<p>প্রয়োজনীয় সব দক্ষতাই ‘সিলেবাসে’ থাকবে কিংবা শিক্ষক সব হাতে ধরিয়ে শিখিয়ে দেবেন, সেই আশায় বসে থাকলে আর চলছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগেই ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে হবে। এআই–নির্ভর পৃথিবীতে এ কথা এখন আরও বেশি সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন <strong>আমিনা মুমতারিন</strong></p><h3>ইউটিউবে বিভিন্ন ফ্রি কোর্স পাওয়া যায় </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/1kmxh178/Shahrin-Islam.jpeg"><figcaption>শাহ্রিন ইসলাম, ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>শাহ্রিন ইসলাম</strong>, ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এআইয়ের যুগে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া মানে প্রযুক্তির সঙ্গে নিজের জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলা। তাই এআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়; বরং বন্ধুত্ব করে কৌশলে তাকে কাজে লাগাতে চাই। এআই কিছু চাকরির জন্য হুমকি হলেও মানুষের মতো যুক্তিনির্ভর চিন্তা করতে পারে না। এ কারণে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শেখার পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে ইউটিউবে এখন বিভিন্ন ফ্রি কোর্স সহজেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি নোটবুকএলএম, পারপ্লেক্সিটি ও জেস্টোরের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষণার দক্ষতাও বাড়াচ্ছি। কারণ, এআই তথ্য দিতে পারলেও কোনটি প্রয়োজনীয়, তা বোঝে না এবং সব সময় নির্ভুল তথ্যও দেয় না। তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা যাচাইয়ে মানুষের নিজস্ব জ্ঞান ও বিচারবোধ অপরিহার্য।</p><p>আমার ধারণা, পাঁচ বছর পর যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি এআইভিত্তিক দক্ষতাও আবশ্যক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ঘটতে পারে। কারণ, এই ক্ষেত্র মানুষের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার ওপর বেশি নির্ভরশীল। সর্বোপরি আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা প্রযুক্তি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করি, তার ওপর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/78n4a8vmes">ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে প্রথম অনিক এখন কোথায়</a></aside><h3>এআইকে কনটেন্ট তৈরির কাজে লাগাচ্ছি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/l575ggt2/Noor-Hossain.jpeg"><figcaption>নুর হোসাইন, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>নুর হোসাইন</strong>, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এআই–নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য আমি প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, গবেষণা ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এআইকে কাজে লাগিয়ে কনটেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও গল্প বলার নতুন পদ্ধতি শিখছি। চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই ব্যবহার করে সহজেই স্টোরিবোর্ড তৈরি ও প্রি–ভিজ্যুয়ালাইজেশন করতে পারছি, যা ফিল্ম স্টুডেন্ট হিসেবে আমার অনেক কাজে আসছে। পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্র উৎসবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ খুঁজছি।</p><p>আমার বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে এআই অনেক কাজ সহজ করবে, তবে মানুষের সৃজনশীলতা, নৈতিক বিচারবোধ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব থাকবে। তাই এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে একে নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।</p><h3>শুধু কোড লিখলে হবে না, সমস্যাকে গভীরভাবে বুঝতে হবে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/rmtp9m1r/Maisha-Mushtaq.jpeg"><figcaption>মাইশা মুশতাক, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি</figcaption></figure><p><strong>মাইশা মুশতাক</strong>, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি</p><p>সিএসইর শিক্ষার্থী হিসেবে বুঝতে পারি, শুধু একাডেমিক শিক্ষা অর্জনই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রযুক্তির দুনিয়ায় এআই ইতিমধ্যে যে পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে আরও যা আনবে, তা আমরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছি। তাই প্রোগ্রামিং শেখার পাশাপাশি সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। একই সঙ্গে টিমওয়ার্ক, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। এ কারণে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছি, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষতা শাণিত করার চেষ্টা করছি। এআই টুল ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি শেখা, কোড বোঝা ও সমস্যার সমাধান খোঁজার অভ্যাসও গড়ে তুলছি।</p><p>আগামী পাঁচ বছরে এআই কর্মক্ষেত্রের চিত্র অনেকটাই বদলে দেবে। এই পরিবর্তনের মধ্যে টিকে থাকতে হলে শুধু কোড লেখা নয়; বরং সমস্যাকে গভীরভাবে বোঝা, এআইয়ের দেওয়া উত্তর যাচাই করা এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাও জরুরি হবে। তাই এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এর সঙ্গে কাজ করতে শেখা এবং নিজের চিন্তাশক্তি কাজে লাগানোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>এআই ব্যবহার ও সঠিকভাবে ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য আছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/jkny5tv4/Tasfia-Tarannum.jpeg"><figcaption>তাসফিয়া তারাননুম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস</figcaption></figure><p><strong>তাসফিয়া তারাননুম, </strong>গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস</p><p>আগামী পাঁচ বছরে চাকরি, শিক্ষা ও কাজের ধরন অনেক বদলে যাবে। তাই শুধু একটি দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট নয়, সেটিকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি লেখালেখি, গবেষণা, গ্রাফিকস, দৃশ্যগত যোগাযোগ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা বাড়াতে চাই। পাশাপাশি গবেষণা, নতুন ধারণা তৈরি ও সৃজনশীল কাজে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার শেখার চেষ্টা করছি।</p><p>তবে এআইয়ের তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানুষের অভিজ্ঞতা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এআই ব্যবহার করতে পারা আর সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়। আমার লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি শেখা নয়; বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একজন দক্ষ লেখক, সাংবাদিক ও সৃজনশীল যোগাযোগকর্মী হয়ে ওঠা। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ই হবে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।</p><h3>গতকালও যে দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আজ তা অকেজো </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9oot7utf/Arafat-Nafiz.jpeg"><figcaption>আরাফাত নাফিজ, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>আরাফাত নাফিজ, </strong>লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা এআই। শিল্পবিপ্লবের চেয়ে এটি কোনো অংশে কম নয়। জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই প্রভাব ফেলছে, আর একে অগ্রাহ্য করে সামনে এগোনো এখন কঠিন। তাই এআই যথাযথভাবে শেখার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনের কাজ থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবখানেই এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছি।</p><p>এআইয়ের কারণে প্রচলিত দক্ষতাগুলো প্রায়ই বদলে যাচ্ছে। গতকালও যে দক্ষতা বেশ মূল্যবান ছিল, আজ তা অকেজো। তাই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা রপ্ত করার চেষ্টা করছি, আর সেই শেখার কাজেও ব্যবহার করছি এআই।</p><p>পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি করি বলে নতুন তথ্য থেকে শুরু করে পুরোনো গবেষণা খুঁজে পেতে এআই আমাকে সাহায্য করছে। এআই দিয়ে নিজেকে কীভাবে আরও পরিণত করা যায়, সেটি নিয়েও কাজ করছি। এআই এখন আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাঁ, এআই হয়তো অনেক পেশাকেই পুরোপুরি শেষ করে দেবে, তবে একই সঙ্গে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তাই পাঁচ বছর পর পৃথিবী ঠিক কোথায় দাঁড়াবে, তা বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী পাঁচ বছরে পৃথিবী এআইয়ের প্রভাবে বড়ভাবে বদলে যাবে।</p><h3>আমরা প্রত্যেকে এআই এজেন্টদের লিডার হয়ে উঠব </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/eiz96pr6/Srabon.jpeg"><figcaption>শ্রাবণ দেবনাথ, অ্যাকাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><p><strong>শ্রাবণ দেবনাথ, </strong>অ্যাকাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়</p><p>এই দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে আমি প্রথমে এআই এজেন্ট ও এলএলএম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। এগুলো কীভাবে কাজ করে, কীভাবে সেরা ফলাফল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, সেটাই আমার ফোকাস। ব্যক্তিগতভাবে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শিখছি, কারণ ভালো প্রম্পট ও এআইয়ের কার্যপদ্ধতির স্পষ্ট ধারণা থাকলে আউটপুটও ভালো হয়। পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছি।</p><p>পড়াশোনায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও নোটবুকএলএম ব্যবহার করি। ক্লাসে বা নিজে পড়তে গিয়ে কিছু না বুঝলে, কিংবা ইউটিউবে ভিডিওতে ব্যাখ্যা না পেলে এআইয়ের সাহায্য নিই। প্রশ্ন বিশ্লেষণে নোটবুকএলএম, আর গভীর বিশ্লেষণধর্মী বিষয়ে ক্লড বেশ কাজের। গুজব ও ভুয়া খবরের এই সময়ে কোনো তথ্য অস্বাভাবিক মনে হলেও চ্যাটজিপিটি দিয়ে ফ্যাক্ট-চেক করে তবেই শেয়ার করি।</p><p>আমার মনে হয়, আগামী পাঁচ বছরে পুরো বিশ্ব এআইকে ঘিরেই আবর্তিত হবে। তখন প্রম্পটিং হবে বড় দক্ষতা, আর আমরা প্রত্যেকে এআই এজেন্টদের লিডার হয়ে উঠব। আমাদের কাজ হবে নির্দেশনা দেওয়া, সঠিক ডেটা বেছে নেওয়া এবং বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রতিটি পেশায় তাই বিচারক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের দক্ষতার চাহিদা থাকবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অপব্যবহার ঠেকানো এবং এর অপ্রত্যাশিত আচরণ কমানো।</p>
সম্প্রতি সে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ ‘ইডব্লিউওআর’-এ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সে এই ফেলোশিপের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছে
<p>সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নথিতে দেখা গেছে, তিনি ২০০২ সাল থেকে এর সদস্য। তবে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ওসি।</p><p> ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাগ্বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশ সূত্র জানায়, মনজুর কাদের ভূঁইয়া সরাইলে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজারে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়।</p><p>জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ২০০২ সালে সমিতির সদস্য হলেও ২০০৪ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আবেদন করেছি।’</p><p>ওসি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নোটিশ পেয়েছেন। সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আগে করা আবেদনটির অনুলিপিও তিনি সমিতিতে পাঠিয়েছেন।</p><p>চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির আইনজীবী সমিতির সদস্য থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ২০০২ সাল থেকে তিনি সদস্য। চাকরিতে থাকার পরও কেন আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ ছাড়েননি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে ২৬ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।</p><p>সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন প্রসঙ্গে মো. মঈনুদ্দীন বলেন, স্থগিতের আবেদন করলে সদস্যপদ থাকার কথা নয়। সদস্যপদ আছে বলেই নোটিশ করা হয়েছে।</p><p>মো. মঈনুদ্দীন বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখার বিষয়টি সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও যাঁরা সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।</p><p>সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত না থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিচ্ছেদ ৩-এর ৭(১) বিধি অনুযায়ী, আইন বিষয়ে শিক্ষকতা ও কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন। অন্যথা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষ্ক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযোগ বাক্সে নাম-ঠিকানাসহ তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/mup8ipfs/WhatsApp-Image-2026-10-30-at-6.40.29-PM.jpeg"><figcaption>সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া</figcaption></figure><h3>সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ওসির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা </h3><p>২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় সরাইল থানার ওসির কক্ষে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটি ৫৭ সেকেন্ডের এবং অন্যটি ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের।</p><p>ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশের চেয়ারে বসে আছেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে আছেন। সংসদ সদস্য, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি—এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওসির বাগ্বিতণ্ডা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/laqweup99a">সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল</a></aside><p>একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের পুলিশ সুপারকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি সাড়া দেননি।</p><p>পরে কথোপকথনের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে, আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’</p>
গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
<p>নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট এবং আরব দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।</p><p> নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে। কাতার ও তুরস্ক থেকে এই দলগুলো কোনো অবৈধ তহবিল পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইত।</p><p> কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।</p><p> নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এটা স্পষ্ট—নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষ পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সব সমীকরণ পাল্টে গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে দুটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং রাআম রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।</p><p>নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এমন ফলাফলে আরব দল দুটি এখন সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।</p><p>নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের তদন্ত করতে শিন বেইতকে অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রধান। এরপর বৃহস্পতিবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ তোলে যে আরব দলগুলোকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে।</p><p>দুটি আরব দলই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের জোট জয়েন্ট লিস্ট এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।</p><p>নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। কারণ, বর্তমানে আরবদের সমর্থনই বিরোধী জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/4voim5wq/Eisenkot.jfif"><figcaption> ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের তেল আবিবে দলটির সদর দপ্তরে বক্তব্য দেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে একটি অভিযোগ আসে যে আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।</p><p>নেতানিয়াহু এবং তাঁর দল লিকুদ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি—কট্টর ডানপন্থী সরকারকে হটাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।</p><p>তবে শিন বেইত পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই তদন্ত বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।</p><p>তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।</p><p>জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী মিথ্যা অপবাদ তৈরি করছে এবং নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে।</p><p>নেতানিয়াহু কয়েক দিন ধরে আরব ভোটার ও দলগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ডানপন্থীদের জন্য চরম জরুরি অবস্থা এবং এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আরব ভোটারদের ছবিও প্রকাশ করেন।</p><p>ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক–পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাঁদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।</p><p>বহুবছর ধরে অনেক আরব ভোটাররা ইসরায়েলের নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল—ভোট দিলে এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া হয়, যেখানে তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তাঁরা বিপুলসংখ্যক ভোট দিয়েছেন।</p>
কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ বিরোধীদের জন্য ইহুদি-আরব সহযোগিতা। কিন্তু সেটিই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় বাধা।
<p>বাংলাদেশে কারাবন্দী পাঁচ সাংবাদিকের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বন্দী দিবস উপলক্ষে এশিয়ায় কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে বাংলাদেশি পাঁচ সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেনি সিপিজে।</p><p> সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আমরা এশিয়ার আটটি দেশের কারাবন্দী সাংবাদিকদের পাশে আছি।’ এর মধ্যে চীনে ৫০, মিয়ানমারে ৩০, ভিয়েতনামে ১৬, কম্বোডিয়ায় ৫, বাংলাদেশে ৫, ভারতে ১, আফগানিস্তানে ১ এবং ফিলিপাইনে ১ জন সাংবাদিক কারাবন্দী আছেন।</p><p>এসব দেশের সরকারের প্রতি কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং তাঁদের সঙ্গে হওয়া নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব এ পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।</p><p>সিপিজের সর্বশেষ বার্ষিক কারাগার জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩০০ জনের বেশি সাংবাদিক কারাগারে ছিলেন। টানা পঞ্চম বছরের মতো কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিস্তার এবং সশস্ত্র সংঘাত বেড়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।</p><p>জরিপে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি কারাগারে রেখেছে চীন। ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক বন্দী ছিলেন। ৩০ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার। ২০২৪ সালে দেশটি ছিল তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে ২৯ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে ইসরায়েল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/spm76dmdi1">৪ সাংবাদিকের মুক্তি চেয়ে আইনমন্ত্রীকে সিপিজের চিঠি</a></aside><p>এ ছাড়া ২৪ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আজারবাইজান। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম দেশটি তালিকায় উঠল। আগের বছরের তুলনায় দেশটিতে কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রাশিয়া, বেলারুশ, মিসর ও ইরিত্রিয়ায় কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মতোই রয়েছে।</p><p>সবচেয়ে বেশি সাংবাদিককে কারাগারে রাখা দেশগুলোর একটি ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করতে শুরু করে। তাঁদের অনেককে কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আবার কাউকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই নির্বিচার আটক রাখা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।</p><p>ইসরায়েলের নাগরিকেরা বিস্তৃত নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করলেও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার মান সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ১১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে।</p><p>কারাগারে সাংবাদিকদের অনেক সময় নিষ্ঠুর ও জীবননাশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা হয়। মুক্তি পাওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দী কারাগারের সেই পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন ‘জীবিত মানুষের কবরস্থান’-এর সঙ্গে। অনেক সাংবাদিককে বছরের পর বছর এসব ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।</p><p>সিপিজের ২০২৫ সালের জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাংবাদিকদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাঁচ বছরের বেশি সাজা ভোগ করছেন। প্রায় অর্ধেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তাঁদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সাজা ছাড়াই কারাগারে আছেন। যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে আন্তর্জাতিক আইনে। এ ধরনের আটক সেই আইনের লঙ্ঘন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/xx57ri4ui3">নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার অঙ্গীকার চায় সিপিজে</a></aside>
নির্বাচনে আগে থেকে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/maliker-mrritzur-proo-haspatal-chareni-morg-8-bchr-dhre-opeksha</figure>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।