ইরানে ‘মাদার অব বোম্বস’ দিয়ে হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপে (COP) জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে অর্থ ছাড় ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থায়নের উৎস খোঁজার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল।
শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
গণিত: শূন্যস্থান পূরণ করো অধ্যায়–৮ ১. ১ কিলোমিটার = মিটার। ২. ১ হেক্টর = বর্গমিটার। ৩. ১ সপ্তাহে ঘণ্টা। ৪. মে মাস দিনে।
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১৫ অক্টোবর একটি গভীর শোক ও বেদনার দিন। ১৯৮৫ সালের এই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো অ্যাসেম্বলি ভবনের ছাদ ধসে প্রাণ হারান ৪০ জন—২৬ শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হন। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করে।</p><p>১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা। জগন্নাথ হলের পুরোনো অ্যাসেম্বলি ভবনে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক দেখছিলেন। দিনভর ভারী বৃষ্টির পর হঠাৎ ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর পরিবেশ পরিণত হয় মৃত্যু, আর্তনাদ ও হাহাকারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথিরা। প্রাণ হারান ৪০ জন। আরও কয়েক শ মানুষ আহত হন বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময় দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটি ভেঙে নতুন করে ‘অক্টোবর স্মৃতি ভবন’ নির্মাণ করা হয়। ভবনের সামনে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয় এবং সেখানে একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে, যেখানে সেদিনের স্মৃতিচিহ্ন, ছবি ও দুর্ঘটনার স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে।</p><p>সেই রাত কেবল একটি ভবন ধসের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাত। যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁদের অনেকের জীবন থেমে যায় অকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্বপ্ন, সংগ্রাম ও স্মৃতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/5q8l6m4b/1791889737656blob.jpg"></figure><p>১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের দুর্ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। নিহত শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথিদের স্মরণে দিনটিকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।</p><p>১৫ অক্টোবর শুধু অতীতের একটি দুর্ঘটনা স্মরণ করার দিন নয়; এটি আমাদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে।</p><p>জীবনের নিরাপত্তা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।</p><p>দায়িত্বশীলতা: ভবনের ঝুঁকি শনাক্তকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।</p><p>মানবিকতা: দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।</p><p>স্মৃতি সংরক্ষণ: নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি, যাতে তারা অতীতের বেদনা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।</p><p>একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তে অনেক জীবন থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সেই ঘটনা থেকে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যতের বহু জীবন রক্ষা করতে পারে। ১৯৮৫ সালের সেই রাতে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল নিজস্ব পরিচয়, স্বপ্ন, পরিবার ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। তাঁদের অনুপস্থিতি প্রিয়জনদের জীবনে যে শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আজ এই দিনে আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়; বরং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, মানবিক সমাজ ও দায়িত্বশীল ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার করা। দিন আমাদের শেখায়, মানুষের জীবন অমূল্য, স্মৃতি চিরন্তন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।</p><p>১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০ জনের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁদের স্মৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান থাকুক।</p><p>*লেখক: মনোজিৎ কুমার রায়, মাইক্রোবায়োলজিস্ট</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote>
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি যৌথভাবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্যগুলো জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহনে জাতিসংঘের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতি দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা।
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে মো. ইমন (২১) নামের এক তরুণকে আটক করে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, ফ্লাইট বাতিল, শ্রমিকদের আটকে পড়া কিংবা ভিসার অনিশ্চয়তা—এসব শুধু সাময়িক ভ্রমণ বিঘ্ন নয়; বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত। সৌদি আরব লাখ লাখ বাংলাদেশির কর্মস্থল, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেখানকার অস্থিরতার অভিঘাত এসে পড়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জাতীয় আয়ে।
ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন শেফিল্ড ইউনাইটেড মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
<p>একসময় ধূসর টি-শার্ট আর হুডিই ছিল তাঁর পরিচয়ের অংশ। পোশাক নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান না—প্রযুক্তি দুনিয়ায় এমন ভাবমূর্তিই তৈরি হয়েছিল মার্ক জাকারবার্গের। সেই জাকারবার্গ এখন বিরল সুইস ঘড়ি, নকশা করে বানানো টি-শার্ট আর বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহের কারণে আলোচনায়। প্রযুক্তি ব্যবসার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত স্টাইলেও এসেছে পরিবর্তন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/wdg6zo4b/zuck14981530001542941655849499143314216.jpg"><figcaption>একসময় ধূসর টি-শার্ট আর হুডিই ছিল মার্ক জাকারবার্গের পরিচয়ের অংশ</figcaption></figure><p>হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাকারবার্গ। তখন তিনি ছিলেন তরুণ এক উদ্যোক্তা। ২০১৭ সালে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই ফিরে গিয়ে সম্মানসূচক ডিগ্রি নেন এবং সমাবর্তনে বক্তব্য দেন। </p><p>বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে ঝুঁকি না নেওয়াই দিতে পারে ব্যর্থতার নিশ্চয়তা। নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সেই সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।</p><p>মেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গের জীবনযাপনে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে মেটার বড় বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, অন্যদিকে তাঁর পোশাক ও ঘড়ির সংগ্রহে বিলাসবহুল পণ্যের উপস্থিতি। প্রযুক্তি দুনিয়ার পরিচিত এই উদ্যোক্তার স্টাইল তাই এখন ফ্যাশন সংবাদমাধ্যমেরও আগ্রহের বিষয়।</p><h3>ঐতিহাসিক সম্পদ, শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/6mpv1nvt/zuck17504235023659140007227282159314216.jpg"><figcaption>মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার জাকারবার্গের সম্পদের বড় উৎস</figcaption></figure><p>২০২৬ সালের অক্টোবরের ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সে জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাব অনুযায়ী, তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন। শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাঁর সম্পদের পরিমাণও প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়।</p><p>বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলারের বিনিময় মূল্য আনুমানিক ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে, ২৬১ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এটি তাঁর আনুমানিক সম্পদের হিসাব, হাতে থাকা নগদ অর্থ নয়।</p><p>মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার তাঁর সম্পদের বড় উৎস। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার আয় আসে মূলত বিজ্ঞাপন থেকে। এআই প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আছে। তবে শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কেবল এআইকেই দায়ী করা যায় না; প্রতিষ্ঠানের আয়, ব্যবসায়িক প্রত্যাশা ও বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5!">জাকারবার্গ সম্পর্কে পাঁচ মিথ!</a></aside><h3>‘বাজে পোশাক’ নিয়ে ঠাট্টা থেকে ফ্যাশনে নতুন আগ্রহ </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/89v303dm/zuck17721300353841227323966878726314216.jpg"><figcaption>স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গ</figcaption></figure><p>একসময় জাকারবার্গের পোশাক বলতে অনেকের চোখে ভেসে উঠত একই ধরনের ধূসর টি-শার্ট ও গাঢ় রঙের হুডি। প্রতিদিন কী পরবেন, তা নিয়ে সময় নষ্ট না করতেই একই ধরনের পোশাক বেছে নেওয়ার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তাঁর এই অভ্যাস প্রযুক্তি দুনিয়ায় একধরনের পরিচিতি তৈরি করেছিল।</p><p>তবে সাধারণ পোশাক পরতেন বলেই তাঁর টি-শার্ট সস্তা ছিল, এমন নয়। বিলাসবহুল ইতালীয় ব্র্যান্ড ব্রুনেলো কুচিনেলির ধূসর টি-শার্ট পরতেও দেখা গেছে তাঁকে। ফলে তাঁর পোশাকের সরলতা আর পোশাকের দাম—দুটি বিষয় সব সময় এক ছিল না।</p><p>সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পোশাকে এসেছে আরও বৈচিত্র্য। ঢিলেঢালা টি-শার্ট, নকশা করা পোশাক, বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের তৈরি পোশাক এবং দুষ্প্রাপ্য ঘড়ির প্রতি আগ্রহের কারণে তাঁকে নিয়ে ফ্যাশনজগতে আলোচনা বাড়ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে মিলান ফ্যাশন উইকে প্রাডার শোতেও উপস্থিত হন তিনি। এটি ছিল তাঁদের প্রথম মিলান ফ্যাশন উইকে অংশগ্রহণ।</p><h3>পছন্দের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড </h3><p>জাকারবার্গের পোশাকের ধরনে এখন বিলাসবহুল ফ্যাশন ও স্ট্রিটওয়্যারের মিশেল দেখা যায়। তাঁর পছন্দের কিছু পোশাক ও ব্র্যান্ড নিয়ে ফ্যাশন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে।</p><h3>মাইক আমিরির নকশার টি-শার্ট </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/fdshhzqr/l87220240926150008.webp"><figcaption>টি–শার্টে জাকারবার্গের নিজস্ব স্লোগান</figcaption></figure><p>মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার মাইক আমিরির প্রতিষ্ঠিত আমিরি ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রতি জাকারবার্গের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর জন্য তৈরি ঢিলেঢালা ও বক্সি কাটের টি-শার্টও নজর কেড়েছে। কিছু টি-শার্টে আছে ব্যক্তিগত স্লোগান। যেমন ‘বিল্ডিং ইজ মাই লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’, অর্থাৎ কিছু তৈরি করাই যেন তাঁর ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা।</p><p>আরেকটি আলোচিত স্লোগান ‘আউট জাক, আউট নিহিল (Aut Zuck, aut nihil)’। এটি লাতিন ‘আউট সিজার আউট নিহিল’ কথাটির অনুকরণ, যার অর্থ ‘সিজার হও, নয়তো কিছুই নয়’। এখানে ‘সিজার’-এর জায়গায় ‘জাক’ ব্যবহার করে নিজের নামের সঙ্গে স্লোগানটি মিলিয়েছেন তিনি। তবে এসব টি-শার্টের প্রতিটিই একটিমাত্র তৈরি হয়েছে কিংবা কেবল তাঁর জন্যই বানানো—এমন দাবি থাকলেও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।</p><h3>কোয়ায়েট লাক্সারি ও স্ট্রিটওয়্যার </h3><p>কোয়ায়েট লাক্সারি বলতে এমন পোশাককে বোঝায়, যাতে বড় লোগো বা চোখে পড়ার মতো নকশার বদলে কাপড়ের মান, কাট ও নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাকারবার্গের সাম্প্রতিক পোশাকেও এ ধরনের সরল নকশা ও আরামদায়ক কাট দেখা যায়। ছুটির দিনের পোশাকে ঢিলেঢালা শর্টস, স্লাইড স্যান্ডেল ও সাধারণ টি-শার্টের মতো অনানুষ্ঠানিক উপকরণও তাঁর স্টাইলের অংশ।</p><p>তবে তাঁর পোশাকের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্র্যান্ডের নাম ও সেসবের উৎপাদনস্থল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজে যাচাই করা যায়নি।</p><h3>মিলান ফ্যাশন উইকে প্রাডা </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/hluugpsj/zuck17721300353841227139769797786314216-Copy.jpg"><figcaption>প্রিসিলা চ্যাক ও মার্ক জাকারবার্গ—দুজনেরই পরনে প্রাডার পোশাক</figcaption></figure><p>২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মিলানে প্রাডার অটাম-উইন্টার ২০২৬–২৭ সংগ্রহের প্রদর্শনীতে স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে সামনের সারিতে বসেছিলেন জাকারবার্গ। দুজনেরই পরনে ছিল প্রাডার পোশাক। প্রযুক্তি ও ফ্যাশনজগতের সম্পর্ক নিয়ে তখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, বিশেষ করে মেটার স্মার্ট চশমা ও বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতার প্রসঙ্গে। তবে প্রাডার সঙ্গে মেটার কোনো নির্দিষ্ট স্মার্ট চশমা প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে, এমন দাবি থাকলেও সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।</p><h3>অভিজাত ঘড়ির সংগ্রহ </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/vegblfm9/untitled-design-2024-12-13t144531272nmpv.jpg"><figcaption>জাকারবার্গের কবজিতে বুলগারির দামি ও সবচেয়ে পাতলা ঘড়ি</figcaption></figure><p>বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতিও জাকারবার্গের আগ্রহ আছে। একসময় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত জাকারবার্গকে এখন বিরল ও দামি ঘড়ি পরতেও দেখা যায়। </p><p>তাঁর সংগ্রহে থাকা ঘড়ির মধ্যে সুইস নির্মাতা গ্রুবেল ফরসের ‘হ্যান্ড মেড ১’ বিশেষভাবে আলোচিত। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেটার নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এই ঘড়ি পরেছিলেন তিনি। এর দাম প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছিল ব্লুমবার্গ। ঘড়িটি হাতে তৈরি করতে প্রায় ৬ হাজার ঘণ্টা সময় লাগে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।</p><p>জাকারবার্গকে ডি বেথুন, এফ পি জর্নে ও পাটেক ফিলিপের মতো নির্মাতার ঘড়ি পরতেও দেখা গেছে। এসব ঘড়ির কিছু মডেল সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয় এবং সেসবের দাম কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘড়ির মডেল, সংস্করণ, অবস্থা ও বাজারদরের ওপর মূল্য নির্ভর করে; তাই তাঁর সংগ্রহের প্রতিটি ঘড়ির নির্দিষ্ট দাম নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/3l8wwrkxu8">কাজপাগল মার্ক জাকারবার্গ কনসার্টে গিয়ে কাটালেন ‘কন্যাদের বাবার জীবন’</a></aside><h3>পরিবারকে সময় দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/w7v228h5/zuck15186483191714868856935484981314216.jpg"><figcaption>ব্যবসা ও জনসমক্ষে উপস্থিতির বাইরে পরিবারও জাকারবার্গের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ</figcaption></figure><p>ব্যবসা ও জনসমক্ষে উপস্থিতির বাইরে পরিবারও জাকারবার্গের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে তাঁর তিন মেয়ে—ম্যাক্সিমা, আগস্ট ও অরেলিয়া। তাঁদের জন্ম যথাক্রমে ২০১৫, ২০১৭ ও ২০২৩ সালে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে মেয়েদের বয়স আনুমানিক ১০–১১, ৮–৯ ও ২–৩ বছর।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/m565g3o4/zuck17779968843890441528472043577314216-Copy.jpg"><figcaption>জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন</figcaption></figure><p>জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পারিবারিক জীবনও তাঁর জনসমক্ষে প্রকাশিত ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ।</p><h3>প্রযুক্তির দুনিয়া থেকে ফ্যাশনের আলোচনায় </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/kdps2hgt/zuck17304220373491355562187720193314216.jpg"><figcaption>হ্যালোইনের পোশাকে জাকারবার্গ</figcaption></figure><p>মেটা যখন স্মার্ট চশমা ও পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির মতো পণ্যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর ব্যক্তিগত স্টাইলও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছে। তবে জাকারবার্গের পোশাকের পরিবর্তনকে কেবল মেটার ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ফল বলা যাবে না। তাঁর ব্যক্তিগত রুচি, পোশাক নিয়ে আগ্রহ এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।</p><p>ধূসর টি-শার্ট ও হুডির জন্য পরিচিত জাকারবার্গ এখন বিলাসবহুল ঘড়ি, নকশা করা টি-শার্ট এবং ফ্যাশন শোর সামনের সারিতেও আলোচনায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর পরিচিতির পাশাপাশি এই পরিবর্তন তাঁকে ফ্যাশনসংক্রান্ত আলোচনারও একটি পরিচিত মুখ করে তুলেছে।</p><p><sup>সূত্র: হার্ভার্ড গেজেট, ব্লুমবার্গ, জিকিউ, আনসা ও নিউইয়র্ক টাইমস</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/3xgkkcl5fp">প্রথম দেখায় প্রিসিলাকে যা বলেছিলেন জাকারবার্গ</a></aside>
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলার পর, রাতেই হুথিদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকাধীন একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এদিকে, বাংলাদেশে অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট এর মতো অভিযান করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের ছাদ ধসে ১৮ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালের মুখপাত্র।
দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।
ইউক্রেনের ড্রোনসহ কিছু অস্ত্রের গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পেছনে মার্কিন সরকার থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংকের ওপর এই বিধিনিষেধ এমন এক সময়ে আরোপ করা হয়, যখন ইউক্রেনে প্রাণঘাতী হামলা চালায় রাশিয়া।
বেসরকারি ব্যাংকে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তা থেকে সরে আসছে বিএনপি সরকার; রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে ভেরিফিকেশন আবার চালুর পরিকল্পনা– এ সংক্রান্ত খবর রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
আরব সাগরের তীরঘেঁষা সাতটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভারতের এই উপকূলীয় জনপদ কীভাবে ইউরোপে রাজনৈতিক জোট হিসেবে ঘোষিত একটি বিয়ের যৌতুকের অংশ হয়ে উঠল, যা পরে বোম্বে এবং আজ মুম্বাই নামে পরিচিত?
বাংলাদেশে আইন পেশায় এমন অনেকেই আছেন, যারা ৩৮, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও এই পেশায় এসেছেন। তবে, এবার এমন সুযোগ বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি সরকার।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত তারকা জুটি শুভশ্রী গাঙ্গুলি ও দেব। তিক্ততা ভুলে ফের জুটি বেঁধে হইচই ফেলে দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগে ২১ জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়ছে। এ সময় ছয়টি নৌকা জব্দ এবং ১০ মণ ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহর কলকাতাকে বর্ণময় করে তুলতে গিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
গাজীপুরের টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আধুনিক লিভার ক্যানসার ক্লিনিকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
ঢাক-ঢোল ও কাঁশি-সানাইয়ের বাজনা ছাড়া পূর্ণতা পায় না দুর্গাপূজা।
ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।