রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>হলি ক্রস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ছাত্রীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভর্তির আবেদন ফরম ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ অক্টোবর ও আগামী ০১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/3dnnuny0gp">নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষায় দিচ্ছে স্কলারশিপ, আবেদন যেভাবে</a></aside><p><strong>জরুরি তথ্য জেনে রাখুন—</strong></p><p>১. পিতা অথবা মাতা যেকোনো একজনকে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।</p><p>২. আবেদন ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা, যা ফেরত দেওয়া হবে না।</p><p>৩. সঠিক পরিমাণ টাকা সঙ্গে আনতে হবে, কোনো ভাংতি দেওয়া যাবে না।</p><p>৪. এ বিদ্যালয় থেকে দেওয়া আবেদন ফরমটি ছাত্রীর নিজ হাতে পূরণ করতে হবে।</p><p><strong>প্রার্থীর যোগ্যতা—</strong></p><p># প্রার্থীর যোগ্যতা ২০২৭ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৭ সালে ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে।</p><p># শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/xm2k17fat1">শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর </a></aside><p><strong>পূরণ করা ফরম জমা ও প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম—</strong></p><p># তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার।</p><p># সময়: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। (উপস্থিত হতে হবে: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে)।</p><p># বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।</p><p><strong>পুরণ করা ফরমের সঙ্গে নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হবে—</strong></p><p>১. জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>২. খ্রিষ্টান প্রার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ এবং বাপ্তিস্ম সার্টিফিকেটের ‘অরিজিনাল কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>৩. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয়ের স্কুল ড্রেসে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ‘রঙিন ছবি’ ফরমের সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।</p><p>৪. পিতা ও মাতার ‘এনআইডি’ একই পৃষ্ঠায় ফটোকপি করে জমা দিতে হবে।</p><p>৫. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয় হতে ‘প্রত্যয়নপত্র’ জমা দিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/n22bjl1ztq">আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৭–এর সিলেবাস প্রকাশ</a></aside><p><strong>দরকারি তথ্য—</strong></p><p>১. ফলাফল ঘোষণার তারিখ ও ফলাফল <a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে</a> জানিয়ে দেওয়া হবে।</p><p>২. নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ার সব তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।</p><p>৩. ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রীর পিতা-মাতা ও অভিভাবকেরা এই বিদ্যালয়ের প্রচলিত সব নিয়মকানুন মেনে নিতে সম্মত রয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।</p><p>৪. ওপরে দেওয়া সব নিয়মকানুনের সঙ্গে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করা সব শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের সম্মতি রয়েছে বলে বিবেচিত হবে।</p><p>#<a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: </a></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/ia19yultx3">হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ফরমের মূল্যসহ যা যা জানা প্রয়োজন</a></aside>
গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যন্ত্রটির যন্ত্রাংশের খরচ ৯৯ মার্কিন ডলার। দূরবর্তী সার্ভার ব্যবহারে মাসে আরও প্রায় ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট লাগে।
<p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দার মেঝেতেই চলছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা। কারও মাথার ওপর নেই ফ্যান, অধিকাংশের চারপাশে নেই মশারি। স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও সংকট। গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা রোগীদের পাশ দিয়েই চলছে অন্য রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/7axu2zmh/1.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ডেঙ্গু ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে ফটিকছড়ি থেকে আসা এক রোগী। তিন দিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/xkn0wdus/2.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ট্রলিতে করে রোগী আনা-নেওয়ার সময় বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয় স্বজনদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0zvh7u44/3.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর জন্য নেই মশারি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/nihtjlug/4.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>কিছুটা স্বস্তি পেতে নিজের খরচে মশারি ও চার্জার ফ্যানের ব্যবস্থা করেছেন এক রোগী</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/h4563t24/5.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য সংকট রয়েছে স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/fh5fdi0b/6.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>জায়গার অভাবে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ug2xcyd1/7.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় ফ্যান না থাকায় ভ্যাপসা গরমে কষ্ট পাচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা </figcaption></figure>
<p>বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব তাঁর। হয়ে উঠেছেন গতির সমার্থক। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলারের উঠে আসার গল্প ও তাঁর ক্রিকেট–দর্শন নিয়ে কথা বলতে নাহিদ রানার সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাঁর ক্রিকেট–জীবন শুরুর দিকের কোচ আলমগীর কবিরকেও। ‘<strong>সঙ্গে</strong> <strong>উৎপল শুভ্র</strong>’ নামে সেই পডকাস্ট শনিবার রাতে পাবলিশ হয়েছে প্রথম আলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। সেটির লিখিত রূপ কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হচ্ছে ওয়েবসাইটে। এখানে থাকল শেষ পর্ব।</p><p>পডকাস্টের প্রথম পর্ব: <strong><a href="https://www.prothomalo.com/sports/sports-interview/wyircjgfot" target="_blank">নাহিদ রানাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প, নাহিদ রানা হয়ে ওঠার গল্প</a></strong></p><p>পডকাস্টের দ্বিতীয় পর্ব: <strong><a href="https://www.prothomalo.com/sports/sports-interview/1xlbstdwit">টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বল: নাহিদ রানার উত্থানের সেই সব দিন</a></strong></p><p> নাহিদ রানা, পাকিস্তানের সঙ্গে তো আপনার জীবনের একটা যোগ আছে। পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই সবাই আপনাকে প্রথম চিনেছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আরও বেশি। বাংলাদেশ দুবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে, একবার পাকিস্তানের মাটিতে, আরেকবার দেশে। দুবারই আপনার বড় অবদান ছিল। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্টে প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার অভিজ্ঞতাটা শুনতে চাই। ৫ উইকেট তো বিশেষ ব্যাপারই। তার ওপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে, পরিবেশ আলাদা, মানুষজনও একটু অন্য রকম। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সত্যি বলতে, ৫ উইকেট পাওয়ার পর কিছুক্ষণ ভালো লাগে। তারপর আবার স্বাভাবিক হয়ে যাই। আমি যদি ম্যাচ জিতি, আর ২ উইকেটও পাই, তাতেও ভালো লাগে। কিন্তু ম্যাচ হেরে গেলে ৫ বা ৬ উইকেট পেয়েও সেই ভালো লাগাটা থাকে না।</p><p>আমার দল হেরে গেল, অথচ আমি ৫-৬ উইকেট পেলাম, তখন ভালো লাগাটা আর আগের মতো থাকে না। অন্যদিকে আমি ২ উইকেট পেলাম, কিন্তু দল জিতল, সেই অনুভূতির সঙ্গে অনেক পার্থক্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই ম্যাচে আমরা জিতেছিলাম। আমি দলের জয়ে প্রভাব রাখতে পেরেছিলাম। সে কারণে তখন অনেক আবেগ কাজ করেছিল, খুব ভালো লেগেছিল।</p><p>তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে কে কী বলছে, সেসবও দেখতাম। ৫ উইকেট পেয়েছি, জোরে বল করছি, মানুষ কী বলছে, পরদিন পত্রিকায় কী লিখেছে, এসব নিয়ে আবেগ কাজ করত। অল্প বয়সে হয়তো এমনটাই হয়।</p><p> এখন আর করেন না?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, এখন বুঝেছি, মানুষ কী বলল, সেটা নিয়ে আমার এত ভাবার দরকার নেই। আমার কাজই হচ্ছে উইকেট নেওয়া, বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে অবদান রাখা। আমি একা ম্যাচ জেতাচ্ছি, এমন নয়। তবে দলকে জেতানোর জন্য নিজের অবদান রাখছি। এই কাজ করার জন্যই আমাকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছে। এই কাজ করার জন্যই দলের সঙ্গে ফিজিও, ট্রেনারসহ এত মানুষ কাজ করেন। এত দিন পরিশ্রম করে এখানে এসেছি এই কাজটা করার জন্য। তাই এই কাজ নিয়ে অত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণ নেই। আমি নিজেকে বুঝিয়েছি, ‘ইটস মাই জব’, এটা আমার কাজ।</p><p>আপনি যখন ভালো করবেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখলে মনে হতে পারে, পৃথিবীর সবাই আপনাকে নিয়েই কথা বলছে। কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখলে নিজের ভেতরে একধরনের তৃপ্তি চলে আসে। আমি যখন বুঝতে শিখলাম, এই তৃপ্তির কারণে আমার ভেতরের ক্ষুধা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও দেখা বন্ধ করে দিয়েছি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-20/nryxonzp/Na-Rana-reacts-after-he-taking-5th-Wickets-during-2nd-odi-.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা</figcaption></figure><p> এখন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আমার ফেসবুক পেজ আছে, কিন্তু আমি চালাই না। অন্য একজন চালান। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও নেই।</p><p>এখন এমন একটা ডিজিটাল যুগ চলছে, আপনি যা-ই করেন, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সেটা সামনে চলে আসতে পারে। আপনি না দেখতে চাইলেও সামনে চলে আসে। নিজের ভালো কিছু দেখলে ভালো লাগে, কিন্তু কেউ খারাপ কিছু বললে রাগও হয়। মনে হয়, আমার নামে এমন কথা বলছে কেন, সামনে পেলে দেখে নেব। মানুষের মাথায় এ রকম চিন্তা আসে।</p><p>আমি ভেবেছি, ভালোটা দেখব না খারাপটা দেখব, সেটা বড় কথা নয়। আমি আমার কাজ করে যাব। আমি ভালো খেললে মানুষ ভালো বলবে। খারাপ খেললে সমালোচনা করবে। ক্রিকেট এমনই একটা জায়গা, যেখানে আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট আবেগ দিয়ে দেখে। আমিও যখন ক্রিকেট দেখতাম, আবেগ দিয়েই দেখতাম। বাংলাদেশ হারলে বলতাম, ‘কী খেলে!’</p><p>সেই জায়গা থেকে আমি বুঝেছি, মানুষের সঙ্গে বা স্রোতের সঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমার কাজ কী, সেই কাজটা করতে কী করতে হবে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। আমাকে নিয়ে কে কী বলছে, সেটা দেখার প্রয়োজন নেই। ভালো করলে ভালো বলবে, খারাপ করলে সমালোচনা করবে। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গেছি।</p><p> আপনি যা করেছেন, সেটা আসলে খুব সহজ নয়।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, অনেক কঠিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেসবুক এমনভাবে মানুষের মনোযোগ টানে যে চাইলেও এড়িয়ে চলা কঠিন। আপনি যখন ঘরে একা থাকবেন, দেখবেন ফেসবুক না চালালে ইউটিউব চালাচ্ছেন, ইউটিউব না হলে ইনস্টাগ্রাম। কিছু না কিছু চালাতেই ইচ্ছা করে।</p><p>কিছু না দেখলে মনে হয়, কী যেন নেই, ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনে হয়, আর কিছু করার নেই। শুরুতে এমন লাগে। পরে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেলে আর তেমন মনে হয় না।</p><figure></figure><p> তাহলে এখন কী করেন? ধরুন, সফরে আছেন, হোটেলের ঘরে একা, অথবা দেশে খেলা চলছে। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম দেখেন না। অবসর কীভাবে কাটে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> মাঝে মাঝে বই পড়ার চেষ্টা করি, বাসায় কথা বলি। এভাবেই সময় কাটে।</p><p> বই পড়ার অভ্যাস আছে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আগে ছিল না। এখন ধীরে ধীরে অভ্যাস করার চেষ্টা করছি।</p><p> কী ধরনের বই পড়েন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> ইসলামিক বই।</p><p>মূলত ধর্মীয় বই পড়েন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ। আর বাসায় কথা বলি। এমন নয় যে আমি মানুষ নই, আমারও তো মন চায়। কখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে একবার ইউটিউব দেখে নিই।</p><p> ইউটিউবে তো ভালো জিনিসও দেখা যায়।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, তবে আমি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।</p><figure></figure><p> এখন যেসব বড় বড় বোলার আপনার প্রশংসা করছেন, তাঁদের নাম শুনছেন আমার মুখে, অন্যদের কাছেও শুনছেন। তাঁরা একসময় অনেক বড় বোলার ছিলেন, খুব জোরে বল করতেন। ইউটিউবে কি তাঁদের বোলিংয়ের ভিডিও দেখেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এখন একটা বিষয় বুঝি। আমরা অনেক সময় একজনের সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করি, প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিই। বলা হয়, ‘ও ভালো করছে, তোমাকেও ওর মতো হতে হবে।’ কিন্তু বিষয়টা এ রকম নয়। একজন এক রকম, আরেকজন আরেক রকম। আমি নাহিদ রানা, আমি আমার মতো। আমি যদি ফিজ ভাইয়ের মতো হতে চাই, তাহলে ফিজ ভাইয়ের মতো হতে পারব না। আমার নিজের মধ্যে কী সামর্থ্য আছে, সেটাই বুঝতে হবে।</p><p> আমি অবশ্য অন্য কারও মতো হওয়ার কথা বলছি না। আপনার কৌতূহলের কথা জানতে চাইছি। আপনি যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন কি কোনো প্রিয় বোলার ছিলেন? টেলিভিশনে তো অনেকের খেলা দেখেছেন। আমাদের সময়ে সবাইকে দেখা সম্ভব হতো না। অনেকের সম্পর্কে পড়েছি, শুনেছি। কিন্তু এখন ইউটিউবে চাইলে ওয়াসিম আকরামের সেরা বোলিং দেখতে পারবেন, একটার পর একটা ভিডিও আসতেই থাকবে। আপনার কি এমন কোনো বোলার ছিলেন, যাঁর বোলিং দেখে ভালো লাগত? যাঁকে আদর্শ মনে করতেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আমি যখন থেকে একটু একটু করে খেলা বুঝতে শিখেছি, তখন বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দলের খেলা খুব একটা দেখতাম না। সব সময় খেলাধুলা করতাম। নিজে খেলেই সময় পেতাম না, খেলা দেখার চেয়ে খেলতেই বেশি ভালো লাগত।</p><p>ছোটবেলায় খেলা খুব একটা বুঝতাম না। পরে যখন বুঝতে শিখলাম, তখন বাংলাদেশের সবার খেলাই ভালো লাগত। ছোটবেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেট বলতে শাকিব ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই, মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই, এই নামগুলোই বেশি শুনতাম। পরে ধীরে ধীরে আরও অনেকে এলেন। শান্ত ভাই, লিটন ভাই, এঁদের খেলাও দেখেছি।</p><p>আপনি যেহেতু ফাস্ট বোলার, বোলারদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন, যাঁর বোলিং দেখে ভালো লাগত?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> বলতে গেলে ফিজ ভাই ও তাসকিন ভাইয়ের বোলিং ভালো লাগে। তবে আমি কাউকে অনুসরণ করে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি না।</p><p> আপনি তো স্বদেশি পণ্য কিনে ধন্য হওয়ার পক্ষে! দেশের বাইরের কাউকে দেখবেন না?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, আসলে আমি কাউকে অনুসরণ করে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি না। তবে ছোটবেলা থেকে যাঁদের খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে, তাঁদের কথা বলতে পারি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলা দেখেই আমার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-17/npp6ladf/Mustafiz-Nahid-Rana-during-practice-2.jpg"><figcaption>মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে</figcaption></figure><p> ফিজ কোথায় আলাদা? সারা পৃথিবী জানে, সে খুব ভালো কাটার করতে পারে। কাটার মাস্টার বলা হয় তাকে। আপনি কি কখনো মোস্তাফিজের মতো কাটার করার চেষ্টা করেছেন? কেন করেননি?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> ফিজ ভাইয়ের চিন্তাভাবনা আলাদা। শুধু চিন্তা করলেই তো স্কিল চলে আসে না। তাঁর কবজি বা হাতের কাজে হয়তো বিশেষ কিছু আছে, যেটা জন্মগতভাবেও এসেছে। তাঁর কাটার করার ক্ষমতাটা ছোটবেলা থেকেই স্বাভাবিকভাবে ছিল। কিন্তু তিনি ছোটবেলা থেকে বারবার সেটা করতে করতে নিজের মধ্যে তৈরি করেছেন। না চাইলে বা নিয়মিত চেষ্টা না করলে তো আর এটা হতো না।</p><p>এখন তিনি কাটারের মাস্টার। কোন সময়ে কী করতে হবে, সেটা তিনি জানেন। নিজের শরীর ও সামর্থ্যও বোঝেন। কোন সময়ে কোন জিনিসটা দরকার, সেটা বুঝতে পারাই তাঁকে আলাদা করেছে। তাঁর চিন্তাভাবনাও ভালো, ইতিবাচক। এসব বিষয় তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।</p><p> বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন? আপনার জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা নিয়ে যে কথা বললেন, সেগুলো তো আদর্শ মানসিকতা। আপনি তাঁদের সঙ্গে দিনরাত মিশছেন। আলমগীর যখন খেলতেন, তখন আমাদের পেস আক্রমণ এখনকার মতো ছিল না। আলমগীর, আপনার সঙ্গে কে কে খেলতেন? মঞ্জু?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> মঞ্জু ভাই ছিলেন, আমি ছিলাম, তাপস ছিলেন, আনোয়ার হোসেন মনি ছিলেন। আনোয়ার হোসেন মনি জিম্বাবুয়েতে অনুশীলন ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করেছিলেন। এরপর তারেক আজিজ ছিলেন। তারেক আজিজ আমাদের জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে জিতিয়েছিলেন।</p><p>আমরা এই কজনই ছিলাম। মাশরাফি চোটের কারণে মাঝেমধ্যে দলে আসত, আবার বাইরে চলে যেত। তারপরও মনে হতো, ও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। ওর সঙ্গে আমরা যদি একটু সঙ্গ দিতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের বোলিং আক্রমণ আরও ভালো হবে। সেই চিন্তাটা আমাদের মধ্যেও কাজ করত।</p><p> এই প্রসঙ্গটা তুললাম এ কারণে, এখন ধরুন, আপনি, শরিফুল, তাসকিন, খালেদ, হাসান মাহমুদ, সাকিব, আরও দু-একজন। আমি ক্রম অনুযায়ী বলছি না। খালেদ এখন টেস্ট দলে নেই, কিন্তু কাউন্টিতে খুব ভালো করেছে। সাকিবও চোটের কারণে কিছুটা বাইরে। আমাদের হাতে এখন পাঁচ-ছয়জন, কখনো সাত-আটজন মানসম্পন্ন পেসার আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন পুল আগে কখনো ছিল না। প্রত্যেকের শক্তির জায়গা আলাদা। আপনি হয়তো খুব জোরে বল করেন, তাসকিন অন্য কিছু ভালো পারেন, হাসান মাহমুদ আরেক ধরনের বোলার।</p><p>সব মিলিয়ে আপনাদের মধ্যে একটা পেস বোলিংয়ের দল আছে। পেস বোলারদের তো জুটি বেঁধে বোলিং করতে হয়। ব্যাটিংয়ে যেমন পার্টনারশিপ হয়, বোলিংয়েও হয়। আপনি ভালো বল করছেন, আরেকজন সমানে রান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা হলে তো হবে না।</p><p>আপনাদের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন? নিজেদের মধ্যে কি স্কিল বা জ্ঞান ভাগাভাগি করেন? আপনি একটা জিনিস ভালো পারেন, সেটা তাসকিনকে বলেন। ফিজ একটা জিনিস পারেন, সেটা আপনাকে বলেন। এই ব্যাপারটা কেমন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সত্যি কথা বলব তো? একটা ঘটনা বলি। আমি যখন জাতীয় দলে নতুন এসেছিলাম, তখন ফিজ ভাই, তাসকিন ভাই, তাঁরা বাংলাদেশের বড় তারকা। আমি নতুন একটা ছেলে। কিন্তু তাঁরা আমাকে এমনভাবে দলে আপন করে নিয়েছিলেন, এমনভাবে মিশেছিলেন, আমার কখনো মনে হয়নি, আমি নতুন। এমনও মনে হয়নি, যাঁদের খেলা টেলিভিশনে দেখে এসেছি, তাঁদের সঙ্গে এখন একসঙ্গে খেলছি, বোলিং করছি।</p><p>পেস বোলিংয়ের এই সংস্কৃতিটা আমি তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি। এখন আমার কাছে যারা জুনিয়র, তাদেরও আমি নতুন বলে অনুভব করতে দিই না। কারণ, আমি ফিজ ভাই ও তাসকিন ভাইদের কাছ থেকেই শিখেছি।</p><p>তাঁরা আমাকে এমনভাবে আপন করে নিয়েছিলেন, এমনভাবে ভুল ধরিয়ে দিতেন, যেন তাঁরা জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছেন, সেটা বোঝানোর কোনো প্রয়োজনই নেই। কথাটা হয়তো আগে কখনো মিডিয়ায় বলতাম না, কিন্তু বলছি, পেস বোলারদের মধ্যে এই বিষয়টা আমি শুরু থেকেই দেখেছি। সিনিয়র-জুনিয়র বলে সম্মানের জায়গা অবশ্যই আছে, কিন্তু একসঙ্গে খেতে বসলে বা মাঠে গেলে আমরা বন্ধুর মতো থাকি।</p><p>আমার কোনো সমস্যা হলে তাসকিন ভাই বা ফিজ ভাই নিজেরাই বলে দেন। অনুশীলনে আমার কোথাও ভুল হলে তাঁরা এগিয়ে এসে বুঝিয়ে দেন। এমন নয় যে তাঁরা ভাবেন, ‘আমি সিনিয়র, ও জুনিয়র। ও নিজে এসে জিজ্ঞেস করলে বলব।’ এই মানসিকতা আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে নেই। এটাই আমাদের আলাদা করেছে।</p><p>আমাদের কারও খারাপ হলে অন্যরা সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করে। আমার খারাপ হলে সবাই আমাকে সমর্থন করে। অনুশীলন থেকে ম্যাচ পর্যন্ত, সব জায়গায়। শুধু অনুশীলন বা ড্রেসিংরুমে নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের বোঝাপড়া ভালো। মাঠের ভেতরে এক রকম, বাইরে আরেক রকম, এমন নয়। আমরা সব জায়গায় একই রকম। পেস বোলিং গ্রুপটাকে একটা পরিবারের মতো বলতে পারেন। ছোট-বড় ভাইদের মধ্যে যেমন একটা বন্ধুমহল থাকে, আমাদেরও তেমন।</p> <p> ক্রিকেটারদের আমি সব সময় একটা কথা বলি। পরিবারের সঙ্গে যতটা সময় কাটে, তার চেয়ে বেশি সময় কাটে সতীর্থদের সঙ্গে। ট্যুরে মাসের পর মাস, অনুশীলনে, ক্যাম্পে, একসঙ্গে থাকতে হয়। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না হলে টিকে থাকা কঠিন।</p><p>আপনাদের পেস বোলিংয়ের যে দলটার কথা বললাম, সেখানে নাহিদ, তাসকিন, মোস্তাফিজ, হাসান মাহমুদ, খালেদ, সাকিব, আরও কয়েকজন আছেন। কারও মধ্যে এমন কোনো বিশেষ গুণ আছে, যেটা আপনি খুব পছন্দ করেন? এমন নয় যে সেটা আপনার নিজেরও থাকতে হবে। অন্য কারও কোনো দিক কি আপনাকে প্রভাবিত করেছে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> তানজিম সাকিবের ফিটনেস দেখে আমি নিজের মধ্যে একটা জিনিস আনার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, অনেকটাই পেরেছি। ওর ফিটনেস দেখে আমার মনে হতো, আমিও তানজিম সাকিবের মতো শরীর তৈরি করব, নিজের ফিটনেস ওর মতো করব।</p><p>আমি যখন জাতীয় দলে আসি, তখন তানজিম সাকিব ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলত। পেসারদের মধ্যে ওর ফিটনেস খুব ভালো ছিল। শুরুতে ওর ফিটনেস দেখে একটু ঈর্ষাও হতো। মনে মনে ভাবতাম, ওর চেয়েও ভালো ফিটনেস তৈরি করব।</p><p>তানজিম সাকিব আমার সিনিয়র, কিন্তু আমার সঙ্গে সব সময় এমনভাবে আচরণ করে, যেন সিনিয়র বন্ধু। ওর কাছ থেকে আমি মূলত ফিটনেসের বিষয়টাই নিয়েছি। আমার ফিটনেস আগে থেকেই ভালো ছিল হয়তো, কিন্তু ওর শরীরের গঠনটা অনেক অ্যাথলেটিক। একজন অ্যাথলেটের শরীরে যে ধরনের গঠন থাকা দরকার, ওর মধ্যে সেগুলো আছে। ওকে দেখে মনে হয়েছিল, এই বিষয়টা আমাকেও নিজের মধ্যে আনতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি পেরেছি।</p><p> তানজিম সাকিবের চোটটা দুর্ভাগ্যজনক। পেসারদের তো চোট হয়ই। তবে ওর ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, সময় লাগবে।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, কারণ ফ্র্যাকচার হয়েছে। ফ্র্যাকচার হলে অস্ত্রোপচার করতে হয়, না হলে স্বাভাবিকভাবে সেরে উঠতে অনেক সময় লাগে।</p><p> পিঠে, মেরুদণ্ডে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, পিঠে।</p><p> মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করে ফিরে আসার উদাহরণ হিসেবে ডেনিস লিলির কথা বলা যায়। আপনার স্যারও তাঁকে চেনেন। চোটের পরও তাঁর ফিরে আসা ছিল অসাধারণ, যদিও ব্যাপারটা খুব কঠিন।</p><p>একটু আগে বললেন, ৫ উইকেট পেলেও দল না জিতলে সেই আনন্দ থাকে না। আবার ২ উইকেট নিয়ে দল জিতলে আনন্দটা বেশি। ঠিক আছে। কিন্তু ধরুন, আপনি পঞ্চম উইকেটটা পেলেন ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বলে। বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ল। ব্যাটসম্যান ভাবলেন, ছেড়ে দিলে বাইরে চলে যাবে। কিন্তু বলটা শাঁ করে ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দিল। আর সেটাই আপনার ৫ উইকেট পূর্ণ করল। এই আনন্দের তো তুলনা হয় না। এমন আনন্দ পেয়েছেন কখনো?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এই আনন্দটা মুহূর্তের। মাঠে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণ থাকে।</p><p> কিন্তু এমন আনন্দ পেয়েছেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, শেষ বলে এ রকম করে ৫ উইকেট পেয়েছি। আনন্দ হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-12/hsf02two/WhatsApp_Image_2026_05_12_at_4_30_30_PM.jpeg"><figcaption>নাহিদ রানার বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড রিজওয়ান</figcaption></figure><p> আমি কী বলছি, বুঝতে পেরেছেন? মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বল ভেতরে ঢুকে তাঁকে বোল্ড করেছিল।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, তবে তখন দলেরও ওই উইকেটটা খুব দরকার ছিল। রিজওয়ান দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, একটা পার্টনারশিপও হচ্ছিল। ওভার কম ছিল, সময়ও কম ছিল। ওই সময়ের মধ্যে আমাদের অলআউট করতে হতো। এটা মিরপুরে হয়েছিল।</p><p>আমি আগে থেকে ভেবে রাখিনি যে ওই বলেই উইকেট নেব। পরিস্থিতি যা দাবি করছিল, সেই অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। পরিকল্পনাটা কাজে লেগেছে।</p><div><div><p> দর্শকদের বলি, পাকিস্তানের সঙ্গে মিরপুর টেস্টের কথা বলছি। বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এসেছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর মিরপুরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট। সেখানেই নাহিদ রানা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বলটা ভেতরে ঢুকে যায়। এটাকে রিভার্স সুইং বলি, নাকি লেট সুইং, সেটা আলাদা কথা। এই ধরনের বল কি আলমগীর কবিরই নাহিদকে শিখিয়েছিলেন?</p></div><div><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> রিভার্স সুইং নিয়ে এখন বাংলাদেশের পেস বোলারদের কোচরা সবাই কাজ করেন। একটা সময় রিভার্স সুইং করলে বলা হতো বলের সঙ্গে কারসাজি করা হচ্ছে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের সময়ও এ ধরনের কথা উঠত। সবাই বলত, তাঁরা কীভাবে বলটা এভাবে ঘোরাচ্ছেন!</p><p>এখন রিভার্স সুইংয়ের ব্যাপারটা সবাই জানে। এটা ফাস্ট বোলিংয়ের অপরিহার্য অংশ হয়ে গেছে। একটা টেকনিক বা কৌশল, যেটাই বলুন, এখন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচরাও এটা নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা পেসারদের ভালোভাবেই রিভার্স সুইং শেখাচ্ছেন।</p></div></div><p> বাংলাদেশ দলে সবচেয়ে ভালো রিভার্স সুইং কে করান?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সবাই ভালো করান। এটা একজনের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। বলকে ঠিকভাবে তৈরি করতে হয়। আমাদের দলে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় থাকেন, যিনি মিড অন বা মিড অফে থেকে বলের যত্ন নেন। সবাইকেই সাহায্য করতে হয়। একজন যদি বলটা ঠিকভাবে তৈরি করে দেন, তাহলে তো কাজটা সহজ হয়ে যায়।</p><p>একজনের নাম বলা কঠিন। দলে অনেকেই আছেন। মুশফিক ভাই থাকেন, এখন অবশ্য তিনি ফিল্ডার। অধিনায়কেরও এখানে ভূমিকা আছে। বলের যত্ন নেওয়া, মাঠে কাকে কোথায় রাখা হবে, কোন বোলারকে কখন বল দেওয়া হবে, এসবই অধিনায়কের পরিকল্পনার অংশ। শান্ত ভাই, মুশফিক ভাই, সৌরভ ভাই, মুমিনুলসহ আরও তরুণ খেলোয়াড়েরা বলের যত্ন নেন। সবাই মিলে কাজটা করেন। তাই একজনের নাম বলা কঠিন।</p><p> হ্যাঁ, বল তো একেক সময় একেকজনের কাছে যায়। সবাইকেই কাজটা করতে হয়।</p><p>আচ্ছা, পাকিস্তানের প্রসঙ্গে আরেকটু আসি। বাংলাদেশ প্রথমবার পাকিস্তানে যাওয়ার আগে যদি কেউ বলত, বাংলাদেশ সেখানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে আসবে, তাহলে আমরা হয়তো বলতাম, লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তা–ই না, আলমগীর?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> অবশ্যই। আগে বললে সবাই এমনই ভাবত।</p><p> এরপর বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে জিতল। তখন মনে হলো, ঠিক আছে, পাকিস্তানে জিতেছে, এবার দেশে এসেও জিততে পারে। কিন্তু এরপর আবার বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল। এটা অবিশ্বাস্য।</p><p>আপনার ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ নয়। ১২টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে এমন সাফল্য পেয়েছেন। একটা সময় পাকিস্তান ক্রিকেটে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এখন টানা চারটি টেস্ট জেতার পর হয়তো বলা যায়, বাংলাদেশও এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জেতা আপনার ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জন কি না, জানতে চাই।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এখন পর্যন্ত হতে পারে। সামনে তো আরও অনেক কিছু আছে।</p><p> পাকিস্তানে যাওয়ার সময় কি সত্যিই ভেবেছিলেন, জিততে পারবেন? শান্ত তো আমাকে বলেছিলেন, তাঁরা জেতার জন্যই যাচ্ছেন।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, অবশ্যই। শান্ত ভাই অধিনায়ক ছিলেন। তিনি তো বলবেনই। তাঁর চিন্তাভাবনা খুব ইতিবাচক। মানসিকভাবেও তিনি শক্তিশালী। মাঠে একজন খেলোয়াড়ের আচরণ দেখেই বোঝা যায়, কে মানসিকভাবে শক্ত, আর কে শুধু কথা বলে। কেউ কথা বলে, আবার মাঠে সেটার প্রমাণও দেয়। শান্ত ভাইয়ের মধ্যে এই বিষয়টা আছে।</p><p> এখন পর্যন্ত কয়জন অধিনায়কের অধীনে খেলেছেন? শান্ত, লিটন...</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> শান্ত ভাই, লিটন ভাইয়ের অধিনায়কত্বে একটাই টি-টুয়েন্টি খেলেছি। আর মিরাজ ভাইয়ের অধীনেও খেলেছি।</p><figure></figure><p> অধিনায়কদের তুলনা করতে গেলে একটু ঝুঁকি আছে। সবাই ভালো, প্রত্যেকের নিজস্ব ধরন আছে। তাঁদের চিন্তাভাবনাও আলাদা।</p><p>কিন্তু আপনি যখন বোলিং করেন, ফিল্ড সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অধিনায়কেরা কি আপনার মতামত নেন? আপনার কথা কি মূলত শোনা হয়? কখনো কি এমন হয়েছে, আপনি আরেকটা স্লিপ বা গালি চাইছেন, কিন্তু অধিনায়ক ভাবছেন, এখন একটু রক্ষণাত্মক হওয়া দরকার, তাই আপনাকে অন্য জায়গায় বল করতে পাঠিয়ে দিলেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এটা নির্ভর করে অধিনায়ক আপনার ওপর কতটা বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস তো এক দিনে তৈরি হয় না। আমি যদি প্রথম ম্যাচেই গিয়ে বলি, ‘ভাই, এটা চাই, ওটা চাই’, তাহলে অধিনায়কের পক্ষে সবকিছু দেওয়া কঠিন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছর খেলার পর যদি অধিনায়কের আপনার ওপর বিশ্বাস তৈরি হয়, তখন বিষয়টা সহজ হয়ে যায়।</p><p>আমি যদি অতিরিক্ত একটা স্লিপ চাই, আর অধিনায়ক বিশ্বাস করেন যে সেটা দিলে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাহলে তিনি দেবেন না কেন? দুজনের লক্ষ্যই তো ভালো করা। অধিনায়কের মনে হলে আমার চাওয়া ফিল্ডিং সাজালে উইকেট আসতে পারে, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সেই সুযোগ দেবেন।</p><p> পাকিস্তান সিরিজটা আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন কি না, সেটা কিন্তু এখনো সরাসরি বললেন না।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আসলে দেশের জন্য আমি এখনো খুব বেশি কিছু করতে পারিনি। আমার ইচ্ছা, দেশের জন্য যখন সত্যিই কিছু করতে পারব, তখন নিজেই মিডিয়ার সামনে এসে বলব। আমার মনে হয় না, এখন পর্যন্ত আমি খুব বেশি কিছু করেছি।</p><p> আমি কিন্তু বলছি না, আপনি অনেক কিছু করে ফেলেছেন। আমি বোঝাতে চাইছি, আলমগীর যে সময় খেলেছেন, তখন সব দেশেই একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশের টেস্ট খেলা বা ওয়ানডে জেতার হিসাব মুখস্থ বলা যেত। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে আপনি ছিলেন না? ওয়ানডে দলে ছিলেন না, টেস্ট দলে ছিলেন?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> টেস্টে ছিলাম।</p><p>এরপর ওয়ানডে হয়েছিল, তাই না? বাংলাদেশ তখন টানা ৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেও জিততে পারেনি। ৪৫টি হেরেছিল, দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর ২০০৪ সালে গিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় এসেছিল। টেস্টেও পরিস্থিতি অনেকটা এমনই ছিল।</p><p>এই জন্যই বলছি, ১২টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে চারটি জয়, তার মধ্যে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়, এরপর দেশের মাটিতে আবার সিরিজ জয়, আপনার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটা সবচেয়ে বড় অর্জন কি না।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হতে পারে। কিন্তু আমার নিজের কাছে তেমন মনে হয় না। আমার কাছে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম। সত্যি বলতে, যে ম্যাচ খেলে এসেছি, সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। আমার চিন্তা থাকে সামনে কী খেলা আছে।</p><p>যা করে ফেলেছি, সেটা তো চলে গেছে। সেখান থেকে ভালো কী শিখতে পারি, কোন জায়গায় আমার ঘাটতি ছিল, সেটা বের করার চেষ্টা করি। আমি এটা ভাবি না যে ওই সিরিজটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে গেছে। একটা সিরিজকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলা কঠিন। আপনি পারফর্ম করলে, আপনার...</p><p> আমি একটু থামাই। আপনার কি ভয় হয়, কেউ যদি বলে, পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব ভালো খেলেছেন, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছেন, তখন মানুষ আপনাকে অহংকারী ভাববে? এই ভয় কি আপনার মধ্যে কাজ করে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। মানুষ কী বলবে, সেটা তো আমি থামাতে পারব না। পাকিস্তান সিরিজে ভালো খেলেছি, এটা বলতে আমার খারাপ লাগবে কেন? ভালো তো অবশ্যই লেগেছে। কিন্তু আপনি যে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের কথা বলছেন, আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটি ম্যাচেই একটু একটু করে ভালো কিছু হয়েছে। শুধু একটা সিরিজকে আলাদা করে সবচেয়ে বড় অর্জন বলা আমার জন্য কঠিন।</p><p> মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করা বলটা কি আপনার সেরা বল? সবচেয়ে স্মরণীয়?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, বলতে পারেন, ওটা একটা স্মরণীয় বল।</p><p> আমার চাপে বলছেন না তো? নইলে হয়তো বলতেন, অন্য কিছু!</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> চাপে বলছি না। আপনি যে সময়ের কথা বললেন, ওই উইকেট পাওয়ার অনুভূতিটা আসলেই অন্য রকম ছিল। যে খেলোয়াড় মাঠে কাজটা করেন, তাঁর কাছে অনুভূতিটা এক রকম। আর যাঁরা খেলা দেখেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে ওই উইকেটের অনুভূতি হয়তো আরও আলাদা ছিল।</p><p> ম্যাচের অবস্থাটাও তখন এমন ছিল, অন্যভাবে আউট করলেও মনে থাকত। কিন্তু ব্যাটসম্যান বল ছেড়ে দিচ্ছেন, বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দিচ্ছে, যতবার দেখি অবিশ্বাস্য লাগে। আপনার সেরা মুহূর্তগুলোর একটি তো এটা বলাই যায়।</p><p>আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আপনার স্পেলটা, ছয় উইকেট ছিল?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> ছয় উইকেট শরিফুল পেয়েছিল।</p><p> আপনার চার উইকেট ছিল, তাই তো? দেখুন, দুই ছাত্রের মধ্যে আমারই গুলিয়ে যাচ্ছে! শরিফুল ছয় উইকেট পেয়েছিল, তারপরও বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচটা হেরেছিল। কী অবিশ্বাস্য ম্যাচ ছিল! ওরা জিততে জিততে হেরেছে, আর বাংলাদেশ হারতে হারতে জিতেছে। দুর্দান্ত সিরিজ ছিল।</p><p>এরপর আপনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারলেন না। জানি, এটা আপনার হাতে ছিল না, চোটের কারণে যেতে পারেননি। তারপরও বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় গেল ২৩ বছর পর। আবার কবে যাবে, সেটাও নিশ্চিত নয়। এখন তো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত নিজেদের মধ্যে খেলতেই বেশি আগ্রহী। ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিকটা অনেক বড় হয়ে গেছে। একসময় ক্রিকেটে অন্যদের সাহায্য করা বা খেলাটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারও ছিল। এখন ব্যবসাটা অনেক বড়।</p><p>আপনার খারাপ লাগেনি, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কেউ যদি বলেন, একটুও খারাপ লাগেনি, আমি বিশ্বাস করব না। যে কারোরই খারাপ লাগবে।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> মানুষ হিসেবে কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে আফসোস তো থাকেই। কিন্তু পেশাদার জায়গা থেকে চিন্তা করলে এখন আফসোস করে আমি কী করতে পারি? কিছুই তো করতে পারব না। যা হওয়ার, হয়ে গেছে।</p><p>এখন আমি ভাবি, সামনে কী করতে পারি। আমি এখন চোটে আছি। কীভাবে ফিট হব, সামনে যে সিরিজগুলো আছে, সেগুলোর জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করব, সেসব নিয়েই চিন্তা করছি।</p><p>মানুষ হিসেবে অবশ্যই খারাপ লাগে। এটা সত্যি। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে ওই জায়গায় পড়ে থাকলে হবে না। আমাকে সামনে এগোতে হবে। পেছনে যা হয়ে গেছে, সেটা চাইলেও ফিরিয়ে আনতে পারব না। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে সামনের কাজগুলোও খারাপ হবে। তাই আমি চেষ্টা করি, অতীতের কথা বেশি না ভেবে সামনে কী করতে হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে।</p>
হানিফের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে। ওই গ্রামের হাজি মো. সুলতান আহম্মেদ প্রধানের ছেলে তিনি।
সৌদির বিভিন্ন শহরে ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। ফলে যুবরাজ যে আঞ্চলিক অশান্তি পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চেয়েছিলেন, এখন সেই সংঘাতের গভীরেই জড়িয়ে পড়ছে তাঁর দেশ।
২০২৬ সালে সরকারি নবম-দশম গ্রেডে বিশেষায়িত চাকরির চাহিদা বেড়েছে। টেকনিক্যাল, মেডিক্যাল, প্রকৌশল ও আইটি ডিগ্রিধারীরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।
<p>ইউরোপজুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি যেন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র এক সপ্তাহের চিত্র লক্ষ করা যাক। পোল্যান্ড নতুন করে যুদ্ধের সতর্কবার্তা জারি করেছে। জার্মানি চালিয়েছে সামরিক মহড়া ও জাতীয় মহড়া। বাল্টিক অঞ্চলজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সামরিক অনুশীলন। আর হামলা হলে কীভাবে রাজধানী ভিলনিয়াসের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে—লিথুয়ানিয়া প্রকাশ করেছে তার বিশদ পরিকল্পনা।</p><p>এদিকে ফিনল্যান্ড সরকার তো যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন শঙ্কায় পুরোপুরি মাতোয়ারা। তারা নাগরিকদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধ যে অচলাবস্থাই নিয়ে আসুক না কেন, মানসিকভাবে ও বাস্তবে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।</p><p>গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এলিসি প্রাসাদে দলীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র করেন। সেখানে ফরাসি গোয়েন্দাপ্রধানরা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ‘দ্রুত অবনতির’ একটি চিত্র তাঁদের সামনে তুলে ধরেন।</p><p>অন্যদিকে ন্যাটো এখন কোনো গোপনীয়তা না রেখেই রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ড্রোন হামলার বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করছে। তবে ইউরোপের সরকারগুলোর এই ‘যুদ্ধ উন্মাদনা’ মহাদেশটির সাধারণ শ্রমিক ও নাগরিকদের খুব একটা প্রভাবিত করতে পারছে না।</p><p>কোম্পানির বেতন ও কর্মপরিবেশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত ১ জুলাই স্পেনে এয়ারবাসের হাজার হাজার শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেন। ইউজিটি এবং সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের কাজের এই বিরতি বা কর্মবিরতির কারণে সামরিক ও বাণিজ্যিক উৎপাদন অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানির পক্ষে তাদের পূর্বনির্ধারিত সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। স্পেনে এয়ারবাসের আটটি কারখানায় সামরিক পরিবহন বিমান, বাণিজ্যিক বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং কৃত্রিম উপগ্রহের কারখানা রয়েছে।</p><p>যন্ত্রাংশ ও সরবরাহব্যবস্থার ঘাটতি এতটাই প্রকট যে এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় এয়ারবাসের যন্ত্রাংশ পৌঁছে দিতে ইউক্রেনীয় বিশাল আকারের ‘আন্তনভ এন-১২৪’ কার্গো বিমান ভাড়া করতে হচ্ছে—যাতে কোনোমতে তাদের উৎপাদন সচল রাখা যায়।</p><p>এয়ার ডেটা নিউজ জানিয়েছে যে শ্রমিকদের এই আন্দোলন ‘মূল সামরিক বিমান কর্মসূচিগুলোকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে’। মাদ্রিদের কাছে ইউরোফাইটার কারখানা এবং সেভিলের সামরিক পরিবহন বিমান কারখানা—দুটি কেন্দ্রই এই ধর্মঘটে থমকে গেছে।</p><blockquote>ইউরোপীয় রাজনীতির আসল লড়াইটা এখন ঠিক এই জায়গাতেই জমে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধে উন্মাদের মতো মেতে থাকা মূলধারার একদল রাজনীতিবিদ, আর অন্যদিকে লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিক ও তরুণ প্রজন্ম—যাঁরা তাঁদের রক্ত পানি করা মজুরি, চাকরি আর জীবনযাত্রার মান বিসর্জন দিয়ে কোনো যুদ্ধের খরচ জোগাতে একেবারেই রাজি নন।</blockquote><p>স্প্যানিশ ইউনিয়নগুলোর মতে, ২৫ আগস্টের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে প্রায় ৯০ শতাংশ যোগ্য শ্রমিক অংশ নিয়েছিলেন। কারখানার অ্যাসেম্বলিতে শ্রমিকেরা ভোটাভুটির মাধ্যমে কোম্পানির অন্যায্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই মূলত এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।</p><p>ফরাসি ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, স্পেনে এয়ারবাসের প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে এই তিন ইউনিয়নের অধীনেই রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমিক। শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি, আগের মতো দূর থেকে কাজ করার সুবিধা বহাল রাখা এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির সুবিধা নিশ্চিত করা।</p><p>শিল্পমন্ত্রী জর্দি হেরেউর হস্তক্ষেপ এবং এয়ারবাস কর্তৃপক্ষের কিছু নমনীয় শর্ত মেনে নেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর শ্রমিকেরা সাময়িকভাবে ধর্মঘট স্থগিত করেন। তবে তাঁদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। এর ঠিক দুদিন পর, নিজেদের দাবি আদায়ে স্পেনের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে প্রায় ৮ হাজার এয়ারবাস শ্রমিক মাদ্রিদের রাজপথে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন।</p><p>অবশেষে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭৭ শতাংশ শ্রমিক কোম্পানির একটি সংশোধিত ও উন্নত প্রস্তাবের পক্ষে রায় দেন। দীর্ঘ কয়েক মাসের আন্দোলনের চাপে পড়ে কোম্পানিটি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি, হ্রাস পাওয়া ক্রয়ক্ষমতার ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রিমোট ওয়ার্কের অধিকার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।</p><p>এয়ারবাসের এই শ্রমিক আন্দোলন প্রমাণ করে যে ইউরোপের দেশগুলো যে অস্ত্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর ভর করে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছে—সেই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিল্পগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ ঠিক কতটা শক্তিশালী।</p><p>একই সময়ে স্কটল্যান্ডে নতুন শহরতলি ট্রেনের বহর তৈরির জন্য ঠিকাদারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান সিএএফকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে স্কটিশ রেলওয়ে ইউনিয়ন আরএমটি, ট্রেন চালকদের সংগঠন ‘আসলেফ’ এবং পেশাজীবীদের ইউনিয়ন ‘টিএসএসএ’।</p><p>ইসরায়েলি দখলদারত্বের সহযোগী হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তৈরি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় এই সিএএফ কোম্পানিটির নাম রয়েছে। জেরুজালেমের লাইট রেল পরিচালনা এবং বেআইনিভাবে দখল করা ভূখণ্ডে রেললাইন সম্প্রসারণের কাজে সহায়তার দায়ে তাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।</p><p>আসলেফ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সদস্যরা কোনো সিএএফ নির্মিত ট্রেন চালাবেন না। একই সুর মিলিয়ে টিএসএসএর সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম এসলামদুস্ত স্কটিশ সরকারকে বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।</p><p>অন্যদিকে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্মেলনে প্রতিনিধিরা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সামরিক বাজেট বা অস্ত্র খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন।</p><p>গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রস্তাবটি আরও বিপুল সমর্থন লাভ করে পাস হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এর আগে জিএমবি ও ইউনাইট ইউনিয়নের প্রভাবে সামরিক বাজেট বাড়ানোর পক্ষে টিইউসির যে অবস্থান ছিল, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তা পুরোপুরি উল্টে গেছে।</p><p>প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরএমটির সাবেক সভাপতি এবং ‘স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন’-এর জাতীয় কর্মকর্তা অ্যালেক্স গর্ডন বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন চাকরির অধিকার, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যতের নতুন শিল্পের প্রতি বিনিয়োগ সুনিশ্চিত করার আন্দোলন। যে ভবিষ্যৎ আমাদের তরুণ শ্রমিকেরা প্রত্যাশা করেন।’</p><p>অ্যালেক্স গর্ডন আরও যোগ করেন, ‘সেই শিল্প খাতগুলো কিন্তু সামরিক খাত নয়। সামরিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান এবং সেই দক্ষতাকে বেসামরিক ও নাগরিক সেবামূলক পণ্য উৎপাদনে কাজে লাগানো উচিত।’</p><p>গাজা উপত্যকায় চলা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে অন্তত ছয়টি দেশের ডকশ্রমিক ইউনিয়ন ৩০ অক্টোবর একটি আন্তর্জাতিক ধর্মঘট ও প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিয়েছে।</p><p>এর আগে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ২০টির বেশি বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ করে ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান আটকে দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। সেই সুসংগঠিত আন্দোলনের পথ ধরেই এবারও এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p>যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলেছে, ‘আমরা এই যুদ্ধ অর্থনীতি, সরকারের অস্ত্র পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিকায়নের সব প্রকল্পকে ‘না’ বলছি। জনগণের অর্থ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো যুদ্ধের পেছনে নয়, বরং সমাজের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা উচিত।’</p><p>এদিকে ইউরোপের নতুন প্রজন্ম—অন্তত জার্মানির তরুণদের কথা ধরলে—কোনো নতুন ইউরোপীয় যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই উৎসাহিত নয়। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নতুন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশজুড়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।</p><p>জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো শুরু করার পর ‘স্কুল স্ট্রাইক এগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন’ নামক আন্দোলনের ব্যানারে ১০০টির বেশি শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। যদিও সেনা যোগদান এখনো ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে, তবে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।</p><p>ইউরোপীয় রাজনীতির আসল লড়াইটা এখন ঠিক এই জায়গাতেই জমে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধে উন্মাদের মতো মেতে থাকা মূলধারার একদল রাজনীতিবিদ, আর অন্যদিকে লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিক ও তরুণ প্রজন্ম—যাঁরা তাঁদের রক্ত পানি করা মজুরি, চাকরি আর জীবনযাত্রার মান বিসর্জন দিয়ে কোনো যুদ্ধের খরচ জোগাতে একেবারেই রাজি নন।</p><p>এই লড়াইয়ের স্রেফ সূচনা হলো মাত্র।</p><ul><li><p><strong>জন রিস</strong> এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো।<br>মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে এমন একটি ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। রবিবার ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধের পাশাপাশি যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে ডারবান টেস্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করা সফরকারীরা তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলেছে। তাতে সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৩৯ রান। আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় চতুর্থ দিনে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া।
গ্যাস সিলিন্ডার, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হেনেছে। রবিবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে পবিত্র জমাদিউল আওয়াল মাস গণনা করা শুরু হবে।
জিবুতি থেকে ইয়েমেনের পথে প্রায় ৩০৫ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৫ শিশুসহ অন্তত ১০৯ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা আইওএম রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।