মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ওই চারজন নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেন। গ্যারেজে চোরাই অটোরিকশা আছে দাবি করে ৩০ হাজার টাকা চান।
অপহরণের পর বিক্রি করতে না পেরে শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে যায় চক্রটি। ১৮ দিন পর গাজীপুরের পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে উদ্ধার করে এসআরবি।
<p>লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিদায় ঘিরে যেন পুরো ফুটবল দুনিয়াই আবেগে ভাসছে। সতীর্থ, সাবেক সতীর্থ, প্রতিপক্ষ, ভক্ত, ফুটবল কিংবদন্তি, সবাই কোনো না কোনোভাবে জানাচ্ছেন মেসিকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো নেইমারের নাম।</p><p>মেসির খুব কাছের বন্ধু নেইমার। বার্সেলোনা ও পিএসজিতে দুজন ছিলেন সতীর্থ। শুরু থেকেই গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্বও। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/qinzue311r">মেসি–সভ্যতার অবসান</a></aside><p>‘যাঁরা ফুটবল ভালোবাসেন, তাঁরা এত বছর ধরে তোমাকে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন...’ লিখে শুরু করেছেন নেইমার। সঙ্গে দিয়েছেন মেসির সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু ছবি। এর মধ্যে আছে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালের ছবিও। মারাকানায় সেবার ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসিও পেয়েছিলেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় ট্রফির স্বাদ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-03/5e395014-0f99-4a20-a052-265c73209531/221026103210_messi_neymar.jpg"><figcaption>পিএসজিতে যখন একসঙ্গে খেলতেন মেসি ও নেইমার</figcaption></figure> <p>আজ বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে সেটিই হতে যাচ্ছে মেসির শেষ ম্যাচ। নেইমার লিখেছেন, ‘আজ তোমার দেশের, তোমার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি, প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করবে। আজকের সব শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা যেন তোমাকে আনন্দ দেয়।’</p><p>মেসি শুধু আর্জেন্টিনার মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন না, নেইমারের চোখে তাঁর প্রভাব আরও বড়। ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড লিখেছেন, ‘তুমি ফুটবলের জন্য যা কিছু করেছ, তার জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্ব তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।’</p><p>এরপরই বন্ধুর প্রতি নেইমারের সবচেয়ে আবেগঘন কথাগুলো, ‘ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পেরেছি, সেটাই ছিল সম্মানের। আর তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল আরও বড় সম্মানের।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ptkhedtnbj">‘মেসি আমাদের জাদুতে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে’</a></aside><p>ইতিহাসের সেই অংশটি কম নয়। বার্সেলোনায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে খেলেছেন মেসি ও নেইমার। লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ। নাম হয়েছিল ‘এমএসএন’।</p><p>মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের সেই ত্রয়ী বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছিল নয়টি শিরোপা। এর মধ্যে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।</p><p>চার বছর পর আবার একসঙ্গে হন দুজন। এবার ঠিকানা প্যারিস। মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের সঙ্গে আবার একই ড্রেসিংরুমে ফেরেন। প্যারিসে একসঙ্গে ছিলেন দুই মৌসুম।</p><p>সেখানে জিতেছেন দুটি লিগ আঁ ও একটি ফরাসি সুপার কাপ। এরপর ২০২৩ সালের জুনে মেসি পিএসজি ছেড়ে পাড়ি জমান ইন্টার মায়ামিতে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-01-10/t5pdk3am/Hero-Images-ProAlo-1.jpg"><figcaption>বার্সেলোনায় সোনালি সময় কাটিয়েছেন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজ</figcaption></figure> <p>বার্সেলোনা ও পিএসজি মিলিয়ে মেসি-নেইমার একসঙ্গে খেলেছেন ২০৬ ম্যাচ। সেই ২০৬ ম্যাচে শুধু গোল আর শিরোপার গল্প নেই। আছে বন্ধুত্বের গল্পও।</p><p>আজ সেই বন্ধুর জাতীয় দলের শেষ ম্যাচ। মাঠে মেসি থাকবেন, নেইমার থাকবেন না। কিন্তু দূর থেকেও ব্রাজিলিয়ান তারকার কথাগুলো যেন বলে দিচ্ছে, মেসির এই বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার নয়। ফুটবল নামের যে বিশাল পৃথিবী, তারও।</p>
মিয়ানমারের বহু রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন মালয়েশিয়ায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার শরণার্থী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন।
দেনমোহর পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তা দিতে বিলম্ব করেন, সে ক্ষেত্রে আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
<p>পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার সেই বিস্ফোরক ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এত দিন পর পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন দীর্ঘ এক বিবৃতি। সেখানে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রোনালদো। ক্ষমা চেয়েছেন পর্তুগালের মানুষ, সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে। একই সঙ্গে বলেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।</p><p>রোনালদোর দাবি, পর্তুগালের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর কয়েক দফা আলোচনার পরও কোচ প্রতিশ্রুতি রাখেননি। শেষ পর্যন্ত আরেকটি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও বলেছেন পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/lugop7q4/gettyimages-2296293308-2048x2048.jpg"><figcaption>ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন রোনালদো</figcaption></figure><p><strong>রোনালদোর পুরো বিবৃতিটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।</strong></p><p>কথা দিয়েছিলাম, তাই জাতীয় দলের যাত্রার সর্বশেষ পর্বের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেই, সরাসরি ও উত্তম পুরুষে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।</p><p>২০২৬ বিশ্বকাপের পর আমি পর্তুগালের মানুষের জন্য একটি বার্তা তৈরি করে রেখেছিলাম। সেটি এখনো আমার কাছে আছে। আমি যখন সত্যিই আমাদের দল ছেড়ে যাব, তখন তাঁদের উদ্দেশে যা বলতে চাই, তা-ই আছে সেখানে।</p><p>টুর্নামেন্টের শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার ফ্লাইটে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে অনুরোধ করেছিলেন এবং জোর দিয়ে বলেছিলেন, দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা যেন আমি আবার ভেবে দেখি। কারণ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন চেয়েছিল আমি থেকে যাই।</p><p>এর পরপরই তিনি আমার কাছে জাতীয় দলের বর্তমান কোচের নাম নিয়ে আমার মত জানতে চান। তিনি তাঁকে বিবেচনা করছিলেন। সঙ্গে আরও কয়েকটি নাম ছিল, যেগুলো তিনি আমাকে জানাননি।</p><p>আমি ফেডারেশনের সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে এটিই হবে আদর্শ পছন্দ। তাই বর্তমান কোচকে যেদিন পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, সেদিন এই সিদ্ধান্তে আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। ফলাফলই প্রমাণ করে, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।</p><p>কয়েক দিন পর নতুন কোচের কাছ থেকে প্রথম ফোন পেলাম। তিনি সরাসরি আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। আমি রাজি হলাম, আমরা একটা তারিখও ঠিক করলাম। ‘আমার ছুটির শেষে।’</p><p>আমাদের দেখা হলো সেই ফুটবল শহরে, যেখানে আমার ক্লাব প্রি-সিজন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছিল।</p><p>সেদিন কোচ আমাকে বললেন, তিনি আমার ওপর ভরসা রাখছেন এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি অপরিহার্য। তিনি আমার কাছে আমার তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন। বললেন, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব এবং শারীরিক সক্ষমতার কারণে প্রতিটি ম্যাচে তিনি তিন-চারটি পরিবর্তন আনবেন।</p><p>ওই সময় তিনি প্রস্তাব দিলেন, আমি যেন নরওয়ে ও ডেনমার্কে জাতীয় দলের সঙ্গে ভ্রমণ না করি। তাঁর প্রস্তাব ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলে পর্তুগালেই থেকে যাব, তারপর দ্রাগাও স্টেডিয়ামের ম্যাচের আগে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেব।</p><p>আমি তৎক্ষণাৎ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার কাছে পরিষ্কার মনে হলো, এটা আমি মেনে নিতে পারি না। বিদেশের মাটিতে ম্যাচ না খেললে আমি আমাদের দলের অধিনায়ক থাকব না, তা নয়। কিন্তু পর্তুগালে থেকে যাওয়ার সুবিধা নেওয়াটা ভালো দৃষ্টান্ত হতো না।</p><p>শেষ পর্যন্ত কোচ আমার বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত হলেন।</p><p>এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আল নাসর ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমো কুতিনিও। গত মৌসুমজুড়ে জাতীয় দলের বর্তমান কোচ তাঁর কাছেই জবাবদিহি করতেন, আর ২০২৫ সালে কোচের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পেছনে যাঁরা দায়ী, তিনি তাঁদের একজন।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগের দিন কোচ তাঁর অনুরোধে লিসবনে আমার বাসায় এলেন আরেকটি আলোচনার জন্য। আলাপ ছিল শান্ত, আর আগস্টে যেসব নীতিতে একমত হয়েছিলাম, আমরা তার সবই মেনে চলছিলাম। আমি আলভালাদে স্টেডিয়ামের ম্যাচটি খেললাম। বদলি হয়ে উঠে গেলেও আমি কোনো সমস্যা তৈরি করিনি। নিজ হাতে আমি ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দিয়েছি। তখন আমার মাথায়ই আসেনি যে একজন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে আমি হয়তো শেষ কয়েকটা পদক্ষেপ ফেলছি। সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জয়। জেতা সব সময়ই ভালো, আর পর্তুগালে, আমার দেশের জন্য, সেটা সবচেয়ে ভালো।</p><p>নরওয়েতে ম্যাচের দিন দুপুরের খাবারের সময় জাতীয় দলের কোচের সহকারী সেই টেবিলে এলেন, যেখানে দল দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। তিনি আমাকে বললেন, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমাকে অবাক করে দিয়ে কোচ জিজ্ঞেস করলেন, আমি ৩০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত কি না। আমি তখন পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগী ছিলাম, যথারীতি সতীর্থদের সঙ্গে মিশে ছিলাম, আর ভাবছিলাম সেদিন আমি খেলব না। কোনো সমস্যা নেই।</p><p>এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার বাইরে ছিল, কারণ আমার মাসের চার তারিখে দ্রাগাও স্টেডিয়ামে খেলার কথা ছিল। তবু অবশ্যই আমি রাজি হলাম। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন, আমি যেন প্রস্তুত থাকি, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।</p><p>বাকিটা সবারই জানা। বিরতির পর থেকে আমি ওয়ার্ম-আপ করতে শুরু করলাম, মিনিটগুলো পেরিয়ে যেতে দেখলাম, কিন্তু কেউ আমাকে ডাকল না। কোচ কথা রাখেননি।</p><p>ম্যাচ শেষে আমি শুধু চাইছিলাম, সবকিছু জয়ে শেষ হোক আর আমি একা থাকতে পারি। আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এই ভুলের দায় একা আমার, আর এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। যাঁরা সেখানে উৎসাহ নিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন, সেই পর্তুগিজদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আর যাঁরা আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন, তাঁরা পর্তুগিজ না হলেও, যাঁদের আমি হয়তো হতাশ করেছি, তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।</p><p>৪৮ ঘণ্টা পর আমরা কথা বললাম, আমি, কোচ আর সিমো কুতিনিও, কারণ তিনি আমাদের আলাপগুলো অনুসরণ করছিলেন।</p><p>সেটা ছিল খুবই গভীর ও খোলামেলা একটি মুহূর্ত, কোনো রাখঢাক ছাড়াই।</p><p>আমরা একমত হলাম যে এই ‘ঘটনা’ শেষ করার একটাই উপায় আছে। কোচ আমাকে একান্তে যা বলেছেন, সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতে সেটাই সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পুনরাবৃত্তি করবেন।</p><p>চুক্তিটা ছিল সহজ। কোচ সংবাদ সম্মেলন শুরু করবেন এই বিষয় দিয়ে, সত্য বলে প্রসঙ্গটার ইতি টানার চেষ্টা করবেন। তিনি বলবেন, আমি কখনো কয়েক মিনিটের জন্যও খেলতে চাইনি। এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা একা কোচই প্রস্তাব করেছিলেন, আর কেউ নয়। আমাকে ম্যাচে না নামিয়ে কেবল ওয়ার্ম-আপ করানো ভুল হয়েছে। আর যদি আবার এমন হয়, তিনি তা করবেন না।</p><p>কোচ আমার সঙ্গো আলিঙ্গন করে সেই বৈঠক শেষ করলেন। তিনি আমাকে কথা দিলেন, এইমাত্র আমাকে যা বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে তা-ই বলবেন, আর বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। আমি ডেনমার্কে খেলব না, কিন্তু দ্রাগাও স্টেডিয়ামের ম্যাচে খেলব। এ সবকিছুই ঘটল সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতে, যথারীতি।</p><p>কোচের অনুরোধে তাঁর, সিমো কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর মধ্যে একটি ভিডিও বৈঠক হলো, আমরা যা আলোচনা করেছি তার সারসংক্ষেপ করার জন্য।</p><p>একটি সংক্ষিপ্ত নথি তৈরি করা হলো। আমি নিজে তা অনুমোদন করলাম এবং কোচের অনুরোধে তা তাঁর হাতে দেওয়া হলো।</p><p>বৈঠকটি হলো প্রত্যাশামতোই: আচরণের সঙ্গে আমাদের সভার কোনো মিল ছিল না। আমি এমন কিছু কথা ও আগ্রাসী আচরণ শুনলাম, যা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। আর এমন একটা মনোভাব দেখলাম, যেন তিনি ‘চান, পারেন এবং আদেশ দেন’। আগের দিন একান্ত বৈঠকে, এমনকি পরোক্ষভাবেও, এ রকম কিছু তিনি আমাকে কখনো দেখাননি।</p> <p>আমি যে নোটগুলো দেখেছি, সেগুলো ছিল এই রকম: ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি, কারণ এটাই সত্য:</p><p>১. জাতীয় দলের সঙ্গে এই ক্রীড়া মৌসুমের জন্য ক্রিস্টিয়ানোর একটি পরিকল্পনা আমি নিজেই প্রস্তাব করেছি, অন্য কাউকে ছাড়া। সেটি ছিল দীর্ঘ ও খুবই ফলপ্রসূ একটি আলাপ।</p><p>২. আমি জানি জাতীয় দলকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, আর বিশ্বজুড়ে তাঁর যে অবস্থান, সেটাও জানি। তার চেয়েও বড় কথা, টানা ২৪ বছর ধরে জাতীয় দলের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা ইতিবাচক ছিল, সেটাও জানি।</p><p>৩. ক্রিস্টিয়ানোর জন্য আমার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল।</p><p>৪. তিনি কখনো আমার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলেননি। তিনি ছিলেন অনুসরণযোগ্য এক দৃষ্টান্ত, অনুগত ও পেশাদার।</p><p>৫. নরওয়ে ম্যাচ তাঁর জন্য আমার ঠিক করা পরিকল্পনায় ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, তিনি প্রথম ম্যাচ থেকে শারীরিকভাবে সেরে উঠেছেন। আমি তাঁকে সতর্ক করেছিলাম যে আমি হয়তো তাঁকে নামাতে বাধ্য হব। ক্রিস্টিয়ানো রাজি হয়েছিলেন।</p><p>৬. পেলে বা ম্যারাডোনার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচে না নামিয়ে কেবল ওয়ার্ম-আপে জড়ানো আমার ভুল হয়েছে। আজ হলে আমি এমনটা করতাম না।</p><p>৭. সংক্ষেপে: আমি ক্রিস্টিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। সত্যি বলতে আমি অল্প চাই না, অনেকটাই চাই। আর সৌভাগ্যবশত তিনিও আমার ওপর আস্থা রাখেন। আল নাসরে তিনি আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, এখানেও রেখেছেন।</p><p>৮. সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো নিয়ে আমরা আগেই কথা বলেছি। যে খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন, পর্তুগালকে ভালোবাসার ব্যাপারে তাঁকে আমার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হয় না। সেটা ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা কোনো কিছুই মুছে ফেলে না। তিনিই সেই খেলোয়াড়, যিনি সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেন, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলেন এবং সমর্থকদের প্রতি সবচেয়ে বেশি স্নেহ দেখান। আসুন, শূন্য থেকে সমস্যা তৈরি না করি। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। ব্যাপারটা এটুকুই। অতএব এই নোটগুলোর কোথাও উল্লেখ ছিল না যে কোচ আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।</p><p>এটা ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি কথা রাখলেন না।</p><p>আরেকটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা না করেই আমি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, যে প্রতিশ্রুতি রাখা হতো না। আমার কাছে মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যত কষ্টেরই হোক, আমি চাই আমাকে সত্যিটাই বলা হোক।</p><p>আসলে সেই সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আমার যে কথা হয়েছিল, তাতে আমি তাঁদের নিশ্চিত করে বলেছিলাম (আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন), যদি তাঁরা আমার উপস্থিতি না চান, তাহলে যেন আমাকে সেটা জানিয়ে দেন। তাঁদের শুধু আমার সঙ্গে স্পষ্ট হতে হতো। আমি তা মেনে নিতাম এবং তাঁদের কথা দিতাম যে আমরা চমৎকার কিছু তৈরি করব, যেমনটা আশা করি হবে, আর কেউ রাগ করত না।</p><p>আমার মনে আছে, যেন গতকালের ঘটনা। তাঁরা সমস্বরে ‘না’ বলে উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা।</p><p>আমার প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কোচ বা জাতীয় দলের কর্মকর্তার কোনো কারিগরি বা কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যা প্রস্তাব করেন, ভালো হোক বা মন্দ, আমি তা মেনে নিই। আমি সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আর যখন তাঁরা আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেন না, তখন আমার মনে হয় আমার জায়গা এখানে নয়।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইছি। কোচের আস্থার পুরোপুরি ভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও, এই আলাপগুলোর সাক্ষী প্রত্যেকেই যা প্রত্যয়ন করতে পারবেন, আমার এটা করা উচিত হয়নি। দায় একা আমার।</p><p>আমি পর্তুগালের মানুষের কাছে আবারও ক্ষমা চাইছি। তবে আমার প্রতিশ্রুতি ভাঙার ঘটনা আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার মনে হলো, ওই মুহূর্ত থেকে দলের সঙ্গে আমার থাকা শুধু দলের ক্ষতিই করবে। তাই আমি তা-ই করলাম, যা সব সময় বলতাম আমি করব, যদি মনে করি আমি কোনো কাজে আসছি না: আমি আমার ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেলাম।</p><p>আমার কাজের পরিণতি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এর জন্য আমাকে শাস্তি দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, শাস্তি কমানো উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নই, আমি দলের অধিনায়ক, আর সেটা একটি গুরুতর বিবেচ্য বিষয়। আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু জানি যে প্রতিটি কাজেরই পরিণতি আছে। ফুটবল জগতের যে কেউ, আমার মতো, জানে যে ব্যক্তিগত মর্যাদা যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য সমান।</p><p>এ প্রসঙ্গে আমি বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। শুনেছি, আমার জন্য আমার উপযুক্ত একটি বিদায় দরকার, আর ফেডারেশন আমাকে এই সুযোগ দিতে চায়।</p><p>জীবনে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করতে করতে, খাওয়ার মতো কিছু না থাকা অবস্থায় আমি শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা মূল্যে কিছু দেয় না। আমি আমার সব সমর্থককে, বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে কথা দিতে পারি, আমরা একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলব। এর জন্য সময় থাকবে।</p><p>তবে জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি। যেদিন আমি বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও আমি সেটাই ভেবেছিলাম। আমি তখন জাতীয় দলের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলাম, আর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পরের দিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকব। আমার দেশের জন্য আমি সেদিন তা-ই করেছিলাম, যা কোনো ক্লাবের জন্য আমি কখনো করতাম না।</p><p>তাই আমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, আমার ক্লাবের হয়ে খেলতে পারি, গোল করতে পারি, তাহলে আমার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, আগের মতোই, আমি জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে ও জিততে প্রস্তুত থাকব।</p><p>বিশ্বাস করুন, এটাই চূড়ান্ত সত্য।</p><p>ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো,</p><p>৬ অক্টোবর ২০২৬</p>
পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলার সময় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।
বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা ও সুবিধার আশ্বাস দিয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন