কয়েক ধাপের বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় আইএআইওতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
<p>পুরুষদের অনেকেই প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে ফোন বহন করলে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো প্রভাব পড়ে কি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাই বা কী বলছে?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/znit7hbj/pexels_shvets_production_8036457.jpg"><figcaption>মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে</figcaption></figure><p>মুঠোফোন ছাড়া এ সময়ে একটি মুহূর্ত কল্পনা করা কঠিন। চাকরি, যোগাযোগ, ইন্টারনেট, দরকারি তথ্য কিংবা ব্যাংকিং লেনদেন—বলতে গেলে ফোন ছাড়া আমরা অচল। পুরুষেরা সাধারণত প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন বহন করেন। এতে প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আলোচনা। <br>ভারতের ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথ কেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব আগরওয়াল জানান, এ বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও উচিত নয়। বরং গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে বোঝা জরুরি। </p><p>শুক্রাণুর ওপর ফোনের প্রভাব নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণ হয়েছে। যার মধ্যে ১৮টি গবেষণা ও ৪ হাজারের বেশি বীর্যের নমুনা একত্রিত করে করা একটি বিশ্লেষণও আছে। গবেষণায় মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটা সম্পর্ক পাওয়া গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/yl50gv909r">পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি কেন হয়, কীভাবে বাড়ানো যায়</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/sechyw4e/pexels_soulful_pizza_2080276_6941486.jpg"><figcaption>ফোন থেকে উৎপন্ন তাপ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে</figcaption></figure><p>তবে শুক্রাণুর মোট সংখ্যা বা ঘনত্বের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন রাখলে ফোনটি অণ্ডকোষের খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। কিছু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ অবস্থায় শুক্রাণুর ওপর ফোনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বেশি হতে পারে। এর পেছনে গবেষকেরা দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।</p><p>প্রথমত, মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো আমাদের শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল ও সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে শুক্রাণুর কোষের ক্ষতি হতে পারে।<br>দ্বিতীয়ত, ফোন থেকে উৎপন্ন তাপ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতেও শুক্রাণুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, সুস্থ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের মূল তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন।<br>তবে এসবই গবেষণাগারে চালানো পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/tjpt72sr/pexels-rohit-sharma-1230131-20557440.jpg"><figcaption>পুরুষের শুক্রাণুর ওপর ফোনের প্রভাব নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণ হয়েছে</figcaption></figure><p>ড. আগরওয়াল জানান, গবেষণাগারের ফলাফল ও বাস্তব পর্যবেক্ষণের জরিপের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করেছেন তাঁরা। কারণ, সন্তান ধারণের চেষ্টারত প্রকৃত দম্পতিদের ওপর পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় দেখা গেছে, পকেটে ফোন রাখার অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান বা গর্ভধারণের সময়ের কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক নেই। </p><p>কাজেই এটি বন্ধ্যত্বের কোনো প্রমাণিত কারণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ উদ্বেগজনক তথ্যই এসেছে গবেষণাগারের পরীক্ষা বা জরিপ থেকে, প্রকৃত ফলাফল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।</p><p>তবে আগরওয়াল স্বীকার করেন, উৎস যা-ই হোক না কেন, শুক্রাণুর গুণমান বা স্বাস্থ্যের অবনতির ক্ষেত্রে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, কো-এনজাইম কিউ টেন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমায় ও শুক্রাণুর সচলতা বা গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/srq5x3k2db">৮০ পেরিয়েও যাঁদের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, তাঁদের সবার মধ্যে একটাই মিল</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/mlhommy9/pexels-jellymarketing-38774906.jpg"><figcaption>তবে কোনো কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে শুধু মুঠোফোনকে দায়ী করা উচিত নয়।</figcaption></figure><p>তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুঠোফোন থেকে নির্গত বিকিরণের ফলে শুক্রাণুর যে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হয়, কো-এনজাইম কিউ টেন ঠিক সেই জৈবিক প্রক্রিয়ার ওপরই কাজ করে। নির্দিষ্টভাবে ফোনের বিকিরণজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে এটি কোনো প্রমাণিত প্রতিষেধক নয় ঠিকই, তবে সামগ্রিকভাবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার জোরালো প্রমাণ রয়েছে।<br>কো-এনজাইম কিউ টেন-ই একমাত্র উপাদান নয়; র্যান্ডম ট্রায়ালে জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং লাইকোপেনেরও শুক্রাণুর ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখার প্রমাণ মিলেছে। জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য উন্নত করে এবং লাইকোপেন অক্সিডেটিভ ডিএনএ ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।</p><p>এই প্রমাণের ভিত্তিতেই পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধির চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলেই মুঠোফোনকে দায়ী করা উচিত নয়। এর পেছনে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যাও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যথাযথ পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।<br></p><p><sup>সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/42lkaivv5b">ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ আছে দেশেও, তবে যে কেউ কি চাইলেই তা করতে পারেন</a></aside>
লেদার জ্যাকেট আর ফার স্কার্ফে দেশি বিউটি কুইনের বিদেশ ভ্রমণের ফল ফ্যাশন লুক দুটি সত্যিই উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/10ti-hannser-dim-theke-16-ekrer-khamar-grlen-noyakhaleer-bibi-rhima</figure>
আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী। অনলাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানা যাবে।
ছয় দশকের বেশি সময় পর সেই গল্পই নতুনভাবে পর্দায় ফিরছে। এবার চলচ্চিত্র নয়, টেলিভিশন সিরিজ।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমার বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় গোলাপ হোসেন ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে তোয়াবা নিহত হয়েছেন। স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে স্ত্রী শিউলি আক্তার দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।