ন্যাশনাল স্পোর্টস সামিটের উদ্বোধন, ডিসেম্বরে ১ হাজার ইউনিয়নে খেলার মাঠ চালুর লক্ষ্য
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলার পর, রাতেই হুথিদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকাধীন একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এদিকে, বাংলাদেশে অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট এর মতো অভিযান করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল।
শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
জনপ্রশাসন, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা তিন সচিবকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
<p>এক যুগ আগের কথা। তখন সদ্য স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছি; ইলেকট্রনের কথা, ইলেকট্রন-আয়ন মিথস্ক্রিয়ার কথা, পরমাণুর অভ্যন্তরের সদস্যদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, তারা কোন কোন কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত, তাদের মাঝে আবার কী সব টান টান করছে—এই সব হাবিজাবি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। শুধু যে তত্ত্বকথা ভেবে চলেছি এমন নয়, মাঝে মাঝে মনে হতো, এই যে ইলেকট্রন নিয়ে এত কাণ্ডকারখানা, এদের দেখতে কী রকম? কোয়ান্টাম তত্ত্বের শুরুর দিকে আমরা জেনেছি, ইলেকট্রন তরঙ্গও হতে পারে আবার কণাও হতে পারে। </p><p>বাস্তবে যদি ইলেকট্রনকে আমরা দেখতে পেতাম, তাহলে কেমন একই অঙ্গে এই দুটি রূপ দেখা যেত? মানে হাবিজাবি সব প্রশ্ন আরকি! এখনকার মতো চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির বাড়বাড়ন্ত সে সময় ছিল না। গুগল অবশ্য ছিল, কিন্তু সব সময় আমার আজগুবি প্রশ্নের উত্তর পেতাম না। পরিচিত অধ্যাপকদের জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পেতাম, পাছে যদি কেউ প্রশ্নগুলো অবান্তর ভেবে বসেন!</p><p>এক দিন এক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার শুনছিলাম। ভদ্রলোক বললেন, ‘বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে যদি তোমার মাথায় অবান্তর প্রশ্ন না আসে, তবে তুমি বিজ্ঞান পড়ছ না।’ সত্যি তো! আমরা তো কোনো অচিনপুরের মানুষের জীবন-জীবিকার কথা পড়ছি না। আর বিজ্ঞান তো সতত চলমান; কালকের আবিষ্কৃত তত্ত্বকে আজ আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না, এই রকম স্বৈরাচারী ধারণা বিজ্ঞানে চলে না। সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু পাঠ্যবইয়ের পাতায় যে সব ভদ্রস্থ কথা লেখা আছে, সেখানে তো আর আমার মনের খোরাক মিটবে না। খোঁজ করতে থাকলাম গুগলে। পাচ্ছি বেশ কিছুই, কিন্তু বেশির ভাগই সাহেবি ভাষায়। হঠাৎ নজরে এল বিজ্ঞানচিন্তা নামক এক প্ল্যাটফর্ম মাতৃভাষায় বিভিন্ন আজগুবি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছে। খুব মজা পেলাম। অবসরে একটার পর একটা আজগুবি বিষয় পড়তে থাকি বিজ্ঞানচিন্তার পাতায়।</p><p>সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানচিন্তার কলেবর চোখে পড়েছে। মহাকাশবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, রসায়নসহ মৌলিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আলাদা আলাদা তাক আবিষ্কার করেছি। শুধু বড়দের মনের খোরাক নয়, জায়গা পেয়েছে শিশু-কিশোরদের উপযোগী প্রশ্নোত্তর। ‘মোবাইল চার্জ করতে কী পরিমাণ খরচ হয়’ বা ‘সিলিং ফ্যানগুলোতে সচরাচর তিনটি পাখা থাকে কেন’—এই জাতীয় জীবনমুখী প্রশ্নও নজরে আসে প্রথম আলোর এই প্রয়াসের সৌজন্যে। এরই বিভিন্ন প্রবন্ধ পড়তে পড়তে জানতে পারি <em>নিউ সায়েন্টিস্ট</em>, <em>সায়েন্স</em>, <em>পপুলার মেকানিকস</em>সহ পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞান ম্যাগাজিনগুলোর কথা।</p><p>আসলে আমাদের পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে কখনোই আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার আভাস পাওয়া যায় না; বেশিরভাগই শতাব্দীপ্রাচীন বা নিদেনপক্ষে পঞ্চাশ বছরের আগের বিজ্ঞান। এ কথা সত্যি যে বুনিয়াদি শিক্ষা ব্যতীত আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা বোঝা সম্ভব নয়। সেই বুনিয়াদি বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী গবেষণা হচ্ছে জানতে পারলে শিক্ষার্থীদের একটু ঝোঁক বাড়ে; তারা আনন্দিত হয়। সেই উদ্দেশ্যেই বিজ্ঞান ম্যাগাজিনগুলোর জন্ম। ইংরেজি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষায় অনেক আগে থেকেই এসবের প্রচলন রয়েছে। বাংলাতে ছাপা পত্রিকা কিছু আছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব কম। সেগুলোতে আবার গত মাসে কী কী আলোড়ন সৃষ্টিকারী গবেষণা হয়েছে, তার হদিস বড্ড মেলে না। যদিও বেশিরভাগের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের ধারা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ছাপার পরিবর্তে যদি একটি সর্বাঙ্গসুন্দর ওয়েব প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায়, তাহলে কম খরচে অনেক বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো যায়; আর মোবাইল তো এখন প্রত্যেকের হাতে হাতে। বিগত এক দশক ধরে বিজ্ঞানচিন্তা সেই কাজটাই যত্ন করে করে আসছে।</p><p>গবেষণার সময় দেখেছি, সুপারভাইজাররা যখন নতুন কোনো কাজের জন্য এক গণ্ডা গবেষণাপত্র হাতে ধরিয়ে দিতেন, তা পড়ে বোঝা বেশ শক্ত ছিল; প্রথম প্রথম তো দাঁত বসানো যেত না। সেই জায়গায় বিজ্ঞানচিন্তার পাতায় কোনো নতুন গবেষণার কথা লেখকেরা যে সাবলীলভাবে তুলে ধরেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিজ্ঞানচিন্তার পথচলা আরও সহজ ও মসৃণ হোক, যাতে বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা আগামীতে বলতে পারে, আমাদের ’স্পেস ডটকম’ বা ফিজিকস ডটঅর্গ’ নেই তো কী হয়েছে, বিজ্ঞানচিন্তা তো আছে!</p><h4>লেখক: গবেষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিচার সহায়ক বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, কলকাতা, ভারত</h4>
৪৫তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে। ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের ডাক।
<p>এআই নিয়ে কথা উঠলে প্রায় সবাই জানতে চান, এটি আর কী কী পারবে। আমি আজকাল একটু উল্টো প্রশ্ন করি—এটি চালাতে কত বিদ্যুৎ লাগে? বড় এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক ব্যবহারের জন্য এখন বিশাল ডেটা সেন্টার লাগে। যেখানে হাজার হাজার চিপ চলে এবং সেগুলো ঠান্ডা রাখতে খরচ হয় আরও বিদ্যুৎ। এআইয়ের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ডেটা সেন্টার চালাতে পারমাণবিক বিদ্যুতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করছে। পারমাণবিক প্রকৌশলের একজন গবেষক হিসেবে খবরটা আমার কাছে একই সঙ্গে আকর্ষণীয় এবং একটু অস্বস্তিকরও।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার ১০ বছর পূর্তিতে এই অস্বস্তির কথাটাই পাঠকদের বলতে চাই। বিজ্ঞানচিন্তাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দেখেছি, আবিষ্কারের চমকের চেয়ে পেছনের প্রশ্নগুলোই তাদের বেশি টানে। এআই নিয়ে সেই আলাপে চাকরি, নিরাপত্তা, এমনকি লেখার মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন এসেছিল। এমন প্রশ্ন তোলার জায়গা আমাদের দেশে খুব বেশি নেই। পত্রিকাটির সম্পাদক, কর্মী, লেখক ও পাঠকদের আন্তরিক অভিনন্দন।</p><p>কথাটা একটু কড়া শোনাতে পারে। যে এআই খুব দ্রুত ও খুব নির্ভুল উত্তর দেয়, অথচ বাস্তবের কোনো যন্ত্রে কাজে লাগানো যায় না, সেটি আমার কাছে খুব দামি একটা ক্যালকুলেটর হয়েই থেকে যায়। ক্যালকুলেটরও দ্রুত এবং নির্ভুলও। আমরা এআইয়ের সাফল্য মাপি কোন মডেল কোন পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, তা দিয়ে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কিংবা কারখানার মেঝেতে প্রশ্নটা অন্য রকম। এআইটি যন্ত্রের পাশে বসে চলবে তো? কত বিদ্যুৎ টানবে? নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কী হবে?</p><p>জ্বালানি খাতে হিসাবটা আরও সোজা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য যে এআই বানাচ্ছি, সেটি চালাতেই যদি সাশ্রয়ের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাহলে লাভটা থাকল কোথায়? বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটা আরও কঠিন। এ দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গায়ে লাগে। তাই বিদ্যুৎ আর খরচের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই প্রযুক্তি বানাতে হবে। আমাদের দরকার এমন এআই, যা ছোট একটি চিপে, অল্প বিদ্যুতে এবং কম খরচে চলবে।</p><p>এখানে সবচেয়ে ভালো শিক্ষক বোধ হয় আমাদের নিজেদের মস্তিষ্ক। মানুষের মস্তিষ্ক চলে মোটামুটি ২০ ওয়াটে, যা পুরোনো দিনের একটি সাধারণ বাল্বের চেয়েও কম শক্তিতে। এই শক্তিতেই আমরা দেখি, শুনি, নতুন কিছু শিখি এবং বিপদের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিই। মস্তিষ্কের নিউরনের সংকেতভিত্তিক কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নিউরোমরফিক চিপ ও স্পাইকিং নিউরাল নেটওয়ার্ক। এসব ব্যবস্থায় সব সময় সব হিসাব চালানোর বদলে সংকেতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় হিসাব করার চেষ্টা হয়। এতে বিদ্যুৎ বাঁচানোর দারুণ সুযোগ আছে।</p><p>পথটা খুব একটা সহজ নয়। অ্যালগরিদম ও চিপের নকশা একসঙ্গে নতুন করে ভাবতে হয়। তবু আমার বিশ্বাস, বাস্তবে এআই কাজে লাগানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।</p><p>পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথাই ধরা যাক। একটি কেন্দ্র কয়েক দশক ধরে চলে, তাতে থাকে হাজার হাজার যন্ত্র ও সেন্সর। কঠিন পরিবেশে সময়ের সঙ্গে সেন্সর নিজেও ক্ষয়ে যায়। ফলে তার দেওয়া তথ্যে ধীরে ধীরে ভুল ঢুকে পড়তে পারে। আবার চুল্লির ভেতরের সব জায়গার তাপমাত্রা বা চাপ সরাসরি মাপাও যায় না। কয়েকটি সেন্সরের তথ্য থেকে বাকি জায়গার অবস্থা অনুমান করতে সাহায্য করতে পারে এআই। একে বলে ভার্চ্যুয়াল সেন্সিং। এই তথ্য দিয়ে কেন্দ্রের একটি ডিজিটাল টুইন অর্থাৎ কম্পিউটারে তার ভার্চ্যুয়াল প্রতিরূপ হালনাগাদ রাখা যায়। এর ভিত্তি হলো এমন এআই মডেল, যা সময়সাপেক্ষ জটিল সিমুলেশনের কাজ অনেক দ্রুত করে দিতে পারে।</p><p>এখন এই এআই যদি প্রতিটি সংকেত দূরের সার্ভারে পাঠিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকে, তাহলে যোগাযোগের কারণে বাড়তি দেরি হতে পারে। তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপত্তাও ভাবতে হবে। যন্ত্রের পাশেই কম বিদ্যুতের একটি চিপে চলতে পারলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে সতর্ক করার সম্ভাবনা বাড়ে। রূপপুরের কারণে এই প্রশ্নগুলো এখন আমাদেরও প্রশ্ন।</p><p>তবে এখানে এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা চলে না। এআই কখন ভুল করতে পারে, তার উত্তরে কতটা অনিশ্চয়তা আছে, সেটাও বোঝার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কঠোর যাচাই আর মানুষের তত্ত্বাবধান ছাড়া এখানে কোনো প্রযুক্তি জায়গা পায় না, পাওয়া উচিতও নয়।</p><p>আরেকটি বদল আমাকে বেশ আশাবাদী করে। এখন এমন এআই ব্যবস্থাও তৈরি হচ্ছে, যা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেয়। একে বলা হচ্ছে এজেন্টিক এআই। ধরুন, চুল্লির জন্য এমন উপাদান খুঁজছি, যা বেশি তাপ আর বিকিরণ সইতে পারে। এমন একটি ব্যবস্থায় গবেষক লক্ষ্য ঠিক করে দিলেন। এআই সম্ভাব্য উপাদান বাছাই করল, সিমুলেশন চালাল, ফল দেখে পরের ধাপ প্রস্তাব করল এবং আবার চালাল। চুল্লি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমাদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলক ছোট একটি ভাষামডেল বা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলও সিমুলেটরে চালিয়ে যাচাই করে নিয়ন্ত্রণের কৌশল বেছে নিতে শিখতে পারে।</p><p>কিন্তু এমন এজেন্টকে বারবার হিসাব করতে হবে, সিমুলেশন চালাতে হবে। প্রতিবার বিপুল বিদ্যুৎ লাগলে আবিষ্কারের খরচ আকাশ ছোঁবে। ফলে এজেন্টিক আবিষ্কারকে সাশ্রয়ীভাবে কাজে লাগাতে হলে এআইয়ের বিদ্যুৎ খরচও একসঙ্গে ভাবতে হবে। আর কোন ফলটা বিশ্বাসযোগ্য, সে সিদ্ধান্ত এখনো বিজ্ঞানীরই।</p><p>তাই আগামীর এআইকে আমি শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মাপতে চাই না। দেখতে চাই, সেটি বাস্তবের যন্ত্রে বসানো যায় কি না, অল্প বিদ্যুতে চলে কি না এবং নতুন জ্ঞান খুঁজে পেতে সাহায্য করে কি না। জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি কিংবা ভবিষ্যতের স্মার্ট গ্রিড—সব জায়গায় এমন এআইয়ের গুরুত্ব বাড়বে।</p><p>বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এখানে একটি বড় সুযোগ দেখছি। সবচেয়ে বড় এআই মডেল বানানোর দৌড়ে বিপুল টাকা ও অবকাঠামো লাগে। কিন্তু সীমিত যন্ত্রে, অল্প বিদ্যুতে কীভাবে ভালো এআই চালানো যায়; এ প্রশ্নেও অনেক কাজ বাকি। এর সব কাজের জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার লাগে না; লাগে ভালো চিন্তা, উপযুক্ত যন্ত্র আর পরীক্ষা করার সুযোগ। পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, ইলেকট্রনিকস আর কম্পিউটার একসঙ্গে বুঝতে পারলে এখানে আমাদের ছেলেমেয়েরাও পথ দেখাতে পারে।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার কাছে আমার চাওয়া, এআইয়ের চমকের খবরের পাশে তার দামটাও পাঠকের সামনে আসুক। কত বিদ্যুৎ লাগল, কোথায় আটকে গেল, আমাদের বাস্তবতায় কাজে লাগবে কি না; এই বিষয়গুলোও আলোচনা করা হোক। কোনো কিশোর বা কিশোরী হয়তো পড়তে পড়তে ভাববে, মস্তিষ্ক যদি এত অল্প শক্তিতে এত কাজ করতে পারে, যন্ত্রকে আরও মিতব্যয়ী করা যাবে না কেন? এমন একটা প্রশ্ন থেকেই এক দিন বড় কোনো গবেষণা শুরু হতে পারে। দশ বছরের পথচলায় বিজ্ঞানচিন্তা এমন প্রশ্ন জাগিয়ে যাক। অভিনন্দন, বিজ্ঞানচিন্তা!</p><h4>লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নিউক্লিয়ার, প্লাজমা অ্যান্ড রেডিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনস, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন, যুক্তরাষ্ট্র</h4>
প্রথম দুই অ্যালবামের ১১টি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের পাশাপাশি দীর্ঘ পথচলার গল্প নিয়ে নির্মাণ করছে ৪৫ মিনিটের একটি সিনেমা। নাম রাখা হয়েছে ‘ভাইকিংস রিপ্লেইড’।
<p>ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধর করা যুবক খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ১৫ দিনের সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান।</p><p> ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডের বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা স্বীকার করেছেন খালিদ হাসান। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।</p><p>গত সোমবার দুপুরে এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন খালিদ। একপর্যায়ে শহীদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডি থানা–পুলিশ। পরে তাঁকে এক মাসের সাজা দিয়ে কারাগার পাঠান ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।</p><p>ফুটপাতে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়থাপ্পড় মারা ও কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের ওই ভূমিকা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।</p><p>এ ঘটনায় আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদ হাসানকে আটক করে পুলিশ। আর মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে তাঁর কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/d056vjg7d5">ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক, দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার</a></aside><p>পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, খালিদ হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। তাঁর ভাগনিকে শ্লীলতাহানি করায় তিনি শহীদ আবদুল্লাহর ওপর চড়াও হয়েছিলেন। গতকাল ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানিয়েছিলেন, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক রোগী। এমবিবিএস পড়ার সময় তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এরপর বিয়ে হলেও তাঁর সংসার টেকেনি।</p><p>ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী জানিয়েছিলেন, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ (খারাপ স্পর্শ) করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে আটক করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তখন তিনি ফোন করে তাঁর মামাকে ডেকে আনেন। তিনি এসে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/5lgqqzebbp">ঢাকার ফুটপাতে একজনকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছিল</a></aside><p>ওই মারধরের জন্য আজ খালিদ হাসানের কারাদণ্ড হওয়ার পর ওই তরুণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট মামাকে ১৫ দিনের জেল দিয়ে দিছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কান্নাকাটি করে বলেছিলাম, আমাকে নিয়ে যান, আমার মামাকে ছেড়ে দেন। আমাকে রক্ষা করতেই তো তিনি এসেছেন। আমার জন্যই তো তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আমার কথা শুনলেন না।’</p><p>তাঁকে রক্ষা করতে এসে এখন তাঁর স্বজন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে ওই তরুণী প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে শ্লীলতাহানির ঘটনার সময় পুলিশের সদস্যরা চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাঁর দায়িত্ব ছিল। আর পুলিশের বাকি দুই সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগের)। তাঁদের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।</p>
<p>লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।</p><p> মানববন্ধন চলাকালে ব্যানারের সামনে গিয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ও ভাই, কোন জায়গায় গেলে বিচার পাব? সরকার কি দেখছে না? এই মাফিয়ার বিচার করবে কারা? আমারে নিঃস্ব করে ফেলছে।’</p><p>মিজানুর নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের গেন্দু মাতুব্বরের ছেলে। মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় আটকিয়ে নির্যাতন করে তিন দফায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ফরিদপুরের মানব পাচারের একটি মাফিয়া চক্র। এরপরও মুক্তি না পেয়ে ও নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে জানালা ভেঙে পালিয়ে দেশটির পুলিশের হাতে ধরা দেন। পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে চলতি বছরে দেশে এসেছেন।</p><p>চক্রটির হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলতি বছর লিবিয়া থেকে অভিবাসন সংস্থার মাধ্যমে দেশে এসেছেন ১১ জন। তাঁরাও ওই মানববন্ধনে অংশ নেন। স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে আসেন হাবিবের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।</p><p>মানববন্ধনে তাসলিমা বেগম বলেন, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকছেন। তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া কেউ মামলা করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।</p>
বুয়েটে পড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নায়লাসহ তিনজনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলার পর, রাতেই হুথিদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকাধীন একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এদিকে, বাংলাদেশে অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট এর মতো অভিযান করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বাংলাদেশে আইন পেশায় এমন অনেকেই আছেন, যারা ৩৮, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও এই পেশায় এসেছেন। তবে, এবার এমন সুযোগ বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি সরকার।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।
এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী; আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে; আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
ভাইকিংরা কোন রকম আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের প্রত্যাবর্তনে কোনো রাজকীয় ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিংবা সড়কে ভিড় করে কেউ তাদের অভ্যর্থনাও জানায়নি। কিন্তু সময় হিসেব করলে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই তারা আমেরিকার মাটিতে পদার্পন করেছিলেন।
টস জিতে আগে বোলিং নেওয়া ভারতকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক হোপের সঙ্গে জুয়েল অ্যান্ড্রুর উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫২ রান।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উদ্বোধন হলো বার্ষিক জাতীয় ক্রীড়া আয়োজন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস সামিট’ (এনএসএস)। প্রথম মৌসুমে ফুটসাল, ক্রিকেট, ম্যারাথন ও সাইক্লিংসহ ছয়টি আয়োজন থাকছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিষয়টি কখনোই খুব সহজ হিসাব ছিল না। শুরুতেই বলা যায়, অন্যান্য নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এটি দেন না; এটি দেয় নরওয়ের পার্লামেন্ট কর্তৃক মনোনীত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ করে ফেসবুক লাইভে লোক জড়ো করে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি হত্যা করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা তিনটায় নির্ধারিত সব কেন্দ্রে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজারের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি জোরদার করতে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।