গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যখন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল, তখন আমাদের অনেকেই এটাকে স্রেফ মনোভাবের একটি ঘোষণা হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।
<p>গ্রাম থেকে পাতি সরালি হাঁস কিনে শহরে বিক্রির জন্য ঘুরছিলেন মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল। হঠাৎ তা পাখিপ্রেমীদের নজরে পড়ে। পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে পাবনায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সদস্যরা বিক্রেতাকে আইন সম্পর্কে অবগত করেন। এরপর তিনি কখনো বন্য পাখি কেনাবেচা করবেন না এবং এই পাখিগুলো ছেড়ে দেবেন প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁকে নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে হাঁসগুলো অবমুক্ত করা হয়। ক্লান্ত ও দুর্বল পাখিগুলো লেকের পানিতে কিছুক্ষণ জলকেলিতে মেতে চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়। সন্ধ্যা হলেই পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দল বেঁধে উড়াল দেয়। ১৪টি পাতি সরালি হাঁস অবমুক্ত করা নিয়ে এবারের ছবির গল্প</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/jpomvmf8/2.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>মুরগি বিক্রেতার বস্তার ভেতরে ছিল এই বাচ্চা হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/edhyto84/3.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হাঁস হাতে নিয়ে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/m3ovj7ec/4.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>সবাই মিলে লেকে অবমুক্ত করছে সরালি হাঁস </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/lkaw313q/5.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>অবমুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ১৪টি হাঁসই উড়ে গেলে একসঙ্গে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/ithnx8te/6.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption> সবুজ ক্যাম্পাসের চারপাশে এই পাখিদের থাকার মতো অনেক স্থান রয়েছে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/z55yndan/7.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হঠাৎ জলকেলিতে মেতে উঠল হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/w1vattb4/8.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>স্বাধীনতা হলের সামনে এই লেকে অবমুক্ত করা হয় হাঁসগুলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/tw8ywb0v/9.-Pabnabird-lovernatureenvironment-and-wildlife-conservationrelease13102026.jpg"><figcaption>হাঁসগুলো চোখ বুজে বিশ্রাম নিচ্ছে লেকের শীতল জলে </figcaption></figure>
১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় পরবর্তী সময়ে রাহশাহীর হকির আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠা এই ক্লাব।
<p>ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন গ্যাসের সংকট। গ্রামে তা-ও মাটির চুলায় রান্নার সুযোগ আছে, শহরে তো সেটাও কঠিন। তাই রান্নায় গ্যাসের চুলার বিকল্প হতে পারে ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা।</p><p>সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার নিউমার্কেটে গিয়ে চোখে পড়ল, চুলার দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। অফিস শেষে ফেরার পথে ঢাকার বছিলা থেকে চুলা কিনতে এসেছেন শাহ্ নেওয়াজ। দরদাম করে দেশি ব্র্যান্ডের একটি ইন্ডাকশন চুলা কিনলেন। তিনি বলেন, ‘বাসায় কখন গ্যাস আসবে, তার ঠিকঠিকানা নেই। তাই গ্যাস থাকা না-থাকার দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে আজ কিনে নিলাম এই ইন্ডাকশন চুলা।’</p><p>নিউমার্কেটের বিশ্বাস বিল্ডিংয়ের নিচতলার এম কে এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান মামুন জানান, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে চুলার চাহিদা এমন বেড়েছে যে আগে যেখানে দিনে ২-৩টি চুলা বিক্রি হতো, এখন ১০-১৫টি বিক্রি হচ্ছে।’ এই হিসাবে পুরো বাজারের অন্য সব দোকান মিলে কী পরিমাণ বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হচ্ছে, তা অনুমান করা যায়!</p><h3>ইন্ডাকশন চুলা </h3><p>এই চুলায় কোনো আগুনের শিখা ছাড়াই তড়িৎ-চুম্বকের এক বিশেষ ক্রিয়াকৌশলে রান্না হয়। ফার্মগেটের বেস্ট বাই শোরুমের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, এসব চুলার সবটুকু অংশে তাপ ছড়ায় না। রান্নার পাতিল বা পাত্রের যতটুকু অংশ চুলা স্পর্শ করে, ঠিক ততটুকু অংশেই তাপ পৌঁছাবে। বাকি অংশে ভুল করে হাত লেগে গেলেও ভয়ের কিছু নেই। আবার ভুল করে সুইচ অন করে ফেললেও চুলার ওপর কোনো রান্নার পাত্র না থাকলে তাপ ছড়ায় না। চুলার ওপর রান্নার পাত্র বসানোর পরই তাপ উৎপন্ন হবে। রান্না শেষে পাত্র তুলে নিলে আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুলা বন্ধ হয়ে যাবে। আর টাচস্ক্রিন কন্ট্রোলে মিলবে ভোল্টেজ কমানো-বাড়ানোর সুবিধা। সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য আছে টাইম কন্ট্রোলার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/i1u8i3z7/LABL2290.jpg"><figcaption>এই চুলায় কোনো আগুনের শিখা ছাড়াই তড়িৎ-চুম্বকের এক বিশেষ ক্রিয়াকৌশলে রান্না হয়</figcaption></figure><h3>ইন্ডাকশন চুলার পাত্র </h3><p>ইন্ডাকশন চুলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়ে পাত্রের গায়ে লাগে না, চুম্বক রশ্মির মাধ্যমে তাপ টেনে নেয় পাত্র। ফলে সব রকমের পাত্র ব্যবহার করা যায় না। যেসব পাত্র চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়, সেসব পাত্রই শুধু ইন্ডাকশন চুলায় ব্যবহার করা যায়। যেমন স্টিল ও লোহার পাত্র। চুলার সর্বোত্তম সুবিধা পেতে বেছে নিতে পারেন ইন্ডাকশনের জন্য নির্মিত বিশেষ পাত্র। বাজারে ইন্ডাকশন চুলায় রান্নার উপযোগী একটি সসপ্যান, একটি কড়াই, একটি ফ্রাইপ্যান ও একটি রুটি বানানোর তাওয়ার বিশেষ সেট পাওয়া যায়। দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE">গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্কতা</a></aside><h3>চুলার দরদাম </h3><p>বাজারে ইন্ডাকশন চুলার মধ্যে ভিশন ব্র্যান্ডের চুলা মিলবে ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৫৯০ টাকার মধ্যে। ভিগো ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলা ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকা, ওয়ালটনের ইন্ডাকশন চুলা ৪ হাজার ৩৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা, কিয়ামের ইন্ডাকশন চুলা ৩ হাজার ৬৯০ থেকে ৭ হাজার ১০০ টাকা ও মিয়াকো ইন্ডাকশন চুলা পাবেন ৫ হাজার ৪৮৪ থেকে ১০ হাজার ৪১৭ টাকা।</p><p>ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ভিগো ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা পাবেন ৪ হাজার ৫৯০ টাকার মধ্যে। ভিশন ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ টাকায়। ওয়ালটন হলে দাম পড়বে ৩ হাজার ৮৯০ থেকে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা। ওয়ালটনের ডাবল বার্নারের ইনফ্রারেড চুলা নিতে পারবেন ৮ হাজার ৪৯০ টাকায় আর ভিশন ব্র্যান্ডের ৯ হাজার টাকায়। কিয়াম ব্র্যান্ডের চুলার দাম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, মিয়াকোর চুলা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা।</p><p>এম কে এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান মামুন জানান, এ ছাড়া প্রেস্টিজ, ডিজনি, হকিংস, নোভা প্রভৃতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। বেশির ভাগ ব্র্যান্ডই দিচ্ছে ছয় মাস থেকে এক বছরের ওয়ারেন্টি-সুবিধা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/7mkbyj786o">চুলা বন্ধ করে আসতে আসতে মনে হয়, চুলাটা বন্ধ করিনি—এই সমস্যার সমাধান কী</a></aside><h3>কতটা বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/a45878ax/LABL2316.jpg"><figcaption>ইন্ডাকশন চুলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়ে পাত্রের গায়ে লাগে না, চুম্বক রশ্মির মাধ্যমে তাপ টেনে নেয় পাত্র। ফলে সব রকমের পাত্র ব্যবহার করা যায় না</figcaption></figure><p>বৈদ্যুতিক চুলার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল ভিত্তি হলো এর তাপীয় দক্ষতা। সহজ কথায়, চুলা যে পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তি গ্রহণ করে, তার কতটা অংশ সরাসরি পাত্র গরম করতে কাজে লাগে আর কতটা চারপাশে অপচয় হয়—তার ওপরই নির্ভর করে আসল সাশ্রয়। সাধারণ গ্যাসের চুলায় তাপের প্রায় ৪০-৬০ শতাংশ চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে নষ্ট হয়। অন্যদিকে ইন্ডাকশন চুলা তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে সরাসরি পাতিলের তলা গরম করার ফলে বিদ্যুতের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ তাপই সরাসরি রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এতে রান্নার সময় অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। যেমন সাধারণ গ্যাসের চুলায় ১ লিটার পানি ফুটতে ৭-৮ মিনিট লাগলেও ইন্ডাকশন চুলায় লাগে আড়াই থেকে তিন মিনিট। কম সময় চালু থাকা মানেই বিদ্যুৎ খরচ কম। ইনফ্রারেড চুলাতেও ৭০-৭৫ শতাংশ তাপ সরাসরি পাত্রে যায় এবং ১ লিটার পানি ফুটতে সময় নেয় ৪-৫ মিনিট। সেই সঙ্গে রান্না শেষে পাত্র তুলে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার ‘অটো-কাট অফ’ এবং তাপমাত্রা অনুযায়ী ওয়াট কমানোর ‘ইনভার্টার প্রযুক্তি’ থাকায় বিদ্যুৎ খরচ আরও ১৫-২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/interior/vsyi3g5mu0">বৈদ্যুতিক চুলা কোনটি কিনবেন, দাম কেমন</a></aside>
ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে প্রাণহানির পর পাল্টা জবাবের কৌশল খুঁজছে রিয়াদ। স্থলযুদ্ধ, বিমান হামলা নাকি কূটনীতি
<p>মার্গারেট থ্যাচার—যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী সরকারপ্রধান। এক দশকের বেশি ক্ষমতায় ছিলেন। সংস্কার করেছেন, শক্ত হাতে সরকার ও দেশ সামলেছেন। যুদ্ধেও জড়িয়েছেন। দৃঢ়চেতা এ নারী পরিচিতি পেয়েছেন ‘লৌহমানবী’ নামে। আজ ১৩ অক্টোবর মার্গারেট থ্যাচারের জন্মদিন। এ উপলক্ষে আজকের আয়োজন।</p><p>যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের ভিত্তি বেশ পোক্ত। তবে বলা হয়, দেশটিতে সরকার টেকে না। পরিসংখ্যানও কিন্তু সেটাই বলে। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট গণভোট হয়েছিল। অর্থাৎ গণভোটে সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্যবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর মাত্র এক দশকে দেশটিতে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার চেয়ারে এসেছেন–গেছেন।</p><p>গত শতকে চিত্রটা ভিন্ন রকমের ছিল। সময়টা ১৯৭৯ সাল। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা মার্গারেট থ্যাচার। তিনি সরকারপ্রধানের পদে ছিলেন টানা ১১ বছর, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত; পরপর তিন মেয়াদে। যুক্তরাজ্যের ১৫০ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সরকারপ্রধান থাকার রেকর্ড থ্যাচারের দখলে।</p><p>রাজনীতির মাঠে মার্গারেট থ্যাচার এমন একটি নাম, যাঁকে সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। দেশটির রাজনীতি বরাবরই পুরুষ নিয়ন্ত্রিত। সেই ধারা ভেঙে দিয়েছেন থ্যাচার। যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তিনি। এক দশকের বেশি সময়ের দৃঢ়চেতা ও অনমনীয় শাসনের জন্য থ্যাচার ‘আয়রন লেডি’ বা ‘লৌহমানবী’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এখনো এ নামেই মানুষ তাঁকে চেনে।</p><p>মার্গারেট থ্যাচারের কঠোর নীতি যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে গভীর বিতর্ক। যদিও তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কার বদলে দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও সমাজ। কেউ থ্যাচারকে দেখেন একজন সাহসী সংস্কারক হিসেবে। কারও চোখে তিনি কঠোর ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একজন রাষ্ট্রনেতা।</p><p>থ্যাচারের সমর্থকেরা মনে করেন, তিনি যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা থেকে বের করে এনেছিলেন। সমালোচকদের মতে, তাঁর নীতিতে শিল্পাঞ্চলের বহু মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। ফকল্যান্ড দ্বীপ ঘিরে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান তিনি। সব মিলে ভীষণ চাপের মুখে শক্ত হাতে ১১ বছর দেশ চালাতে হয়েছে থ্যাচারকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/mikl21rw/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.11.31-AM.jpeg"><figcaption>মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>সরকারপ্রধান হিসেবে মার্গারেট থ্যাচারের নীতির ভিত্তি এতটাই গভীর ছিল যে তিনি বিদায় নিলেও এসব নীতির প্রভাব রয়ে যায় দীর্ঘদিন। শুরুতে বলেছিলাম, যুক্তরাজ্যে গত এক দশকে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়েছেন। তাঁদের একজন লিজ ট্রাস। তিনি ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন। কিন্তু তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থায়ী হয় মাত্র ৪৯ দিন। ট্রাস ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর পদত্যাগ করেন।</p><p>মজার বিষয় হলো, লিজ ট্রাস আশির দশকে মার্গারেট থ্যাচারের নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে স্থায়ী বলে কিছু নেই—কথাটি প্রমাণ করতেই তিনি একসময় নিজেকে থ্যাচারের আদর্শের মশালের একজন ধারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এখানেই থ্যাচারের অন্যতম সফলতা।</p><blockquote>১৯৭৯ সালের ৩ মে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন হয়। জয়ী হয় কনজারভেটিভ পার্টি। নতুন ইতিহাস লিখেন মার্গারেট থ্যাচার। পরদিন, ৪ মে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।</blockquote><h3>দোকানির মেয়ের অভাব দেখা </h3><p>মার্গারেট থ্যাচারের আসল নাম ‘মার্গারেট হিলডা রবার্টস’। জন্ম ১৯২৫ সালের ১৩ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের ছোট এক শহর গ্রান্থামে। বাবা ও মা একটি মুদিদোকান চালাতেন। দোকানের ওপরই পরিবার নিয়ে থাকতেন। ছোট মার্গারেট মাঝেমধ্যে দোকানের কাউন্টারে বাবা–মাকে সাহায্য করতেন। মার্গারেটের বড় এক বোন ছিলেন। নাম মুরিয়েল।</p><p>ওই সময়টায় যুক্তরাজ্যের গ্রাম ও শহরগুলো সবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলে উঠছে। মার্গারেট বড় হতে হতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় ভুগতে শুরু করে ইউরোপসহ বিশ্ব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৩৯ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তখন মার্গারেটের বয়স ১৪ বছর। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতে হতে তিনি ২০ বছরের তরুণী।</p><p>দু–দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলানো যুক্তরাজ্যে তখন চাকরির সংকট। চারপাশে অভাবী মানুষ অনেক। মার্গারেট শৈশবে বেশ অভাব দেখেছেন। তাঁদের ঘরে টিভি পর্যন্ত ছিল না। বাবা একটি রেডিও কিনেছিলেন। পরিবারের সবাই মিলে সেটা শুনতেন। স্কুল থেকে ফিরে ঘরে প্রথম রেডিও দেখতে পাওয়ার রোমাঞ্চকর সেই স্মৃতির কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মার্গারেট নিজেই বলেছেন।</p><p>ছোটবেলায় হেঁটে কয়েক মাইল দূরের সরকারি স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করেছেন মার্গারেট। ১৮ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। বিষয় রসায়ন। এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালোবাসতেন। ছোট থেকে রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল। বাবার কাছ থেকে রাজনীতি, দায়িত্ববোধ আর আত্মনির্ভরতার শিক্ষা পেয়েছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/fjcxi4br/Thatcher-2.avif"><figcaption>কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৩ অক্টোবর, ১৯৮৯</figcaption></figure><h3>শিক্ষাজীবনে রাজনীতির শুরু </h3><p>অক্সফোর্ডে পড়ার সময় প্রথম প্রথাগত রাজনীতিতে জড়ান মার্গারেট। তিনি ‘স্টুডেন্ট কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটা ছোট একটি নির্বাচন ছিল ঠিকই। তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন মার্গারেট। এ পরিচিতি পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাঁকে সুবিধা এনে দিয়েছিল।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পেরিয়ে মার্গারেট কেমিস্টের চাকরিতে ঢোকেন। চলে রাজনীতিও। লন্ডনের উপকণ্ঠে কেন্টের ডার্টফোর্ড শহরের সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে দুবার নির্বাচনে লড়েও জিততে পারেননি। দেশের সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন।</p><p>ডার্টফোর্ডেই ডেনিস থ্যাচারের সঙ্গে মার্গারেটের পরিচয়। এরপর বিয়ে। তখন থেকে তিনি নামের শেষে ‘থ্যাচার’ পদবি জুড়ে নেন। ১৯৫৩ সালে তাঁদের ঘর আলো করে আসে যমজ সন্তান—মার্ক ও ক্যারল। বিয়ে, সংসার ও সন্তান সামলেও লন্ডনের সিটি ল স্কুলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান থ্যাচার।</p><p>এরই মধ্যে এমপি নির্বাচন করে পার্লামেন্টে যেতে নতুন একটি এলাকা খুঁজছিলেন থ্যাচার। পেয়েও যান। অবশেষে ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলে থেকে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নির্বাচিত হন তিনি। নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে পার্লামেন্টে পা পড়ে তাঁর।</p><blockquote>স্নায়ুযুদ্ধের রাশ টানতেও থ্যাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আশির দশকের শুরুর দিকে রোনাল্ড রিগ্যানের কঠোর প্রতিরক্ষা নীতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান ঘটলে তিনি এ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/ahgv8d78g7">মার্গারেট থ্যাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা লিজ ট্রাসই এখন থ্যাচারের আদর্শের ধারক</a></aside><h3>পার্লামেন্ট, মন্ত্রিসভা, বিরোধী দলে </h3><p>এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বেশ কিছু আইন প্রণয়নে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন থ্যাচার। পার্লামেন্টে প্রবেশের ঠিক ১১ বছর পর তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন। তখন ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ। তাঁর সরকারে থ্যাচারকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়। যুক্তরাজ্যের স্কুল–কলেজের উন্নয়নে বিশেষ দায়িত্ব পান তিনি।</p><p>শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম বছরে একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল থ্যাচারকে। তিনি স্কুলমিল থেকে বয়সে বড় শিক্ষার্থীদের জন্য দুধের বরাদ্দ বাতিল করেন। বিনা মূল্যের এ সুবিধা বাতিল হওয়ায় লোকজন খেপে যায়। থ্যাচারের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। ওই সময়টায় প্রধানমন্ত্রী হিথের সরকারও গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। চার বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে সরকারের শোচনীয় পরাজয় হয়।</p><p>এবার পার্লামেন্টে বিরোধী দলের আসনে থ্যাচারের দল। ১৯৭৫ সালে কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রধানের পদে থ্যাচারকে নির্বাচিত করেন। এ ঘটনা ওই সময় যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কেননা ধস নামা জনপ্রিয়তা পেরিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। তা–ও নারী হিসেবে দেশটিতে প্রথম।</p><p>থ্যাচার বছর চারেক বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তখনকার লেবার পার্টির সরকারও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছিল। ফলে জনপ্রিয়তা হারায়। এর প্রভাব পড়ে ১৯৭৯ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/rznz3dq7/Thatcher-3.avif"><figcaption>স্বামী ডেনিস থ্যাচারের সঙ্গে মার্গারেট থ্যাচার। ১১ অক্টোবর ১৯৮৫</figcaption></figure><h3>নতুন ইতিহাস লেখা </h3><p>১৯৭৯ সালের ৩ মে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন হয়। জয়ী হয় কনজারভেটিভ পার্টি। নতুন ইতিহাস লেখেন মার্গারেট থ্যাচার। পরদিন, ৪ মে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।</p><p>আগের কয়েকজন সরকারপ্রধানের মতো থ্যাচারকেও চরম অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অনেকে চাকরি হারান। শুরুতে এ নীতি ব্যাপক সমালোচিত হয়। ব্যাপক প্রতিবাদ আর সমালোচনা হয়।</p><p>তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা গেলে মানুষের ক্ষোভ কমে আসে। অর্থনীতি নতুন উদ্যম পায়। ধীরে ধীরে থ্যাচারের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ঠিক তখনই তাঁকে যুদ্ধে জড়াতে হয়। লাতিন উপকূলের যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপে আর্জেন্টিনা সেনা অভিযান চালালে যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাজ্য। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধের শুরু। জুনের মধ্যে দ্বীপটি আবার যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে।</p><p>বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ফকল্যান্ড যুদ্ধে থ্যাচারের অভাবনীয় সাফল্য যুক্তরাজ্যের ভোটারদের মুগ্ধ করে। যুদ্ধের সময়ে দৃঢ়চেতা মনোভাব তাঁকে ‘লৌহমানবী’ নামে পরিচিত করে তোলে। থ্যাচার পরের বছরের (১৯৮৩ সাল) জুনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অনায়াসে জয় ছিনিয়ে নেন। সরকার গঠন করে কনজারভেটিভরা। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন থ্যাচার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/nt6t5tz632">নতুন বইয়ে দাবি: মার্গারেট থ্যাচারের বিবাহবহির্ভূত দুটি সম্পর্ক ছিল</a></aside><h3>ব্যর্থ হয় হত্যাচেষ্টা </h3><p>প্রধানমন্ত্রী থ্যাচারের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুটা সাবলীল ছিল না। মোকাবিলা করতে হয় শ্রমিক আন্দোলন। খনিশ্রমিকদের ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট ১৯৮৪–৮৫ সালজুড়ে চলেছিল। সেই আন্দোলন দমান থ্যাচার। তবে সৃষ্টি হওয়া তিক্ততা তাঁকে দীর্ঘদিন ভুগিয়েছিল। ওই সময়ে বিরোধী লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, থ্যাচারের সংস্কার কার্যক্রম ঠেকানো সম্ভব নয়। এমনকি সেগুলো উল্টে দেওয়াও যাবে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/x5el40if/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.11.25-AM.jpeg"><figcaption>মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>১৯৮৪ সালের অক্টোবর, তখনো শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। ব্রিংটনের একটি হোটেলে কনজারভেটিভ পার্টির বার্ষিক সম্মেলন চলছিল। ওই আয়োজনে বোমা হামলা চালিয়ে থ্যাচারসহ তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ)।</p><p>ওই হামলায় কপালগুণে বেঁচে যান থ্যাচার। তবে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী হতাহত হয়েছিলেন। থ্যাচার হোটেলের যেই কক্ষে ছিলেন, তার ঠিক পাশের কক্ষটি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।</p><blockquote>যুক্তরাজ্যে থ্যাচারের পরবর্তী সরকারগুলো বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁর নীতিগুলো ছুড়ে ফেলতে পারেনি। এমনকি টনি ব্লেয়ারের লেবার পার্টির সরকারও থ্যাচারের অনেক নীতি এগিয়ে নিয়েছিল। তাই বলা যায়, থ্যাচারের প্রভাব শুধু নিজ দল আর নিজ সরকারে সীমিত ছিল না।</blockquote><p>সরকার ও কনজারভেটিভ পার্টির অনেকেই থ্যাচারের নেতৃত্ব ও সংস্কারনীতি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন না। তাঁদেরই একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল হেসেলটাইন। ‘ওয়েস্টল্যান্ড’ নামক ব্রিটিশ হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হঠাৎ সরকার থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সংকটে পড়ে যায় থ্যাচারের সরকার। তবে ওই সংকটও সামলে নেন প্রধানমন্ত্রী।</p><p>এ ঘটনা থ্যাচারের সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দৃঢ়চেতা নেত্রীর ‘ক্লান্ত হয়ে পড়া’ এবং দীর্ঘ সময় ধরে টানা ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। থ্যাচার তাঁর দৃঢ়চেতা ভঙ্গিতে সমালোচকদের জবাব দেন—নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। অর্থনীতি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও বেশি ছিল।</p><p>তত দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন থ্যাচার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে। স্নায়ুযুদ্ধ চলার ওই সময়টায় সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন ঘোর সমালোচক হিসেবেও নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন থ্যাচার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/%E0%A6%B2%E0%A7%8C%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B8">লৌহমানবীর কেশবিলাস</a></aside><h3>তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী </h3><p>১৯৮৭ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন থ্যাচার। যুক্তরাজ্যের শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক সংস্কার করা হয়। প্রতিটিই ছিল তুমুল বিতর্কিত। তবে এ মেয়াদে সরকার আর দলের ঘনিষ্ঠজনদের বিরোধিতা সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।</p><p>যুক্তরাজ্য ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় কমিউনিটিতে (ইসি) যোগ দিয়েছিল। কিন্তু থ্যাচার ক্রমেই ইসির প্রতি সমালোচনামুখর হয়ে ওঠেন। থ্যাচার ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রুজেসে দেওয়া এক ভাষণে এমন সব কথা বলেন, সেটা তাঁর দলকে ‘ইউরোপ নিয়ে সংশয়বাদী’ মনোভাবাপন্ন হিসেবে পরিচিত করে তোলে।</p><p>স্নায়ুযুদ্ধের রাশ টানতেও থ্যাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আশির দশকের শুরুর দিকে রোনাল্ড রিগ্যানের কঠোর প্রতিরক্ষানীতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান ঘটলে তিনি এ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/qe4ng922s7">যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিটের পর এক দশকে কতজন প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিলেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/1udriyb1/Thatcher-4.jfif"><figcaption>মৃত্যুর খবরে লন্ডনে মার্গারেট থ্যাচারের ছবির সামনে ফুলেল শ্রদ্ধা। ৮ এপ্রিল ২০১৩</figcaption></figure><h3>ক্ষমতার শীর্ষ থেকে বিদায় </h3><p>পরপর তিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় থ্যাচারকে। এর বড় কারণ ছিল নিজের দলের ভেতরের বিরোধিতা।</p><p>ইউরোপীয় একত্রীকরণ নিয়ে থ্যাচারের মনোভাব রক্ষণশীলদের অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। বিশেষত স্থানীয় সরকার পরিচালনায় চালু করা ‘পোল ট্যাক্স’ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিক্ষোভও হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের নেতারা ভাবছিলেন, চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে থ্যাচার সফল হতে পারবেন না।</p><p>দলের ভেতর সমর্থন কমতে থাকায় ১৯৯০ সালের নভেম্বরে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াইয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান থ্যাচার। ১৯৯০ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জন মেজর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/m85bpiq5ta">চার বছরে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য, মানুষের আকাঙ্ক্ষা কি পূরণ করতে পারবেন বার্নহ্যাম</a></aside><h3>থ্যাচারের প্রভাব কতটা </h3><p>মার্গারেট থ্যাচারের শাসনামল মূল্যায়ন করতে গেলে, শুধু তাঁর ইতিহাস গড়ে তিন মেয়াদে ক্ষমতা আসার কথা বললে চলবে না। বরং দেখতে হবে, তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনীতি নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা বদলাতে পেরেছেন।</p><p>যুক্তরাজ্যে থ্যাচারের পরবর্তী সরকারগুলো বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁর নীতিগুলো ছুড়ে ফেলতে পারেনি। এমনকি টনি ব্লেয়ারের লেবার পার্টির সরকারও থ্যাচারের অনেক নীতি এগিয়ে নিয়েছিল। তাই বলা যায়, থ্যাচারের প্রভাব শুধু নিজ দল আর নিজ সরকারে সীমিত ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/byjbhbl2/WhatsApp-Image-2026-10-13-at-8.12.58-AM.jpeg"><figcaption>মস্কো সফরে মার্গারেট থ্যাচার</figcaption></figure><p>তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনের সুযোগ চালু করা, শিল্প খাতে কর্মসংস্থান হারানো মানুষের দুর্দশা এবং সমাজে বৈষম্যের প্রশ্ন উপেক্ষা করার বিষয়ে থ্যাচারের ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না।</p><h3>জীবনসায়াহ্নে এসে </h3><p>শেষজীবনে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। দুটি স্মৃতিকথা লিখেছেন। বিক্রিও হয়েছে বেশ। একটির নাম ‘দ্য ডাউনিং স্ট্রিট ইয়ার্স’। এটা ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। অন্যটি ‘দ্য পাথ টু পাওয়ার’। এটা প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।</p><p>যুক্তরাজ্যে ১৯৯২ সালে মার্গারেট থ্যাচারকে রাজকীয় ব্যারোনেস খেতাব দেওয়া হয়।</p><p>২০০৩ সালের জুনে স্বামী ডেনিস থ্যাচারকে হারান মার্গারেট থ্যাচার। বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে সময় কাটছিল তাঁর। বয়স হওয়ায় নানা অসুখ বেঁধেছিল শরীরে।</p><p>২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান মার্গারেট থ্যাচার। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে তাঁকে সমাহিত করা হয়। রানি এলিজাবেথসহ দেশ–বিদেশের বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন।</p><p>কঠোর রাজনৈতিক মনোভাবের পাশাপাশি নিজের অনন্য স্টাইলের জন্যও খ্যাতি ছিল মার্গারেট থ্যাচারের। বিশেষ করে চুলের স্টাইল নিয়ে। আকর্ষণীয় কেশরাজির জন্যও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন তিনি। ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভ থ্যাচারের ১৯৮৪ সালের সাক্ষাৎসূচি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ওই বছর থ্যাচার ১১৮ বার চুল ছাঁটেন। গড়ে প্রায় প্রতি তিন দিনে একবার!</p> <p><strong>তথ্যসূত্র:</strong> বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, ব্রিটানিকা, মার্গারেট থ্যাচার ফাউন্ডেশন, গভডটইউকে এবং মার্গারেট থ্যাচার সেন্টারের ওয়েবসাইট।</p><p><strong>অনিন্দ্য সাইমুম</strong>: প্রথম আলোর সহসম্পাদক</p><p>ইমেইল: emon@prothomalo.com</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/etxtqkbz5z">যুক্তরাজ্যে এই প্রথম সাবেক–বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মিলিয়ে একসঙ্গে বেঁচে আছেন ১০ জন</a></aside>
নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া অদ্ভুত একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সন্ধান পাওয়া গ্রহটি মহাবিশ্বে গ্রহ তৈরির প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজন। সহযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, স্টার্ট বাংলাদেশ হাব ও ইডিএম।
<p>গ্রামের সড়ক থেকে কিছুটা দূরে গাছটি দাঁড়িয়ে। দূর থেকে হঠাৎ বোঝা কঠিন, কী গাছ। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল—এটি চালতাগাছ।</p><p> গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে একটি মসজিদের পাশে গাছটির দেখা মেলে। গাছের দিকে এগোতে এগোতে চোখে পড়ে খাঁজকাটা সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলছে ফল; ফুল ঝরে গেছে আগেই। গাছটির বয়স কত, স্থানীয় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে দেখে অনেক বয়সী বলে মনে হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/42s15qyv/M.BazarFruit-2.jpg"><figcaption>চালতাগাছের খাঁজকাটা সবুজ পাতা। গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে</figcaption></figure><p>প্রতিবছর গাছটিতে ফুল ফোটে। ফুলের দিকে কারও তেমন চোখ নেই। আপন খেয়ালে ফোটে, পাপড়িও ঝরে যায় দ্রুত। তবে চাটনি আর টক তরকারির জন্য অনেকেই গাছ থেকে ফল পেড়ে নেন। এবারও তা-ই হয়েছে। হাতের নাগালে এখন আর ফল নেই। তারপরও গাছে ফলের পরিমাণ কম নয়। ছড়িয়ে থাকা ডালপালায় পাতার আড়ালে ঝুলছে থোকা থোকা চালতা।</p><p>দূর থেকে গাছটি ব্যাঙের ছাতার মতো, নিচ থেকে গোল হয়ে ওপরে উঠে গেছে। কাছে এলে ধীরে ধীরে রূপ মেলে ধরে। ফুল না থাকলেও পাতাগুলো চকচকে সবুজ, লাবণ্যে মাখামাখি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/kmmxhdxu/M.BazarFruit-3.jpg"><figcaption>দূর থেকে দেখা চালতাগাছের সৌন্দর্য। গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে</figcaption></figure><p>নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, দেশের অতি পরিচিত চালতার আকর্ষণ ফুলে নয়—ফলে। উপযোগবাদী দৃষ্টিতে ফুলের শোভা হারিয়ে গেছে। অথচ চালতা ফুল যেকোনো সুন্দর ফুলের সঙ্গেই তুলনীয়। গঠনে এটি ম্যাগনোলিয়ার ঘনিষ্ঠ। হয়তো এ কারণেই চালতা ফুল দেখে হঠাৎ কেউ চমকে ওঠেন, বিস্মিত হন। কেন এত দিন এই ফুলের দেখা পাননি—এ নিয়ে কারও কারও মনে হয়তো প্রশ্নও তৈরি হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/iy8kszex/M.BazarFruit-4.jpg"><figcaption>বেড়ে উঠছে চালতার চারা। গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে</figcaption></figure><p>চালতার ইংরেজি নাম ‘এলিফেন্ট অ্যাপল’। বর্ষার শুরুতে ফুল ফোটে। ফুলের সাদা রঙের পাপড়ি চোখে পড়ার মতো। ঘ্রাণ মৃদু, রঙের মতোই স্নিগ্ধ। পাপড়ি স্বল্পস্থায়ী, ফোটার পরদিনই ঝরে যায়। ফল প্রায় গোল, সবুজ ও দৃঢ়, স্বাদ টক-মিষ্টি। শরৎ-হেমন্তে ফল পাকে। চালতার চাটনি, আচার বেশ জনপ্রিয়। গাছের কাঠ শক্ত ও টেকসই, জ্বালানি ছাড়াও নৌকা ও বন্দুকের বাট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন