ক্রিকেট

বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায়

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায়
বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বল ঘুরছে, উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করছে। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা সহজ হবে না। তা এখানে কত রানের লক্ষ্য দিতে পারলে ম্যাচটা জিততে পারে বাংলাদেশ?

Prothomalo

View more
প্র্যাবের নতুন সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সম্পাদক নজরুল ইসলাম
প্র্যাবের নতুন সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সম্পাদক নজরুল ইসলাম

<p>দেশের ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সংগঠন পাবলিক রিলেশনস অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (প্র্যাব) নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াহিয়া মির্জা। তিনি সিটি ব্যাংকের হেড অব পিআর অ্যান্ড মিডিয়া। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম।</p><p>এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্র্যাব এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক প্রীতি সম্মেলনে প্র্যাবের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান টিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্র্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আতাউর রহমান, সদ্য বিদায়ী সভাপতি শামসুদ্দোহা শিমু ও সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ স্বপনসহ সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।</p><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সংগঠন হিসেবে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে প্র্যাব। সংগঠনটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গঠনমূলক নানা সামাজিক ও সেবামূলক কাজ করে আসছে। এটি সাধারণত ৩৩ সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা প্রতি দুই বছরের জন্য গঠিত হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ ও ব্র্যান্ডিংপ্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ জনসংযোগ কর্মকর্তারা এ কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।</p><p>সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান টিপু বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে প্র্যাবের ৩৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে।’</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
জাপানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
জাপানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাইরে বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
৩৬ বছরে এইচএসসির ফলে বড় ওঠা–নামা, কোন বছর কত ছিল পাসের হার
৩৬ বছরে এইচএসসির ফলে বড় ওঠা–নামা, কোন বছর কত ছিল পাসের হার

<p>এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামীকাল শনিবার, ৩১ অক্টোবর। ফল প্রকাশের আগে গত ৩৬ বছরের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাসের হারে বড় ধরনের ওঠা–নামা হয়েছে। কোনো বছর পাসের হার ২৫ শতাংশের নিচে নেমেছে, আবার কোনো বছর তা ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নে সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করায় পাসের হার হয়েছিল ১০০ শতাংশ।</p><p> পাসের হারের এই ওঠা–নামা শুধু শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পরিবর্তনই তুলে ধরে না, পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে। পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠ্যসূচি শেষ করতে পারা এবং মূল্যায়নপদ্ধতি—এসব বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও শুধু পাসের হারের পরিসংখ্যান দিয়ে কোন বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।</p><p> পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল। পরে তারিখ পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।</p><h3>পাসের হারে বড় পতন গত বছর </h3><p>১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ছিল ১৯৯৬ সালে, ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে করোনাকালে ২০২০ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ। তবে ওই বছরের ফল নিয়মিত পরীক্ষা নিয়ে পাওয়া ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ, পরীক্ষা ছাড়াই ফল মূল্যায়ন করায়, সবাই পাস করেন।</p><p>সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পাসের হারে বড় পতন হয়েছে গত বছর। ২০২৪ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০০৫ সালের পর গত বছরের পাসের হার ছিল সর্বনিম্ন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/examination/ay7d1lek8m">এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে যেভাবে</a></aside><blockquote>আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে ওঠা–নামা হয়েছে। বছর দুয়েক ধরে নীতিতে পরিবর্তন আনার কারণেও ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি আশা করছেন, প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে পাসের হার বাড়বে।</blockquote><p>এর আগে ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর বেশ কয়েক বছর পাসের হার বেড়েছে। যদিও এ বৃদ্ধি সব বছর সমান ছিল না, মাঝেমধ্যে কমেছেও। পরবর্তী সময়ে পাসের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ঘরে ওঠানামা করেছে।</p><p>গত বছরের ফলাফলে বড় পতন কেন হলো, তা বুঝতে শুধু আগের বছরের পাসের হারের সঙ্গে তুলনা যথেষ্ট নয়। উত্তরপত্র মূল্যায়ন, পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক ফল, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, প্রশ্নের ধরনও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত বছরের ফল প্রকাশের পর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে তুলনামূলক বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন; যা সার্বিক ফলাফলের ওপরে বড় প্রভাব ফেলেছে।</p><p>এ রকম পরিস্থিতি এ বছরের ফলাফলে পাসের হার বাড়ে, নাকি গত বছরের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকে, তা জানা যাবে আগামীকাল।</p><h3>শুরুতে পাসের হার ছিল কম </h3><p>৩৬ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। পরের দুই বছরে তা বেড়ে ১৯৯১ সালে প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ১৯৯২ সালে ৬৫ শতাংশের বেশি হয়। তবে এরপর আবার পাসের হার কমে যায়। ১৯৯৩ সালে পাসের হার ছিল ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি, ১৯৯৪ সালে ৪০ শতাংশের বেশি এবং ১৯৯৫ সালে ৪৬ শতাংশের বেশি।</p><p>১৯৯৬ সালে পাসের হারে বড় পতন ঘটে। ওই বছর পাসের হার নেমে আসে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে। এরপর কয়েক বছর পাসের হার বাড়লেও ধারাবাহিকতা ছিল না। ১৯৯৭ সালে পাসের হার ছিল ৩৯ শতাংশের বেশি। ২০০১ সালে পাসের হার ছিল ২৮ শতাংশের বেশি এবং ২০০২ সালে ২৭ শতাংশের মতো। ২০০৩ সালে তা বেড়ে ৩৮ শতাংশের বেশি হয়। ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ।</p><p>২০০৫ সালে পাসের হার বেড়ে ৫৯ শতাংশ ছাড়ায়। পরের কয়েক বছরেও এ ধারা বজায় থাকে। ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৬৪ শতাংশের বেশি এবং ২০০৮ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশ। ২০০৯ সালে তা কমে ৭০ শতাংশের কিছু বেশি হয়। এরপর ২০১০ ও ২০১১ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ। ২০১২ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশের বেশি হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/q60e6v9kj3">এসএসসিতে যেসব কারণে ১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার, আগে ফলাফল কেমন হতো</a></aside><h3>৭০ শতাংশের আশপাশে ওঠা–নামা </h3><p>২০১২ সালের পরও বেশ কয়েক বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭০ শতাংশের আশপাশে ছিল। ২০১৩ সালে পাসের হার ছিল ৭১ শতাংশের বেশি, ২০১৪ সালে প্রায় ৭৬ শতাংশ। তবে ২০১৫ সালে তা কমে প্রায় ৬৬ শতাংশে নেমে আসে। পরের বছর, ২০১৬ সালে পাসের হার আবার বেড়ে ৭২ শতাংশের বেশি হয়। ২০১৭ সালে তা কমে প্রায় ৬৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৭২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।</p><p>এ সময়ের ফলাফল থেকে দেখা যায়, পাসের হার প্রতিবছর একই দিকে এগোয়নি। এক বছর বাড়লেও পরের বছর কমেছে, আবার কখনো আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে দীর্ঘ সময়ের ফলাফল বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট বছরের পাসের হারকে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মানের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাসের হারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখার মান, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও পরীক্ষার মূল্যায়নপদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।</p><h3>করোনাকালে শতভাগ, পরে আবার কমেছে </h3><p>২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে ওই বছর পাসের হার দাঁড়ায় ১০০ শতাংশে। পরের বছর, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর পাসের হার আরও কমেছে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ শতাংশের বেশি। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৫৭ শতাংশের ঘরে।</p><p>সব মিলিয়ে ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। তবে গত বছর পাসের হার কমে ৫৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় এবারের ফল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার পাসের হার কত হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।</p><p>আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে ওঠা–নামা হয়েছে। বছর দুয়েক ধরে নীতিতে পরিবর্তন আনার কারণেও ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি আশা করছেন, প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে পাসের হার বাড়বে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/6bruvg4lpa">প্রশাসন, পুলিশে নিয়মিত পদোন্নতি, যোগ্যতা থাকলেও হয় না শিক্ষা ক্যাডারে</a></aside>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
শহর কেন শুধু ঘুমানোর জায়গা হবে, 
পুকুর–উঠান–মাঠ ফেরানোর আহ্বান
শহর কেন শুধু ঘুমানোর জায়গা হবে, পুকুর–উঠান–মাঠ ফেরানোর আহ্বান

আইপিডির অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের শহরগুলোকে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর কিংবা লন্ডন–নিউইয়র্ক বানানোর চেষ্টা ছেড়ে নিজস্ব বাস্তবতায় পরিকল্পনা করতে হবে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তি: ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ প্রদর্শনী শুরু
ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তি: ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ প্রদর্শনী শুরু

<p>নিরাপদ পানি, সম্মানজনক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস প্রসারে চার দশকের পথচলা উদ্‌যাপন করছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশে (আইএবি) শুরু হয়েছে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শীর্ষক আয়োজন। এটা মূলত ৪০ বছর পূর্তিতে মানুষের জীবন বদলের গল্প নিয়ে ৪০টি আলোকচিত্রের প্রদর্শনী। ওয়াটারএইডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p> ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হাসিন জাহান এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী। আয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সহযোগী ও দাতা সংস্থা, সাবেক কর্মী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।</p><p>আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি আয়োজনে রয়েছে সহযোগী সংগঠনগুলোর কাজের প্রদর্শন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের স্বীকৃতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ট্যুর এবং অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সুযোগ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনতে পারে, এসবের মধ্য দিয়ে তা তুলে ধরা হচ্ছে।</p><p>উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসিন জাহান বলেন, ‘এই পথচলা সেইসব জনগোষ্ঠীর, যাঁরা আমাদের কাজের দিশা দিয়েছেন; সেই সহকর্মীদের, যাঁরা আমাদের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়েছেন; এবং সেইসব সহযোগী ও প্রতিষ্ঠানের, যারা আমাদের পাশে থেকেছে। সবাই যেন নিরাপদ পানি, সম্মানজনক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সুযোগ পান, সেই ভবিষ্যৎ গড়তে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’</p><p>হাসিন জাহান আরও বলেন, ‘নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও নেতৃত্ব আমাদের কাজকে পথ দেখিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/kngcv9s6/Water-Aid-2.jpeg"><figcaption>ফিতা কেটে  ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করছেন ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হাসিন জাহান</figcaption></figure><p>১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে কাজ শুরু করে ওয়াটারএইড। এর পর থেকে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু সমাধান প্রসারে সহায়তা করে আসছে ওয়াটারএইড।</p><p>আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ওয়াটারএইড বাংলাদেশের চার দশক নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা এবং সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করার গল্প। এই অগ্রযাত্রায় যাঁরা অবদান রেখেছেন, এই আয়োজন তাঁদের সবার প্রতি সম্মান জানানোর উপলক্ষ। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আমাদের কাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের প্রয়োজনের প্রতি আরও সাড়া দিতে সক্ষম করেছে।’</p><p>প্রদর্শনীর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কীভাবে স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও জীবনের সম্ভাবনা বিকাশে ভূমিকা রাখে, আলোকচিত্রগুলো সেই গল্প বলছে।</p><p>উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচিতে সহযোগী সংস্থা ও সাবেক কর্মীদের নিয়ে বিশেষ পর্বের পাশাপাশি তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতাবিষয়ক উদ্যোগ তুলে ধরার আয়োজন রয়েছে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পথচলায় যুক্ত মানুষদের পুনর্মিলন, স্মৃতিচারণা ও মতবিনিময়ের সুযোগও তৈরি করেছে এই উদ্‌যাপন।</p><p>প্রদর্শনী আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
এআই–নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
এআই–নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

<p>প্রয়োজনীয় সব দক্ষতাই ‘সিলেবাসে’ থাকবে কিংবা শিক্ষক সব হাতে ধরিয়ে শিখিয়ে দেবেন, সেই আশায় বসে থাকলে আর চলছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগেই ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে হবে। এআই–নির্ভর পৃথিবীতে এ কথা এখন আরও বেশি সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন <strong>আমিনা মুমতারিন</strong></p><h3>ইউটিউবে বিভিন্ন ফ্রি কোর্স পাওয়া যায় </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/1kmxh178/Shahrin-Islam.jpeg"><figcaption>শাহ্‌রিন ইসলাম, ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>শাহ্‌রিন ইসলাম</strong>, ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এআইয়ের যুগে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া মানে প্রযুক্তির সঙ্গে নিজের জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলা। তাই এআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়; বরং বন্ধুত্ব করে কৌশলে তাকে কাজে লাগাতে চাই। এআই কিছু চাকরির জন্য হুমকি হলেও মানুষের মতো যুক্তিনির্ভর চিন্তা করতে পারে না। এ কারণে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শেখার পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে ইউটিউবে এখন বিভিন্ন ফ্রি কোর্স সহজেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি নোটবুকএলএম, পারপ্লেক্সিটি ও জেস্টোরের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষণার দক্ষতাও বাড়াচ্ছি। কারণ, এআই তথ্য দিতে পারলেও কোনটি প্রয়োজনীয়, তা বোঝে না এবং সব সময় নির্ভুল তথ্যও দেয় না। তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা যাচাইয়ে মানুষের নিজস্ব জ্ঞান ও বিচারবোধ অপরিহার্য।</p><p>আমার ধারণা, পাঁচ বছর পর যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি এআইভিত্তিক দক্ষতাও আবশ্যক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ঘটতে পারে। কারণ, এই ক্ষেত্র মানুষের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার ওপর বেশি নির্ভরশীল। সর্বোপরি আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা প্রযুক্তি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করি, তার ওপর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/78n4a8vmes">ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে প্রথম অনিক এখন কোথায়</a></aside><h3>এআইকে কনটেন্ট তৈরির কাজে লাগাচ্ছি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/l575ggt2/Noor-Hossain.jpeg"><figcaption>নুর হোসাইন, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>নুর হোসাইন</strong>, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এআই–নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য আমি প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, গবেষণা ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এআইকে কাজে লাগিয়ে কনটেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও গল্প বলার নতুন পদ্ধতি শিখছি। চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই ব্যবহার করে সহজেই স্টোরিবোর্ড তৈরি ও প্রি–ভিজ্যুয়ালাইজেশন করতে পারছি, যা ফিল্ম স্টুডেন্ট হিসেবে আমার অনেক কাজে আসছে। পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্র উৎসবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ খুঁজছি।</p><p>আমার বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে এআই অনেক কাজ সহজ করবে, তবে মানুষের সৃজনশীলতা, নৈতিক বিচারবোধ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব থাকবে। তাই এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে একে নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।</p><h3>শুধু কোড লিখলে হবে না, সমস্যাকে গভীরভাবে বুঝতে হবে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rmtp9m1r/Maisha-Mushtaq.jpeg"><figcaption>মাইশা মুশতাক, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি</figcaption></figure><p><strong>মাইশা মুশতাক</strong>, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি</p><p>সিএসইর শিক্ষার্থী হিসেবে বুঝতে পারি, শুধু একাডেমিক শিক্ষা অর্জনই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রযুক্তির দুনিয়ায় এআই ইতিমধ্যে যে পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে আরও যা আনবে, তা আমরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছি। তাই প্রোগ্রামিং শেখার পাশাপাশি সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। একই সঙ্গে টিমওয়ার্ক, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। এ কারণে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছি, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষতা শাণিত করার চেষ্টা করছি। এআই টুল ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি শেখা, কোড বোঝা ও সমস্যার সমাধান খোঁজার অভ্যাসও গড়ে তুলছি।</p><p>আগামী পাঁচ বছরে এআই কর্মক্ষেত্রের চিত্র অনেকটাই বদলে দেবে। এই পরিবর্তনের মধ্যে টিকে থাকতে হলে শুধু কোড লেখা নয়; বরং সমস্যাকে গভীরভাবে বোঝা, এআইয়ের দেওয়া উত্তর যাচাই করা এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাও জরুরি হবে। তাই এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এর সঙ্গে কাজ করতে শেখা এবং নিজের চিন্তাশক্তি কাজে লাগানোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>এআই ব্যবহার ও সঠিকভাবে ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য আছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/jkny5tv4/Tasfia-Tarannum.jpeg"><figcaption>তাসফিয়া তারাননুম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস</figcaption></figure><p><strong>তাসফিয়া তারাননুম, </strong>গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস</p><p>আগামী পাঁচ বছরে চাকরি, শিক্ষা ও কাজের ধরন অনেক বদলে যাবে। তাই শুধু একটি দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট নয়, সেটিকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি লেখালেখি, গবেষণা, গ্রাফিকস, দৃশ্যগত যোগাযোগ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা বাড়াতে চাই। পাশাপাশি গবেষণা, নতুন ধারণা তৈরি ও সৃজনশীল কাজে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার শেখার চেষ্টা করছি।</p><p>তবে এআইয়ের তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানুষের অভিজ্ঞতা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এআই ব্যবহার করতে পারা আর সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়। আমার লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি শেখা নয়; বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একজন দক্ষ লেখক, সাংবাদিক ও সৃজনশীল যোগাযোগকর্মী হয়ে ওঠা। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ই হবে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।</p><h3>গতকালও যে দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আজ তা অকেজো </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9oot7utf/Arafat-Nafiz.jpeg"><figcaption>আরাফাত নাফিজ, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>আরাফাত নাফিজ, </strong>লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা এআই। শিল্পবিপ্লবের চেয়ে এটি কোনো অংশে কম নয়। জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই প্রভাব ফেলছে, আর একে অগ্রাহ্য করে সামনে এগোনো এখন কঠিন। তাই এআই যথাযথভাবে শেখার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনের কাজ থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবখানেই এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছি।</p><p>এআইয়ের কারণে প্রচলিত দক্ষতাগুলো প্রায়ই বদলে যাচ্ছে। গতকালও যে দক্ষতা বেশ মূল্যবান ছিল, আজ তা অকেজো। তাই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা রপ্ত করার চেষ্টা করছি, আর সেই শেখার কাজেও ব্যবহার করছি এআই।</p><p>পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি করি বলে নতুন তথ্য থেকে শুরু করে পুরোনো গবেষণা খুঁজে পেতে এআই আমাকে সাহায্য করছে। এআই দিয়ে নিজেকে কীভাবে আরও পরিণত করা যায়, সেটি নিয়েও কাজ করছি। এআই এখন আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাঁ, এআই হয়তো অনেক পেশাকেই পুরোপুরি শেষ করে দেবে, তবে একই সঙ্গে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তাই পাঁচ বছর পর পৃথিবী ঠিক কোথায় দাঁড়াবে, তা বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী পাঁচ বছরে পৃথিবী এআইয়ের প্রভাবে বড়ভাবে বদলে যাবে।</p><h3>আমরা প্রত্যেকে এআই এজেন্টদের লিডার হয়ে উঠব </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/eiz96pr6/Srabon.jpeg"><figcaption>শ্রাবণ দেবনাথ, অ্যাকাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>শ্রাবণ দেবনাথ, </strong>অ্যাকাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এই দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে আমি প্রথমে এআই এজেন্ট ও এলএলএম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। এগুলো কীভাবে কাজ করে, কীভাবে সেরা ফলাফল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, সেটাই আমার ফোকাস। ব্যক্তিগতভাবে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শিখছি, কারণ ভালো প্রম্পট ও এআইয়ের কার্যপদ্ধতির স্পষ্ট ধারণা থাকলে আউটপুটও ভালো হয়। পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছি।</p><p>পড়াশোনায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও নোটবুকএলএম ব্যবহার করি। ক্লাসে বা নিজে পড়তে গিয়ে কিছু না বুঝলে, কিংবা ইউটিউবে ভিডিওতে ব্যাখ্যা না পেলে এআইয়ের সাহায্য নিই। প্রশ্ন বিশ্লেষণে নোটবুকএলএম, আর গভীর বিশ্লেষণধর্মী বিষয়ে ক্লড বেশ কাজের। গুজব ও ভুয়া খবরের এই সময়ে কোনো তথ্য অস্বাভাবিক মনে হলেও চ্যাটজিপিটি দিয়ে ফ্যাক্ট-চেক করে তবেই শেয়ার করি।</p><p>আমার মনে হয়, আগামী পাঁচ বছরে পুরো বিশ্ব এআইকে ঘিরেই আবর্তিত হবে। তখন প্রম্পটিং হবে বড় দক্ষতা, আর আমরা প্রত্যেকে এআই এজেন্টদের লিডার হয়ে উঠব। আমাদের কাজ হবে নির্দেশনা দেওয়া, সঠিক ডেটা বেছে নেওয়া এবং বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রতিটি পেশায় তাই বিচারক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের দক্ষতার চাহিদা থাকবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অপব্যবহার ঠেকানো এবং এর অপ্রত্যাশিত আচরণ কমানো।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৭ বছর বয়সী কিশোরের কোম্পানি মহাকাশের বড় সমস্যার সমাধান করেছে
১৭ বছর বয়সী কিশোরের কোম্পানি মহাকাশের বড় সমস্যার সমাধান করেছে

সম্প্রতি সে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ ‘ইডব্লিউওআর’-এ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সে এই ফেলোশিপের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছে

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে আইনজীবী সমিতির নোটিশ
রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে আইনজীবী সমিতির নোটিশ

<p>সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নথিতে দেখা গেছে, তিনি ২০০২ সাল থেকে এর সদস্য। তবে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওসি।</p><p> ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশ সূত্র জানায়, মনজুর কাদের ভূঁইয়া সরাইলে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজারে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়।</p><p>জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ২০০২ সালে সমিতির সদস্য হলেও ২০০৪ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আবেদন করেছি।’</p><p>ওসি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নোটিশ পেয়েছেন। সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আগে করা আবেদনটির অনুলিপিও তিনি সমিতিতে পাঠিয়েছেন।</p><p>চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির আইনজীবী সমিতির সদস্য থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ২০০২ সাল থেকে তিনি সদস্য। চাকরিতে থাকার পরও কেন আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ ছাড়েননি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে ২৬ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।</p><p>সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন প্রসঙ্গে মো. মঈনুদ্দীন বলেন, স্থগিতের আবেদন করলে সদস্যপদ থাকার কথা নয়। সদস্যপদ আছে বলেই নোটিশ করা হয়েছে।</p><p>মো. মঈনুদ্দীন বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখার বিষয়টি সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও যাঁরা সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।</p><p>সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত না থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিচ্ছেদ ৩-এর ৭(১) বিধি অনুযায়ী, আইন বিষয়ে শিক্ষকতা ও কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন। অন্যথা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষ্ক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযোগ বাক্সে নাম-ঠিকানাসহ তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/mup8ipfs/WhatsApp-Image-2026-10-30-at-6.40.29-PM.jpeg"><figcaption>সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া</figcaption></figure><h3>সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ওসির মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা </h3><p>২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় সরাইল থানার ওসির কক্ষে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটি ৫৭ সেকেন্ডের এবং অন্যটি ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের।</p><p>ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশের চেয়ারে বসে আছেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে আছেন। সংসদ সদস্য, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি—এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওসির বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/laqweup99a">সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল</a></aside><p>একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের পুলিশ সুপারকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি সাড়া দেননি।</p><p>পরে কথোপকথনের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে, আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যার ঘটনায় ডিবি হেফাজতে আরও দুজন
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যার ঘটনায় ডিবি হেফাজতে আরও দুজন

গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।