কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশের রাস্তায় আজ শুক্রবার দুপুরে চারটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়েছে। এর মধ্যে বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের রাস্তায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোল দায়রা আদালতের অতিরিক্ত সেশন জজ ব্রিজেশকুমারী রামেশ্বর সিং রাজপুত তিনজনের যাবজ্জীবন সাজার রায় দিতে গিয়ে বলেন, হিন্দু শাস্ত্র ও বেদের মতে গরু বিশ্বমাতা।
<p>মায়ের পেট আঁকড়ে ধরে থাকা ছোট্ট স্লথের মিষ্টি অভিষেক হলো যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানাটিতে জন্ম নিয়েছে দুই আঙুলবিশিষ্ট প্রজাতির ওই স্লথশাবক। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য একদিকে অতিরিক্ত প্রস্তুতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের অপূর্ণতাকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
<p>আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ থাকলেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন (শুশুক)। আজ শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে একটি মৎস্য আড়তে শুশুকটি ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। </p><p>শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি মাঝারি আকারের শুশুকও বিক্রির জন্য গাউছিয়া মৎস্য আড়তে তোলা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় এক মৎস্যশিকারি ২ হাজার ১০০ টাকায় শুশুকটি কিনে দ্রুত বাজার ছেড়ে যান। এ সময় বাজারে দুটি বাগাড় মাছও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। বাগাড় দুটিও কেনার পর এক ক্রেতা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাজার ত্যাগ করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/environment/ru0rl235ia">দেশের ১৪ নদীতে টিকে আছে বিলুপ্তপ্রায় গাঙ্গেয় শুশুক</a></aside><aside><cite>মো. মাহাবুব-উল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, রাজবাড়ী</cite>শুশুক বা বাগাড়–জাতীয় প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ও সংরক্ষণ আইনে বাধা রয়েছে। আমাদের মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় করার কিছুই থাকে না। তবে চাইলে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।</aside><p>শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন নামে পরিচিত এই প্রাণীকে বর্তমানে লাল তালিকাভুক্ত; অর্থাৎ অতি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন)।</p><p>গাউসিয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা বলেন, শরিফুল নামের এক জেলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফাঁসন জালে শুশুকটি পান। এর ওজন ১৫ থেকে ১৬ কেজি। নদীতে ‘<a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9B-%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E2%80%99">বাচা</a>’ মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজনের কাছে শুশুকটি বিক্রি করা হয়েছে। শুশুক দিয়ে ব্যথানাশক তেল তৈরি করা হয়। এ বছর জেলেদের জালে প্রথম শুশুক ধরা পড়েছে বলে জানান রওশন।</p><p>বাজারে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। প্রকাশ্যে শুশুক ও বাগাড় বিক্রির বিষয়টি নজরে আনা হলে তিনি জানান, এটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের কিছু করার নেই।</p><p>বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল হক বলেন, ‘শুশুক বা বাগাড়–জাতীয় প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ও সংরক্ষণ আইনে বাধা রয়েছে। আমাদের মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় করার কিছুই থাকে না। তবে চাইলে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে আমরা জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।’</p><p>পরে এ বিষয়ে কথা হয় গোয়ালন্দ উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্টার আজিজুল ইসলামের সঙ্গে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শুশুক ও বাগাড় শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রাণী শিকার ও বিক্রি বন্ধে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে জেলা বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।</p><p>শুশুক বা বাগাড় শিকার, হত্যা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা। প্রথম আলোকে বলেন, আজ শুশুক বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/jnmer-pr-theke-mayer-kole-ache-slthsabk-thakbe-kyek-mas</figure>
জয়ী হওয়ার পর ফুলের তোড়া হাতে পরাজিত প্রার্থীর বাড়ি গেলেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
<p>তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে পাওয়া গেছে তাঁর মোটরসাইকেল। দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৫৩.২৩ শতাংশ দাবিতে ছড়ানো পোস্টটি ভুয়া। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।