জেলা

রেস্তোরাঁয় গোপনে তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে ছড়ানোর অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রেস্তোরাঁয় গোপনে তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে ছড়ানোর অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার
রেস্তোরাঁয় গোপনে তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে ছড়ানোর অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার
গতকাল রোববার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তারের পর আজ তাঁদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Prothomalo

View more
এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%
এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%

<p>বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪০ শতাংশের আশপাশে; বাকিটা আমদানি।</p><p> বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ওভেন ও নিট পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য জাপানে রপ্তানি হয়। তার বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয় লোহা, ইস্পাত, জাহাজ, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) করেছে বাংলাদেশ। তবে তার সুফল এখনো পুরোপুরি রপ্তানিতে পড়েনি।</p><p> জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সে দেশে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা ও জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।</p><p> জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে চায় জাপান। অটোমোবাইল ও অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এই বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটির উদ্যোক্তারা।</p><p><strong>রপ্তানির শীর্ষে পোশাক, আমদানিতে ইস্পাত</strong></p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬–১৭ অর্থবছরে জাপানে ১০১ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি ডলারে। সেই হিসাবে এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তার বিপরীতে একই সময়ের ব্যবধানে দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।</p><p>ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানির বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ ছাড়া হিমায়িত মাছ ও জলজ প্রাণী, দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল ও বাদাম, চা-কফি-মসলা, শস্য, তেলবীজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি হয় দেশটিতে। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও আছে আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, বয়লার ও মেশিনারিজ; বিভিন্ন ধাতু ও ধাতুসামগ্রী, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, ওষুধ, সাবান, খেলনা ও খেলাধুলার সামগ্রী, ঘড়ি, কাঠের পণ্য, কাগজ ও মুদ্রিত বইপত্র।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে লোহা ও ইস্পাত, যা দেশটি থেকে মোট আমদানির ৩৭ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানির দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া জাহাজ, নৌকা, ভারী যন্ত্রপাতি, বয়লার, খনিজ জ্বালানি, তেল ও বিটুমিনাস পদার্থ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফটোগ্রাফিক ও সিনেমাটোগ্রাফিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে আমদানির তালিকায়।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে ৫২ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে ট্রেডিং খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও রাসায়নিক খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও মৎস্য খাতেও কিছু কিছু জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছিল। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, মিৎসুবিশি, মারুবেনিসহ বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩৫০।</p><p>জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের (জেবিআইসি) তথ্য অনুসারে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা প্রসারের জন্য সেরা ২০টি সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আর জাপানি বিনিয়োগ সহায়তাকারী সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইতিমধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ে তোলা হয়েছে।</p><p>জাপানের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন অনেক বেসরকারি জাপানি প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই বিনিয়োগ এলে স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে কিছু নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয় দেশের পার্লামেন্টে দ্রুত ইপিএ অনুমোদন (র্যাটিফিকেশন) করিয়ে তা কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও তা বহাল রাখতে হবে।’</p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা, ওসিকে আদালতে তলব
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা, ওসিকে আদালতে তলব

<p>কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে জামিনযোগ্য ধারায়। এ ঘটনায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানকে আদালতে তলব করেছেন বিচারক। মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা সংযোজন না করে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আদালত।</p><p> ১৭ অক্টোবর সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৯ দিন পরও রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ তিন আসামি গ্রেপ্তার হননি। তবে রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।</p><p>আজ সোমবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এক আদেশে ওসি আতিকুর রহমানকে ২৯ অক্টোবর আদালতে সশরীর হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১৮ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা এবং বিভাগীয় শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।</p><p>আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাজাহান এলাহী নূরী। তিনি বলেন, নোটিশের অনুলিপি ওসি আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় পাঠানো হয়েছে।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি আদালতের নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে যথাসময়ে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেবেন। টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় তিনিও মর্মাহত বলে জানান। ওসি বলেন, আগুন লাগার ব্যস্ততার মধ্যে মামলার এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা বাদ পড়েছিল। পরদিন আদালতে ওই ধারা সংযোজনের আবেদন করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/urkewrh37t">‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’</a></aside><p><strong>আদালতের পর্যবেক্ষণ</strong></p><p>আদালতের আদেশে বলা হয়, ১৭ অক্টোবর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলা করার এক দিন পর, ১৯ অক্টোবর, তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন।</p><p>আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলার রেকর্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে ওসি আতিকুর রহমান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এজাহার রেকর্ডের সময় ৩০৪ ধারা সংযোজন করেননি। ১০ পর্যটকের মৃত্যুর মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জামিন অযোগ্য ৩০৪ ধারা যুক্ত না করে জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারায় মামলা রেকর্ড করে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন বলে মনে করেন আদালত।</p><p>আদেশে আরও বলা হয়, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমনপথ (ফায়ার এক্সিট) ছিল না। ফলে আগুনে দগ্ধ পর্যটকেরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন এবং বের হতে না পেরে ১০ জনের মৃত্যু হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/phuhf2vd/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-10.58.34-PM.jpeg"><figcaption>কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত ঘিরে এভাবে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত, অবৈধ রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা। মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায়</figcaption></figure><p>আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রিসোর্টের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছাড়াই রিসোর্টটি পরিচালনা করে আসছিলেন। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অতিথিরা কক্ষ থেকে বের হতে না পেরে প্রাণ হারাতে পারেন, এমন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে আদালত উল্লেখ করেন।</p><p>আদেশে বলা হয়, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় মামলা রেকর্ড না করে জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারায় মামলা নেওয়ার মাধ্যমে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি থেকে রক্ষা করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলে আদালত মনে করেন। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ৩০৪-ক ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/tp1i3ocrgh">হিমঘরে ১০ মরদেহ, স্বজনদের অপেক্ষা</a></aside><p><strong>মামলার বিবরণ</strong></p><p>পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ। সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।</p><p>ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।</p><p>এ ঘটনায় ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। এতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৯ জনকে আসামি করা হয়। সব মিলিয়ে আসামি ২৩ জন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/542ky6fnob">‘বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি, রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলছে’</a></aside><p>মামলার এজাহারে নাম থাকা চার আসামি হলেন রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সাইদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জাহিদ হোসেন সুমন (২৯)। রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর কর্মরত ১৯ জনকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।</p><p>তবে রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম এজাহারে নেই। ভুলক্রমে বাদ পড়া তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান।</p><p>মামলার চার নম্বর আসামি জাহিদ হোসেনকে ১৮ অক্টোবর বিকেলে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, আজ বিকেল পর্যন্ত ওই আবেদনের শুনানি হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে। জাহিদ হোসেনকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।</p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
তেহরানে মক্কা জোটের প্রতিনিধিরা, কী আলোচনা হলো
তেহরানে মক্কা জোটের প্রতিনিধিরা, কী আলোচনা হলো

<p>এক দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্য দিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে সংঘাত। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি দিনকে দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠক করেছেন সম্প্রতি গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের তিন সদস্যদেশ—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা।</p><p> গত আগস্টে মক্কা জোটে সই করে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে এটিই ইরান ও ওই তিন দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে জোটের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ril9kyq0pv">দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফেদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও</a></aside><p>ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির আয়োজনে বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। আর তুরস্কের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।</p><p>ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের খবর অনুযায়ী, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তেহরান। এতে বলা হয়, বৈঠকে মূলত আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ হয়। সেখানে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন চার দেশের প্রতিনিধিরা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/hgbzhnq4fl">মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে পাকিস্তান</a></aside><p>গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান ও কাতার। আগের দিন কাতারের মধ্যস্থতাকারীও তেহরান সফর করেছিলেন। এর আগে জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যে তা ভেস্তে গিয়ে আবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।</p><p>এই যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে সৌদি-হুতি সংঘাত। গতকাল হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিমমুখী অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এক দিন আগে ওই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আগের হামলার পর বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালে কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/elu3jlz53e">সৌদি আরবে ৭টি হামলার দাবি হুতিদের, মক্কায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিতে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করেন তিনি
সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিতে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করেন তিনি

নিজেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলটি ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যে বিতর্ক, রাজনৈতিক দল-সংগঠনের নিন্দা
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যে বিতর্ক, রাজনৈতিক দল-সংগঠনের নিন্দা

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
উদ্ধার হওয়া নবজাতক ফিরল মায়ের কোলে
উদ্ধার হওয়া নবজাতক ফিরল মায়ের কোলে

<p>কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার তরুণী সন্তান প্রসব করেছিলেন গত শুক্রবার। সেদিনই হাসপাতাল থেকে নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যান ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের স্বজনসহ পরিচিত কয়েকজন। নবজাতককে উদ্ধার করে গতকাল রোববার রাতে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।</p><p> মায়ের কাছ থেকে নবজাতককে জোর করে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের মা ও চাচা, চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন নার্স এবং নবজাতক কেনার সঙ্গে জড়িত একজন।</p><p> আজ সোমবার রাত আটটার দিকে প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, রোববার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করে। শিশুটি বর্তমানে মায়ের হেফাজতে রয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।</p><p>পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হয়তো নবজাতককে কারও কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নবজাতককে উদ্ধারের সময় এক শ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পও পাওয়া গেছে। সেখানে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতকককে অন্যত্র হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। এ কারণে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।</p><p>অসুস্থ নানির চিকিৎসার জন্য ওই তরুণীর মা গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় যান। তখন নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি অভিযুক্ত যুবকের পরিবারকে জানানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তরুণীর পরিবার। তারা জানায়, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন তাঁরা।</p><blockquote>নবজাতককে বিক্রির অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান। এ মামলায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।</blockquote><p>গত শুক্রবার চৌদ্দগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। নবজাতকের পিতৃপরিচয় আড়াল করতে অভিযুক্ত তরুণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অন্যদের সহযোগিতায় জন্মের পরপরই নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।</p><p>পুলিশ সূত্র বলছে, নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একজন নার্স, দুজন ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর নবজাতককে বিক্রি করার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।</p><p><strong>দুই মামলা, গ্রেপ্তার চার</strong></p><p>ধর্ষণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় আজ সোমবার মামলা হয়েছে। এ মামলায় অভিযুক্ত যুবক, তাঁর মা ও চাচা এবং স্থানীয় এক মাতবরকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ভুক্তভোগী তরুণী।</p><p>অন্যদিকে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান। এ মামলায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ জনসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন। আজ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওসি প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/5982h2yjad">ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, নবজাতক নিয়ে গেছেন অভিযুক্ত যুবকের লোকজন</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
স্টেশন মসজিদের অজুখানা সংস্কার করল বন্ধুসভা, স্বস্তিতে মুসল্লিরা
স্টেশন মসজিদের অজুখানা সংস্কার করল বন্ধুসভা, স্বস্তিতে মুসল্লিরা

এক দিন আগেও এই চিত্র ছিল জনাকীর্ণ কাঁচাবাজার–সংলগ্ন নাটোর রেলস্টেশন জামে মসজিদের অজুখানায়। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য আসেন ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী, রেলকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দশের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মসজিদ সংস্কারে কারোরই কোনো গরজ লক্ষ করা যায়নি।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ক্রসফায়ার চেয়ে আইজিপি তাঁর পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন: নূর খান লিটন
ক্রসফায়ার চেয়ে আইজিপি তাঁর পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন: নূর খান লিটন

‘ক্রসফায়ার চেয়ে তিনি আইজিপির পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন’

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রেস্তোরাঁয় গোপনে তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে ছড়ানোর অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার
রেস্তোরাঁয় গোপনে তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে ছড়ানোর অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার

গতকাল রোববার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তারের পর আজ তাঁদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”