স্বামীর পাওনা টাকার জেরে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
নকল পণ্য বাজারজাত, মেয়াদোত্তীর্ণ রং দিয়ে কেক তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল।
শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
<p>হাওরের মাঠে ঘাস খেয়ে বেড়ায় মহিষের পাল। তাদের ঘিরে ঘুরে বেড়ায় সাদা বক। কখনো মহিষের পিঠে বসে, কখনো পায়ের কাছে ঘোরাফেরা করে খাবারের সন্ধান করে পাখিগুলো। মহিষের শরীরে থাকা পোকামাকড় খুটে খায় বক। এভাবে একই পরিবেশে খাবারের খোঁজে দিন কাটে দুই প্রাণীর। প্রকৃতিতে টিকে থাকার এই সহজ সম্পর্ক যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে ওঠার গল্প। হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠে বক আর মহিষের এমন দৃশ্য গ্রামীণ প্রকৃতির চেনা ছবি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/3h9xbodv/1.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>পানিতে গা ডুবিয়ে বসে আছে মহিষ। তার পিঠে বসেছে বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/e4nvwlot/2.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>বক-মহিষ মুখোমুখি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/cy9zh1g1/3.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>পানিতে নামার আগে বকগুলো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/5y94x9kw/4.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>মহিষের পিঠে বসে আছে একটি বক, আরও একটি উড়ে এসে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/1dm3q34j/5.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>মহিষের পিঠে তিন বকের বিচরণ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/lnt7nsjr/6.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>সারা দিন মহিষের পিঠ ও আশপাশে বসে খাবার খায় বকগুলো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/l99hils7/7.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>পানি থেকে পাড়ে উঠছে মহিষ, পিঠে দাঁড়িয়ে আছে বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/xgcapdjh/8.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>মহিষ যেখানে, বকগুলোও সেখানে ভিড় করে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/nqqmp9t7/9.-Sylhetfriendship-between-egretsbuffaloesbirdsrural-naturehaor15102026.JPG"><figcaption>এবার পানি থেকে উঠেছে মহিষ, সঙ্গে বকগুলো </figcaption></figure>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/zegsk28v/WhatsApp-Image-2026-10-14-at-10.48.32-PM.jpeg"></figure><p>চট্টগ্রাম নগরে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গত সেপ্টেম্বর মাসে ল্যাপটপ, মুঠোফোন, ১৭০টি ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার বিষয়ে তাঁরা মুখ খুলছেন না। এসব ডিভাইস দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, কী তাঁদের উদ্দেশ্য, তা জানার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দরকার। একমাত্র ভরসা ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।</p><p> তবে এখন ইলেকট্রনিক নানা ডিভাইস ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর ঢাকায় পাঠাতে হবে না। চট্টগ্রামেই করা যাবে এই পরীক্ষা। নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের ভেতর সিআইডি কার্যালয়ে পাশে গতকাল বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ সেন্টার উদ্বোধন করেন।</p><p> জানা গেছে, অন্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মামলা রয়েছে ১ হাজার ১১টি। এর মধ্যে বিচারাধীন ৯৬৭টি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ রয়েছে ২৮টির। পাঁচ বছরের বেশি বিচারাধীন ৬৫টি। ১০ বছরের বেশি বিচারাধীন ১৪টি।</p><p>আদালতের পাশাপাশি থানায়ও মামলা হচ্ছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে সাইবার আইনে হওয়া মামলার সংখ্যা ৫০। তবে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বেশি সাধারণ ডায়েরি ( জিডি) করে থাকেন। ঝামেলায় জড়াতে চান না। অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে মামলা করেন না। প্রকল্পটির পরিচালক সিআইডি ঢাকার অতিরিক্ত ডিআইজি সরদার রুকন উজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি সহায়তায় সাইবার পুলিশ সেন্টার করা হয়েছে।</p><blockquote>জানা গেছে, অন্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মামলা রয়েছে ১ হাজার ১১টি। এর মধ্যে বিচারাধীন ৯৬৭টি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ রয়েছে ২৮টির। পাঁচ বছরের বেশি বিচারাধীন ৬৫টি। ১০ বছরের বেশি বিচারাধীন ১৪টি।</blockquote><p>সরেজমিন দেখা গেছে, চারতলা এই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বসানো হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাব, কম্পিউটার ও ল্যাবের নানা সরঞ্জাম। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব। সেখানে বসে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রয়েছে ফরেনসিক গ্রহণ ও সভাকক্ষ। সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এখন থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মুঠোফোন, ল্যাপটপসহ নানা ডিভাইস ঢাকা পাঠাতে হবে না। চট্টগ্রামেই পরীক্ষা করা যাবে। এতে সময় কম লাগবে। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে কেউ গুজব কিংবা অপপ্রচার চালালে সহজে শনাক্ত করা যাবে এই সাইবার সেন্টারে প্রযুক্তির সাহায্য। এতে সাইবার অপরাধ রোধ ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ফলে অপরাধ কমবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/h0oxlyszuz">৮ তলার ভবনে নানা ডিভাইস নিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কী করছিলেন, যা বলছে পুলিশ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/yp0pqvr6/WhatsApp-Image-2026-10-14-at-10.48.56-PM.jpeg"><figcaption>চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার সেন্টার</figcaption></figure><p>৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রাম। জানতে চাইলে এটির দায়িত্বে থাকা উপপুলিশ কমিশনার শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কাউন্টার টেররিজমে তদন্তাধীন বেশির ভাগ মামলা সাইবার–সংক্রান্ত। এসব মামলার তদন্ত করতে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা খুবই প্রয়োজন। এর জন্য ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়। এতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়। এখন যেহেতু চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে, তাতে সময় কম লাগবে।</p><aside><cite>শামীম হোসেন, উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম</cite>কাউন্টার টেররিজমে তদন্তাধীন বেশির ভাগ মামলা সাইবার-সংক্রান্ত। এসব মামলার তদন্ত করতে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা খুবই প্রয়োজন। এর জন্য ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়। এতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়। এখন যেহেতু চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে, তাতে সময় কম লাগবে।</aside><p>পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাইবার পুলিশ সেন্টারের মাধ্যমে কম্পিউটার ও ডিজিটাল স্টোরেজ মিডিয়া থেকে গোপনীয় ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে। এখানে মূল্যবান ডেটা সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা যাবে। অপরাধ ঢাকতে বা আলামত গায়েব করতে মুছে ফেলা তথ্য, মেমোরি ডাম্প, হার্ড ড্রাইভে ফাঁকা ফোল্ডার, বিভিন্ন জটিল ফাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে সাইবার পুলিশ সেন্টার। মুঠোফোন ফরেনসিকের মধ্যে রয়েছে অপরাধকাজে ব্যবহৃত মুঠোফোন ও যেকোনো ডিভাইস। ফরেনসিকে ল্যাবের মাধ্যমে মুঠোফোন, ট্যাব, জিপিএস, ডিভাইস, ড্রোন ইত্যাদি থেকে ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/pf0aa0192t">কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন নিয়ে কী করছিলেন চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকেরা </a></aside><p>সাইবার পুলিশ সেন্টারের মাধ্যমে যেসব ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করবে, তার মধ্যে আছে এসএমএস এবং এমএমএস বা এ–জাতীয় মুছে ফেলা ডেটা, কল লগ ও লিস্ট, ফোন আইএমইআই ও ইএসএন সম্পর্কিত তথ্য, ওয়েব ব্রাউজিং, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেটিংস, জিওলোকেশন তথ্য, ই-মেইল এবং ইন্টারনেট মিডিয়া ও ফর্ম, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং পরিষেবা, পোস্টসহ বিভিন্ন ডার্ক ও ডিপ ওয়েবসাইটের হোয়াইট কলার ক্রিমিনালদের অপরাধের আলামতগুলো। তা ছাড়া এই সেন্টারের মাধ্যমে অ্যাপ ডেটা, মেসেঞ্জার ডেটা ও ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষিত ডেটাগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।</p><p>পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রামের উপপরিদর্শক রাসিব খান প্রথম আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধের ধরনও দ্রুত বদলাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানির মতো অপরাধের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন নতুন ধরন সামনে আসছে। এসব অপরাধ শনাক্তের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার হওয়ায় সাইবার অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।</p>
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য, কেউ গ্রামবাংলার দৃশ্য, আবার কেউ নিজের কল্পনার জগৎকে ছবির মাধ্যমে তুলে ধরে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা।
<p>কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্কুল ক্যানটিনে শিক্ষার্থীদের ২০ টাকায় খাবার দিচ্ছেন ছবেদ আলী। নিজের নানা সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের কথা ভেবে নিয়েছেন এই উদ্যোগ। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>বিল্টু মামার মেজাজ তিরিক্ষি। শত চেষ্টা করেও নিউজে আসতে পারছেন না। গত শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন; ছবিতে কম্বলের আড়ালে মুখ ঢাকা পড়েছে। বৃক্ষরোপণ করেছেন; পত্রিকায় নাম এসেছে সভাপতির, মামাকে দেখা গেছে পেছনে কোদাল হাতে। প্রতিবাদে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন; ব্যানারটা তাঁর উচ্চতার চেয়ে বড় হওয়ায় কেবল তাঁর পা দেখা যাচ্ছে।</p><p>অথচ দুই দিনের তারকাদের ঘর ভাঙলেও সংবাদ হয়! কেউ ঘর ভেঙে আলোচনায় আসেন, কেউ আলোচনায় আসার জন্য ঘর ভাঙেন। মামা দুটো পথই পরীক্ষা করতে চান। সমস্যা হলো, তিনি তারকা নন। মামি নিজেও ডিভোর্সে রাজি নন। মামা নাছোড় হয়ে তিন দিন বোঝালেন। বললেন, ‘প্রতিবছর আমরা ঘটা করে “বিচ্ছেদ দিবস” পালন করব।’ উম, মামি এতেও রাজি নন।</p><p>মামা মনে মনে বুদ্ধি আঁটলেন। বাড়ির সামনের পুরোনো ঘরটা বহুদিন ধরে খালি। এ ঘরটাই ভাঙবেন।</p><p>ঘর ভাঙার শ্রমিক ডাকলেন। সংবাদকর্মীদের আমন্ত্রণ পাঠালেন। দুই সাংবাদিক এলেন। একজন স্থানীয়, অন্যজন ভুল ঠিকানায়। মামা দুজনকেই সমান যত্নে বসালেন। ভুল করে আসা মানুষটিকেও বিরিয়ানি খাইয়ে সঠিক মানুষ বানানোর চেষ্টা করলেন।</p><p>একজন বুদ্ধি দিল, স্ত্রীকে সামনে রাখেন। মেয়েরা উদ্যোগ নিলে নিউজ করতে সুবিধা হয়।</p><p>ঘর ভাঙা শুরু হতেই পাশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে মামাকে জড়িয়ে ধরলেন। মামা ভাবলেন, ব্যক্তিগত শোক প্রকাশ করছেন। কিন্তু কাহিনি ভিন্ন। ঘরটির বাড়তি অংশের জন্য স্কুলের গলিটা সরু ছিল। শিশুদের চলাচলে অসুবিধা হতো। ঘর সরায় রাস্তা চওড়া হবে।</p><p>মামা বুক ফুলিয়ে ক্যামেরার দিকে ফেরেন। প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘এই মহৎ কাজের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ভাবিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি সত্যিই একজন মহীয়সী নারী।...’</p><aside><cite></cite>‘এই মহৎ কাজের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ভাবিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি সত্যিই একজন মহীয়সী নারী।...’</aside><p>মামি মাথা নেড়ে মৃদু হাসলেন। এদিকে মামার হাতের হাতুড়ি হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।</p><p>পরদিন সংবাদ বেরোল, ‘শিশুদের নিরাপত্তায় নিজের ঘর ভাঙলেন নারী’।</p><p>বড় ছবিতে মামি। পাশে প্রধান শিক্ষক। নিচের কোণে মামা, হাতে হাতুড়ি। সঙ্গে সঙ্গে মামা সাংবাদিককে ফোন করে নিজের নাম কোথায় আছে তা জানতে চাইলেন।</p><p>প্রতিবেদনে নাকি স্ত্রীকে স্বামীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ আছে।</p><p>খুশির চোটে সন্ধ্যায় মামি সংবাদটি বাঁধিয়ে আনলেন। এদিকে মামা হিসাব কষছেন, ঘর ভাঙার মজুরি, মাইক, ব্যানার, বিরিয়ানি...। নিজের নামের প্রতি অক্ষরে প্রায় হাজার দুই খরচা।</p><p>এর মধ্যে মামি ফেসবুকে সংবাদটি দিয়েছেন। অভিনন্দন আসছে। এক সংগঠন তাকে সংবর্ধনাও দেবে। মামার দায়িত্ব মামিকে ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া।</p><p>মামা ভারাক্রান্ত মনে বাঁধানো সংবাদটি নামিয়ে সেখানে নিজের একটা বড় ছবি টাঙালেন।</p><p>মামি খেপে গেলেন। এমন মানুষের সঙ্গে সংসার করার চেয়ে আলাদা থাকাই ভালো।</p><p>কথাটা শুনে মামার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এত দিনে গিন্নি রাজি! তা ছাড়া মামি এখন পরিচিত মুখ। তার ঘর ভাঙলে নিশ্চয়ই খবর হবে!</p><p>সাংবাদিককে ফোন করতেই সম্ভাব্য শিরোনামও জানালেন, ‘ঘর ভাঙা সেই নারীর সংসারও ভাঙছে!’</p><aside><cite></cite>‘ঘর ভাঙা সেই নারীর সংসারও ভাঙছে!’</aside><p>মামা নিজের নামের জায়গাটার কথা জানতে চান, সাংবাদিক আশ্বস্ত করে বলেন, ভেতরে থাকবে, স্বামীর কারণেই সংসার ভাঙছে...!</p><p>মামা ফোন রেখে তাড়াতাড়ি মামির সংবাদের ছবিটা আবার টাঙিয়ে দিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/w7jkcfd4dv">আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগর</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/vm3hlrfc1h">তড়িৎ উক্তি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9ixc8wrpeg">লোডশেডিং </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xs8n5hu59n">উত্তপ্ত কাঁচাবাজার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/uw52c84wv8">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside>
<p>জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকার জোগানে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ ঋণ পেতে ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে না। এমনকি ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোনো সহায়ক নথি, জামিনদার বা চেকও জমা দিতে হবে না। যোগ্য গ্রাহকেরা অনলাইনে আবেদন করে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।</p><p> ব্র্যাক ব্যাংকের এ ঋণের নাম ‘ইনস্ট্যান্ট লোন’। হাসপাতালে ভর্তি, বিয়ে, বাসাবাড়ি সংস্কার কিংবা ভ্রমণকালীন জরুরি অর্থের প্রয়োজনে এ ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকেরা ৩ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদ বেছে নিতে পারবেন। মাসিক সমান কিস্তিতে (ইএমআই) ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে।</p><p><strong>কারা পাবেন</strong></p><p>ব্র্যাক ব্যাংকের ইনস্ট্যান্ট লোন পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬২ বছর হতে হবে। ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন হিসাবধারীরা (স্যালারি অ্যাকাউন্টধারী) এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাঁদের মাসিক বেতন হতে হবে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বর্তমান প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিন মাসের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।</p><p>এ ছাড়া ব্যাংকের পণ্যের নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচিত চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট), সঞ্চয়ী হিসাব (সেভিংস অ্যাকাউন্ট) গ্রাহকের পাশাপাশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও মাসিক সঞ্চয় কর্মসূচির (ডিপিএস) গ্রাহকেরাও এ ঋণের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ ঋণ পাবেন না।</p><p><strong>কত টাকা পাবেন</strong></p><p>এ ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ লাখ টাকা। গ্রাহকের প্রয়োজন ও অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ঋণ নেওয়া যাবে। পরিশোধের মেয়াদ হবে ৩ বা ৬ মাস থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত। ঋণের সুদের হার পরিবর্তনশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের প্রচলিত সুদহারের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া রিটেইল বা খুচরা ঋণের জন্য ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেস (এসওসি) অনুযায়ী প্রযোজ্য মাশুল দিতে হবে।</p><p><strong>আবেদন করবেন যেভাবে</strong></p><p>এ ঋণের জন্য ব্যাংকের শাখায় যাওয়া কিংবা ব্যাংক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। যোগ্য গ্রাহকদের ব্যাংকের পাঠানো আমন্ত্রণমূলক এসএমএসের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা কোনো সহায়ক নথি, জামিনদার বা চেক জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।</p><p>ব্যাংকের অফিস সময়ে আবেদন করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরে আবেদন করলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা প্রক্রিয়া করা হবে। ঋণ অনুমোদনের পর দুই মাসের মধ্যে ঋণের টাকা নিতে হবে গ্রাহককে। দুই মাস পরে অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।</p><p><strong>ঋণ নেওয়ার আগে</strong></p><p>ঋণের সুদের হার পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদন করার আগে প্রযোজ্য সুদের হার, প্রসেসিং ফি, অন্যান্য চার্জ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ জেনে নেওয়া উচিত। ঋণের মেয়াদ যত বেশি হবে, সাধারণত মোট সুদের ব্যয়ও তত বাড়তে পারে। তাই নিজের মাসিক আয় ও নিয়মিত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের মেয়াদ নির্বাচন করা প্রয়োজন।</p>
<p>হাসান হাফিজ সত্তর দশকের কবি। বহুপ্রজ কোবিদ। কবিতা লেখেন, গদ্য লেখেন, শিশুসাহিত্য করেন, সাংবাদিকতা করেন—দুই হাতে। প্রকাশিত গ্রন্থ দুই শতাধিক। গবেষণা গ্রন্থ, সাক্ষাৎকার গ্রন্থ, রঙ্গব্যঙ্গ, ফিচার গ্রন্থ, বিজ্ঞানবিষয়ক, শিশুতোষ রচনাসহ ইত্যাদির সম্ভার। কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ষাটের অধিক। এর মধ্যে দ্বিভাষিক দুটি—একসঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, চীনা, স্প্যানিশ, জার্মান, জাপানি, হিন্দি, উর্দু, আরবি, ফারসি ও চাকমা ভাষায়। বহু দেশ ঘুরেছেন। বহু পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ পেয়েছেন। স্বভাবগতভাবে উচ্চকিত নন, পরিশ্রমী সাহিত্যিক। জন্ম ১৫ অক্টোবর, ১৯৫৫। সোনারগাঁওয়ের এলাহিনগরে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার আগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স–মাস্টার্স করেছেন। মানে হলো তিনি ডাবল এমএ। যথোপযুক্ত সাফল্যমণ্ডিত জীবন। আজ আরেক ১৫ অক্টোবর। একজন কবি হাসান হাফিজের বয়স আজ ৭১ হলো। মানুষটা কেমন? কবি হাসান হাফিজ যে মানুষটা?—অসামান্য সরল। অজটিল। এই মানুষটার সঙ্গে আমার সখ্য ছাত্রজীবন থেকে। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আমাদের নৈকট্য সেই সখ্যকে আরও গাঢ় করেছে। হুমায়ূন আহমেদের অতি পছন্দের মানুষদের একজন ছিলেন হাসান ভাই। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রেমের উপন্যাস (প্রচ্ছদে লেখা ছিল) ‘তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে’ উৎসর্গ করেছিলেন হাসান ভাই এবং তাঁর সহধর্মিণীকে:</p><p> হাসান হাফিজ</p><p> শাহীন আখতার</p><p> যুগলেষু</p><blockquote>হুমায়ূন আহমেদের অতি পছন্দের মানুষদের একজন ছিলেন হাসান ভাই। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রেমের উপন্যাস (প্রচ্ছদে লেখা ছিল) ‘তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে’ উৎসর্গ করেছিলেন হাসান ভাই এবং তাঁর সহধর্মিণীকে:</blockquote><p>হুমায়ূন আহমেদের আরেকটা বইয়ের ভূমিকায় হাসান ভাইয়ের কথা দারুণভাবে আছে। সেই ভূমিকা হুবহু তুলে দিচ্ছি:</p><p>‘লেখকের কাছ থেকে লেখা আদায়ের অনেক রকম পদ্ধতি আছে। সবচে নিম্ন শ্রেণীর পদ্ধতিটি হল—গলায় গামছা বেঁধে লেখা আদায় করা। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমার কবি-বন্ধু হাসান হাফিজ ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’র লেখাগুলি আমাকে দিয়ে লিখিয়েছেন। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে ভেবেছি, বড় একটা ডান্ডা দিয়ে হাসান হাফিজের মাথায় শক্ত বাড়ি দিই। তারপর থানা–পুলিশ যা হবার হবে।</p><p>‘বই আকারে বের করার আগে লেখাগুলি পড়তে গিয়ে ভাল লাগল। মনে হল হাসান হাফিজকে সাময়িকভাবে ক্ষমা করা যায়। আমি এর আগে কোন একটি বই-এ লিখেছিলাম—আত্মকথা–জাতীয় লেখা আর লিখব না। এই বইটিতে কিছু সেরকম রচনা ঢুকে গেছে। পাঠক-পাঠিকারা আমার সে কথা না রাখার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন—এই প্রার্থনা। বলতে ভুলে গেছি এই গ্রন্থের বেশির ভাগ লেখাই আমার প্রিয় পত্রিকা দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে।’</p><p>হুমায়ূন আহমেদ</p><p>১২.১২.৯৪</p><p>সমুদ্রবিলাস</p><p>সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড</p><blockquote>সেই ১৯৯৪। হুমায়ূন আহমেদ তখনই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় লেখক। কোনো পত্রিকায় ধারাবাহিক রচনা লিখবেন—তাঁর জন্য এবং পত্রিকার জন্য বেশ ঝামেলাপূর্ণই ছিল ব্যাপারটা। ‘দৈনিক বাংলায়’ লিখেছিলেন তবু। প্রায় নিয়মিত লিখেছিলেন ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’। সেটা সম্ভব হয়েছিল কীভাবে, বইয়ের ভূমিকা দ্রষ্টব্য। বড় লেখক, বড় আর্টিস্ট।</blockquote><p>সেই ১৯৯৪। হুমায়ূন আহমেদ তখনই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় লেখক। কোনো পত্রিকায় ধারাবাহিক রচনা লিখবেন—তাঁর জন্য এবং পত্রিকার জন্য বেশ ঝামেলাপূর্ণই ছিল ব্যাপারটা। ‘দৈনিক বাংলায়’ লিখেছিলেন তবু। প্রায় নিয়মিত লিখেছিলেন ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’। সেটা সম্ভব হয়েছিল কীভাবে, বইয়ের ভূমিকা দ্রষ্টব্য। বড় লেখক, বড় আর্টিস্ট। বড় আর্টিস্ট যেমন দুই–তিন টানে একটা পোর্ট্রেট ড্রয়িং করতে পারেন, বড় লেখক তেমন দুই–তিন লাইনে একটা মানুষ লিখে দিতে পারেন। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর কবি-বন্ধু হাসান হাফিজকে নিয়ে লিখেছেন—তাঁদের অন্তরঙ্গতা সেই পর্যায়ের ছিল। গলায় গামছা বেঁধে কথার কথা, হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে লেখা আদায় করার কলাকৌশল হাসান ভাই ভালো জানতেন। সহজ কৌশল-সরল অন্তরঙ্গতা। হাসান ভাই সহজে মানুষের অন্তরঙ্গ হতে পারেন। ঘোরপ্যাঁচ নাই।</p><p>হাসান ভাইয়ের ষাটের অধিক কবিতার বইয়ের অধিকাংশের প্রচ্ছদই আমি করেছি। অধিকাংশ বইয়ের নামকরণের পেছনে আমার প্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে। হাসান ভাই দুই–তিনটা নাম ঠিক করে দেন, আমি ভোট দিয়ে একটা ফাইনাল করি। চলছে এভাবে। এত বছর ধরে আমাদের সম্পর্ক। হাসান ভাই আমাকে একটা বিশেষ নামে ডাকেন। সেটা এখানে প্রকাশ করছি না। ভালোবাসা, মায়া–মমতার সব গুমর সবখানে ফাঁস না করা ভালো।</p><p>এর ভালো হোক</p><p>ওর ভালো হোক</p><p>যে ভাবে সে</p><p>সেই ভালো লোক!</p><p>হাসান ভাই সেই ভালো লোকটা। ভালো মানুষটা।</p><p>শুভ জন্মদিন, হাসান ভাই।</p><p>শুভ জন্মদিন, কবি হাসান হাফিজ।</p><p>* ‘এক জন্ম এভাবেই’ হাসান হাফিজের একটি কাব্যগ্রন্থের নাম।</p>
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলার পর, রাতেই হুথিদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকাধীন একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এদিকে, বাংলাদেশে অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট এর মতো অভিযান করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বেসরকারি ব্যাংকে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তা থেকে সরে আসছে বিএনপি সরকার; রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে ভেরিফিকেশন আবার চালুর পরিকল্পনা– এ সংক্রান্ত খবর রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
আরব সাগরের তীরঘেঁষা সাতটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভারতের এই উপকূলীয় জনপদ কীভাবে ইউরোপে রাজনৈতিক জোট হিসেবে ঘোষিত একটি বিয়ের যৌতুকের অংশ হয়ে উঠল, যা পরে বোম্বে এবং আজ মুম্বাই নামে পরিচিত?
বাংলাদেশে আইন পেশায় এমন অনেকেই আছেন, যারা ৩৮, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও এই পেশায় এসেছেন। তবে, এবার এমন সুযোগ বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি সরকার।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।
এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এনএসইউআই-এর ছাত্রী ঋতু বারালাকে ‘ইয়ে শেরনি হ্যায়’ অর্থাৎ ‘বাঘিনী’ বলে প্রশংসা করেছেন।
সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলেই মিলতে পারত শেষ চারে ওঠার টিকিট।
কয়েক মাস আগে সংসার ভেঙেছে ভারতীয় টিভি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহি ভিজের।
চারপাশে মানুষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুদের অভাব নেই, সারাক্ষণই কারো না কারো সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। তবু দিন শেষে অনেক তরুণ অনুভব করছেন একাকিত্ব।
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক নারী পোশাকশ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নকল পণ্য বাজারজাত, মেয়াদোত্তীর্ণ রং দিয়ে কেক তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
টস জিতে আগে বোলিং নেওয়া ভারতকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক হোপের সঙ্গে জুয়েল অ্যান্ড্রুর উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫২ রান।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উদ্বোধন হলো বার্ষিক জাতীয় ক্রীড়া আয়োজন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস সামিট’ (এনএসএস)। প্রথম মৌসুমে ফুটসাল, ক্রিকেট, ম্যারাথন ও সাইক্লিংসহ ছয়টি আয়োজন থাকছে।