নিজে সফল হয়ে অন্যদেরও সাবলম্বী করার চেষ্টায় জাকিয়া
সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন গোপালগঞ্জের জাকিয়া সুলতানা রুমা।
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেছেন, “চাঁদাবাজ বলেলেই সাধারণ মানুষ বুঝে ফেলেন কোন দলের কথা বলা হচ্ছে।
পোষ্য এখন অনেক পরিবারের কাছেই কেবল প্রাণী নয়, পরিবারেরই একজন সদস্য। তার মৃত্যুতে স্বজন হারানোর মতোই শোক অনুভব করেন অনেকেই। অথচ প্রিয় পোষ্যটির মৃত্যুর পর সম্মানজনকভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উপযুক্ত ব্য...
কুমিল্লায় মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে চালিয়ে ৩৫১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের বিষয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছে।
এ প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন দায়সারা বক্তব্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোক...
লিড ৫০ পেরোলেও স্বস্তি ফিরল না বাংলাদেশ শিবিরে
দেশের ৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাধীনতার তিন বছর পর সেই হেনরি কিসিঞ্জারই বাংলাদেশ সফরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি ঢাকায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে।
<p>বাংলাদেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে তুরস্কের কচ্ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বেকো। সম্প্রতি কচ্ হোল্ডিং ও বেকোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফরে এসে সিঙ্গার বাংলাদেশের উৎপাদন কারখানা, ধারণাভিত্তিক বিক্রয়কেন্দ্র (কনসেপ্ট স্টোর) ও করপোরেট কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। </p><p>প্রতিনিধিদলে ছিলেন কচ্ হোল্ডিংয়ের কনজ্যুমার ডিউরেবলস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট পোলাট সেন; বেকো এশিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও আর্সেলিক-হিটাচির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাফর উস্টুনার এবং বেকোর প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিহাত বায়িজ। </p><p>সফররত কর্মকর্তাদের সামনে সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও এম এইচ এম ফাইরোজ। তিনি বলেন, সিঙ্গার বাংলাদেশ উৎপাদন, ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মীদের কর্মপরিবেশ—এই তিন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।</p>
<p> জুন মাসের ২৬ তারিখ। শনিবার।</p><p> আকাশ সকাল থেকে মেঘলা। মনে হচ্ছে শহরের ওপর কেউ ভেজা, ভারী কম্বল চাপিয়ে দিয়েছে। বাতাসে গুমোট ভাব। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আচমকা শুরু হয়েছে বৃষ্টি—আকাশভাঙা একটানা, বিরামহীন বৃষ্টি।</p><p> আমরা হাহা হিহি করছি। সবাই একসাথে কথা বলছি। কে কার কথা শুনছে বা আদৌ শুনছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের ফ্যামিলি গেট-টুগেদার হচ্ছে। বিশাল কিছু নয়, হালকা ধরনের আয়োজন। এ রকম আয়োজন আমাদের ফ্যামিলিতে প্রায় প্রতিবছরই হয়। কোনো এক উপলক্ষ জুটিয়ে নিয়ে আমরা ফ্যামিলির সবাই একসাথে হয়ে যাই।</p><p> জারা এক পিস কেক এনে আমাকে দিয়েছে। বললাম, ‘কেক খেতে চাইছি না রে। ক্রিম অ্যাভয়েড করতে চাইছি।’</p><p> জারা বলল, ‘তুমি পুরোপুরি পারফেকশনিস্ট। এত মাপজোখ করে লাইফ লিড করা যায়!’</p><p> জারা আমার চাচাতো বোন। আমি হাসলাম। হেসে বললাম, ‘আমার প্রফেশন আমাকে এভাবেই শেপ-আপ করে ফেলেছে। সব সময় মানুষের জন্য মিথ্যা স্বপ্ন লিখি, এই ফোনটা কিনলেই জীবন বদলে যাবে, এই কফি খেলেই সকালটা সুন্দর হবে। এই সব মিথ্যা এত নিখুঁতভাবে বলতে হয়, যেন মানুষ সত্য বলে বিশ্বাস করে।’</p><p> জারা হাসছে। আমি এক বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটারের কাজ করি। আমার কাজের ধরনই এ রকম। জারা হাসতে হাসতে বলল, ‘তোমাকে দেখে মনে হয় তুমি আগে থেকেই সবকিছু প্ল্যান করে রেখেছ। কী খাবে, কী পরবে, কোথায় যাবে—সব। তুমি ঠিক বাস্তবের মানুষ নও, কোনো এক উপন্যাসের চরিত্র।’</p><p>আমিও হেসে ফেলেছি। বললাম, ‘দে, তোর এত চমৎকার কমপ্লিমেন্টের পরে কেক না খেলে অন্যায় হবে।’</p><p>সবাই হাসছে। আমার আরেক চাচাতো বোন তিতলি বলল, ‘জারা তোমাকে ডোবাল নাকি ভাসাল! জারা বলল বলেই কমপ্লিমেন্ট হিসেবে নিয়ে নিলে!’</p><p>কেকে কামড় দিয়ে হাসতে হাসতে বললাম, ‘এই কথাটাই তুই বললে আমি ইনসাল্ট হিসেবে নিতাম।’</p><p>আমার সাথে সাথে সবাই হো হো করে হেসে উঠেছে। কেবল তিতলি হাসেনি। অমনি তার গাল ফুলে গেছে। তিতলির দিকে আমার আধা খাওয়া কেক এগিয়ে দিয়ে বললাম, ‘স্যরি, মাইন্ড করিস না। এই কেকটুকু খেয়ে নে। আমার ভালোবাসা তোকে দিচ্ছি। আর কাউকে দেব না।’</p><p>তিতলি কিছু না বলে উঠে চলে গেল।</p><p>রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।</p><p>রাইসা কোনো কথা বলছে না। আমি কয়েকবার কথা শুরু করতে গিয়েও থেমে গেলাম। বৃষ্টির রাত আমাকে টেনে ডিফারেন্ট মুডে নিয়ে গেছে। ভাব উদয় হয়েছে মনে। মনে হলো, রাইসা তার মতো করে চুপচাপ আছে, থাক। এমন কিছু নীরবতা আছে, যেগুলো ভাঙতে গেলে আরও গভীর কোনো নীরবতা তৈরি হয়।</p><p>বাসায় পৌঁছানোর পর ফ্রিজ খুলে বিয়ারের ক্যান বের করলাম। রাইসা তখনো গা থেকে রেইনকোট খোলেনি। সে বারান্দার কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।</p><blockquote>রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।</blockquote><p>বললাম, ‘রেইনকোটটা খুলে ফেলো।’</p><p>রাইসা আমার কথা শুনতে পেয়েছে কি না, বুঝতে পারলাম না। সে ঘুরল না। যেমন দাঁড়িয়ে ছিল, সে রকমই স্থির হয়ে থাকল। তাকে নিশ্চল মূর্তির মতো দেখাচ্ছে।</p><p>খানিক বাদে বলল, ‘তোমার কখনো মনে হয়েছে অভীক, আমরা একে অপরকে বুঝতে পারি কি না!’</p><p>থমকে গেলাম। রাইসার কী হয়েছে জানি না। এক ঢোঁক বিয়ার গলায় ঢেলে গিলে ফেললাম। শান্ত চোখে বললাম, ‘তুমি কী বলছ, মানে কী মিন করছ, আমি ফলো করতে পারিনি।’</p><p>রাইসা বলল, ‘মানে...আমরা একে অন্যের যতটা কাছে থাকি, ততটা কাছে কি সত্যিই পৌঁছাতে পারি?’</p><p>আমি তার এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। ঠিক তখনই ঘরের কোণে রাখা পুরোনো রেকর্ড প্লেয়ারটা ক্যাঁচক্যাঁচ করে উঠেছে। এটা আমার বিলাসী শখ বলা যায়। বহু পুরোনো এক গ্রামোফোন বাঁচিয়ে রেখেছি। বাসায় এসে ফ্রিজ থেকে বিয়ারের ক্যান বের করার আগে গ্রামোফোনে বব ডিলানের গাওয়া অনেক আগের একটা গানের রেকর্ড বসিয়েছিলাম। পিন আটকে ছিল। এখন সেটা চলতে শুরু করেছে। বব ডিলানের গান বাজছে রেকর্ডে, ‘লুক আউট ইয়োর উইন্ডো, অ্যান্ড আইল বি গন/ ইউ আর দ্য রিজন আই অ্যাম ট্রাভেলিন অন/ ডোন্ট থিঙ্ক টুইস, ইটস অলরাইট।’</p><p>রাইসা অবসন্ন গলায় বলল, ‘আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’</p><p>সত্যি কথা হচ্ছে চমকে উঠেছি। থেমে বললাম, ‘কার কথা?’</p><p>রাইসা এবার ঘুরে তাকিয়েছে। তার চোখে অদ্ভুত ক্লান্তি। গায়ের রেইনকোট খুলতে খুলতে বলল, ‘আরিয়ান।’</p><p>এই নাম আমার কাছে একদম অপরিচিত। আমি চুপ করে আছি। রাইসা রেইনকোট বাথরুমের হুকে ঝুলিয়ে রেখে এসেছে। ধীর পায়ে এসে শরীর ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসল। যেন কোন অতল থেকে কথা বলছে এমন গলায় বলল, ‘আমাদের বাড়ির ওখানে এক ছেলে ছিল। খুব সাধারণ। তোমার মতো চাকরি, টাকা, লাইফস্টাইল কিছুই ছিল না তার। একটা পুরোনো গিটার ছিল। সেটাই ছিল তার পৃথিবী।’</p><p>আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’</p><p>রাইসা হাসল। শুকনো ম্লান হাসি। নিচের ঠোঁট মুখের ভেতর নিয়ে আবার আলগা করে দিয়ে বলল, ‘আমরা যখন ঢাকায় চলে আসি, তার আগের রাতেও প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। এমন ভয়ংকর বৃষ্টি...রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছিল না। রিকশার চাকা পানিতে ডুবে যাচ্ছিল।’</p><p>রাইসা চুপ করে আছে। আমি উঠে গিয়ে ফ্রিজ থেকে আরেক ক্যান ঠান্ডা বিয়ার নিয়ে এলাম। হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল নাড়িয়ে রাইসা বলল, ‘সেই রাতে আরিয়ান আমাদের বাড়ির সামনে এসেছিল। সেই ঝুম বৃষ্টির ভেতর।’</p><p>বিয়ারের ক্যান খুলে চুমুক দিয়েছি। কিছু বললাম না। রাইসা বলল, ‘আরিয়ান বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছিল। থিরথির করে কাঁপছিল। হাতে ছোট কাগজের খাম। জানালার নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচিয়ে আরিয়ান সেই খাম আমাকে দিয়েছিল।’</p><p>স্থির গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ‘খামের ভেতর কী ছিল?’</p><p>রাইসা আমার দিকে তাকাল। তাকে কেমন অদ্ভুত উদ্ভ্রান্তের মতো লাগছে। অতিপ্রাকৃত। যেন সে এখানে নেই। বাতাসে ভেসে আছে। ভেসে চলে যাবে। খাদে পড়ে যাওয়া গলায় রাইসা বলল, ‘ছোট্ট এক নুড়িপাথর!’</p><blockquote>আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’</blockquote><p>বিস্মিত হয়ে গেছি। আমার হাতে বিয়ারের ক্যান। চুমুক দিতে ভুলে গেছি। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলাম। রাইসা খুব আস্তে বলল, ‘লেকের পাড় থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। বলেছিল, তুমি চলে গেলে এটা রেখে দিয়ো। আমার দেওয়া কিছু তাহলে তোমার কাছে থাকবে।’</p><p>এতক্ষণে বৃষ্টি কমে যাওয়ার কথা। বৃষ্টির তোড় আরও বেড়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি। তবু মনে হচ্ছে কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। নিস্তব্ধ হয়ে আছে পুরো ঘর। বব ডিলানের গান শেষ হয়ে রেকর্ড আটকে আছে। রাইসা বলল, ‘আরিয়ানকে চলে যেতে বলেছিলাম।’</p><p>আবার সব চুপচাপ। রাইসা বলল, ‘বলেছিলাম এসব পাগলামি বন্ধ করতে।’</p><p>কেন জানি না, অমনি আমার বুকের খুব ভেতরে হিম ঠান্ডা অনুভব করলাম। ধীর গলায় বললাম, ‘তারপর?’</p><p>রাইসা ভেঙে পড়া ধ্বংসস্তূপের মতো শরীর সোফা থেকে টেনে তুলে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বাইরে উথালপাতাল বৃষ্টি। এই বৃষ্টি আজ পুরো শহর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। বিষণ্ন গলায় রাইসা বলল, ‘তিন মাস পর আরিয়ান টাইফয়েডে মারা গেল।’</p><p>আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’</p><p>এত দিন ভেবেছিলাম, রাইসাকে আমি খুব ভালো চিনি। আমার কনফিডেন্ট প্রবল—সহজেই মানুষ চিনতে পারি। সাধারণ চেনা নয়, আড়ালে থাকা গভীরের মানুষ।</p><p>আমরা একসঙ্গে আছি। একই বিছানায় ঘুমাচ্ছি। এক টেবিলে খাচ্ছি। ছুটির দিনে একসঙ্গে থিয়েটার দেখি। কে কোন খাবার পছন্দ করি, কোন গান শুনলে রাইসার মন ভালো হয়—সব, সব জানি। তবু এই প্রথম বুঝলাম, একজন মানুষের পাশে থাকা আর একজন মানুষের ভেতরে পৌঁছানো এক ব্যাপার নয়।</p><p>রাইসার ভেতরে একদম তার নিজের এক ঘর আছে, সেই ঘরে আমি কোনো দিন ঢুকিনি। সেই ঘরে কোনো দামি আসবাব নেই। ওয়াইন, করপোরেট লাইফ কিংবা আমার ওভার কনফিডেন্ট— কিচ্ছু নেই। শুধু আছে গিটার হাতে একুশ বছরের একজন ছেলে। ঝিম রাত্তিরে আকাশ থেকে মুষলধারে নেমে আসা বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে ছোট্ট নুড়িপাথর।</p><p>নিজের দিকে তাকালাম। আমার এত দিনের নিখুঁত জীবনটা কেমন যেন হাস্যকর মনে হলো। যা কিছুকে জীবন ভেবেছি—করপোরেট চাকরি, টাকা, শহর, ফ্ল্যাট, ক্লাব, সোসাইটি, পরিচিতি—সবকিছু যেন খুব পলকা দেয়াল। হালকা ধাক্কায় ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে যাবে। দেয়ালের ওপাশে অন্য এক পৃথিবী। যেখানে আমার কোনো প্রবেশাধিকার নেই।</p><p>রাইসা তখনো জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টির বেগ কমে আসছে। বাতাস ছেড়েছে। শীতল বাতাস। রাইসার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আলতো করে পিঠের ওপর হাত রেখেছি। কিছু বললাম না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টাও করিনি।</p><p>অনেকক্ষণ পর রাইসা আমার হাত ধরল। খুব নরমভাবে। তার হাত শক্ত করে ধরলাম। তবু জানি না কেন, মনে হলো আমি যেন তার হাত নয়—রাইসার বহু বছর আগের কোনো অসমাপ্ত ঘনঘোর বৃষ্টির এক রাত ধরে আছি।</p><p>কাচের ওপাশে বৃষ্টি থেমে আসছে। স্ট্রিটলাইটে দেখলাম ঢাকার রাস্তা পানিতে ভাসছে। নিয়ন আলো পানির ওপর কেঁপে যাচ্ছে। সুনসান রাত। কোথাও কেউ নেই। আবছা আলোঢাকা ঘরে স্ত্রীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকে চিনব বলে।</p><blockquote>আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’</blockquote><p>রাতে ঘুম এল না। রাইসা ঘুমিয়ে পড়েছে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি ছেড়ে গেছে। অদ্ভুতভাবে আমার মনে হলো, যদি আরিয়ান সত্যিই কোথাও থেকে আমাদের দেখতে পায়, তাহলে হয়তো সে প্রশান্তি নিয়ে হাসছে। সে কাউকে হারায়নি। হারিয়ে ফেলেছি আমি অথবা আমরা। ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ ব্যাপারটাই হারিয়ে ফেলেছি—কারও কাছে পুরোপুরি পৌঁছানোর ক্ষমতা।</p><p>জানি না সেই নুড়িপাথরটা এখন কোথায়। হয়তো রাইসার কাছে আছে। না রেখে ফেলেও দিতে পারে। তবে এটাও ঠিক, কিছু জিনিস হারিয়ে গেলেও হারায় না। থেকে যায়। গন্ধ হয়ে।</p><p>গান হয়ে। বর্ষার নিকষ কালো রাত হয়ে। অথবা বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকা একুশ বছরের একজন ছেলের মুখ হয়ে।</p><p>ভোর হয়ে এসেছে। ঘুম আসেনি। ভোরের আলোয় জানালার কাচে নিজের মুখ দেখলাম। নিজেকে খুব অচেনা লাগছে। জীবনে প্রথমবার মনে হলো, মানুষ আদতে বলেকয়ে যতটা বাঁচে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু না-বলা ভালোবাসার ভেতর বেঁচে থাকে। আর কিছু মানুষ চলে যায়। তবু তাদের রেখে যাওয়া ছোট্ট এক নুড়িপাথর কখনো কখনো সারা জীবন বুকের ভেতর বৃষ্টি হয়ে থেকে যায়।</p>
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা, ছড়া, গানসহ বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের সংকলন ‘সুকান্ত সমগ্র’। মাত্র ২১ বছরের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর লেখায় ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ, বৈষম্য ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
<p>মেয়েটার নাম কী বললেন?</p><p>পুলিশ অফিসার ভ্রু কুঁচকে বদরুলের দিকে তাকায়।</p><p>—নাসরীন আখতার।</p><p>—কী করে?</p><p>—স্থপতি।</p><p>—বাড়িঘর বানায়?</p><p>—না না, বাড়িঘরের নকশা করে। আর্কিটেক্ট।</p><p>—ওই হলো।</p><p>পুলিশ অফিসার চেয়ার থেকে উঠে বাসার ভেতরের লম্বা প্যাসেজটায় এসে দাঁড়ায়। ‘ডিটেকটিভ বলেছে, এই প্যাসেজ দিয়ে টেনে মেয়েটাকে ধরে নিয়ে গেছে?’</p><p>—জি।</p><p>—সে কেমনে বুঝল?</p><p>—তা জানি না। উনি বললেন, নাসরীনকে আঘাত করে অজ্ঞান করে তারপর এই প্যাসেজ দিয়ে টেনে বাইরে নিয়ে গেছে।</p><p>—ডিটেকটিভ এত কিছু বুঝল কীভাবে? সে কি পুলিশের চেয়ে বেশি বোঝে?</p><p>—জি মানে...।</p><p>—ওই ফালতু প্রাইভেট ডিটেকটিভকে ডেকেছেন, তাহলে আবার আমাদের ডেকেছেন কেন?</p><p>—না, মানে, মামা বললেন...।</p><p>—ও, কমিশনার স্যার তো আবার আপনাদের মামা...</p><p>পুলিশ অফিসার গলায় একটা অবজ্ঞার আওয়াজ করল। বোঝাই যাচ্ছে, সে কেসটা খুব বিরক্তিসহকারে গ্রহণ করেছে। একবারে না থাকতে পেরে বদরুলদের বাসায় এসেছে। ঝামেলাটা থানায়ই সেরে ফেলতে পারত। হঠাৎ কমিশনার সাহেবের ফোন আসায় একটু নড়েচড়ে বসে এখানে আসতে হলো; ওই শালা ফোপর দালাল প্রাইভেট ডিটেকটিভকে একটু টাইট দিতে হবে। মনে মনে ঠিক করে ফেললেন ওসি সাহেব।</p><p>—ওই ডিটেকটিভের নাম কী?</p><p>—কাইজার পাশা।</p><p>—খ্রিষ্টান নাকি? এই রকম নাম!</p><p>—জি না।</p><p>—ফোন নম্বর আছে?</p><p>—আছে।</p><p>—নামটা আর ফোনটা লেইখা দেন।</p><p>—এই যে ওনার একটা কার্ড।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/hoitszkwpv">সন্দেশ</a></aside><blockquote>পুলিশ অফিসার গলায় একটা অবজ্ঞার আওয়াজ করল। বোঝাই যাচ্ছে, সে কেসটা খুব বিরক্তিসহকারে গ্রহণ করেছে। একবারে না থাকতে পেরে বদরুলদের বাসায় এসেছে।</blockquote><p>কার্ডটা অবহেলায় একনজর দেখে পকেটে ঢোকাল। বিড়বিড় করে বলল, ‘আবার কার্ডও বানাইছে!’ কেশে গলা পরিষ্কার করে বলল:</p><p>—সিসি ক্যামেরা চেক করছেন?</p><p>—জি, আমাদের বাসায় চারটা সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, সব কটির মেমোরি চেক করেছি। কিন্তু নাসরীনকে যেভাবে নিয়েছে...এমনভাবে নিয়েছে যেন কোনো সিসি ক্যামেরায় তাকে দেখা না যায়, আসামিদেরও দেখা না যায়।</p><p>—ওই দিনের সিসি ক্যামেরার পুরো রেকর্ডটার একটা কপি দেন। এই মজিদ।</p><p>কনস্টেবল মজিদ ছুটে এল, ‘স্যার।’</p><p>—পেনড্রাইভে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুরাটা নাও।</p><p>—স্যার, আগেই নিছি। দেখছি কিছু নাই, ফকফকা...</p><p>—সেটা থানায় গিয়ে বুঝব।</p><p>ওসি সাহেব খুব বিরক্তি নিয়ে বাসার লোকজনকে তৃতীয় দফায় নানা রকম প্রশ্ন করলেন। কিছু নোট করলেন, কিছু শুনেও না শোনার ভান করলেন। বোঝা গেল, ব্যাপারটায় তার একটা কেমন গা ছাড়া ভাব। যেন এটা কোনো ব্যাপার নয়। ঢাকা শহরে মেয়েরা কিডন্যাপ হতেই পারে। এখানে এত মাথা গরম করার কী আছে? একটু বাদেই জিপে চড়ে দুজন কনস্টেবলকে নিয়ে তিনি চলে গেলেন। যাওয়ার সময় বলে গেলেন কাল–পরশু থানায় দেখা করতে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/xbvldhm307">নেতা</a></aside><blockquote>ওসি সাহেব বিরক্তি নিয়ে বাসার লোকজনকে তৃতীয় দফায় নানা রকম প্রশ্ন করলেন। কিছু নোট করলেন, কিছু শুনেও না শোনার ভান করলেন। বোঝা গেল, ব্যাপারটায় তার একটা কেমন গা ছাড়া ভাব।</blockquote><p>প্রাইভেট ডিটেকটিভ কাইজার খান। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার টেবিলের ওপর চওড়া মনিটরটার দিকে। এই নিয়ে ছত্রিশবার নাসরীনদের বাসার সিসিটিভি ফুটেজের রেকর্ড দেখলেন তিনি। কিচ্ছু নেই। তবে তিন নম্বর ক্যামেরাটায় আবছামতো কিছু দেখা যাচ্ছে। চারটা ক্যামেরার মধ্যে তিনটা ক্যামেরাই ঘরের ভেতরে; একটা শুধু বাইরের বাগানে। গাছপালার মধ্যে। হঠাৎই চিন্তাটা এল কাইজারের মাথায়। ভ্রু কুঁচকে গেল তার। দরজায় একটা ছায়া পড়ল। তাকিয়ে দেখে মানিক দাঁড়িয়ে আছে, তার ছেলেবেলার বন্ধু। কাইজার বিড়বিড় করে বলল:</p><p>—পিএএক্স-সিক্স (pax6)।</p><p>—এটা কী? সামনের খালি চেয়াটায় বসতে বসতে বলল মানিক।</p><p>—এটা হচ্ছে সেই জিন, যেটার জন্য মানুষ দেখতে পায়।</p><p>—ও তাই, তাতে আমার কী?</p><p>—এই জিন গাছেরও আছে, সেম জিন—পিএএক্স-সিক্স (pax6)।</p><p>—তাই নাকি? তাতেই–বা আমার কী যায়–আসে?</p><p>—না, তোর কিছু যায়–আসে না। তবে গাছও কিন্তু এই কারণে দেখতে পায়।</p><p>—বুঝলাম, কিন্তু আমি তোর কাছে বোটানির বক্তৃতা শুনতে আসিনি।</p><p>—আমি বক্তৃতা দিচ্ছি না, তোকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন জানালাম। জাংক ফুড খেয়ে খেয়ে আমরা যেমন শরীরটাকে নষ্ট করছি... সে রকম জাংক ইনফরমেশন মাথায় নিয়ে নিয়ে ব্রেনটাকেও নষ্ট করছি। কিন্তু এই ইনফরমেশনটা জেনুইন, এটা জানা জরুরি, হঠাৎ মনে পড়ল।</p><p>তীক্ষ্ণ চোখে তিন নম্বর মনিটরটার দিকে তাকিয়ে আছে কাইজার। সেই আবছা ছবিটা মাঝেমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে আবার নাই হয়ে যাচ্ছে...যেন কোনো সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করছে। হঠাৎ মানিকের দিকে তাকাল, ‘কফি খাবি?’</p><p>—সে জন্যই তো আসা। তোর এখানে এই কফি ছাড়া আছেটা কী?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/hdss9hwack">উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী</a></aside><blockquote>জাংক ফুড খেয়ে খেয়ে আমরা যেমন শরীরটাকে নষ্ট করছি... সে রকম জাংক ইনফরমেশন মাথায় নিয়ে নিয়ে ব্রেনটাকেও নষ্ট করছি। কিন্তু এই ইনফরমেশনটা জেনুইন, এটা জানা জরুরি, হঠাৎ মনে পড়ল।</blockquote><p>কাইজার উঠে গিয়ে দ্রুত হাতে দুই কাপ কফি বানাল। তার মাথায় দ্রুত চিন্তা চলছে। কফিতে চুমুক দিয়ে মানিকের দিকে তাকাল কাইজার।</p><p>—তোদের বাসার ছাদে একটা ছাদবাগান আছে না?</p><p>—আছে তো, আমার মায়ের শখের বাগান। এখন গিয়ে দেখিস কী অবস্থা করেছে মালি।</p><p>—মানে? কী করেছে?</p><p>—সব গাছ কেটে একদম ন্যাড়া করে দিয়েছে...এতে নাকি গাছ দ্রুত বাড়বে...।</p><p>‘সব গাছকে অন্ধ করে দিয়েছে...’ ঘোরের মধ্যে থেকে যেন কথাটা বলল কাইজার, তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। </p><p>—মানে, কী বলছিস?</p><p>—তোদের মালি সব গাছ ছেঁটে দিয়ে অন্ধ করে দিয়েছে, গাছ এখন দেখার জন্য...তার চোখ ফিরে পাওয়ার জন্য দ্রুত বাড়তে থাকবে। এটাই গাছের নিয়ম।</p><p>—কী সব আগডুম–বাগডুম বলছিস তুই। কফি শেষ করে সিগারেট ধরাল মানিক, ‘শোন, আমি একটু ঘুমাব তোর ঘরে। ঠিক তিনটার সময় ডেকে দিবি।’</p><p>—ঠিক আছে। যা...</p><p>ওসি একরামুল্লাহ। বদরুলদের বাসায় আবার এসেছেন। খুবই বিরক্তি নিয়ে বদরুলদের ড্রয়িংরুমে বসে আছেন। সঙ্গে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের দুজন কনস্টেবল নিয়ে এসেছেন। কেন এনেছেন, ওসি একরামুল্লাহ নিজেও ঠিক মনে করতে পারছেন না। খুনখারাবির কিছু তো নেই এখানে। কনস্টেবল দুজন বাইরের বাগান তছনছ করে ফেলছে। বদরুল শুকনা মুখে ওসি সাহেবের সামনে বসে আছে। </p><p>—নাসরীন আপনার কে হয়?</p><p>—ছোট বোন।</p><p>—হুম। আপনার স্ত্রীর বয়স কত?</p><p>—ত্রিশ।</p><p>—আপনার বোন আর আপনার স্ত্রী তো একই বয়সী? ওনাদের মধ্যে মিলমিশ আছে তো?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/oom91r0w22">মৃত গ্রহ</a></aside><blockquote>খুবই বিরক্তি নিয়ে বদরুলদের ড্রয়িংরুমে বসে আছেন। সঙ্গে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের দুজন কনস্টেবল নিয়ে এসেছেন। কেন এনেছেন, ওসি একরামুল্লাহ নিজেও ঠিক মনে করতে পারছেন না।</blockquote><p>বদরুল কী বলবে বুঝতে পারছে না। এই লোকটা উল্টোপাল্টা কথা বলতে শুরু করেছে। এ–জাতীয় প্রশ্ন সে আগেও অনেকবার করেছে।</p><p>—হ্যাঁ, তারা দুজন বান্ধবীর মতো।</p><p>—হুম। চায়ে চুমুক দিল ওসি সাহেব।</p><p> —আচ্ছা, ওই ডিটেকটিভের খবর কী? খাইবার পাস না কী যেন নাম?</p><p>—খাইবার পাস না, কাইজার। কাইজার পাশা।</p><p> —ওই হলো, সে কেসের কোনো কিনারা করতে পারছে?</p><p>—না, উনি তো এখনো কিছু বলেননি।</p><p>—হু...হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল। ওসি একরামুল্লাহ সিগারেট ধরিয়ে একমুখ ধোঁয়া ছাড়েন। ‘ওই টিকটিকিকে বলবেন আমাকে যেন ফোন দেয়।’</p><p>—আপনাকে তো ওনার কার্ড দিয়েছি।</p><p>—আরে, আমার এত সময় কোথায়? তা ছাড়া ওই লোকটাকে এর মধ্যে ঢুকিয়েই তো সর্বনাশটা করছেন, নইলে এই কেস আরও আগেই...।</p><p>এই সময় ওসি সাহেবের ওয়াকিটকি বেজে উঠল। ওসি একরামুল্লাহ মোটামুটি লাফিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।</p><p>—স্যার স্যার...আমি স্যার স্পটেই আছি...আপনার আত্মীয় বদরুল সাহেবের বাসায়, জি জি...ওরা ইনভেস্টিগেশন করছে...জি স্যার। চিন্তা করবেন না...খুব শিগগির...জি জি...।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/v64ehj8r61">ক্রাইম অন মার্স</a></aside><blockquote>হু...হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল। ওসি একরামুল্লাহ সিগারেট ধরিয়ে একমুখ ধোঁয়া ছাড়েন। ‘ওই টিকটিকিকে বলবেন আমাকে যেন ফোন দেয়।’</blockquote><p>ওয়াকি–টকি অফ করে ধপ করে বসে পড়লেন ওসি একরামুল্লাহ। বিরক্তি নিয়ে তাকালেন বদরুলের দিকে।</p><p>—আপনার মামা ফোন করছিলেন।</p><p>—বুঝতে পারছি।</p><p>—আপনার কেমন মামা?</p><p>—আমার মায়ের কাজিন।</p><p>—ফার্স্ট কাজিন না তাহলে?</p><p>—না।</p><p>—দূরের সম্পর্ক।</p><p>এ সময় ফরেনসিকের কনস্টেবল দুজন ঢুকল।</p><p>—কিছু পাইছ?</p><p>—নাহ্...খালি গাছ আর গাছ, এত গাছের মধ্যে কিছু আইডেন্টিফাই করা...</p><p>কনস্টেবল দুজন হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে।</p><p>—এত গাছের বাগান কে করছে?</p><p>—আমার বোন নাসরীন।</p><p>—হুম, চলো যাই...</p><p>তারা জিপে উঠে চলে গেল। কালো ধোঁয়া ছেড়ে ‘পুলিশ’ লেখা জিপ উধাও হয়ে গেল।</p><p>ঠিক তিনটার সময় মানিককে ডেকে তোলার কথা। কাইজার আড়াইটার সময় মানিককে ঘুম থেকে ডেকে তুলল।</p><p>—কী হলো, এত আগে ডাকলি কেন? চোখ রগড়াতে রগড়াতে উঠে বসল মানিক।</p><p>—জলদি ওঠ। তোর গাড়ি এনেছিস?</p><p>—হু।</p><p>—জলদি ওঠ।</p><p>—কেন, কী হয়েছে?</p><p>—ওই মেয়েটার খোঁজ পেয়েছি।</p><p>—কোন মেয়েটা?</p><p>—আর্কিটেক্ট নাসরীন আখতার...।</p><p>মানিকের ১৫০ সিসির টয়োটা এক্সিওটা মগবাজারের কাছে বড় বাজারের ভেতর দুবার মোড় নিয়ে একটা গলির ভেতর ঢুকে গেল। দোতলা একটা লাল বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।</p><p>—দেখ, এই ছবিটার সাথে এই বাড়িটা মেলে না?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/rg1ouxo5ab">নীল রঙের সেই বোতল</a></aside><blockquote>মানিকের ১৫০ সিসির টয়োটা এক্সিওটা মগবাজারের কাছে বড় বাজারের ভেতর দুবার মোড় নিয়ে একটা গলির ভেতর ঢুকে গেল। দোতলা একটা লাল বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।</blockquote><p>মানিক তাকিয়ে দেখে, কাইজারের আইফোনের চওড়া স্ক্রিনে আবছা একটা লাল বাড়ির আবছামতো ছবি। ওপরে ক্যামেরা থ্রি লেখাটা টিকটিক করছে।</p><p>—হ্যাঁ, মিল আছে; কিন্তু তুই শিওর, এই বাসা?</p><p>—বাড়ির সামনে একটা গাছ খেয়াল করেছিস?</p><p>—এটা খেয়াল করার কী আছে? সব বাড়ির সামনেই গাছ আছে।</p><p>—এই কেসে এই গাছের বড় ভূমিকা আছে।</p><p>—তখন থেকে গাছ গাছ করছিস, কেসটা কী? এই বাড়ি, তুই শিওর?</p><p>—ওভার শিওর। কাইজার তার লাইসেন্স করা থার্টি টু ক্যালিবারের পিস্তলটা প্যান্টের পেছন থেকে হাতে নিল। হয়তো দরকার পড়বে না। তারপরও...সাবধানের মার নেই।</p><p>দোতলার কোনার ঘরটায় হাত–পা–মুখ বাঁধা অবস্থায় নাসরীন আখতারকে পাওয়া গেল। ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে নাসরীন কাইজারের দিকে। মুখের পট্টিটা খুলতেই ফ্যাসফেসে গলায় বলল, ‘আপনি কে?’</p><p>—ভয় নেই, আপনাকে উদ্ধার করতেই এসেছি। আমি কাইজার, একজন ডিটেকটিভ বলতে পারেন।</p><p>—ওরা কোথায়?</p><p>—পুরো বাড়িই খালি। শুধু গেটের দারোয়ানকে অজ্ঞান করে আপনার কাছে এলাম, সহজেই পাওয়া গেছে আপনাকে। চলুন।</p><p>‘আ–আমি হাঁটতে পারব না’ বলেই কাত হয়ে ঢলে পড়ল কাইজারের ওপর। চট করে ধরে না ফেললে বিপদ হতো। মানিককে সঙ্গে আনা দরকার ছিল মনে হচ্ছে। প্রায় অজ্ঞান নাসরীনকে পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল। মেয়েটার গায়ে মিষ্টি একটা মেয়েলি গন্ধ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/sagzifd04s">০৪.০৪.৩০০৪</a></aside><blockquote>দোতলার কোনার ঘরটায় হাত–পা–মুখ বাঁধা অবস্থায় নাসরীন আখতারকে পাওয়া গেল। ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে নাসরীন কাইজারের দিকে। মুখের পট্টিটা খুলতেই ফ্যাসফেসে গলায় বলল, ‘আপনি কে?’</blockquote><p>ঘাড়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে বাড়ি দিয়ে অজ্ঞান করা দারোয়ানটা তখনো সিঁড়িঘরে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। কাইজার নাসরীনকে পাঁজাকোলা করে ধরেই কোনোমতে বাইরে থেকে দরজাটা লক করে দিল।</p><p>—এই লোকটা কে? নাসরীনের প্রশ্নে বোঝা গেল, জ্ঞান এখনো আছে। ভয় বা ভরসার চোখে দেখছে যেন কাইজারকে।</p><p>—এ বাড়ির দারোয়ান মনে হয়।</p><p>—ও কি মারা গেছে?</p><p>—না। হেসে ফেলল কাইজার। ওকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে অজ্ঞান করতে হয়েছে।</p><p>নাসরীন ভয় মাখানো চোখে কাইজারের থার্টি টু ক্যালিবারের পিস্তলটার দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা এই মুহূর্তে প্রায় তার মুখের কাছে উঁচিয়ে আছে।</p><p>কাইজারের সঙ্গে নাসরীনকে ঢুকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল ওসি একরামুল্লাহ আর বদরুল। বদরুল লাফিয়ে উঠে বোনকে জড়িয়ে ধরল।</p><p>—ও–ওনাকে কো-কোথায় পেয়েছেন? ওসি একরামুল্লাহ তোতলাতে শুরু করেছেন। সকাল থেকে এখানে বসে আছেন; কারণ, কমিশনার সাহেব আসবেন আজ।</p><p>—আপনি তো ওসি একরামুল্লাহ? এই কেসের</p><p>দায়িত্বে আছেন?</p><p>—জি জি। ওনাকে কীভাবে পেলেন?</p><p>—এসব পরে। এই যে এই ঠিকানায়। দ্রুত ফোর্স নিয়ে যান। একটা দারোয়ানকে আটকে রেখে এসেছি। ওকে ধরলে সব বেরোবে...ওই বাড়িতেই ওনাকে পেয়েছি। জলদি যান।</p><p>ওসি একরামুল্লাহ কী করবেন বুঝতে পারছেন না। এদিক-ওদিক তাকালেন, তারপর ছুটে বেরিয়ে গেলেন ঠিকানা লেখা কাগজটা নিয়ে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/3l7r1kr9jt">উড়োহুমকি</a></aside><blockquote>এসব পরে। এই যে এই ঠিকানায়। দ্রুত ফোর্স নিয়ে যান। একটা দারোয়ানকে আটকে রেখে এসেছি। ওকে ধরলে সব বেরোবে...ওই বাড়িতেই ওনাকে পেয়েছি। জলদি যান।</blockquote><p>সপ্তাহখানেক পর। আর্কিটেক্ট নাসরীন আখতারের বাসায় বাগানে ছোট্ট একটা মিটিংয়ে বসেছেন ডিটেকটিভ কাইজার পাশা, নাসরীন, বদরুল আর ওসি একরামুল্লাহ। ওসি সাহেব এখনো চার্জশিট দিতে পারেননি। কারণ, ভিকটিম ঠিক কীভাবে উদ্ধার পেয়েছেন, সেটা আগে বুঝতে হবে। নইলে চার্জশিট লেখা যাচ্ছে না।</p><p>কাইজার পাশা বাগানের গাছগুলোর দিকে মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাসিমুখে বলল—</p><p>—মিস নাসরীন আখতারকে আসলে ওনার গাছগুলোই উদ্ধার করেছে।</p><p>—কী রকম? নোটবুক খুলে প্রথম প্রশ্নটা করেন ওসি একরামুল্লাহ, ‘একটু খোলাসা করুন,’ ওসি সাহেব বেশ নরম গলায় বললেন। তার চোখে–মুখে আগ্রহ ফুটে উঠেছে।</p><p>—বলছি। আসলে হয়েছে কী, ওনাদের বাসার চারটা ক্যামেরায় কিছুই পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ তিন নম্বর ক্যামেরায় একটা কিছু পেলাম যেন...কিছু সংকেতের মতো। তখনই অপ্রাসঙ্গিকভাবে একটা চিন্তা আমার মাথায় এল। চিন্তাটা গাছ নিয়ে। গাছ কিন্তু দেখতে পায়। এই যে চারদিকে তাকিয়ে দেখুন, গাছের ছড়িয়ে দেওয়া ডালপালাগুলো আসলে একেকটা ক্যামেরার মতো।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার সাবসিডিয়ারি ছিল বোটানি। দু–দুবার ফেল করলাম বোটানির সাবসিডিয়ারি পরীক্ষায়। তৃতীয়বার ফেল করলে কিন্তু অনার্স বাতিল হয়ে যাবে। কাজেই তৃতীয়বারে বোটানিতে আমাকে পাস করতেই হবে—এই নিয়ত নিয়ে ভয়াবহ পড়াশোনা শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত এমন রেজাল্ট করলাম যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ‘কালীনারায়ণ স্কলারশিপ’ দিতে বাধ্য হলো। জানেন তো, সাবসিডিয়ারিতে ভালো রেজাল্ট করলে ওই স্কলারশিপ পাওয়া যায়।</p><p>—জানতাম না তো, বলল নাসরীন আখতার।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/uzajhdphpo">বাগানবিলাস</a></aside><blockquote>বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার সাবসিডিয়ারি ছিল বোটানি। দু–দুবার ফেল করলাম বোটানির সাবসিডিয়ারি পরীক্ষায়। তৃতীয়বার ফেল করলে কিন্তু অনার্স বাতিল হয়ে যাবে।</blockquote><p>—তো সেই বোটানির জ্ঞান নিয়ে আমি জানতাম যে গাছের পাতার ক্লোরোফিল সূর্যের নীল আর লাল রং নিয়ে নিলেও সবুজটা সে রিফ্লেক্ট করে বলে আমরা সবুজ দেখতে পাই গাছকে। সবুজ রংটা রিফ্লেক্ট করছে একটা নির্দিষ্ট ওয়েভলেংথে...</p><p>—এসব জ্ঞানের কথার সঙ্গে ওনার কিডন্যাপ হওয়ার সম্পর্ক কী? ওসি সাহেবের গলায় একটু অসন্তোষ যেন। হয়তো তিনি বুঝতে পারছেন না বলেই।</p><p>—একটু ধৈর্য ধরে শুনুন, আমি বুঝিয়ে বলছি। সবুজ রংটা রিফ্লেক্ট করছে একটা নির্দিষ্ট ওয়েভলেংথের রেডিয়েশনে এবং আশ্চর্যজনকভাবে এই বাগানের তিন নম্বর ক্যামেরাটা ওই রেডিয়েশন রিসিভ করতে সক্ষম। বাকি তিনটা ক্যামেরা থেকে এই ৩ নম্বর ক্যামেরাটা একদমই আলাদা এবং পাওয়ারফুল।</p><p>—হ্যাঁ, আলাদা। নাসরীন আখতার সায় দিল। ‘এই বিশেষ ক্যামেরাটা আমার এক বান্ধবী গিফট করেছিল, ও শিকাগোতে থাকে; শিকাগো ভার্সিটিতে পিএইচডি করছে...এআয়ের ওপর।’</p><p>—আমি তাহলে ঠিকই ধরেছি। তারপর যেটা হলো, আমি সংকেতগুলো...।</p><p>—তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন...গাছেরা কিছু সংকেত পাঠিয়েছে ওই ক্যামেরায়? ওসি একরামুল্লাহর চোখে সন্দেহ ফুটে উঠেছে।</p><p>—সহজ করে বললে অনেকটা তা–ই।</p><p>—তারপর আপনি কী করলেন? নাসরীনের চোখে-মুখে তীব্র কৌতূহল।</p><p>—তারপর আমি ওই সংকেতগুলো এআইয়ের সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার করলাম। ...ওখানে স্পষ্ট কিছু এলোমেলো ছবিতে উঠে এসেছে ওনাকে কিডন্যাপ করার দৃশ্যটা, যদিও একটু লো-পলি ফর্মে, কিন্তু বেশ বোঝা যাচ্ছে।</p><p>—বলেন কী!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/3keei9hpsk">সময়</a></aside><blockquote>হ্যাঁ, আলাদা। নাসরীন আখতার সায় দিল। ‘এই বিশেষ ক্যামেরাটা আমার এক বান্ধবী গিফট করেছিল, ও শিকাগোতে থাকে; শিকাগো ভার্সিটিতে পিএইচডি করছে...এআয়ের ওপর।’</blockquote><p>—মজার ব্যাপার হচ্ছে, গাছ যে শুধু তার দেখার প্রেজেন্ট স্মৃতিটুকু ধরে রাখে, তা–ই নয়, তারা সেটা রীতিমতো বিশ্লেষণ করে। জানেন তো, প্রতিটা গাছ কিন্তু তাদের শিকড়ে শিকড়ে একজনের সঙ্গে আরেকজন যুক্ত থেকে অনেক ইনফরমেশন প্রতিমুহূর্তে নিজেরা আদান–প্রদান করে। এই বিশ্লেষণ থেকেই আমি ওনার ওই বাড়িটার খোঁজ পেয়েছি, যেখানে কিডন্যাপাররা নাসরীনকে আটকে রেখেছিল।</p><p>—অসম্ভব! অসম্ভব! উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে পড়ে নাসরীন আখতার। আমি ওই ছবিগুলো দেখতে চাই।</p><p>—ছবিগুলোর প্রিন্টেড কপি ওসি সাহেবকে দিয়েছি।</p><p>—কিন্তু আমি চার্জশিটে কী লিখব? এসব কেউ বিশ্বাস করবে? হতাশ ভঙ্গিতে মাথা দোলায় ওসি একরামুল্লাহ।</p><p>এরপর এক বছর কেটে গেছে। এ বছর এই প্রথম বোটানিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে। পেয়েছেন জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটির বোটানির প্রফেসর ড. কেনজি ওয়া। তাঁর আবিষ্কারের বিষয়—বাংলায় সহজ করে বললে বলা যায় এভাবে—‘গাছের কোনো মস্তিষ্ক না থাকার পরও তাদের দেখার স্মৃতি তারা কোথায় মেমোরি হিসেবে জমা রাখে...কীভাবে রাখে।’</p><p>দিনটা সোমবার। বাসায় কেউ নেই, কাইজার পাশা পত্রিকায় কেনজি ওয়ার ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, লোকটা সত্যি কী একটা অসাধারণ আবিষ্কার করেছে! ব্রেন ছাড়াও তাহলে স্মৃতি স্টোর করা যায় এবং সে কাজটা গাছেরাই করতে পারে। ঠিক তখনই দরজায় টুক টুক করে শব্দ হলো।</p><p>—দরজা খোলা আছে। চিৎকার করল কাইজার। নাসরীন আখতারকে দেখে ভেতরে–ভেতরে চমকাল সে।</p><p>—আপনি হঠাৎ?</p><p>—ও, আপনি আমার অফিসে যান না দেখে আমিও আসতে পারব না?</p><p>—না না, অবশ্যই বসুন।</p><p> —আজকের পেপার দেখেছেন?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/bvzg7a1tgm">মিরা</a></aside><blockquote>এরপর এক বছর কেটে গেছে। এ বছর এই প্রথম বোটানিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে। পেয়েছেন জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটির বোটানির প্রফেসর ড. কেনজি ওয়া।</blockquote><p>—হ্যাঁ এই যে, প্রফেসর কেনজি ওয়া নোবেল পেয়েছেন। এই প্রথম বোটানিতে কেউ নোবেল পেল। আচ্ছা, আপনার কেসটার প্রায় এক বছর হতে চলল...ওই ওসি একরামুল্লাহ কিন্তু এখনো আমাকে জানায়নি ঠিক কী কারণে আপনাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল, ক্রিমিনালরা সব ধরা পড়েছে তো?</p><p>—আমি কিন্তু এসব নিয়ে কথা বলতে আসিনি। এই যে আমার বিয়ের কার্ড।</p><p>—ওয়াও...কনগ্র্যাচুলেশন! দারুণ ডিজাইন। কে করেছে ডিজাইনটা?</p><p>—আমি নিজেই।</p><p>—ওহ্, আর্কিটেক্টরা তো সব সময়ই ভালো ডিজাইনার। কিন্তু...কিন্তু পাত্রপাত্রীর নাম কোথায়?</p><p>—ওটা নতুন একটা টাইপোগ্রাফিতে বসাব বলে খালি রেখেছি...তা ছাড়া...নাসরীন মৃদু হেসে থেমে যায়।</p><p>—তা ছাড়া?</p><p>—তা ছাড়া পাত্রের নামটা বসানোর আগে তার অনুমতির প্রয়োজন আছে নিশ্চয়ই, কী বলেন?</p><p>—মানে? </p><p>—মানে, আপনি গাছের চোখের ভাষা বুঝে ফেলেন, আর আমার চোখের ভাষা বোঝেন না?</p><p>কাইজার মেরুদণ্ড সোজা করে বসে; স্পষ্টভাবে তাকায় নাসরীনের দিকে। নাসরীন তখনো স্থির চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ওর মুখে তখনো রহস্যময় মৃদু হাসিটা লেগেই আছে। পাশের জানালায় মানিপ্ল্যান্টের গাছের একটা ছোট্ট ডাল ছড়িয়ে আছে ওদের দিকে, ফ্যানের বাতাসে অল্প অল্প দুলছে। মানিপ্ল্যান্টের পাতাগুলো নিশ্চয়ই লাল আর নীল আলো গ্রহণ করে সবুজ রংটা নির্দিষ্ট ওয়েভ লেংথে রেডিয়েশন হিসেবে ছুড়ে দিচ্ছে ওদের দিকে...গাছেরা তো এভাবেই দেখে মানুষদের, কাইজার আর নাসরীনকেও নিশ্চয়ই দেখছে!</p><h4>*লেখাটি ২০২৪ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/qi1lq06816">শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল</a></aside>
‘ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়, আমি পালাই’
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।
<p>একজন ব্যক্তি জানতেন যে তিনি একটি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। তা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ দিনের মতো কর্মস্থলে গেলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করলেন। কয়েক দিন পর তাঁর এক সহকর্মী একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন।</p><p>প্রশ্ন হলো, এই মৃত্যুর দায় কি ওই অসচেতন ব্যক্তির ওপর বর্তাবে? ইসলামের দৃষ্টিতে একে কি ‘অপরাধমূলক অবহেলাজনিত মৃত্যু’ বা ‘ভুলবশত হত্যা’ বলা যাবে? নাকি শুধুই একটি দুর্ঘটনামূলক ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব?</p><p>সবচেয়ে বড় কথা, সংক্রামিত ব্যক্তি থেকেই যে ভাইরাসের উৎপত্তি এবং তার ফলেই যে মৃত্যু ঘটেছে, তা আদালতে শতভাগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার উপায় কী?</p><p>প্রথম দৃষ্টিতে ঘটনাটিকে একটি সাধারণ অপরাধমূলক কাঠামোর মতো মনে হলেও, স্রেফ সন্দেহ থেকে অপরাধ প্রমাণের আইনি চত্বরে পৌঁছানোর পথটি জটিল।</p><p>কারণ সংক্রামক ব্যাধি কোনো উপসর্গহীন ব্যক্তির থেকেও ছড়াতে পারে, আক্রান্ত ব্যক্তির একাধিক উৎস থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে, আবার পুরোপুরি সতর্ক থাকার পরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।</p><p>তাই সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর কারণে আইনি বা ইসলামি দায় নির্ধারণ করতে হলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইসলামি ফিকহ এবং বিচার বিভাগীয় প্রমাণাদির সমন্বিত বিশ্লেষণ অপরিহার্য।</p><blockquote>মহামারি বা ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, বরং তা অন্যের অধিকার ও সার্বজনীন সুরক্ষার অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়।</blockquote><h3>স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী </h3><p>ইসলামি আইনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অন্যের ক্ষতি না করার নীতিকে মৌলিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) একটি সার্বজনীন নীতি ঘোষণা করে বলেছেন, “কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পাল্টা ক্ষতিও করা যাবে না।” (সহিহ ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০)</p><p>সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধে অসুস্থ ও সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার দিকনির্দেশনা দিয়ে মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “রোগাক্রান্ত পশুকে যেন সুস্থ পশুর কাছে নেওয়া না হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৭১)</p><p>মহামারি বা ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, বরং তা অন্যের অধিকার ও সার্বজনীন সুরক্ষার অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়।</p><p>বিশেষ করে রোগটি যদি হাঁচি-কাশি, বাতাস বা দৈহিক সংস্পর্শে দ্রুত ছড়ায়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন কিংবা মাস্ক ব্যবহারের মতো নির্দেশনাবলি পালন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/lph0ufiwyv">বিবাহপূর্ব রোগ: কতটা প্রকাশ বাধ্যতামূলক, কতটা ব্যক্তিগত</a></aside><p>চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইসলামে জীবন রক্ষার (হিফজুন নাফস) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি আল্লাহর ওপর সঠিক তাওয়াক্কুলেরই বাস্তব রূপ। (মুহাম্মদ আলী বালাও, <em>মাউসুআতু নাওয়াজিলিল আমরাদ ওয়াল আওবিআ: জাদু আল-মুফতি ওয়া মারজিউ আল-মুস্তাফতি,</em> ১/৯৯–১০৬, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যা, বৈরুত, ২০১৪)</p><h3>‘সরাসরি ক্ষতি’ ও ‘পরোক্ষ কারণ’ </h3><p>ইসলামি আইনশাস্ত্রে ক্ষয়ক্ষতি বা অপরাধের দায় নির্ধারণে দুটি ভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করা হয়: সরাসরি সম্পাদন ও পরোক্ষ কারণ সৃষ্টি।</p><p>সরাসরি সম্পাদন মানে যখন কারো সরাসরি কাজের ফলে তাৎক্ষণিক ক্ষতি ঘটে; যেমন—কারো শরীরে ক্ষতিকর বা সংক্রামিত পদার্থ প্রয়োগ করা কিংবা খাবারে জীবাণু মিশিয়ে দেওয়া। একে বলে ‘মুবাশারা’।</p><p>আর পরোক্ষ কারণ মানে যখন কোনো ব্যক্তির আচরণের মধ্য দিয়ে একটি ক্ষতিকর পরিবেশ বা মধ্যবর্তী মাধ্যমের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীকালে ক্ষতির রূপ নেয়। একে বলা হয় ‘তাসাব্বুর’।</p><aside><cite></cite>চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাস্ক, দূরত্ব বা অন্যান্য নিয়ম মেনে চলেছেন। এরপরও যদি দুর্ঘটনাবশত কেউ সংক্রামিত হয়, তবে এর জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।</aside><p>দৈনন্দিন মেলামেশার মাধ্যমে ছড়ানো অধিকাংশ সংক্রামক ব্যাধি তাসাব্বুরের আওতায় পড়ে। কারণ বাতাসের মান, আক্রান্ত ব্যক্তির অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, সান্নিধ্যের সময়সীমা ইত্যাদি অনেকগুলো মধ্যবর্তী উপাদান এখানে কাজ করে।</p><p>পরোক্ষ কারণের ওপর ভিত্তি করে আইনি দায় চাপাতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক: স্পষ্ট অবহেলা বা সীমালঙ্ঘন, সুনির্দিষ্ট শারীরিক ক্ষতি এবং ব্যক্তির আচরণের সঙ্গেই ক্ষতির সরাসরি যোগসূত্র।</p><h3>সংক্রমণ ছড়ানোর ৪ পরিস্থিতি </h3><p>চিকিৎসা আইনশাস্ত্রের আলোকে সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনাকে মূলত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:</p><p>১. <strong>না জেনে সংক্রমণ ছড়ানো:</strong> কোনো ব্যক্তি নিজের রোগের বিষয়ে একদমই অজ্ঞ এবং কোনো উপসর্গও প্রকাশ পায়নি। এই অবস্থায় সাধারণ মেলামেশায় যদি অন্য কেউ সংক্রামিত হয়, তবে ওই ব্যক্তি ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নির্দোষ। কারণ ইসলামের জবাবদিহিতা জ্ঞান ও সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।</p><p>২. <strong>জেনেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা:</strong> ব্যক্তি নিজের ব্যাধি সম্পর্কে সচেতন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাস্ক, দূরত্ব বা অন্যান্য নিয়ম মেনে চলেছেন। এরপরও যদি দুর্ঘটনাবশত কেউ সংক্রামিত হয়, তবে এর জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। কারণ তিনি সাধ্যমতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/pimyj3pobj">প্রাকৃতিক খাদ্যেই আল্লাহর রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রতি</a></aside><p>৩. <strong>জেনে শুনে অবহেলা প্রদর্শন:</strong> ব্যক্তি নিজের সংক্রামক রোগের কথা জেনেও লোকালয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আইসোলেশন মানেননি কিংবা তথ্য গোপন করেছেন। এমন আচরণ ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক পাপ ও অবহেলা হিসেবে গণ্য।</p><p>যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁর এই অবহেলার কারণে কেউ সংক্রামিত হয়ে মারা গেছেন, তবে তা ‘অপরাধমূলক অবহেলাজনিত মৃত্যু’ বা ভুলবশত হত্যার শামিল হতে পারে এবং তাঁর ওপর আর্থিক ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) কিংবা প্রশাসনিক দণ্ড বর্তাতে পারে। (মুহাম্মদ আলী বালাও, <em>মাউসুআতু নাওয়াজিলিল আমরাদ ওয়াল আওবিআ, </em>২/৩৫২)</p><p>৪. <strong>ইচ্ছাকৃতভাবে রোগ ছড়ানো:</strong> যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে নিজের সংক্রামক রক্ত বা জীবাণু ছড়ায়, তবে তা সবচেয়ে গুরতর অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে সংক্রামক ব্যাধি (যেমন এইচআইভি) ছড়ানো সম্পূর্ণ হারাম এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর দণ্ড প্রদানযোগ্য। (আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিকহ একাডেমি, প্রস্তাবনা নম্বর: ৯০ (৯/৭), <em>বিষয়: এইডস রোগ ও এর ফিকহি বিধান,</em> ১৯৯৫)</p><h3>প্রমাণের জটিলতা </h3><p>ফিকহি বিচারে শুধু দুই ঘটনার সময়ক্রম দেখে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। শুধু ‘ক’ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই ‘খ’ ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছে—এই ঘটনাটিই অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।</p><p>ভাইরাসের জিনগত মিল থাকলেও স্রেফ ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে ঠিক কোন ব্যক্তি কার শরীরে রোগটি প্রথম সংক্রামিত করেছেন। (ভিলাবোনা-অ্যারেনাস, <em>কশন নিডেড ইন ফাইলোজেনেটিক ইন্টারপ্রিটেশন ডিউরিং আ প্যান্ডেমিক</em>, নেচার মাইক্রোবায়োলজি, ভল. ৫, নং ১২, ২০২০, পৃ. ১৪৩৫–১৪৩৭)</p><blockquote>এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির সামাজিক মেলামেশাকে অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগ বায়ুবাহিত হওয়ায় এতে অবহেলার সুযোগ বেশি।</blockquote><p>তাই বিচারালয়ে জিনগত প্রমাণের পাশাপাশি অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (যেমন: সান্নিধ্যের সময়, মেলামেশার প্রকৃতি, অন্যান্য উৎসের অনুপস্থিতি) সমন্বয়েই চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।</p><p>আবার এইচআইভি বা এইডস কোলাকুলি, করমর্দন বা সাধারণ সামাজিক মেলামেশায় ছড়ায় না। ফলে এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির সামাজিক মেলামেশাকে অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগ বায়ুবাহিত হওয়ায় এতে অবহেলার সুযোগ বেশি। (রেসপিরেটরি ভাইরাস গাইডেন্স, <em>সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন</em>, ১ মার্চ ২০২৪, ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ.সিডিসি.গভ)</p><p>সুতরাং শুরুতে উল্লিখিত ঘটনাটিতে, স্রেফ মেলামেশার কারণে ওই অসুস্থ কর্মীকে সরাসরি ‘খুনি’ বলা ইসলামি বিচারব্যবস্থার নীতিবহির্ভূত। বিচার প্রক্রিয়ায় প্রথমে দেখতে হবে উক্ত কর্মী নিজের অসুস্থতার কথা জানতেন কি না, চিকিৎসকের স্পষ্ট আইসোলেশন নির্দেশ ছিল কি না এবং মৃত ব্যক্তি অন্য কোনো উৎস থেকে সংক্রামিত হওয়ার সুযোগ ছিল কি না।</p><p>যদি প্রমাণিত হয় যে কর্মী সম্পূর্ণ না জেনে কাজে এসেছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আর যদি তিনি জেনেও অবহেলা করে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙেন, তবে নৈতিক অপরাধের পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ক্ষতিপূরণ বা দণ্ড নির্ধারণ করতে পারে।</p><p>এভাবে ফিকহ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মেলবন্ধনে একদিকে যেমন সংক্রামিত রোগীর স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের অপরাধের বিচার নিশ্চিত হয়, তেমনি অন্যদিকে নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা অভিযোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/8qsa660ch6">কোরআন থেকে রোগ নিরাময়ের সূত্র</a></aside>
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি 'আশঙ্কায়' ভুগছিলেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন- সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেছেন তারা বাবা এ এম এনায়েতুল করিম। বাসা থেকে বের হওয়ার একদিন পর বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উত্তরখানের তুরাগ নদের পাশে রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। এদিকে, বিশ্বের খবরের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অন্যতম একটি পর্যটন স্পট সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সরেজমিনে খাগড়াছড়ি ঘুরে পাহাড়ের আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি এবং পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে "প্রজন্মের সবচেয়ে সম্মানিত ও প্রিয় অভিনেতা" বলে অভিহিত করেছেন স্যার ইয়ান ম্যাকেলান।
ইসরায়েলের আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। কাতার ও তুরস্ক থেকে অবৈধ তহবিল দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। যদিও এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলের আরব দলগুলো।
সন্দেহভাজন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে; তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের পর তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন; নাটোরের এমপি আব্দুল আজিজ এবং তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী– এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে। এদিকে, দেশটির বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একজন নেতা বলেছেন,"আমাদের লক্ষ্য, যতজন খ্রিস্টান আছেন, তাদের হিন্দু বানিয়ে দেব।"
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ব্যাপক কৌতুহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা এ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে?
৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের একজন সেনেটর। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদপানে অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন দেশের মানুষ
শুটিং সেটে আহত হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়ক জায়েদ খান।
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন জেলেরা।
লিড ৫০ পেরোলেও স্বস্তি ফিরল না বাংলাদেশ শিবিরে
এ প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন দায়সারা বক্তব্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রশাসনের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের বিষয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছে।
কুমিল্লায় মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে চালিয়ে ৩৫১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।