টাইগার শ্রফ কত কোটি টাকার মালিক?
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় হতবাক তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা পারিবারিক সম্পর্কে বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সহজ নয়।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে। নির্বাচিত সরকারের সময় তা কমে আসবে মনে করা হলেও এখনও তাতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। বরং মব একটি রাজনৈতিক চেহারা পাচ্ছে বলেই মত মানবাধিকারকর্মীদের।
অস্ত্র-কাণ্ড নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদ ছাড়ার ঘোষণা, সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের এবং সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সংক্র...
টানা পাঁচদিনের ছুটি উপলক্ষে সোমবার বিকেল থেকে বাস, রেল স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল...
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিন-দুপুরে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু করে ১৫-২০টি যানবাহনে...
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুমাইয়ার তৈরি ফুলের তোড়ার দাম শুরু ৮০ টাকা থেকে। কয়েক দিন আগে তিন হাজার টাকায় একটি তোড়াও বিক্রি করেছেন।
চলতি অক্টোবর মাসেই এ উদ্যোগ শুরু করতে চায় ব্র্যাক ব্যাংক। কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস ব্যবহার করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে।
ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল স্কলারশিপে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে আকৃষ্ট করে
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে, ৫০তম বিসিএস থেকে কার্যকর হবে।
<p>হামিদ দাবাশি যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের হাগোপ কেভোরকিয়ান অধ্যাপক। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর লেখা এই নিবন্ধ আল–জাজিরায় প্রকাশিত হয়। অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন খলীলুল্লাহ মুহাম্মাদ বায়েজীদ</p><p>সময় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। সেদিন যথারীতি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠি। বিছানায় শুয়েই পড়তে ও লিখতে শুরু করি। তখনো জানি না মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ম্যানহাটানে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে।</p><p>নিউইয়র্কে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আপার ওয়েস্ট সাইডে ছিল আমাদের বাসা। শহরের কোলাহলমুখর ডাউনটাউন আর ব্যস্ত বাণিজ্যিক মিডটাউন থেকে দূরে, শান্ত ও মনোরম এক আবাসিক এলাকায় আমাদের বসবাস। জায়গাটা এতটাই নিরিবিলি যে দেখলে মনে হতো যেন গ্রামীণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কোনো এক পাড়া।</p><p>ল্যান্ডফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল। তখনকার দিনে মুঠোফোন তেমন ছিল না, থাকলেও তা ছিল বিরল ও অদ্ভুত এক জিনিস। তাই যোগাযোগের জন্য আমরা তখনো ল্যান্ডলাইনই ব্যবহার করতাম। ফোনের ওপাশে ছিলেন আমার এক বন্ধু। তাঁর গলায় স্পষ্ট উদ্বেগ। তিনি জানতে চাইলেন, আমি ঠিক আছি কি না। বললাম, হ্যাঁ, ভালো আছি। তখন তিনি আমাকে টেলিভিশন চালু করতে বললেন।</p><p>টিভি চালু করতেই দেখি, আমাদের শহর আক্রান্ত। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বিশাল টুইন টাওয়ারে বিমান আঘাত হেনেছে। ভবন দুটি ধসে পড়ছে। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে। তখন ঠিক কয়টা বাজে, আমার মনে নেই। মনে হচ্ছিল, সময় যেন থমকে গেছে।</p><p>[দৃশ্যটি দেখে] মুহূর্তেই আমার স্মৃতিপটে ভেসে উঠেছিল সেই বছরেরই ১৫ এপ্রিলের কথা। সেদিন বড় মেয়ে পার্ডিসের জন্মদিন উদ্যাপন করতে তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম উত্তর টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থিত ‘উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেস্তোরাঁয়। স্পষ্ট মনে আছে, আমরা কাছের নেওয়ার্ক বিমানবন্দরে বিমানগুলোকে ওঠানামা করতে দেখেছিলাম। মেয়েকে বলেছিলাম, ‘অদ্ভুত না? বিমানগুলোকে আমরা নিজেদের পায়ের নিচ দিয়ে ওঠানামা করতে দেখছি!’</p><p>অর্ধেক অবিশ্বাস আর অর্ধেক হতাশা নিয়ে আমি পোশাক পরে বেরিয়ে পড়লাম। সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন আতঙ্কিত মানুষ। আমরা শহরের কেন্দ্রের দিকে হামলাস্থলের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তাঘাট ছিল একেবারে ফাঁকা। পুরো শহরে নেমে এসেছিল অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। আমরা নিউইয়র্কবাসী কোলাহলে অভ্যস্ত। অতিরিক্ত নীরবতা বরং আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে কিন্তু সেদিন সকালে গোটা শহর ছিল নিথর। ব্রডওয়ের বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, ওরা যেন সেই শিশু, যারা এইমাত্র মা-বাবাকে হারিয়েছে কিন্তু তারা এখনো জানে না সেই খবর।</p><p>আমিসহ বিভ্রান্ত জনতার ছোট্ট দলটি হিউস্টন স্ট্রিটে এসে থামল।</p><p>কয়েকজন জাপানি পর্যটককে দেখলাম, স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর ওপর থেকে ধুলা সংগ্রহ করছিলেন। সেই ধুলা ছিল ধসে পড়া টুইন টাওয়ারের। আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, সেই ধুলার কথা। কী অদ্ভুত—এই ধুলার মধ্যে মিশে আছে ইট, সিমেন্ট, মানুষের দেহাবশেষ, কফির কাপ আর ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে ধুলায় মিশে যাওয়া কত মানুষের অপূর্ণ স্বপ্ন।</p><p>নিজের অজান্তেই ওমর খৈয়ামের কবিতার পঙ্ক্তি আওড়াতে শুরু করলাম—</p><p>আহ! ধুলায় মিশে যাওয়ার আগেই,</p><p>জীবন যতটা পারা যায় উপভোগ করে নাও।</p><p>তারপর ধুলা—স্তূপীকৃত ধুলা, ধুলার নিচেই শয়ন,</p><p>মদ, গান ও গায়ক কেউই থাকবে না সে জীবনে।</p><blockquote>অর্ধেক অবিশ্বাস আর অর্ধেক হতাশা নিয়ে আমি পোশাক পরে বেরিয়ে পড়লাম। সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন আতঙ্কিত মানুষ। আমরা শহরের কেন্দ্রের দিকে হামলাস্থলের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তাঘাট ছিল একেবারে ফাঁকা। পুরো শহরে নেমে এসেছিল অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। আমরা নিউইয়র্কবাসী কোলাহলে অভ্যস্ত। অতিরিক্ত নীরবতা বরং আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে কিন্তু সেদিন সকালে গোটা শহর ছিল নিথর। ব্রডওয়ের বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, ওরা যেন সেই শিশু, যারা এইমাত্র মা-বাবাকে হারিয়েছে কিন্তু তারা এখনো জানে না সেই খবর।</blockquote><p><strong>শোকের মাহাত্ম্য</strong></p><p>ঘটনার পরদিন বুধবার আমার ক্লাস ছিল। ক্যাস্পাসে গিয়ে দেখি, আমার শিক্ষার্থীদের রঙিন চক দেওয়া হয়েছে। তারা লো লাইব্রেরির সিঁড়িতে এঁকে চলেছে নিজেদের ভয়, দুশ্চিন্তা আর শোকের ছবি। এই শোক প্রকাশ আসলে মৃতদের জন্য নয় বরং জীবিতদের জন্য। এটা মহৎভাবে বেঁচে থাকার এক পবিত্র শিল্প, মহামূল্যবান জীবনের অনন্তকালে রূপান্তর উদ্যাপনের পবিত্র আচার। এটা এমন একটা মুহূর্ত যখন আমরা মরণশীল মানুষ আমাদের আত্মার অমরত্ব অনুভব করি কিন্তু যে সংস্কৃতি শোক প্রকাশের এই ভাবগাম্ভীর্য সভ্যতা হারিয়ে ফেলেছে, সেগুলোর কী হবে?</p><p>আমাদের শহর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। সেই আঘাতের পর স্থির হয়ে বসার, ভাবার ও শোক করার জন্য আমরা মাত্র এক-দুই দিন সময় পেয়েছিলাম। এরপরই আমেরিকানরা শোকের সেই মহৎ পরিসর থেকে দ্রুত বেরিয়ে এল। তাদের সামনে দ্রুত তৈরি করে দাঁড় করানো এক অস্পষ্ট, চেহারাহীন শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে তারা ছুটল।</p><p>প্রতিশোধ নেওয়ার আগে মানুষের প্রশান্তি দরকার। তাদের স্থির হয়ে বসে থাকার এবং এই অস্থির পৃথিবীর ভয়কে শান্তভাবে অনুভব করার সময়ও দরকার কিন্তু যুদ্ধের দামামা অতি দ্রুত বেজে উঠল আর সেই প্রশান্ত ধ্যানগুলোতে ছেদ টানল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-09-11/n4k7cwu6/USAAttack.webp"><figcaption>২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো হয়</figcaption></figure><p>৯/১১–এর দশম বার্ষিকীতে আমি আল-জাজিরার জন্য একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে পাঠকদের উদ্দেশে বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক জ্যাক দেরিদার সঙ্গে আমার একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের কথা তুলে ধরেছিলাম। ৯/১১-এর ভয়াবহ ঘটনার কিছুদিন পরই তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাবলিক লেকচার দিতে এসেছিলেন। সেদিন দেরিদা ‘রাজনৈতিক শোক’ নিয়ে কথা বলছিলেন। দর্শকদের তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যা দেখছি, তা কেবল ৯/১১–এর ঘটনায় নিহত মানুষদের জন্য শোক নয় বরং আমরা যে অর্থে এত দিন ‘রাজনৈতিক’ বিষয়টিকে চিনে এসেছি, সেই ‘রাজনৈতিক’-এর জন্যও যেন শোক করছিলাম। বক্তৃতা শেষে আমি তাঁকে একটি প্রশ্ন করেছিলাম—শহরজুড়ে আমরা যে ‘শোকের রাজনীতি’ দেখছি, তা কি শেষ পর্যন্ত ‘রাজনীতির শোক’-এর সম্ভাবনাকেই রুদ্ধ করে দেবে? দেরিদা কিছুক্ষণ প্রশ্নটি নিয়ে ভাবলেন কিন্তু সরাসরি কোনো উত্তর দিলেন না। বললেন, এর কোনো স্পষ্ট উত্তর তাঁর জানা নেই।</p><p>আমেরিকার এই মর্মান্তিক ক্ষত ঘিরে যে মানবিক অনুভূতি ও শোক তৈরি হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই ‘শোকের রাজনীতি’ আর যুদ্ধের দামামার নিচে চাপা পড়ে গেল। যতটুকু শোক অবশিষ্ট ছিল, তার সীমানাও যেন নির্ধারিত হলো আমেরিকার যুদ্ধবিমানের উড়ালসীমা দিয়ে। তথাকথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এত দ্রুত এবং সহিংসভাবে ৯/১১–এর শোকের রাজনীতিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে ভেতরে–ভেতরে মর্মান্তিকভাবে আক্রান্ত এই জাতি তাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষত অনুভব করার সুযোগই পেল না। শোক প্রকাশ ছিল কেবলই বাহ্যিক। তা রূপ নিল সহিংস প্রতিশোধে। আসলে কী ঘটেছিল, তা থেমে গভীরভাবে ভেবে দেখার অবকাশ আর রইল না।</p><blockquote>৯/১১–এর দশম বার্ষিকীতে আমি আল-জাজিরার জন্য একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে পাঠকদের উদ্দেশে বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক জ্যাক দেরিদার সঙ্গে আমার একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের কথা তুলে ধরেছিলাম। ৯/১১-এর ভয়াবহ ঘটনার কিছুদিন পরই তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাবলিক লেকচার দিতে এসেছিলেন। সেদিন দেরিদা ‘রাজনৈতিক শোক’ নিয়ে কথা বলছিলেন।</blockquote><p>পাঁচ বছর পর ৯/১১–এর ঘটনার ১৫তম বার্ষিকীতে আমি আল–জাজিরার জন্য অন্য একটি নিবন্ধে এই ধারণা পুনর্বিবেচনা করেছি। শোকের বিজয়ী রাজনীতি কীভাবে রাজনৈতিক শোকের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল সেখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।</p><p>আসলে অন্যের ব্যথা-বেদনাকে নিজের মধ্যে ধারণ করার জন্য মনের ভেতর একটি শান্ত পরিসর দরকার কিন্তু ৯/১১-এর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকীতে সেই নীরব পরিসরের মৃদু গুঞ্জন চাপা পড়ে গেছে ক্রোধ আর প্রতিশোধের চিৎকারে। আর ‘অন্যরা’ যেহেতু আরও বেশি ‘অপর’ হয়ে উঠেছে, এই দেশের শাসকেরা ততই যেন ভুলে গেছেন—বিশ্বের মধ্যে তাদের নিজেদের অবস্থান আসলে কোথায়।</p><p><strong>কান থেকে কান্দাহার</strong> </p><p>আমেরিকানরা ৯/১১–এর ঘটনায় যে যন্ত্রণা অনুভব করেছিল, আফগান ও ইরাকিরা বছরের পর বছর ধরে সেটির পরিণতি ভোগ করেছে। তারা আজও সেই ভয়াবহ দিনের ফল ভোগ করছে কিন্তু ৯/১১–এর ঘটনার মতো ১০/৭ কিংবা ৩/২০–এর কথা কেই–বা মনে রাখে? উল্লেখ্য, আমেরিকা ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে আক্রমণ শুরু করে আর ২০ মার্চ ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকে হামলা চালায়। নিজের কষ্টের জন্য মহৎভাবে শোক পালন করার পাশাপাশি অন্যের যন্ত্রণাও অনুভব করতে পারা জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-09/46d64a1b-1153-4e1c-9f40-ec4ddbe997a5/1.jpg"><figcaption>টুইন টাওয়ারে ৯/১১ হামলা</figcaption></figure><p>সেই সময়কার যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের জগৎকে পরস্পরের কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০১ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্রকার মোহসেন মাখমালবাফের কান্দাহার ছবির প্রিমিয়ার হয়। শুরুতে ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। যদিও এটি সমালোচকদের যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল কিন্তু সেই একই বছরের সেপ্টেম্বরে ছবিটা অভাবনীয় গুরুত্ব পেয়ে যায়। ৯/১১–এর পরপরই ব্যাপক সমাদরের জন্য মাখমালবাফের অনুমতি নিয়ে কান্দাহার ছবিটি আমি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাই।</p><p>আমার উদ্দেশ্য ছিল কান্দাহার এবং নিউইয়র্ক—এই দুই শহরের মধ্যে এক ধরনের নৈকট্য ও সংহতি স্থাপন করা। যাতে করে এর মাধ্যমে নিউইয়র্কের মর্মান্তিক ঘটনাকে এই অঞ্চলের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে স্থাপন করার একটি সুযোগ তৈরি হয় কিন্তু বলতে গেলে আমার এ চাওয়া পুরোপুরি ভেস্তে যায়। কেননা, তত দিনে দেশটি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এমনকি সেই যুদ্ধকে রিচার্ড ফকের মতো সবচেয়ে উদার এবং প্রগতিশীল আমেরিকানরাও ন্যায্য বলে মনে করেছিলেন।</p><blockquote>সেই সময়কার যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের জগৎকে পরস্পরের কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০১ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্রকার মোহসেন মাখমালবাফের কান্দাহার ছবির প্রিমিয়ার হয়। শুরুতে ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। যদিও এটি সমালোচকদের যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল কিন্তু সেই একই বছরের সেপ্টেম্বরে ছবিটা অভাবনীয় গুরুত্ব পেয়ে যায়। ৯/১১–এর পরপরই ব্যাপক সমাদরের জন্য মাখমালবাফের অনুমতি নিয়ে কান্দাহার ছবিটি আমি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাই।</blockquote><p>২০০১ সালের অক্টোবরে দ্য নেশন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে রিচার্ড ফক লিখেছিলেন, ‘আমার শৈশব থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল এমন কোনো একটি সরাসরি যুদ্ধকেও আমি সমর্থন করিনি। যদিও আমি মনে করি, কসোভোতে ন্যাটো বাহিনীর যুদ্ধ ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি আফগানিস্তানে অ্যাপোক্যালিপটিক বা ভয়াবহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে [যুক্তরাষ্ট্রের] যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম সত্যিকারের ন্যায়সংগত যুদ্ধ মনে করি।’</p><p>কিন্তু ৯/১১-এর সহিংসতা যতই ভয়াবহ হোক, আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা ও দখল কেবল প্রতিশোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অবশ্য রিচার্ড ফক নিজেই আশঙ্কা করেছিলেন ও স্বীকার করেছিলেন। যুদ্ধ একবার শুরু হলে তা নিজের সামরিক যুক্তি তৈরি করে। নিজেই নিজের ভয়াবহ পরিণতির পথ তৈরি করে এবং সেই পথেই এগিয়ে চলে।</p><p>আমেরিকান ইতিহাসে প্রচুর জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। গৃহযুদ্ধ থেকে শুরু করে আব্রাহাম লিংকনের হত্যাকাণ্ড। জন এফ কেনেডি, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং ম্যালকম এক্সের গুপ্তপথে হত্যার ঘটনা। তারপর ৯/১১–এর মর্মান্তিক যন্ত্রণা। ইতিহাস বারবার আমেরিকানদের সামনে শোক করার এবং আত্ম-প্রতিফলনের জন্য নিজেদের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ এনে দিয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2017/09/17/e59eebb3a485ecc0520ad0b33d029de7-59be02772a553.jpg"><figcaption>নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা </figcaption></figure><p>কিন্তু ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর বিজয়ী সামরিক উন্মাদনা এবং ৯/১১–এর হামলার প্রতিশোধ নিতে দুটি দেশকে ধ্বংস করার অমানবিক নিষ্ঠুরতা সেই ভয়াবহ দিনটির রেখে যাওয়া গভীর শূন্যতাকে সমূলে উৎপাটন করে না বরং শুধু আড়াল করে। এই দেশ কখনোই একটি আদর্শ জাতিতে পরিণত হবে না যতক্ষণ না এটি তার বন্দুক তাক করা কিংবা অন্য কোনো দেশে যুদ্ধবিমান পাঠানোর আগে একটি জাতীয় ট্র্যাজেডির জন্য শোকের প্রজ্ঞা এবং সান্ত্বনা অর্জন করতে না শেখে আর তা সম্ভব হবে না, যত দিন একজন আফগান বা ইরাকি শিশুর জীবনের মূল্য আমেরিকান শিশুর জীবনের সমান মূল্যবান মনে না করা হবে। প্রতিশোধ মানুষের মনের কোনো মর্মান্তিক ক্ষতকে সারায় না বরং সেই ক্ষতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে।</p><p>ম্যানহাটান শহর আবার তার চিরচেনা জনাকীর্ণতা আর ব্যস্ততায় স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে গেছে। ৯/১১ একটি প্রতীকী ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে, যা মানুষ খুব কমই মনে রাখে। অনেকটা ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বরের পার্ল হারবারে হামলার মতো। আমেরিকায় স্মরণীয় দিনগুলোর অনেকগুলোই এখন সোমবারের ছুটির সঙ্গে মিশে গেছে। মেমোরিয়াল ডে কিংবা লেবার ডের মতো দিনগুলো মানুষকে তাদের ক্লান্তিকর দৈনন্দিন জীবন থেকে একটি দীর্ঘ সপ্তাহান্তের বিরতি দেয় কিন্তু ৯/১১ ছিল মঙ্গলবার। এমন একটি মঙ্গলবার, যা ক্রমেই বিস্মৃতির দিকে চলে যাচ্ছে। এটি কর্মব্যাপৃত মঙ্গলবার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে অথচ যার ক্ষতি আর কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। সেদিন খুব অল্প সময়ের জন্য এই জাতির আত্মা সেই ভয় অনুভব করেছিল—যে ভয় পৃথিবীর মানুষ প্রতিনিয়ত অনুভব করে।</p><p>[এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত একেবারেই লেখকের নিজস্ব এবং অবধারিতভাবে আল–জাজিরার সম্পাদকীয় নীতিমালা প্রতিফলিত করে না।]</p>
লেখায় সারায়েভোর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। পাহাড়, নদী ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ শহরটিকে তিনি ইউরোপের জেরুজালেম হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
<p>ইরানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের রেকর্ডটি বেশ হতাশাজনক। মাসের পর মাস তীব্র বোমা হামলা চালিয়েও তারা যেমন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে কাবু করতে পারেনি, তেমনি আলোচনার টেবিলেও তেহরানের ইচ্ছাকে দমাতে ব্যর্থ হয়েছে। </p><p>তবু সাত মাসের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বাস করছেন যে তাঁরা বুঝি পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ভাবছেন যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র খুব দ্রুত হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য হবে। </p><p>এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ওয়াশিংটন ইরানের অনেক ক্ষতি করেছে। কিন্তু ইসলামিক প্রজাতন্ত্র নিজে মনে করে না যে তাদের পতন ঘটছে। বরং তেহরান বিশ্বাস করে যে তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করবে। আর এই আত্মবিশ্বাসের কারণগুলোও খুব একটা দুর্বোধ্য নয়। কারণ, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মুখে ইরানি সরকার কেবল টিকেই থাকেনি, বরং তারা তীব্র আক্রমণাত্মক জবাব দিয়েছে।</p><p>তেহরানের অবস্থান আরও সংহত হয়েছে। কৌশলগত কিছু বিষয়ে তাদের ভেতরের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য অভিন্ন: পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনীকে তাড়িয়ে দেওয়া, ওয়াশিংটনকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য করা এবং ইরানকে একটি ‘মহাশক্তি’ হিসেবে মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করা।</p><p>ইসলামিক প্রজাতন্ত্র মনে করে তাদের এই লক্ষ্য এখন হাতের নাগালেই রয়েছে। তেহরানের জয়ের তত্ত্বটি হচ্ছে, তারা দীর্ঘ সময় টিকে থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অসহনীয় কষ্টের মুখে ফেলবে, যার ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ইরানকে কোণঠাসা করার নীতি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/pdlgjfknng">সামনে বড় সুযোগ, কাজে লাগাবে কি ইরান</a></aside><h3>বদলে যাওয়া</h3><p>যুদ্ধ যে ইরানকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে, তা নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। মাসের পর মাস মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে দেশটির শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যে নিপতিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী।</p><p>কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে এই সংঘাত মার্কিন শিবিরের জন্য বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বিমান হামলা এবং ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার বহুমুখী পদক্ষেপগুলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে হাঁটু গেড়ে বসাতে বাধ্য করবে। কিন্তু তা হয়নি।</p><p>ওয়াশিংটন ভেবেছিল খামেনিকে হত্যা করলেই সরকারবিরোধী ব্যাপক জনরোষ বা গণ–অভ্যুত্থান শুরু হবে। সে পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। বরং খামেনির মৃত্যুর পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কট্টর সমর্থকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে রাস্তায় নেমে আসে। দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে তারা রাতের পর রাত মিছিল করেছে এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সাধারণ ইরানিরাও স্বদেশের সমর্থনে রাজপথে নেমে যোগ দিয়েছে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-18/81se5ko9/US-Iran-MoU.avif"><figcaption>মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি</figcaption></figure><p>জাতীয়তাবাদের এই জোয়ার অবশ্য ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো অন্ধ সমর্থন নয়। অনেক ইরানিই দেশের নেতৃত্বের ওপর এখনো গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। কিন্তু সরকারের ওপর সেই ক্ষোভ এখন ওয়াশিংটনের প্রতি ক্ষোভের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। </p><p>অতীতে সাধারণ ইরানিরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের এই দাবি নিয়ে সন্দিহান ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র আসলেই তাদের দেশটাকে ধ্বংস করতে চায়, এবং তারা বরং চেয়েছিল তেহরান যেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।</p><p>কিন্তু ইরানি শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বারবার দেশটির সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। </p><p>ওয়াশিংটন যখন প্রথম ২০২৫ সালের জুনে ইরানে বোমা হামলা চালায়, তখন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মতাদর্শের সাধারণ ইরানিদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ কথোপকথনে এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জানুয়ারি মাসের গণবিক্ষোভের সময় সংঘটিত দমন–পীড়নের পর বিশাল জনতা তাদের সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ig3vm8h24n"> ইরান যেভাবে যুদ্ধরীতির ধরন বদলে দিল</a></aside><p>কিন্তু আমরা দেখেছি, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক কথাবার্তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে গেছে। </p><p>রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে জেল খাটা ৪৫ বছর বয়সী ভিন্নমতাবলম্বী আলী আমাদের বলেন, ‘আমরা আমেরিকান প্রতিশ্রুতির ওপর অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু এই যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসন যা বলেছে ও করেছে, তাতে এটা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আমেরিকানরা আমাদের একটা মিথ্যা গল্প বিক্রি করেছিল। তারা ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না, যা আমাদের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’</p><p>ত্রিশোর্ধ্ব লেখক ও চিত্রশিল্পী মহাসাও একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এত দিন যে স্বাধীনতা, সম্মান ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে, তার সবকিছুকেই এখন আমার কাছে ডাহা মিথ্যা বলে মনে হয়। বছরের পর বছর ধরে আমি আমার রাষ্ট্রের ওপর যতই রাগান্বিত থাকি না কেন, এটি আমাদের মাতৃভূমি—বাইরের কোনো দেশের অধিকার নেই আমাদের নেতাদের হত্যা করার, আমাদের শিশুদের ওপর বোমা ফেলার এবং আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা চালানোর।’</p><p>এ কারণেই, দেশ যুদ্ধের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও খামেনির জুলাই মাসের জানাজা মিছিলে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল বলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওই অনুষ্ঠানে লোকজন একে অপরের মধ্যে লাল পতাকা বিলি করছিল, যা তাদের রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ নেওয়ার গভীর ইচ্ছার প্রতীক। </p><blockquote>ইসলামিক প্রজাতন্ত্র মনে করে তাদের এই লক্ষ্য এখন হাতের নাগালেই রয়েছে। তেহরানের জয়ের তত্ত্বটি হচ্ছে, তারা দীর্ঘ সময় টিকে থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অসহনীয় কষ্টের মুখে ফেলবে, যার ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ইরানকে কোণঠাসা করার নীতি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে। </blockquote><p>অনেক মার্কিন কর্মকর্তা হয়তো মনে করেন যে চরম অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত মানুষের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন আনবে। কিন্তু এটি একধরনের অলীক কল্পনা। ১৫ বছর ধরে ইরান এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলেছে, যা বিশেষভাবে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলা করার উপযোগী। </p><p>ইরানি কর্মকর্তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশকে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছেন। ফলস্বরূপ, ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মধ্যে থাকা এবং মূল্যস্ফীতি বেশি হওয়া সত্ত্বেও দেশের শহর বা জনপদগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবার কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। </p><p>এর মানে এই নয় যে ইরানিরা তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আশাবাদী। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং স্বাভাবিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। তবে তারা মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসনকে কোনো মুক্তির আলো হিসেবে দেখছে না। বরং তারা একে দেখছে আগ্রাসন হিসেবে।</p><p>এর ফলে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ব্যবধানকে ঝাপসা করে দিয়েছে এবং নতুন কোনো রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এই যুদ্ধ প্রকারান্তরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-06/gbctunhr/Khameni-2.webp"><figcaption>ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (বাঁয়ে), প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (মাঝখানে) এবং তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি-সংবলিত একটি বিলবোর্ড</figcaption></figure><h3>বেদনা ও প্রাপ্তি </h3><p>দেশের সাধারণ মানুষের মতো ইরানি সরকারও এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি আরও কঠোর ও বৈরী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে শুরু করেছে। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসিয়েছেন (যদিও তিনি নিজে আত্মগোপনেই রয়েছেন), যাঁরা মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্ব।</p><p>তাঁরা মনে করেন, যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত ও আক্রমণাত্মক জবাব না দিলে ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসন ঠেকানো যাবে না। তাঁরা কূটনীতির বিষয়ে আমেরিকার সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছেন। তাঁরা যুক্তি দেখান যে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র দুবার ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে সরে এসেছে—তাই তাদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।</p><p>তুলনামূলকভাবে ইরানের মধ্যপন্থীরা কিছুটা ভিন্ন মনোভাব পোষণ করেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের মতো ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে তেহরানের উচিত এই সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা। পেজেশকিয়ান ও গালিবাফ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশার দিকটি বারবার তুলে ধরেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/09pdufpxmy">ইরান নিয়ে যে চিঠি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের মুখোশ আবারও খুলে দিল</a></aside><p>তবে দেশের কট্টরপন্থী নেতাদের সঙ্গে তাঁদের ব্যবধান যতটা মনে হয়, আসলে ততটা নয়। একজন বিশ্লেষক আমাদের জানান, ‘কেউই বলছে না যে ইরানের আত্মসমর্পণ করা উচিত।’ তাঁরা অর্থনৈতিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখলেও, তাঁদের সমাধান হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা। </p><p>তাঁরা মনে করেন, ট্রাম্প কেবল তখনই এই চুক্তিতে ফিরে আসবেন যখন তিনি ইরানের বিজয়ের বাস্তবতাকে মেনে নিতে বাধ্য হবেন, আর তার অর্থ হলো আমেরিকার জন্য এই যুদ্ধের ব্যয় ও মাশুল আরও বাড়িয়ে দেওয়া।</p><p>ফলস্বরূপ, ইরানের আচরণ হবে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তবে তা কেবল দেশের আশপাশের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। তেহরানের মূল ধারাটি বিশ্বাস করে যে অতিরিক্ত সতর্কতা বা পূর্বানুমেয় নীতি কেবল আমেরিকার চাপকেই আরও বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলোকে একচুলও এগিয়ে নেবে না।</p><p>ইরানের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি তাড়িয়ে দেওয়া এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রাধান্যকে স্বীকার করে নিতে ওয়াশিংটনকে বাধ্য করা। পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ইরানের বারবার হামলা ইতিমধ্যে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এক অর্থে তারা এতে সফলও হয়েছে।</p><blockquote>তেহরান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে তারা বর্তমান পথ ধরেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারবে। এখানে কোনো ধরনের আপস করার প্রয়োজন নেই।</blockquote><p>তেহরান একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যাতে তারা তাদের দেশের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেয়। </p><p>এই উদ্দেশ্যে তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে পারস্য উপসাগরের শান্তি ও নিরাপত্তা নির্ভর করছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে এই অঞ্চল থেকে বিতাড়ন করার ওপর।</p><p>অবশ্য ইরান অর্থনৈতিক স্বস্তি অর্জন না করেও তার আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিতাড়িত করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক ‘ডি-ডে’ ঘোষণা করেছিল এই কারণে যে একদিকে তাদের সামরিক বাহিনী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং অন্যদিকে ইরানের নৌবাহিনীর হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি উপকূল থেকে অনেক দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। </p><p>তবে ইরানের বিশ্বাস, তারা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে তাদের এই প্রতিপক্ষকে কোনো না কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বোঝাপড়ায় আসতে বাধ্য করতে পারবে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান, যাকে তারা তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে মনে করে। ওয়াশিংটন এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, কিন্তু এটা যুক্তরাষ্ট্র চিরকাল টিকিয়ে রাখতে পারবে না।</p><p>ইরানের আঞ্চলিক অংশীদারেরাও এ ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করে যাচ্ছে। ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে, যা সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগরের টার্মিনালে বহন করে নিয়ে যেত। ইয়েমেনের হুতি মিত্ররাও ধারাবাহিকভাবে সৌদির তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। </p><p>এমনকি হুতিরা নতুন নতুন বিশাল ভূখণ্ড দখল করে সোজা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে পৌঁছে গেছে। এটা প্রমাণ করে যে লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের নেটওয়ার্ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিকভাবে তারা এখনো বেশ শক্তিশালী এবং কার্যকর রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-03/t4t4wlet/Red_and_black_pennants.png"><figcaption>ইরানের তেহরানে ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি হিসেবে সড়কের ওপর টানানো হয়েছে কালো ও লাল পতাকা</figcaption></figure><h3>ধীরস্থিরভাবে চলা</h3><p>যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মনে করতে পারে যে তারা ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। কিন্তু তেহরান তা মনে করে না। তারা নিজেদের পিঠ ঠেকে যাওয়া বা বিকল্পহীন বলে মনে করে না। বরং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে তারা একটি পরাশক্তির মর্যাদা অর্জন করেছে।</p><p>তারা তাদের সামরিক পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত এবং তাদের নতুন আন্তর্জাতিক সম্মান ও মর্যাদার অনুভূতি রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ এবং পশ্চিমাবহির্ভূত ‘ব্রিকস’ জোটের বৈঠকে যখন ইরানের প্রতিনিধিদলকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানায়, তখন তেহরানের কর্মকর্তারা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন।</p><p>ইরান এখনো বিশাল সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং যুদ্ধে তারা যা অর্জন করেছে তাকে কীভাবে একটি স্থায়ী ও শান্তিকালীন সুবিধায় রূপান্তর করতে হবে, তার কোনো চূড়ান্ত পথ তারা এখনো খুঁজে পায়নি। তবে প্রয়োজন পড়লে তারা লড়াই চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তেহরান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে তারা বর্তমান পথ ধরেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারবে। এখানে কোনো ধরনের আপস করার প্রয়োজন নেই।</p><ul><li><p><strong>নর্গেস বাজোগ্লি</strong> নৃবিজ্ঞানী এবং জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। <strong>ওয়ালি নাসের</strong> জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। <em>ফরেন এফেয়ার্স</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>
মুম্বাইয়ের উত্তর বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার ৮০তম আয়োজনে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর বলিউড তারকাদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে শারদীয় উৎসব।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফিফাকে গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ, পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত ৪২ প্রশ্নের জবাব দিতে সময় বেঁধে দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চেয়েছে উয়েফা...
সীমান্তপারের অপরাধ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া। অনলাইন প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, অর্থপাচার...
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে রাজশাহীতে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহী...
আগামী ৩ নভেম্বর থেকে অনার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে...
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও বৃষ্টির কারণে খুব বেশি খেলা হয়নি গেবেখা টেস্টে। বৃষ্টিতে হারিয়ে গেছে ১৪৬ ওভারের খেলা। দুই দিনে ৪৩ ওভারের খেলায় দারুণভাবে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া...
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী...
ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য খবরের মধ্যে রয়েছে, অস্ত্র হাতে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করে আলোচনায় আসা বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নিজেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। আজ সোমবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
অস্ত্র-কাণ্ড নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদ ছাড়ার ঘোষণা, সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের এবং সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সংক্রান্ত খবরাখবর গুরুত্ব পেয়েছে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে। নির্বাচিত সরকারের সময় তা কমে আসবে মনে করা হলেও এখনও তাতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। বরং মব একটি রাজনৈতিক চেহারা পাচ্ছে বলেই মত মানবাধিকারকর্মীদের।
সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে তিনি কোন ভুল করেননি।
মৃত্যুদণ্ড হওয়া পুরুষ ব্যক্তিটির মা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড হওয়া ব্যক্তি তারই সন্তান। তিনি সন্তানের মরদেহ আনার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "তিন বছর তিন মাস ছেলের মুখ দেখি না। আমি যেন ছেলের চেহারা শেষবারের মতো দেখতে পারি"।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে অজ্ঞাত হামলাকারীরা গুলি চালিয়েছে। বলিউডে বহু হামলার পেছনে উঠে আসে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম। কিন্তু কারা এই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং? কেনই বা তারা বলিউড সেলিব্রিটিদের প্রাণহানি ঘটানোর চেষ্টা করছেন?
বিক্ষোভের সময় কালো পোশাক পরা এবং মুখোশ ও মুখ ঢেকে রাখা দাঙ্গাকারীদের বিভিন্ন দল প্যারিস, মার্সেইসহ অন্যান্য শহরে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের কেউ কেউ গাড়ি ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববারও রাজধানী প্যারিসের কিছু এলাকা এবং কিছুটা কম মাত্রায় লিয়োঁ শহরে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।
শনিবার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চালান মি. হোসেন। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায় মি. হোসেন অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করছেন। পরে রোববার বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা পারিবারিক সম্পর্কে বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সহজ নয়।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় হতবাক তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পাহাড়ের পাদদেশে নদী, পাথরঘেরা জলধারা, সবুজ চা-বাগান আর জলাবনের নীরবতা প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য দেখতে দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটে যেতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শাস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। এর জন্য জরিমানা গুনতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আইসিসি।
হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৬টি মামলার আসামি রংপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।
রাজশাহীর ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়েছে ১৯ শতকের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রাজশাহী ধর্মসভা। রাজশাহীর ধর্মসভার নামটির সঙ্গে জড়িয়ে পদ্মাপড়ের শহরের সংবাদপত্র ও মুদ্রণ শিল্পের শুরুর ইতিহাস।