নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া
মা হওয়ার পর অভিনয়জীবনে সিনেমা বাছাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে শ্রিয়া সরণের। তবে, এই পরিবর্তনের সময়ে ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিম যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিই অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
দেনমোহর পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তা দিতে বিলম্ব করেন, সে ক্ষেত্রে আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
<p>পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার সেই বিস্ফোরক ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এত দিন পর পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন দীর্ঘ এক বিবৃতি। সেখানে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রোনালদো। ক্ষমা চেয়েছেন পর্তুগালের মানুষ, সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে। একই সঙ্গে বলেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।</p><p>রোনালদোর দাবি, পর্তুগালের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর কয়েক দফা আলোচনার পরও কোচ প্রতিশ্রুতি রাখেননি। শেষ পর্যন্ত আরেকটি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও বলেছেন পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/lugop7q4/gettyimages-2296293308-2048x2048.jpg"><figcaption>ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন রোনালদো</figcaption></figure><p><strong>রোনালদোর পুরো বিবৃতিটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।</strong></p><p>কথা দিয়েছিলাম, তাই জাতীয় দলের যাত্রার সর্বশেষ পর্বের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেই, সরাসরি ও উত্তম পুরুষে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।</p><p>২০২৬ বিশ্বকাপের পর আমি পর্তুগালের মানুষের জন্য একটি বার্তা তৈরি করে রেখেছিলাম। সেটি এখনো আমার কাছে আছে। আমি যখন সত্যিই আমাদের দল ছেড়ে যাব, তখন তাঁদের উদ্দেশে যা বলতে চাই, তা-ই আছে সেখানে।</p><p>টুর্নামেন্টের শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার ফ্লাইটে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে অনুরোধ করেছিলেন এবং জোর দিয়ে বলেছিলেন, দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা যেন আমি আবার ভেবে দেখি। কারণ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন চেয়েছিল আমি থেকে যাই।</p><p>এর পরপরই তিনি আমার কাছে জাতীয় দলের বর্তমান কোচের নাম নিয়ে আমার মত জানতে চান। তিনি তাঁকে বিবেচনা করছিলেন। সঙ্গে আরও কয়েকটি নাম ছিল, যেগুলো তিনি আমাকে জানাননি।</p><p>আমি ফেডারেশনের সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে এটিই হবে আদর্শ পছন্দ। তাই বর্তমান কোচকে যেদিন পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, সেদিন এই সিদ্ধান্তে আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। ফলাফলই প্রমাণ করে, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।</p><p>কয়েক দিন পর নতুন কোচের কাছ থেকে প্রথম ফোন পেলাম। তিনি সরাসরি আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। আমি রাজি হলাম, আমরা একটা তারিখও ঠিক করলাম। ‘আমার ছুটির শেষে।’</p><p>আমাদের দেখা হলো সেই ফুটবল শহরে, যেখানে আমার ক্লাব প্রি-সিজন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছিল।</p><p>সেদিন কোচ আমাকে বললেন, তিনি আমার ওপর ভরসা রাখছেন এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি অপরিহার্য। তিনি আমার কাছে আমার তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন। বললেন, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব এবং শারীরিক সক্ষমতার কারণে প্রতিটি ম্যাচে তিনি তিন-চারটি পরিবর্তন আনবেন।</p><p>ওই সময় তিনি প্রস্তাব দিলেন, আমি যেন নরওয়ে ও ডেনমার্কে জাতীয় দলের সঙ্গে ভ্রমণ না করি। তাঁর প্রস্তাব ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলে পর্তুগালেই থেকে যাব, তারপর দ্রাগাও স্টেডিয়ামের ম্যাচের আগে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেব।</p><p>আমি তৎক্ষণাৎ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার কাছে পরিষ্কার মনে হলো, এটা আমি মেনে নিতে পারি না। বিদেশের মাটিতে ম্যাচ না খেললে আমি আমাদের দলের অধিনায়ক থাকব না, তা নয়। কিন্তু পর্তুগালে থেকে যাওয়ার সুবিধা নেওয়াটা ভালো দৃষ্টান্ত হতো না।</p><p>শেষ পর্যন্ত কোচ আমার বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত হলেন।</p><p>এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আল নাসর ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমো কুতিনিও। গত মৌসুমজুড়ে জাতীয় দলের বর্তমান কোচ তাঁর কাছেই জবাবদিহি করতেন, আর ২০২৫ সালে কোচের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পেছনে যাঁরা দায়ী, তিনি তাঁদের একজন।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগের দিন কোচ তাঁর অনুরোধে লিসবনে আমার বাসায় এলেন আরেকটি আলোচনার জন্য। আলাপ ছিল শান্ত, আর আগস্টে যেসব নীতিতে একমত হয়েছিলাম, আমরা তার সবই মেনে চলছিলাম। আমি আলভালাদে স্টেডিয়ামের ম্যাচটি খেললাম। বদলি হয়ে উঠে গেলেও আমি কোনো সমস্যা তৈরি করিনি। নিজ হাতে আমি ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দিয়েছি। তখন আমার মাথায়ই আসেনি যে একজন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে আমি হয়তো শেষ কয়েকটা পদক্ষেপ ফেলছি। সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জয়। জেতা সব সময়ই ভালো, আর পর্তুগালে, আমার দেশের জন্য, সেটা সবচেয়ে ভালো।</p><p>নরওয়েতে ম্যাচের দিন দুপুরের খাবারের সময় জাতীয় দলের কোচের সহকারী সেই টেবিলে এলেন, যেখানে দল দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। তিনি আমাকে বললেন, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমাকে অবাক করে দিয়ে কোচ জিজ্ঞেস করলেন, আমি ৩০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত কি না। আমি তখন পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগী ছিলাম, যথারীতি সতীর্থদের সঙ্গে মিশে ছিলাম, আর ভাবছিলাম সেদিন আমি খেলব না। কোনো সমস্যা নেই।</p><p>এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার বাইরে ছিল, কারণ আমার মাসের চার তারিখে দ্রাগাও স্টেডিয়ামে খেলার কথা ছিল। তবু অবশ্যই আমি রাজি হলাম। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন, আমি যেন প্রস্তুত থাকি, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।</p><p>বাকিটা সবারই জানা। বিরতির পর থেকে আমি ওয়ার্ম-আপ করতে শুরু করলাম, মিনিটগুলো পেরিয়ে যেতে দেখলাম, কিন্তু কেউ আমাকে ডাকল না। কোচ কথা রাখেননি।</p><p>ম্যাচ শেষে আমি শুধু চাইছিলাম, সবকিছু জয়ে শেষ হোক আর আমি একা থাকতে পারি। আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এই ভুলের দায় একা আমার, আর এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। যাঁরা সেখানে উৎসাহ নিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন, সেই পর্তুগিজদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আর যাঁরা আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন, তাঁরা পর্তুগিজ না হলেও, যাঁদের আমি হয়তো হতাশ করেছি, তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।</p><p>৪৮ ঘণ্টা পর আমরা কথা বললাম, আমি, কোচ আর সিমো কুতিনিও, কারণ তিনি আমাদের আলাপগুলো অনুসরণ করছিলেন।</p><p>সেটা ছিল খুবই গভীর ও খোলামেলা একটি মুহূর্ত, কোনো রাখঢাক ছাড়াই।</p><p>আমরা একমত হলাম যে এই ‘ঘটনা’ শেষ করার একটাই উপায় আছে। কোচ আমাকে একান্তে যা বলেছেন, সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতে সেটাই সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পুনরাবৃত্তি করবেন।</p><p>চুক্তিটা ছিল সহজ। কোচ সংবাদ সম্মেলন শুরু করবেন এই বিষয় দিয়ে, সত্য বলে প্রসঙ্গটার ইতি টানার চেষ্টা করবেন। তিনি বলবেন, আমি কখনো কয়েক মিনিটের জন্যও খেলতে চাইনি। এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা একা কোচই প্রস্তাব করেছিলেন, আর কেউ নয়। আমাকে ম্যাচে না নামিয়ে কেবল ওয়ার্ম-আপ করানো ভুল হয়েছে। আর যদি আবার এমন হয়, তিনি তা করবেন না।</p><p>কোচ আমার সঙ্গো আলিঙ্গন করে সেই বৈঠক শেষ করলেন। তিনি আমাকে কথা দিলেন, এইমাত্র আমাকে যা বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে তা-ই বলবেন, আর বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। আমি ডেনমার্কে খেলব না, কিন্তু দ্রাগাও স্টেডিয়ামের ম্যাচে খেলব। এ সবকিছুই ঘটল সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতে, যথারীতি।</p><p>কোচের অনুরোধে তাঁর, সিমো কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর মধ্যে একটি ভিডিও বৈঠক হলো, আমরা যা আলোচনা করেছি তার সারসংক্ষেপ করার জন্য।</p><p>একটি সংক্ষিপ্ত নথি তৈরি করা হলো। আমি নিজে তা অনুমোদন করলাম এবং কোচের অনুরোধে তা তাঁর হাতে দেওয়া হলো।</p><p>বৈঠকটি হলো প্রত্যাশামতোই: আচরণের সঙ্গে আমাদের সভার কোনো মিল ছিল না। আমি এমন কিছু কথা ও আগ্রাসী আচরণ শুনলাম, যা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। আর এমন একটা মনোভাব দেখলাম, যেন তিনি ‘চান, পারেন এবং আদেশ দেন’। আগের দিন একান্ত বৈঠকে, এমনকি পরোক্ষভাবেও, এ রকম কিছু তিনি আমাকে কখনো দেখাননি।</p> <p>আমি যে নোটগুলো দেখেছি, সেগুলো ছিল এই রকম: ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি, কারণ এটাই সত্য:</p><p>১. জাতীয় দলের সঙ্গে এই ক্রীড়া মৌসুমের জন্য ক্রিস্টিয়ানোর একটি পরিকল্পনা আমি নিজেই প্রস্তাব করেছি, অন্য কাউকে ছাড়া। সেটি ছিল দীর্ঘ ও খুবই ফলপ্রসূ একটি আলাপ।</p><p>২. আমি জানি জাতীয় দলকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, আর বিশ্বজুড়ে তাঁর যে অবস্থান, সেটাও জানি। তার চেয়েও বড় কথা, টানা ২৪ বছর ধরে জাতীয় দলের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা ইতিবাচক ছিল, সেটাও জানি।</p><p>৩. ক্রিস্টিয়ানোর জন্য আমার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল।</p><p>৪. তিনি কখনো আমার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলেননি। তিনি ছিলেন অনুসরণযোগ্য এক দৃষ্টান্ত, অনুগত ও পেশাদার।</p><p>৫. নরওয়ে ম্যাচ তাঁর জন্য আমার ঠিক করা পরিকল্পনায় ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, তিনি প্রথম ম্যাচ থেকে শারীরিকভাবে সেরে উঠেছেন। আমি তাঁকে সতর্ক করেছিলাম যে আমি হয়তো তাঁকে নামাতে বাধ্য হব। ক্রিস্টিয়ানো রাজি হয়েছিলেন।</p><p>৬. পেলে বা ম্যারাডোনার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচে না নামিয়ে কেবল ওয়ার্ম-আপে জড়ানো আমার ভুল হয়েছে। আজ হলে আমি এমনটা করতাম না।</p><p>৭. সংক্ষেপে: আমি ক্রিস্টিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। সত্যি বলতে আমি অল্প চাই না, অনেকটাই চাই। আর সৌভাগ্যবশত তিনিও আমার ওপর আস্থা রাখেন। আল নাসরে তিনি আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, এখানেও রেখেছেন।</p><p>৮. সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো নিয়ে আমরা আগেই কথা বলেছি। যে খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন, পর্তুগালকে ভালোবাসার ব্যাপারে তাঁকে আমার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হয় না। সেটা ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা কোনো কিছুই মুছে ফেলে না। তিনিই সেই খেলোয়াড়, যিনি সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেন, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলেন এবং সমর্থকদের প্রতি সবচেয়ে বেশি স্নেহ দেখান। আসুন, শূন্য থেকে সমস্যা তৈরি না করি। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। ব্যাপারটা এটুকুই। অতএব এই নোটগুলোর কোথাও উল্লেখ ছিল না যে কোচ আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।</p><p>এটা ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি কথা রাখলেন না।</p><p>আরেকটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা না করেই আমি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, যে প্রতিশ্রুতি রাখা হতো না। আমার কাছে মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যত কষ্টেরই হোক, আমি চাই আমাকে সত্যিটাই বলা হোক।</p><p>আসলে সেই সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আমার যে কথা হয়েছিল, তাতে আমি তাঁদের নিশ্চিত করে বলেছিলাম (আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন), যদি তাঁরা আমার উপস্থিতি না চান, তাহলে যেন আমাকে সেটা জানিয়ে দেন। তাঁদের শুধু আমার সঙ্গে স্পষ্ট হতে হতো। আমি তা মেনে নিতাম এবং তাঁদের কথা দিতাম যে আমরা চমৎকার কিছু তৈরি করব, যেমনটা আশা করি হবে, আর কেউ রাগ করত না।</p><p>আমার মনে আছে, যেন গতকালের ঘটনা। তাঁরা সমস্বরে ‘না’ বলে উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা।</p><p>আমার প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কোচ বা জাতীয় দলের কর্মকর্তার কোনো কারিগরি বা কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যা প্রস্তাব করেন, ভালো হোক বা মন্দ, আমি তা মেনে নিই। আমি সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আর যখন তাঁরা আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেন না, তখন আমার মনে হয় আমার জায়গা এখানে নয়।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইছি। কোচের আস্থার পুরোপুরি ভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও, এই আলাপগুলোর সাক্ষী প্রত্যেকেই যা প্রত্যয়ন করতে পারবেন, আমার এটা করা উচিত হয়নি। দায় একা আমার।</p><p>আমি পর্তুগালের মানুষের কাছে আবারও ক্ষমা চাইছি। তবে আমার প্রতিশ্রুতি ভাঙার ঘটনা আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার মনে হলো, ওই মুহূর্ত থেকে দলের সঙ্গে আমার থাকা শুধু দলের ক্ষতিই করবে। তাই আমি তা-ই করলাম, যা সব সময় বলতাম আমি করব, যদি মনে করি আমি কোনো কাজে আসছি না: আমি আমার ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেলাম।</p><p>আমার কাজের পরিণতি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এর জন্য আমাকে শাস্তি দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, শাস্তি কমানো উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নই, আমি দলের অধিনায়ক, আর সেটা একটি গুরুতর বিবেচ্য বিষয়। আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু জানি যে প্রতিটি কাজেরই পরিণতি আছে। ফুটবল জগতের যে কেউ, আমার মতো, জানে যে ব্যক্তিগত মর্যাদা যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য সমান।</p><p>এ প্রসঙ্গে আমি বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। শুনেছি, আমার জন্য আমার উপযুক্ত একটি বিদায় দরকার, আর ফেডারেশন আমাকে এই সুযোগ দিতে চায়।</p><p>জীবনে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করতে করতে, খাওয়ার মতো কিছু না থাকা অবস্থায় আমি শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা মূল্যে কিছু দেয় না। আমি আমার সব সমর্থককে, বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে কথা দিতে পারি, আমরা একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলব। এর জন্য সময় থাকবে।</p><p>তবে জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি। যেদিন আমি বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও আমি সেটাই ভেবেছিলাম। আমি তখন জাতীয় দলের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলাম, আর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পরের দিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকব। আমার দেশের জন্য আমি সেদিন তা-ই করেছিলাম, যা কোনো ক্লাবের জন্য আমি কখনো করতাম না।</p><p>তাই আমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, আমার ক্লাবের হয়ে খেলতে পারি, গোল করতে পারি, , তাহলে আমার এই তথাকথিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, আগের মতোই, আমি জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে ও জিততে প্রস্তুত থাকব।</p><p>বিশ্বাস করুন, এটাই চূড়ান্ত সত্য।</p><p>ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো,</p><p>৬ অক্টোবর ২০২৬</p>
পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলার সময় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।
বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা ও সুবিধার আশ্বাস দিয়েছেন।
<p>হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম ঢাকার আদালত থেকে দ্বিতীয়বার পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আবদুল আলিম নামে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শরিফুল ইসলাম পালানোর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>তদন্ত কমিটিতে আছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাসিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদী হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীম।</p><p>এ ঘটনায় ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মোরশেদ আলম। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় করা ১৭(৬)২৫ নম্বর মামলার হাজতি আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (২৮) মঙ্গলবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনস্টেবল মো. আবদুল আলিম তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ৭ নম্বর বিচারিক আদালতের এজলাসের কাঠগড়ায় শিকলের সঙ্গে আটকে রাখেন। এরপর তিনি এজলাসের সামনের বারান্দায় যান।</p><p>এজাহারে বলা হয়, বারান্দা থেকে ফিরে আনুমানিক দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে কনস্টেবল আবদুল আলিম দেখেন, শরিফুল কাঠগড়ায় নেই। তাঁর হাতকড়াটি কাঠগড়ার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছে। তখন আবদুল আলিম বুঝতে পারেন, তিনি বারান্দায় থাকার সময় শরিফুল হাতকড়া খুলে কৌশলে প্রহরী দলের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেছেন।</p><p>মামলায় মোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেছেন, আবদুল আলিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আসামি পালানোর বিষয়টি জানান। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। হাজতখানার পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাতক আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে। বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা আছে। খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় শরিফুল কারাগারে ছিলেন।</p><p>এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি পুলিশের এক সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি হয়েছিল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন পালানোর ঘটনায় সেদিনই কোতোয়ালি থানায় শরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের ১ অক্টোবর ফেনী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি আবার কারাগারে ছিলেন।</p>
<p>রাজধানীর উত্তরায় ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবিরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।</p><p>আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দীন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না এবং জামিনেরও কোনো আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p>কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) ও মো. সজীব (৩৬)।</p><p>আদালতে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনার বিষয়ে তাঁরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। আসামিদের দেওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের নাম-ঠিকানা পুরোপুরি যাচাই না করা পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।</p><p>এর আগে ২ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আবু নাসির বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন ৩ অক্টোবর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দশম তলায় যান কয়েক ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভয়ে ফ্ল্যাটমালিক তাঁদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন।</p><p>পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায় এবং একজনের কাছে একটি পরিচয়পত্র পায়। পরিচয়পত্রটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন।</p><p>গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আসামি রাসেল মাহবুবের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের মামলা রয়েছে।</p>
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাতে অবসান হচ্ছে ফুটবলের এক ঝলমল অধ্যায়ের।
নয় ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকা রাহুল গান্ধীকে হেফাজতে নিয়ে কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে ‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে তৈরি ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, গত চৌঠা অক্টোবর সৌদির আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ সজিব হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। কে এই সজিব ? কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?
চট্টগ্রামের আদালতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দিতে না আসা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার একটি সংবাদ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেনো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং গ্রেফতার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও সামনে আসছে।
বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর কী করবেন?
উত্তর মেরুর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই স্থির থাকে না।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান, দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। দু'জনই এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু কেউই নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দু'জনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এই ঘটনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই- জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান।
সরকারের খাতায় ২০ লাখ শিশুর তথ্য নেই; আগামী রমজানের আগেই ইউনিয়ন পরিষদের তিন ধাপের নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন; অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলোতে এসব খবর গুরুত্বে পেয়েছে।
মা হওয়ার পর অভিনয়জীবনে সিনেমা বাছাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে শ্রিয়া সরণের। তবে, এই পরিবর্তনের সময়ে ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিম যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিই অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।
সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন টঙ্গীর শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় নেশার টাকার জন্য বাকবিতণ্ডার জের ধরে সাহাব উদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ইয়াফিনের বিরুদ্ধে।
ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে ক্লোজড করা হয়েছে।
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের আয়োজনে ওয়ালটনের প্রদর্শনীকেন্দ্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে লিফট। বিভিন্ন ধরনের লিফটের পাশাপাশি এগুলোর উৎপাদন ও পরীক্ষার সক্ষমতাও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লিফট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের গলায় ঝুলছে জুতার মালা।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে হয়েছে। এতে কেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।