বাংলাদেশ

ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী
ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী
<p>হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৬১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। </p><p>এসব ফ্লাইটের ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এ হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারের যাত্রীর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।</p><p>সোমবার মধ্যরাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।</p><p>বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ২২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>বেবিচক জানিয়েছে, রিয়াদ এয়ারের যাত্রীর সংখ্যা পাওয়া গেলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।</p><p>বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব এখন শুধু সরাসরি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় এসেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।</p><p>চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।</p><p>ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলা হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।</p><p>রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার তথ্য দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/lwc60l0g/WhatsApp-Image-2026-10-12-at-5.58.48-PM.jpeg"><figcaption>সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী কর্মীরা এসেছেন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় যেতে পারছেন না তাঁরা</figcaption></figure><h3>‘এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না’ </h3><p>আজ বেলা ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল আবুল হোসেনের। সেই ফ্লাইট ধরতে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। এসে জানতে পারেন তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।</p><p>ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করেন বলে জানালের আবুল হোসেন। রিয়াদে এখন টাইলস মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাই ছুটি অনুযায়ী তিন মাস আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন।</p><p>এখন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নিজের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়েছে। এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সব কিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/airarbhpiz">রিয়াদ বিমানবন্দরে কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বাড়াল সৌদি আরব</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/j3j4faz8/1.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ যাওয়া–আসার বোর্ড </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ivoy1s3k/2.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরে আসা এক যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/w230rx3w/3.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>উড়োজাহাজ বাতিলের নোটিশ দেখছেন যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/o8xqubbg/4.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>পরিবার নিয়ে আসা এক যাত্রী বিড়ম্বনায় </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/gtsrbohu/5.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষায় এক যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/76gamfmw/6.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>সর্বশেষ খবরের অপেক্ষায় একটি পরিবার </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0uyr1ykb/7.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>অভিভাবককে বিদায় দেওয়ার জন্য এসে বিড়ম্বনায় পড়েছে ছোট সন্তান </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/6b9b1pkm/8.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>সর্বশেষ খবর নিচ্ছেন এক যাত্রী </figcaption></figure><p>আবুল হোসেনের মতোই ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মো. মোসলেম তালুকদারের। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর রিয়াদগামী ফ্লাইট ছিল। সেই ফ্লাইট ধরতে সকাল ১০টা থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পারেন।</p><p>বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোসলেম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ফ্লাইট ছিল, যেতে পারিনি, বিমান বন্ধ, ফ্লাইট ক্যান্সেল (বাতিল) হয়েছে। এখন দেখছি, অন্য কোনো ফ্লাইটে যেতে পারি কি-না। নইলে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।’ রিয়াদের একটি দোকানে তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।</p><p>আজ বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আসা ১৫ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাদের বেশিরভাগই জানতেন না ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টি। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/8jnzvv7a1w">বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর রিয়াদের আকাশ ফাঁকা</a></aside>

Prothomalo

View more
বার্গার, পিজ্জা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে আমাদের এত ভালো লাগে কেন
বার্গার, পিজ্জা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে আমাদের এত ভালো লাগে কেন

<p>দুপুরে ভাত খেয়ে উঠেছেন। পেট একেবারে ভর্তি। ঠিক তখনই কেউ সামনে এক প্যাকেট গরম গরম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা এক টুকরো পিজ্জা এনে রাখল। পেট বলছে, আর খাব না। কিন্তু চোখ ও নাক যেন অন্য কথা বলছে। খাবেন নাকি খাবেন না, তা ভাবতে ভাবতে হয়তো কিছুটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুখে দিলেন। তারপর কখন যে পুরোটা শেষ করে ফেলেছেন, নিজেই টের পাননি। অথচ আপনি জানেন, এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, চর্বি ও ক্যালোরি থাকে এসব খাবারে। ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের পরিমাণও অনেক সময় তুলনামূলক কম থাকে। তারপরও বার্গার, চিপস, ফ্রাই, কেক, পেস্ট্রি কিংবা আইসক্রিম দেখলে আমাদের ভরা পেটেও খেতে ইচ্ছে করে কেন? শুধু যে খাবারটা সুস্বাদু বলেই খেতে ইচ্ছে করে, তা কিন্তু নয়। এর পেছনে কাজ করে আমাদের স্বাদগ্রহণ, মস্তিষ্কের পুরস্কারব্যবস্থা, খাবারের গঠন ও উপাদানের মিশ্রণ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/k4pybpjb4s">আমরা খাবার তেলে ভেজে খাই কেন</a></aside><blockquote>একই সঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া কিছু ওপিওয়েডও খাবার থেকে পাওয়া আনন্দের অনুভূতিতে ভূমিকা রাখে। ফলে খাবারটি শুধু পেট ভরানোর জিনিস থাকে না, আনন্দ পাওয়ারও একটি উৎস হয়ে ওঠে।</blockquote><h2><strong>জাঙ্ক ফুড এত সুস্বাদু লাগে কেন</strong></h2><p>প্রথমেই আসা যাক স্বাদের কথায়। জাঙ্ক ফুডের অনেকগুলোতেই চিনি, চর্বি ও লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব উপাদান আমাদের স্বাদগ্রহণের পাশাপাশি মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সার্কিটকেও সক্রিয় করতে পারে। আমরা যখন খুব সুস্বাদু কিছু খাই, তখন মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সার্কিট ডোপামিনের মতো রাসায়নিক বার্তাবাহকের কার্যক্রম বাড়ে। একই সঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া কিছু ওপিওয়েডও খাবার থেকে পাওয়া আনন্দের অনুভূতিতে ভূমিকা রাখে। ফলে খাবারটি শুধু পেট ভরানোর জিনিস থাকে না, আনন্দ পাওয়ারও একটি উৎস হয়ে ওঠে। এই কারণেই কেক, পেস্ট্রি, বার্গার বা ফ্রাইয়ের মতো খাবারকে অনেক সময় কমফোর্ট ফুড বলা হয়। বিশেষ করে মন খারাপ বা চাপের সময়ে এগুলো খেতে আরও বেশি ভালো লাগে।</p><p>তবে এখানে আরেকটি মজার ব্যাপার আছে। জাঙ্ক ফুড শুধু স্বাভাবিকভাবেই সুস্বাদু নয়; অনেক খাবার এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে তার স্বাদ আমাদের কাছে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় লাগে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/iwgqc91gyy">প্লাস্টিকে খাবার মোড়ালে কি খাবারের ক্ষতি হয়</a></aside><blockquote>১৯৭০-এর দশকে মার্কিন সাইকোফিজিসিস্ট হাওয়ার্ড মোসকোভিটজ ব্লিস পয়েন্ট ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন।</blockquote><h2><strong>খাবারকে আরও একটু সুস্বাদু বানানোর কৌশল</strong></h2><p>ধরুন, আপনি এক গ্লাস শরবত বানাচ্ছেন। তাতে চিনি বাড়াতে থাকলে একটা পর্যায় পর্যন্ত শরবত আরও সুস্বাদু লাগবে। কিন্তু চিনি যদি অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন তা আর ভালো লাগবে না। খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রেও এমন একটি উপযুক্ত মাত্রা আছে। খাবারে কতটা চিনি, লবণ, চর্বি বা অন্য উপাদান দিলে মানুষের কাছে স্বাদ সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হবে, খাদ্যশিল্পে সেটি বের করার চেষ্টা করা হয়। এই ধারণাকে বলা হয় ব্লিস পয়েন্ট।</p><p>১৯৭০-এর দশকে মার্কিন সাইকোফিজিসিস্ট হাওয়ার্ড মোসকোভিটজ এই ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। কোনো খাবার বা পানীয়ে একটি উপাদান বাড়াতে থাকলে ভোক্তার পছন্দও বাড়তে থাকে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আবার কমে যায়। খাদ্য প্রস্তুতকারকের লক্ষ্য তাই এমন একটি মাত্রা খুঁজে বের করা, যেখানে খাবারটি মানুষের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগে। তবে শুধু একটি উপাদানের মাত্রাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল ব্যাপার লুকিয়ে থাকতে পারে একাধিক উপাদানের মিলিত প্রভাবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/9nl3c006wv">বিশ্বের সবচেয়ে পুষ্টিকর কয়েকটি খাবার</a></aside><blockquote>খাবারে কতটা চিনি, লবণ, চর্বি বা অন্য উপাদান দিলে মানুষের কাছে স্বাদ সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হবে, খাদ্যশিল্পে সেটি বের করার চেষ্টা করা হয়। এই ধারণাকেই বলা হয় ব্লিস পয়েন্ট।</blockquote><p>২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টেরা ফাজিনো ও তাঁর সহকর্মীরা অতি-সুস্বাদু খাবার নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁদের গবেষণায় এমন কিছু খাবারের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়, যেখানে চর্বি, চিনি, সোডিয়াম ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের নির্দিষ্ট মিশ্রণ খাবারকে মজাদার করে তুলতে পারে। যেমন, চর্বি ও লবণের সমন্বয় দেখা যায় চিপসে। আবার চর্বি ও চিনির মিশ্রণ থাকে আইসক্রিম কিংবা কেকের মতো খাবারে। ক্র্যাকার বা পপকর্নের মতো খাবারে কার্বোহাইড্রেট ও লবণের সমন্বয় দেখা যায়।</p><p>গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহের একটি বড় ডেটাবেস বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন, সেখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ খাবারে এমন অন্তত একটি অতি-সুস্বাদু উপাদানের মিশ্রণ ছিল। এমনকি যেসব পণ্যে চিনি, চর্বি বা লবণ কম বলে দাবি করা হয়, সেগুলোরও প্রায় অর্ধেককে এই শ্রেণিতে ফেলা হয়েছিল। অর্থাৎ কোনো খাবার শুধু মিষ্টি বা শুধু নোনতা বলেই যে আমাদের অনেক ভালো লাগবে, তা নয়। বিভিন্ন স্বাদ ও উপাদান একসঙ্গে মিলে খাবারকে আরও মজাদার বানাতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/1yctskbflk">বয়স বাড়লে খাবার আগের মতো মজা লাগে না কেন</a></aside><blockquote>গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহের একটি বড় ডেটাবেস বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন, সেখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ খাবারে এমন অন্তত একটি অতি-সুস্বাদু উপাদানের মিশ্রণ ছিল।</blockquote><h2><strong>এক স্বাদে বিরক্ত, আরেক স্বাদে ক্ষুধা</strong></h2><p>এবার ধরুন, আপনি এক প্যাকেট নোনতা চিপস খাচ্ছেন। প্রথম কয়েকটি চিপস যতটা সুস্বাদু লাগছিল, একসময় হয়তো ততটা লাগছে না। কারণ একই স্বাদ বারবার পেলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই আনন্দের অনুভূতিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলেন সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাটাইটি। ১৯৮১ সালে ব্রিটিশ পুষ্টিবিজ্ঞানী বারবারা রোলস ও মনোবিজ্ঞানী এডমন্ড রোলস এই প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। সহজ ভাষায়, একই ধরনের স্বাদ খেতে খেতে আমাদের আগ্রহ কমে যায়। কিন্তু খাবারের স্বাদ বদলে গেলে আবার খাওয়ার ইচ্ছা ফিরে আসতে পারে। এ কারণেই হয়তো মিষ্টি, নোনতা, মচমচে কিংবা বিভিন্ন স্বাদের খবার বেশি পছন্দ করি। একটি স্বাদে যখন আগ্রহ কমে আসে, অন্য স্বাদটি আবার নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করে। খাবারে বৈচিত্র্য থাকলে মানুষ সাধারণত বেশি খেতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/uefe9gj35x">মেঝেতে পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাবেন কি</a></aside><blockquote>একই স্বাদ বারবার পেলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই আনন্দের অনুভূতিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলেন সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাটাইটি।</blockquote><h2><strong>খাবার দেখেও খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে বা কমে</strong></h2><p>শুধু স্বাদ নয়, খাবার দেখেও আমাদের মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয়। উজ্জ্বল রঙের, সুন্দরভাবে সাজানো বা দেখতে টাটকা খাবার আমাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। খাদ্য প্রস্তুতকারকেরা তাই খাবারের রং ও চেহারার দিকেও বিশেষ নজর দেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় রঙের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। এর পেছনে আমাদের পুরোনো একটি প্রবণতাও কাজ করতে পারে। প্রকৃতিতে উজ্জ্বল রঙের অনেক ফল পাকা ও পুষ্টিকর হওয়ার সংকেত দেয়। তাই কোনো খাবারের উজ্জ্বল রং দেখলে সেটি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অর্থাৎ খাবার মুখে দেওয়ার আগেই তার চেহারা আমাদের মস্তিষ্কে একটি প্রত্যাশা তৈরি করে দেয়—এটা নিশ্চয়ই সুস্বাদু!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/i5ylok79tq">টক জাতীয় খাবার দেখলে জিবে পানি আসে কেন</a></aside><blockquote>প্রকৃতিতে উজ্জ্বল রঙের অনেক ফল পাকা ও পুষ্টিকর হওয়ার সংকেত দেয়। তাই কোনো খাবারের উজ্জ্বল রং দেখলে সেটি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।</blockquote><h2><strong>মানসিক চাপেও কেন জাঙ্ক ফুডের কথা মনে পড়ে</strong></h2><p>শুধু ক্ষুধার সময়ই নয়, মানসিক চাপের সময়ও অনেকের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ইচ্ছা করে। এর পেছনে শরীরের স্ট্রেস-প্রতিক্রিয়ার ভূমিকা আছে। মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। কর্টিসল শরীরকে চাপের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আগ্রহেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মন খারাপ, উদ্বেগ বা চাপের সময় অনেকের বেশি ক্যালোরি, চিনি কিংবা চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। তখন এক প্যাকেট চিপস বা কয়েক টুকরো কেক যেন শুধু খাবার থাকে না, সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার উপায়ও মনে হয়। এ কারণেই কমফোর্ট ফুড কথাটা শুধু কথার কথা নয়। খাবার থেকে পাওয়া আনন্দের সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম এবং আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/knkswwwoik">তারিখ পার হয়ে যাওয়া খাবার খাব কি</a></aside><blockquote>মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। কর্টিসল শরীরকে চাপের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে ও খাবারের প্রতি আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে।</blockquote><h2><strong>তাহলে কি জাঙ্ক ফুড খেলেই সর্বনাশ</strong></h2><p>অবশ্যই নয়। মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার খাওয়া ও নিয়মিত অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এক বিষয় নয়। সমস্যাটা তৈরি হয় যখন এমন খাবার আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের বড় অংশ হয়ে যায়। ২০১৯ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণায় দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া ব্যক্তিরা অপ্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া দলের তুলনায় দিনে গড়ে প্রায় ৫০০ ক্যালোরি বেশি খাবার গ্রহণ করেছিলেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁদের ওজনও বেড়েছিল। অর্থাৎ, শুধু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন বললেই বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় না। কিছু খাবারের গঠন, স্বাদ, উপাদানের সমন্বয় এবং আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পুরস্কারব্যবস্থা মিলেই বেশি খাওয়ার ইচ্ছা হয়।</p><h4>লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা</h4><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cin67lo682">দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যে ৫ খাবার থাকা উচিত</a></aside>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এক বছরের এলিমেন্টারি সার্টিফিকেট কোর্সে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ দিয়েছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৩ অক্টোবর ২০২৬)
আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৩ অক্টোবর ২০২৬)

বাংলাদেশ–আফগানিস্তান একমাত্র টেস্টের শেষ দিন আজ। রাতে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। আজ নয়টি ম্যাচ। ম্যাচ আছে বার্সেলোনা, ইউনাইটেড ও আর্সেনালের।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
রাইটার্স ব্লক
রাইটার্স ব্লক

<p>আমার এক প্রতিবেশী ইদানীং লেখালেখির প্রতি খুব ঝুঁকে পড়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে পরিস্থিতি এমন যে তাঁর কলম দিয়ে লেখা কেবলই বের হচ্ছে, বের হচ্ছে, সেই পাগলা ঘোড়ার ন্যায় ছুটতে থাকা কলমকে কিছুতেই দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না।</p><p>কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কোথাও নিয়মিত লিখছেন কি না। জবাবে তাঁর ফেসবুক পেজ দেখালেন। পেজের নাম ‘মনের গহিন কোণে’। গতকাল এক দিনে তিনি লিখেছেন দুটি গল্প, চারটি কবিতা। সেগুলোতে গড়ে পাঁচ-ছয় শ রিয়্যাক্ট, অর্ধশত মন্তব্য। তাঁর লেখা একটি কবিতা এমন—</p><p>‘ভাঙ্গা জীবন, ভাঙ্গা মন—</p><p>শিকেয় তুলে রাখি—</p><p>কেমন করে কাটচে বলো</p><p>আমার জীবন-পাখি!</p><p>নয়ন বরা অশ্রু মোর,</p><p>নয়ন মানে আঁকি—</p><p>মিনতি করি, আর কখনো</p><p>দিও না ’ক ফাঁকি!’</p> <p>শেষে তিনটি স্যাড ইমোজি।</p><blockquote>‘ভাঙ্গা জীবন, ভাঙ্গা মন— শিকেয় তুলে রাখি— কেমন করে কাটচে বলো আমার জীবন-পাখি! নয়ন বরা অশ্রু মোর, নয়ন মানে আঁকি— মিনতি করি, আর কখনো দিও না ’ক ফাঁকি!’</blockquote><p>প্রথমে ভাবলাম, তিনি ভুল করে ‘কাটছে’ না লিখে ‘কাটচে’ আর ‘ভরা’র পরিবর্তে ‘বরা’ লিখে ফেলেছেন, একটু শুধরে দেওয়া যাক। তবে ‘নয়ন মানে আঁকি’ দেখে মনে হলো, ছন্দ মেলাবার জন্যই হয়তো তিনি আঁখি না লিখে ‘আঁকি’, ‘বরা’ ও ‘কাটচে’ লিখেছেন। কবি যা লেখেন, সেটাই ঠিক।</p><p>মাথা নেড়ে সায় দিতে বাধ্য হলাম, নিঃসন্দেহে তিনি একজন কালজয়ী লেখক। অন্তত ‘গতকাল’জয়ী লেখক!</p><p>আমাকে তাঁর পেজে ফলো দিতেই হলো। মানে, তিনি নিজেই আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে তাঁর পেজে একটা ফলো দিয়ে দিলেন। এমন ডিজিটাল-পারদর্শী লেখক কখনো সামনাসামনি দেখিনি। এমন লেখককে প্রতিবেশী হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার!</p><p>এর পর থেকে প্রতিদিনই আমার ফেসবুক ভরে যেতে লাগল ‘মনের গহিন কোণে’র গল্প–কবিতায়। নিঃসন্দেহে এমন উঁচুদরের সাহিত্যিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ‘নিয়তি ’, ‘মিনতি ’, ‘ভেজা চোখ’, ‘আজ অব্দি ভেবে যাই’—একেকটা শিরোনাম পড়লেই তো কেমন একটা ভাব চলে আসে।</p><p>আমার প্রতিবেশী দিনে সর্বনিম্ন চারটি লেখা লেখেন। ইদানীং ধারাবাহিক গল্প লিখতে শুরু করেছেন। এতে মনে হয় আশানুরূপ সাড়া পাননি, মন্তব্যের ঘরে তাই তিনি লিখে রেখেছেন, আশাহত হওয়ায় তিনি আর ধারাবাহিকভাবে লিখবেন না। সেই মন্তব্যে ৪৮টি স্যাড রিয়্যাক্ট পড়েছে।</p><p>পাঠক কাম দর্শক হিসেবে বিষয়গুলো ভালোই উপভোগ করছিলাম।</p><p>হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম, ‘মনের গহিন কোণে’ থেকে আর লেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে এক দিনে তিনটি লেখা পাওয়া যেত, সেখানে দুদিন ধরে কোনো লেখাই নেই! সেই জাদুকরি কলমের কালি কি ফুরিয়ে গেল? কিন্তু তিনি তো ডিজিটাল কি-বোর্ড ব্যবহার করে লেখেন!</p><blockquote>মনের গহিন কোণে’ থেকে আর লেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে এক দিনে তিনটি লেখা পাওয়া যেত, সেখানে দুদিন ধরে কোনো লেখাই নেই! সেই জাদুকরি কলমের কালি কি ফুরিয়ে গেল? কিন্তু তিনি তো ডিজিটাল কি-বোর্ড ব্যবহার করে লেখেন!</blockquote><p>ফ্ল্যাটের ছাদে বিকেলে ভাগ্যক্রমে (কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে) সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা হলো। চুপচাপ ছাদের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। জিজ্ঞেস করলাম—</p><p>‘অসুখ করেছে নাকি? ইদানীং লেখা পাচ্ছি না!’</p><p>‘রাইটার্স ব্লক।’</p><p>অ্যাঁ?</p><p>‘রাইটার্স ব্লক হইসে আমার। মানে আমি লিখতে পারতেসি না। হিংসার ফল; খুব ভয়ংকর। আমাকে শেষ করে দিল!’</p><aside><cite></cite>‘অসুখ করেছে নাকি? ইদানীং লেখা পাচ্ছি না!’ ‘রাইটার্স ব্লক।’ অ্যাঁ? ‘রাইটার্স ব্লক হইসে আমার। মানে আমি লিখতে পারতেসি না। হিংসার ফল; খুব ভয়ংকর। আমাকে শেষ করে দিল!’</aside><p>জোর দিয়ে বলতে ইচ্ছে হলো, রাইটার্স ব্লক মোটেই হিংসার ফল নয়। কিন্তু বলতে পারলাম না।</p><p>স্পিকারস ব্লক! তিনি বলতে থাকলেন—</p><p>‘কষা পায়খানার মতন কষ্ট, বুঝছেন? আমি এইটা নিয়ে পড়ছি, সবাই এই বিষয়ে একমত। কাঠিন্যের মতো কঠিন সময় যায়,আপনে এই কষ্টের কী বুঝবেন?’</p><p>কী বলব, বুঝতে পারলাম না। প্রতিবেশীর কথাবার্তায় ঠিক আগের মতো সাহিত্যের ছোঁয়া পাচ্ছি না। বড়ই দুঃখজনক! বাস্তবতা!</p><p>আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি হঠাৎ হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন।</p><p>‘না পারি কইতে, না পারি সইতে! এদিকে হইসে লুজ মোশন...এক শরীরে দুই রকম অসুখ নিয়া আমি চলতেসি!’</p><p>প্রতিবেশীর কপোল বেয়ে অদৃশ্য অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কারও জানা আছে কি?</p><p>সম্ভবত না।</p><p>রাইটার্স ব্লক অনেক আলোচ্য বিষয় হলেও ‘রাইটার্স লুজ মোশন’ নিয়ে কেউ কথা বলে না।</p><aside><cite></cite>‘কষা পায়খানার মতন কষ্ট, বুঝছেন? আমি এইটা নিয়ে পড়ছি, সবাই এই বিষয়ে একমত। কাঠিন্যের মতো কঠিন সময় যায়,আপনে এই কষ্টের কী বুঝবেন?’</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/8bhz1rh7dp">সিচ্যুশনটা বোঝার চেষ্টা করেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u0oej7duj6">পাস্ট ইজ পাস্ট</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/7rof92zr6d">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
এই শতাব্দীতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ১৭টি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি
এই শতাব্দীতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ১৭টি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

তবে ভালো খবর হলো, আমাদের হয়ে এই কঠিন কাজ করছেন একদল বিজ্ঞানী ও গবেষক। সম্প্রতি ৩৭ জন বিশেষজ্ঞের একটি আন্তর্জাতিক দল পৃথিবীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বড় বড় হুমকি নিয়ে একটি নতুন রিপোর্ট তৈরি করেছেন

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
বিয়ে নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই
বিয়ে নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই

<p>শারদীয় দুর্গাপূজায় আসছে <em>কাট–পিস</em>। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন <strong>নানজীবা তোরসা</strong>। আরও দুটি সিনেমার কাজও শেষ। বিয়ের গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেছেন তোরসা।</p><p>অর্থ, ক্ষমতা, আধিপত্য ও সংঘাত—মিরপুরের ঝুটপট্টির অচেনা জগৎ নিয়ে <em>কাট–পিস </em>নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা ইফ্ফাত জাহান। ১৬ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটিতে মালা নামে মিরপুরের এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তোরসা। চরিত্রটি কেমন?</p><p>গতকাল সোমবার <em>প্রথম আলো</em>কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, মালা চরিত্রটি নিজের স্বভাবের চেয়ে একেবারেই আলাদা। তাঁর ভাষায়, ‘মালা আর তোরসা একেবারেই আলাদা। তোরসা খুব স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড (স্পষ্টবাদী)। সিনেমার গল্প যেহেতু মিরপুরের, মালাও ছোট থেকে সেখানে বড় হয়েছে। সে খুব চঞ্চল, একটু সিনেম্যাটিক, আবার কিছুটা লাজুকও। প্রেমে পড়লে যেমন হয়, তেমন একটা ব্যাপার আছে তার মধ্যে। আবার সে ধমক দিয়েও কথা বলে। মালা একেবারে আঞ্চলিক<strong> </strong>টানে<strong> </strong>কথা বলে।’ </p><p>মালাকে নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাইলেন না তোরসা, শুধু এতটুকুই বললেন, ‘আমার মনে হয়েছে, মালা চরিত্রটি মানুষ মনে রাখতে পারবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/8n07u9hp/lv020261005211338.jpg.jpeg"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/entertainment-interview/dfesso39b9">এটা জেন–জি দর্শকের কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে</a></aside><p>সিনেমায় একজন ঝুট ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিফাত আমিন, খল চরিত্রে আছেন ইমরান আহমেদ সওদাগর। </p><p>সিনেমার গল্প নিয়ে তোরসার ভাষ্য, ‘গল্পটা খুবই বাস্তবধর্মী। একজন বাস্তব ঝুট ব্যবসায়ীর জীবনকে কেন্দ্র করে এটি তৈরি হয়েছে। তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়েই গল্প। সিন্ডিকেট ও নানা ধরনের দ্বন্দ্বের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁরা সিনেমাটির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারবেন। এসব ঘটনার প্রভাব তাঁদের ভালোবাসার মানুষ ও পরিবারের ওপর কীভাবে পড়ে, সেটিও দর্শক বুঝতে পারবেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/06rxv4bf/lv020261001203936.jpg.jpeg"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><p>হুট করেই সিনেমাটিতে যুক্ত হন তোরসা, ‘পরিচালকের (ইফ্ফাত জাহান) সঙ্গে আগে একটা কাজ নিয়ে কথা হয়েছিল। একদিন তিনি বললেন, একটা সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চান, আমাকে প্রস্তুত হয়ে দেখা করতে হবে। আমি গেলাম। তখন পুরো সিনেমার গল্প শোনানো হয়নি। বলা হয়েছিল, গল্পটা গোপন থাকবে। শুধু আমার চরিত্রটা সম্পর্কে বলা হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, এ ধরনের চরিত্রে তো আগে কখনো অভিনয় করিনি। তাই কাজটা করা যায়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/3sent6v7/prothomalo-bangla2025-11-30cl5ux3jn49460054829156058652992308569982008006929639n.webp"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><p><strong>কাটপিসের অন্য অর্থ আছে, জানতাম না</strong></p><p>মজা করে কেউ কেউ তোরসাকে বলছেন, সিনেমায় কাটপিস দৃশ্য আছে নাকি? বিষয়টি নিয়ে বললেন, ‘কাটপিসের অন্য কোনো অর্থ আছে, জানতাম না। সিনেমার নামটা যখন শুনলাম, তখন বিষয়টি বুঝিনি। পরে যাঁরাই নামটা জেনেছেন, তাঁরাই মজা করে জিজ্ঞেস করেছেন, কাটপিস কেন? তখন জানতে পারলাম, শব্দটির অন্য একটা অর্থও আছে।’</p><p>নাম <em>কাট–পিস</em> কেন? জানতে চাইলে তোরসার ব্যাখ্যা, ‘এখানে কাটপিস বলতে মূলত জুটের কাপড়ের যে উচ্ছিষ্ট অংশগুলো থেকে যায়, সেগুলোকে বোঝানো হয়েছে। সেই কাপড় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। মারামারি, প্রেম—এ রকম অনেক কিছু। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁদের জীবনে যে ক্ষত তৈরি হয়, সেটিই মূলত সিনেমার নামের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/ea4j9feh/prothomalo-bangla2025-11-30jaf01efo49437880129156058419658999102593370900672305n.webp"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><p><strong>‘তুই নাকি বিয়ে করে ফেলেছিস!’</strong></p><p>বছরের শুরুতে <em>মাটি </em>নামে এক সিনেমার শুটিং করেছেন তোরসা। মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একজনের সঙ্গে নাকি বিয়ে সেরে ফেলেছেন তোরসা। পরিচিত অনেকে তাঁকে ফোন করেও জানতে চেয়েছেন। আসলেই বিয়ে করেছেন তিনি? হেসে বললেন, ‘গুঞ্জনটি আমিও শুনেছি। লন্ডন থাকা এক আত্মীয়ের কাছেও গুঞ্জনটা পৌঁছায়। তিনি ফোন করে আমাকে বলেন, “তুই নাকি বিয়ে করে ফেলেছিস!” আমি বললাম, হ্যাঁ, পাত্র কে, সেটা তো আমি নিজেও জানি না।’</p><p>গুঞ্জন উড়িয়ে তোরসা বলেন, ‘বিয়ে করলে আপনারা সবাই জানতে পারবেন। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। এটা নিয়ে লুকানোরও কিছু নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/1f5m9l32/rafahtorsaofficial178913940339839119326449557091820766711.heic"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><p><strong>সামনের পরিকল্পনা</strong></p><p>২০১৯ সালের অক্টোবরে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়ে পরিচিতি পান নানজীবা তোরসা। ২০২১ সালে <em>স্বপ্ন তোমার জন্য</em> টেলিছবি দিয়ে ছোট পর্দায় নাম লেখান। চার বছরের ক্যারিয়ারে তাঁকে কাহিনি অরিজিনাল <em>প্ল্যান বি–তে </em>দেখা গেছে। ‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’ গানের ভিডিওতে মডেল হয়েও খ্যাতি পেয়েছেন তোরসা। <em>মাটি </em>ছাড়াও <em>নির্জন স্বাক্ষর</em> নামে আরেকটি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। পাশাপাশি উপস্থাপনাও চলছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/xgjufyck/rafahtorsaofficial173513992835309321003307878801820766711.jpg"><figcaption>নানজীবা তোরসা</figcaption></figure><p>সামনে পরিকল্পনা জানতে চাইলে তোরসা জানান, বছর তিনেক আগে কলকাতার কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন। কলকাতায় পরিচিতির আগে ঢাকার সিনেমার কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। ফলে সেটা করা হয়নি। ঢাকায় কয়েকটি সিনেমা করার পর ভাবছেন, কলকাতায়ও সিনেমা করবেন। </p><p>তোরসার ভাষায়, ‘এখন মনে হয়, আমি একটু এক্সপ্যান্ড করতে পারি। বাংলাদেশের বাইরেও কাজ করতে পারি। তবে কীভাবে এগোব, সেটা এখনো ভাবিনি।’</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য
প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য

<p>চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।</p><p>প্রতিবেদন লেখার সময় সোমবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। রাত দেড়টার দিকে খবর আসে, ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে ঢোকেন।</p><p>ভেতরে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করেন চিকিৎসক আবদুল্লাহ। তিনি জানান, শাহরিয়ারের সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, আরও একজন অসুস্থ। তবে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।</p><p>শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সুস্থ আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুইজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’</p><p>গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগেই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে ও তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ।</p><p>আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে ঢোকেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।</p><p>এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্যসহ ১০ থেকে ১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
চকবাজারে আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে
চকবাজারে আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী
ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী

<p>হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৬১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। </p><p>এসব ফ্লাইটের ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এ হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারের যাত্রীর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।</p><p>সোমবার মধ্যরাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।</p><p>বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ২২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>বেবিচক জানিয়েছে, রিয়াদ এয়ারের যাত্রীর সংখ্যা পাওয়া গেলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।</p><p>বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব এখন শুধু সরাসরি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় এসেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।</p><p>চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।</p><p>ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলা হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।</p><p>রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার তথ্য দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/lwc60l0g/WhatsApp-Image-2026-10-12-at-5.58.48-PM.jpeg"><figcaption>সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী কর্মীরা এসেছেন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় যেতে পারছেন না তাঁরা</figcaption></figure><h3>‘এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না’ </h3><p>আজ বেলা ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল আবুল হোসেনের। সেই ফ্লাইট ধরতে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। এসে জানতে পারেন তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।</p><p>ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করেন বলে জানালের আবুল হোসেন। রিয়াদে এখন টাইলস মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাই ছুটি অনুযায়ী তিন মাস আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন।</p><p>এখন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নিজের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়েছে। এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সব কিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/airarbhpiz">রিয়াদ বিমানবন্দরে কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বাড়াল সৌদি আরব</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/j3j4faz8/1.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ যাওয়া–আসার বোর্ড </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ivoy1s3k/2.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরে আসা এক যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/w230rx3w/3.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>উড়োজাহাজ বাতিলের নোটিশ দেখছেন যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/o8xqubbg/4.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>পরিবার নিয়ে আসা এক যাত্রী বিড়ম্বনায় </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/gtsrbohu/5.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষায় এক যাত্রী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/76gamfmw/6.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>সর্বশেষ খবরের অপেক্ষায় একটি পরিবার </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0uyr1ykb/7.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>অভিভাবককে বিদায় দেওয়ার জন্য এসে বিড়ম্বনায় পড়েছে ছোট সন্তান </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/6b9b1pkm/8.-DhakaRiyadh-flight-cancellation-passenger-hardship11102026.jfif"><figcaption>সর্বশেষ খবর নিচ্ছেন এক যাত্রী </figcaption></figure><p>আবুল হোসেনের মতোই ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মো. মোসলেম তালুকদারের। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর রিয়াদগামী ফ্লাইট ছিল। সেই ফ্লাইট ধরতে সকাল ১০টা থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পারেন।</p><p>বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোসলেম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ফ্লাইট ছিল, যেতে পারিনি, বিমান বন্ধ, ফ্লাইট ক্যান্সেল (বাতিল) হয়েছে। এখন দেখছি, অন্য কোনো ফ্লাইটে যেতে পারি কি-না। নইলে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।’ রিয়াদের একটি দোকানে তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।</p><p>আজ বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আসা ১৫ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাদের বেশিরভাগই জানতেন না ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টি। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/8jnzvv7a1w">বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর রিয়াদের আকাশ ফাঁকা</a></aside>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন