ভারত

পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ, আটক হুমায়ুন কবীর

অক্টোবর ৬, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ, আটক হুমায়ুন কবীর
পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ, আটক হুমায়ুন কবীর
বিজেপির দাবি, ভোট অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে হয়েছে। তবে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ও ঋতব্রত অংশ এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ভিন্ন অভিযোগ তুলেছে।

Prothomalo

View more
আদালত থেকে খুনের আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
আদালত থেকে খুনের আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

<p>হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম ঢাকার আদালত থেকে দ্বিতীয়বার পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আবদুল আলিম নামে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শরিফুল ইসলাম পালানোর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>তদন্ত কমিটিতে আছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাসিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদী হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীম।</p><p>এ ঘটনায় ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মোরশেদ আলম। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় করা ১৭(৬)২৫ নম্বর মামলার হাজতি আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (২৮) মঙ্গলবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনস্টেবল মো. আবদুল আলিম তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ৭ নম্বর বিচারিক আদালতের এজলাসের কাঠগড়ায় শিকলের সঙ্গে আটকে রাখেন। এরপর তিনি এজলাসের সামনের বারান্দায় যান।</p><p>এজাহারে বলা হয়, বারান্দা থেকে ফিরে আনুমানিক দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে কনস্টেবল আবদুল আলিম দেখেন, শরিফুল কাঠগড়ায় নেই। তাঁর হাতকড়াটি কাঠগড়ার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছে। তখন আবদুল আলিম বুঝতে পারেন, তিনি বারান্দায় থাকার সময় শরিফুল হাতকড়া খুলে কৌশলে প্রহরী দলের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেছেন।</p><p>মামলায় মোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেছেন, আবদুল আলিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আসামি পালানোর বিষয়টি জানান। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। হাজতখানার পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাতক আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে। বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা আছে। খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় শরিফুল কারাগারে ছিলেন।</p><p>এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি পুলিশের এক সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি হয়েছিল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন পালানোর ঘটনায় সেদিনই কোতোয়ালি থানায় শরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের ১ অক্টোবর ফেনী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি আবার কারাগারে ছিলেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি কারাগারে
ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি কারাগারে

<p>রাজধানীর উত্তরায় ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবিরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।</p><p>আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দীন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না এবং জামিনেরও কোনো আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p>কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) ও মো. সজীব (৩৬)।</p><p>আদালতে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনার বিষয়ে তাঁরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। আসামিদের দেওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের নাম-ঠিকানা পুরোপুরি যাচাই না করা পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।</p><p>এর আগে ২ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আবু নাসির বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন ৩ অক্টোবর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দশম তলায় যান কয়েক ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভয়ে ফ্ল্যাটমালিক তাঁদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন।</p><p>পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায় এবং একজনের কাছে একটি পরিচয়পত্র পায়। পরিচয়পত্রটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন।</p><p>গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আসামি রাসেল মাহবুবের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের মামলা রয়েছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মেসি–সভ্যতার অবসান
মেসি–সভ্যতার অবসান

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাতে অবসান হচ্ছে ফুটবলের এক ঝলমল অধ্যায়ের।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের
স্থায়ী শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/tcqcxqxg/Jatiyo-Party-Anisul.jpeg"><figcaption>রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসিডিয়াম সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) শীর্ষ নেতারা। ৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>দেশে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। একই সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দখলদারি, চাঁদাবাজি বন্ধসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।</p><p>মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।</p><p>সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অপরাধী যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>দেশের মানুষ এখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।</p><p>সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায়। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।</p><p>প্রেসিডিয়াম সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। তাঁরা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির এই অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক (চুন্নু), সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রত্না এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
উপাচার্যকে ঘেরাও, জোর করে ‘পদত্যাগপত্রে’ সই নেওয়ার অভিযোগ
উপাচার্যকে ঘেরাও, জোর করে ‘পদত্যাগপত্রে’ সই নেওয়ার অভিযোগ

<p>রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ‘মব’ করে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় একটি কাগজে সই করেন তিনি। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
প্রতিকূলতা জয় করা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ‘স্বপ্নসারথী’
প্রতিকূলতা জয় করা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ‘স্বপ্নসারথী’

<p>প্রতিকূলতা জয় করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করায় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্ম ‘স্বপ্নসারথী’। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘স্বপ্নসারথী: সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এ আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।</p><p>জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের সংগ্রাম, প্রতিবন্ধকতা জয় এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরে। পাশাপাশি শিক্ষকেরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।</p><p>আয়োজনের উদ্বোধন করেন স্বপ্নসারথীর প্রধান উপদেষ্টা এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (এসইএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে মসৃণ করতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/nizfyo9o/Sopno_sarothi_1.jpeg"><figcaption>রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘স্বপ্নসারথী’র কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। ৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের ভয় জয় করে নিজ নিজ সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনসংগ্রামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ বা আর্থিক অসচ্ছলতা নয়; বরং অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই মানুষকে সফলতার চূড়ায় পৌঁছে দেয়।</p><p>অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রতিকূলতা পেরিয়ে পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে হবে এবং অর্জিত শিক্ষা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করতে কেবল একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সামাজিক সংগঠনগুলোর একটি কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।</p><p>অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ‘স্বপ্নসারথী’ দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, মানবিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, এক হলো প্যারামাউন্ট–ওয়ার্নার ব্রাদার্স
১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, এক হলো প্যারামাউন্ট–ওয়ার্নার ব্রাদার্স

<p>কয়েক মাসের করপোরেট লড়াই, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, মামলা ও নানা অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত এক হলো হলিউডের দুই বড় প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি। ১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠান এখন থেকে একসঙ্গে স্কাইড্যান্স করপোরেশন নামে পরিচালিত হবে। নতুন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড এলিসন।<br> ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির ঋণ গ্রহণসহ চুক্তিটির মোট মূল্য ১১১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্য দিয়ে একই ছাতার নিচে এল হলিউডের দুই বড় স্টুডিও; সিবিএস, সিএনএন, কমেডি সেন্ট্রাল, এমটিভি ও টিবিএসের মতো টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবং প্যারামাউন্ট প্লাস ও এইচবিও ম্যাক্সের মতো স্ট্রিমিং সেবা।</p><p>নতুন স্কাইড্যান্সের বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে একই সঙ্গে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের নিট ঋণের বোঝাও সামলাতে হবে তাদের।<br> চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ডেভিড এলিসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু স্কাইড্যান্সের জন্য নয়, আমাদের পুরো শিল্পের জন্যই ঐতিহাসিক।’<br> এলিসন জানান, শুরু থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী দুই স্টুডিওকে এক জায়গায় এনে আরও শক্তিশালী প্রতিযোগী তৈরি করা। প্রতিভা, সম্পদ ও বিস্তৃত পরিসর কাজে লাগিয়ে সব ধরনের গল্প সব প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।</p><p><strong>যেভাবে হলো এই চুক্তি</strong><br>গত বছরের শেষ দিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি কেনার লড়াই শুরু হয়। প্রথম দিকে এগিয়ে ছিল নেটফ্লিক্স। গত ডিসেম্বরে ঋণসহ প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কিছু সম্পদ কিনতে সম্মত হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরে পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে আসে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-02-28/ebgkmaje/NH5NXN4N2RKDPH2RQGGA6OC3YI.avif"><figcaption>ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিও</figcaption></figure><p>শুরুতে প্যারামাউন্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও পরে শেয়ারপ্রতি এক ডলার বাড়িয়ে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি জানায়, নেটফ্লিক্সের চেয়ে প্যারামাউন্টের প্রস্তাব ভালো। নেটফ্লিক্সকে প্রস্তাব বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হলেও তারা আর দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ১১১ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে যায় প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স।<br>তবে সেখানেই বাধা শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলের করা অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার মুখে পড়ে চুক্তিটি। এ কারণে চুক্তি সম্পন্ন হতেও দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিকে অধিগ্রহণ করল প্যারামাউন্ট।</p><p><strong>এক হবে এইচবিও ম্যাক্স ও প্যারামাউন্ট প্লাস</strong><br>নতুন স্কাইড্যান্সের ব্যবসা পরিচালিত হবে তিনটি বিভাগে—স্টুডিওস, ডিরেক্ট-টু-কনজ্যুমার ও টিভি মিডিয়া।<br>প্রতিষ্ঠানটির আওতায় এখন থাকছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এইচবিও, এইচবিও ম্যাক্স, প্যারামাউন্ট প্লাস, প্লুটো টিভি, সিবিএস, সিএনএন, সিবিএস স্পোর্টস, টিএনটি স্পোর্টস, নিকেলোডিয়ন, কার্টুন নেটওয়ার্ক, এমটিভি, ফুড নেটওয়ার্ক, বিইটি, এইচজিটিভি ও কমেডি সেন্ট্রাল।<br>স্ট্রিমিং ব্যবসাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। স্কাইড্যান্স জানিয়েছে, সময়ের সঙ্গে প্যারামাউন্ট প্লাস ও এইচবিও ম্যাক্সকে একীভূত করে একটি স্ট্রিমিং সেবা করা হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-02-28/yw6ztkjf/IFOFIAFDXBKVNIXIEU4CYWZ5HA.avif"><figcaption>প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স</figcaption></figure><p><strong>চাকরি হারাতে পারেন হাজারো কর্মী</strong><br>একীভূতকরণের পর আগামী তিন বছরে বার্ষিক হিসাবে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে স্কাইড্যান্স। প্রযুক্তি, বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয়, পণ্য ও সেবা কেনাকাটা, বিপণন ও আবাসন খাত থেকে মূলত এই ব্যয় কমানো হবে।<br>তবে এর প্রভাব পড়তে পারে কর্মীদের ওপরও। আগামী কয়েক মাসে সাবেক প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির হাজারো কর্মী ছাঁটাই হতে পারেন।<br>স্কাইড্যান্সের লক্ষ্য, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে নিট ঋণ ও সমন্বিত আয়ের অনুপাত আনুমানিক সাত গুণ থেকে কমিয়ে ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ তিন গুণে নামিয়ে আনা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/hollywood/7g2lyzkuhf">ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ধনকুবেরের সমর্থনে হলিউডের মেগা চুক্তি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনছে প্যারামাউন্ট-স্কাইড্যান্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/hollywood/9h1x5e316s">সরে দাঁড়াল নেটফ্লিক্স, ওয়ার্নার ব্রাদার্স কেনার দৌড়ে এগিয়ে প্যারামাউন্ট</a></aside><p><strong>এলিসন পরিবারের হাতেই নিয়ন্ত্রণ</strong><br>নতুন স্কাইড্যান্সে সবচেয়ে বড় মালিকানা থাকছে এলিসন পরিবারের হাতে। ডেভিড এলিসনের বাবা প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ল্যারি এলিসনের বিপুল আর্থিক সমর্থন রয়েছে এই অধিগ্রহণে। এলিসন পরিবার ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্সের হাতে থাকবে একীভূত প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ভোটাধিকার।<br>চুক্তির অর্থায়নে ক্লাস বি সাধারণ শেয়ারে ৪৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ল্যারি এলিসন, রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স, লায়নট্রি এবং সৌদি আরব, কাতার ও আবুধাবির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল। প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১২ ডলার। ঋণ অর্থায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটিগ্রুপ ও অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট।<br>চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ প্রায় ৩১ দশমিক শূন্য ২ ডলার পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার নাসডাকে লেনদেন বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে স্কাইড্যান্সের ক্লাস বি শেয়ার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এসকেওয়াইডি’ প্রতীকে লেনদেন শুরু করছে।<br>নতুন প্রতিষ্ঠানে ডেভিড এলিসনের সঙ্গে সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাটেলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইনন ক্রেইজ।<br>এলিসনের ভাষায়, একীভূতকরণ শেষ হওয়ায় এখন তাঁদের মনোযোগ ভবিষ্যতের দিকে—এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা সৃজনশীল মানুষদের ক্ষমতায়ন করবে, দর্শকদের বিনোদন দেবে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।<br>ভ্যারাইটি অবলম্বনে</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম সোনা, ১৬ জনের ১৫ জনই পদকজয়ী
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম সোনা, ১৬ জনের ১৫ জনই পদকজয়ী

<p>অনূর্ধ্ব-১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইএমএসও) প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় অনুষ্ঠিত ২৩তম আসরে অংশ নিয়ে দেশের ১৬ খুদে শিক্ষার্থীর ১৫ জনই পদক জয় করেছে। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা অর্জন করেছে ১টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জপদক।</p><p> ২ থেকে ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বিশ্বের ২৩টি দেশের চার শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।</p><p> আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে বিজ্ঞানে প্রথম সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করল। স্বর্ণপদকটি জিতেছে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান।</p><p>নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তাহমিদ বলে, ‘স্বর্ণপদক পাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই এসেছিলাম। তত্ত্বীয়-২–এ কয়েকটি সাধারণ ভুল করে একটু দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু ব্যবহারিক সেটা পুষিয়ে দিয়েছে। সোনার পদক পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।’</p><p>বিজ্ঞান বিভাগে বাংলাদেশ দল একটি সোনাসহ চারটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। পদকজয়ী ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। ওপরে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন।</p><p>বিজ্ঞানে রৌপ্যপদক জিতেছে অভিজ্ঞান রায়, মোহাম্মদ মুশরিফ আলম, রাইয়ান আফরাদ ও আরহাম আবিদ। ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে রাফসান শফিক তালুকদার ও সাহাবী ইবনে কাব্য। দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য মুশরিফ ও রাইয়ান দুজনই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।</p><p>গণিত বিভাগে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই বিভাগে অংশ নেওয়া আটজন প্রতিযোগীর সবাই পদক জিতেছে। দলগতভাবে এসেছে তিনটি রৌপ্য ও পাঁচটি ব্রোঞ্জপদক। আট সদস্যের সবাই ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী।</p><p>গণিত দলে সর্বোচ্চ স্কোর করে রৌপ্যপদক পেয়েছে অরিজিৎ সাহা। অন্য দুটি রৌপ্যপদক পেয়েছে ইহান আবরাদ রহমান ও মো. সামিন সাইফ। এ ছাড়া ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে মো. নাবি হোসেন, আলী ওমর, শারাফ বিন আনোয়ার, মো. শাহিদ মোরসালিন ও ইরতিশ জায়েদ লিয়াম।</p><p>তাহমিদের মতো অরিজিতেরও এটিই ছিল বয়সভিত্তিক এই আসরে শেষ অংশগ্রহণ।</p><p>এর আগে মালয়েশিয়ার কেদাহে অনুষ্ঠিত ২২তম আসরে বাংলাদেশ প্রথমবার অংশ নিয়েছিল। সেবার ১২ জন অংশ নিয়ে ২টি রৌপ্য, ১০টি ব্রোঞ্জসহ সবাই পদক পেয়েছিল। এবার দলের সদস্য ও পদকসংখ্যা দুটোই বেড়েছে। দলের এমন সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন দলনেতা তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মীম নাজ রহমান ও গণিতের প্রশিক্ষক সামিরা সুমাইয়া।</p><p>বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মীম নাজ রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগীদের একাগ্রতা, অভিভাবকদের পরিশ্রম আর মেন্টরদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার সমন্বয়েই এই সাফল্য।’</p><p>আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশ দলের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি)।</p><p>ভবিষ্যতে এমন আয়োজন দেশে করার আহ্বান জানিয়ে এসপিএসবির সভাপতি মুনির হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয়, এবার আমাদের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বাংলাদেশকেও একটি বড় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের আয়োজক হতে হবে।’</p><p>দেশে এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ছিল বিডিওএসএন, এসপিএসবি ও ম্যাসল্যাব। আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই সহযোগী হিসেবে ছিল পুষ্টি এবং ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল ‘কিশোর আলো’ ও ‘বিজ্ঞানচিন্তা’। এ ছাড়া সহযোগিতা করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েট, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ, আটক হুমায়ুন কবীর
পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনের উপনির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ, আটক হুমায়ুন কবীর

বিজেপির দাবি, ভোট অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে হয়েছে। তবে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ও ঋতব্রত অংশ এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ভিন্ন অভিযোগ তুলেছে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন