আলোর পাঠশালা

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
<p>খেলাধুলায় প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭ সিজন–২-এর ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা।</p><p>প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের ক্রীড়া প্রতিভা, দক্ষতা ও সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।</p><p>প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা মনে করে, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে অপরিহার্য। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।</p><p>নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে চরাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার। খেলাধুলায় গড়ি শক্তি, প্রতিভায় এগিয়ে যাক নতুন প্রজন্ম।</p>

Prothomalo

View more
হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, বিরোধীদের দাবি
হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, বিরোধীদের দাবি

<p>নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট এবং আরব দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।</p><p> নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে। কাতার ও তুরস্ক থেকে এই দলগুলো কোনো অবৈধ তহবিল পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইত।</p><p> কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।</p><p> নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এটা স্পষ্ট—নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষ পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সব সমীকরণ পাল্টে গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে দুটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং রাআম রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।</p><p>নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এমন ফলাফলে আরব দল দুটি এখন সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।</p><p>নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের তদন্ত করতে শিন বেইতকে অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রধান। এরপর বৃহস্পতিবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ তোলে যে আরব দলগুলোকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে।</p><p>দুটি আরব দলই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের জোট জয়েন্ট লিস্ট এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।</p><p>নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। কারণ, বর্তমানে আরবদের সমর্থনই বিরোধী জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/4voim5wq/Eisenkot.jfif"><figcaption> ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের তেল আবিবে দলটির সদর দপ্তরে বক্তব্য দেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে একটি অভিযোগ আসে যে আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।</p><p>নেতানিয়াহু এবং তাঁর দল লিকুদ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি—কট্টর ডানপন্থী সরকারকে হটাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।</p><p>তবে শিন বেইত পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই তদন্ত বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।</p><p>তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।</p><p>জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী মিথ্যা অপবাদ তৈরি করছে এবং নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে।</p><p>নেতানিয়াহু কয়েক দিন ধরে আরব ভোটার ও দলগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ডানপন্থীদের জন্য চরম জরুরি অবস্থা এবং এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আরব ভোটারদের ছবিও প্রকাশ করেন।</p><p>ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক–পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাঁদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।</p><p>বহুবছর ধরে অনেক আরব ভোটাররা ইসরায়েলের নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল—ভোট দিলে এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া হয়, যেখানে তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তাঁরা বিপুলসংখ্যক ভোট দিয়েছেন।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ

কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ বিরোধীদের জন্য ইহুদি-আরব সহযোগিতা। কিন্তু সেটিই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় বাধা।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের পাঁচ কারাবন্দী সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান সিপিজের
বাংলাদেশের পাঁচ কারাবন্দী সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান সিপিজের

<p>বাংলাদেশে কারাবন্দী পাঁচ সাংবাদিকের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বন্দী দিবস উপলক্ষে এশিয়ায় কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে বাংলাদেশি পাঁচ সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেনি সিপিজে।</p><p> সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আমরা এশিয়ার আটটি দেশের কারাবন্দী সাংবাদিকদের পাশে আছি।’ এর মধ্যে চীনে ৫০, মিয়ানমারে ৩০, ভিয়েতনামে ১৬, কম্বোডিয়ায় ৫, বাংলাদেশে ৫, ভারতে ১, আফগানিস্তানে ১ এবং ফিলিপাইনে ১ জন সাংবাদিক কারাবন্দী আছেন।</p><p>এসব দেশের সরকারের প্রতি কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং তাঁদের সঙ্গে হওয়া নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব এ পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।</p><p>সিপিজের সর্বশেষ বার্ষিক কারাগার জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩০০ জনের বেশি সাংবাদিক কারাগারে ছিলেন। টানা পঞ্চম বছরের মতো কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিস্তার এবং সশস্ত্র সংঘাত বেড়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।</p><p>জরিপে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি কারাগারে রেখেছে চীন। ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক বন্দী ছিলেন। ৩০ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার। ২০২৪ সালে দেশটি ছিল তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে ২৯ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে ইসরায়েল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/spm76dmdi1">৪ সাংবাদিকের মুক্তি চেয়ে আইনমন্ত্রীকে সিপিজের চিঠি</a></aside><p>এ ছাড়া ২৪ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আজারবাইজান। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম দেশটি তালিকায় উঠল। আগের বছরের তুলনায় দেশটিতে কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রাশিয়া, বেলারুশ, মিসর ও ইরিত্রিয়ায় কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মতোই রয়েছে।</p><p>সবচেয়ে বেশি সাংবাদিককে কারাগারে রাখা দেশগুলোর একটি ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করতে শুরু করে। তাঁদের অনেককে কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আবার কাউকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই নির্বিচার আটক রাখা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।</p><p>ইসরায়েলের নাগরিকেরা বিস্তৃত নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করলেও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার মান সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ১১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে।</p><p>কারাগারে সাংবাদিকদের অনেক সময় নিষ্ঠুর ও জীবননাশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা হয়। মুক্তি পাওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দী কারাগারের সেই পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন ‘জীবিত মানুষের কবরস্থান’-এর সঙ্গে। অনেক সাংবাদিককে বছরের পর বছর এসব ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।</p><p>সিপিজের ২০২৫ সালের জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাংবাদিকদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাঁচ বছরের বেশি সাজা ভোগ করছেন। প্রায় অর্ধেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তাঁদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সাজা ছাড়াই কারাগারে আছেন। যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে আন্তর্জাতিক আইনে। এ ধরনের আটক সেই আইনের লঙ্ঘন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/xx57ri4ui3">নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার অঙ্গীকার চায় সিপিজে</a></aside>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন সিইসি ও ইসি সচিব, অভিযোগ জামায়াতের
অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন সিইসি ও ইসি সচিব, অভিযোগ জামায়াতের

নির্বাচনে আগে থেকে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মালিকের মৃত্যুর পরও হাসপাতাল ছাড়েনি মোরগ, ৮ বছর ধরে অপেক্ষা
মালিকের মৃত্যুর পরও হাসপাতাল ছাড়েনি মোরগ, ৮ বছর ধরে অপেক্ষা

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/maliker-mrritzur-proo-haspatal-chareni-morg-8-bchr-dhre-opeksha</figure>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায়
বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বল ঘুরছে, উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করছে। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা সহজ হবে না। তা এখানে কত রানের লক্ষ্য দিতে পারলে ম্যাচটা জিততে পারে বাংলাদেশ?

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মিরপুর টেস্টে জিতবে কে
মিরপুর টেস্টে জিতবে কে

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ১০৬ রানে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হাতে আছে ৪ উইকেট। আগামীকাল নাজমুলরা কত রানের লিড নিতে পারবেন?

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
শীতের আগেই দাঁত শিরশির করা যেসব রোগের লক্ষণ হতে পারে
শীতের আগেই দাঁত শিরশির করা যেসব রোগের লক্ষণ হতে পারে

<p>দাঁত শিরশির করাকে শীতের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। কিন্তু দাঁতের এই সংবেদনশীলতা কখনো কখনো এনামেল ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা কিংবা দাঁতের অন্য কোনো রোগের লক্ষণ। তাই বারবার এমনটা হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/5wt62zu4/LABL3881.jpg"><figcaption>দাঁত শিরশির করাকে শীতের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। মডেল: চৈতি</figcaption></figure><p>শীত আসতে না আসতেই ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেলে কিংবা শীতের সকালে ঠান্ডা বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সময় অনেকেরই হঠাৎ দাঁত শিরশির করে ওঠে। কারও কারও ক্ষেত্রে গরম চা খেলেও দাঁতে অস্বস্তি লাগে।</p><h3>দাঁত শিরশির করে কেন</h3><p>দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণকে বলা হয় এনামেল। নিচে থাকে ডেন্টিন, যার মধ্যে অসংখ্য সূক্ষ্ম নালি রয়েছে। দাঁতের গোড়ার অংশ সাধারণত মাড়ি দিয়ে আবৃত থাকে। কোনো কারণে এনামেল ক্ষয়ে গেলে বা মাড়ি সরে গিয়ে ডেন্টিন উন্মুক্ত হয়ে পড়লে ঠান্ডা, গরম, মিষ্টি কিংবা টক খাবারের উদ্দীপনা দাঁতের ভেতরের স্নায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অল্প সময়ের জন্য তীক্ষ্ণ ব্যথা বা শিরশিরানি অনুভূত হয়। এই সমস্যাকে বলে ডেন্টিন হাইপারসেনসিটিভিটি।</p><p>শক্ত ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে দাঁত মাজা, অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় ঘন ঘন গ্রহণ, মাড়ি সরে যাওয়া এবং দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যাওয়া এ সমস্যার সাধারণ কারণ। তবে দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয়, ফাটল কিংবা পুরোনো ফিলিংয়ের সমস্যাতেও একই ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/6o4xdpmz3z">হাড় মজবুত করতে যে তিন ধরনের পুষ্টি জরুরি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/g8y08dja/LABL4061.jpg"><figcaption>শক্ত ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে দাঁত মাজা দাঁতের শিরশিরানির অন্যতম কারণ</figcaption></figure><h3>শীতের সঙ্গে দাঁতের শিরশিরানির সম্পর্ক কী</h3><p>শীতের ঠান্ডা বাতাস ও ঠান্ডা পানীয় আগে থেকেই সংবেদনশীল দাঁতে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে শীত এলেই সবার দাঁতের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়, এমন না। দাঁতের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ডেন্টিন উন্মুক্ত থাকলে তাপমাত্রার পরিবর্তনে ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই শুধু শীতকে দায়ী না করে দাঁতের অবস্থা এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।</p><h3>শিরশিরানি, নাকি দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ</h3><p>শিরশিরানি হলেই যে দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ হয়েছে, তা না। সাধারণ সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরমের উদ্দীপনা সরিয়ে নিলে ব্যথা সাধারণত দ্রুত কমে যায়। কিন্তু ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে, কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই শুরু হলে, রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিলে কিংবা কামড় দেওয়ার সময় বেড়ে গেলে দাঁতের ভেতরের পাল্পে প্রদাহ, গভীর ক্যারিজ বা দাঁতে ফাটল থাকার আশঙ্কা থাকে।</p><p>এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু সংবেদনশীল দাঁতের টুথপেস্ট ব্যবহার করে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। ব্যথার ধরন ও দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করে, প্রয়োজন হলে এক্স-রের সাহায্যে, দন্তচিকিৎসক সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/igri0n0d/LABL3992.jpg"><figcaption>শিরশিরানি বারবার হলে কিংবা ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন</figcaption></figure><h3>কিছু অভ্যাসও বাড়াতে পারে দাঁতের শিরশিরানি</h3><p>প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। শক্ত ব্রাশ দিয়ে জোরে ঘষলে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যেতে পারে এবং মাড়ি সরে গিয়ে দাঁতের গোড়ার সংবেদনশীল অংশ উন্মুক্ত হতে পারে। লেবু, কোমল পানীয় ও অন্যান্য অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয় ঘন ঘন গ্রহণ করলেও এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।</p><p>আবার ঘুমের মধ্যে দাঁত চেপে রাখা বা ঘষার অভ্যাসে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যেতে পারে কিংবা সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হতে পারে। সকালে চোয়ালে ব্যথা, দাঁতের কিনারা ক্ষয়ে যাওয়া বা দাঁতে অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি দন্তচিকিৎসককে জানানো উচিত।</p><h3>শিরশিরানি কমাতে কী করবেন</h3><p>প্রথমেই দাঁত পরিষ্কারের সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার, প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ধরে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন। দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখতে ডেন্টাল ফ্লস বা উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন।</p><p>সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি টুথপেস্টে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্যানাস ফ্লোরাইডের মতো উপাদান থাকতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে এগুলো শিরশিরানি কমাতে সাহায্য করে, তবে উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।</p><p>অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর পানি দিয়ে কুলি করুন এবং দাঁত ব্রাশ করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দাঁতে লেবু, লবণ বা কয়লা ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। এতে এনামেলের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ব্যথার ভয়ে দাঁত পরিষ্কার করা বা কোনো পাশ দিয়ে চিবানো বন্ধ করে দেওয়াও ঠিক নয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/srq5x3k2db">৮০ পেরিয়েও যাঁদের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, তাঁদের সবার মধ্যে একটাই মিল</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/meb9qjbk/LABL3895.jpg"><figcaption>শিরশিরানি হলেই যে দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ হয়েছে, তা না</figcaption></figure><h3>কখন দন্তচিকিৎসকের কাছে যাবেন</h3><p>শিরশিরানি বারবার হলে, একটি নির্দিষ্ট দাঁতে বেশি অনুভূত হলে কিংবা ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কামড় দিলে ব্যথা, দাঁতে দৃশ্যমান ফাটল, মাড়ি ফুলে যাওয়া বা রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও অবহেলা করা উচিত নয়। মুখ বা গাল ফুলে যাওয়ার সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।</p><p>চিকিৎসানির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর। কোনো ক্ষেত্রে ফ্লোরাইড প্রয়োগ বা সংবেদনশীলতা কমানোর চিকিৎসাই যথেষ্ট। আবার ক্যারিজ বা ফাটল থাকলে ফিলিং কিংবা অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। দাঁতের পাল্পে প্রদাহ হলে আলাদা চিকিৎসা।</p><p>মনে রাখবেন, দাঁত শিরশির করা মানেই দাঁত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। তবে সমস্যাটি বারবার দেখা দিলে কারণ শনাক্ত করাই দাঁত সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়। শীত উপভোগ করতে গিয়ে দাঁতের অস্বস্তিকে অবহেলা করবেন না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/shopping/z68xtp5wmr">কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ও আমার রঙিন স্কুলব্যাগের দিনগুলো</a></aside>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা উঠতেই চাঁদপুরে মাছঘাটে হাজার টন ইলিশ, বেশির ভাগই নরম ও পচা
নিষেধাজ্ঞা উঠতেই চাঁদপুরে মাছঘাটে হাজার টন ইলিশ, বেশির ভাগই নরম ও পচা

এসব মাছ কারা কবে ধরেছেন, তা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।