রাবিতে চালু হচ্ছে ‘পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ দপ্তর
স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল উদ্যোগগুলোকে সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলে সেগুলো আলাদা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পরে এসব ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ব্যবস্থা যেন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে ‘পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র দপ্তর চালু করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের আমদানি করা ৫২ হাজার ৭৮৫ কেজি ওভেন ফেব্রিক্সের হদিস পাওয়া যায়নি। একই প্রতিষ্ঠানের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৫২৫টি যন্ত্রপাতিও কারখানায় স্থাপিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এসব...
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৫ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। মামলাটি এখন আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায়...
চাঁদপুরের কচুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সাদিয়া (১০) ও সামিরা (৮) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৬ নম্বর কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের উজানী গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা...
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান...
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় জিম্বাবুয়ে
<p>বাংলাদেশ বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও মোহাম্মদ হাছান মাহমুদসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।</p><p>আজ রোববার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।</p><p>দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপাদান অপরিহার্য হলে তা ডিপিপি সংশোধন করে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কিন্তু ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না। নীতিমালা লঙ্ঘন করে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।</p><p>মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক দুই মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও নারায়ণ চন্দ্র শীল, সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, উপস্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে সাত কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় কাজটি মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।</p><p>দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়।</p><p>এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তুলে নেয়। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে ম্যুরালের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি।</p><p>দুদক জানায়, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/bo1r765h/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-6.35.58-PM.jpeg"><figcaption>যুবদল কর্মী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন</figcaption></figure><p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মী তারেক হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। গত শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ আলম বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তারেককে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন আরিফ হোসেনের সহযোগী ফখরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, আরিফুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার।</p><p>গত শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড় এলাকায় তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ইমন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত তারেক উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত ইমন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে।</p><p>প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রাতে খাবার খেয়ে তারেক তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। ইমনকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তারেককে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্যরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।</p><p>এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে তারেকের বুকে গুলি করা হয়। আরেকজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তারেক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।</p><p>গুলির শব্দ শুনে কাছাকাছি থাকা তাফসির আলম তারেককে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তারেক ও তাফসির দুজনই গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা পালিয়ে যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/jb95o13syu">যুবদল নেতার কার্যালয়ে আসেন দুই কর্মী, কিছুক্ষণ পরই গুলিতে প্রাণ গেল একজনের</a></aside><p>চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এসব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরিফসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>সীতাকুণ্ড এলাকায় আড়াই শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদনপ্রক্রিয়া শেষে অবশিষ্ট, বাতিল বা অব্যবহৃত ধাতব অংশ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়। এসব স্ক্র্যাপের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।</p>
<p>আজ সকালেই কথা হচ্ছিল বন্ধু এমদাদ রহমানের সঙ্গে। দীর্ঘদিন সে প্যারিসে বাস করে আসছে। এখনকার মতো এত বাজে পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেনি। শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্যারিসের আফ্রিক, তিউনিসীয় আর আলজেরীয় তরুণেরাই সবচেয়ে সহিংস হয়ে উঠেছে। রয়টার্স একে দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সহিংসতাগুলোর একটি বলেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। কয়েক লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছেন, আর সহিংসতা ঘটিয়েছে তুলনামূলক ছোট কিছু গোষ্ঠী। অর্থাৎ ‘প্যারিসে দাঙ্গা’ কথাটা আংশিক সত্য। এটি একটি বিশাল গণ–আন্দোলন, যার প্রান্তে বা ভেতরে সহিংসতা ঢুকে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে প্রায় ৫,৫০,০০০ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, প্যারিসে প্রায় ১,১০,০০০। সিজিটি ইউনিয়ন বলছে সংখ্যাটা ৮,০০,০০০। রয়টার্সের তুলনা অনুযায়ী এই জমায়েত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের চূড়ার চেয়ে বড়, কিন্তু ২০২৩ সালের পেনশনবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে ছোট।</p><blockquote>শিক্ষকস্বল্পতা আর জীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ক্রমে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মানের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সূচনাবিন্দু ছিল সেন-সাঁ-দ্যনি। এটি প্যারিসের উত্তরের একটি দরিদ্র জেলা। আউবারভিলিয়ের একটি স্কুলে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে অঙ্ক, ইংরেজি আর খেলাধুলার ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, এই জেলার দুই-তৃতীয়াংশ স্কুলে শিক্ষকের পদ খালি। তাপপ্রবাহে ক্লাসরুম অসহনীয় গরম হয়ে ওঠার অভিযোগও ছিল।</blockquote><p><strong>স্কুল থেকে রাজপথ: আগুন যেভাবে ছড়াল</strong></p><p>আন্দোলনের শুরুটা বিস্ফোরক কোনো ঘটনায় নয়। তাই এটি ২০০৫ বা ২০২৩-এর দাঙ্গা থেকে আলাদা। ওই দুই ক্ষেত্রেই ট্রিগার ছিল পুলিশের হাতে বা পুলিশের তাড়ায় কিশোরদের মৃত্যু। এবার আন্দোলন শুরু হয় গত মাসে প্যারিসের উত্তরের শ্রমজীবী উপশহরের উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে। শিক্ষকস্বল্পতা আর জীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ক্রমে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মানের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সূচনাবিন্দু ছিল সেন-সাঁ-দ্যনি। এটি প্যারিসের উত্তরের একটি দরিদ্র জেলা। আউবারভিলিয়ের একটি স্কুলে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে অঙ্ক, ইংরেজি আর খেলাধুলার ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, এই জেলার দুই-তৃতীয়াংশ স্কুলে শিক্ষকের পদ খালি। তাপপ্রবাহে ক্লাসরুম অসহনীয় গরম হয়ে ওঠার অভিযোগও ছিল। সময়সূচি, ক্লাসের আকার আর শিক্ষকস্বল্পতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে অবরোধ শুরু করে। ১৬ বছরের এক ছাত্রীর কথা সংবাদে এসেছে। সে বলেছে, ‘আমরা উপশহরের সন্তানেরা পরিত্যক্ত, অবহেলিত।’ স্কুলের অবস্থাকে সে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলেছে।</p><p>২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে সরকারি খাতের ধর্মঘট ছিল। সেদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ৩,৭০০ স্কুলের মধ্যে ৪০০টি অবরোধ বা ব্যাঘাতের শিকার হয়েছে। এভাবে ছাত্র আন্দোলন আর শ্রমিক-শিক্ষকের ধর্মঘট একসঙ্গে মিশে যায়। সিএনএন জানায়, এক শর বেশি হাইস্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে<bha>;</bha> শুধু প্যারিস অঞ্চলেই ক্ষতি আনুমানিক ৭০ লাখ ইউরো। তখনই বোঝা গিয়েছিল ক্ষোভ স্কুলের চৌহদ্দিতে আটকে থাকবে না। ১৭ অক্টোবর তার সঙ্গে যোগ হয় আরেকটি ধারা। ট্রেড ইউনিয়ন এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ পরিচয়ধারী নাগরিকেরা জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নেমেছেন। ইউরোনিউজ এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের ক্ষোভ, মজুরির ক্ষোভ আর জ্বালানির ক্ষোভ একই রাস্তায় এসে মিলেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/bhe494wb/Paris.avif"><figcaption>ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাসের শেল সরানোর চেষ্টা করছেন এক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ </figcaption></figure><p><strong>কারা জড়িত: এক ভিড়ের ভেতরে অন্তত চার স্তর</strong></p><p>‘কারা করছে’ প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। প্রতিবেদন ও প্রেক্ষাপট থেকে চারটি স্তর আলাদা করা যেতে পারে। চতুর্থ স্তরের পরিচয় নিয়ে প্রমাণ সবচেয়ে কম, তাই সেটা কেবল অনুমান।</p><p>প্রথম স্তর: বিপুল শান্তিপূর্ণ অংশ। শিক্ষক, অভিভাবক, ইউনিয়ন কর্মী, কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ও ইয়েলো ভেস্ট সমর্থকেরা এর মধ্যে পড়েন। ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। ১৯ বছরের এক বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেছেন, জীবনযাত্রার খরচ আর জ্বালানির দাম খুব বেশি, আর স্কুলছাত্রদের ওপর পুলিশের আক্রমণ তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। দ্বিতীয় স্তর: স্কুলছাত্র ও উপশহরের তরুণেরা। আন্দোলনের আদি ইঞ্জিন তারাই। তাদের কেউ কেউ স্কুলের সামনে ময়লার ঝুড়ি আর সাইকেলে আগুন দিয়েছে, ঢিল ছুড়েছে। তবে সরকারি তথ্য এই ছকের সীমা দেখায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সহিংস ঘটনার পর প্রায় ৪০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তাদের বেশির ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। সুতরাং ‘উপশহরের কিশোরদের দাঙ্গা’ বলে পুরো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। তৃতীয় স্তর: সংগঠিত, কালো পোশাকের মুখোশধারী গোষ্ঠী। প্যারিসে বেশির ভাগ তরুণ কালো পোশাক, হুডি, মুখোশ ও কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে গগলস পরে ছিল। এই পোশাক-কৌশল ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ ধরনের চরমপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পরিচিত। তবে সংবাদগুলোতে এই নাম সরাসরি দেওয়া হয়নি। সরকার এদের দিকে ইঙ্গিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার জন্য ‘বাম চরমপন্থী’ ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তিনি এটা বলেছেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, তাই এটি দাবি, প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। অন্য পক্ষ বলছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ শান্তিপূর্ণ ছিল আর সহিংসতার পেছনে ছিল যারা ক্ষতি করতে ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে এসেছিল তারা। চতুর্থ স্তর: সুযোগসন্ধানী লুটেরা (অনুমান)। দাঙ্গার ইতিহাসে ভিড়ের আড়ালে ছোট অপরাধী গোষ্ঠী সব সময়ই থাকে। সবকিছু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গেলে তারা সুযোগ নেয়। মুঠোফোনের দোকান লুট এবং সুপারমার্কেট লুটের মতো ঘটনা আদর্শিক প্রতিবাদের চেয়ে সুযোগসন্ধানী অপরাধের সঙ্গে বেশি মেলে। অথচ ব্যাংক ভাঙচুর বা সিটি হলে হামলা স্পষ্টতই প্রতীকী। এই পার্থক্য খেয়াল রাখা জরুরি।</p><blockquote>সবকিছু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গেলে তারা সুযোগ নেয়। মুঠোফোনের দোকান লুট এবং সুপারমার্কেট লুটের মতো ঘটনা আদর্শিক প্রতিবাদের চেয়ে সুযোগসন্ধানী অপরাধের সঙ্গে বেশি মেলে। অথচ ব্যাংক ভাঙচুর বা সিটি হলে হামলা স্পষ্টতই প্রতীকী। এই পার্থক্য খেয়াল রাখা জরুরি।</blockquote><p><strong>ক্ষোভের মূল কারণ</strong></p><p>ক. শিক্ষা ও আঞ্চলিক বৈষম্য</p><p>এটিই আন্দোলনের সূচনা। অভিযোগ আছে ২০২৭ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কম হারে, মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ, বাড়ানো হয়েছে। সেটা কাগজে ছোট সংখ্যা মনে হলেও বাস্তবে এর মানে ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে বরাদ্দ কমে যাওয়া। ধনী এলাকার স্কুল অভিভাবকদের চাঁদা, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই ঘাটতি সামলে নিতে পারে। দরিদ্র উপশহর পারে না। ফলে বৈষম্য বাড়ে, আর কিশোরেরা সেটা প্রতিদিন নিজের ক্লাসরুমে অনুভব করে।</p><p>খ. জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম</p><p>জ্বালানির দাম ফ্রান্সের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর বিষয়। ২০১৮ সালের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন শুরু হয়েছিল জ্বালানি কর নিয়েই। যাঁদের গাড়ি ছাড়া কাজে যাওয়ার উপায় নেই, বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায়, তাঁদের জন্য দামের ধাক্কা সরাসরি আয়ে আঘাত। এবার সেই ধাক্কা এসেছে ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে। এটা সরকারের হাতের বাইরের বাহ্যিক কারণ, তবু ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে সরকারের ওপরেই।</p><p>গ. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার সংকট</p><p>গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘Bloquons tout’ (সবকিছু অবরোধ করো) আন্দোলনের সময় সরকারের ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ইউরোর ব্যয়সংকোচ পরিকল্পনা প্রধান কারণ ছিল এবং শেষে বায়রু সরকারের পতন হয়। সেই পতনের পর লেকর্নু প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি দুই বছরেরও কম সময়ে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকদের চোখে সরকার বদলায় কিন্তু নীতির দিক বদলায় না। যে ব্যবস্থায় ভোট দিয়েও বদল আসে না, সেখানে রাস্তার ক্ষমতা ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/tm9x8vx5/French-riot-police.jpg"><figcaption>জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় জ্বলন্ত বস্তুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ </figcaption></figure><p>ঘ. রাষ্ট্রীয় ঋণ ও কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ</p><p>ঋণ কমানোর ফরাসি প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। সরকারের ঋণ-ব্যয় দুই দশকেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর মানে সরকারের হাতে সামাজিক খাতে খরচ বাড়ানোর জায়গা সংকুচিত। একদিকে বাজার ব্যয় কমানোর চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকেরা বলছেন স্কুল-হাসপাতালে আয় ব্যয় কমানো যায় না। দুই দাবির মাঝখানে সরকার আটকা।</p><p>ঙ. পুলিশি সহিংসতা: ক্ষোভের জ্বালানি</p><p>সহিংসতা শুধু একদিক থেকে আসছে না। এক কিশোর স্টান গ্রেনেড তুলতে গিয়ে হাত হারিয়েছে। পুলিশ-নজরদারি সংস্থা অন্তত দুই ডজন পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করছে। একই সময়ে পুলিশ নিজেও চাপে। লেকর্নু জানিয়েছেন আগের বিক্ষোভগুলোতে ৯০০-এর বেশি পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন বলছে, বাহিনী ভেঙে পড়ার মুখে। ছাত্রদের ওপর কঠোর দমন ক্ষোভকে আরও জ্বালিয়েছে, আর পুলিশের ওপর আক্রমণ সরকারকে আরও কঠোর হতে ঠেলছে। এই চক্র থামানো কঠিন।</p><blockquote>সহিংসতা শুধু একদিক থেকে আসছে না। এক কিশোর স্টান গ্রেনেড তুলতে গিয়ে হাত হারিয়েছে। পুলিশ-নজরদারি সংস্থা অন্তত দুই ডজন পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করছে। একই সময়ে পুলিশ নিজেও চাপে। লেকর্নু জানিয়েছেন আগের বিক্ষোভগুলোতে ৯০০-এর বেশি পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন বলছে, বাহিনী ভেঙে পড়ার মুখে। ছাত্রদের ওপর কঠোর দমন ক্ষোভকে আরও জ্বালিয়েছে, আর পুলিশের ওপর আক্রমণ সরকারকে আরও কঠোর হতে ঠেলছে। এই চক্র থামানো কঠিন।</blockquote><p><strong>কেন ভাঙচুর, লুট, আগুন: সহিংসতার যুক্তি</strong></p><p>তিনটি আলাদা ধরনের লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে, আর প্রতিটির আলাদা যুক্তি আছে।</p><p>রাষ্ট্রের প্রতীক। লিমোজে সিটি হল পুড়েছে, মার্সেইয়ে কালো পোশাকের বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে অরাজকতাবাদী গ্রাফিতি এঁকেছে, লিয়ঁয়ে পর্যটন দপ্তরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখানে বার্তা স্পষ্ট: রাষ্ট্র আমাদের কথা শোনে না, তাই রাষ্ট্রের ভবনই লক্ষ্য।</p><p>সম্পদ ও পুঁজির প্রতীক। দাঙ্গাকারীরা গালেরি লাফায়েৎ ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঢোকার চেষ্টা করেছে, ব্যাংক ভাঙচুর করেছে, লাকোস্ট দোকান তছনছ করেছে। প্যারিসের বিলাসী বাণিজ্যিক এলাকা আর ধনী-গরিবের দূরত্ব এখানে এক বিন্দুতে মিলেছে। যাঁদের স্কুলে শিক্ষক নেই, তাঁদের চোখে বিলাসী দোকানের কাচ ভাঙা ক্ষমতার প্রতীক ভাঙা।</p><p>পুলিশ। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপর হামলা। পুলিশকে সরকারের দৃশ্যমান বাহু হিসেবে দেখার প্রবণতা ফ্রান্সের উপশহরে বহু দশকের, এবং সেটা অনেকটাই পারস্পরিক অবিশ্বাস।</p><p>এখানে একটি অস্বস্তিকর সত্যও স্বীকার করা দরকার। সহিংসতার কিছু অংশ রাজনৈতিক বার্তা নয়, নিছক সুযোগ আর উত্তেজনার আনন্দ। সব ভাঙচুরকে ‘প্রতিবাদের ভাষা’ বলা যেমন ভুল, সব ভাঙচুরকে ‘নিছক অপরাধ’ বলাও ভুল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/9u7vbi51/france-5.jpg"><figcaption>বিক্ষোভ করছেন ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৬ অক্টোবর ২০২৬, নঁত, ফ্রান্স</figcaption></figure><p><strong>রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী রাজনীতি</strong></p><p>সরকারের ভাষা কঠোর। লেকর্নু বলেছেন যারা সহিংসতাকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম আপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, সরকার তাদের কাছে ভয় পাবে না। মাখোঁ অপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্যারিস পুলিশ বলেছে তারা ‘পিছু হটবে না’।</p><p>এই ভাষায় নির্বাচনের ছায়া স্পষ্ট। ফ্রান্সে আগামী বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আর শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যে প্রধান ইস্যু। সরকারের কাছে সহিংসতাকে ‘বাম চরমপন্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করা সুবিধাজনক, কারণ তাতে মূল দাবি (স্কুলের অবস্থা, মূল্যবৃদ্ধি) থেকে আলোচনা সরে যায়। বিরোধী বামপন্থীদের জন্যও সুবিধা আছে: সংঘর্ষের ছবি তাদের আখ্যানকে জোর দেয় যে সরকার ব্যর্থ। দুই পক্ষই ঘটনাকে নিজের রাজনৈতিক হিসাবে সাজাচ্ছে, তাই কোনো পক্ষের একতরফা ব্যাখ্যাকেই চূড়ান্ত ধরা ঠিক হবে না।</p><p>আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়: ফ্রান্স একা নয়। বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ইতালিতেও ছোট পরিসরে বিক্ষোভ হয়েছে। পর্তুগালে ২০১৭ সাল থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণ হয়েছে, আর আলবেনিয়ায় ছাত্রেরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট আর তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার একটা সাধারণ ধারা দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সের ঘটনা তাই শুধু ফরাসি সমস্যা নয়।</p><p><strong>কী বুঝব, কী বুঝব না</strong></p><p>আমার বিশ্লেষণের মূল কথাগুলো এই যে:</p><p>এটি একক কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি বহুস্তরীয় আন্দোলন, যার মূলে শিক্ষাবৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়, আর যার ওপরে রাজনৈতিক অনাস্থা ও নির্বাচনী উত্তাপ। সহিংসতা সংখ্যালঘুর হাতে, কিন্তু সেই সংখ্যালঘু এক রকম নয়। রাষ্ট্রের প্রতীকে হামলাকারী, পুঁজির প্রতীকে আঘাতকারী আর সুযোগসন্ধানী লুটেরাকে এক ঝুড়িতে ফেলা বিশ্লেষণের দুর্বলতা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক, তাই ঘটনাটিকে শুধু কিশোর বা শুধু উপশহরের সমস্যা বলা ভুল। আবার ছাত্র আন্দোলনই যে এর সূচনা, সেটাও ভোলা যাবে না। পুলিশি আচরণ এই চক্রের একটি অংশ, তবে পুলিশও বড় চাপে। কোনো পক্ষকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বা সম্পূর্ণ দোষী ধরলে বাস্তবতা হারিয়ে যায়।</p><p>যা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না: ভাঙচুরকারীদের সঠিক সাংগঠনিক পরিচয়, আন্দোলন কত দিন চলবে, আর সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা করবে নাকি আরও কঠোর হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলা এগোলে এবং পুলিশ-নজরদারি সংস্থার তদন্ত শেষ হলে অনেক ধারণা বদলাতে পারে। যে সমাজে ক্লাসরুমে শিক্ষক নেই, আর রাস্তায় আগুন জ্বলছে, সেখানে আগুন নেভানোর চেষ্টা আর কারণ সারানোর চেষ্টা আলাদা কাজ। প্রথমটি পুলিশ করতে পারে, দ্বিতীয়টি করতে হবে নীতির মাধ্যমে। ফ্রান্সের সামনের সপ্তাহগুলো দেখাবে সরকার কোনটিতে বেশি মনোযোগ দেয়।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/1eljz9n8/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-5.43.18-PM.jpeg"></figure><p>গণিত ভাইয়া প্রথম আলো গণিত ইশকুলের একটি জনপ্রিয় ক্যারেক্টার। গণিত ভাইয়া তোমাদের গণিতকে আনন্দের সঙ্গে শেখাতে সহায়তা করবে।</p><p>তোমাদের কাছে গণিত ভাইয়ার আজকের প্রশ্ন:</p><p>বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচে 36000 ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে সমান সংখ্যক বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের সমর্থক আছে। প্রথম ইনিংস শেষে এক তৃতীয়াংশ সমর্থক বেরিয়ে যাওয়ায় জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশের সমর্থকদের অনুপাত হয় 2:3। জিম্বাবুয়ের কতজন সমর্থক বের হয়ে যায়?</p><p>গণিত ইশকুলের ফেসবুক পেজে পোস্টের মন্তব্যে ঘরে তোমাদের উত্তরটি জানিয়ে দাও।</p><p>ফেসবুক পেজের <a href="https://www.facebook.com/PA.GonitIshkul" target="_blank" rel="nofollow">লিংক</a>।</p><p>গণিত ভাইয়া সিরিজের প্রশ্নগুলোর সর্বোচ্চ সঠিক উত্তরদাতাদের জন্য প্রতি মাসে গণিত ভাইয়ার পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ পুরষ্কার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/study/6y46it8rjt">গণিত ভাইয়ার প্রশ্ন:পর্ব ১৬</a></aside>
<p><strong>অতিথি:</strong></p><p>নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা</p><p>অভিনয়শিল্পী</p><p><strong>সঞ্চালক:</strong></p><p>নীল হুরেজাহান</p><figure></figure>
মাত্র এক একরের এই ছোট্ট দ্বীপে গেলে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের ডালে শত শত পুরোনো ও ভাঙা পুতুল ঝুলে আছে। কোনো পুতুলের হাত নেই, কোনোটার পা নেই, আবার কোনোটার চোখ উপড়ানো
প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। শোকের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।
৩০-৪০ বছর আগেও কুমিল্লা ছিল শান্তির শহর, স্বস্তির শহর। তারও আগে ছিল ব্যাংক ও ট্যাংকের (জলাশয়) শহর, শিল্প ও সংস্কৃতির শহর। আজ সবই কেবল স্মৃতি।
সৌদি আরবের মক্কায় সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারির বদলে আগামী বছর একুশে বইমেলা শুরু হবে জানুয়ারি মাসে। সাতই জানুয়ারি শুরু হয়ে মেলা চলবে ছয়ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় ব্যাপক জনসমাগম নতুন নয়। কিন্তু ১৭ই অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির প্যান্ডেলে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
ফ্রান্সের সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি অনেকটাই নমনীয় বলে মনে হচ্ছে। আটই অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে অতিরিক্ত তিন হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এরপরও বিক্ষোভ থামেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে।
আজ রবিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কক্সবাজারের রিসোর্টে মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা, এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পিস্তল হাতে শোডাউনের সংবাদ এবং ঢাকার বিমানবন্দরে সৌদিগামী যাত্রীদের অপেক্ষার খবর এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রথম পাতায়।
মেরিনল্যান্ডকে তার বন্দি তিমিগুলোর জন্য একটি নতুন আবাস খুঁজে বের করতে হয়েছিল। কিন্তু প্রাণী কল্যাণের বিষয়ে উদ্বেগের কারণে কানাডীয় সরকার যখন চীনে তিমিগুলো বিক্রি করার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, তখন পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায় যে সেগুলোকে হয়তো তাদের কষ্ট না দিয়ে মেরে ফেলতে হবে। এই ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি অ্যাকোয়ারিয়াম একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
কলকাতায় একটি খ্যাতনাম দুর্গাপুজো মন্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান তিনি যখন সকাল ছয়টার পরে রিসোর্ট থেকে হাঁটতে বের হয়েছিলেন তখনও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তারা যখন ফিরে এসেছেন রিসোর্টের সামনে তখন দেখেছেন আগুন একটু একটু করে ছড়াচ্ছে। একটুপরে প্রথমে একটি বড় বিস্ফোরণ এবং আরো কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তখন আগুন চারদিকে আরো ছড়িয়ে পড়ে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে সুজন পাল (৩৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় অনেক হোটেল, মোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও এ সব সরঞ্জামের মেয়াদ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকাশক প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী বছরের বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৭১১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১২ বোতল ফেনাড্রিলসহ ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বলিউডের প্রবীণ কৌতুকশিল্পী জনি লিভার মারা গেছেন—এমন শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ফটো কার্ড।
চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে।