজ্ঞানীরা শুধু তাদের টিকে থাকার দৃশ্য দেখেই থমকে যাননি। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন আরও গভীরে। মৃত্যুর এই আলো-আঁধারির মাঝে কোষের আণবিক বা পারমাণবিক পর্যায়ে, বিশেষ করে জিনের জগতে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তাঁরা সেটাই জানতে চেয়েছেন।</p><p>২০১৭ সালের কথা। <em>ওপেন বায়োলজি</em> জার্নালে প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীদের এক যুগান্তকারী গবেষণা। ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক, অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন তাঁরা। ইঁদুরের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ৪৮ ঘণ্টা এবং জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।</p><p>সেই পরীক্ষাগারে এক অভাবনীয় দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেল, মৃত্যুর পরও ১ হাজার ৬৩টি জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমআরএনএ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিমাণ আগের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে!</p><p>গল্পের এই মোড়ে এমআরএনএর ভূমিকা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। ডিএনএতে লুকিয়ে থাকে জীবনের সব জটিল সংকেত ও জিনগত তথ্য। প্রোটিন তৈরি করার সময় ডিএনএ থেকে সেই তথ্যের একটি বিশেষ কপি তৈরি হয়। এই কপিই হলো এমআরএনএ। সহজ কথায়, এমআরএনএর পরিমাণ বাড়া বা কমার মানে কোষের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু জিনের কার্যকলাপে বড় ধরনের নড়াচড়া শুরু হওয়া।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zqtx3wxvii">নির্দিষ্ট বয়সের পরে কোষ কেন বৃদ্ধি পায় না?</a></aside><blockquote>ইঁদুর ও জেব্রাফিশের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে থাকা জিনের বার্তাবাহক অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপ্টের পরিবর্তনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন পিটার নোবল ও তাঁর সহকর্মীরা।</blockquote><p>তবে মৃত্যুর পর এমআরএনএর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অর্থ কিন্তু এই নয় যে, জিনগুলো শুধুই নতুন উৎসাহে জেগে উঠে ঝড়ের বেগে এমআরএনএ বানিয়ে চলেছে। এখানে কাজ করে অন্য আরেকটি বিষয়। কত দ্রুত নতুন এমআরএনএ তৈরি হচ্ছে আর কত দ্রুত পুরোনো এমআরএনএ ভেঙে যাচ্ছে—এই দুই ব্যবস্থার ওঠানামার ওপরই নির্ভর করে মূল হিসাবটা।</p><p>দেখা গেল, মৃত্যুর পর যেসব জিনের কার্যকলাপে এই পরিবর্তনগুলো ঘটছে, সেগুলো সাধারণ কোনো জিন নয়। এর মধ্যে রয়েছে চাপের বিরুদ্ধে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, প্রদাহ, কোষের নিয়মতান্ত্রিক মৃত্যু বা অ্যাপোপটোসিস, কোষের ভেতরে জরুরি পদার্থ পরিবহন আর ভ্রূণের বিকাশের সঙ্গে জড়িত জিনগুলোও!</p><p>এই পরিবর্তনগুলোর সময়কালও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কিছু পরিবর্তন ঘটে মৃত্যুর মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আণবিক এই রূপান্তর ধরা পড়ে আরও অনেক পরে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/k2xs0t1rv4">সারা জীবনে আমাদের কী পরিমাণ কোষ ঝরে পড়ে?</a></aside><blockquote>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি।</blockquote><p>বিষয়টা সত্যিই দারুণ ভাবনার খোরাক জোগায়। মৃত্যু মানেই তো সবকিছুর চিরতরে নিভে যাওয়া! কিন্তু মৃত্যুর পরও কোষের ভেতরে জিনের আণবিক কার্যকলাপে এই সক্রিয়তা দেখা যায় কেন? এর কোনো চূড়ান্ত উত্তর বিজ্ঞানীরা এখনো খুঁজে পাননি। তবে তাঁদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চরম চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে। এ ছাড়া কোষের ভেতরে বিভিন্ন অণুর স্থায়িত্ব ও ভেঙে যাওয়ার গতির তারতম্যের কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।</p><p>জীবনের শেষ সীমানা পেরিয়ে মৃত্যুর ঠিক পরের অদ্ভুত এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা চমৎকার এক নামে ডেকেছেন, তা হলো টোয়ালাইট অব ডেথ বা মৃত্যুর গোধূলি। ঠিক যেমন গোধূলিলগ্নে আলো ও অন্ধকারের এক অদ্ভুত মায়াবী সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়, তেমনি মৃত্যুর পরও শরীরের ভেতরের জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো একবারে নিভে না গিয়ে এক ঝাপসা আলোয় যেন তাদের শেষ অধ্যায়টি লিখে চলে।</p><p> এখানে অবশ্য একটি জরুরি সতর্কতাও জড়িয়ে আছে। এই গবেষণার মূল পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছিল ইঁদুর ও জেব্রাফিশের ওপর। মানুষের টিস্যুতেও মৃত্যুর পর জিনগত পরিবর্তনের কিছু প্রমাণ মিললেও প্রাণীদের ওপর করা এই পরীক্ষার ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই জটিল রহস্যের পুরো জট খুলতে বিজ্ঞানীদের এখনো পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক দূর।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7">ক্যানসার কোষ থেকে মেদ কোষ</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানীর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জীবিত অবস্থায় কোনো আঘাত, চাপ বা সংক্রমণের মুখে শরীর যে প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াগুলো চালু করেছিল, মৃত্যুর পরও হয়তো তার প্রভাব কিছু সময় ধরে বজায় থাকে।</blockquote><p>হাজারো জটিল গবেষণার পর শেষ পর্যন্ত এসে যে প্রশ্নটা মনকে দোলা দেয় তা হলো, এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারগুলো আসলে আমাদের কী কাজে আসবে?</p><p><strong>অঙ্গ প্রতিস্থাপনে:</strong> একজন দাতার দেহ থেকে অঙ্গ সংগ্রহের পর সেই অঙ্গের কোষগুলোতে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে, তা গভীরভাবে বুঝতে পারলে অঙ্গ সংরক্ষণের পুরো চিত্রটাই বদলে যেতে পারে। এর ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলোকে আরও দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখা এবং পরবর্তী সময়ে গ্রহণকারীর দেহে তা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব।</p><p><strong>স্টেম সেল থেরাপিতে:</strong> মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও বেঁচে থাকা এই ক্ষুরধার স্টেম সেলগুলো ভবিষ্যতে পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তবে এই কোষগুলো সত্যিই অন্য কোনো জীবিত মানুষের দেহে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে কোষের মান ধরে রাখা, সঠিক সংগ্রহপদ্ধতি এবং সেই সঙ্গে বিস্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সাফল্যের ওপর।</p><p><strong>ফরেনসিক বিজ্ঞানে:</strong> মৃত্যুর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিনের ক্ষণস্থায়ী এই রূপান্তরগুলো মেপে নিখুঁতভাবে মৃত্যুর সময় নির্ধারণের একেবারেই নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। যদিও প্রাণীদের শরীরে পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে কতটা নির্ভরযোগ্য, তা জানতে আরও কিছু পথ হাঁটা বাকি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87-2">কত্ত কোষ আমাদের শরীরে!</a></aside><blockquote>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়।</blockquote><p>তাই এই আবিষ্কারগুলোই যে আগামীকাল থেকে মৃতদেহের কোষ দিয়ে বড় ধরনের চিকিৎসা শুরু করার মন্ত্র দিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা মোটেও সে রকম নয়। এটা আসলে আমাদের শেখাচ্ছে যে মৃত্যুর ঠিক পরমুহূর্তে শরীরের ভেতর ঠিক কী ঘটে। সেটা অনুধাবন করতে পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফরেনসিক গবেষণায় উন্মোচিত হবে নতুন নতুন পথ।</p><p>জীবন ও মৃত্যুর সীমানাটা আমরা যতটা সরল ভাবি, প্রকৃতি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মানুষের প্রাণস্পন্দন থমকে যাওয়া মানেই সবকিছুর চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অণুবীক্ষণিক কোষের জগতে তখনো নিঃশব্দে চলতে থাকে জীবনের অন্য এক লড়াই। প্রদীপ নিভে গেলেও যেমন তার উত্তাপ কিছু সময় থেকে যায়, মৃত্যুর পরের সময়টাও ঠিক তেমনি এক গোধূলিলগ্ন। মৃত্যুর এই অচেনা রাজ্য থেকেই হয়তো বিজ্ঞান একদিন খুঁজে নেবে আমাদের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর!</p><h4>লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া</h4><h4>সূত্র: ১. Latil M. et al. (2012). Skeletal muscle stem cells adopt a dormant cell state post mortem and retain regenerative capacity. <em>Nature Communications</em>.</h4><h4>২. Pozhitkov A.E. et al. (2017). Tracing the dynamics of gene transcripts after organismal death. <em>Open Biology</em>.</h4><h4>৩. <em>Live Science</em>, <em>FierceBiotech</em> &amp; <em>BioSpectrum Asia</em></h4><h4>৪. Testing cellular life after death</h4><h4>৫. Human Postmortem Life project</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/wgadkojbjz">আপনার শরীরেই বাস করছে অন্য কারো কোষ</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
পুঁটি মাছের গায়ে বর্ষাকালে লাল রং আসে কেন
পুঁটি মাছের গায়ে বর্ষাকালে লাল রং আসে কেন

বিকেলের আলো পড়ে এসেছে। ধানখেতের ধারে ছোট একটা খাল, পানি প্রায় নড়ছে না। তুমি পাড়ে উবু হয়ে বসেছ। হঠাৎ পানির নিচে কী যেন ঝিলিক দিয়ে গেল

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়
শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়

সম্প্রতি সৌদি আদালত দুই বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে শরিয়া আইনে ‘তাজির’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, ‘তাজির’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় কি না।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন