<p>যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলে (এসআইইউসি) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ফল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও টেবিল টেনিসে পদক জিতেছেন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট রিক্রিয়েশন সেন্টারে ৯ থেকে ১১ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ক্রিকেটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দল শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থীদের দলকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে। ব্যাডমিন্টনে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই জিতেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দাবা ও টেবিল টেনিসে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জপদক জেতেন, যা একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ।</p><p>বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তাঁদের এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার পরিচয় তুলে ধরেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/spdc70it/2.jpeg"><figcaption>ক্রিকেটে বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের দল</figcaption></figure><p>বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী তামিনুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই পিএইচডি অথবা মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সবারই পড়াশোনা ও গবেষণার চাপ থাকে। এরপরও আমরা খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে পেরেছি। বিদেশের মাটিতে এই অর্জন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে। আমাদের চেষ্টা থাকবে আগামী দিনেও যেন এই সাফল্যের ধারা বজায় থাকে।’</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহাল আহমেদ মজুমদার জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক গর্বের অধ্যায়। বাংলাদশে স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সার্বক্ষণিক সব ধরনের উৎসাহ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে।</p>
<p>অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>বাংলাদেশের মানুষ যাতে সরাসরি আরও কম ভোগান্তিতে ভারতীয় ভিসা পেতে পারেন, সে জন্য অনেক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের উপহাইকমিশনার পবন বাধে। আজ রোববার তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।</p><p>সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পবন বাধে বলেন, ‘মূল সমস্যাটা হলো স্লট নিয়ে। কারণ, আমরা অবশ্যই (ট্রাভেল) এজেন্টদের পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারছি না; এখানে প্রচুর অসাধু এজেন্ট (মধ্যস্থতাকারী) কাজ করছে, যাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। তারা বেশ আগেই স্লটগুলো ব্লক করে ফেলে, যার ফলে সাধারণ নাগরিকেরা ভিসার স্লট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাদের (ভিসাপ্রত্যাশী) ওই এজেন্টদের শরণাপন্ন হতে হয়।’</p><p>উল্লেখ্য, ভারতীয় ভিসার স্লট বলতে বোঝায় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত সুযোগ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট।</p><p>দিন দিন ভিসাদান পদ্ধতিকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ভারতীয় উপহাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা ওয়েবসাইটে আরও আইটি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ফিচার যুক্ত করেছি, যাতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই সরাসরি আবেদন করে ভিসা পেতে পারেন। তবে গত কয়েক মাসে বেশ কিছুটা পরিবর্তনও এসেছে এবং এজেন্টদের কাছে না গিয়েই অনেক মানুষ এখন নিজেরাই সরাসরি ভিসার জন্য আবেদন করতে ও পেতে সক্ষম হচ্ছেন।’</p><p>পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনার প্রশংসা করেন সহকারী হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেকাংশেই অভিন্ন। আমাদের দেশেরও দুর্গাপূজা উদ্যাপনও প্রায় একই রকম।’</p><p>এর আগে সন্ধ্যায় তিনি কুমুদিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।</p><p>পবন বাধে কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শনের পর বজরা নৌকাযোগে লৌহজং নদ পার হয়ে রণদার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান। সেখানে তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন। এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতী সাহা ও কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক প্রদীপ কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।</p>
<ul><li><p>জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা।</p></li><li><p>জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা।</p></li></ul><p>ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে দেশের অর্ধেকের কাছাকাছি পরিবারকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আয় স্থবির হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিশেষ এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।</p><p>জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। এর মধ্যে শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি চাপে রয়েছে। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর সুপারিশ তৈরির আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই জরিপ করা হয়। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে জরিপটি করা হয়েছিল গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর।</p><p>বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল ‘জীবনযাত্রার মান জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন তৈরি করে। তার আগে কম্পিউটারের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে মোট ৩ হাজার পরিবারের।</p><p>বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে গ্রামাঞ্চলের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। আর পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।</p><p>বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি, ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। আর শহরাঞ্চলে প্রতি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।</p><aside><cite>সেলিম রায়হান, নির্বাহী পরিচালক, সানেম</cite>দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, বিনিয়োগের শ্লথগতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার এই সময়ে বিবিএসের জরিপে উঠে আসা ঋণগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যাটা খুবই উদ্বেগের।</aside><p>জরিপের তথ্য বলছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের অর্ধেক খাবার এবং অর্ধেক খাবারবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে অঞ্চলভেদে এই চিত্র আলাদা। যেমন গ্রামাঞ্চলে খাবারের পেছনে ব্যয় বেশি, আর শহরাঞ্চলে ব্যয় বেশি খাবারবহির্ভূত খাতে। সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই হয় খাবারবহির্ভূত খাতে।</p><p>এদিকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম ছিল। বিবিএসের মজুরির সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার আগের মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশায় কম বেতন পাওয়া দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি পর্যবেক্ষণ করে এই সূচক তৈরি করে বিবিএস।</p><p>বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপের পেছনে প্রধান কারণ চার বছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, যা ধারাবাহিকভাবে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্থরতা, শ্রমের চাহিদা দুর্বল থাকা এবং মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় পরিবারের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।</p><p>বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া জ্বালানিসংকটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। তাতে দেশের শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।</p><p>বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দারিদ্র্যের হার চলতি বছর শেষে বেড়ে সাড়ে ২২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২ সালের এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এদেশীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত শনিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৫ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সংসার চালানোর ঘাটতি মেটাতে পরিবারগুলোকে হয় ঋণ করতে হচ্ছে, নয়তো সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে।</p><p>বিবিএসের জরিপের তথ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। বিবিএসের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বিশ্বাসযোগ্যই মনে হচ্ছে। একটু ভালো থাকা মানুষেরাও এখন ঋণ করছেন। তবে তার কারণ ভিন্ন।</p><p>সেলিম রায়হান বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া গরিব মানুষেরা ঋণ করেন খাওয়াদাওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচের জন্য। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, বিনিয়োগের শ্লথগতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার এই সময়ে বিবিএসের জরিপে উঠে আসা ঋণগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যাটা খুবই উদ্বেগের।</p>
সালমান আগার দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে পাকিস্তান করে ৩০৫ রান। রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা অলআউট ২৬৮ রানে।
<p>শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে শেরেবাংলা নগরে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন। ৭ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...</p><figure></figure>
<p>বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই ডিজিটাল তথা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) ২০২০ সালে ভারতের নেতৃস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল সেবাদাতা কোম্পানি জিও প্ল্যাটফর্মসে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে। ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তারা এই বিনিয়োগ করেছিল বলে জানায় নিউজ মিনিট।</p><p>গুগল ও ফেসবুকের সেই বিনিয়োগ পাঁচ বছর পর কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। এবার তারা রিলায়েন্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীদার হয়েছে।</p><p>২০২০ সালে ১৩ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির সমান অর্থ সংগ্রহ করে জিও প্ল্যাটফর্মস। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি ওইসব বিনিয়োগকারীকে মোট ৩২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার দেয়। ফোনএরিনার তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসে ফেসবুক বিনিয়োগ করে ৪৩ হাজার ৫৭৪ কোটি রুপি। আর গুগলের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৭৩৭ কোটি রুপি।</p><p>রিলায়েন্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান জিও ভারতে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।</p><p>পাঁচ বছর আগের ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে গুগল ও ফেসবুকের সঙ্গে জিও প্ল্যাটফর্মস তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে ওঠার পর রিলায়েন্সের বিশাল ব্যবসায়িক পরিসর, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে আরও গভীর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।</p><p>২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ‘রিলায়েন্স ইন্টেলিজেন্স’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো ভোক্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জন্য এআই অবকাঠামো, প্ল্যাটফর্ম ও সেবা গড়ে তোলা।</p><p>রিলায়েন্সের সঙ্গে মেটার অংশীদারত্বের রূপ হলো এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে এআই সেবা দেওয়ার জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ শুরু করা। প্রাথমিকভাবে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রায় ৮৫৫ কোটি রুপি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে রিলায়েন্সের মালিকানা থাকবে ৭০ শতাংশ এবং মেটার ৩০ শতাংশ।</p><p>মেটার লামা এআই মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ও সহজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরি করা। এসব সরঞ্জাম বিক্রয়, বিপণন, গ্রাহকসেবা, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।</p><p>অন্যদিকে রিলায়েন্সকে গুগলের সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হলো ক্লাউড অবকাঠামো। ২০২৫ সালের আগস্টে রিলায়েন্স ও গুগল ক্লাউড ভারতের গুজরাটের জামনগরে এআইকেন্দ্রিক একটি ক্লাউড অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই অবকাঠামো বিশেষভাবে রিলায়েন্সের জন্য তৈরি করা হবে।</p><p>পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবকাঠামোর নকশা তৈরি, নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করবে রিলায়েন্স। অন্যদিকে গুগল ক্লাউড এআই কম্পিউটিং সক্ষমতা ও ক্লাউড প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। উচ্চগতির ও বৃহৎ সক্ষমতার যোগাযোগব্যবস্থা দেবে জিও। পাশাপাশি অবকাঠামোটির বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে রিলায়েন্সের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগ সহায়তা করবে।</p><p>দুটি অংশীদারত্বের লক্ষ্য আলাদা হলেও একে অপরের পরিপূরক। মেটা সরবরাহ করছে এআই মডেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার তৈরির সক্ষমতা। আর গুগল দিচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই অবকাঠামো। এসব প্রযুক্তি বড় পরিসরে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প-অভিজ্ঞতা, যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সক্ষমতা ও গ্রাহকভিত্তি রয়েছে রিলায়েন্সের।</p><p>শেয়ারহোল্ডার থেকে কৌশলগত অংশীদার হয়ে ওঠার এই পরিবর্তন ভারতের প্রযুক্তি খাতে বৃহত্তর রূপান্তরের প্রতিফলন। ২০২০ সালের বিনিয়োগের মাধ্যমে দুটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (গুগল ও মেটা) দ্রুত বিকাশমান একটি ডিজিটাল ব্যবসায়ে অংশীদারত্ব অর্জন করেছিল। সে ধারাবাহিকতায় এখন এসে তারা একসঙ্গে এআই পণ্য ও অবকাঠামো তৈরি এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।</p><p>দীর্ঘ মেয়াদে এই অংশীদারত্ব কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং গ্রাহকদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তবে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রিলায়েন্সের সম্পর্ক এখন আর শুধু আর্থিক বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এই সম্পর্ক ভারতের এআই ইকোসিস্টেম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।</p>
৭ অক্টোবর রাতে স্থানীয় ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন