রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ভুক্তভোগী অতি অল্পবয়সী ছিলেন। তাঁকে অবহেলা, অযত্ন ও মানসিক পীড়া দেওয়া হয়েছে এবং এটি জামিন-অযোগ্য অপরাধ।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/cib3sjtt/MRH-PodcastArt09.jpeg"><figcaption>প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’–এর নবম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন ‘মনের বন্ধু’র প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদা শিরোপা</figcaption></figure><blockquote>তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ব্যবসা ও সম্ভাবনার গল্প। তবে একটি উদ্যোগ শুরু করা থেকে সেটিকে টিকিয়ে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার পথ সহজ নয়। নানা চ্যালেঞ্জ, সিদ্ধান্ত ও শেখার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কীভাবে গড়ে তুলছেন নিজেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান—সেই সব গল্প নিয়েই প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’। এই পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ‘মনের বন্ধু’র প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদা শিরোপা।</blockquote><p>‘কাউন্সেলিং জীবনের সব সমস্যার শতভাগ সমাধান দেবে, এমন নয়। তবে এর মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের পরিস্থিতি বুঝতে, বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে এবং সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। ফলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন।’</p><p> পডকাস্টে অংশ নিয়ে কথাগুলো বলেন তৌহিদা শিরোপা। পর্বটি প্রচারিত হয় গতকাল শনিবার প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে।</p><p>পডকাস্টের শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, আমরা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলি, কিন্তু মানসিক সুস্থতা নিয়ে আগে তেমন কথা বলতাম না। আপনি কীভাবে মনের কথা বলার একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুললেন?</p><p>উত্তরে তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘আমার যাত্রাটা হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল। তখন আমি প্রথম আলোতে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতাম। ২০১৫ সালের দিকে আমার মায়ের অ্যাকিউট ডিপ্রেশন ধরা পড়ে। শুরুতে আমরা বুঝতে পারছিলাম না তাঁর কী হয়েছে। অনেক হাসপাতাল ঘোরার পর একজন চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাই। তখন বিষয়টি শনাক্ত হয়।’</p><p>তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ছয় মাসের একটি দীর্ঘ যাত্রার মধ্য দিয়ে আমরা তাঁকে সহায়তা করি। এই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি শুধু রোগীর নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও থাকে। একজন কেয়ারগিভারেরও সহায়তা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোথায় যাব, কাকে বলব, কে গোপনীয়তা রক্ষা করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন। সেই জায়গা থেকেই মনের বন্ধু তৈরির চিন্তা আসে।’</p><p>আপনার মায়ের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা কীভাবে এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল?</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার সময় আমি ও আমার ছোট ভাই তাঁকে সহায়তা করেছিলাম। তখন বুঝতে পারি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সঠিক তথ্য এবং সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করার জায়গা প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা ভাবি, যেখানে মানুষ জাজমেন্টের ভয় ছাড়াই কথা বলতে পারবেন।’</p><figure></figure><p>প্রথম আলোতে কাজ করার সময় আপনি একটি ‘কনফেশন বক্স’ পরিচালনা করতেন, সেখানে মানুষের চিঠি পড়ে কী উপলব্ধি হতো?</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘সেখানে অনেক অচেনা মানুষের চিঠি আসত। তাঁদের সমস্যা, অভিযোগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানতাম। চিঠিগুলো পড়ে আমার সব সময় মনে হতো, মানুষ নীরবে অনেক কষ্ট সহ্য করেন। কিন্তু তাঁদের কথা বলার জায়গা নেই। মানুষ জানেন না কার কাছে যাবেন, কীভাবে যাবেন বা কাকে নিজের সমস্যার কথা বলবেন। পত্রিকায় তাঁদের কথা প্রকাশ করে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। এই উপলব্ধি থেকেই সরাসরি সহায়তার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজন অনুভব করি।’</p><p>প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক মনের বন্ধুর জন্য প্রথম আলোর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান।</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘মনের বন্ধুকে এগিয়ে নিতে হলে অনেক সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল আমার। চাকরি ও এই উদ্যোগ একসঙ্গে চালিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব ছিল না বললেই চলে। তাই পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। তবে তখনো জানতাম না কীভাবে উদ্যোগটি এগিয়ে নেব।’</p><p>এরপর সঞ্চালক জানতে চান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার চিন্তা থেকে পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ শুরু করলেন কীভাবে?</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেন শুধু আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন সহায়তা নিতে পারেন। পোশাকশ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার চিন্তা থেকে বিজিএমইএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন ড. রুবানা হক। তাঁর সহায়তায় উদ্যোগটি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়। অনুমোদন পেতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে।’</p><p>প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন, নাকি শুধু নিয়ম মেনে চলার জন্য?</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেবাটি যেন শুধু নিয়ম রক্ষার উদ্যোগ হয়ে না থাকে।’ তিনি বলেন, শ্রমিকেরা সত্যিই উপকৃত হচ্ছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করার জন্য শ্রমিকদের পাশাপাশি লাইন ম্যানেজার, সুপারভাইজার ও ব্যবস্থাপনা দলের জন্যও আলাদা কর্মসূচি তৈরি করা হয়।</p><p>নতুন প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যাগুলো কি আগের প্রজন্মের তুলনায় আলাদা? জানতে চাইলে তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘এখন কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আগের চেয়ে রিলেশনশিপ নিয়ে আগ্রহ এবং নানা ধরনের প্রত্যাশা দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে সন্তান কী ভাবছে, কী অনুভব করছে, তা বোঝার জন্য মা-বাবার সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকা জরুরি।’</p><p>তরুণদের বাইরে প্রবীণ নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদা শিরোপা বলেন, মনের বন্ধুর সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রবীণ নাগরিকেরাও রয়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের সন্তান বিদেশে থাকেন, তাঁদের কেউ কেউ নিঃসঙ্গতা অনুভব করেন। সব সময় তাঁদের বড় ধরনের মানসিক অসুস্থতা থাকে, এমন নয়। অনেকের শুধু কথা বলার একজন মানুষ প্রয়োজন হয়। সন্তানদের ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় প্রবীণ ব্যক্তিরা নিজেদের কথা বলার জায়গা খোঁজেন।</p><p>সবশেষে সঞ্চালক জানতে চান, আপনার উদ্যোগে অনেক মানুষের মনের কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপনার নিজের মন খারাপ হলে কার কাছে যান?</p><p>তৌহিদা শিরোপা বলেন, ‘অন্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি বলেই যে আমাদের নিজেদের কোনো সমস্যা হবে না, তা নয়। আমাদেরও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, মন খারাপ হতে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছি। পাশাপাশি, কাউন্সেলরদের জন্য সুপারভিশনের ব্যবস্থা আছে, যেখানে তাঁরা নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে পারেন। আমি মনে করি, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’</p>
<p>রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা উল্লেখ করে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি। তাঁর নির্দেশনা, স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে হবে।</p><p> আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।</p><p> সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে সভা শুরু হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় চলে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সভা শেষ হয়। এতে বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।</p><h3>ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতির তাগিদ </h3><p>সভাপতির বক্তব্যে তারেক রহমান গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিএনপি হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দলকে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করে যেতে হবে।</p><p>আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সরকারকে অনেক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা বলেন তিনি। দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।</p><h3>দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ </h3><p>আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। অতীতে হয়তো তাঁরা অন্য একটি দলকে ভোট দিতেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।</p><h3>স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় পরীক্ষা </h3><p>স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। তাই এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করতে হবে। এই নির্বাচন সরকারের জন্যও বিশেষ পরীক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে যেখানে যিনি জনপ্রিয়, তাঁকে প্রার্থী করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে তাঁদের পাশে রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংগঠনকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।</p><h3>স্থানীয় বাস্তবতায় কর্মসূচি প্রণয়নের নির্দেশ </h3><p>কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের তাগিদ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের রাজনীতি এক রকম, বগুড়ার রাজনীতি আরেক রকম। তাই এলাকার চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পালনের পরামর্শ দেন তিনি।</p><h3>আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ </h3><p>সভায় বক্তব্য দেওয়া সংসদ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া, মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদেরও ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ করেন।</p><p>এ সময় একজন সংসদ সদস্য অন্যের নির্বাচনী এলাকায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। আরেকজন প্রতিমন্ত্রী চাকরিবাকরিসহ সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেন।</p><p>সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের এক পাশে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং অন্য পাশে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বসেন।</p>
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি কেব্ল, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
বেইলি রোডের বাসায় চেয়ারে বিশ্রাম নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল শহরে নাট্যকার মামুনুর রশীদের পৈতৃক বাড়িতে চুরি হয়েছে। বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারি ও ওয়ার্ডরোবের জিনিসপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
লিভারপুলকে অ্যানফিল্ডে ৩–০ গোলে হারিয়েছে শাস্তির মুখে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগে ছয় ম্যাচ খেলে ছয়টিতেই জয় পেল সিটি।
নাটোর স্টেশন থেকে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাটোর শহরের কাফুরিয়াপট্টি মহল্লা থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন