শিশুর ডিএনএ টেস্টের দাবি, বাংলাদেশে চাইলেই কি এই টেস্ট করা যায়?

বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’
জাতীয়

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

News অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0

Rss feed news

হুতির হামলা: সৌদিকে রক্ষায় মক্কা চুক্তি যখন প্রশ্নের মুখে
হুতির হামলা: সৌদিকে রক্ষায় মক্কা চুক্তি যখন প্রশ্নের মুখে

গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যখন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল, তখন আমাদের অনেকেই এটাকে স্রেফ মনোভাবের একটি ঘোষণা হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্রকৃতিতে ফিরল ১৪টি পাতি সরালি
প্রকৃতিতে ফিরল ১৪টি পাতি সরালি

<p>গ্রাম থেকে পাতি সরালি হাঁস কিনে শহরে বিক্রির জন্য ঘুরছিলেন মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল। হঠাৎ তা পাখিপ্রেমীদের নজরে পড়ে। পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে পাবনায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সদস্যরা বিক্রেতাকে আইন সম্পর্কে অবগত করেন। এরপর তিনি কখনো বন্য পাখি কেনাবেচা করবেন না এবং এই পাখিগুলো ছেড়ে দেবেন প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁকে নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে হাঁসগুলো অবমুক্ত করা হয়। ক্লান্ত ও দুর্বল পাখিগুলো লেকের পানিতে কিছুক্ষণ জলকেলিতে মেতে চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়। সন্ধ্যা হলেই পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দল বেঁধে উড়াল দেয়। ১৪টি পাতি সরালি হাঁস অবমুক্ত করা নিয়ে এবারের ছবির গল্প</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/jpomvmf8/2.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>মুরগি বিক্রেতার বস্তার ভেতরে ছিল এই বাচ্চা হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/edhyto84/3.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হাঁস হাতে নিয়ে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/m3ovj7ec/4.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>সবাই মিলে লেকে অবমুক্ত করছে সরালি হাঁস </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/lkaw313q/5.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>অবমুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ১৪টি হাঁসই উড়ে গেলে একসঙ্গে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/ithnx8te/6.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption> সবুজ ক্যাম্পাসের চারপাশে এই পাখিদের থাকার মতো অনেক স্থান রয়েছে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/z55yndan/7.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হঠাৎ জলকেলিতে মেতে উঠল হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/w1vattb4/8.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>স্বাধীনতা হলের সামনে এই লেকে অবমুক্ত করা হয় হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/tw8ywb0v/9.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হাঁসগুলো চোখ বুজে বিশ্রাম নিচ্ছে লেকের শীতল জলে </figcaption></figure>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
১০০ টাকায় হকি শেখায় রাজশাহীর বৈকালী সংঘ
১০০ টাকায় হকি শেখায় রাজশাহীর বৈকালী সংঘ

১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় পরবর্তী সময়ে রাহশাহীর হকির আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠা এই ক্লাব।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
বৈদ্যুতিক চুলার এ বিষয়গুলো জানেন কি
বৈদ্যুতিক চুলার এ বিষয়গুলো জানেন কি

<p>ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন গ্যাসের সংকট। গ্রামে তা-ও মাটির চুলায় রান্নার সুযোগ আছে, শহরে তো সেটাও কঠিন। তাই রান্নায় গ্যাসের চুলার বিকল্প হতে পারে ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা।</p><p>সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার নিউমার্কেটে গিয়ে চোখে পড়ল, চুলার দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। অফিস শেষে ফেরার পথে ঢাকার বছিলা থেকে চুলা কিনতে এসেছেন শাহ্ নেওয়াজ। দরদাম করে দেশি ব্র্যান্ডের একটি ইন্ডাকশন চুলা কিনলেন। তিনি বলেন, ‘বাসায় কখন গ্যাস আসবে, তার ঠিকঠিকানা নেই। তাই গ্যাস থাকা না-থাকার দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে আজ কিনে নিলাম এই ইন্ডাকশন চুলা।’</p><p>নিউমার্কেটের বিশ্বাস বিল্ডিংয়ের নিচতলার এম কে এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান মামুন জানান, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে চুলার চাহিদা এমন বেড়েছে যে আগে যেখানে দিনে ২-৩টি চুলা বিক্রি হতো, এখন ১০-১৫টি বিক্রি হচ্ছে।’ এই হিসাবে পুরো বাজারের অন্য সব দোকান মিলে কী পরিমাণ বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হচ্ছে, তা অনুমান করা যায়!</p><h3>ইন্ডাকশন চুলা </h3><p>এই চুলায় কোনো আগুনের শিখা ছাড়াই তড়িৎ-চুম্বকের এক বিশেষ ক্রিয়াকৌশলে রান্না হয়। ফার্মগেটের বেস্ট বাই শোরুমের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, এসব চুলার সবটুকু অংশে তাপ ছড়ায় না। রান্নার পাতিল বা পাত্রের যতটুকু অংশ চুলা স্পর্শ করে, ঠিক ততটুকু অংশেই তাপ পৌঁছাবে। বাকি অংশে ভুল করে হাত লেগে গেলেও ভয়ের কিছু নেই। আবার ভুল করে সুইচ অন করে ফেললেও চুলার ওপর কোনো রান্নার পাত্র না থাকলে তাপ ছড়ায় না। চুলার ওপর রান্নার পাত্র বসানোর পরই তাপ উৎপন্ন হবে। রান্না শেষে পাত্র তুলে নিলে আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুলা বন্ধ হয়ে যাবে। আর টাচস্ক্রিন কন্ট্রোলে মিলবে ভোল্টেজ কমানো-বাড়ানোর সুবিধা। সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য আছে টাইম কন্ট্রোলার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/i1u8i3z7/LABL2290.jpg"><figcaption>এই চুলায় কোনো আগুনের শিখা ছাড়াই তড়িৎ-চুম্বকের এক বিশেষ ক্রিয়াকৌশলে রান্না হয়</figcaption></figure><h3>ইন্ডাকশন চুলার পাত্র </h3><p>ইন্ডাকশন চুলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়ে পাত্রের গায়ে লাগে না, চুম্বক রশ্মির মাধ্যমে তাপ টেনে নেয় পাত্র। ফলে সব রকমের পাত্র ব্যবহার করা যায় না। যেসব পাত্র চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়, সেসব পাত্রই শুধু ইন্ডাকশন চুলায় ব্যবহার করা যায়। যেমন স্টিল ও লোহার পাত্র। চুলার সর্বোত্তম সুবিধা পেতে বেছে নিতে পারেন ইন্ডাকশনের জন্য নির্মিত বিশেষ পাত্র। বাজারে ইন্ডাকশন চুলায় রান্নার উপযোগী একটি সসপ্যান, একটি কড়াই, একটি ফ্রাইপ্যান ও একটি রুটি বানানোর তাওয়ার বিশেষ সেট পাওয়া যায়। দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE">গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্কতা</a></aside><h3>চুলার দরদাম </h3><p>বাজারে ইন্ডাকশন চুলার মধ্যে ভিশন ব্র্যান্ডের চুলা মিলবে ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৫৯০ টাকার মধ্যে। ভিগো ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলা ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকা, ওয়ালটনের ইন্ডাকশন চুলা ৪ হাজার ৩৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা, কিয়ামের ইন্ডাকশন চুলা ৩ হাজার ৬৯০ থেকে ৭ হাজার ১০০ টাকা ও মিয়াকো ইন্ডাকশন চুলা পাবেন ৫ হাজার ৪৮৪ থেকে ১০ হাজার ৪১৭ টাকা।</p><p>ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ভিগো ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা পাবেন ৪ হাজার ৫৯০ টাকার মধ্যে। ভিশন ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ টাকায়। ওয়ালটন হলে দাম পড়বে ৩ হাজার ৮৯০ থেকে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা। ওয়ালটনের ডাবল বার্নারের ইনফ্রারেড চুলা নিতে পারবেন ৮ হাজার ৪৯০ টাকায় আর ভিশন ব্র্যান্ডের ৯ হাজার টাকায়। কিয়াম ব্র্যান্ডের চুলার দাম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, মিয়াকোর চুলা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা।</p><p>এম কে এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান মামুন জানান, এ ছাড়া প্রেস্টিজ, ডিজনি, হকিংস, নোভা প্রভৃতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। বেশির ভাগ ব্র্যান্ডই দিচ্ছে ছয় মাস থেকে এক বছরের ওয়ারেন্টি-সুবিধা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/7mkbyj786o">চুলা বন্ধ করে আসতে আসতে মনে হয়, চুলাটা বন্ধ করিনি—এই সমস্যার সমাধান কী</a></aside><h3>কতটা বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/a45878ax/LABL2316.jpg"><figcaption>ইন্ডাকশন চুলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়ে পাত্রের গায়ে লাগে না, চুম্বক রশ্মির মাধ্যমে তাপ টেনে নেয় পাত্র। ফলে সব রকমের পাত্র ব্যবহার করা যায় না</figcaption></figure><p>বৈদ্যুতিক চুলার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল ভিত্তি হলো এর তাপীয় দক্ষতা। সহজ কথায়, চুলা যে পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তি গ্রহণ করে, তার কতটা অংশ সরাসরি পাত্র গরম করতে কাজে লাগে আর কতটা চারপাশে অপচয় হয়—তার ওপরই নির্ভর করে আসল সাশ্রয়। সাধারণ গ্যাসের চুলায় তাপের প্রায় ৪০-৬০ শতাংশ চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে নষ্ট হয়। অন্যদিকে ইন্ডাকশন চুলা তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে সরাসরি পাতিলের তলা গরম করার ফলে বিদ্যুতের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ তাপই সরাসরি রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এতে রান্নার সময় অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। যেমন সাধারণ গ্যাসের চুলায় ১ লিটার পানি ফুটতে ৭-৮ মিনিট লাগলেও ইন্ডাকশন চুলায় লাগে আড়াই থেকে তিন মিনিট। কম সময় চালু থাকা মানেই বিদ্যুৎ খরচ কম। ইনফ্রারেড চুলাতেও ৭০-৭৫ শতাংশ তাপ সরাসরি পাত্রে যায় এবং ১ লিটার পানি ফুটতে সময় নেয় ৪-৫ মিনিট। সেই সঙ্গে রান্না শেষে পাত্র তুলে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার ‘অটো-কাট অফ’ এবং তাপমাত্রা অনুযায়ী ওয়াট কমানোর ‘ইনভার্টার প্রযুক্তি’ থাকায় বিদ্যুৎ খরচ আরও ১৫-২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/interior/vsyi3g5mu0">বৈদ্যুতিক চুলা কোনটি কিনবেন, দাম কেমন</a></aside>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
হুতিদের হামলা, পাল্টা জবাবের কৌশল খুঁজছে সৌদি আরব
হুতিদের হামলা, পাল্টা জবাবের কৌশল খুঁজছে সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে প্রাণহানির পর পাল্টা জবাবের কৌশল খুঁজছে রিয়াদ। স্থলযুদ্ধ, বিমান হামলা নাকি কূটনীতি

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দোকানির মেয়ে কীভাবে দুনিয়াজুড়ে ‘লৌহমানবী’ হয়ে উঠলেন, ১১ বছর শাসন করলেন যুক্তরাজ্য
দোকানির মেয়ে কীভাবে দুনিয়াজুড়ে ‘লৌহমানবী’ হয়ে উঠলেন, ১১ বছর শাসন করলেন যুক্তরাজ্য

<p>মার্গারেট থ্যাচার—যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী সরকারপ্রধান। এক দশকের বেশি ক্ষমতায় ছিলেন। সংস্কার করেছেন, শক্ত হাতে সরকার ও দেশ সামলেছেন। যুদ্ধেও জড়িয়েছেন। দৃঢ়চেতা এ নারী পরিচিতি পেয়েছেন ‘লৌহমানবী’ নামে। আজ ১৩ অক্টোবর মার্গারেট থ্যাচারের জন্মদিন। এ উপলক্ষে আজকের আয়োজন।</p><p>যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের ভিত্তি বেশ পোক্ত। তবে বলা হয়, দেশটিতে সরকার টেকে না। পরিসংখ্যানও কিন্তু সেটাই বলে। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট গণভোট হয়েছিল। অর্থাৎ গণভোটে সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্যবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর মাত্র এক দশকে দেশটিতে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার চেয়ারে এসেছেন–গেছেন।</p><p>গত শতকে চিত্রটা ভিন্ন রকমের ছিল। সময়টা ১৯৭৯ সাল। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা মার্গারেট থ্যাচার। তিনি সরকারপ্রধানের পদে ছিলেন টানা ১১ বছর, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত; পরপর তিন মেয়াদে। যুক্তরাজ্যের ১৫০ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সরকারপ্রধান থাকার রেকর্ড থ্যাচারের দখলে।</p><p>রাজনীতির মাঠে মার্গারেট থ্যাচার এমন একটি নাম, যাঁকে সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। দেশটির রাজনীতি বরাবরই পুরুষ নিয়ন্ত্রিত। সেই ধারা ভেঙে দিয়েছেন থ্যাচার। যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তিনি। এক দশকের বেশি সময়ের দৃঢ়চেতা ও অনমনীয় শাসনের জন্য থ্যাচার ‘আয়রন লেডি’ বা ‘লৌহমানবী’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এখনো এ নামেই মানুষ তাঁকে চেনে।</p><p>মার্গারেট থ্যাচারের কঠোর নীতি যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে গভীর বিতর্ক। যদিও তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কার বদলে দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও সমাজ। কেউ থ্যাচারকে দেখেন একজন সাহসী সংস্কারক হিসেবে। কারও চোখে তিনি কঠোর ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একজন রাষ্ট্রনেতা।</p><p>থ্যাচারের সমর্থকেরা মনে করেন, তিনি যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা থেকে বের করে এনেছিলেন। সমালোচকদের মতে, তাঁর নীতিতে শিল্পাঞ্চলের বহু মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। ফকল্যান্ড দ্বীপ ঘিরে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান তিনি। সব মিলে ভীষণ চাপের মুখে শক্ত হাতে ১১ বছর দেশ চালাতে হয়েছে থ্যাচারকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/mikl21rw/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.11.31-AM.jpeg"><figcaption>মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>সরকারপ্রধান হিসেবে মার্গারেট থ্যাচারের নীতির ভিত্তি এতটাই গভীর ছিল যে তিনি বিদায় নিলেও এসব নীতির প্রভাব রয়ে যায় দীর্ঘদিন। শুরুতে বলেছিলাম, যুক্তরাজ্যে গত এক দশকে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়েছেন। তাঁদের একজন লিজ ট্রাস। তিনি ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন। কিন্তু তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থায়ী হয় মাত্র ৪৯ দিন। ট্রাস ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর পদত্যাগ করেন।</p><p>মজার বিষয় হলো, লিজ ট্রাস আশির দশকে মার্গারেট থ্যাচারের নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে স্থায়ী বলে কিছু নেই—কথাটি প্রমাণ করতেই তিনি একসময় নিজেকে থ্যাচারের আদর্শের মশালের একজন ধারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এখানেই থ্যাচারের অন্যতম সফলতা।</p><blockquote>১৯৭৯ সালের ৩ মে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন হয়। জয়ী হয় কনজারভেটিভ পার্টি। নতুন ইতিহাস লিখেন মার্গারেট থ্যাচার। পরদিন, ৪ মে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।</blockquote><h3>দোকানির মেয়ের অভাব দেখা </h3><p>মার্গারেট থ্যাচারের আসল নাম ‘মার্গারেট হিলডা রবার্টস’। জন্ম ১৯২৫ সালের ১৩ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের ছোট এক শহর গ্রান্থামে। বাবা ও মা একটি মুদিদোকান চালাতেন। দোকানের ওপরই পরিবার নিয়ে থাকতেন। ছোট মার্গারেট মাঝেমধ্যে দোকানের কাউন্টারে বাবা–মাকে সাহায্য করতেন। মার্গারেটের বড় এক বোন ছিলেন। নাম মুরিয়েল।</p><p>ওই সময়টায় যুক্তরাজ্যের গ্রাম ও শহরগুলো সবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলে উঠছে। মার্গারেট বড় হতে হতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় ভুগতে শুরু করে ইউরোপসহ বিশ্ব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৩৯ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তখন মার্গারেটের বয়স ১৪ বছর। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতে হতে তিনি ২০ বছরের তরুণী।</p><p>দু–দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলানো যুক্তরাজ্যে তখন চাকরির সংকট। চারপাশে অভাবী মানুষ অনেক। মার্গারেট শৈশবে বেশ অভাব দেখেছেন। তাঁদের ঘরে টিভি পর্যন্ত ছিল না। বাবা একটি রেডিও কিনেছিলেন। পরিবারের সবাই মিলে সেটা শুনতেন। স্কুল থেকে ফিরে ঘরে প্রথম রেডিও দেখতে পাওয়ার রোমাঞ্চকর সেই স্মৃতির কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মার্গারেট নিজেই বলেছেন।</p><p>ছোটবেলায় হেঁটে কয়েক মাইল দূরের সরকারি স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করেছেন মার্গারেট। ১৮ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। বিষয় রসায়ন। এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালোবাসতেন। ছোট থেকে রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল। বাবার কাছ থেকে রাজনীতি, দায়িত্ববোধ আর আত্মনির্ভরতার শিক্ষা পেয়েছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/fjcxi4br/Thatcher-2.avif"><figcaption>কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৩ অক্টোবর, ১৯৮৯</figcaption></figure><h3>শিক্ষাজীবনে রাজনীতির শুরু </h3><p>অক্সফোর্ডে পড়ার সময় প্রথম প্রথাগত রাজনীতিতে জড়ান মার্গারেট। তিনি ‘স্টুডেন্ট কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটা ছোট একটি নির্বাচন ছিল ঠিকই। তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন মার্গারেট। এ পরিচিতি পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাঁকে সুবিধা এনে দিয়েছিল।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পেরিয়ে মার্গারেট কেমিস্টের চাকরিতে ঢোকেন। চলে রাজনীতিও। লন্ডনের উপকণ্ঠে কেন্টের ডার্টফোর্ড শহরের সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে দুবার নির্বাচনে লড়েও জিততে পারেননি। দেশের সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন।</p><p>ডার্টফোর্ডেই ডেনিস থ্যাচারের সঙ্গে মার্গারেটের পরিচয়। এরপর বিয়ে। তখন থেকে তিনি নামের শেষে ‘থ্যাচার’ পদবি জুড়ে নেন। ১৯৫৩ সালে তাঁদের ঘর আলো করে আসে যমজ সন্তান—মার্ক ও ক্যারল। বিয়ে, সংসার ও সন্তান সামলেও লন্ডনের সিটি ল স্কুলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান থ্যাচার।</p><p>এরই মধ্যে এমপি নির্বাচন করে পার্লামেন্টে যেতে নতুন একটি এলাকা খুঁজছিলেন থ্যাচার। পেয়েও যান। অবশেষে ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলে থেকে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নির্বাচিত হন তিনি। নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে পার্লামেন্টে পা পড়ে তাঁর।</p><blockquote>স্নায়ুযুদ্ধের রাশ টানতেও থ্যাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আশির দশকের শুরুর দিকে রোনাল্ড রিগ্যানের কঠোর প্রতিরক্ষা নীতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান ঘটলে তিনি এ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/ahgv8d78g7">মার্গারেট থ্যাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা লিজ ট্রাসই এখন থ্যাচারের আদর্শের ধারক</a></aside><h3>পার্লামেন্ট, মন্ত্রিসভা, বিরোধী দলে </h3><p>এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বেশ কিছু আইন প্রণয়নে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন থ্যাচার। পার্লামেন্টে প্রবেশের ঠিক ১১ বছর পর তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন। তখন ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ। তাঁর সরকারে থ্যাচারকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়। যুক্তরাজ্যের স্কুল–কলেজের উন্নয়নে বিশেষ দায়িত্ব পান তিনি।</p><p>শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম বছরে একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল থ্যাচারকে। তিনি স্কুলমিল থেকে বয়সে বড় শিক্ষার্থীদের জন্য দুধের বরাদ্দ বাতিল করেন। বিনা মূল্যের এ সুবিধা বাতিল হওয়ায় লোকজন খেপে যায়। থ্যাচারের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। ওই সময়টায় প্রধানমন্ত্রী হিথের সরকারও গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। চার বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে সরকারের শোচনীয় পরাজয় হয়।</p><p>এবার পার্লামেন্টে বিরোধী দলের আসনে থ্যাচারের দল। ১৯৭৫ সালে কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রধানের পদে থ্যাচারকে নির্বাচিত করেন। এ ঘটনা ওই সময় যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কেননা ধস নামা জনপ্রিয়তা পেরিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। তা–ও নারী হিসেবে দেশটিতে প্রথম।</p><p>থ্যাচার বছর চারেক বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তখনকার লেবার পার্টির সরকারও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছিল। ফলে জনপ্রিয়তা হারায়। এর প্রভাব পড়ে ১৯৭৯ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/rznz3dq7/Thatcher-3.avif"><figcaption>স্বামী ডেনিস থ্যাচারের সঙ্গে মার্গারেট থ্যাচার। ১১ অক্টোবর ১৯৮৫</figcaption></figure><h3>নতুন ইতিহাস লেখা </h3><p>১৯৭৯ সালের ৩ মে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন হয়। জয়ী হয় কনজারভেটিভ পার্টি। নতুন ইতিহাস লেখেন মার্গারেট থ্যাচার। পরদিন, ৪ মে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।</p><p>আগের কয়েকজন সরকারপ্রধানের মতো থ্যাচারকেও চরম অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অনেকে চাকরি হারান। শুরুতে এ নীতি ব্যাপক সমালোচিত হয়। ব্যাপক প্রতিবাদ আর সমালোচনা হয়।</p><p>তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা গেলে মানুষের ক্ষোভ কমে আসে। অর্থনীতি নতুন উদ্যম পায়। ধীরে ধীরে থ্যাচারের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ঠিক তখনই তাঁকে যুদ্ধে জড়াতে হয়। লাতিন উপকূলের যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপে আর্জেন্টিনা সেনা অভিযান চালালে যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাজ্য। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধের শুরু। জুনের মধ্যে দ্বীপটি আবার যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে।</p><p>বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ফকল্যান্ড যুদ্ধে থ্যাচারের অভাবনীয় সাফল্য যুক্তরাজ্যের ভোটারদের মুগ্ধ করে। যুদ্ধের সময়ে দৃঢ়চেতা মনোভাব তাঁকে ‘লৌহমানবী’ নামে পরিচিত করে তোলে। থ্যাচার পরের বছরের (১৯৮৩ সাল) জুনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অনায়াসে জয় ছিনিয়ে নেন। সরকার গঠন করে কনজারভেটিভরা। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন থ্যাচার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/nt6t5tz632">নতুন বইয়ে দাবি: মার্গারেট থ্যাচারের বিবাহবহির্ভূত দুটি সম্পর্ক ছিল</a></aside><h3>ব্যর্থ হয় হত্যাচেষ্টা </h3><p>প্রধানমন্ত্রী থ্যাচারের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুটা সাবলীল ছিল না। মোকাবিলা করতে হয় শ্রমিক আন্দোলন। খনিশ্রমিকদের ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট ১৯৮৪–৮৫ সালজুড়ে চলেছিল। সেই আন্দোলন দমান থ্যাচার। তবে সৃষ্টি হওয়া তিক্ততা তাঁকে দীর্ঘদিন ভুগিয়েছিল। ওই সময়ে বিরোধী লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, থ্যাচারের সংস্কার কার্যক্রম ঠেকানো সম্ভব নয়। এমনকি সেগুলো উল্টে দেওয়াও যাবে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/x5el40if/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.11.25-AM.jpeg"><figcaption>মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>১৯৮৪ সালের অক্টোবর, তখনো শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। ব্রিংটনের একটি হোটেলে কনজারভেটিভ পার্টির বার্ষিক সম্মেলন চলছিল। ওই আয়োজনে বোমা হামলা চালিয়ে থ্যাচারসহ তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ)।</p><p>ওই হামলায় কপালগুণে বেঁচে যান থ্যাচার। তবে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী হতাহত হয়েছিলেন। থ্যাচার হোটেলের যেই কক্ষে ছিলেন, তার ঠিক পাশের কক্ষটি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।</p><blockquote>যুক্তরাজ্যে থ্যাচারের পরবর্তী সরকারগুলো বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁর নীতিগুলো ছুড়ে ফেলতে পারেনি। এমনকি টনি ব্লেয়ারের লেবার পার্টির সরকারও থ্যাচারের অনেক নীতি এগিয়ে নিয়েছিল। তাই বলা যায়, থ্যাচারের প্রভাব শুধু নিজ দল আর নিজ সরকারে সীমিত ছিল না।</blockquote><p>সরকার ও কনজারভেটিভ পার্টির অনেকেই থ্যাচারের নেতৃত্ব ও সংস্কারনীতি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন না। তাঁদেরই একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল হেসেলটাইন। ‘ওয়েস্টল্যান্ড’ নামক ব্রিটিশ হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হঠাৎ সরকার থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সংকটে পড়ে যায় থ্যাচারের সরকার। তবে ওই সংকটও সামলে নেন প্রধানমন্ত্রী।</p><p>এ ঘটনা থ্যাচারের সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দৃঢ়চেতা নেত্রীর ‘ক্লান্ত হয়ে পড়া’ এবং দীর্ঘ সময় ধরে টানা ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। থ্যাচার তাঁর দৃঢ়চেতা ভঙ্গিতে সমালোচকদের জবাব দেন—নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। অর্থনীতি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও বেশি ছিল।</p><p>তত দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন থ্যাচার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে। স্নায়ুযুদ্ধ চলার ওই সময়টায় সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন ঘোর সমালোচক হিসেবেও নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন থ্যাচার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/%E0%A6%B2%E0%A7%8C%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B8">লৌহমানবীর কেশবিলাস</a></aside><h3>তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী </h3><p>১৯৮৭ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন থ্যাচার। যুক্তরাজ্যের শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক সংস্কার করা হয়। প্রতিটিই ছিল তুমুল বিতর্কিত। তবে এ মেয়াদে সরকার আর দলের ঘনিষ্ঠজনদের বিরোধিতা সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।</p><p>যুক্তরাজ্য ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় কমিউনিটিতে (ইসি) যোগ দিয়েছিল। কিন্তু থ্যাচার ক্রমেই ইসির প্রতি সমালোচনামুখর হয়ে ওঠেন। থ্যাচার ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রুজেসে দেওয়া এক ভাষণে এমন সব কথা বলেন, সেটা তাঁর দলকে ‘ইউরোপ নিয়ে সংশয়বাদী’ মনোভাবাপন্ন হিসেবে পরিচিত করে তোলে।</p><p>স্নায়ুযুদ্ধের রাশ টানতেও থ্যাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আশির দশকের শুরুর দিকে রোনাল্ড রিগ্যানের কঠোর প্রতিরক্ষানীতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান ঘটলে তিনি এ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/qe4ng922s7">যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিটের পর এক দশকে কতজন প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিলেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/1udriyb1/Thatcher-4.jfif"><figcaption>মৃত্যুর খবরে লন্ডনে মার্গারেট থ্যাচারের ছবির সামনে ফুলেল শ্রদ্ধা। ৮ এপ্রিল ২০১৩</figcaption></figure><h3>ক্ষমতার শীর্ষ থেকে বিদায় </h3><p>পরপর তিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় থ্যাচারকে। এর বড় কারণ ছিল নিজের দলের ভেতরের বিরোধিতা।</p><p>ইউরোপীয় একত্রীকরণ নিয়ে থ্যাচারের মনোভাব রক্ষণশীলদের অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। বিশেষত স্থানীয় সরকার পরিচালনায় চালু করা ‘পোল ট্যাক্স’ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিক্ষোভও হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের নেতারা ভাবছিলেন, চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে থ্যাচার সফল হতে পারবেন না।</p><p>দলের ভেতর সমর্থন কমতে থাকায় ১৯৯০ সালের নভেম্বরে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াইয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান থ্যাচার। ১৯৯০ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জন মেজর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/m85bpiq5ta">চার বছরে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য, মানুষের আকাঙ্ক্ষা কি পূরণ করতে পারবেন বার্নহ্যাম</a></aside><h3>থ্যাচারের প্রভাব কতটা </h3><p>মার্গারেট থ্যাচারের শাসনামল মূল্যায়ন করতে গেলে, শুধু তাঁর ইতিহাস গড়ে তিন মেয়াদে ক্ষমতা আসার কথা বললে চলবে না। বরং দেখতে হবে, তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনীতি নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা বদলাতে পেরেছেন।</p><p>যুক্তরাজ্যে থ্যাচারের পরবর্তী সরকারগুলো বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁর নীতিগুলো ছুড়ে ফেলতে পারেনি। এমনকি টনি ব্লেয়ারের লেবার পার্টির সরকারও থ্যাচারের অনেক নীতি এগিয়ে নিয়েছিল। তাই বলা যায়, থ্যাচারের প্রভাব শুধু নিজ দল আর নিজ সরকারে সীমিত ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/byjbhbl2/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.12.58-AM.jpeg"><figcaption>মস্কো সফরে মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনের সুযোগ চালু করা, শিল্প খাতে কর্মসংস্থান হারানো মানুষের দুর্দশা এবং সমাজে বৈষম্যের প্রশ্ন উপেক্ষা করার বিষয়ে থ্যাচারের ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না।</p><h3>জীবনসায়াহ্নে এসে </h3><p>শেষজীবনে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। দুটি স্মৃতিকথা লিখেছেন। বিক্রিও হয়েছে বেশ। একটির নাম ‘দ্য ডাউনিং স্ট্রিট ইয়ার্স’। এটা ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। অন্যটি ‘দ্য পাথ টু পাওয়ার’। এটা প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।</p><p>যুক্তরাজ্যে ১৯৯২ সালে মার্গারেট থ্যাচারকে রাজকীয় ব্যারোনেস খেতাব দেওয়া হয়।</p><p>২০০৩ সালের জুনে স্বামী ডেনিস থ্যাচারকে হারান মার্গারেট থ্যাচার। বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে সময় কাটছিল তাঁর। বয়স হওয়ায় নানা অসুখ বেঁধেছিল শরীরে।</p><p>২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান মার্গারেট থ্যাচার। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে তাঁকে সমাহিত করা হয়। রানি এলিজাবেথসহ দেশ–বিদেশের বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন।</p><p>কঠোর রাজনৈতিক মনোভাবের পাশাপাশি নিজের অনন্য স্টাইলের জন্যও খ্যাতি ছিল মার্গারেট থ্যাচারের। বিশেষ করে চুলের স্টাইল নিয়ে। আকর্ষণীয় কেশরাজির জন্যও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন তিনি। ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভ থ্যাচারের ১৯৮৪ সালের সাক্ষাৎসূচি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ওই বছর থ্যাচার ১১৮ বার চুল ছাঁটেন। গড়ে প্রায় প্রতি তিন দিনে একবার!</p> <p><strong>তথ্যসূত্র:</strong> বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, ব্রিটানিকা, মার্গারেট থ্যাচার ফাউন্ডেশন, গভডটইউকে এবং মার্গারেট থ্যাচার সেন্টারের ওয়েবসাইট।</p><p><strong>অনিন্দ্য সাইমুম</strong>: প্রথম আলোর সহসম্পাদক</p><p>ইমেইল: emon@prothomalo.com</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/etxtqkbz5z">যুক্তরাজ্যে এই প্রথম সাবেক–বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মিলিয়ে একসঙ্গে বেঁচে আছেন ১০ জন</a></aside>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া অদ্ভুত একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সন্ধান পাওয়া গ্রহটি মহাবিশ্বে গ্রহ তৈরির প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় জরুরি
দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় জরুরি

ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজন। সহযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, স্টার্ট বাংলাদেশ হাব ও ইডিএম।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
বিমানবন্দরে হুথি হামলার জবাবে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি সৌদি মন্ত্রীর
বিমানবন্দরে হুথি হামলার জবাবে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি সৌদি মন্ত্রীর

সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
শিশুর ডিএনএ টেস্টের দাবি, বাংলাদেশে চাইলেই কি এই টেস্ট করা যায়?
শিশুর ডিএনএ টেস্টের দাবি, বাংলাদেশে চাইলেই কি এই টেস্ট করা যায়?

বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দিল্লিতে মিছিল করে বিরোধী নেতাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির রাহুল গান্ধী
দিল্লিতে মিছিল করে বিরোধী নেতাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির রাহুল গান্ধী

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেয় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সাজেক ভ্রমণ কতদিন বন্ধ থাকবে?
সাজেক ভ্রমণ কতদিন বন্ধ থাকবে?

স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় কী বলছে পুলিশ
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় কী বলছে পুলিশ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলা সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে ঢাকায় একটি আদালতে তোলে পুলিশ। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে
সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে

শনিবারের ওই হামলার পরদিন রোববার মন্ত্রণালয় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোঃ নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মো: শাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
'স্মাইলিং ডিপ্রেশন' কী, হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা চিনবেন কীভাবে?
'স্মাইলিং ডিপ্রেশন' কী, হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা চিনবেন কীভাবে?

বাইরে থেকে আপনাকে সুখী দেখালেও ভেতরে ভেতরে যদি আপনি কষ্ট পান, তবে আপনার এক ধরনের অস্বাভাবিক বিষণ্ণতা থাকতে পারে — কিন্তু প্রকৃত অনুভূতি গোপন করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
চাঁদা দাবির অভিযোগে ৩ দিন বান্দরবান-থানচি বাস বন্ধ 
চাঁদা দাবির অভিযোগে ৩ দিন বান্দরবান-থানচি বাস বন্ধ 

চাঁদা দাবির অভিযোগে বান্দরবান-থানচি সড়কে তিন দিন ধরে গণপরিবহন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
চকবাজারে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১০ ইউনিট
চকবাজারে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১০ ইউনিট

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা নামে একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
হত্যা মামলায় শিশুর ১৩ বছরের আটকাদেশ
হত্যা মামলায় শিশুর ১৩ বছরের আটকাদেশ

বগুড়ার শিশু আশিক হত‌্যা মামলায় জ‌ড়িত এক‌ শিশু‌কে ১৩ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস
ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস

গাজীপুরের চন্দ্রায় শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শন করেছেন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস) এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
গাজীপুরে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি, ৬ স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
গাজীপুরে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি, ৬ স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন

গাজীপুরের ছয়টি সিএনজি স্টেশনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের নির্ধারিত গ্যাস সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির পাশাপাশি অবৈধভাবে লরি ও সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সহযোগীর গুলিতে নিহত নারায়ণগঞ্জে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সাহেব আলী 
সহযোগীর গুলিতে নিহত নারায়ণগঞ্জে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সাহেব আলী 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত সাহেব আলীকে গুলি করে হত্যা করেছে তারই এক সহযোগী। 

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ফরিদপুরে হাসপাতালে দুদকের অভিযান, নথিপত্র যাচাই
ফরিদপুরে হাসপাতালে দুদকের অভিযান, নথিপত্র যাচাই

চিকিৎসাসেবায় বহুমাত্রিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি ওষুধ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।”

অক্টোবর ১২, ২০২৬