করপোরেট সংবাদ

বগুড়ায় ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’–এর নির্মাণ শুরু

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বগুড়ায় ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’–এর নির্মাণ শুরু
বগুড়ায় ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’–এর নির্মাণ শুরু
<p>বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক অ্যাগ্রো টুরিজম প্রকল্প ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ, বগুড়া’র নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।</p><p> গত শনিবার বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে বাঁকাদীঘির পাড় এলাকায় প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মনিয়া খানম, কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস।</p><p>অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম প্রমুখ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রকল্পের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। অ্যাগ্রো ট্যুরিজম এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, বরং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞতাকেও পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। স্মার্ট কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের কৃষি খাতের পরবর্তী অগ্রযাত্রার অন্যতম ভিত্তি। “সুখের খামার” সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উদ্যোগ।’</p><p>প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরছি। আমাদের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে।’</p><p>চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ত্রয়োদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬–এ সুখের খামার এগ্রোর নকশা উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক অংশীদার হাতে দলিলও বুঝে পান।</p>

Prothomalo

View more
বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না
বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না

<p>‘বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না’—এ শিরোনামে একটি ফেসবুক পোস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে, তথা শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। বৃষ্টির পুরো নাম বৃষ্টি প্রামাণিক। সে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিল।</p><p>বৃষ্টি ক্যাম্পাসে খুব পরিচিত মুখ ছিল। একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরেও তার গঠনমূলক কর্মকাণ্ড, বিনয়ী আচরণের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার কাছে খুব পছন্দের ছিল। প্রথম যখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তখনই সে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরামে (বিআরইউডিএফ) বিতর্ক শুরু করে। এখানে সে সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। পরে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। যেকোনো অনুষ্ঠানে তার উপস্থাপনা প্রাণবন্ত-সাবলীল। উপস্থাপনাগুণে অনুষ্ঠান প্রাণ লাভ করত।</p><p>প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গেও বৃষ্টি যুক্ত ছিল। বন্ধুসভা রংপুরের সে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সহসভাপতি ছিল। আমি উভয় সংগঠনের উপদেষ্টা থাকার কারণে অনেক কাজে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগও ছিল। সে লেখাপড়া শেষে চাকরিতেও যোগদান করেছে। </p><p>ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছে। এখন যক্ষ্মা কর্মসূচির প্রোগ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক হয়েছে। গত ৭ আগস্ট বিয়ের পূর্ব–আনুষ্ঠানিকতা বাগ্‌দানও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর তার বিয়ের তারিখ ধার্য ছিল।</p><p>বাগ্‌দানের পর বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কেনাকাটাসহ যখন নানা রকম প্রস্তুতি এবং নতুন সংসারের জীবন নিয়ে পরিকল্পনা চলছিল, ঠিক তখনই জানা যায়, বৃষ্টির শরীরে ভয়ংকর ব্যাধি ক্যানসার দানা বেঁধেছে। উজ্জ্বল-উচ্ছল জীবনে নেমে আসে করুণ সুর। বিয়ে-সংসার সবকিছুই এখন গৌণ। এখন লড়াই বেঁচে থাকার। সুস্থ হলে তারপর অন্য সব। কিন্তু সুস্থতার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা ভীষণ ব্যয়বহুল। এই ব্যয় নির্বাহ করার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। বন্ধু-স্বজনসহ নিকটজনেরা চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে।</p><blockquote>আমরা তার পরিচিতজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব-স্বজন, কেউই তাকে হারাতে চাই না। আপনারা কি আমাদের বৃষ্টির জন্য হাত বাড়াবেন না? আপনাদের বাড়ানো বলেই বৃষ্টির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। প্লিজ সবাই হাতটা বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহায়তা পেলে আমাদের সবার প্রিয় বৃষ্টি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে ফিরবে। ফিরবেই।</blockquote><p>বৃষ্টিকে ফোন করার সাহস করতে পারিনি। ওর মানসিক অবস্থা কল্পনাও করা সম্ভব নয়। এটুকু বুঝি, যেহেতু আশার সূর্য সম্পূর্ণ ডুবে যায়নি, তাই নিশ্চয়ই সে স্বপ্ন দেখছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার। তার চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। চিকিৎসা হবে ভারতে। আমরা জানি, মানুষের বিপদে মানুষই পাশে দাঁড়ায়। বৃষ্টির পাশে মানুষ দাঁড়াবে। চিকিৎসা শেষে বৃষ্টি উজ্জ্বল হাসি নিয়ে ফিরবে। আমাদের সেই চঞ্চল-মিষ্টি মেয়ে বৃষ্টি।</p><p>বৃষ্টি নিজেও সেই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেছে—যে পোস্টে বলা হয়েছে ‘বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না’। আমরা তার পরিচিতজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব-স্বজন, কেউই তাকে হারাতে চাই না। আপনারা কি আমাদের বৃষ্টির জন্য হাত বাড়াবেন না? আপনাদের বাড়ানো বলেই বৃষ্টির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। প্লিজ সবাই হাতটা বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহায়তা পেলে আমাদের সবার প্রিয় বৃষ্টি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে ফিরবে। ফিরবেই।</p><h3>আর্থিক সহায়তার জন্য— </h3><p>বিকাশ: <strong>০১৮৬২৭৪৪৫৩৭</strong> (বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার)</p><p>নগদ (পারসোনাল): <strong>০১৮৬২৭৪৪৫৩৭</strong> (বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার)</p><p><strong>ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর:</strong> বৃষ্টি প্রামাণিক, অ্যাকাউন্ট নম্বর 0299101002562, পূবালী ব্যাংক লি., রংপুর শাখা, রংপুর, রাউটিং নম্বর: 175851450</p><p>donatebristi.xyz লিখে সার্চ দিলে বিস্তারিত জানা যাবে। সেখানেও টাকা পাঠানোর ঠিকানা দেওয়া আছে।</p><ul><li><p><strong>তুহিন ওয়াদুদ</strong> অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়</p></li></ul>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
লিটনের সেঞ্চুরি আর রেকর্ডের দিনটা বাংলাদেশের
লিটনের সেঞ্চুরি আর রেকর্ডের দিনটা বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে তারা করতে পেরেছে ১৩২ রান।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
এআই-রোবোটিকসের যুগেও বড় বড় দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর যুক্তি দিচ্ছেন: ববি হাজ্জাজ
এআই-রোবোটিকসের যুগেও বড় বড় দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর যুক্তি দিচ্ছেন: ববি হাজ্জাজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা দিনরাত মেয়েদের বিয়ের আইনি বয়স কমানোর যুক্তি দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
শ্রেণিকক্ষে খাট পেতে থাকছেন কলেজ অধ্যক্ষ
শ্রেণিকক্ষে খাট পেতে থাকছেন কলেজ অধ্যক্ষ

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম কক্ষটি ব্যবহার করেন। তবে অধ্যক্ষ দাবি করেন, এই কক্ষে তিনি রাত্রিযাপন করেন না।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সারের ডিলার হয়েছেন এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী
সারের ডিলার হয়েছেন এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
কতটা জোরে শব্দ হলে কেঁপে উঠবে পৃথিবী
কতটা জোরে শব্দ হলে কেঁপে উঠবে পৃথিবী

<p>পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে সর্বোচ্চ ১৯৪ ডেসিবল। এর চেয়ে এক বিন্দুও বেশি নয়। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ‘জার বোম্বা’ পারমাণবিক বোমার ২২৪ ডেসিবল কিংবা ব্ল্যাকহোল তৈরি করতে পারা ১,০০০ ডেসিবল শব্দের দাবিগুলো ডাহা গুজব। এসব সংখ্যা দিয়ে বড়জোর বিস্ফোরণের চাপ বোঝানো যেতে পারে, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলো আদৌ কোনো শব্দ নয়।</p><p>কল্পনা করুন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্পিকারটা আপনার সামনে রাখা আছে। আপনি এর ভলিউমের নব ঘোরাতে শুরু করলেন। শব্দ বাড়ছে, আরও বাড়ছে। নব ঘোরানো শেষ হওয়ার অনেক আগেই আপনার কানের পর্দা হয়তো জবাব দিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি নব ঘোরাতেই থাকেন, শব্দ কি অনন্তকাল ধরে বাড়তেই থাকবে?</p><p>উত্তর, না। ওই নবের একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে যাওয়ার পর শব্দ আর শব্দই থাকবে না। স্পিকার গলে যাবে বলে নয়, কিংবা আপনি বধির হয়ে যাবেন বলেও নয়; বরং শব্দের বাহন যে বাতাস, সেটাই ফুরিয়ে যাবে! শুনতে অন্যরকম লাগলেও এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুনিয়ায় নিখাদ সত্য। চলুন, ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা সবচেয়ে জোরালো শব্দের রহস্যগুলো একটু তলিয়ে দেখা যাক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/mqz5ny82e5">শব্দ</a></aside><blockquote>ধাক্কা দিলে বাতাসের অণুগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একে আপনি ঠেসাঠেসি অবস্থা বলতে পারেন। আবার পরমুহূর্তেই সেখানে অণুগুলো পাতলা হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে।</blockquote><h2><strong>শব্দ কী, কীভাবে তৈরি হয়</strong></h2><p>একবার জোরে হাততালি দিন। আপনি এইমাত্র একটি শব্দ তৈরি করলেন। বাস্তবে ঠিক কী ঘটল? আপনার দুই হাতের তালু যখন সজোরে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেল, তখন মাঝখানের বাতাস ছিটকে বেরিয়ে গেল। এই বেরিয়ে যাওয়া বাতাস তো আর হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে না। বাতাস গিয়ে ধাক্কা মারল তার পাশের বাতাসকে। ধাক্কা খেয়ে সেই বাতাস আবার ধাক্কা দিল তার পাশের বাতাসকে। এভাবে ঢেউয়ের মতো চারদিকে ধাক্কাটা ছড়িয়ে পড়ল।</p><p>বুঝতে কষ্ট হলে একটি স্প্রিংয়ের খেলনার কথা ভাবুন। স্প্রিংটিকে টেবিলের ওপর টেনে ধরে এক প্রান্তে ধাক্কা দিন। দেখবেন, স্প্রিংয়ের কুণ্ডলীগুলোর একটা সংকুচিত ঢেউ লাফিয়ে লাফিয়ে অন্য প্রান্তে চলে যাচ্ছে। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, স্প্রিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট কুণ্ডলী তার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না; ওটা শুধু একটু সামনে এগিয়ে পাশের জনকে ধাক্কা দিয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসছে।</p><p>বাতাস ঠিক এই কাজটাই করে। ধাক্কা দিলে বাতাসের অণুগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একে আপনি ঠেসাঠেসি অবস্থা বলতে পারেন। আবার পরমুহূর্তেই সেখানে অণুগুলো পাতলা হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে। মানে ফাঁকা স্থান হয়ে যায়। এই ঠেসাঠেসি আর ফাঁকা অবস্থার ঢেউই হলো শব্দ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/dlz3b85arc">সাইরেনের শব্দ আর ইলেকট্রনের দৌড়ঝাঁপ</a></aside><blockquote>বাতাস গিয়ে ধাক্কা মারল তার পাশের বাতাসকে। ধাক্কা খেয়ে সেই বাতাস আবার ধাক্কা দিল তার পাশের বাতাসকে। এভাবে ঢেউয়ের মতো চারদিকে ধাক্কাটা ছড়িয়ে পড়ল।</blockquote><h2><strong>কত জোরে মানে কী, ডেসিবল বলতে কী বোঝায়</strong></h2><p>শব্দের জোর মাপার একক ডেসিবল জিনিসটা বেশ গোলমেলে। মিটার দিয়ে যেমন দৈর্ঘ্য মাপা যায়, ডেসিবল কিন্তু কোনো কিছুর পরিমাণ নয়। এটি একটি তুলনামূলক মাপকাঠি। একটি সুস্থ কান সবচেয়ে মৃদু যে শব্দ শুনতে পায়, তার সঙ্গে আপনার তৈরি করা শব্দের চাপের তুলনাই হলো ডেসিবল।</p><p>ডেসিবল স্কেল সাধারণ স্কেলের মতো কাজ করে না। প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়ার অর্থ শব্দের চাপ দ্বিগুণ নয়, বরং পাক্কা ১০ গুণ বেড়ে যাওয়া! অর্থাৎ, ৪০ ডেসিবলের চেয়ে ৬০ ডেসিবল একটু বেশি নয়, বরং ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। আর ৮০ ডেসিবল হলো ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এ কারণেই বিশাল সব চাপ বোঝাতে ডেসিবলের সংখ্যাগুলো ছোট আর গোছানো থাকে। ঠিক এই সুযোগটাই নেয় নেটিজেনরা, তারা ইচ্ছামতো ডেসিবল বসিয়ে দেয়!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/15zaff524w">মস্তিষ্ক কীভাবে আলাদা শব্দ বুঝতে পারে</a></aside><blockquote>প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়ার অর্থ শব্দের চাপ দ্বিগুণ নয়, বরং পাক্কা ১০ গুণ বেড়ে যাওয়া! অর্থাৎ, ৪০ ডেসিবলের চেয়ে ৬০ ডেসিবল একটু বেশি নয়, বরং ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।</blockquote><h2><strong>শব্দের জোরের কি কোনো শেষ সীমা আছে</strong></h2><p>ভলিউম বাড়িয়ে দিলে বাতাসের কী অবস্থা হয় খেয়াল করুন। ঠেসাঠেসি করা জায়গাগুলোতে চাপ স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের (১ অ্যাটমোস্ফিয়ার) চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। আর ফাঁকা জায়গাগুলোর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়।</p><p>মজার ব্যাপার হলো, এই দুই দিকের কাজটা সমান সহজ নয়। চাপ বাড়ানোর কোনো শেষ নেই; আপনি চাইলে অণুগুলোকে আরও বেশি, আরও শক্তভাবে ঠেসাঠেসি করে রাখতে পারেন। কিন্তু চাপ কমানোর ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা আছে। আপনি যখন অণু সরিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করছেন, তখন একসময় সেখানে আর কোনো অণুই অবশিষ্ট থাকবে না!</p><p>সব অণু সরিয়ে নিলে সেখানে তৈরি হবে শূন্যস্থান। সেখানে চাপ হবে শূন্য। আর এটাই হলো সেই দেয়াল। এর নিচে নামার কোনো উপায় নেই। কারণ ‘বাতাস না থাকার’ চেয়ে কম বাতাস বলে কিছু হয় না! অর্থাৎ, স্বাভাবিক ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ থেকে কমতে কমতে আপনি বড়জোর শূন্যতে নামতে পারবেন। আপনার কমানোর জায়গা ওই ১ অ্যাটমোস্ফিয়ারই, এর বেশি এক বিন্দুও নয়।</p><p>তাই শব্দের জোরের একটি সুনির্দিষ্ট সীমা আছে। এর সঙ্গে আপনার স্পিকারের ক্ষমতা বা বোমার সাইজের কোনো সম্পর্ক নেই। সীমা তৈরি হয়েছে কারণ বাতাসের নিজেরই একটা নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/hn3sg1nzrf">পানি ছাড়াই আগুন নেভাবে শব্দ</a></aside><blockquote>স্বাভাবিক ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ থেকে কমতে কমতে আপনি বড়জোর শূন্যতে নামতে পারবেন। আপনার কমানোর জায়গা ওই ১ অ্যাটমোস্ফিয়ারই, এর বেশি এক বিন্দুও নয়।</blockquote><h2><strong>সীমাটা ঠিক ১৯৪ ডেসিবল কেন</strong></h2><p>অঙ্কটা খুব সহজ। স্প্রিংয়ের সেই ঢেউয়ের কথা ভাবুন। ঢেউটি স্বাভাবিক চাপের চেয়ে নিচে নামতে পারে সর্বোচ্চ ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার। যেহেতু ঢেউয়ের ওঠানামা সমান হয়, তাই এটি ওপরেও উঠতে পারবে সর্বোচ্চ ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার। অর্থাৎ, পৃথিবীর বাতাসে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে এমন একটি শব্দ, যা স্বাভাবিক চাপের চেয়ে ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামে এবং ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার ওপরে ওঠে।</p><p>১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ মানে ১ লাখ ১ হাজার ৩২৫ প্যাসকেল। শব্দের চাপের সাধারণ সূত্রে এই মানটি বসালে উত্তর আসে ঠিক ১৯৪ ডেসিবল! এখানে স্পিকার, শক্তি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো কারসাজি নেই; পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের ওপর। এটি শব্দের কোনো বৈশিষ্ট্য নয়, এটি খোদ আমাদের বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য।</p><h2><strong>১৯৪ ডেসিবল পার হয়ে গেলে কী হবে</strong></h2><p>অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে তা আর শব্দ থাকবে না। যেহেতু বাতাসের চাপ শূন্যের নিচে নামতে পারে না, তাই অতিরিক্ত শক্তিটা ঢেউয়ের সংকুচিত অংশে গিয়ে জমা হতে থাকে। তখন শব্দের সেই সুন্দর ঢেউয়ের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং জন্ম নেয় শক ওয়েভ। এটি তখন শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা একটি চলন্ত দেয়ালে পরিণত হয়, যার পেছনে থাকে চরম শূন্যস্থান।</p><p>শব্দের কারণে আপনার কানের পর্দা কাঁপে, কিন্তু শক ওয়েভ হলো একটি সলিড ধাক্কা। ফাইটার জেট যখন শব্দের বেগ পার হয় বা বজ্রপাত যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন আমরা এই শক ওয়েভই অনুভব করি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/mgov5fvk16">বিদ্যুতের খুঁটিতে গুনগুন শব্দ শোনা যায় কেন</a></aside><blockquote>পৃথিবীর বাতাসে সবচেয়ে জোরালো শব্দ হতে পারে এমন একটি শব্দ, যা স্বাভাবিক চাপের চেয়ে ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামে এবং ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার ওপরে ওঠে।</blockquote><h2><strong>১০০০ ডেসিবল কি আদৌ সম্ভব</strong></h2><p>আগেই বলেছি, প্রতি ২০ ডেসিবল বাড়লে চাপ ১০ গুণ বাড়ে। সেই হিসাবে ৩০০ ডেসিবল মানে হলো আপনার চারপাশের বাতাসের চাপের ২ লাখ গুণ বেশি চাপ! ১০০০ ডেসিবল লিখলে ১-এর পর ৪৫টি শূন্য বসাতে হবে।</p><p>তুলনা করার জন্য বলি, আমাদের সূর্যের একেবারে ভেতরের কোর বা কেন্দ্রের চাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ২৩ হাজার কোটি গুণ। ডেসিবল স্কেলে ফেললে সূর্যের ওই ভয়ংকর কেন্দ্রের চাপ দাঁড়ায় মাত্র ৪২১ ডেসিবল!</p><p>একটু ভেবে দেখুন, যেখানে খোদ সূর্যের পেটের ভেতরের চাপ ৪২১ ডেসিবল, সেখানে ১০০০ ডেসিবল মানে হলো সূর্যের কেন্দ্রের চাপের চেয়েও কয়েক হাজার কোটি গুণ বেশি কিছু! আমাদের চেনা মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই। তাই ১০০০ ডেসিবল শব্দ হলে কী হবে, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এটি অনেকটা ‘মঙ্গলবারের রং কী’ প্রশ্নের মতো অর্থহীন একটি প্রশ্ন।</p><h2><strong>জার বোম্বারের ২২৪ ডেসিবলের গল্প</strong></h2><p>রুশ পারমাণবিক বোমা জার বোম্বার ‘২২৪ ডেসিবল’ শব্দের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো যন্ত্র দিয়ে এটি মাপা হয়নি, বরং বিস্ফোরণের চাপ হিসাব করে কেউ হয়তো উল্টোপথে এই সংখ্যাটি বের করেছে। ধরে নিলাম কোনো যন্ত্র সত্যিই ২২৪ ডেসিবল মেপেছিল; কিন্তু সেটি ছিল একটি বিশাল শক ওয়েভ বা বিস্ফোরণের ধাক্কা, কোনো শব্দ নয়। শব্দবিজ্ঞানের একক ধার করে বিস্ফোরণের চাপ মাপাটাই এই গুজবের সবচেয়ে বড় ভুল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/gl0mjmvfbi">মহাকাশের শব্দ শুনতে কেমন</a></aside><blockquote>আমাদের সূর্যের একেবারে ভেতরের কোর বা কেন্দ্রের চাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ২৩ হাজার কোটি গুণ। ডেসিবল স্কেলে ফেললে সূর্যের ওই ভয়ংকর কেন্দ্রের চাপ দাঁড়ায় মাত্র ৪২১ ডেসিবল!</blockquote><h2><strong>মানুষ কি ২০০ ডেসিবল শব্দে বেঁচে থাকতে পারবে</strong></h2><p>প্রশ্নটা হওয়া উচিত, মানুষ কি এত বিশাল চাপ সহ্য করতে পারবে? মানুষের কান অনেক আগেই হার মানে। ৮৫ ডেসিবলের বেশি শব্দ টানা শুনলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। আর ২০০ ডেসিবল মানে হলো প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই বিশাল চাপ মানুষের কান নয়, বরং সরাসরি ফুসফুসকে ছিন্নভিন্ন করে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই ২০০ ডেসিবল মাত্রার কোনো শক ওয়েভ আপনার দিকে ধেয়ে এলে, কানের পর্দা ফাটাটা হবে আপনার সবচেয়ে ছোট সমস্যা!</p><h2><strong>ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির শব্দ কতটা ভয়ংকর ছিল</strong></h2><p>১৮৮৩ সালের ২৭ আগস্ট ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন ১০০ মাইল দূরে থাকা একটি ব্যারোমিটারের কাঁটা লাফিয়ে উঠেছিল। হিসাব করে দেখা যায়, ১০০ মাইল দূরে বসেও ওই বিস্ফোরণের শব্দ ছিল প্রায় ১৭২ ডেসিবল! ৩ হাজার মাইল দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা গিয়েছিল। আর ৪০ মাইল দূরে থাকা একটি জাহাজের অর্ধেকের বেশি নাবিকের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছিল।</p><p>ভেবে দেখুন, ১০০ মাইল দূরেই যদি ১৭২ ডেসিবল হয় (যা সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে মাত্র ২২ ডেসিবল কম), তবে খোদ আগ্নেয়গিরির মুখে শব্দের অবস্থা কেমন ছিল! সেখানে শব্দ নিশ্চিতভাবেই ১৯৪ ডেসিবলের দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছিল এবং শব্দ থেকে শক ওয়েভে পরিণত হয়েছিল। ইতিহাসে এটিই ছিল শব্দের সর্বোচ্চ সীমার সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার ঘটনা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/keuidvn2dw">বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ আগে চমকায়, শব্দ পরে আসে কেন</a></aside><blockquote>২০০ ডেসিবল মানে হলো প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই বিশাল চাপ মানুষের কান নয়, বরং সরাসরি ফুসফুসকে ছিন্নভিন্ন করে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।</blockquote><h2><strong>স্যাটার্ন ফাইভ রকেটের শব্দ কি সত্যিই ২০৪ ডেসিবল ছিল</strong></h2><p>অ্যাপোলো মিশনের সেই বিখ্যাত রকেটের শব্দ ২০৪ ডেসিবল ছিল বলে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এখানেও একটি ভুল আছে। ২০৪ হলো সাউন্ড পাওয়ার, সাউন্ড প্রেশার নয়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে। সাউন্ড পাওয়ার হলো লাইটবাল্বের ওয়াট, আর সাউন্ড প্রেশার হলো বাল্বের আলোটা আপনার চোখে কতটা উজ্জ্বল লাগছে।</p><p>অ্যাপোলো ৮ উৎক্ষেপণের সময় ৮১.৫ মিটার দূর থেকে মাপা শব্দের আসল চাপ ছিল ১৬৩.৫ ডেসিবল। অর্থাৎ, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটটিও শব্দের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে পাক্কা ৩০ ডেসিবল নিচে ছিল!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-12/e2003e73-ed7e-48e8-86c2-097191d242db/Apollo_8.webp"><figcaption>অ্যাপোলো ৮ উৎক্ষেপণের সময় ৮১.৫ মিটার দূর থেকে মাপা শব্দের আসল চাপ ছিল ১৬৩.৫ ডেসিবল</figcaption></figure><p>আর টেলর সুইফটের কনসার্টে ৭২ হাজার দর্শকের সেই বিখ্যাত ‘ভূমিকম্প’ তৈরি করা আওয়াজ? ওটাও কোনো শব্দের রেকর্ড ছিল না, বরং হাজার হাজার মানুষের একসঙ্গে লাফানোর কারণে মাটি কেঁপে উঠেছিল। যেমনটা সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপে দেখা গেছে। নরওয়ের যেদিন যেদিন খেলা ছিল, সেদিন নরওয়ে গোল করলেই দেশটির একটি শহর কেঁপে উঠত। আর্লিং হালান্ড গোল করলে কাঁপুনির মাত্রা আরও বেড়ে যেত। বিজ্ঞানীরা প্রথমে ভেবেছিলেন এটা ভূমিকম্প। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটা নরওয়ের মানুষের উল্লাসের কারণে তৈরি মাটির কাঁপুনি। </p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/8woo5y7332">শব্দ থেকে কি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব</a></aside><blockquote>শুক্র গ্রহে যদি ক্রাকাতোয়ার মতো বিস্ফোরণ হয়, তবে সেটি পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে আক্ষরিক অর্থেই বহুগুণ জোরালো হবে। আবার মঙ্গলে গেলে এই সীমা অনেক কমে যাবে।</blockquote><h2><strong>অন্য কোনো গ্রহে কি শব্দ আরও জোরালো হতে পারে</strong></h2><p>শব্দের সীমা যেহেতু বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে, তাই বায়ুমণ্ডল বদলালে সীমানাও বদলে যাবে। নাসার মতে, শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠের চাপ পৃথিবীর চেয়ে ৯৩ গুণ বেশি! সেখানে শব্দের ঢেউ শূন্যে পৌঁছানোর আগে ৯৩ অ্যাটমোস্ফিয়ার নিচে নামার জায়গা পাবে। অর্থাৎ, শুক্র গ্রহে শব্দের সর্বোচ্চ সীমা হবে প্রায় ২৩৩ ডেসিবল! শুক্র গ্রহে যদি ক্রাকাতোয়ার মতো বিস্ফোরণ হয়, তবে সেটি পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে আক্ষরিক অর্থেই বহুগুণ জোরালো হবে। আবার মঙ্গলে গেলে এই সীমা অনেক কমে যাবে। তবে মহাকাশের শূন্যতায় কোনো বাতাস নেই বলে সেখানে কোনো শব্দও নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/syy35b0lwx">বাদুড়ের শব্দ শোনা যায় না কেন?</a></aside><blockquote>পৃথিবীর বুকে ১৯৪ ডেসিবলের এই সীমা মানবসৃষ্ট কোনো প্রযুক্তি বা বিশাল কোনো বোমার ওপর নির্ভর করে না। এটি কেবলই আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের একটি গাণিতিক হিসাব মাত্র।</blockquote><h2><strong>মহাবিশ্বের সবচেয়ে জোরালো শব্দ কোনটি</strong></h2><p>পৃথিবী থেকে ২৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পার্সিউস গ্যালাক্সি ক্লাস্টারে প্রচুর উত্তপ্ত গ্যাস রয়েছে, যা শব্দ পরিবহনে সক্ষম। ২০০২ সালে নাসার চন্দ্র এক্স-রে টেলিস্কোপ সেখানকার একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে বেরিয়ে আসা বিশাল সব চাপের ঢেউ বা শব্দ শনাক্ত করে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, এই শব্দের মাত্রা হলো মিডেল সি-এর চেয়ে ৫৭ অক্টেভ নিচের একটি ‘বি-ফ্ল্যাট’ নোট।</p><p>এটি মানুষের শোনার সীমার চেয়ে কয়েক কোটি গুণ বেশি নিচু স্বরের একটি শব্দ, যা গত আড়াই শ কোটি বছর ধরে একটানা বেজে চলেছে। নাসা শব্দটিকে আমাদের শোনার উপযোগী করতে ৫৭ থেকে ৫৮ অক্টেভ ওপরে তুলেছিল। তবে এখানে ডেসিবলের কোনো অস্তিত্ব নেই। কারণ সেখানকার গ্যাস এতই পাতলা যে তা পৃথিবীর হিসেবে চরম শূন্যস্থান। এমন ফাঁকা জায়গায় শব্দের চাপ একেবারেই নগণ্য হয়। মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এই শব্দটির বিশেষত্ব এর জোরালো আওয়াজে নয়, বরং এর অবিশ্বাস্য স্থায়িত্ব এবং গভীরতায়।</p><p>পৃথিবীর বুকে ১৯৪ ডেসিবলের এই সীমা মানবসৃষ্ট কোনো প্রযুক্তি বা বিশাল কোনো বোমার ওপর নির্ভর করে না। এটি কেবলই আপনার মাথার ওপর থাকা বাতাসের ওজনের একটি গাণিতিক হিসাব মাত্র। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া বিস্ফোরণের সময় প্রকৃতি একবারই এই সীমা ছুঁয়েছিল। যারা সেই ভয়ংকর শব্দের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল, তাদের কাছে তা শুধু শব্দ মনে হয়নি; তাদের মনে হয়েছিল পৃথিবী বুঝি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারপর তারা চিরকালের জন্য বধির হয়ে গিয়েছিল।</p><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/keg1b0m8wn">ফিসফিস করে কথা বললে দূর থেকে শোনা যায় না কেন</a></aside>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
গণিত অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি কীভাবে নেবে?
গণিত অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি কীভাবে নেবে?

<p>ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী নাফিজের গণিত অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু হয় পঞ্চম শ্রেণিতে। প্রথমবার অংশ নিয়েই সে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয় এবং গণিত ক্যাম্পে আসার সুযোগ পায়। সেই থেকে প্রতিবছর সে এই ক্যাম্পের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। এ পর্যন্ত ছয়বার জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছে নাফিজ। ২০২৪ সালে সে জাতীয় পর্যায়ে 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস' হয় এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (IMO) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াডে (APMO) সে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। ইরানিয়ান কম্বিনেটরিক্স অলিম্পিয়াডের অ্যাডভান্সড ক্যাটাগরিতে সে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রৌপ্যপদক জিতেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম। প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্যাম্প থেকে শুরু করে আইএমও ক্যাম্প পর্যন্ত সব ক্যাম্পেই অংশ নিয়েছে নাফিজ। জীবনের সেরা কিছু মুহূর্তও কেটেছে এই ক্যাম্পগুলোতে। গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, আজ সেটি নিয়েই লিখেছে সে।</p><h2><strong>প্রাইমারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরুর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বাসায় নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করা। আটকে গেলে বড় ভাই-বোন বা শিক্ষকের সাহায্য নেওয়া যায়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটেই বিগত বছরের সব প্রশ্ন পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের ক্লাসের গণিত বই শেষ করা যেতে পারে। সম্ভব হলে এক-দুই ক্লাস উপরের গণিত বইও শেষ করা যায়। 'বিডিএমও প্রস্তুতি', 'নিউরনে অনুরণন'-এর মতো বইগুলোও পড়া যেতে পারে।</p><p>বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে দেখা যাবে, অনেক কিছুই আগে থেকে জানা নেই। তখন সমাধানটা দেখার পর সংশ্লিষ্ট টপিকগুলো সঙ্গে সঙ্গে শিখে ফেলা যায়।</p><h2><strong>জুনিয়র ক্যাটাগরি</strong></h2><p>বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এই পর্যায়েই গণিত অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু করে। এ সময় নিজের ক্লাসের গণিত বই শেষ করে ফেলা উচিত। সম্ভব হলে নবম-দশম শ্রেণির গণিত বইও শেষ করতে পারলে ভালো।</p><p>তবে বই পড়ার পাশাপাশি এ সময় প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের বিগত বছরের প্রশ্ন তো আছেই। এর পাশাপাশি অন্য দেশের অলিম্পিয়াডের প্রশ্নও চেষ্টা করা উচিত। যেমন আমেরিকার AMC ও AIME, কিংবা আর্জেন্টিনা, পোল্যান্ড, আজারবাইজান, বেলজিয়াম, বেলারুশ, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন Art of Problem Solving (AoPS) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।</p><p>প্রবলেমগুলো নিজে চেষ্টা করার পর ওয়েবসাইটে অন্যদের সমাধানও পড়তে হবে। এতে একটি প্রবলেম ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা শেখা যায়। কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা গ্রুপ খুলে নিয়মিত প্র্যাকটিস করাও খুব ভালো একটি আইডিয়া।</p><p>এ সময় অনেকে কিছু বইও পড়ে। যেমন 'গণিতের স্বপ্নযাত্রা: গণিত অলিম্পিয়াডের প্রথম ধাপ', 'কম্বিনেটরিক্সের হাতেখড়ি', 'প্রমাণ কর যে' ইত্যাদি।</p><p>প্র্যাকটিসের জন্য <a href="http://gonitzoggo.com/">gonitzoggo.com</a> ওয়েবসাইটটিও খুব কার্যকর। সেখানে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রবলেম আছে। এ ছাড়া গণিতযজ্ঞ ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের বিগত বছরের প্রশ্নের জাতীয় পর্যায়ের প্রশ্ন গুলোর একটি সমাধান-আর্কাইভ আছে। সেখান থেকে জুনিয়র ও সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির প্রবলেমগুলো প্র্যাকটিস করা যায়। সেগুলোর সমাধান পড়ে কিভাবে জাতীয় পর্যায়ের Proof-based প্রশ্নের সমাধান করা যায় ও সমাধান লিখতে হয় তা শেখা যাবে।</p><h2><strong>সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা শুরু করা উচিত। যেমন:</p><p>●     আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (IMO) ও IMO শর্টলিস্ট</p><p>●     এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াড (APMO)</p><p>●     বলকান গণিত অলিম্পিয়াড (Balkan MO) ও Balkan MO শর্টলিস্ট</p><p>●     ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড (EGMO)</p><p>●     ইরানিয়ান জিওমেট্রি অলিম্পিয়াড (IGO)</p><p>●     ইরানিয়ান কম্বিনেটরিক্স অলিম্পিয়াড (ICO)</p><p>এ সময় অনেকে টপিকভিত্তিক বইও পড়ে:</p><p>●     <strong>জ্যামিতি:</strong> Euclidean Geometry in Mathematical Olympiads (EGMO), অথবা আমার লেখা 'জ্যামিতির অন্তরালে'।</p><p>●     <strong>কম্বিনেটরিক্স:</strong> 'কম্বিনেটরিক্সের হাতেখড়ি', Olympiad Combinatorics, অথবা Problem-Solving Strategies।</p><p>●     <strong>সংখ্যাতত্ত্ব:</strong> Modern Olympiad Number Theory (MONT)।</p><p>●     <strong>বীজগণিত:</strong> 'বীজগণিতের সূত্রপাত'। ফাংশনাল ইকুয়েশন, পলিনমিয়াল ইত্যাদি টপিকের জন্য অনলাইনে আলাদা আলাদা বইও পাওয়া যায়।</p><p>কম্বিনেটরিক্স, সংখ্যাতত্ত্ব ও বীজগণিত একসঙ্গে শেখার জন্য খুবই ভালো একটি বই হলো OTIS Excerpts। বইটির পিডিএফ অনলাইনে পাওয়া যায়।</p><p>প্রথমবার পড়লে এই বইগুলো অনেকের কাছেই কঠিন মনে হতে পারে। কেউ কেউ ঘাবড়েও যেতে পারে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও প্রথমবার পড়েই সব বুঝে ফেলেছিলাম, এমন নয়। তবে আমি একটা কৌশল মেনে চলতাম। কোনো বই একবার পড়ার পর, সব না বুঝলেও, দুই-তিন মাসের জন্য সেটা সরিয়ে রাখতাম। দুই-তিন মাস পর যখন আবার শুরু থেকে পড়তাম, তখন মনে হতো, "আরে, এই জিনিসটা তো এখন বুঝি! ও আচ্ছা, এটা দিয়ে এটা বোঝানো হয়েছে, এটা এখান থেকে এসেছে।" দ্বিতীয়বার পড়ার সময় অনেক কিছুই পরিচিত মনে হয়। ফলে বোঝাও সহজ হয়।</p><p>তবে যত বই-ই পড়ি না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের প্রবলেম সলভিং স্কিল। আর সেটা তখনই ভালো হবে, যখন আমরা প্রচুর প্রবলেম প্র্যাকটিস করব এবং সেগুলোর সমাধান পড়ব।</p><h2><strong>হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি</strong></h2><p>এই পর্যায়ে এসে খুব কম শিক্ষার্থীই নতুন করে অলিম্পিয়াড-যাত্রা শুরু করে। তবে দেরিতে শুরু করেছি ভেবে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির জন্য যে বইগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এই পর্যায়েও পড়তে হবে। পাশাপাশি প্রচুর প্রবলেম প্র্যাকটিস করতে হবে। বিশেষ করে ওপরে উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোর প্রশ্ন সমাধান করা শিখতে হবে।</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
মোহাম্মদপুরে পরিত্যক্ত ভ্যানিটি ব্যাগে ছিল ৯টি ককটেল
মোহাম্মদপুরে পরিত্যক্ত ভ্যানিটি ব্যাগে ছিল ৯টি ককটেল

এসআরবির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলগুলো উদ্ধার করে নিরাপদে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আট বছর আগে ৭০ লাখ টাকা নেন ওসি, দাবি শিবির নেতার
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আট বছর আগে ৭০ লাখ টাকা নেন ওসি, দাবি শিবির নেতার

<p> আট বছর আগে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ৭০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুরে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আবদুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও দাবি করেছেন।</p><p> আজ সোমবার লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান বিপ্লব এ অভিযোগ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি এবং পৌর শহরের বাঞ্ছানগর এলাকার বাসিন্দা।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের নির্দেশে পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে তাঁকে থানার এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রাখার পর রাতে মোটা লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে খাবারও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।</p><p>বিপ্লবের ভাষ্য, রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে গেলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। পরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।</p><p>এরপর গভীর রাতে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়।</p><p>বিপ্লবের অভিযোগ, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।</p><h3>‘বাবার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়’ </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওসি লোকমান আমার বাবার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। ছেলেকে হারানোর ভয়ে বাবা দেনদরবারের পর ৭০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় আমার বাবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।’</p><p>বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ তাঁর ২০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।</p><h3>অন্য দুজনের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার দায়িত্বে থাকাকালে ওসি লোকমান হোসাইন রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রায়পুর পৌর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করেন। তাঁদের মারধর করে টাকা নেওয়ার পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।</p><p>বিপ্লবের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন ওসি লোকমান হোসাইন। বর্তমানে তিনি পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত বলে জানান বিপ্লব। এসব অভিযোগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।</p><p>এসব বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার সাবেক ওসি লোকমান হোসাইন প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ৭০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক আগের ঘটনা, যতটুকু মনে পড়ে, ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে দিয়েছিল। আমি তাকে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছি। নির্যাতনের অভিযোগও সঠিক নয়।’</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন