পাগলা মসজিদের ‘রত্নভাণ্ডারে’ মিলল ১২ কেজি সোনা
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি দলীয় নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে সর্বোচ্চ ১৯৪ ডেসিবল। এর চেয়ে এক বিন্দুও বেশি নয়। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ‘জার বোম্বা’ পারমাণবিক বোমার ২২৪ ডেসিবল কিংবা ব্ল্যাকহোল তৈরি করতে পারা ১,০০০ ডেসিবল শব্দের দাবিগুলো ডাহা গুজব। এসব সংখ্যা দিয়ে বড়জোর বিস্ফোরণের চাপ বোঝানো যেতে পারে, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলো আদৌ কোনো শব্দ নয়।</p><p>কল্পনা করুন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্পিকারটা আপনার সামনে রাখা আছে। আপনি এর ভলিউমের নব ঘোরাতে শুরু করলেন। শব্দ বাড়ছে, আরও বাড়ছে। নব ঘোরানো শেষ হওয়ার অনেক আগেই আপনার কানের পর্দা হয়তো জবাব দিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি নব ঘোরাতেই থাকেন, শব্দ কি অনন্তকাল ধরে বাড়তেই থাকবে?</p><p>উত্তর, না। ওই নবের একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে যাওয়ার পর শব্দ আর শব্দই থাকবে না। স্পিকার গলে যাবে বলে নয়, কিংবা আপনি বধির হয়ে যাবেন বলেও নয়; বরং শব্দের বাহন যে বাতাস, সেটাই ফুরিয়ে যাবে! শুনতে অন্যরকম লাগলেও এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুনিয়ায় নিখাদ সত্য। চলুন, ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা সবচেয়ে জোরালো শব্দের রহস্যগুলো একটু তলিয়ে দেখা যাক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/mqz5ny82e5">শব্দ</a></aside><blockquote>ধাক্কা দিলে বাতাসের অণুগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একে আপনি ঠেসাঠেসি অবস্থা বলতে পারেন। আবার পরমুহূর্তেই সেখানে অণুগুলো পাতলা হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে।</blockquote><h2><strong>শব্দ কী, কীভাবে তৈরি হয়</strong></h2><p>একবার জোরে হাততালি দিন। আপনি এইমাত্র একটি শব্দ তৈরি করলেন। বাস্তবে ঠিক কী ঘটল? আপনার দুই হাতের তালু যখন সজোরে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেল, তখন মাঝখানের বাতাস ছিটকে বেরিয়ে গেল। এই বেরিয়ে যাওয়া বাতাস তো আর হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে না। বাতাস গিয়ে ধাক্কা মারল তার পাশের বাতাসকে। ধাক্কা খেয়ে সেই বাতাস আবার ধাক্কা দিল তার পাশের বাতাসকে। এভাবে ঢেউয়ের মতো চারদিকে ধাক্কাটা ছড়িয়ে পড়ল।</p><p>বুঝতে কষ্ট হলে একটি স্প্রিংয়ের খেলনার কথা ভাবুন। স্প্রিংটিকে টেবিলের ওপর টেনে ধরে এক প্রান্তে ধাক্কা দিন। দেখবেন, স্প্রিংয়ের কুণ্ডলীগুলোর একটা সংকুচিত ঢেউ লাফিয়ে লাফিয়ে অন্য প্রান্তে চলে যাচ্ছে। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, স্প্রিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট কুণ্ডলী তার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না; ওটা শুধু একটু সামনে এগিয়ে পাশের জনকে ধাক্কা দিয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসছে।</p><p>বাতাস ঠিক এই কাজটাই করে। ধাক্কা দিলে বাতাসের অণুগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একে আপনি ঠেসাঠেসি অবস্থা বলতে পারেন। আবার পরমুহূর্তেই সেখানে অণুগুলো পাতলা হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে। মানে ফাঁকা স্থান হয়ে যায়। এই ঠেসাঠেসি আর ফাঁকা অবস্থার ঢেউই হলো শব্দ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/dlz3b85arc">সাইরেনের শব্দ আর ইলেকট্রনের দৌড়ঝাঁপ</a></aside><blockquote>বাতাস গিয়ে ধাক্কা মারল তার পাশের বাতাসকে। ধাক্কা খেয়ে সেই বাতাস আবার ধাক্কা দিল তার পাশের বাতাসকে। এভাবে ঢেউয়ের মতো চারদিকে ধাক্কাটা ছড়িয়ে পড়ল।</blockquote><h2><strong>কত জোরে মানে কী, ডেসিবল বলতে কী বোঝায়</strong></h2><p>শব্দের জোর মাপার একক ডেসিবল জিনিসটা বেশ গোলমেলে। মিটার দিয়ে যেমন দৈর্ঘ্য মাপা যায়, ডেসিবল কিন্তু কোনো কিছুর পরিমাণ নয়। এটি একটি তুলনামূলক মাপকাঠি। একটি সুস্থ কান সবচেয়ে মৃদু যে শব্দ শুনতে পায়, তার সঙ্গে আপনার তৈরি করা শব্দের চাপের তুলনাই হলো ডেসিবল।</p><p>ডেসিবল স্কেল সাধারণ স্কেলের মতো কাজ করে না। প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়ার অর্থ শব্দের চাপ দ্বিগুণ নয়, বরং পাক্কা ১০ গুণ বেড়ে যাওয়া! অর্থাৎ, ৪০ ডেসিবলের চেয়ে ৬০ ডেসিবল একটু বেশি নয়, বরং ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। আর ৮০ ডেসিবল হলো ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এ কারণেই বিশাল সব চাপ বোঝাতে ডেসিবলের সংখ্যাগুলো ছোট আর গোছানো থাকে। ঠিক এই সুযোগটাই নেয় নেটিজেনরা, তারা ইচ্ছামতো ডেসিবল বসিয়ে দেয়!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/15zaff524w">মস্তিষ্ক কীভাবে আলাদা শব্দ বুঝতে পারে</a></aside><blockquote>প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়ার অর্থ শব্দের চাপ দ্বিগুণ নয়, বরং পাক্কা ১০ গুণ বেড়ে যাওয়া! অর্থাৎ, ৪০ ডেসিবলের চেয়ে ৬০ ডেসিবল একটু বেশি নয়, বরং ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।</blockquote><h2><strong>শব্দের জোরের কি কোনো শেষ সীমা আছে</strong></h2><p>ভলিউম বাড়িয়ে দিলে বাতাসের কী অবস্থা হয় খেয়াল করুন। ঠেসাঠেসি করা জায়গাগুলোতে চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের (১ অ্যাটমোস্ফিয়ার) চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। আর ফাঁকা জায়গাগুলোর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়।</p><p>মজার ব্যাপার হলো, এই দুই দিকের কাজটা সমান সহজ নয়। চাপ বাড়ানোর কোনো শেষ নেই; আপনি চাইলে অণুগুলোকে আরও বেশি, আরও শক্তভাবে ঠেসাঠেসি করে রাখতে পারেন। কিন্তু চাপ কমানোর ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা আছে। আপনি যখন অণু সরিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করছেন, তখন একসময় সেখানে আর কোনো অণুই অবশিষ্ট থাকবে না!</p><p>সব অণু সরিয়ে নিলে সেখানে তৈরি হবে শূন্যস্থান। সেখানে চাপ হবে শূন্য। আর এটাই হলো সেই দেয়াল। এর নিচে নামার কোনো উপায় নেই। কারণ ‘বাতাস না থাকার’ চেয়ে কম বাতাস বলে কিছু হয় না! অর্থাৎ, স্বাভাবিক ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ থেকে কমতে কমতে আপনি বড়জোর শূন্যতে নামতে পারবেন। আপনার কমানোর জায়গা ওই ১ অ্যাটমোস্ফিয়ারই, এর বেশি এক বিন্দুও নয়।</p><p>তাই শব্দের জোরের একটি সুনির্দিষ্ট সীমা আছে। এর সঙ্গে আপনার স্পিকারের ক্ষমতা বা বোমার সাইজের কোনো সম্পর্ক নেই। সীমা তৈরি হয়েছে কারণ বাতাসের নিজেরই একটা নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/hn3sg1nzrf">পানি ছাড়াই আগুন নেভাবে শব্দ</a></aside><blockquote>স্বাভাবিক ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ থেকে কমতে কমতে আপনি বড়জোর শূন্যতে নামতে পারবেন। আপনার কমানোর জায়গা ওই ১ অ্যাটমোস্ফিয়ারই, এর বেশি এক বিন্দুও নয়।</blockquote><h2><strong>সীমাটা ঠিক ১৯৪ ডেসিবল কেন</strong></h2><p>অঙ্কটা খুব সহজ। স্প্রিংয়ের সেই ঢেউয়ের কথা ভাবুন। ঢেউটি স্বাভাবিক চাপের চেয়ে নিচে নামতে পারে সর্বোচ্চ ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার। যেহেতু ঢেউয়ের ওঠানামা সমান হয়, তাই এটি ওপরেও উঠতে পারবে সর্বোচ্চ ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার। অর্থাৎ, পৃথিবীর বাতাসে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে এমন একটি শব্দ, যা স্বাভাবিক চাপের চেয়ে ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামে এবং ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার ওপরে ওঠে।</p><p>১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ মানে ১ লাখ ১ হাজার ৩২৫ প্যাসকেল। শব্দের চাপের সাধারণ সূত্রে এই মানটি বসালে উত্তর আসে ঠিক ১৯৪ ডেসিবল! এখানে স্পিকার, শক্তি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো কারসাজি নেই; পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের ওপর। এটি শব্দের কোনো বৈশিষ্ট্য নয়, এটি খোদ আমাদের বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য।</p><h2><strong>১৯৪ ডেসিবল পার হয়ে গেলে কী হবে</strong></h2><p>অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে তা আর শব্দ থাকবে না। যেহেতু বাতাসের চাপ শূন্যের নিচে নামতে পারে না, তাই অতিরিক্ত শক্তিটা ঢেউয়ের সংকুচিত অংশে গিয়ে জমা হতে থাকে। তখন শব্দের সেই সুন্দর ঢেউয়ের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং জন্ম নেয় শক ওয়েভ। এটি তখন শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা একটি চলন্ত দেয়ালে পরিণত হয়, যার পেছনে থাকে চরম শূন্যস্থান।</p><p>শব্দের কারণে আপনার কানের পর্দা কাঁপে, কিন্তু শক ওয়েভ হলো একটি সলিড ধাক্কা। ফাইটার জেট যখন শব্দের বেগ পার হয় বা বজ্রপাত যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন আমরা এই শক ওয়েভই অনুভব করি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/mgov5fvk16">বিদ্যুতের খুঁটিতে গুনগুন শব্দ শোনা যায় কেন</a></aside><blockquote>পৃথিবীর বাতাসে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে এমন একটি শব্দ, যা স্বাভাবিক চাপের চেয়ে ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামে এবং ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার ওপরে ওঠে।</blockquote><h2><strong>১০০০ ডেসিবল কি আদৌ সম্ভব</strong></h2><p>আগেই বলেছি, প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়লে চাপ ১০ গুণ বাড়ে। সেই হিসাবে ৩০০ ডেসিবল মানে হলো আপনার চারপাশের বাতাসের চাপের ২ লাখ গুণ বেশি চাপ! ১০০০ ডেসিবল লিখলে ১-এর পর ৪৫টি শূন্য বসাতে হবে।</p><p>তুলনা করার জন্য বলি, আমাদের সূর্যের একেবারে ভেতরের কোর বা কেন্দ্রের চাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ২৩ হাজার কোটি গুণ। ডেসিবল স্কেলে ফেললে সূর্যের ওই ভয়ংকর কেন্দ্রের চাপ দাঁড়ায় মাত্র ৪২১ ডেসিবল!</p><p>একটু ভেবে দেখুন, যেখানে খোদ সূর্যের পেটের ভেতরের চাপ ৪২১ ডেসিবল, সেখানে ১০০০ ডেসিবল মানে হলো সূর্যের কেন্দ্রের চাপের চেয়েও কয়েক হাজার কোটি গুণ বেশি কিছু! আমাদের চেনা মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই। তাই ১০০০ ডেসিবল শব্দ হলে কী হবে, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এটি অনেকটা ‘মঙ্গলবারের রং কী’ প্রশ্নের মতো অর্থহীন একটি প্রশ্ন।</p><h2><strong>জার বোম্বারের ২২৪ ডেসিবলের গল্প</strong></h2><p>রুশ পারমাণবিক বোমা জার বোম্বার ‘২২৪ ডেসিবল’ শব্দের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো যন্ত্র দিয়ে এটি মাপা হয়নি, বরং বিস্ফোরণের চাপ হিসাব করে কেউ হয়তো উল্টোপথে এই সংখ্যাটি বের করেছে। ধরে নিলাম কোনো যন্ত্র সত্যিই ২২৪ ডেসিবল মেপেছিল; কিন্তু সেটি ছিল একটি বিশাল শক ওয়েভ বা বিস্ফোরণের ধাক্কা, কোনো শব্দ নয়। শব্দবিজ্ঞানের একক ধার করে বিস্ফোরণের চাপ মাপাটাই এই গুজবের সবচেয়ে বড় ভুল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/gl0mjmvfbi">মহাকাশের শব্দ শুনতে কেমন</a></aside><blockquote>আমাদের সূর্যের একেবারে ভেতরের কোর বা কেন্দ্রের চাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ২৩ হাজার কোটি গুণ। ডেসিবল স্কেলে ফেললে সূর্যের ওই ভয়ংকর কেন্দ্রের চাপ দাঁড়ায় মাত্র ৪২১ ডেসিবল!</blockquote><h2><strong>মানুষ কি ২০০ ডেসিবল শব্দে বেঁচে থাকতে পারবে</strong></h2><p>প্রশ্নটা হওয়া উচিত, মানুষ কি এত বিশাল চাপ সহ্য করতে পারবে? মানুষের কান অনেক আগেই হার মানে। ৮৫ ডেসিবলের বেশি শব্দ টানা শুনলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। আর ২০০ ডেসিবল মানে হলো প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই বিশাল চাপ মানুষের কান নয়, বরং সরাসরি ফুসফুসকে ছিন্নভিন্ন করে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই ২০০ ডেসিবল মাত্রার কোনো শক ওয়েভ আপনার দিকে ধেয়ে এলে, কানের পর্দা ফাটাটা হবে আপনার সবচেয়ে ছোট সমস্যা!</p><h2><strong>ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির শব্দ কতটা ভয়ংকর ছিল</strong></h2><p>১৮৮৩ সালের ২৭ আগস্ট ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন ১০০ মাইল দূরে থাকা একটি ব্যারোমিটারের কাঁটা লাফিয়ে উঠেছিল। হিসাব করে দেখা যায়, ১০০ মাইল দূরে বসেও ওই বিস্ফোরণের শব্দ ছিল প্রায় ১৭২ ডেসিবল! ৩ হাজার মাইল দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা গিয়েছিল। আর ৪০ মাইল দূরে থাকা একটি জাহাজের অর্ধেকের বেশি নাবিকের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছিল।</p><p>ভেবে দেখুন, ১০০ মাইল দূরেই যদি ১৭২ ডেসিবল হয় (যা সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে মাত্র ২২ ডেসিবল কম), তবে খোদ আগ্নেয়গিরির মুখে শব্দের অবস্থা কেমন ছিল! সেখানে শব্দ নিশ্চিতভাবেই ১৯৪ ডেসিবলের দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছিল এবং শব্দ থেকে শক ওয়েভে পরিণত হয়েছিল। ইতিহাসে এটিই ছিল শব্দের সর্বোচ্চ সীমার সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার ঘটনা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/keuidvn2dw">বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ আগে চমকায়, শব্দ পরে আসে কেন</a></aside><blockquote>২০০ ডেসিবল মানে হলো প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই বিশাল চাপ মানুষের কান নয়, বরং সরাসরি ফুসফুসকে ছিন্নভিন্ন করে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।</blockquote><h2><strong>স্যাটার্ন ফাইভ রকেটের শব্দ কি সত্যিই ২০৪ ডেসিবল ছিল</strong></h2><p>অ্যাপোলো মিশনের সেই বিখ্যাত রকেটের শব্দ ২০৪ ডেসিবল ছিল বলে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এখানেও একটি ভুল আছে। ২০৪ হলো সাউন্ড পাওয়ার, সাউন্ড প্রেশার নয়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে। সাউন্ড পাওয়ার হলো লাইটবাল্বের ওয়াট, আর সাউন্ড প্রেশার হলো বাল্বের আলোটা আপনার চোখে কতটা উজ্জ্বল লাগছে।</p><p>অ্যাপোলো ৮ উৎক্ষেপণের সময় ৮১.৫ মিটার দূর থেকে মাপা শব্দের আসল চাপ ছিল ১৬৩.৫ ডেসিবল। অর্থাৎ, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটটিও শব্দের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে পাক্কা ৩০ ডেসিবল নিচে ছিল!</p><p>আর টেলর সুইফটের কনসার্টে ৭২ হাজার দর্শকের সেই বিখ্যাত ‘ভূমিকম্প’ তৈরি করা আওয়াজ? ওটাও কোনো শব্দের রেকর্ড ছিল না, বরং হাজার হাজার মানুষের একসঙ্গে লাফানোর কারণে মাটি কেঁপে উঠেছিল। যেমনটা সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপে দেখা গেছে। নরওয়ের যেদিন যেদিন খেলা ছিল, সেদিন নরওয়ে গোল করলেই দেশটির একটি শহর কেঁপে উঠত। আর্লিং হালান্ড গোল করলে কাঁপুনির মাত্রা আরও বেড়ে যেত। বিজ্ঞানীরা প্রথমে ভেবেছিলেন এটা ভূমিকম্প। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটা নরওয়ের মানুষের উল্লাসের কারণে তৈরি মাটির কাঁপুনি। </p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/8woo5y7332">শব্দ থেকে কি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব</a></aside><blockquote>শুক্র গ্রহে যদি ক্রাকাতোয়ার মতো বিস্ফোরণ হয়, তবে সেটি পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে আক্ষরিক অর্থেই বহুগুণ জোরালো হবে। আবার মঙ্গলে গেলে এই সীমা অনেক কমে যাবে।</blockquote><h2><strong>অন্য কোনো গ্রহে কি শব্দ আরও জোরালো হতে পারে</strong></h2><p>শব্দের সীমা যেহেতু বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে, তাই বায়ুমণ্ডল বদলালে সীমানাও বদলে যাবে। নাসার মতে, শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠের চাপ পৃথিবীর চেয়ে ৯৩ গুণ বেশি! সেখানে শব্দের ঢেউ শূন্যে পৌঁছানোর আগে ৯৩ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামার জায়গা পাবে। অর্থাৎ, শুক্র গ্রহে শব্দের সর্বোচ্চ সীমা হবে প্রায় ২৩৩ ডেসিবল! শুক্র গ্রহে যদি ক্রাকাতোয়ার মতো বিস্ফোরণ হয়, তবে সেটি পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে আক্ষরিক অর্থেই বহুগুণ জোরালো হবে। আবার মঙ্গলে গেলে এই সীমা অনেক কমে যাবে। তবে মহাকাশের শূন্যতায় কোনো বাতাস নেই বলে সেখানে কোনো শব্দও নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/syy35b0lwx">বাদুড়ের শব্দ শোনা যায় না কেন?</a></aside><blockquote>পৃথিবীর বুকে ১৯৪ ডেসিবলের এই সীমা মানবসৃষ্ট কোনো প্রযুক্তি বা বিশাল কোনো বোমার ওপর নির্ভর করে না। এটি কেবলই আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের একটি গাণিতিক হিসাব মাত্র।</blockquote><h2><strong>মহাবিশ্বের সবচেয়ে জোরালো শব্দ কোনটি</strong></h2><p>পৃথিবী থেকে ২৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পার্সিউস গ্যালাক্সি ক্লাস্টারে প্রচুর উত্তপ্ত গ্যাস রয়েছে, যা শব্দ পরিবহনে সক্ষম। ২০০২ সালে নাসার চন্দ্র এক্স-রে টেলিস্কোপ সেখানকার একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে বেরিয়ে আসা বিশাল সব চাপের ঢেউ বা শব্দ শনাক্ত করে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, এই শব্দের মাত্রা হলো মিডেল সি-এর চেয়ে ৫৭ অক্টেভ নিচের একটি ‘বি-ফ্ল্যাট’ নোট।</p><p>এটি মানুষের শোনার সীমার চেয়ে কয়েক কোটি গুণ বেশি নিচু স্বরের একটি শব্দ, যা গত আড়াই শ কোটি বছর ধরে একটানা বেজে চলেছে। নাসা শব্দটিকে আমাদের শোনার উপযোগী করতে ৫৭ থেকে ৫৮ অক্টেভ ওপরে তুলেছিল। তবে এখানে ডেসিবলের কোনো অস্তিত্ব নেই। কারণ সেখানকার গ্যাস এতই পাতলা যে তা পৃথিবীর হিসেবে চরম শূন্যস্থান। এমন ফাঁকা জায়গায় শব্দের চাপ একেবারেই নগণ্য হয়। মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এই শব্দটির বিশেষত্ব এর জোরালো আওয়াজে নয়, বরং এর অবিশ্বাস্য স্থায়িত্ব এবং গভীরতায়।</p><p>পৃথিবীর বুকে ১৯৪ ডেসিবলের এই সীমা মানবসৃষ্ট কোনো প্রযুক্তি বা বিশাল কোনো বোমার ওপর নির্ভর করে না। এটি কেবলই আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের একটি গাণিতিক হিসাব মাত্র। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া বিস্ফোরণের সময় প্রকৃতি একবারই এই সীমা ছুঁয়েছিল। যারা সেই ভয়ংকর শব্দের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল, তাদের কাছে তা শুধু শব্দ মনে হয়নি; তাদের মনে হয়েছিল পৃথিবী বুঝি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারপর তারা চিরকালের জন্য বধির হয়ে গিয়েছিল।</p><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/keg1b0m8wn">ফিসফিস করে কথা বললে দূর থেকে শোনা যায় না কেন</a></aside>
<p>ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী নাফিজের গণিত অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু হয় পঞ্চম শ্রেণিতে। প্রথমবার অংশ নিয়েই সে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয় এবং গণিত ক্যাম্পে আসার সুযোগ পায়। সেই থেকে প্রতিবছর সে এই ক্যাম্পের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। এ পর্যন্ত ছয়বার জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছে নাফিজ। ২০২৪ সালে সে জাতীয় পর্যায়ে 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস' হয় এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (IMO) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াডে (APMO) সে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। ইরানিয়ান কম্বিনেটরিক্স অলিম্পিয়াডের অ্যাডভান্সড ক্যাটাগরিতে সে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রৌপ্যপদক জিতেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম। প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্যাম্প থেকে শুরু করে আইএমও ক্যাম্প পর্যন্ত সব ক্যাম্পেই অংশ নিয়েছে নাফিজ। জীবনের সেরা কিছু মুহূর্তও কেটেছে এই ক্যাম্পগুলোতে। গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, আজ সেটি নিয়েই লিখেছে সে।</p><h2><strong>প্রাইমারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরুর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বাসায় নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করা। আটকে গেলে বড় ভাই-বোন বা শিক্ষকের সাহায্য নেওয়া যায়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটেই বিগত বছরের সব প্রশ্ন পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের ক্লাসের গণিত বই শেষ করা যেতে পারে। সম্ভব হলে এক-দুই ক্লাস উপরের গণিত বইও শেষ করা যায়। 'বিডিএমও প্রস্তুতি', 'নিউরনে অনুরণন'-এর মতো বইগুলোও পড়া যেতে পারে।</p><p>বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে দেখা যাবে, অনেক কিছুই আগে থেকে জানা নেই। তখন সমাধানটা দেখার পর সংশ্লিষ্ট টপিকগুলো সঙ্গে সঙ্গে শিখে ফেলা যায়।</p><h2><strong>জুনিয়র ক্যাটাগরি</strong></h2><p>বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এই পর্যায়েই গণিত অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু করে। এ সময় নিজের ক্লাসের গণিত বই শেষ করে ফেলা উচিত। সম্ভব হলে নবম-দশম শ্রেণির গণিত বইও শেষ করতে পারলে ভালো।</p><p>তবে বই পড়ার পাশাপাশি এ সময় প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের বিগত বছরের প্রশ্ন তো আছেই। এর পাশাপাশি অন্য দেশের অলিম্পিয়াডের প্রশ্নও চেষ্টা করা উচিত। যেমন আমেরিকার AMC ও AIME, কিংবা আর্জেন্টিনা, পোল্যান্ড, আজারবাইজান, বেলজিয়াম, বেলারুশ, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন Art of Problem Solving (AoPS) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।</p><p>প্রবলেমগুলো নিজে চেষ্টা করার পর ওয়েবসাইটে অন্যদের সমাধানও পড়তে হবে। এতে একটি প্রবলেম ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা শেখা যায়। কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা গ্রুপ খুলে নিয়মিত প্র্যাকটিস করাও খুব ভালো একটি আইডিয়া।</p><p>এ সময় অনেকে কিছু বইও পড়ে। যেমন 'গণিতের স্বপ্নযাত্রা: গণিত অলিম্পিয়াডের প্রথম ধাপ', 'কম্বিনেটরিক্সের হাতেখড়ি', 'প্রমাণ কর যে' ইত্যাদি।</p><p>প্র্যাকটিসের জন্য <a href="http://gonitzoggo.com/">gonitzoggo.com</a> ওয়েবসাইটটিও খুব কার্যকর। সেখানে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রবলেম আছে। এ ছাড়া গণিতযজ্ঞ ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের বিগত বছরের প্রশ্নের জাতীয় পর্যায়ের প্রশ্ন গুলোর একটি সমাধান-আর্কাইভ আছে। সেখান থেকে জুনিয়র ও সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির প্রবলেমগুলো প্র্যাকটিস করা যায়। সেগুলোর সমাধান পড়ে কিভাবে জাতীয় পর্যায়ের Proof-based প্রশ্নের সমাধান করা যায় ও সমাধান লিখতে হয় তা শেখা যাবে।</p><h2><strong>সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা শুরু করা উচিত। যেমন:</p><p>● আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (IMO) ও IMO শর্টলিস্ট</p><p>● এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াড (APMO)</p><p>● বলকান গণিত অলিম্পিয়াড (Balkan MO) ও Balkan MO শর্টলিস্ট</p><p>● ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড (EGMO)</p><p>● ইরানিয়ান জিওমেট্রি অলিম্পিয়াড (IGO)</p><p>● ইরানিয়ান কম্বিনেটরিক্স অলিম্পিয়াড (ICO)</p><p>এ সময় অনেকে টপিকভিত্তিক বইও পড়ে:</p><p>● <strong>জ্যামিতি:</strong> Euclidean Geometry in Mathematical Olympiads (EGMO), অথবা আমার লেখা 'জ্যামিতির অন্তরালে'।</p><p>● <strong>কম্বিনেটরিক্স:</strong> 'কম্বিনেটরিক্সের হাতেখড়ি', Olympiad Combinatorics, অথবা Problem-Solving Strategies।</p><p>● <strong>সংখ্যাতত্ত্ব:</strong> Modern Olympiad Number Theory (MONT)।</p><p>● <strong>বীজগণিত:</strong> 'বীজগণিতের সূত্রপাত'। ফাংশনাল ইকুয়েশন, পলিনমিয়াল ইত্যাদি টপিকের জন্য অনলাইনে আলাদা আলাদা বইও পাওয়া যায়।</p><p>কম্বিনেটরিক্স, সংখ্যাতত্ত্ব ও বীজগণিত একসঙ্গে শেখার জন্য খুবই ভালো একটি বই হলো OTIS Excerpts। বইটির পিডিএফ অনলাইনে পাওয়া যায়।</p><p>প্রথমবার পড়লে এই বইগুলো অনেকের কাছেই কঠিন মনে হতে পারে। কেউ কেউ ঘাবড়েও যেতে পারে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও প্রথমবার পড়েই সব বুঝে ফেলেছিলাম, এমন নয়। তবে আমি একটা কৌশল মেনে চলতাম। কোনো বই একবার পড়ার পর, সব না বুঝলেও, দুই-তিন মাসের জন্য সেটা সরিয়ে রাখতাম। দুই-তিন মাস পর যখন আবার শুরু থেকে পড়তাম, তখন মনে হতো, "আরে, এই জিনিসটা তো এখন বুঝি! ও আচ্ছা, এটা দিয়ে এটা বোঝানো হয়েছে, এটা এখান থেকে এসেছে।" দ্বিতীয়বার পড়ার সময় অনেক কিছুই পরিচিত মনে হয়। ফলে বোঝাও সহজ হয়।</p><p>তবে যত বই-ই পড়ি না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের প্রবলেম সলভিং স্কিল। আর সেটা তখনই ভালো হবে, যখন আমরা প্রচুর প্রবলেম প্র্যাকটিস করব এবং সেগুলোর সমাধান পড়ব।</p><h2><strong>হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে এসে খুব কম শিক্ষার্থীই নতুন করে অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু করে। তবে দেরিতে শুরু করেছি ভেবে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির জন্য যে বইগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এই পর্যায়েও পড়তে হবে। পাশাপাশি প্রচুর প্রবলেম প্র্যাকটিস করতে হবে। বিশেষ করে ওপরে উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোর প্রশ্ন সমাধান করা শিখতে হবে।</p>
এসআরবির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলগুলো উদ্ধার করে নিরাপদে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
<p> আট বছর আগে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ৭০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুরে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আবদুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও দাবি করেছেন।</p><p> আজ সোমবার লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান বিপ্লব এ অভিযোগ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি এবং পৌর শহরের বাঞ্ছানগর এলাকার বাসিন্দা।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের নির্দেশে পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে তাঁকে থানার এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রাখার পর রাতে মোটা লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে খাবারও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।</p><p>বিপ্লবের ভাষ্য, রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে গেলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। পরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।</p><p>এরপর গভীর রাতে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়।</p><p>বিপ্লবের অভিযোগ, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।</p><h3>‘বাবার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়’ </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওসি লোকমান আমার বাবার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। ছেলেকে হারানোর ভয়ে বাবা দেনদরবারের পর ৭০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় আমার বাবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।’</p><p>বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ তাঁর ২০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।</p><h3>অন্য দুজনের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার দায়িত্বে থাকাকালে ওসি লোকমান হোসাইন রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রায়পুর পৌর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করেন। তাঁদের মারধর করে টাকা নেওয়ার পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।</p><p>বিপ্লবের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন ওসি লোকমান হোসাইন। বর্তমানে তিনি পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত বলে জানান বিপ্লব। এসব অভিযোগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।</p><p>এসব বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার সাবেক ওসি লোকমান হোসাইন প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ৭০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক আগের ঘটনা, যতটুকু মনে পড়ে, ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে দিয়েছিল। আমি তাকে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছি। নির্যাতনের অভিযোগও সঠিক নয়।’</p>
<p>চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্র স্মরণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইলা মিত্র মেলা’ জমে উঠেছে। মেলার দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার ছিল নৃত্য, গান ও আলোচনা সভার মতো আয়োজন।</p><p> চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডাকবাংলো মাঠে শুরু হওয়া মেলার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি বেলা তিনটার দিকে শুরু হয় স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বৃন্দ নৃত্য দিয়ে। এরপর নওগাঁ থেকে আসা ওঁরাও শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া গান পরিবেশন করেন বাউল শিল্পীরা।</p><p>এরপর বিকেল চারটার দিকে ইলা মিত্রের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কৃষকনেতা মন্টু মাহাতোর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট লেখক ও ইলা মিত্র গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য সুজাত আলী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, আদিবাসী ইউনিয়নের সভানেত্রী রেবেকা সরেন, ক্ষেতমজুর নেতা খলিলুর রহমান বাঙালি, আখচাষি নেতা আলতাফ হোসেন প্রমুখ।</p><p>ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রয়াত মাওবাদী নেতা চারু মজুমদারের ছেলে অভিজিৎ মজুমদার, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, মাওবাদীর (সিপিআইএম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমরেড মণি সিংহের ছেলে দিবালোক সিংহ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/dq6ixyda/chapainawabgonj2.jpg"><figcaption>নওগাঁ থেকে আসা ওঁরাও শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করেন</figcaption></figure><p>গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী বলেন, ইলা মিত্রকে স্মরণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্যান্য সহযোদ্ধাকে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার। বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের এসব বীর সংগঠক ও কর্মীদের ত্যাগ ও বীরত্বকে স্মৃতি থেকে মুছে যেতে দেওয়া উচিত হবে না। বৃন্দাবন সাহা, আজাহার শেখ, অনিমেষ লাহিড়ীর কথাও মনে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইলা মিত্রকে ইলা মিত্র হিসেবে গড়ে তোলার মূল কারিগর ছিলেন তাঁর স্বামী কমিউনিস্ট নেতা রমেন মিত্র। তাঁর কথাও আমাদের বলতে হবে।</p><p>প্রয়াত মাওবাদী নেতা চারু মজুমদারের ছেলে অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ইলা মিত্র কলকাতার মেয়ে হয়ে যেভাবে নাচোলের গরিব কৃষক ও আদিবাসীদের নিয়ে তেভাগার লড়াই করেছিলেন, সে জন্য আজও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাঁকে স্মরণ করবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/2qdncdpv/chapainawabgonj3.jpg"><figcaption>ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি</figcaption></figure><p>সিপিআইএম ও পশ্চিমবঙ্গের তরুণ বামপন্থী নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ইলা মিত্র তাঁর সমগ্র জীবন মেহনতি কৃষক-মজদুরের মুক্তির জন্য নিবেদন করেছিলেন। তিনি উভয় বাংলার মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। এ সময় মীনাক্ষী বলেন, দুই বছর আগে আপনারা লড়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। আজ আমরা লড়ছি গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। ইউরোপে ছাত্ররা লড়ছে শিক্ষার অধিকারের জন্য।</p><p>সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহ ইলা মিত্রের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা করেন। দিবালোক সিংহ বলেন, ইলা মিত্র নাচোলে তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের মেহনতি কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/mo2bvo1dqb">অদম্য সাহসের প্রতীক ইলা মিত্র</a></aside>
<p>দক্ষিণ মহাসাগরের নির্জন এক আগ্নেয় দ্বীপ জাভোদোভস্কি। একসময় এখানে বাস করত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইনের দল। কিন্তু সম্প্রতি এই দ্বীপ থেকে পাঁচ লাখের বেশি চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন আবাসস্থলের খেতাব হারিয়েছে দ্বীপটি। জনমানবহীন এই দ্বীপ থেকে বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইন উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/c6chufnjvg">পেঙ্গুইন কেন উড়তে পারে না</a></aside><blockquote>কিন্তু ২০২৩ সালে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকেরা জাভোদোভস্কি দ্বীপটিতে গিয়ে দেখেন, চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।</blockquote><h2><strong>দুর্গম দ্বীপে পেঙ্গুইনের আবাস</strong></h2><p>থুতনির নিচে কালো পালকের সরু একটি রেখা দেখে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন খুব সহজেই চেনা যায়। এরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। দক্ষিণ মেরুর উত্তরে সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের অংশ পাথুরে জাভোদোভস্কি দ্বীপ এদের বসবাসের জন্য বেশ উপযোগী হলেও সারা বছরই সেখানে প্রবল বাতাস থাকে। এই দ্বীপে চিনস্ট্র্যাপের পাশাপাশি বাস করে ম্যাকারনি পেঙ্গুইন, যাদের মাথায় হলুদ পালকের ঝুঁটি থাকে। ২০১১ সালে জাভোদোভস্কি দ্বীপকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির আবাসস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকেরা দ্বীপটিতে গিয়ে দেখেন, চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/wjm1iwl6c1">প্রাণিজগতের অদ্ভুত ও মজার ৭ ছবি</a></aside><blockquote>ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের পেঙ্গুইনবিষয়ক গবেষক ও এই গবেষণার প্রধান নরম্যান র্যাটক্লিফ মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।</blockquote><h2><strong>১৪ বছরে কমেছে ৬৩ শতাংশ</strong></h2><p>৭ অক্টোবর <em>কারেন্ট বায়োলজি</em> বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর দ্বীপটি থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে। এটা দ্বীপটির মোট পেঙ্গুইনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। আকাশ থেকে তোলা ছবি ও কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের দখলে থাকা বাসার সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমে গেছে।</p><p>ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের পেঙ্গুইনবিষয়ক গবেষক ও এই গবেষণার প্রধান নরম্যান র্যাটক্লিফ বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকার কোনো একটি জায়গায় প্রাণীদের প্রজাতিগত গঠনে এত বড় পরিবর্তন আগে কখনো দেখা যায়নি।’ তাঁর মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। র্যাটক্লিফ আরও বলেন, ‘উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন বেশ পরিষ্কার সংকেত দিচ্ছে।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/4zcuj8qko0">সব পাখি কেন উড়তে পারে না</a></aside><blockquote>আকাশ থেকে তোলা ছবি ও কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের দখলে থাকা বাসার সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমে গেছে।</blockquote><h2><strong>দুই সপ্তাহের দুর্গম যাত্রা</strong></h2><p>জাভোদোভস্কি দ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত দুর্গম। নিকটতম স্থায়ী জনবসতি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল। পরিবেশ বেশ প্রতিকূল হওয়ায় বিজ্ঞানীরা খুব কমই সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান। দ্বীপটিতে পৌঁছাতে গবেষকদের যাত্রা শুরু করতে হয়েছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে তাঁদের সময় লেগেছিল দুই সপ্তাহ। পথে ভয়ংকর ঝড়ের কবলে পড়ে কয়েকবার ফিয়র্ডের (হিমবাহের ক্ষয়ের কারণে তৈরি হওয়া গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকা) ভেতর আশ্রয় নিতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁরা দ্বীপের এমন একটি অংশে পৌঁছান, যেখানে খাড়া পাহাড় আর উত্তাল স্রোত তুলনামূলক কম। পাথরের ওপর তাঁবু খাটিয়ে সেখানে তিন দিন কাটান গবেষকেরা। এ সময় তাঁরা ড্রোন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে অবস্থানরত একটি ব্রিটিশ উড়োজাহাজ থেকে তোলা ছবি এবং পেঙ্গুইনের শরীরে লাগানো বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পাখিগুলোর সংখ্যা ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/jb8n81tqm3">পাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারে</a></aside><blockquote>২০১৬ সালে দ্বীপটিতে একটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য সেটি দায়ী নয়। কারণ, অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক বছর আগেই সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল।</blockquote><h2><strong>কেন কমছে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন</strong></h2><p>সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমার ঘটনা বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, আশির দশকের আগের জরিপের তুলনায় অ্যান্টার্কটিকার কয়েকটি দ্বীপে এই পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। তবে দীর্ঘদিন ধারণা করা হতো, অন্য জায়গায় সংখ্যা কমলেও জাভোদোভস্কি দ্বীপের পেঙ্গুইনেরা এই প্রবণতার বাইরে রয়েছে।</p><p>কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেল, দ্বীপটিতে পেঙ্গুইনের সংখ্যা হঠাৎ করেই বিশাল মাত্রায় কমেছে। বর্তমানে পৃথিবীর অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় জাভোদোভস্কি দ্বীপে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমার হার সবচেয়ে বেশি। র্যাটক্লিফ জানিয়েছেন, সেখানে প্রতিবছর পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৭ শতাংশ করে কমছে, যা অন্য জায়গার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি।</p><p>২০১৬ সালে দ্বীপটিতে একটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য সেটি দায়ী নয়। কারণ, অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক বছর আগেই সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল। বাসা বাঁধার জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা কিংবা আশপাশের সমুদ্রে ক্রিল ধরার নৌযানের প্রভাবও এর প্রধান কারণ নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ey9mfwwd0v">বিদ্যুতের তারে পাখি বসলে শক লাগে না কেন</a></aside><blockquote>২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, আশির দশকের আগের জরিপের তুলনায় অ্যান্টার্কটিকার কয়েকটি দ্বীপে এই পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।</blockquote><p>তাঁদের মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে এবং সমুদ্র উষ্ণ হচ্ছে। এতে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের অন্যতম প্রধান খাবার ক্রিলের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ক্রিল নামের ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবার ও আশ্রয়ের জন্য সামুদ্রিক বরফের ওপর নির্ভর করে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ক্রিলগুলো দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের পক্ষে এদের অনুসরণ করা কঠিন। কারণ, আরও দক্ষিণের সাগরে বরফ অনেক বেশি থাকায় খাবার সংগ্রহ করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। র্যাটক্লিফ বলেন, ‘চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন বিশেষ ধরনের পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল একটি প্রজাতি। পৃথিবীতে এদের বসবাসের এলাকা এমনিতেই সীমিত। এখন সেই এলাকাও ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/6m2melflpx">কিছু পাখি কেন মানুষের মতো কথা বলে</a></aside><blockquote>ক্রিল নামের ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবার ও আশ্রয়ের জন্য সামুদ্রিক বরফের ওপর নির্ভর করে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ক্রিলগুলো দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে।</blockquote><h2><strong>ম্যাকারনি পেঙ্গুইন বাড়ছে, ঝুঁকিতে চিনস্ট্র্যাপ</strong></h2><p>গবেষণাটিতে কিছু আশার খবরও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দ্বীপটিতে ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের সংখ্যা ২৮ শতাংশ বেড়েছিল এবং এরপর থেকে এদের সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। র্যাটক্লিফের মতে, ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করার ধারণাকে আরও জোরালো করে। কারণ, তুলনামূলক উষ্ণ পানিতে থাকতে এদের সমস্যা হয় না এবং এরা নানা ধরনের খাবার খেতে পারে। ফলে ক্রিলের ওপর এদের নির্ভরশীলতাও কম।</p><p>জাভোদোভস্কি দ্বীপে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার অন্যান্য এলাকায় এদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে। বর্তমানে অবশ্য প্রজাতিটিকে সবচেয়ে কম উদ্বেগজনক শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।</p><p>ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের আরেক গবেষক পিটার ফ্রেটওয়েল পেঙ্গুইনের সংখ্যা পর্যবেক্ষণে দূর অনুধাবন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ মানুষের বসতি থেকে অনেক দূরে। পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের বাস সেখানে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে এরাও রক্ষা পাচ্ছে না।’</p><h4>সূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান ও পেঙ্গুইন ম্যাপ ডটকম</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/22ansrj52u">পৃথিবীতে এত পাখি থাকতে আমরা শুধু মুরগি খাই কেন</a></aside>
জন্ম থেকে দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন নরসিংদীর দুঃখু মিয়া।
<p>বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক অ্যাগ্রো টুরিজম প্রকল্প ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ, বগুড়া’র নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।</p><p> গত শনিবার বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে বাঁকাদীঘির পাড় এলাকায় প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মনিয়া খানম, কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস।</p><p>অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম প্রমুখ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রকল্পের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। অ্যাগ্রো ট্যুরিজম এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, বরং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞতাকেও পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। স্মার্ট কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের কৃষি খাতের পরবর্তী অগ্রযাত্রার অন্যতম ভিত্তি। “সুখের খামার” সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উদ্যোগ।’</p><p>প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরছি। আমাদের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে।’</p><p>চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ত্রয়োদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬–এ সুখের খামার এগ্রোর নকশা উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক অংশীদার হাতে দলিলও বুঝে পান।</p>
সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেয় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।
স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলা সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে ঢাকায় একটি আদালতে তোলে পুলিশ। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
শনিবারের ওই হামলার পরদিন রোববার মন্ত্রণালয় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোঃ নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মো: শাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বাইরে থেকে আপনাকে সুখী দেখালেও ভেতরে ভেতরে যদি আপনি কষ্ট পান, তবে আপনার এক ধরনের অস্বাভাবিক বিষণ্ণতা থাকতে পারে — কিন্তু প্রকৃত অনুভূতি গোপন করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছপালা কর্তনের কাজের জন্য মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি) পুনর্গঠন করেছে সরকার।
পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলা ঘটনায় খুলনা জেলা পুলিশের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুলনায় জোরদার করতে এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার পৃথক এলাকায় অবৈধভাবে মজুদ করা ৭০ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গ দুইজনকে নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনলের সটাকি লঞ্চঘাটের কাছে মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে।