<p>ইরানে আবার হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়েছে।</p><p>গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা চালায় তেহরান। হামলা চালানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামে অস্থিরতা শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই নতুন হামলার ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু।</p><p>এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সরকারের পতন ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকালসহ বহুবার আমি এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’</p><p>মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/kz30pn0xhj">ইসরায়েলে গোপন সফরে হেগসেথ, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কী কথা হলো</a></aside><p>ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান নিশ্চিত করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে হেগসেথের বৈঠক হয়েছে নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের উভদা বিমানঘাঁটিতে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, নেতানিয়াহু ও হেগসেথ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় কৌশলের ক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েল অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p><p>তবে হেগসেথের এই সফরের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside>
<p>পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ তৈরিতে অর্থ সরবরাহ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়া তিনটি দেশীয় সিনেমায় দর্শক উপস্থিতি মিশ্র, প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত।
<p><strong>আলোচক: </strong></p><p>ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী</p><p>উপ–নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ</p><p><strong>সঞ্চালক: </strong></p><p>শামসউজজোহা</p><figure></figure>
<p>রাজধানীর নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনার পর এবার প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত শনিবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।</p><p>নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ইসিবি চত্বরের সিটি কাবাব হোটেলের পেছনে মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, মো. আবুল কাশেম, বাবুলসহ চার ব্যক্তি এসে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। এর পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।</p><p>পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার মামলায় মো. শাহরিয়ার মাহমুদকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ওই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মো. আবুল কাশেম ও বাবুল। তাঁদের মধ্যে আবুল কাশেম উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।</p><p>ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, হুমকির ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।</p><p>এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার রাতেই বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।</p><p>তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা দিয়ে একটি ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয়েছিল। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে এই হামলা চালান। ওই হামলায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর লোকজনকে যুক্ত করা হয়েছিল।</p><p>এই হামলা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মোট ১৩ জন মিলে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। ওই বৈঠকে শাহরিয়ার ও বিকাশও উপস্থিত ছিলেন।</p>
পাহাড়কে আমরা অনেক সময় শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেখি। পাহাড়ে যাই, ছবি তুলি, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি এবং ফিরে আসি। কিন্তু পাহাড়ের মানুষ থেকে যায় সেখানেই—আমাদের ছবির পেছনের সেই পাহাড়ে, প্রতিদিনের সংগ্রাম নিয়ে।
<p>সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাল সময় পার করছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। রাজপথের এ বিক্ষোভ শুধু মিছিল–সমাবেশে সীমিত নেই, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ।</p><p>বিক্ষোভের শুরুটা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও অবকাঠামোর অপর্যাপ্ততাসহ নানা কারণে এই বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। পরে সাধারণ মানুষও যুক্ত হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবিতে সপ্তাহান্তে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ফ্রান্স।</p><p>ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস এ বিক্ষোভে লিমোজ শহরের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট চালানো হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি দোকানে। এখন কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত, থমথমে; তবে বিপদের আশঙ্কা এখনো কাটেনি।</p><p>এর মধ্যেই ফরাসি সরকারের কাছে প্রস্তুতিহীনতার জন্য জবাব চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মেয়রেরা। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার।</p><blockquote>বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি হওয়ায় রাজপথের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কিছু বিক্ষোভকারী আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদ এবং বেতন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর ধর্মঘট করবে শ্রমিক সংগঠনগুলো।</blockquote><p><strong>ক্ষত মোকাবিলার চেষ্টা</strong></p><p>ফ্রান্সজুড়ে সপ্তাহান্তের সহিংস বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এমনকি লুটপাটে জড়িতদের খুঁজে বের করতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।</p><p>ফরাসি সরকার জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। আগামী সপ্তাহান্তে আবার বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। তবে অতিরিক্ত কতজন পুলিশ মোতায়েন করা হবে, সেটা জানানো হয়নি।</p><p>ব্যাপক সহিংসতায় ক্ষতির শিকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে ফরাসি সরকার। কর্মী ছাঁটাই এড়াতে সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাময়িক ছুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।</p><p>তবে এ সহায়তার আওতায় কত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে ও কীভাবে তা বিতরণ করা হবে; সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সরকার। ক্ষয়ক্ষতির কিছু অংশ বিমার অর্থে লাঘব করা যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/k82hug84/French-riot-police.avif"><figcaption>বিক্ষোভের সময় জ্বলন্ত বস্তুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>বড় পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত</strong></p><p>ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। আগে থেকেই দেশটিতে জীবনযাপনের ব্যয় অনেক বেশি। আর এ নিয়ে ক্ষোভ জনগণকে রাস্তায় নামিয়েছে। তাই এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত।</p><p>ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব সামাল দিতে এ বছর কৃষক, জেলে এবং পণ্য পরিবহন খাতের কর্মীদের মতো কয়েকটি খাতের জন্য জরুরি বরাদ্দ বাড়িয়েছে ফরাসি সরকার।</p><p>ফ্রান্সে বিক্ষোভ শুরু হয় গত মাসে। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়। ওই এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত। শিক্ষকের সংকট ও বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর বিক্ষোভে রূপ নেয়।</p><p>ধুঁকতে থাকা বিদ্যালয়গুলোর জন্য বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি এখনো দেয়নি ফরাসি সরকার। তবে সংকট কাটাতে প্রায় তিন হাজার যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনো কাজে যোগ দেননি।</p><p><strong>নতুন বিক্ষোভ–ধর্মঘটের ডাক</strong></p><p>বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি হওয়ায় রাজপথের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কিছু বিক্ষোভকারী আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবারো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদ এবং বেতন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর ধর্মঘট করবে শ্রমিক সংগঠনগুলো।</p><p>ফ্রান্সজুড়ে এত ব্যাপক পরিসরে বিক্ষোভ হচ্ছে, তাতে এটার শুরু যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে হয়েছে, সেটাই আড়ালে চলে গেছে। দেশটিতে বিদ্যালয়গুলোয় দুই সপ্তাহের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।</p><blockquote>আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর এক দশকের শাসনের অবসান হতে চলেছে। চলমান বিক্ষোভে সবচেয়ে লাভবান হতে পারেন কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মেরিন লো পেন। জনমত জরিপগুলোয় ইতিমধ্যে মাখোঁর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তিনি।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/8nb3n8zdwd">উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি </a></aside><p><strong>আস্থাসংকটে ব্যবসা খাত</strong></p><p>দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও কমতে পারে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাড়তি দাম এবং সরকারি অর্থসংকটের জেরে ব্যবসায়ীদের আস্থা এমনিতেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।</p><p>ফ্রান্সের পার্লামেন্টে রাজনৈতিক বিভাজন বেশ গভীর। সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের বাজেটে কৃচ্ছ্রতার প্রস্তাব পাস করাতে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি সরকার। বিরোধী দলগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে সরকারের সামনে পতনের ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/rgfnklc0/Looters.avif"><figcaption>ফ্রান্সের নঁত শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও লুটপাট হয়েছে</figcaption></figure><p>এ অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের শেয়ারবাজার ও ইউরোর ওপর। দেশটির সরকারি বন্ডের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের তুলনায় ফ্রান্সের বন্ডে বিনিয়োগের ঝুঁকির অতিরিক্ত মুনাফার হার (রিস্ক প্রিমিয়াম) বেড়ে ১৪৬ বেসিস পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/qz03q9kr8a">ইউরোপের দেশে দেশে কেন বিক্ষোভ করছেন মানুষ</a></aside><p><strong>সীমান্ত পেরিয়ে বিক্ষোভ</strong></p><p>ফরাসি সরকার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে, তা সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপের অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেশী ইতালিতে গত রোববার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি সেবার বেশ নিম্নমান আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতালির নাগরিকেরাও বিক্ষোভ করছেন।</p><p>আলবেনিয়াতে গত কয়েক দিন ধরে টানা বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব আর শিক্ষার মান সংকটের প্রতিবাদে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। অন্যদিকে স্পেন ও পর্তুগালে আবাসনসংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/0jpfr0rtic">দুই বিশ্বযুদ্ধে টিকে থাকা ফ্রান্সের সিটি হল ধ্বংস হলো বিক্ষোভকারীদের আগুনে</a></aside><p><strong>ডানপন্থীদের সুবিধা</strong></p><p>আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর এক দশকের শাসনের অবসান হতে চলেছে। চলমান বিক্ষোভে সবচেয়ে লাভবান হতে পারেন কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মেরিন লো পেন। জনমত জরিপগুলোয় ইতিমধ্যে মাখোঁর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন লো পেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/a596icgv/prothomalo-bangla.avif"><figcaption>এমানুয়েল মাখোঁ ও মেরিন লো পেন</figcaption></figure><p>মাখোঁর দলের সাবেক আইনপ্রণেতা জ্যঁ-বাতিস্ত মোরো রয়টার্সকে বলেন, ‘লো পেনের এখন নির্বাচনী প্রচারে আর কোনো অর্থ খরচ করারও প্রয়োজন নেই। তাঁর সামনে পথ শুধু পরিষ্কারই হয়ে যায়নি; বরং ছয় লেনের মহাসড়ক তৈরি হয়ে গেছে।’</p><p>কট্টর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলেশঁও চাপের মুখে পড়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু সহিংসতার নিন্দা জানাতে গড়িমসি করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেলেশঁ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/9pmzre6ioi">ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স: সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভবনে আগুন, গ্রেপ্তার ১২০০</a></aside><p>গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মাখোঁ। চলমান সংকটে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে তাঁর সরকারের অবস্থান।</p><p>মাখোঁর সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ এখন মধ্য-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে থাকা মাখোঁর কাছ থেকে তিনি ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ’ দেখতে চান।</p><p><strong>বিদেশিদের জন্য কতটা নিরাপদ</strong></p><p>ফ্রান্স এখন কতটা নিরাপদ? বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য? এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। সহিংস বিক্ষোভে বিদেশি কেউ হতাহত হয়েছেন, এমন খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সরকার ফ্রান্সে ভ্রমণ করতে যাওয়া নাগরিকদের বড় জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/5vz2bttc6h">ফ্রান্সে অস্থিরতায় প্রকাশ্যে মাখোঁর দুর্বলতা, লাভবান হতে পারেন কট্টর ডানপন্থী লো পেন</a></aside>
<p>চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে এসে চার সহযোগীসহ আটক হয়েছেন পুলিশের এক কনস্টেবল। তাঁর নাম অনিক দাশ। তিনি বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত। বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে খুলশী থানা-পুলিশ।</p><p>নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বান্দরবানের এক পুলিশ কনস্টেবল ও চার সহযোগীকে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় আটক করা হয়েছে।</p><p>এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সময় চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবলসহ বাকিদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চক্রটির সঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে।</p><p>বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবল আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। মামলার কাগজপত্র পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
বনরক্ষীদের দেখে নৌকা থেকে হরিণের মাংস খালে ফেলে দেন। একজন পালিয়ে গেলেও আটক হয়েছেন অন্যজন। নৌকায় পাওয়া যায় হরিণ শিকারের ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন