চীনে বিয়ের হার ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে চীনে বিয়ের হার গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এটি জন্মহার হ্রাস এবং জনতাত্ত্বিক চাপের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে—এমন একটি দেশে, যেখানে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি এখনো বিয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লা...
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত যেকোনো ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।
কক্সবাজারের টেকনাফে সেনা সদস্য নিহতের পর পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তিন জনের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ঢাকার সাভারে কর্মরত বাংলা ট্রিবিউনের সাবেক প্রতিনিধি নাদিম হাসান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই বোন রেখে গেছেন।
ইউরোপজুড়ে শুক্রবার যাত্রীবাহী বিমানগুলোতে বোমা হামলার হুমকির একটি ঢেউ দেখা দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো এ ঘটনা ঘটল। শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজু খালে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে ভেসে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মেহেদি হাসান (১৮)।
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
প্রাচীনকালে রেফ্রিজারেটর ছিল না। তখন পোড়ামাটির পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে জলীয় অংশ বাষ্পীভূত হয়ে ভেতরের তাপমাত্রা তুলনামূলক ঠান্ডা ও স্থিতিশীল রাখত। ভেজা কাপড়ে মুড়ে শীতল অন্ধকার ঘরে বা মাটির নিচে রেখেও দই সংরক্ষণ করা হতো।
<p>১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।</p><p> ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার দিবসটি পালন করা হবে।</p><p>১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।</p><p>প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।</p><p>বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। এসব আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।</p><p>তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন এবং বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।</p><p>প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখা এবং ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ঠেকাতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।</p><p>বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয়ে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদ্যাপনের সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।</p>
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাদমান। পরে তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীকে বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বৃদ্ধাকে শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি গাছের চিকন ডাল দিয়ে পেটাচ্ছেন।
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচবার ভিন্ন ভিন্ন দেশে ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তি এত দিন ছিল শুধু নাথান লায়নের।
<p>২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করলে এর মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি, জনসংযোগ, টেলিভিশনের টক শোসহ নানা মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করেন সামান্তা শারমিন। কিছুদিনের মধ্যেই এই তরুণদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও দেশ নিয়ে ভাবনা তুলে ধরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ করলে এর জ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন হিসেবেও সামান্তা ছিলেন রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিদের নজরে।</p><p>সেই সামান্তা শারমিন এখন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা দলটি ছেড়ে যাওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে। হঠাৎ কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ নিয়ে ফেসবুকে অনেকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা–বিশ্লেষণ করছেন।</p><p>তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে সামান্তার মতাদর্শিক বিরোধ শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সময় এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। এই জোটের বিরোধিতা করে এর আগেই এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ২০ জনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ সেই তালিকায় নাম লেখালেন সামান্তা শারমিন।</p><aside><cite>সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য, এনসিপি</cite>এনসিপিতে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ আছেন। তিনি জামায়াতবিরোধী ব্লকের নেতৃত্ব দিতে পারতেন।</aside><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থী সামান্তা গতকাল দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে নিজের অসন্তোষের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে দলে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি এবং দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলার কথা বলেছেন।</p><p>তাঁর পদত্যাগে বিস্মিত নন বলে জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা। তাঁরা বলছেন, সামান্তা শারমিন যেকোনো দিন এনসিপি ছেড়ে যাবেন, এ ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন। কারণ, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন। এখন তাঁর এই দল ত্যাগে এনসিপির লাভ বা ক্ষতি কোনোটিই হয়নি। কারণ, পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সামান্তা তাঁর ‘নিষ্ক্রিয়তাকেই একটি আনুষ্ঠানিক রূপ’ দিয়েছেন।</p><h3>জামায়াত নিয়ে বিরোধ থেকে রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে সরে যান সামান্তা </h3><p>জুলাই অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা হিসেবে একঝাঁক তরুণ মুখ জাতীয়ভাবে আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। তাঁদের মধ্যে সামান্তা শারমিনের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম ও নাজিফা জান্নাত, লন্ডনফেরত চিকিৎসক তাসনিম জারাসহ আরও বেশ কয়েকজন নারীনেত্রী ছিলেন।</p><p>তবে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করতে আলোচনা চালাচ্ছিল, সেই সময় প্রথম দিকেই দলটি ছেড়ে যান তাসনিম জারা। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকার একটি আসনে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। জামায়াত বিরোধিতা থেকে পরে দলটি ছেড়ে গেছেন আলোচিত নারীনেত্রী তাজনূভা জাবীন, সৈয়দা নীলিমা দোলা। এনসিপির আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সে সময় দলটি ছেড়ে যান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/qkk31o80/uimage-7.jpg"><figcaption>সামান্তা শারমিন </figcaption></figure><p>সামান্তা শারমিন তখন এনসিপি ছেড়ে না গেলেও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পর্ষদে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হলেও সামান্তা ফেরেননি। তাঁর জবাব ছিল, এনসিপি জামায়াত জোট না ছাড়লে তিনি দলের রাজনৈতিক পর্ষদে ফিরবেন না। পরে সামান্তার স্থলে অন্য একজন নেত্রীকে পর্ষদে যুক্ত করে এনসিপি।</p><p>এর পর থেকে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বা কর্মসূচিতে সামান্তা শারমিনকে আর সেভাবে অংশ নিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠিত হলে সেখানে কার্যত সামান্তার ‘পদাবনতি’ হয়। পুনর্গঠিত কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।</p><h3>সামান্তার অভিযোগ, এনসিপির জবাব </h3><p>নাহিদ ইসলামকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে দল ছেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন সামান্তা শারমিন। এর প্রথমটি হচ্ছে নিজস্ব রাজনৈতিক ‘লাইন’ স্পষ্ট না থাকায় এনসিপিকে জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যেতে হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলটিকে এখন জামায়াতের জন্য নানা ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ‘লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি ও অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে।</p><p>সামান্তা শারমিনের তৃতীয় অভিযোগ হচ্ছে এনসিপির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। নারীদের রাজনৈতিকভাবে পেছনে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে জামায়াত ও অতি ডানপন্থী শক্তিগুলোর রক্ষণশীল ও অবস্থানের অনুসারী ও সহযোগী হয়েছে এনসিপি। আর চতুর্থ কারণ হিসেবে কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন সামান্তা। এর মধ্য দিয়ে দলের অভ্যন্তরের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-03-05/1c7bqz1c/Samantha-1.jpg"><figcaption>সামান্তা শারমিন</figcaption></figure><p>সামান্তা বলেছেন, ‘এসব বিষয়ে (চার কারণ) বারবার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানোর পরেও এনসিপি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে আগ্রহী হয়নি। সে জন্য আমি দল থেকে পদত্যাগ করছি।’</p><p>তবে সামান্তার অভিযোগগুলোর কিছু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি আর কিছু তথ্যগতভাবে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের অন্যতম সদস্য সারোয়ার তুষার। সামান্তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে দলের অনেকের সঙ্গে কথা বললেও দলীয় ফোরামে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁকে সেভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।</p><blockquote>সামান্তা শারমিন তখন এনসিপি ছেড়ে না গেলেও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পর্ষদে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হলেও সামান্তা ফেরেননি। তাঁর জবাব ছিল, এনসিপি জামায়াত জোট না ছাড়লে তিনি দলের রাজনৈতিক পর্ষদে ফিরবেন না। পরে সামান্তার স্থলে অন্য একজন নেত্রীকে পর্ষদে যুক্ত করে এনসিপি।</blockquote><p>সম্প্রতি এনসিপির কমিটি পুনর্গঠনের আগে যোগাযোগ করা হলে সামান্তা কমিটিতে থাকতে অনাগ্রহ দেখাননি, তবে প্রত্যাশিত পদ নিয়ে কিছু বলেননি বলে জানান সারোয়ার তুষার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাইনি তিনি (সামান্তা) দল ছেড়ে যান। আমাদের আহ্বায়কও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ভিন্ন অবস্থানের কারণে যেন তাঁরা দলে কোনো অস্বস্তি বা চাপে না থাকেন।’</p><p>এনসিপিতে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ আছেন উল্লেখ করে সারোয়ার তুষার বলেছেন, ‘তিনি (সামান্তা শারমিন) জামায়াতবিরোধী ব্লকের নেতৃত্ব দিতে পারতেন।’</p><p>সামান্তার দলত্যাগে এনসিপির লাভ বা ক্ষতি কোনোটিই দেখছেন না সারোয়ার তুষার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামান্তা অনেক দিন ধরেই দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই নিষ্ক্রিয়তাটাকেই তিনি একটা আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন। এর ফলে নতুন করে দলের কোনো লাভ বা ক্ষতি আমরা দেখছি না।’</p><h3>ফেসবুকে দুই নেত্রীর ‘খোঁচা’ </h3><p>সামান্তা শারমিনের পদত্যাগকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির কেউ কেউ। তবে তাঁরা সামান্তার নাম উল্লেখ করেননি।</p><p>গতকাল রাতে এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কেবল মিডিয়া ফেস (মুখ) অথবা লাখ লাখ ফলোয়ারধারী নারীরাই গোটা নারীসমাজের এজেন্সির দাবিদার নন।...দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে—শুরু থেকেই এনসিপির নারী হিসেবে দু–একজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে, দলের অন্য নারীদের রাজনৈতিক ফেস হয়ে ওঠা ঠেকানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে মাইনাস করায় যাঁদের সর্বোচ্চ ভূমিকা ছিল। দলের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ফেস হয়ে সুযোগ মতো দলের বুকে ছুরিকাঘাত করা সৎ নেতৃত্বের কাজ হতে পারে না।’</p><p>এনসিপির স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মনজিলা ঝুমাও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। গত রাতে তিনি লেখেন, এনসিপি অনেককে অনেক কিছুই দিয়েছে। জুলাইয়ে ঘরে বা বিদেশে বসে থেকেও অনেকে “জুলাই কন্যা” হয়ে গেছে এনসিপির বদৌলতে। পেছন থেকে ছুরিকাঘাত তাঁরাই সবার আগে করেছে। এখনো তাদের মিডিয়া–পরিচয় সাবেক এনসিপি নেত্রী। এনসিপি না থাকলে যাঁদের দিকে কেউ ফিরেও তাকাত না, এনসিপিকে তাঁরা মই হিসেবে ব্যবহার করে নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভাবা শুরু করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/6ekquv2r7k">এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, বললেন ‘জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে’ দলটি</a></aside><h3>সামান্তার পাশে তাঁরা </h3><p>এনসিপির বাইরের অনেকে অবশ্য সামান্তা শারমিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ সামান্তাকে নিয়ে ‘অপপ্রচার ও নোংরামির’ সমালোচনা করেছেন। কেউ তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।</p><p>আজ শুক্রবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম লিখেছেন, ছয় সদস্যের বৈষম্যবিরোধী লিয়াজোঁ কমিটি থেকে চার শতাধিক কমিটির জাতীয় নাগরিক কমিটিতে উত্তরণ ও বিস্তারে যাঁদের মুখ্য অবদান আছে, তাঁদের নিয়ে নোংরামি ও অপপ্রচার একটা বাজে নজির। দল গঠনের দিন থেকে এ নজির সেই দলের তৎকালীন নেতৃত্বই স্থাপন করেছিলেন। গতকালও সামান্তা শারমিনকে নিয়ে একই কাণ্ড হলো।</p><p>কারও নাম উল্লেখ না করেই মাহফুজ লেখেন, ‘যাঁরা ভিত গড়ে দিয়ে জোটের কারণে চলে গেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন বলেই দলটাকে আপনারা একটা শেইপে (আকার) পেয়েছিলেন। আর কৃতজ্ঞতা না দেখাতে পারলে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ভালো চর্চার খাতিরে নীরব থাকুন।’</p><p>জামায়াত জোটে যোগদানকে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন চিকিৎসক তাসনিম জারা। গতকাল রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সামান্তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তাসনিম জারা লিখেছেন, সামান্তা শারমিন সেই অল্প মানুষদের একজন, যাঁরা মানুষের জীবনকে বুঝতে ও পাশে দাঁড়াতে তাঁদের কাছে যান। জারার ভাষায়, ‘ওনার (সামান্তা) রাজনৈতিক জার্নি এখনো অনেক বাকি। এমন মানুষের জায়গা আমাদের রাজনীতিতে আরও বড় হওয়া দরকার।’</p><p>সামান্তাকে সমর্থন করে গতকাল সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম লিখেছেন, ‘সামান্তা শারমিনের প্রতিটি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত। এনসিপি জামায়াতের বি টিম হিসেবে কাজ করছে।’</p>
মৃত স্বজনদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা ও সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ২ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে অল সোলস ডে বা সকল আত্মার দিবস। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি ভালোবাসা, স্মৃতি ও পরকালের প্রত্যাশার এক গভীর ধর্মীয় উপলব্ধি।
<p>পর্দায় তিনি রাগী গৃহকর্তা। বাড়ির গৃহকর্মীর কথার মাঝে বাগড়া দিলে কিংবা দরজায় উঁকি দিলেই কষিয়ে থাপ্পড় মারতেন। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হতেই বদলে যেত দৃশ্যটা। যাঁকে একটু আগে থাপ্পড় মেরেছেন, তাঁকেই বুকে টেনে নিতেন। ব্যথা লেগেছে কি না জানতে চাইতেন, দুঃখ প্রকাশ করতেন বারবার। সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে এভাবেই রয়ে গেছেন আলী যাকের—পর্দায় দাপুটে, পর্দার বাইরে স্নেহশীল এক মানুষ।<br> আজ ৬ নভেম্বর আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া বরেণ্য এই অভিনেতার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক অনুজ সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে থাকা সেই মানুষটিকে।<br> ফারুক আহমেদের অভিনয়জীবনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘আজ রবিবার’। সেখানে তাঁর চরিত্রের নাম মতি। আর আলী যাকের অভিনয় করেছিলেন বাড়ির বড় ছেলে আজগরের চরিত্রে। গল্পে আজগরকে বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর পড়াশোনা করতে দেখা যেত। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে তিনি কী করেন, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ ছিল না গৃহপরিচারক মতির। সুযোগ পেলেই দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেন। আর ধরা পড়ে প্রায়ই থাপ্পড় খেতে হতো তাঁকে। একবার তো দরজার ছিদ্র দিয়ে কালিও ছুড়ে মারেন আজগর।</p><blockquote>জন্ম ও বেড়ে ওঠা১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুরে জন্ম আলী যাকেরের। পরবর্তী জীবনে অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন তিনি।</blockquote><p>পর্দায় দর্শককে হাসানো এসব দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে ফারুককে সত্যিই অনেকগুলো থাপ্পড় খেতে হয়েছিল। কারণ, একবারে শট ঠিকমতো হচ্ছিল না। সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে ফারুক জানিয়েছিলেন, ‘থাপ্পড় মারার শট ওকে না হওয়ার কারণে বারবার আলী যাকেরের হাতে আমাকে থাপ্পড় খেতে হচ্ছিল। প্রতিবার থাপ্পড় মেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। আমাকে আদর করে বলতেন, “ইশ্ রে, জোরে লেগেছে মনে হয়। মনে কষ্ট রেখো না।” আমি যতই তাঁকে বলি, ব্যথা পাইনি, কষ্ট নিইনি, তারপরও তিনি প্রতিবারই থাপ্পড়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-11/c2415af2-8748-455e-932c-39edaa978286/gbb.JPG"><figcaption>নাটকের দৃশ্যে আলী যাকের ও ফারুক আহমেদ</figcaption></figure><blockquote>মুক্তিযুদ্ধে শব্দসৈনিক১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে কাজ করেন আলী যাকের। ইংরেজিতে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের খবর বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ার সেই সংগ্রামে তাঁর কণ্ঠও হয়ে উঠেছিল একটি অস্ত্র।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/75xy5bjlpt">অনন্য একজন আলী যাকের</a></aside><p>শুধু ‘আজ রবিবার’ নয়, হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিন বৃক্ষ’ নাটকেও আলী যাকেরের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার স্মৃতি আছে ফারুকের। নাটকের গল্পে একদল বিদেশি একটি অচিন গাছ দেখতে আসে। তাদের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন আলী যাকের। কাজের ছেলের চরিত্রে থাকা ফারুক বারবার সেই আলোচনায় কথা বলে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে দূরে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মারেন আলী যাকের।</p><blockquote>‘কবর’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তাঁর পথচলা শুরু। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশে পরে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক।</blockquote><p>ফারুকের ভাষায়, ‘যাকের ভাই ছিলেন স্বাস্থ্যবান, তাঁর হাতের পাঞ্জা ছিল মোটা। সেদিন প্রথম থাপ্পড় খেয়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। ব্যথায় আমার মাথা ঘুরতে থাকে। যাকের ভাই দ্রুত আমাকে তুলে নেন। দুঃখ প্রকাশ করেন। সেদিন সারাক্ষণ আমাকে আদর করে বলতে থাকেন, “মনে কষ্ট রাখিস না।”’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/drama/nk1lkwy07j">আলী যাকের নাটকটি দেখে যেতে পারলেন না</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2013/09/04/52263132832dc-Untitled-10.jpg"><figcaption>বাবা আলী যাকেরের সঙ্গে ছেলে ইরেশ যাকের</figcaption></figure><blockquote>নাগরিকের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা‘কবর’-এ অভিনয়ের পর নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন আলী যাকের। দলটির হয়ে অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেন। নিয়মিত মঞ্চায়ন ও দলগত নাট্যচর্চার বিকাশে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই যাত্রায় তাঁর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ছিলেন স্ত্রী, অভিনেত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের।</blockquote><p>দৃশ্যটি বাস্তবসম্মত করে তুলতেই জোরে থাপ্পড় মেরেছিলেন বলে ফারুককে বুঝিয়েছিলেন আলী যাকের। কিন্তু একই নাটকে আবারও তাঁকে থাপ্পড় মারার দৃশ্য ছিল। এবার আর মন সায় দিচ্ছিল না তাঁর। হুমায়ূন আহমেদকে ডেকে বলেছিলেন, ‘হুমায়ূন, ফারুক ছেলেটাকে থাপ্পড় মারতে কষ্ট লাগছে। মায়াবী একটা ছেলে, তাকে থাপ্পড় না মারলে হয় না?’<br>এরপর দৃশ্যটি অন্যভাবে করা হয়। ফারুকের স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, আলোচনায় বাগড়া দেওয়ায় তাঁকে দূরে ডেকে নিয়ে যান আলী যাকের। ক্যামেরা তখন থাকে বিদেশি অতিথিদের দিকে। দর্শক শুধু থাপ্পড়ের শব্দ শুনতে পান। সেই শব্দে অতিথিরা কিছুটা ভয় পান। পরের দৃশ্যে গাল ডলতে ডলতে ফিরে আসেন ফারুক। সরাসরি থাপ্পড়ের দৃশ্য না দেখিয়েও গল্পের প্রয়োজন মিটে যায়।</p><blockquote>মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণস্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও কাজ করেছেন আলী যাকের। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। একাত্তরে স্বাধীনতার সংবাদ প্রচার থেকে পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রেই যুক্ত ছিলেন তিনি।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/u5w2bvi860">বাবা নেই, জন্মদিন কীভাবে কাটে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের</a></aside><p>একক ও ধারাবাহিক মিলিয়ে আলী যাকেরের সঙ্গে প্রায় ১৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। তাঁর কাছে এটি অভিনয়জীবনের বড় প্রাপ্তি। জ্যেষ্ঠ এই সহশিল্পীকে নিয়ে ফারুক বলেছিলেন, ‘যাকের ভাই নিরহংকার এবং সহযোগিতাপূর্ণ একজন অভিনেতা। সেটে কখনো তাঁকে উচ্চ স্বরে কথা বলতে শুনিনি। তিনি সবাইকে মূল্যায়ন করতেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-11/1baba0db-6647-4266-b546-3b524e6a4556/ALI_ZAKER_10094501.png"><figcaption>আলী যাকের </figcaption></figure><blockquote>লেখালেখি ও আলোকচিত্রসমাজ, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে লিখেছেন আলী যাকের। আলোকচিত্রের প্রতিও ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও মানুষ তাঁর ছবির বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সদস্যও ছিলেন।</blockquote><p>টেলিভিশনের দর্শকের কাছে ‘আজ রবিবার’ ও ‘বহুব্রীহি’র মতো নাটকে অভিনয় করে আপন হয়ে উঠেছিলেন আলী যাকের। মঞ্চেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অভিনেতা ও নির্দেশক। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরণ্যকের প্রযোজনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তাঁর পথচলা শুরু। পরে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়, নির্দেশনা ও নাট্যসংগঠনে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘গ্যালিলিও’ ও ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’য় তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে স্মরণীয়।</p><blockquote>নূরলদীন, দেওয়ান গাজী ও গ্যালিলিওসৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এ নূরলদীন, ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’য় দেওয়ান গাজী এবং ‘গ্যালিলিও’তে নাম ভূমিকায় অভিনয় তাঁর মঞ্চজীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন। চরিত্রভেদে কণ্ঠ, অভিব্যক্তি ও শরীরী ভাষার ব্যবহারে তিনি তৈরি করেছিলেন নিজস্ব অভিনয়শৈলী। তাঁর মঞ্চকাজের মধ্যে ‘ম্যাকবেথ’, ‘অচলায়তন’ ও ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’ও উল্লেখযোগ্য।</blockquote><p>বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুরে জন্ম আলী যাকেরের। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টিও ছিলেন তিনি। </p><blockquote>টেলিভিশনে বিপুল জনপ্রিয়তামঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশনেও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন আলী যাকের। হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’ ও ‘আজ রবিবার’-এ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ‘আজ রবিবার’-এর আজগর চরিত্রটি এখনো দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। গম্ভীর ও হাস্যরসাত্মক—দুই ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল। সংলাপ, চোখের অভিব্যক্তি ও বিরতির ব্যবহার তাঁর অভিনয়কে আলাদা করে চিনিয়ে দিত।</blockquote><blockquote>একুশে পদক ও অন্যান্য সম্মাননানাটকে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে একুশে পদক পান আলী যাকের। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।</blockquote><p>অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনশিল্প, লেখালেখি ও আলোকচিত্রচর্চায় যুক্ত ছিলেন। নাটকে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে পান একুশে পদক।</p><blockquote>জীবনাবসান দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলী যাকের। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুর আগে তাঁর করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ধরা পড়ে। মঞ্চ ও টেলিভিশনের স্মরণীয় চরিত্র, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।</blockquote><p>দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন আলী যাকের। মৃত্যুর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ধরা পড়ে। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর, ৭৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি।</p>
ইরান তার অন্তত দুটি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নতুন নির্মাণকাজ চালাচ্ছে এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো মেরামত করছে- স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ থেকে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনী দৌড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাসকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নিথ্যা রমন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নাগরিকের জয় ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হতবাক করেছে। নির্বাচনী লাড়াইয়ের প্রথম দিকে একজন দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন শুরু করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন ৫ই অগাস্টের পর থেকেই সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি বেড়েছে। অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করলে দস্যুরা অনেকে আত্মসমর্পণ করেছিল।
যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, তার ভিত্তি হলো ১৯৬০ সালের ৪ঠা নভেম্বর মার্কিন বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ তিনজন গবেষকের প্রকাশিত একটি গবেষণা, যার চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ছিল- "ডুমসডে: ফ্রাইডে, নভেম্বর ১৩"। যার মানে দাঁড়ায়- ১৩ই নভেম্বর, শুক্রবার, মহাপ্রলয় বা কেয়ামতের দিন।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদল হতে পারে বলে নানা আলোচনা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কী বলছে হোয়াইট হাউজ?
বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুযোগ চায় ভারত; সরকারবিরোধী লোকজনের কাছে পুলিশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ; প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি- এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
বেশিরভাগ শ্রমিকেরই বক্তব্য হচ্ছে, মাত্র এক বছরেই তাদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে প্রায় দেড়গুন। কিন্তু তার বিপরীতে আয় বাড়েনি। একবাক্যে শ্রমিকদের প্রায় সবার বক্তব্যই ছিল, গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম। যা তাদের খরচের হিসাব- নিকাশই বদলে দিয়েছে।
বাংলাদেশে নিজস্ব ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরির বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যে বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো সক্ষমতা প্রয়োজন সেটি বাংলাদেশের আছে কিনা- সেই প্রশ্নটি সামনে আসছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় চলন্ত প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে মাহমুদুল হক (৪৫) নামের এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজু খালে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে ভেসে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মেহেদি হাসান (১৮)।
ইউরোপজুড়ে শুক্রবার যাত্রীবাহী বিমানগুলোতে বোমা হামলার হুমকির একটি ঢেউ দেখা দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো এ ঘটনা ঘটল। শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকার সাভারে কর্মরত বাংলা ট্রিবিউনের সাবেক প্রতিনিধি নাদিম হাসান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই বোন রেখে গেছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফে সেনা সদস্য নিহতের পর পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তিন জনের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত যেকোনো ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৫ জনে।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে চীনে বিয়ের হার গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এটি জন্মহার হ্রাস এবং জনতাত্ত্বিক চাপের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে—এমন একটি দেশে, যেখানে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি এখনো বিয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।