আয়োজন

পেঙ্গুইনের ভালোবাসা

নভেম্বর ২, ২০২৬
পেঙ্গুইনের ভালোবাসা
পেঙ্গুইনের ভালোবাসা
<p>অ্যান্টার্কটিকায় তখন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বরফের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে মনে হয়, ধারালো কিছু এসে গায়ে বিঁধছে। চারদিকে সাদা বরফ। দূরে সমুদ্রের পানি কালো দেখায়। এমন পরিবেশে হাজার হাজার সম্রাট পেঙ্গুইন জড়ো হয়েছে একটি জায়গায়।</p><p> তাদেরই এক জোড়া পেঙ্গুইন কয়েক দিন ধরে পাশাপাশি থাকছে। মেয়ে পেঙ্গুইনটি ডিম পাড়ার পর সেটি আলতো করে তুলে দিল তার সঙ্গীর পায়ের ওপর। পুরুষ পেঙ্গুইনটি ডিমটিকে দুই পায়ের মাঝখানে রেখে পেটের নিচের চামড়ার ভাঁজ দিয়ে ঢেকে দিল। বাইরে থেকে ডিমটি আর দেখা যায় না।</p><p> মেয়ে পেঙ্গুইনটি এবার সমুদ্রের দিকে রওনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ডিম তৈরির ধকল গেছে তার শরীরের ওপর দিয়ে। খাবার খেয়ে শক্তি ফিরে পাওয়া দরকার। তাই তাকে সমুদ্রে যেতে হবে মাছ ও ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর খোঁজে।</p><p> যাওয়ার আগে সে একবার সঙ্গীর দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে অন্য পেঙ্গুইনদের সঙ্গে বরফের ওপর দিয়ে এগিয়ে গেল।</p><p> পুরুষ পেঙ্গুইনটি সেখানেই রয়ে গেল।</p><p> তার এখন একটাই কাজ—ডিমটিকে উষ্ণ রাখা।</p><p>প্রথম কয়েক দিন কাজটা খুব কঠিন মনে না হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওপর চাপ বাড়তে লাগল। ডিমটি পায়ের ওপর ঠিকমতো ধরে রাখতে হয়। একটু অসাবধান হলেই বিপদ। বরফের ওপর পড়ে গেলে ডিমটি জমে যেতে পারে। তাই হাঁটাচলা করতে হলেও তাকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হয়।</p><p>এদিকে শীত আরও বাড়ল। বাতাসের সঙ্গে বরফ উড়ে এসে পড়ে পেঙ্গুইনগুলোর গায়ে। পুরুষ পেঙ্গুইনটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার নিজের শরীরও ঠান্ডায় কাবু হয়ে আসে। কিন্তু পেটের নিচে ডিমটি উষ্ণ রাখতে হবে।</p><p>খাবার খাওয়ার জন্য সে সমুদ্রেও যেতে পারে না। শরীরে যে শক্তি জমা আছে, তা দিয়েই তাকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হবে।</p><p>তার আশপাশে আরও অনেক বাবা পেঙ্গুইন একইভাবে ডিম আগলে দাঁড়িয়ে আছে। কখনো তারা একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। এতে শরীরের তাপ ধরে রাখা সহজ হয়। আবার অবস্থান বদলে বাইরের ঠান্ডা বাতাসের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও ভাগ করে নেয় তারা।</p><p>দিনের পর দিন কেটে যায়।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote><p>মেয়ে পেঙ্গুইনটি তখন সমুদ্রে খাবার খুঁজছে। আর তার সঙ্গী ডিমটিকে আগলে আছে বরফের দেশে। দুজনের পথ আলাদা হলেও অপেক্ষাটা একই পরিবারের জন্য।</p><p>প্রায় দুই মাস পর এক সকালে ডিমের খোলসে ছোট্ট একটি ফাটল দেখা দিল। পুরুষ পেঙ্গুইনটি পায়ের ওপর ডিমটি ধরে রেখেই অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর খোলস ভেঙে বেরিয়ে এল একটি ছানা।</p><p>ছানাটির শরীরে ধূসর নরম পালক। ঠান্ডায় সে কাঁপছে। পৃথিবীর আলো-বাতাসে চোখ মেলেই সে আবার বাবার উষ্ণ আশ্রয়ে মুখ লুকাল।</p><p>এত দিন ধরে যে ডিমটি আগলে রেখেছিল পেঙ্গুইনটি, তার ভেতরেই বেড়ে উঠছিল এই ছোট্ট প্রাণ। এখন তাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আরও বেড়েছে।</p><p>কিন্তু বাবার শরীরে তখন খাবার প্রায় শেষ। তাকে এবার সমুদ্রে যেতে হবে। অন্যদিকে মা পেঙ্গুইনও ফিরবে ছানার কাছে। তাই কলোনির ভিড়ে সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষা শুরু হলো।</p><p>কিছুদিন পর সমুদ্র থেকে ফিরে এল মা পেঙ্গুইন। হাজার হাজার পেঙ্গুইনের ভিড়ে সে নিজের সঙ্গীকে খুঁজে নিল পরিচিত ডাক শুনে। কাছে এসে ছানাটিকে নিজের পায়ের ওপর তুলে নিল। এবার তার পালা ছানাকে আগলে রাখার।</p><p>বাবা পেঙ্গুইনটি সমুদ্রের দিকে রওনা হলো। দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার পর তার খাবার দরকার। সামনে বরফের পথ, হিমেল বাতাস আর অনিশ্চিত যাত্রা। তবু তাকে যেতে হবে। ছানাটিকে বড় করতে হলে মা-বাবা দুজনেরই সুস্থ থাকা জরুরি।</p><p>ছানাটি মায়ের পায়ের ওপর নিশ্চিন্তে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর সে ছোট্ট মুখ তুলে ডাকল। মা পেঙ্গুইন তাকে আরও কাছে টেনে নিল।</p><p>বরফের দেশে এভাবেই চলতে থাকে সম্রাট পেঙ্গুইনদের জীবন। এখানে বাসা বানানোর মতো গাছ নেই, শীত থেকে বাঁচার মতো ঘর নেই। তবু তারা ডিম আগলে রাখে, ছানাকে বাঁচিয়ে রাখে, খাবারের খোঁজে দূরে যায়, আবার ফিরে আসে।</p><p>আর একটি ছোট্ট পেঙ্গুইনের জীবনের শুরু হয় তার মা–বাবার এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর নিরন্তর যত্নের মধ্য দিয়ে।</p><p>মানিকদি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট</p>

Prothomalo

View more
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নভেম্বর ২, ২০২৬
সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে
সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে

গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নভেম্বর ২, ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নভেম্বর ২, ২০২৬
একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব  
একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব  

<p>বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদীন। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে তিনি এ সফরে অংশ নেন। সফরে দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p>সফরের অংশ হিসেবে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইশতিয়াক আবেদীন। অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সরকারি সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনের (অস্ট্রেড) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (এবিবিএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।</p><p>আলোচনায় অস্ট্রেডের এলোদি জুরনে, ভিক সিং, মোস্তাফিজুর রহমান ও স্যান্ডি সেনেভিরতের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। এসব আলোচনায় দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।</p><p>অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কনফারেন্স (এআইইসি) ২০২৬ উপলক্ষে সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।</p><p>সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ, নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এআইইউবির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদি ইসলামও প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।</p><p>এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা উঠে আসে।</p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল

নভেম্বর ২, ২০২৬
ছয় পেসার নিয়ে বাংলাদেশের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা
ছয় পেসার নিয়ে বাংলাদেশের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা

চলতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।

নভেম্বর ২, ২০২৬
হকি মাঠের অপূর্ণ স্বপ্ন আর ক্রিকেটের বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্য: অন্য এক শাহরুখ খানের গল্প
হকি মাঠের অপূর্ণ স্বপ্ন আর ক্রিকেটের বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্য: অন্য এক শাহরুখ খানের গল্প

আজ শাহরুখ খানের জন্মদিন। সিনেমার পর্দার বাইরের শাহরুখের আরেকটি পরিচয় আছে, যেটি ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।

নভেম্বর ২, ২০২৬
গাজীপুরে বহিরাগতদের বিষয়ে জানাতে বাড়ির মালিকদের নির্দেশনা, গণবিজ্ঞপ্তি
গাজীপুরে বহিরাগতদের বিষয়ে জানাতে বাড়ির মালিকদের নির্দেশনা, গণবিজ্ঞপ্তি

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত ব্যক্তিদের তৎপরতা ঠেকাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।