ইসলাম

অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন
অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন
<p>ইসলামি জীবনদর্শনে অসুস্থতাকে শুধু শারীরিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখা হয় না; বরং একে জীবনের এক বিশেষ পরীক্ষা এবং পাপমোচনের আত্মিক মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অসুস্থ হলে নিষ্ক্রিয় বসে থাকার সুযোগ নেই।</p><p>ইসলামে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া এবং পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত বা দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য প্রার্থনা করা—উভয়ের সুন্দর সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।</p><p>সাহাবিরা নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমরা কি অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করব?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫)</p><h3>সুরা ফাতিহার মাধ্যমে প্রার্থনা </h3><p>কোরআনের প্রথমে উল্লেখিত সুরা ফাতিহার আরেক নাম ‘আশ-শাফিয়া’ বা ‘আরোগ্যকারী সুরা’। যেকোনো শারীরিক অসুস্থতার সময়ে সুরা ফাতিহা পাঠ করে ফুঁ দেওয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।</p><p>সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) সুরা ফাতিহা পাঠ করে বিষাক্ত বিচ্ছু কামড়ানো এক ব্যক্তিকে ফুঁ দিয়ে সুস্থ করেছিলেন। পরে নবীজি ঘটনা শুনে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কীভাবে জানলে যে এটি একটি আরোগ্যের দোয়া?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪৯)</p><p>আমল অনুযায়ী, রোগাক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিংবা তাঁর কোনো প্রিয়জন পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে ৭ বার সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে ফুঁ দিতে পারেন। এটি অন্তরে ইমানি শক্তি জোগায় এবং আল্লাহর ওপর অটল নির্ভরতা তৈরি করে।</p><blockquote>যখন পায়ের আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তখন শরীরের নির্দিষ্ট অংশে হাত রেখে পাঠ করার জন্য রাসুল (সা.) সাহাবিদের একটি সুনির্দিষ্ট দোয়া শিখিয়েছিলেন।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/3ifgjylnln">অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া কীভাবে করব</a></aside><h3>অসুস্থতার সময় হাদিসের শেখানো দোয়া</h3><p>অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা কিংবা নিজে ব্যথা-বেদনায় আক্রান্ত হলে রাসুল (সা.) আশার বাণী শোনাতেন। তিনি বিশেষ দোয়া পাঠ করার তাগিদ দিতেন। তেমন একটি দোয়া হলো:</p><p><strong>উচ্চারণ:</strong> লা বা’সা ত্বহুরুন ইন শা-আল্লাহ।</p><p><strong>অর্থ:</strong> ‘কোনো ক্ষতি নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় এটি (পাপ থেকে) পবিত্রতার মাধ্যম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)</p><p>এই দোয়া স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই সাময়িক শারীরিক কষ্ট মানুষের জীবনের পূর্ববর্তী ভুলত্রুটি ধুয়েমুছে আত্মাকে পবিত্র করে দেয়।</p><h3>ব্যথার স্থানে পাঠ করার দোয়া</h3><p>যখন পায়ের আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তখন শরীরের নির্দিষ্ট অংশে হাত রেখে পাঠ করার জন্য রাসুল (সা.) সাহাবিদের একটি সুনির্দিষ্ট দোয়া শিখিয়েছিলেন।</p><p>সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস (রা.) শরীরে তীব্র ব্যথার অভিযোগ নিয়ে নবীজির কাছে এলে তিনি তাঁকে নির্দেশ দেন, ‘তুমি তোমার শরীরের যে স্থানে ব্যথা অনুভব করছ, সেখানে তোমার ডান হাত রাখো এবং তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলো, অতঃপর সাতবার দোয়া পাঠ করো।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/4xu15tjnz2">সবচেয়ে সুখী মানুষ হওয়ার শিক্ষা নবীদের জীবন থেকে</a></aside><aside><cite>ইমাম ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া (রহ.)</cite>ওষুধের কাজ হলো শরীরের জৈবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, আর দোয়ার কাজ হলো আত্মার ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করা; যখন দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা একত্র হয়, তখন আল্লাহর হুকুমেই পূর্ণ আরোগ্য অর্জিত হয়।</aside><p><strong>উচ্চারণ:</strong> আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।</p><p><strong>অর্থ:</strong> ‘আমি আল্লাহ এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি সেই কষ্ট থেকে, যা আমি অনুভব করছি এবং যার ভয় করছি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২০২)</p><h3>দোয়া কীভাবে করবেন</h3><p>আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ আদব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি:</p><ul><li><p><strong>দোয়ার সূচনা ও সমাপ্তি:</strong> মোনাজাত শুরুর আগে আল্লাহর প্রশংসা (যেমন: আলহামদুলিল্লাহ) করা এবং নবীজির ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা। দোয়ার শেষেও একইভাবে দরুদ ও হামদ দিয়ে সমাপ্তি টানা।</p></li><li><p><strong>নিজের ভাষায় আকুতি পেশ করা:</strong> দোয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা জানানো।</p></li><li><p><strong>চিকিৎসা বজায় রাখা:</strong> চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাওয়া এবং প্রচুর পানি পান করা একটি শারীরিক দায়িত্ব।</p></li></ul><p>ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া উল্লেখ করেছেন যে ওষুধের কাজ হলো শরীরের জৈবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, আর দোয়ার কাজ হলো আত্মার ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করা; যখন দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা একত্র হয়, তখন আল্লাহর হুকুমেই পূর্ণ আরোগ্য অর্জিত হয়। (ইবনুল কাইয়িম, <em>জাদুল মাআদ</em>, ৪/১২৬, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৯৮)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/2jjur0zcuu">অন্তরের রোগ নিরাময়ে কোরআনের ১০ আয়াত</a></aside>

Prothomalo

View more
হুতিদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট, বাংলাদেশ কতটা বিপদে?
হুতিদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট, বাংলাদেশ কতটা বিপদে?

<p>ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বিমান চলাচল, ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। আমদানি–রপ্তানি, প্রবাসী কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ওপর নতুন সংঘাতের প্রভাব কতটা হতে পারে?</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
রিমান্ডে নেওয়ার আগে আনিসুল হক, ইনুসহ চারজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রিমান্ডে নেওয়ার আগে আনিসুল হক, ইনুসহ চারজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

<p>কারাবন্দী সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে।</p><p>আজ রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তাঁদের হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।</p><p>সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা ও মিরপুর থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড কার্যকর করার অংশ হিসেবেই নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।</p><p>সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর আগে আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।’</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
চট্টগ্রামে আহ্বায়কের বাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে আহ্বায়কের বাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব গ্রেপ্তার

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/ub74zm97/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-9.43.56-PM.jpeg"><figcaption>চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম</figcaption></figure><p>চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাহাত উল্ল্যাহর বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় সংগঠনটির সদস্যসচিব শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলায় আবু হাসনাত নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে শহীদুল ইসলামকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।</p><p>গত শনিবার রাতে নগরের কাপাসগোলা এলাকায় রাহাত উল্ল্যাহর বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে রাহাতের মা সেলিনা আক্তার ও প্রতিবেশী ফখরুল ইসলাম আহত হন।</p><p>সেলিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, শহীদুল ইসলাম ও আবু হাসনাত ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলেকে খুঁজতে বাসায় ঢোকেন। রাহাতকে না পেয়ে তাঁরা বাসার আসবাবপত্র, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে সেলিনা আক্তারকে মারধর করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন প্রতিবেশী ফখরুল ইসলাম।</p><p>এ ঘটনায় সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। কাপাসগোলা এলাকাটি পাঁচলাইশ থানার অধীন। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে শহীদুল ইসলাম ও আবু হাসনাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।</p><p>নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।</p><p>এদিকে ঘটনার পর শহীদুল ইসলামকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানতে চাইলে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জমির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠনের সহযোদ্ধার বাসায় হামলা, পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের অভিযোগে চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।</p><p>এর আগে গত বছরের ৬ জানুয়ারি নগরের পাঁচলাইশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে কোতোয়ালি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিনকে হেনস্তা করার অভিযোগে শহীদুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

<p>অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।</p><p>আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।</p><p>তবে রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p><p>শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার এক দিনের মাথায় ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।</p><p>বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন নিজেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিস্থিতি দেখতে আকস্মিক পরিদর্শন করছেন, তখন একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করেছে।</p><p>প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যও বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে।</p><p>শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়ও বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের দিনই বিকেলে ঘটে ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ড। দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।</p><p>এমন পটভূমিতে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাকে সরকারের সদস্যদের আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/egkpxq73xu">মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কি অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালাতে পারেন, আইন কী বলে</a></aside><p><strong>অস্ত্র হাতে কী করেছিলেন ইশরাক</strong></p><p>শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’</p><p>এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়ান। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি দেন। কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।</p><p>ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করে দেওয়া হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।</p><p>ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p><strong>আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার দাবি</strong></p><p>অস্ত্রকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মধ্যে আজ রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/6p6twt3x/WhatsApp_Image_2026_10_17_at_19_40_27.jpeg"><figcaption>প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়</figcaption></figure><p>ইশরাকের ভাষ্য, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।</p><p>বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানের আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/4y2ygm0edh">ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ডে বিএনপি ও সরকারে অস্বস্তি-অসন্তোষ</a></aside><p>ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।</p><p>বিবৃতিতে ইশরাক আরও দাবি করেন, অভিযানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এসব তথ্য উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।</p><p>তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তাঁরা পরে বিষয়টি জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি।</p><p><strong>এর আগে পদত্যাগ করেন মিষ্টি</strong></p><p>ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।</p><p>গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনা নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও তিনি হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।</p><p>মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্রকাণ্ডে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ এল।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
নব্বইয়ের দশকের অ্যাকশন হিরো ভ্যান ড্যাম এখন কোথায়
নব্বইয়ের দশকের অ্যাকশন হিরো ভ্যান ড্যাম এখন কোথায়

এক সাধারণ পরিবার থেকে হলিউডের তারকা হয়ে ওঠার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও সিনেমার জগতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তিনি।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
রায়গঞ্জে মাহাতো শিশু–কিশোরদের নিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান
রায়গঞ্জে মাহাতো শিশু–কিশোরদের নিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির আওতায় মাহাতো শিশু–কিশোরদের নিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রায়গঞ্জ বন্ধুসভা। সেখানেই তাদের আসা। এ সময় কুড়মালি ভাষার লেখক ও রায়গঞ্জ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মাহাতো বলেন, পিছিয়ে পড়া মাহাতো জনগোষ্ঠীর শিশু ও কিশোরদের নানা বিষয়ে আরও সচেতন করতে এই আয়োজন।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
স্বাধীন সাংবাদিকতা, তথ্য ও মতপ্রকাশের সুরক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ
স্বাধীন সাংবাদিকতা, তথ্য ও মতপ্রকাশের সুরক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ

<p>প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ মতামত, রম্য, কার্টুন, প্যারোডি ও রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত না করার সুপারিশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তে প্রবেশের আগে আদালতের অনুমোদন নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা জামিনযোগ্য করার প্রস্তাব দিয়ে আইনটি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।</p><p>স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ ও বৈধ মতপ্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশে এসব প্রস্তাব করেছে সম্পাদক পরিষদ। আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশগুলোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।</p><p>সম্পাদক পরিষদ বলেছে, আইনের কাঠামোতে একদিকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং অন্যদিকে স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ, বৈধ মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের পেশাগত স্বাধীনতার সুস্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।</p><p>সম্পাদক পরিষদ মনে করে, প্রস্তাবিত আইন এমন একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, প্রকৃত অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে। একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পরিসর সুরক্ষিত করা হবে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল পরিসরে সাংবাদিকতা পৃথক বিষয়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনে এসব বিষয়ের মধ্যকার প্রয়োজনীয় সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।</p><p>সম্পাদক পরিষদের সুপারিশগুলো হলো ১. জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদ, বিশ্লেষণ, মতামত, রম্য, কার্টুন, প্যারোডি ও রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে কাউকে অপরাধী করা যাবে না। মতপ্রকাশ-সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য করতে হবে। ২. সাংবাদিকের পেশাগত কাজ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ, নজরদারি ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তে প্রবেশের আগে আদালতের অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনা করতে হবে। ৩. ভুল তথ্য, অপতথ্য ও গুজবের পৃথক সংজ্ঞা দিতে হবে। অযাচাইকৃত বা অসমর্থিত তথ্যকে এককভাবে অপরাধের উপাদান করা যাবে না। বুলিং, মানহানি, যৌন হয়রানি, সেক্সটর্শনসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধেরও স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকতে হবে। ৪. দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ৫. সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নীতির সমালোচনা, রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ‘রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা’র মতো অস্পষ্ট শব্দ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে হবে। ৬. সংবাদ বা ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণ ও ব্লক করার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ, আপিলের সুযোগ এবং বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের পর্যালোচনা এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ৭. অনলাইন মানহানিকে নতুন ও কঠোর সাইবার অপরাধ না বানিয়ে বিদ্যমান কাঠামোয় প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. সংবাদ প্রকাশ, মতপ্রকাশ, মানহানি ও সাংবাদিকতার বিষয়বস্তু-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিচার মোবাইল কোর্ট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা যাবে না। ৯. কোনো প্রতিবেদন বা প্রকাশনার কারণে পুরো সংবাদমাধ্যম বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল বা প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিক শাস্তি দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। ১০. সাংবাদিকের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সূত্রের পরিচয় প্রকাশে সাংবাদিককে বাধ্য করা যাবে না। ১১. সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট পেশাগত অভিযোগে সরাসরি ফৌজদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রেস কাউন্সিলের অভিযোগ ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকেও এর আওতায় আনতে হবে। ১২. কাউন্সিলে সাইবার নিরাপত্তা, আইন, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তদন্ত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার ওপর স্বাধীন তদারকি, জবাবদিহি এবং সিদ্ধান্ত প্রকাশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, নিহত ১০ জনের লাশ শনাক্তে হবে ডিএনএ পরীক্ষা
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, নিহত ১০ জনের লাশ শনাক্তে হবে ডিএনএ পরীক্ষা

<p>কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে নিহত ১০ জনের লাশ রাখা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে। চেহারা বিকৃত হওয়ায় শনাক্তে প্রয়োজন হবে ডিএনএ পরীক্ষা। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
গানে গানে লালন সাঁইকে স্মরণ, ছেঁউড়িয়ায় হাজারো মানুষের ঢল
গানে গানে লালন সাঁইকে স্মরণ, ছেঁউড়িয়ায় হাজারো মানুষের ঢল

<p>একতারা, দোতারা আর মরমি গানের সুরে মুখরিত কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি। ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া ৩ দিনের স্মরণ উৎসবে দেশ-বিদেশের সাধু ও দর্শনার্থীদের ঢল। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন