রাজনীতি

স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের

অক্টোবর ৭, ২০২৬
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/tcqcxqxg/Jatiyo-Party-Anisul.jpeg"><figcaption>রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসিডিয়াম সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) শীর্ষ নেতারা। ৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>দেশে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। একই সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দখলদারি, চাঁদাবাজি বন্ধসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।</p><p>মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।</p><p>সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অপরাধী যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>দেশের মানুষ এখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।</p><p>সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায়। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।</p><p>প্রেসিডিয়াম সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। তাঁরা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির এই অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক (চুন্নু), সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রত্না এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রমুখ।</p>

Prothomalo

View more
রোনালদোর বিস্ফোরক বিবৃতি, ‘সত্যিটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’
রোনালদোর বিস্ফোরক বিবৃতি, ‘সত্যিটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’

<p>পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার সেই বিস্ফোরক ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এত দিন পর পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন দীর্ঘ এক বিবৃতি। সেখানে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রোনালদো। ক্ষমা চেয়েছেন পর্তুগালের মানুষ, সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে। একই সঙ্গে বলেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।</p><p>রোনালদোর দাবি, পর্তুগালের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর কয়েক দফা আলোচনার পরও কোচ প্রতিশ্রুতি রাখেননি। শেষ পর্যন্ত আরেকটি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও বলেছেন পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।</p><p><strong>রোনালদোর পুরো বিবৃতিটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।</strong></p><p>‘যেমনটা আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জাতীয় দলের যাত্রার সর্বশেষ অধ্যায়কে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রথম পুরুষে এবং সরাসরি বর্ণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।</p><p>২০২৬ বিশ্বকাপের পর আমি পর্তুগালের মানুষের জন্য একটি বার্তা তৈরি করেছিলাম। সেটি এখনো আমার কাছে আছে। সেখানে এমন কিছু কথা লিখেছিলাম, যা জাতীয় দলের সঙ্গে শেষবারের মতো বিদায় নেওয়ার সময় তাঁদের বলতে চেয়েছিলাম।</p><p>টুর্নামেন্ট শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার বিমানে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন চায় আমি যেন খেলা চালিয়ে যাই।</p><p>এরপরই তিনি আমাকে বর্তমান জাতীয় দলের কোচের নাম নিয়ে আমার মতামত জানতে চান। অন্য কয়েকজনের নামও তিনি বিবেচনা করছিলেন, যদিও তাঁদের নাম আমাকে বলেননি।</p><p>আমি ফেডারেশনের সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে তিনিই আদর্শ পছন্দ। তাই বর্তমান জাতীয় দলের কোচকে যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো, সেদিন আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। ফলাফলও সেটাই প্রমাণ করে।</p><p>কয়েক দিন পর নতুন জাতীয় দলের কোচ আমাকে প্রথমবার ফোন করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হই এবং আমরা একটি দিন ঠিক করি। ‘আমার ছুটি শেষ হওয়ার দিন।’</p><p>আমাদের দেখা হয়েছিল ফুটবল সিটিতে, যেখানে আমার দল মৌসুম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।</p><p>সেদিন কোচ আমাকে বলেছিলেন, তিনি আমাকে তাঁর পরিকল্পনায় রেখেছেন এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি অপরিহার্য। তিনি আমার তাৎক্ষণিকভাবে দলে অংশ নেওয়ার একটি পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব এবং শারীরিক সক্ষমতার কারণে প্রতিটি ম্যাচে তিন বা চারটি পরিবর্তন করবেন।</p><p>এরপর তিনি প্রস্তাব দেন, আমি যেন জাতীয় দলের সঙ্গে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে না যাই। তাঁর প্রস্তাব ছিল, প্রথম ম্যাচটি খেলে আমি পর্তুগালেই থাকব। এরপর দার্দাও স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেব।</p><p>আমি সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আমার কাছে পরিষ্কার ছিল, এটি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিদেশের ম্যাচগুলো না খেলার অর্থ এই নয় যে আমি আমাদের দলের অধিনায়ক থাকব না। পর্তুগালে থেকে যাওয়ার এই বিশেষ সুবিধা ভালো উদাহরণ তৈরি করত না।</p><p>শেষ পর্যন্ত কোচ আমার বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত হন।</p><p>এই কথোপকথনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিমো কুতিনিও। তিনি আল নাসর ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক এবং সেই ব্যক্তি, যার কাছে বর্তমান জাতীয় দলের কোচ গত মৌসুমজুড়ে রিপোর্ট করতেন। ২০২৫ সালে তাঁকে আল নাসরে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তিনি অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগের দিন কোচ তাঁর অনুরোধে লিসবনে আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আরেক দফা কথা হয়েছিল আমাদের। কথোপকথনটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগস্টে আমরা যে নীতিগুলোতে একমত হয়েছিলাম, সেগুলোই মেনে চলেছিলাম।</p><p>আমি আলভালাদে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি খেলেছিলাম। আমাকে বদলি করা হলেও আমি কোনো সমস্যা তৈরি করিনি। আমি নিজেই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ব্রুনো ফার্নান্দেজকে পরিয়ে দিয়েছিলাম। তখন আমার একবারও মনে হয়নি, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে এটাই হয়তো আমার শেষ সময়।</p><p>সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমাদের জয়। জেতা সব সময়ই ভালো ব্যাপার। আর পর্তুগালে, আমার দেশের জন্য, জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>নরওয়ের ম্যাচের দিন দুপুরে জাতীয় দলের কোচের সহকারী দলের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় আমার টেবিলে এসে বললেন, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কি না।</p><p>আমি তখন পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগী ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই সতীর্থদের সঙ্গে মিশছিলাম এবং মনে করছিলাম, সেদিন আমি খেলব না। এতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।</p><p>এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলনের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, মাসের ৪ তারিখ দার্দাও স্টেডিয়ামের ম্যাচেই শুধু আমার খেলার কথা ছিল। কিন্তু অবশ্যই আমি রাজি হয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, প্রস্তুত থাকতে, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।</p><p>এরপর যা ঘটেছে, তা সবারই জানা। দ্বিতীয়ার্ধের বিরতি থেকেই আমি ওয়ার্মআপ শুরু করি। মিনিটগুলো পার হতে থাকে। কিন্তু কেউ আমাকে মাঠে নামার জন্য ডাকেনি। কোচ তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখেননি।</p><p>ম্যাচ শেষে আমি শুধু চেয়েছিলাম সবকিছু একটি জয় দিয়ে শেষ হোক এবং আমি একা থাকতে চেয়েছিলাম। আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটি একটি ভুল, যার সম্পূর্ণ দায় আমি নিজেই নিচ্ছি। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।</p><p>সেখানে যারা আমাদের দারুণ উৎসাহ দিয়েছিলেন, সেই পর্তুগালের মানুষদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যারা আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন, তাঁরা পর্তুগিজ না হলেও, তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। হয়তো আমি তাঁদের হতাশ করেছি।</p><p>৪৮ ঘণ্টা পর আমি, কোচ এবং সিমো কুতিনিও কথা বলেছিলাম। কারণ, তিনি আমাদের কথোপকথনগুলো অনুসরণ করছিলেন।</p><p>এটি ছিল খুব গভীর এবং খোলামেলা একটি মুহূর্ত। কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি।</p><p>আমরা একমত হয়েছিলাম, এই ‘ঘটনা’ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো কোচ ব্যক্তিগতভাবে আমাকে যা বলেছিলেন, সেটি সিমো কুতিনিওর সামনে আবার বলা। তবে এবার সংবাদ সম্মেলনের কক্ষে।</p><p>চুক্তিটি ছিল সহজ। কোচ সংবাদ সম্মেলন শুরু করবেন এই বিষয়টি দিয়ে। সত্যটা বলে তিনি বিষয়টির ইতি টানার চেষ্টা করবেন। তিনি বলবেন, আমি কখনো কয়েক মিনিটের জন্যও খেলতে চাইনি। এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা একমাত্র কোচই করেছিলেন, অন্য কেউ নয়। আমাকে শুধু ওয়ার্মআপ করিয়ে ম্যাচে না খেলানো ভুল ছিল। আবার এমন হলে তিনি আর এটা করবেন না।</p><p>আমাদের সেই বৈঠক শেষ হয়েছিল কোচ আমাকে আলিঙ্গন করার অনুরোধ জানিয়ে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি আমাকে যা বলেছেন, সেটিই বলবেন এবং বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। আমি ডেনমার্কে খেলব না, কিন্তু দার্দাওয়ের ম্যাচে খেলব। এসবই সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতে হয়েছিল, যেমনটা সব সময় হয়ে থাকে।</p><p>কোচের অনুরোধে তাঁর, সিমো কুতিনিও এবং তিয়াগো ক্রাভেইরোর মধ্যে একটি ভিডিও বৈঠকও হয়েছিল। সেখানে আমরা যা আলোচনা করেছিলাম, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।</p><p>একটি সংক্ষিপ্ত নথি তৈরি করা হয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটি অনুমোদন করেছিলাম। কোচের অনুরোধে সেটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।</p><p>কিন্তু বৈঠকটি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তাঁর আচরণের সঙ্গে আমাদের বৈঠকের কোনো মিল ছিল না। আমি এমন কিছু কথা এবং আক্রমণাত্মক আচরণ শুনেছি, যেগুলো আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তাঁর এমন একটি মনোভাব ছিল, যেন তিনি ‘চান, পারেন এবং নির্দেশ দেন’। অথচ আগের দিন ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ কখনো করেননি, এমনকি পরোক্ষভাবেও নয়।</p><p>আমি যে নোটগুলো পর্যালোচনা করেছি, সেগুলো ছিল এ রকম। ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি, কারণ এটাই সত্য।</p><p>১. জাতীয় দলের এই মৌসুমের জন্য আমি নিজেই ক্রিস্টিয়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলাম। অন্য কেউ নয়। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল।</p><p>২. আমি জানি, সে জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসে এবং বিশ্বজুড়ে তার অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তার চেয়েও বেশি জানি, টানা ২৪ বছর ধরে জাতীয় দলের ওপর তার প্রভাব কতটা ইতিবাচক ছিল।</p><p>৩. ক্রিস্টিয়ানোর জন্য আমি যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলাম, সে সেটি গ্রহণ করেছিল।</p><p>৪. সে কখনো আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সে ছিল অনুসরণ করার মতো একটি উদাহরণ, বিশ্বস্ত এবং পেশাদার।</p><p>৫. নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য আমার তৈরি করা পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর সে শারীরিকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে। তাই তাকে সতর্ক করেছিলাম, প্রয়োজনে হয়তো আমাকে তাকে মাঠে নামাতে হতে পারে। ক্রিস্টিয়ানো এতে রাজি হয়েছিল।</p><p>৬. পেলের বা ম্যারাডোনার মতো একজন খেলোয়াড়কে শুধু ওয়ার্মআপ করিয়ে ম্যাচে না খেলানো আমার ভুল ছিল। আজ যদি আবার একই পরিস্থিতি হতো, আমি এমনটা করতাম না।</p><p>৭. সংক্ষেপে বললে, আমি ক্রিস্টিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। সত্যি বলতে, অল্প নয়, আমি তাকে অনেকটাই চাই। সৌভাগ্যক্রমে, সেও আমাকে বিশ্বাস করে। সে আল নাসরে আমাকে বিশ্বাস করেছিল, এখানেও করেছে।</p><p>৮. সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর বিষয়ে আমরা আগেই কথা বলেছিলাম। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়কে পর্তুগালকে ভালোবাসা শেখানোর প্রয়োজন আমার নেই। সেটি ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা অন্য কিছু মুছে দেয় না। সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলে এবং সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখায়, সেই খেলোয়াড়টিই সে। তাই শূন্য থেকে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয়। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটাই সব। সুতরাং, এই নোটগুলোর কোথাও কোচ আমাকে ক্ষমা চেয়েছেন, এমন কথা উল্লেখ ছিল না।</p><p>এটি ছিল তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দ্বিতীয় ঘটনা।</p><p>আরেকটি প্রতিশ্রুতি, যা রাখা হবে না, সেটির অপেক্ষা না করে আমি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার কাছে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যতই কষ্টদায়ক হোক, আমি চাই সত্যটাই আমাকে বলা হোক।</p><p>আসলে সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আমার যে কথোপকথন হয়েছিল, সেটি যাচাই করা যেতে পারে। আমি তাঁদের বলেছিলাম, তাঁরা যদি আমাকে না চান, তাহলে যেন সেটা আমাকে বলেন। শুধু আমার সঙ্গে সৎ থাকতে হবে। আমি সেটি মেনে নিতাম এবং তাঁদের কথা দিয়েছিলাম, আমরা চমৎকার কিছু প্রস্তুত করব, যেমনটা আমি আশা করি শেষ পর্যন্ত হবে। কেউ রাগও করত না।</p><p>আমার এখনো মনে আছে, যেন গতকালই ঘটেছিল। তাঁরা একসঙ্গে না বলেছিলেন। বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা।</p><p>প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কোচ বা জাতীয় দলের কোনো কর্মকর্তার কোনো কারিগরি কিংবা কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যা প্রস্তাব করেন, ভালো হোক বা খারাপ, আমি তা মেনে নিই। সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আর যখন তাঁরা আমার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তখন আমার মনে হয়, এখানে আমার জায়গা নেই।</p><p>প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য আমি আমার জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। কারণ কোচের বিশ্বাসের প্রতি আমার সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটলেও, এসব কথোপকথনের সাক্ষী থাকা সবাই তা বলতে পারবেন, আমার এমনটা করা উচিত হয়নি। এর সম্পূর্ণ দায় আমার।</p><p>পর্তুগালের মানুষের কাছেও আবার ক্ষমা চাইছি। কিন্তু আমার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, সেই মুহূর্ত থেকে দলের সঙ্গে আমার থাকা শুধু দলের ক্ষতিই করবে। তাই আমি যা সব সময় বলে এসেছি, তা-ই করেছি। যদি মনে হয় আমি আর কোনো কাজে আসছি না, তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাব।</p><p>পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে আমার কাজের পরিণতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং আমাকে শাস্তি দিতে হবে। আমি মনে করি, শাস্তি কমানো উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নই। আমি দলের অধিনায়ক। এটি একটি বাড়তি দায়ের বিষয়। আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু আমি জানি, কাজের পরিণতি আছে। ফুটবল দুনিয়ার যে কেউ, আমার মতোই জানেন, ব্যক্তির অবস্থান যা-ই হোক না কেন, সবার জন্য নিয়ম একই।</p><p>এ প্রসঙ্গে আমি বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। বলা হচ্ছে, আমার উপযুক্ত একটি বিদায়ী ম্যাচ দরকার এবং ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়।</p><p>জীবনে যখন ক্ষুধায় কষ্ট করেছি, খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না, তখন শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা মূল্যে কিছু দেয় না। আমি আমার সব সমর্থককে, বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমরা এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলব। তার জন্য সময় থাকবে।</p><p>কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি। যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও এটাই ভেবেছিলাম। আমি তখন জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলাম। পরদিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দেশের জন্য আমি এমন কিছু করেছিলাম, যা কোনো ক্লাবের জন্য কখনো করতাম না।</p><p>তাই আমি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকি, নিজের দলের হয়ে খেলি এবং গোল করার আশা রাখি, তাহলে আমার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমি জাতীয় দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ের জন্য আগের মতোই প্রস্তুত থাকব।</p><p>এটাই, বিশ্বাস করুন, পরম সত্য।</p><p>ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</p><p>৬ অক্টোবর ২০২৬’</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার আশ্বাস চীনের
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার আশ্বাস চীনের

পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর
রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলার সময় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা ও সুবিধার আশ্বাস দিয়েছেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আদালত থেকে খুনের আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
আদালত থেকে খুনের আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

<p>হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম ঢাকার আদালত থেকে দ্বিতীয়বার পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আবদুল আলিম নামে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শরিফুল ইসলাম পালানোর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>তদন্ত কমিটিতে আছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাসিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদী হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীম।</p><p>এ ঘটনায় ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মোরশেদ আলম। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় করা ১৭(৬)২৫ নম্বর মামলার হাজতি আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (২৮) মঙ্গলবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনস্টেবল মো. আবদুল আলিম তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ৭ নম্বর বিচারিক আদালতের এজলাসের কাঠগড়ায় শিকলের সঙ্গে আটকে রাখেন। এরপর তিনি এজলাসের সামনের বারান্দায় যান।</p><p>এজাহারে বলা হয়, বারান্দা থেকে ফিরে আনুমানিক দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে কনস্টেবল আবদুল আলিম দেখেন, শরিফুল কাঠগড়ায় নেই। তাঁর হাতকড়াটি কাঠগড়ার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছে। তখন আবদুল আলিম বুঝতে পারেন, তিনি বারান্দায় থাকার সময় শরিফুল হাতকড়া খুলে কৌশলে প্রহরী দলের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেছেন।</p><p>মামলায় মোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেছেন, আবদুল আলিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আসামি পালানোর বিষয়টি জানান। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। হাজতখানার পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাতক আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে। বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা আছে। খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় শরিফুল কারাগারে ছিলেন।</p><p>এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি পুলিশের এক সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি হয়েছিল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন পালানোর ঘটনায় সেদিনই কোতোয়ালি থানায় শরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের ১ অক্টোবর ফেনী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি আবার কারাগারে ছিলেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি কারাগারে
ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি কারাগারে

<p>রাজধানীর উত্তরায় ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবিরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।</p><p>আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দীন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না এবং জামিনেরও কোনো আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p>কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) ও মো. সজীব (৩৬)।</p><p>আদালতে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনার বিষয়ে তাঁরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। আসামিদের দেওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের নাম-ঠিকানা পুরোপুরি যাচাই না করা পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।</p><p>এর আগে ২ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আবু নাসির বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন ৩ অক্টোবর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দশম তলায় যান কয়েক ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভয়ে ফ্ল্যাটমালিক তাঁদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন।</p><p>পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায় এবং একজনের কাছে একটি পরিচয়পত্র পায়। পরিচয়পত্রটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন।</p><p>গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আসামি রাসেল মাহবুবের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের মামলা রয়েছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মেসি–সভ্যতার অবসান
মেসি–সভ্যতার অবসান

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাতে অবসান হচ্ছে ফুটবলের এক ঝলমল অধ্যায়ের।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/tcqcxqxg/Jatiyo-Party-Anisul.jpeg"><figcaption>রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসিডিয়াম সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) শীর্ষ নেতারা। ৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>দেশে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। একই সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দখলদারি, চাঁদাবাজি বন্ধসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।</p><p>মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।</p><p>সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অপরাধী যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>দেশের মানুষ এখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।</p><p>সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায়। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।</p><p>প্রেসিডিয়াম সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। তাঁরা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির এই অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক (চুন্নু), সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রত্না এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
উপাচার্যকে ঘেরাও, জোর করে ‘পদত্যাগপত্রে’ সই নেওয়ার অভিযোগ
উপাচার্যকে ঘেরাও, জোর করে ‘পদত্যাগপত্রে’ সই নেওয়ার অভিযোগ

<p>রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ‘মব’ করে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় একটি কাগজে সই করেন তিনি। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন