বাংলাদেশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে পবিত্র জমাদিউল আওয়াল মাস গণনা করা শুরু হবে। 

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

Rss feed news

জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ তিন দিন পর উদ্ধার
জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ তিন দিন পর উদ্ধার

নাটোর স্টেশন থেকে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাটোর শহরের কাফুরিয়াপট্টি মহল্লা থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াস, মারজিয়াসহ চারজন ৩ দিনের রিমান্ডে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াস, মারজিয়াসহ চারজন ৩ দিনের রিমান্ডে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল নূর মোহাম্মদ আয়াস, খন্দকার মারজিয়াসহ চারজনকে আলাদা মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত

অক্টোবর ১১, ২০২৬
স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট
স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

<p>বিয়ের সময় কিংবা বিয়ে বজায় রাখার শর্ত ছাড়া শুধু ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ‘যৌতুকের’ সংজ্ঞায় পড়ে না—এক রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ‘মো. রাসেল উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্য একজন’—ফৌজদারি এক আপিলে দেওয়া রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে।</p><p> যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা একটি মামলায় রাসেল উদ্দিনের ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল বিচারিক আদালতের রায়ে। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। গত ৩ আগস্ট বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল মঞ্জুর করে রাসেলকে খালাস দিয়ে রায় দেন। ১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আজ রোববার প্রকাশ করা হয়।</p><p>আদালতে আপিলকারীর (রাসেল উদ্দিন) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আল রেজা মো. আমির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম (সুজন)।</p><p>পূর্ণাঙ্গ রায় দেখেছেন জানিয়ে আইনজীবী আল রেজা মো. আমির আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কনেপক্ষের কাছে শুধু ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। তখনই যৌতুক হবে, যদি বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবন চলাকালে টাকা দাবি করে এবং ওই অর্থ না দিলে যদি শর্ত দেওয়া হয় যে ডিভোর্স দেওয়া হবে কিংবা সংসার চালিয়ে না নেওয়ার কথা বলা হলে। শর্ত ছাড়া ব্যবসা, বিদেশে যাওয়া কিংবা গাড়ি কেনার জন্য টাকা চাওয়া হলে তা যৌতুকের সংজ্ঞায় আসে না।’</p><h3>যে মামলাসূত্রে রায় এল </h3><p>মামলার বিররণ থেকে জানা যায়, মুসলিম আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিভিন্ন সময়ে অভিযোগকারীর (স্ত্রীর) কাছে যৌতুক দাবি করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় স্বামী তাঁর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে আবার এক লাখ টাকা দাবি করেন। স্ত্রীর অভিযোগ, ওই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী তাঁকে গুরুতর শারীরিক নির্যাতন করেন।</p><p>ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অভিযোগ করেন স্ত্রী। কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১–এর বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় স্বামীর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন।</p><p>ওই মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রায় দেন। রায়ে স্বামীকে (রাসেল উদ্দিন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। এই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় আজ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।</p><h3>হাইকোর্টের রায়ে যা রয়েছে </h3><p>নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, অভিযোগকারী (স্ত্রী) উল্লেখ করেছেন যে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে আপিলকারী (স্বামী) তাঁর ব্যবসার জন্য অভিযোগকারীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযোগকারী এই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগকারীর (স্ত্রী) জবানবন্দিতে দেখা যায়, আপিলকারী (স্বামী) তাঁর ব্যবসার জন্য তাঁর (স্ত্রীর) কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। কয়েকজন পিডব্লিউর (প্রসিকিউশন সাক্ষী) জবানবন্দিতে দেখা যায় যে আপিলকারী অভিযোগকারীর কাছে ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।</p><p>রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এর ভাষ্য, বিয়ের শর্ত হিসেবে বর বা তাঁর মা–বাবা কিংবা বরপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে টাকা, সামগ্রী বা অন্য কোনো সম্পত্তি দাবি করেন, তাকে যৌতুক বলা হয়।</p><p>রায়ে আদালত বলেছেন, বর্তমান মামলায় নথিতে থাকা সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়ন করে দেখা যায় যে আপিলকারী তাঁর স্ত্রীর (অভিযোগকারী) কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। ঘটনার সময় আপিলকারী যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করেছিলেন—রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং, এক লাখ টাকা দাবির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আইনের ২(ঞ) ধারায় উল্লেখিত যৌতুকের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না।</p><p>নথি ও সাক্ষী পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, কথিত আঘাতের স্থান সম্পর্কে অভিযোগকারীর (স্ত্রীর) মৌখিক সাক্ষ্য, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা সনদের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। এই অসংগতি আপিলকারীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে (স্ত্রী) শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক করে। একই সঙ্গে কথিত ঘটনা ও রাষ্ট্রপক্ষের মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ দেখা দেয়। আপিলকারী অপরাধে জড়িত ছিলেন—তা বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কি না, তা নির্ণয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছেন।</p><h3>খালাস পেলেন স্বামী </h3><p>আপিলকারী রাসেল উদ্দিনের আইনজীবী আল রেজা মো. আমির প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুসারে, বিয়ের সময় বর বা কনেপক্ষ যদি বিয়ের শর্তে অর্থসম্পদসহ কোনো কিছু দাবি করে কিংবা বিয়ের পর দাম্পত্য সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে বিয়ে স্থির বা চলমান রাখার শর্তে যদি কোনো অর্থ বা সম্পদ দাবি করে, তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে। এই মামলায় রাসেল ব্যবসার জন্য তাঁর স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তবে স্ত্রী এই অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও রাসেল তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন চলমান রাখবেন না কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদ করবেন—এমন কোনো কথা মামলার আরজি ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসেনি। মামলায় স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসকের সনদ ও জবানবন্দিতে আঘাতের স্থানের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এসব বিবেচনায় রাসেলের আপিল মঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায় বাতিল ঘোষণা করেছেন। রাসেলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।’</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।</p><p> আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।</p><p> প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।</p><p> প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছেন, অনেক টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে; কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’</p><p>সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।</p><p>প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ–তাআলা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন তা আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’</p><p>দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই যিনি যখন যে দায়িত্বে আছেন, তাঁকে সেই সুযোগ দেশ ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।</p><p>সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’</p><p>সভায় তিনি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।</p><p>ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।</p><p>সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
দুর্গাপূজার ছুটিতে টানা ৫ দিন ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বন্ধ
দুর্গাপূজার ছুটিতে টানা ৫ দিন ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বন্ধ

<p>আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) ব্যাংক বন্ধ থাকবে।</p><p> বাংলাদেশ ব্যাংক আজ রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে অবশ্য ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।</p><p>এদিকে ব্যাংক বন্ধ থাকার দিনগুলোতে দেশের দুটি শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কোনো রকম লেনদেন হবে না। কারণ, শেয়ারবাজারের লেনদেন ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে অনুযায়ী শেয়ারবাজারও টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে।</p><p>২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকলেও আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে বন্দর এবং কাস্টমস এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পূজার ছুটি চলাকালে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে সীমিত আকারে কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলো স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।</p><p>৭ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সাদাকাতের ছক্কার ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা
সাদাকাতের ছক্কার ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

<p>শ্রীলঙ্কার বোলারদের জন্য দিনটা ছিল দুঃস্বপ্নের। পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান মিলে এমন ঝড় তুললেন, যার সামনে অসহায় হয়ে পড়লেন লঙ্কান বোলাররা। বিশেষ করে সাদাকাত। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু তাঁর ব্যাটিংয়ের তাণ্ডবেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা লেখা হয়ে যায়।</p><p>দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৫ রান তোলে তারা। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি।</p><p>পাকিস্তানের ইনিংসের নায়ক সাদাকাত। ৫১ বলে ৯৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে মেরেছেন ৭টি ছক্কা ও ৬টি চার। স্ট্রাইক রেট ১৮৮.২৩। অন্য প্রান্তে ফারহানও কম যাননি। ৪৪ বলে ৭৩ রান করেছেন তিনি। দুজনের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের যেন দম ফেলারও ফুরসত ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/tlqwxkc5/643540_01_02.jpg"><figcaption>আজও ফিফটি পেয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান</figcaption></figure><p>২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা কখনোই পাকিস্তানের ওপর তেমন চাপ তৈরি করতে পারেনি। কামিন্দু মেন্ডিস ও মহীশ তিকশানা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি স্বাগতিকেরা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/6rc5okwuq9">হাসানের হ্যাটট্রিক, বাংলাদেশের তৃতীয়, টেস্টে ৫০তম</a></aside><p>শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ২১৫ রানের পাহাড়ের সামনে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থেমেছে ১৩৩ রানে। আটে নেমে ২৬ বলে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেছেন মহীশ তিকশানা। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইমরান ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।</p><p>একই ভেন্যুতে সিরিজের শেষ ম্যাচ মঙ্গলবার। </p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/7uh1u5iryn">এবার রুটকে ছাড়িয়ে স্মিথ, টেস্টে ক্যাচের রেকর্ড নিয়ে ‘ইঁদুর–বিড়াল’ খেলা</a></aside>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
রবীন্দ্রনাথ কেন টার্গেট
রবীন্দ্রনাথ কেন টার্গেট

<p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে এ দেশে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো সাধারণ সাহিত্যিক মতপার্থক্য নয়। প্রশ্ন জাগে, যাঁকে বাদ দিয়ে বাংলার ইতিহাস বা সাহিত্য ভাবাই যায় না, তাঁকে নিয়ে এত বিদ্বেষ কেন? কারা আসলে চায় না রবীন্দ্রনাথ এ দেশের মানুষের চেতনায় সজীব থাকুন? এ প্রশ্নের উত্তর যতটা সাহিত্যের পাতায় আছে, তার চেয়ে বেশি আছে ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব আর রাজনীতির গভীর অন্দরে। এর উত্তর বহুবার বহুজন দিয়েছেন। তবু বারবার প্রশ্ন ওঠে, তাই পুরোনো উত্তর আবার নতুন করে দিতে হয় আমাদের।</p><p> ঔপনিবেশিক বাংলার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট রবীন্দ্রনাথকে অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আমরা তাঁকে দেখতে পাই জোড়াসাঁকোর ‘জমিদার’ হিসেবে। সন্দেহ নেই, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি জমিদার ছিলেন; পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, শাহজাদপুর আর পতিসরের জমিদারির দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হয়েছিল। কিন্তু প্রজাসাধারণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তো সাধারণ সামন্তপ্রভুদের মতো ছিল না। পদ্মার দুর্ধর্ষ ও স্নিগ্ধ রূপ, এখানকার মানুষের হাহাকার আর দারিদ্র্য কবিকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছিল। রোমান্টিক ভাববাদিতা থেকে তাঁর চেতনায় ঘটেছিল এক গভীর জীবনবাদী রূপান্তর। পতিসরের সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা কিংবা নোবেল পুরস্কারের অর্থ কৃষকদের কল্যাণে উৎসর্গ করার মতো ঘটনা প্রমাণ করে, প্রজার অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতি তিনি কতটা সংবেদনশীল ছিলেন। তা সত্ত্বেও, ঔপনিবেশিক কাঠামোর একটা মায়া ও টানাপোড়েন তো ছিলই। পরবর্তী সময়ে যখন বিশ শতকের প্রথমার্ধে পূর্ববঙ্গে উদীয়মান মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটল, তখন ব্রিটিশ আমলের বঞ্চনার শিকার এই সমাজ নিজেদের শিকড় খুঁজতে গিয়ে কলকাতার বাবু সংস্কৃতি আর সামগ্রিক রবীন্দ্র-আধিপত্যকে একধরনের ‘ভিনদেশি’ ও কুলীন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করল। এই যে নাগরিক মনস্তত্ত্ব আর গ্রামীণ জনপদের ঐতিহাসিক দূরত্ব, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থান্বেষী মহল সুকৌশলে এ সুযোগটাই লুফে নিল। তারা রবীন্দ্রনাথকে দাঁড় করিয়ে দিল পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিপরীতে।</p><p>রবীন্দ্রবিরোধিতার এই রাজনৈতিক খেলায় সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে ধর্মীয় মনস্তত্ত্ব ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। মৌলবাদী ও কট্টরপন্থী শক্তিগুলো সব সময় সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ও প্রশ্নহীন শৃঙ্খলে আটকে রাখতে চায়। পক্ষান্তরে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনজুড়ে রয়েছে মানুষে মানুষে মেলবন্ধন, বহুত্ববাদ আর মুক্তির জয়গান। তিনি শিখিয়েছেন মানুষের বড় পরিচয় তার মানবসত্তা, কোনো গোত্র বা ধর্ম নয়। একটি কূপমণ্ডূক সমাজব্যবস্থার জন্য এই মুক্তচিন্তা সব সময়ই বড় ভয়ের কারণ। তাই তো বিরোধীরা জেনেশুনে ইতিহাস বিকৃত করে। ভাষাসংগ্রামী ও গবেষক আহমদ রফিক থেকে শুরু করে প্রাজ্ঞজনেরা বারবার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম, যা একেশ্বরবাদ ও সংস্কারমুক্ত উপাসনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি এই সত্য বেমালুম চেপে যায়। রবীন্দ্রনাথে ধর্ম সম্পর্কিত লেখাগুলো তারা সামনেই রাখতে চায় না। তারা ব্রাহ্ম ও হিন্দু পরিচয়ের তফাত মুছে ফেলে রবীন্দ্রনাথকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বন্দী করতে চায়। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পরিষ্কার—সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর আবেগ উসকে দিয়ে বাঙালি মুসলমানের মন থেকে রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীনতাকে মুছে ফেলা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-13/cr8bpcn8/Rabindranath.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর</figcaption></figure><p>এই বিদ্বেষের বীজ কেবল সামাজিকভাবেই ছড়ায়নি, খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল পাকিস্তান আমলে। ১৯৪৭-এর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র শুরু থেকেই বাঙালি জাতিকে তার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্তে নামে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথকে চিহ্নিত করল ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ আর ‘ভারতীয় আধিপত্যের’ প্রতীক হিসেবে। পাকিস্তান সৃষ্টির অব্যবহিত পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্ট উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বাংলা ভাষা, বর্ণমালা এবং সামগ্রিক বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি মুসলমানের মন থেকে রবীন্দ্র-অনুরাগ মুছে ফেলে তাকে কৃত্রিম একটি ‘পাক-ইসলামি’ সংস্কৃতির ছাঁচে ঢেলে দেওয়া। সে সময় রেডিও-টেলিভিশনে তাঁর গান প্রচার নিষিদ্ধ করা হলো। কিন্তু বাঙালি কি দমে গিয়েছিল? ১৯৬১ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই পূর্ববঙ্গেই উদ্‌যাপিত হয়েছিল রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সুফিয়া কামাল বা সন্‌জীদা খাতুনদের নেতৃত্বে যে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা কেবল গান বাঁচানোর লড়াই ছিল না; তা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিপ্রস্তর, যা শেষ পর্যন্ত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। দুঃখের বিষয় হলো, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশেও পাকিস্তান আমলের সেই পুরোনো বয়ান নতুন বোতলে মদ ঢালার মতো ফিরে এসেছে। ভাস্কর্য ভাঙচুর কিংবা শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি লেপনের ঘটনা প্রমাণ করে—সেই কূপমণ্ডূকতা আজও মরেনি।</p><p>আরেকটি মজার বিষয় হলো রবীন্দ্রবিরোধিতার ক্ষেত্রে প্রচার করা মিথ বা প্রোপাগান্ডা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ হলো ‘রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কাল্পনিক গল্পটি এমনভাবে ছড়ানো হয়, যেন তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে বসে, রবীন্দ্রনাথ এ দেশের শিক্ষার শত্রু ছিলেন! অথচ ঐতিহাসিক দলিলপত্র, প্রশান্তকুমার পালের প্রামাণ্য ‘রবিজীবনী’ বা তৎকালীন খবরের কাগজ বলছে অন্য কথা। ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আলোচনা যখন চলছে, তখন রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় ছিলেনই না; তিনি শিলাইদহের পদ্মার বোটে নিভৃতে সাহিত্যচর্চায় মগ্ন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে কার্জন হলে সংবর্ধনা ও ‘ডি–লিট’ উপাধি দেয়, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে বিশ্বভারতীর ট্রাস্টি করার ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয়, এ দেশের শিক্ষাঙ্গনের প্রতি তাঁর কতটা অনুরাগ ছিল। অথচ এ সত্যগুলোকে আড়াল করে একশ্রেণির প্রোপাগান্ডিস্ট তরুণদের মনে কৃত্রিম ঘৃণা তৈরি করতে চায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-05/55133980-82ba-4abe-9254-31a127808e0f/Rabindranath_Tagore.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২৫ বৈশাখ ১২৬৮—২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)</figcaption></figure><p>বিচিত্র এই রবীন্দ্রবিরোধিতার চরিত্র। ডানপন্থী ধর্মীয় রাজনীতির বাইরে বামপন্থী রাজনীতির একটি নির্দিষ্ট ধারা থেকেও অতীতে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নজির আছে। যেমন ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের চীন সফরের সময় সেখানকার কিছু তরুণ কমিউনিস্ট লিফলেট বিলি করে তাঁর বিরোধিতা করেছিল। তাদের দৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ‘বুর্জোয়া’ সংস্কৃতির প্রতিনিধি। সাহিত্যের আধুনিকতাবাদী বলয় (যেমন ত্রিশের দশকের কল্লোল যুগ) যখন কবিতার গতানুগতিক ছন্দ ও রোমান্টিকতা ভেঙে নতুন নাগরিক ভাষা ও বাস্তববাদের জন্ম দিচ্ছিল, সেটি ছিল মূলত সাহিত্যের নিজস্ব ভাঙন ও নবায়নের পথ—যার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছিল না। খোদ রবীন্দ্রনাথও তরুণদের এই অন্বেষণকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু যখন শৈল্পিক বা তাত্ত্বিক সমালোচনার আড়ালে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় অন্ধত্বকে উসকে দেওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে সংস্কৃতির জন্য বিপদের কারণ।</p><p>আজকের ডিজিটাল যুগে ফেসবুকের রিলস, ট্রল আর ভুয়া পোস্টের মাধ্যমে এই রবীন্দ্রবিদ্বেষকে আরও সুকৌশলে তরুণ প্রজন্মের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটাই—বাঙালির অসাম্প্রদায়িক আত্মপরিচয়ের ভিত্তিটাকে আলগা করে দেওয়া।</p><p>রবীন্দ্রবিরোধিতা আদতে রবীন্দ্রনাথের কোনো সাহিত্যিক দুর্বলতার কারণে নয়; এটি যেন পাকিস্তান আমলের পাকিস্তান সরকারের প্রতিশোধ। এই ধ্যানধারণা আমাদের মাতৃভাষা, মুক্তচিন্তা এবং বহুত্ববাদী বাঙালি সত্তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। যখনই কোনো উগ্র মতাদর্শ সমাজে একরৈখিক আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তখনই তাদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান রবীন্দ্রনাথ। তাই অন্ধ বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার কুয়াশা ভেদ করে আমাদের আজ বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ও চেতনার আলোয় সত্যকে চিনতে হবে। রবীন্দ্রনাথ কেবল অতীতের কোনো পুরোনো ধুলোমাখা নাম নন; তিনি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের এমন এক শিকড়, যাঁকে অস্বীকার করার অর্থ নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
‘পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু’ বলতে কী বোঝায়, কী ঘটছে এখন রূপপুরের চুল্লিতে
‘পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু’ বলতে কী বোঝায়, কী ঘটছে এখন রূপপুরের চুল্লিতে

<p>আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়ে একটি মজার কৌতুক প্রচলিত আছে। এগুলোকে নাকি শুধু একজন মানুষ এবং একটি পোষা কুকুর দিয়েই চালানো সম্ভব! মেইন কন্ট্রোল রুমে মানুষের কাজ হলো কুকুরটিকে খাওয়ানো, আর কুকুরের দায়িত্ব হলো সেই মানুষটিকে কামড়ে দেওয়া; যাতে মানুষটি ভুলেও স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল প্যানেলের কোনো কিছুতে হাত দেওয়ার চেষ্টা না করে!</p><p>কৌতুকটির মধ্যে আদৌ কোনো ‘সত্যতা’ আছে কিনা, সে সম্পর্কে সবেচেয়ে ভালো বলতে পারবেন স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর কন্ট্রোল রুমে কাজ করা তুখোড় অপারেটররা। তবে আমাদের দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণ প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত থাকার সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি— কৌতুকটির আড়ালে যে মাত্রার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর ব্যবধান সামান্যই। অত্যাধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যেন মানুষের উদ্ভাবনী সক্ষমতার এক মূর্ত প্রতীক।</p><p>এই লেখা যখন লিখছি তখন আমাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট স্পর্শ করেছে এক অনন্য মাইলফলক। এর রিঅ্যাক্টরের গহিনে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সংঘটিত হয়েছে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া। কিছুদিন আগেই সেখানে একে একে বসানো হয়েছিল ১৬৩টি ইউরেনিয়াম জ্বালানি দণ্ড বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। এগুলো এবং আনুষঙ্গিক সব সিস্টেম হরেক রকম নিরাপত্তা মানদণ্ড ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফলভাবে উৎরে যাওয়ার পরই এই স্পর্শকাতর ধাপের কাজ শুরু হয়। পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর দেশবাসীর সঙ্গে সঙ্গে আমরাও দিন গুনতে শুরু করেছিলাম। কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! অপেক্ষার প্রহর অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। রোববার, দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে আমাদের দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ঘটানো হয় পারমাণবিক বিক্রিয়া। এই সাফল্যের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথে আমরা যেন আক্ষরিক অর্থেই পৌঁছে গিয়েছি হাত ছোঁয়ার দূরত্বে।</p><h2><strong>২</strong></h2><p>সায়েন্স ফিকশন বই বা মুভির বদৌলতে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ শব্দটা শুনলে অনেকেই যেন খানিকটা ভয় পেয়ে যান। এজন্য অবশ্য তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। রূপালি পর্দায় হরহামেশাই বলতে শোনা যায়, ‘দ্য রিঅ্যাক্টর ইজ গোইং টু বি ক্রিটিক্যাল!’। এরপর শুরু হয় হুলুস্থুল। যে যেদিকে পারে, সেদিকে পালানোর চেষ্টা করে। কেউ কেউ অবশ্য ভাগ্যকে মেনে নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন প্রলয়ংকারী বিস্ফোরণের। তবে ঠিক সেই সময়ে দৃশ্যপটে ত্রাণকর্তা হিসেবে আগমন ঘটে মূল চরিত্রের। অসাধারণ দক্ষতায় বা মাঝেমধ্যে ভাগ্যের জোরে একদম শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে দেখা যায় খানিক আগের সেই ভয়ংকর পরিস্থিতিকে। এসবে কোনো সমস্যা না থাকলেও, ঝামেলা পাকায় মূলত ওই সংলাপটি। এটি ক্রিটিক্যালিটি সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দেয়।  </p><p>ক্রিটিক্যালিটি বুঝতে হলে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ফিশন এবং চেইন বিক্রিয়া সম্পর্কে। খুব সহজ করে বললে, ফিশন হলো এক ধরনের ভাঙন বিক্রিয়া। এতে একটি ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস ভেঙে গিয়ে দুইটি অপেক্ষাকৃত ছোট নিউক্লিয়াস তৈরি করে। তখন উৎপন্ন হয় আরও কয়েকটি নিউট্রন এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি। এই বিষয়টি ঘটতে পারে মূলত দুইভাবে—স্বতঃস্ফূর্ত বা বাহ্যিক আঘাতের প্রভাবে। প্রথম কৌশল শতভাগ প্রাকৃতিক। এতে মূল নিউক্লিয়াসটি এতটাই অস্থিতিশীল থাকে যে, এটি কোনো কারণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই বা ততোধিক ছোট নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়ে যায়। সাধারণত অতিভারী কৃত্রিম মৌলগুলো, যেমন ক্যালিফোর্নিয়াম-২৫২-এর ক্ষেত্রে এরকম প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে ইউরেনিয়ামের মতো নিউক্লিয়াসকে যদি বাইরে থেকে আসা কোনো নিউট্রন দিয়ে আঘাত করা হয়, তবে সেটি শোষিত হয়ে প্রথমে আত্মপ্রকাশ করবে একটি যৌগিক নিউক্লিয়াস। অতঃপর হয় সেটি গামা রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে ভারসাম্য অবস্থায় পৌঁছাবে, নয়তো ভেঙে গিয়ে রূপান্তরিত হবে দুইটি আলাদা ছোট নিউক্লিয়াস ও কয়েকটি নতুন নিউট্রনে। দ্বিতীয় প্রক্রিয়ায় যে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়, তার সিংহভাগই ফিশন ফ্র্যাগমেন্টসের গতিশক্তি হিসেবে অবমুক্ত হয়। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/g0c0do58/P_1.png"><figcaption>ফিশন চেইন বিক্রিয়ার মূলনীতি</figcaption></figure><p>বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রিঅ্যাক্টরে অনিয়মিতভাবে ফিশন ঘটালে চলে না। এমন ব্যবস্থা নিতে হয়, যেন প্রক্রিয়াটি একবার শুরু হলে অবিরাম চলতেই থাকে। এই ঘটনার নাম চেইন বিক্রিয়া। মাত্রই বলেছি, প্রতিটি ফিশন বিক্রিয়া শেষে আবির্ভূত হয় কয়েকটি নিউট্রন। এরাও যদি পরের ধাপের ফিশন বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাহলে আবারও পাওয়া যাবে একগুচ্ছ নিউট্রন। এই ধারা চলমান থাকলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই বাড়বে এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পরিধি। উৎপন্ন হতে থাকবে বিপুল পরিমাণ শক্তি।</p><p>ফিশনের প্রতিটি ধাপে যে নতুন কয়েকটি নিউট্রন আবির্ভূত হয়, সেগুলোর মধ্যে যদি গড়ে একটি সদস্য পার্শ্ববর্তী নিউক্লিয়াসে ফিশন বিক্রিয়া ঘটায়, তাহলে চেইন বিক্রিয়া সুষম গতিতে চলতে থাকে। এই অবস্থার নামই ক্রিটিক্যালিটি। তখন নিউট্রনের সংখ্যা বাড়েও না, কমেও না। অন্যদিকে গড়ে এগুলোর একটিরও কম সদস্য পরের ধাপের ফিশনে অংশ নিলে চেইন বিক্রিয়াটি ধীরে ধীরে থেমে যেতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় সাব-ক্রিটিক্যাল। আর নিউট্রনগুলো যদি গড়ে একটির বেশি ফিশন ঘটায়, তাহলে দেখা মিলবে সুপার-ক্রিটিক্যালিটির। এতে চেইন বিক্রিয়া খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শক্তি উৎপাদন পাল্লা দিয়ে বাড়ে।</p><p>ভালো কথা, সুপার-ক্রিটিক্যালিটি নাম দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এর মানেই কিন্তু ভারসাম্যহীন চেইন বিক্রিয়া নয়। বরং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওয়ার লেভেল পরিবর্তনের জন্য এটি অত্যন্ত দরকারি। সাধারণত যখন কোনো রিঅ্যাক্টর প্রথমবারের মতো ক্রিটিক্যালিটিতে পৌঁছায়, তখন এতে ফিশন থেকে পাওয়া তাপশক্তি কয়েক কিলোওয়াটের সমতুল্য হয়। এই অল্প পরিমাণ শক্তিকে সাধারণত আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এখান থেকে ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে, যেমন ১২০০ মেগাওয়াট, নিতে হলে নিয়ন্ত্রিতভাবে রিঅ্যাক্টরকে সুপার-ক্রিটিক্যাল করতে হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/iub9jjp3/P_2.png"><figcaption>সাব-ক্রিটিক্যালিটি থেকে সুপার-ক্রিটিক্যালিটির পথে যাত্রা </figcaption></figure><h2><strong>৩</strong></h2><p>এবারে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে ধাপে ধাপে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন তথা রিঅ্যাক্টর স্টার্ট-আপ করা হয়। এই কর্মযজ্ঞের শুরুর ধাপ হলো, রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপমাত্রা ও চাপে নিয়ে আসা। যখন জ্বালানি কোরে প্রবেশ করানো হয়, তখন রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেলের ওপরের অংশকে সম্পূর্ণ খুলে ফেলা হয়। ফুয়েল লোডিং শেষে প্রথম কাজ হলো প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সার্কিট সব যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক জোড়া লাগিয়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং নকশা অনুযায়ী উভয় স্থানের জন্য নির্ধারিত তাপমাত্রা ও চাপ ফিরিয়ে আনা। যদি প্রাইমারি সার্কিটের চারটি লুপের সবগুলোই ঠিকভাবে কাজ করে, তাহলেই কেবল রিঅ্যাক্টর চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। এই সময়ে স্টিম জেনারেটরের পানির উচ্চতা এবং সেকেন্ডারি সার্কিটের পানির নানান রাসায়নিক প্যারামিটার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে কিনা, সেটাও যাচাই করে দেখা হয়।</p><p>কোথাও কোনো সমস্যা খুঁজে না পেলে পরের ধাপে কাজ শুরু হয় কন্ট্রোল রড ড্রাইভ মেকানিজম নিয়ে। রিঅ্যাক্টর বন্ধ থাকার সময়ে এই সিস্টেমের সার্কিট ব্রেকারগুলো খোলা অবস্থায় থাকে। এদেরকে জোড়া লাগানো হলে কন্ট্রোল রডগুলোকে প্রয়োজনমাফিক উঠানো বা নামানো যায়। এই সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। তা হলো, প্রটেকশন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিঅ্যাক্টরকে বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে। মানে, কোনো কারণে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সিস্টেমটি কারো নির্দেশের অপেক্ষা না করে নিজে থেকেই কন্ট্রোল রডগুলোকে কোরের গহিনে ফেলে দেবে। মেইন কন্ট্রোল রুমের অপারেটর চাইলেও এই প্রক্রিয়াতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না!</p><p>কন্ট্রোল রডের মাধ্যমে নিউট্রন শোষণ করে চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে কোনো অজ্ঞাত কারণে যদি এগুলো কাজ না করে, তাহলে কি ফিশন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায়ই অবশিষ্ট থাকবে না? এমন চিন্তা থেকে আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সংযুক্ত করা হয়েছে আরেকটি শক্তিশালী বিকল্প। এর নাম বোরন। এগুলোও নিউট্রন শোষণে পারদর্শী। প্রাইমারি সার্কিটের পানির সঙ্গে মেশানো থাকে বোরনের দ্রবণ। সেখানে বোরনের দ্রবণের ঘনমাত্রা যত বেশি থাকে, কোরের ফিশন সংঘটনের হার তত কমে আসে। বন্ধ রিঅ্যাক্টরের সাব-ক্রিটিক্যাল অবস্থার পেছনে কন্ট্রোল রড এবং বোরন উভয়েরই সম্মিলিত অবদান রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, যদি কোরের মধ্যে বোরনের ঘনমাত্রা অনেক বেশি থাকে, তাহলে প্রতিটি রড তুলে ফেললেও ক্রিটিক্যালিটি অর্জন সম্ভব হবে না। অন্যদিকে এদের ঘনমাত্রা খুব কম থাকলে, রডগুলো সব ভেতরে থাকা অবস্থাতেও ক্রিটিক্যালিটি অর্জিত হয়ে যেতে পারে। তাই রিঅ্যাক্টর স্টার্ট-আপের সময়ে কন্ট্রোল রডগুলো ওপরে উঠানোর সঙ্গে সঙ্গে বোরনের ঘনমাত্রারও কমবেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। সূক্ষ্ম হিসাব করে এর মাত্রা নির্ধারণ করেন অপারেটররা।</p><p>বোরণ দ্রবণের ঘনমাত্রা পরিবর্তনের পর অবশেষে আসে কন্ট্রোল রড ওপরে উঠানোর পালা। রিঅ্যাক্টরে এমন রডের সংখ্যা ৫০ থেকে ১২১টি হতে পারে। এদের সবগুলোকে কোরের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় না, বরং সুষমভাবে সবদিকে ছড়িয়ে রাখা হয় যেন ভারসাম্য বজায় থাকে। ভূমিকার বিচারে এই রডগুলোকে দুইটি গ্রুপে ভাগে ভাগ করা হয়। শাট ডাউন গ্রুপ এবং কন্ট্রোল গ্রুপ।</p><p>প্রথম গ্রুপের সদস্যগুলোকে হয় এক সঙ্গে কোরে পুরোপুরি ঢুকানো থাকে (রিঅ্যাক্টর বন্ধ অবস্থায়) অথবা সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয় (রিঅ্যাক্টর চালু অবস্থায়)। এদের কাজ রিঅ্যাক্টরকে সম্পূর্ণ বন্ধ করা। অন্যদিকে দ্বিতীয় গ্রুপের রডগুলোর কাজ ফিশন বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে। যখন রিঅ্যাক্টর চালু থাকে তখন কয়েকটি বাদে এই গ্রুপের অধিকাংশ রড ওপরে উঠানো থাকে। ভেতরে থাকা সদস্যগুলোও খুব সামান্য পরিমাণ কোরের ভেতরে ঢুকানো থাকে। যা-ই হোক, কন্ট্রোল রড ড্রাইভ মেকানিজমের মাধ্যমে ছোট ছোট ধাপে (প্রায় ২০০টি) রডগুলোকে ওপরে উঠানোর কাজটি সম্পন্ন করানো হয়। সাধারণত প্রতি ধাপে মাত্র ১৫-২০ মিলিমিটারের মতো তোলা হয়। ধাপগুলোর মাঝে দেওয়া হয় বিরতি। এভাবে পুরো কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। এমনটা করার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ আছে। ক্রিটিক্যালিটি কোথায় অর্জিত হবে, তা নিয়ে অপারেটরদের করা হিসাব-নিকাশে ভুল হতে পারে। আবার, যন্ত্রপাতির ঠিকঠাক কাজ না করলে বোরনের ঘনমাত্রা কমবেশি প্রদর্শিত হতে পারে। এমন কোনো কিছু সত্যিই যদি হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত কন্ট্রোল রড তুলে ফেললে ফিশন বিক্রিয়ার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ ঘটতে পারে। তাই ধীরে ধীরে কন্ট্রোল রডগুলো তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/zsi4oth9/P_3.jpg"><figcaption>কন্ট্রোল রড (সবুজ রঙে চিহ্নিত) ভেতরে প্রবেশের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিঅ্যাক্টরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। বাঁ দিকে, কন্ট্রোল রডগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। ফলে ফিশন বিক্রিয়ার সংখ্যা কমে গিয়ে শক্তি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ডান দিকে, রডগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঢোকানো হয়েছে। এর প্রভাবে শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। </figcaption></figure><p>একটি মজার তথ্য দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করছি। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের যত কাছাকাছি যাওয়া যাবে, ততই কোরের মধ্যে নিউট্রনের আনাগোনা বা ফ্লাক্সের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে ঠিক কোন সময়ে এই অনন্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, সেটি বোঝার জন্য দৃশ্যমান কোনো রেখা নেই। অর্থাৎ এমন কোনো রেখার অস্তিত্ব নেই, যার নিচে রিঅ্যাক্টর সাব-ক্রিটিক্যাল থাকবে, আর ওপরে ক্রিটিক্যাল। তবে বিজ্ঞানীরা ‘ইনভার্স কাউন্ট রেট রেশিও’ গ্রাফ ব্যবহার করে এই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করতে পেরেছে। এর সাহায্যে কখন ক্রিটিক্যালিটি অর্জিত হবে, সে সম্পর্কে বেশ ভালো একটি ধারণা করা যায়। এর গল্পটা না হয় অন্য কোনো দিনের জন্য তোলা থাক।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
বাংলাদেশে এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তিনশো ছাড়াল
বাংলাদেশে এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তিনশো ছাড়াল

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ওমরাহ করতে গিয়ে হুথির হামলায় প্রাণ হারালেন মাদ্রাসা শিক্ষক নাসরুল্লাহ
ওমরাহ করতে গিয়ে হুথির হামলায় প্রাণ হারালেন মাদ্রাসা শিক্ষক নাসরুল্লাহ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
কে এই নিদাল হাসান, যার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
কে এই নিদাল হাসান, যার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
বিবিসি বাংলার ৮৫ বছর: রেডিও থেকে স্মার্টফোনের পর্দায় বিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা
বিবিসি বাংলার ৮৫ বছর: রেডিও থেকে স্মার্টফোনের পর্দায় বিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা

গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
'ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার', জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প
'ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার', জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
পত্রিকা: 'রাতে একা চলতে ভয় পুলিশের'
পত্রিকা: 'রাতে একা চলতে ভয় পুলিশের'

আজ রোববার ঢাকার পত্রিকাগুলোয় দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং গ্রেফতারের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের খবরে গুরুত্ব পেয়েছে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি, নারিকেল চারা আমদানিতে অনিয়ম,নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এ ছাড়া সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে এমন একটি ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। রবিবার ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত
ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
দুর্গাপূজার ছুটিতে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ
দুর্গাপূজার ছুটিতে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধের পাশাপাশি যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ডারবান টেস্টে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া, লিড ১৩৯ রান
ডারবান টেস্টে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া, লিড ১৩৯ রান

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে ডারবান টেস্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করা সফরকারীরা তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলেছে। তাতে সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৩৯ রান। আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় চতুর্থ দিনে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান, ৮৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান, ৮৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

গ্যাস সিলিন্ডার, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদির বিমানবন্দরে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদির বিমানবন্দরে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হেনেছে। রবিবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
বাংলাদেশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি
বাংলাদেশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে পবিত্র জমাদিউল আওয়াল মাস গণনা করা শুরু হবে। 

অক্টোবর ১১, ২০২৬
জিবুতিতে নৌকা ডুবে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু
জিবুতিতে নৌকা ডুবে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু

জিবুতি থেকে ইয়েমেনের পথে প্রায় ৩০৫ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৫ শিশুসহ অন্তত ১০৯ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা আইওএম রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬