স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দূর্জনীমহল এলাকায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো বাবা আক্তার ঢালীকে (৬০)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। আলজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে।”
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর তুর্কুতে (পূর্বে ফিনল্যান্ডের রাজধানী ছিল) অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা ‘বাংলাদেশি কালচারাল ডে ২০২৬’। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় কৃষ্টি ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘তুর্কু বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন’ (Turun Bangladeshilaisten Yhdistys-TBY) এক বিশেষ মেলা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। মেলায় আবহমান বাঙালি খাবার, বাঙালি পোশাক ও বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রদর্শন এবং চর্চার মাধ্যমে ভিনদেশে নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন ফিনল্যান্ডপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ মেলা কেবল ফিনল্যান্ডে বাঙালিদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলাই নয়, বাঙালি নবপ্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি লালনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা মনে করেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, নৃত্য ও বিভিন্ন মঞ্চপরিবেশনার মধ্য দিয়ে সুদূর ফিনল্যান্ডের বুকে প্রবাসীরা তুলে ধরেন একটুকরা বাংলাদেশ।</p><p>অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন আদিবা ফারাহ ও জাহিদ লিংকন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী ও অতিথিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশন করা হয়। সূচনাপর্বে আয়োজক সংগঠন টিবিওয়াই-এর দীর্ঘদিনের প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম। তুর্কু শহরে আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশিদের সামাজিক তৎপরতা বিদ্যমান থাকলেও কমিউনিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৮ জুন সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে শতাধিক সক্রিয় সদস্য নিয়ে গঠিত এ সংগঠন নিয়মিত সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন রমজানে ইফতার মাহফিল, কোরবানির ঈদ উদ্যাপন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সেমিনার এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।</p><p>সাংস্কৃতিক পর্বের প্রথম চমক ছিল শিশুদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশের ছয় ঋতু’ শীর্ষক বিশেষ মঞ্চ–উপস্থাপনা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—বাংলার এই বৈচিত্র্যময় ঋতুচক্রকে খুদে পরিবেশকেরা অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে মঞ্চে তুলে ধরে উপস্থিত সবার ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>অনুষ্ঠানের সাহিত্য ও আবৃত্তি পর্বে পরিবেশিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, জনপ্রিয় কবিতা ‘নিমন্ত্রণ’ ও ‘আমার বন্ধু’। এ ছাড়া আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি একক কি–বোর্ড ইনস্ট্রুমেন্টাল পরিবেশনা, যা দর্শককে সুরের ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।</p><p>নৃত্য ও নাট্যপর্বে দেশীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়। ঐতিহ্যবাহী ‘লীলাবালি’ ও ‘রূপবান-এ নাচে’ গানের সঙ্গে মনকাড়া নৃত্য পরিবেশিত হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ‘ভাসাব দোহারে’ এবং রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’-এর নান্দনিক নৃত্য। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরে পরিবেশিত হয় বিশেষ নৃত্য ‘পাহাড়ি উৎসব’। আধুনিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে ব্যঙ্গাত্মক আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে মঞ্চস্থ হয় একটি একক রম্য নাটিকা ‘টিকটকার বান্ধবী’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/gba7kiz7/4.jpg"></figure><p>সংগীতের বিভিন্ন ধাপে পরিবেশিত হয় তুর্কুর জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ‘নামছাড়া’–এর পরিবেশনায় কালজয়ী ও জনপ্রিয় বাংলা গানের একের পর এক পরিবেশনা। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ‘হারিয়ে যাও’, ‘আমার পথচলা’, ‘অপেক্ষা’, ‘তারায় তারায়’, ‘অন্ধ’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘অসমাপ্ত’, ‘আলো’, ‘জাদুর শহর’, ‘বিস্ময়’, ‘বন্ধ জানালা’, ‘অবচেতন’, ‘পূর্ণতা’ এবং সব শেষে ঐতিহাসিক সংগীত ‘চলো বদলে যাই’। বাংলার মাটির সুরের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে লোকসংগীতের একটি বিশেষ ফিউশন পরিবেশনাও রাখা হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি প্রকাশে পরিবেশিত হয় একটি ফিনিশ ভাষার গান ‘কেসায়ো’ (Kesäy)।</p><p>সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সহসভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল সাজ্জাদ উপস্থিত অভিভাবক, শিশু-কিশোর, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রবাসের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও শিকড়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্ত রাখা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দর্শকের উষ্ণ করতালির মধ্য দিয়ে সফল ও সার্থকভাবে সমাপ্ত হয় ফিনল্যান্ডের তুর্কুর ‘বাংলাদেশি কালচারাল ডে ২০২৬’।</p>
<p>রংপুরের তারাগঞ্জে একটি মিনি পাম্পে অভিযান চালিয়ে মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার সয়ার ধোলাইঘাট বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।</p><p>ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের ধোলাইঘাট বাজারের ‘মা লক্ষ্মী মিনি পাম্পে’ অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিমাণে কম দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কমল রায়কে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।</p><p>তারাগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, পাম্পটি প্রতি লিটার তেলে ২৬ মিলি লিটার কম দিচ্ছিল। ওজন ও পরিমাপের ক্ষেত্রে অনিয়মের দায়ে পাম্পটির স্বত্বাধিকারীকে আইন অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।</p><p>অভিযানের সময় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), রংপুর এবং তারাগঞ্জ থানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় প্লট দখল, রাস্তা বন্ধ এবং ভবন নির্মাণে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে নির্মাণশ্রমিকদের মারধর ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় থানায় একাধিক জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্লট ও ফ্ল্যাটমালিকেরা।</p><p> আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি’। এতে সমিতির সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।</p><p>লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) আওতাধীন রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার এই আবাসন প্রকল্পের ‘ক’ ও ‘খ’ ব্লকে অন্তত অর্ধশত প্লটের মালিক চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গভীর রাতে ইট-বালু ও টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, দেয়াল তুলে গেট তৈরি এবং ২০ ফুট চওড়া রাস্তায় লোহার অ্যাঙ্গেল ওয়েল্ডিং করে চলাচলের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া প্রকল্পের খ-ব্লকের পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা জায়গা দখল করে বস্তি ও গ্যারেজ বসানো হয়েছে, যার আড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা। এসব ঘটনায় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর কার্যালয় থেকে রূপনগর থানায় একাধিক জিডি ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।</p><h3>পুলিশের উপস্থিতিতে কাজ বন্ধের অভিযোগ </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুলসহ দুজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে চাঁদাবাজেরা ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় থানায় গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরে সিএমএম আদালতে মামলা করেন।</p><p>এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান হোসাইনকে দুপুর থেকে কয়েক দফায় ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ রাত সোয়া ১০টায় ফোন করলে তিনি কেটে দেন।</p><p>রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির অভিযোগ, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকা ২২ সদস্যের আনসার ক্যাম্পটি প্রত্যাহারের দিন রাতেই ক্যাম্পসহ দুটি প্লট দখল করে নেয় চক্রটি। শামসুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই প্রকল্পে অনেকে ভবন তুলেছেন, অনেকে সীমানা ঘিরে রেখেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অন্যের জমিতে ঘর তুলে জবরদখল শুরু করেছেন।</p><p>দখলদার চক্রে ৩৬ থেকে ৩৮ জন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এই চক্রের সদস্য হিসেবে সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন ওরফে শান্ত, শিহাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, নজরুল ইসলাম (নজু), আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মামুন, আইজল, মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, রাজু, সুমন, এরশাদ খোকন, জাহিদ হোসেন, মিজান, রকি, ফয়েজ, কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল, দুলাল, সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী, বাশার ও সফিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।</p><p>সমিতির দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ আগে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। দখলে বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।</p><p>প্লটমালিকদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সমিতির নেতারা।</p>
প্রথম স্টার নিউজ নারী ফুটবলে তেঁতুলতলা সুপার কুইন এক দিনে দুই ম্যাচ জিতে চূড়ান্ত পর্বের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে
<p>শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটি ইউনিটের দাম এক মাসে প্রায় ৯ টাকা বা ৪১ শতাংশ বেড়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য ছিল ২১ টাকা ৭০ পয়সা। আজ সোমবার এর প্রতিটি ইউনিটের দাম দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। অল্প সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডটির এই মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।</p><p> বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য নির্ভর করে ফান্ডের সম্পদমূল্যের ওপর। সম্পদমূল্য বাড়লে তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে বাজারমূল্য বেড়ে থাকে। তবে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে সম্পদমূল্যের তুলনায় বাজারমূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।</p><p>প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার দিন শেষে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডটির প্রকৃত সম্পদমূল্য ছিল ৯ টাকা। সেই হিসাবে সম্পদমূল্যের তিন গুণের বেশি দামে বাজারে লেনদেন হচ্ছে ফান্ডটির ইউনিট। ফান্ডটির সর্বশেষ সম্পদমূল্যের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তহবিলের বিনিয়োগ করা অর্থের ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে সম্পদমূল্য ১০ টাকা। সেই হিসাবে ক্রয়মূল্যের চেয়ে তহবিলটির বাজারমূল্য কম। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ১ টাকা লোকসানে রয়েছে ফান্ডটি। তারপরও বাজারে এটির ইউনিটের দাম সম্পদমূল্যের কয়েক গুণ বেশি।</p><p>এই অবস্থায় আজ সোমবার মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাতে বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তহবিলের প্রকৃত সম্পদমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার।</p><p>বিএসইসি বলেছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বাজারে কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য ও প্রকৃত সম্পদমূল্যের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত সম্পদমূল্য অন্যতম বিবেচ্য। কোনো মিউচুয়াল ফান্ড নগদায়নের ক্ষেত্রে ওই ইউনিটের সম্পদমূল্যের চেয়ে বিনিয়োগকারীর বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।</p><p>বিএসইসি বলেছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে ওই ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বাজারে ইউনিটের দাম বাড়ছে—এমন তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বা কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্ররোচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বিএসইসি আরও বলেছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্যের পাশাপাশি ফান্ডের মেয়াদ, বিনিয়োগের ধরন, ফান্ডের পোর্টফোলিও এবং প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য জেনে–বুঝে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।</p>
<p>চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমানকে (স্বপন) আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাঁকে আটকের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।</p><p> ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান এই বিএনপি নেতাকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে এসআরবি জানিয়েছে। </p><p>পুলিশ ও এসআরবি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গার্মেন্টস থেকে চাঁদাবাজি, নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালনা, আগারগাঁও নতুন রাস্তা এলাকার ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি এবং শেরেবাংলা নগর থানার পাশের সমবায় বস্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার দেড় মাস পর তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর রূপসা উপজেলায় ১২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।</p><p> পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।</p><p>স্থানীয় লোকজন আক্তার ঢালীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী নিহত হন। কী কারণে এবং কারা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p><p>এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।</p><p>এদিকে গতকাল রোববার খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে চায়ের দোকানে একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।</p><blockquote>এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।</blockquote><p>পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩৩টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গুলিতে।</p><p>পুলিশের ভাষ্য, জেলার নয়টি থানায় হওয়া ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে পারিবারিক কারণে ১১টি, মাদককে কেন্দ্র করে ৩টি, চুরি-ছিনতাইকে কেন্দ্র করে ৩টি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২টি এবং আর্থিক কারণে ২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।</p><p>পুলিশের দাবি, ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে তারা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/agnnsm8q5n">খুলনায় কথা বলতে বলতে ছুরি দিয়ে পায়ে আঘাত, পরে গলা কেটে যুবককে হত্যা</a></aside>
মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশুধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক কৃষকের বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে এবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০শে অক্টোবর থেকে পরবর্তী তিনদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
ঢাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের দিক থেকে গত জুনে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি পেতে হলে আইএমএফ- এর চারটি শর্ত বাংলাদেশকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কারে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। যদিও এ বছর বাজেটেই বলা হয়েছে, সরকার প্রথম দুই বছরে বড় কোনো সংস্কারে যেতে চায় না। ফলে আইএমএফ নিয়ে আসলে কী হতে যাচ্ছে?
সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক তিনজন নারী বাংলাদেশ থেকে নেপালে যাওয়ার জন্য ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন অফিসারদের নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শুধু বিমানবন্দরেই নয়, দেশের ভেতরেও একা কিংবা নারীরা কয়েকজনে মিলে ঘুরতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লি ও মুম্বাইতে। আগামী ১০ই অক্টোবর ফের বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থী ছাত্র -যুব সংগঠন।
বলসোনারোর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় তিনিই এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ প্রথম দফায় বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীর মধ্যে ডানপন্থী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। আগামী ২৫শে অক্টোবর এই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে পুলিশের নিজস্ব রিপোর্টের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনে জ্বালানির দাম বাড়া এবং বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের নিকন কমেডি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডসের ফাইনালিস্টদের মধ্যে রয়েছে একটি ভ্রূকুটি করা পেঁচা, হাসিতে মগ্ন ভালুক এবং অলসভাবে বসে থাকা একটি ম্যান্ট্রিস।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রস্তুতির আভাসের মধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে মন্তব্য করেছেন তা বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কী বলেছেন দীনেশ ত্রিবেদী? কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি?
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, লেখক, সাহিত্যিক, রাইটস এজেন্ট, অনুবাদক, প্রযুক্তিবিদ ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডও অংশ নিচ্ছে।
পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডিরেক্ট লিস্টিং) ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সঠিক অডিট, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর শেয়ারবাজারে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হিসাববিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর আগে সিরিঞ্জের সংকট দেখা দিলেও তা সম্প্রতি তা দূর হয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু স্যালাইন দেওয়া হলেও ফার্মেসিতে এই স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দূর্জনীমহল এলাকায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো বাবা আক্তার ঢালীকে (৬০)।
নাটোরের নলডাঙ্গায় মসজিদে ফজরের আজান দেওয়ার সময় সৈয়দ ইসলাম (৫০) নামের এক মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।