সাংবাদিক ও আইনজীবীদের কাজে পুলিশি হস্তক্ষেপ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ১১ ও ১২ অক্টোবরের নির্ধারিত বিজি ৩৩৯ ও বিজি ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
আজ রোববার দুপুরে সাজেক থেকে ছেড়ে আসা গাড়িবহর উজুবাজারে এবং খাগড়াছড়ি শহর থেকে রওনা দেওয়া সাজেকগামী গাড়িগুলো মাচালং বাজারে আটকে পড়ে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস বিশেষ কর্মসূচি ও প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
<p>ইলেকট্রন কি সত্যিই গোল? প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের মতো অতি খুদে কণাদের নিয়ে কাজ করে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। অদ্ভুত সেই জগতে বিন্দুসম একটি কণা আবার গোল হয় কী করে? </p><p>সুকুমার রায়ের বিড়াল হুট করে ‘ম্যাও’ বলে ডেকে উঠেছিল। রুমাল কি কখনো ম্যাও করে ডাকতে পারে? বাস্তবে এটা অসম্ভব। কিন্তু ননসেন্স গদ্যে সবই সম্ভব। আচ্ছা, বিজ্ঞানেও কি এমন ননসেন্স ব্যাপার ঘটতে পারে? তা না হলে শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল একই সঙ্গে জীবিত ও মৃত থাকে কী করে!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-29/fv9y730n/Electron_3.jpg"><figcaption>পদার্থবিজ্ঞানী আরউইন শ্রোডিঙ্গার </figcaption></figure><p>সুকুমার রায় ছিলেন লেখক। কিন্তু আরউইন শ্রোডিঙ্গার তো পুরোদস্তুর পদার্থবিজ্ঞানী! তিনি কেন এমন আজগুবি বিড়ালের কথা বলতে গেলেন? আসলে শ্রোডিঙ্গারের আর কোনো উপায় ছিল না, ইলেকট্রনের অদ্ভুত আচরণই তাঁকে এমন এক অদ্ভুত বিড়ালের জন্ম দিতে বাধ্য করেছিল। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় বিড়াল হলো এই শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল। অথচ বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই নেই!</p><p>আমাদের মূল প্রশ্ন ছিল, ইলেকট্রন কি একসঙ্গে একাধিক জায়গায় থাকতে পারে? তাহলে এখানে বিড়াল এল কোত্থেকে? আসল কথায় ফেরা যাক। বিজ্ঞানীরা ও জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকেরা এটা লিখতে ভালোবাসেন। কিন্তু কথাটা কি আসলেই সত্যি? নাকি শুধুই মিথ? </p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4axl9hpdnl">ইলেকট্রন কি মার্বেলের মতো গোলাকার</a></aside><blockquote>শ্রোডিঙ্গারের আর কোনো উপায় ছিল না, ইলেকট্রনের অদ্ভুত আচরণই তাঁকে এমন এক অদ্ভুত বিড়ালের জন্ম দিতে বাধ্য করেছিল। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় বিড়াল হলো এই শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল।</blockquote><p>এর উত্তরও কিন্তু শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালের মতোই অদ্ভুত! শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল একই সঙ্গে জীবিত ও মৃত। তাই আমাদের মূল কথাটা একই সঙ্গে সত্যি, আবার মিথও। আমি নিজেই শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল নামে একটা বই লিখেছি। তাতে বলেছি, ইলেকট্রন একই সঙ্গে একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরাও এ কথা বলেন। কিন্তু এটা আসলে একটা মিথ বা প্রচলিত ভুল ধারণা। তবে এই মিথ এতটাই শক্তিশালী যে একে আপনি সহজে ছেঁটে ফেলতে পারবেন না। ইলেকট্রনের অদ্ভুত চরিত্র বোঝাতে এই গল্প আপনাকে করতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো, খোদ বিজ্ঞানীরাও যে কথা বলেন, সেটাকে মিথ বলছি কেন?</p><p>কারণ, কোয়ান্টামের জগৎটাই এমন। এর তত্ত্বগুলো অদ্ভুত সব কথা বলে, আবার পরীক্ষাগারে সেগুলোর প্রমাণও মেলে! এ সবকিছুর মূলে রয়েছে ওই বিড়াল এবং সুপারপজিশন নামের একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-04/paho0s8n/2.jpg"><figcaption>বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ</figcaption></figure><p>গত শতাব্দীর বিশের দশকে কোয়ান্টাম কণাদের জন্য একটি ওয়েভ ফাংশন দাঁড় করান শ্রোডিঙ্গার। উদ্দেশ্য ছিল ইলেকট্রনের মতো কোয়ান্টাম কণাদের গতিপ্রকৃতি ব্যাখ্যা করা। ঠিক একই সময়ে জার্মান বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ তাঁর অনিশ্চয়তা নীতি তুলে ধরেন। এই নীতি অনুযায়ী, আপনি যদি ইলেকট্রনের অবস্থান নিখুঁতভাবে জানতে চান, তবে এর গতিবেগ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই অনিশ্চয়তার ঘোর কীভাবে কাটানো যায়, তার পথই বাতলে দিয়েছিল শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণ। প্রশ্নটা ছিল খুব সাধারণ। ইলেকট্রনের গতিবেগ ও অবস্থান যদি এতটাই অনিশ্চিত হয়, তাহলে পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন ঠিক কোথায় থাকে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/znp6yti2mr">ইলেকট্রন কি লাটিমের মতো ঘোরে</a></aside><blockquote>গত শতাব্দীর বিশের দশকে কোয়ান্টাম কণাদের জন্য একটি ওয়েভ ফাংশন দাঁড় করান শ্রোডিঙ্গার। উদ্দেশ্য ছিল ইলেকট্রনের মতো কোয়ান্টাম কণাদের গতিপ্রকৃতি ব্যাখ্যা করা।</blockquote><p>নীলস বোর আগেই দেখিয়েছিলেন, ইলেকট্রন কেবল নির্দিষ্ট কিছু কক্ষপথেই থাকতে পারে। কিন্তু অনিশ্চয়তা নীতি আসার পর শুধু এই উত্তরে কাজ হচ্ছিল না। তাই উত্তরটিকে আরও বিস্তারিত করেন শ্রোডিঙ্গার। তিনি বলেন, ইলেকট্রন কক্ষপথে মেঘের মতো ছড়িয়ে থাকে। কিসের মেঘ? এমন মেঘ, যার জন্য জলীয় বাষ্পের দরকার নেই। মূলত ইলেকট্রনের অবস্থানের অনিশ্চয়তাই এই মেঘ তৈরি করে। সহজ কথায়, শক্তিস্তরের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রন স্থির থাকে না; বরং প্রতিটি বিন্দুতেই তাকে পাওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ বলা চলে, ইলেকট্রন প্রতিটি বিন্দুতে একই সঙ্গে অবস্থান করে। একেই বলে ইলেকট্রন মেঘ। তাহলে কি ইলেকট্রন সত্যিই একই সঙ্গে একাধিক বিন্দুতে থাকতে পারে?</p><p>অনিশ্চয়তা নীতি বলে, ইলেকট্রনের প্রতিটি ধর্মই অনিশ্চিত। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি এই অনিশ্চিত ধর্মগুলোকেই নিশ্চিত করে ফেলতে পারবেন! আপনি যখন ইলেকট্রনকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে দেখতে চাইবেন, তখন তাকে সেই বিন্দুতেই পাবেন। এ ঘটনা কেন ও কীভাবে ঘটে, তার ব্যাখ্যা দেয় শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ ফাংশন। আপনি যখন নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রনকে পর্যবেক্ষণ করতে চাইবেন, তখন এর তরঙ্গ ফাংশন ভেঙে পড়বে। ফলে সুপারপজিশনও ভেঙে পড়বে। তখন ওই নির্দিষ্ট বিন্দুতেই আপনি ইলেকট্রনকে কণা হিসেবে খুঁজে পাবেন। অন্য সব বিন্দুতে ইলেকট্রনের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/inou1qffca">ইলেকট্রন কি কক্ষপথে ঘোরে</a></aside><blockquote>সহজ কথায়, শক্তিস্তরের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রন স্থির থাকে না; বরং প্রতিটি বিন্দুতেই তাকে পাওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ বলা চলে, ইলেকট্রন প্রতিটি বিন্দুতে একই সঙ্গে অবস্থান করে।</blockquote><h2>২</h2><p>সুপারপজিশন জিনিসটা আসলে কী? এতক্ষণ সুপারপজিশন নিয়ে অনেক কথা হলো। আলোচনা হলো অনিশ্চয়তা নীতি ও তরঙ্গ ফাংশন নিয়েও। কোয়ান্টাম কণাদের আচরণ আসলেই বিচিত্র। এদের প্রতিটি আচরণ ও ধর্মের জন্যই এই কোয়ান্টামের অদ্ভুত তত্ত্বগুলো ঘুরেফিরে আসে। সুপারপজিশনের কথাই ধরুন। ইলেকট্রনের অবস্থান ও ভরবেগ নিয়ে অনিশ্চয়তার শুরু হয়েছিল। এই নীতি অনুসারে, কণাটি আসলে তরঙ্গ নাকি কণা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। এখানেই আসে সুপারপজিশন। অর্থাৎ ইলেকট্রনকে আপনি কণা হিসেবে দেখতে চাইলে কণা হিসেবেই পাবেন। আবার তরঙ্গ হিসেবে দেখতে চাইলে সেভাবেই পাবেন। কিন্তু যখনই আপনি কোনো একটা নির্দিষ্ট ধর্ম পর্যবেক্ষণ করবেন, তখনই ইলেকট্রনের তরঙ্গ ফাংশন ও সুপারপজিশন ভেঙে পড়বে। শুধু একটি ধর্মই নিশ্চিতভাবে ধরা দেবে, অন্যগুলো আড়ালে চলে যাবে। সুপারপজিশনের এই অদ্ভুত ধারণার কিন্তু অকাট্য প্রমাণও আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/cm6csbxc/Untitled_2.png"><figcaption>লুই দ্য ব্রগলি ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে ইলেকট্রনও একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গ হতে পারে</figcaption></figure><p>সপ্তদশ শতকে ডাচ বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস প্রথম বলেছিলেন, আলো আসলে একটি তরঙ্গ। এর প্রায় ২০০ বছর পর টমাস ইয়ং একটি দারুণ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন, আলো সত্যিই তরঙ্গ। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই পরীক্ষা ইয়ংয়ের দ্বি–চির পরীক্ষা বা ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্ট নামে পরিচিত। তবে আলোর তরঙ্গের পাশাপাশি কণা ধর্মও রয়েছে। ১৯০০ সালে এই ধারণার ওপর ভর করেই জন্ম হয়েছিল কোয়ান্টাম বলবিদ্যার। আরও পরে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই দ্য ব্রগলি দেখান, ভর আছে এমন বস্তুকণাদেরও তরঙ্গ ধর্ম থাকে। অর্থাৎ আলোর কণা ফোটনের মতো ইলেকট্রনও একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গ হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/dqk42mhiqc">পরমাণুতে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে কেন</a></aside><blockquote>সপ্তদশ শতকে ডাচ বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস প্রথম বলেছিলেন, আলো আসলে একটি তরঙ্গ। এর প্রায় ২০০ বছর পর টমাস ইয়ং একটি দারুণ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন, আলো সত্যিই তরঙ্গ।</blockquote><p>তাহলে কি ইয়ংয়ের ওই পরীক্ষা ইলেকট্রনের জন্যও করা সম্ভব? ইয়ংয়ের দ্বি–চির পরীক্ষায় একটি দেয়ালের গায়ে পাশাপাশি দুটি সরু ছিদ্র তৈরি করা হয়। ছিদ্র দুটির সামনে ঠিক সমান দূরত্বে একটি আলোর উৎস রাখা হয়। দেয়ালের ওপাশে থাকে একটি পর্দা, যাতে ছিদ্র দিয়ে আসা আলো সেখানে গিয়ে পড়তে পারে। আলো যদি শুধুই কণা হতো, তবে তা দুটি ছিদ্র দিয়ে সোজাসুজি গিয়ে পর্দায় আঘাত করত। পর্দায় কেবল দুটি আলোকিত বিন্দু দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। দুই ছিদ্র দিয়ে যাওয়া আলো পর্দায় মিলেমিশে তৈরি করে বিশেষ নকশা। একে ব্যতিচার নকশা বলে। পুকুরের পানিতে পাশাপাশি দুটি ঢেউ তৈরি হলে তারা মিলে গিয়ে যেমন নকশা বানায়, ঠিক তেমন। একমাত্র তরঙ্গের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব।</p><p>এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইয়ং প্রমাণ করেছিলেন, আলো আসলে তরঙ্গ। প্রায় দেড় শ বছর পর ১৯৬১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ক্লাউস জনসন পরীক্ষাটি আবার করেন। তবে এবার আলো নয়, ইলেকট্রন দিয়ে! </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/rsxipw6z/prothomalo_bangla_2022_09_8c57a0e9_b14d_4e7a_842b_35e64d223c3b_Electron.avif"><figcaption>ইলেকট্রন একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গের সুপারপজিশনে থাকে</figcaption></figure><p>এই পরীক্ষায় দেখা যায়, আলোর মতোই ইলেকট্রনও তরঙ্গের মতো আচরণ করে দুই ছিদ্র দিয়ে গলে যায়। আর ওপাশের পর্দায় তৈরি করে ব্যতিচার নকশা।</p><p>ইলেকট্রন যে একটি কণা, তা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। এই পরীক্ষার পর এর তরঙ্গ ধর্ম নিয়েও আর কোনো সংশয় রইল না। অর্থাৎ ইলেকট্রন একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গের সুপারপজিশনে থাকে। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি ও শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ ফাংশন ভেঙে পড়ার বিষয়টিও এই পরীক্ষা থেকেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/v1ahfesib4">রহস্যময় ইলেকট্রন, ইলেকট্রনের রহস্য</a></aside><blockquote>দ্বি–চির পরীক্ষার মাধ্যমে ইয়ং প্রমাণ করেছিলেন, আলো আসলে তরঙ্গ। প্রায় দেড় শ বছর পর ১৯৬১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ক্লাউস জনসন পরীক্ষাটি আবার করেন। তবে এবার আলো নয়, ইলেকট্রন দিয়ে!</blockquote><p>কীভাবে? ধরা যাক, আপনি কয়েক শ ইলেকট্রনকে একসঙ্গে দুটি ছিদ্রের দিকে ছুড়ে মারলেন। ইলেকট্রনগুলো দুই ছিদ্র দিয়েই প্রবেশ করবে এবং ওপাশের পর্দায় আলোর মতোই ব্যতিচার নকশা তৈরি করবে। ইলেকট্রন যদি কেবল কণা হতো, তবে ছিদ্র বরাবর সোজাসুজি গিয়ে পর্দায় মাত্র দুটি দাগ ফেলত। ইলেকট্রন আসলে তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করছে বলেই এমন সুন্দর নকশা পাওয়া যাচ্ছে।</p><p>অর্থাৎ দুই ছিদ্রের এই পরীক্ষাব্যবস্থা সাজানোই হয়েছে তরঙ্গ চরিত্র দেখার জন্য। আপনি যখন পরীক্ষাটি এভাবে সাজাচ্ছেন, তখন ইলেকট্রন আপনার কাছে তরঙ্গ হিসেবেই ধরা দিচ্ছে। এর মানে হলো, ইলেকট্রনের কণা ধর্মের ফাংশনটি ভেঙে পড়ছে। সুপারপজিশন ভেঙে গিয়ে শুধু তরঙ্গ ধর্মটিই নিশ্চিত হচ্ছে।</p><p>কথা হচ্ছে, এই পরীক্ষায় তো অনেকগুলো ইলেকট্রন একসঙ্গে ব্যবহার করা হলো। এর বদলে যদি একটিমাত্র ইলেকট্রন ছুড়ে দেওয়া হয়, তখন কী হবে? বিজ্ঞানীরা সেটাও পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাঁরা একটিমাত্র ইলেকট্রনকে দুটি ছিদ্রের মাঝবরাবর ছুড়ে দেন। ইলেকট্রনটি ওপাশের পর্দায় গিয়ে আঘাত করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ওই একটিমাত্র ইলেকট্রনও পর্দায় ব্যতিচার নকশা তৈরি করেছে!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/vrupz8d4sf">ইলেকট্রন কি অমর</a></aside><blockquote>ইলেকট্রন যদি কেবল কণা হতো, তবে ছিদ্র বরাবর সোজাসুজি গিয়ে পর্দায় মাত্র দুটি দাগ ফেলত। ইলেকট্রন আসলে তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করছে বলেই এমন সুন্দর নকশা পাওয়া যাচ্ছে।</blockquote><p>কিন্তু সমস্যা হলো, ব্যতিচার নকশা তৈরি করতে অন্তত দুটি তরঙ্গের মিলন দরকার। একটিমাত্র ইলেকট্রন কীভাবে একা একা এই নকশা তৈরি করল? এটি শুধু তখনই সম্ভব হবে, যদি ওই একটি ইলেকট্রন একই সময়ে একসঙ্গে দুটি ছিদ্র দিয়েই ওপারে যায়! অর্থাৎ এই পরীক্ষায় প্রমাণ হচ্ছে ইলেকট্রন একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় থাকতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/5nktnswl/Untitled_3.png"></figure><p>বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন। তাঁরা একটি ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে দেখলেন, ইলেকট্রন তখন ওই খোলা ছিদ্রটি দিয়ে ঢুকে পর্দায় কেবল একটি বিন্দুর মতোই ছাপ ফেলছে। অর্থাৎ ইলেকট্রন তখন পুরোপুরি কণার মতো আচরণ করছে। যখনই আপনি ইলেকট্রনকে কণা হিসেবে দেখার জন্য পরীক্ষাব্যবস্থা সাজালেন, তখন তার তরঙ্গ ফাংশন ও সুপারপজিশন ভেঙে গেল। সে আপনার কাছে কণা হিসেবেই ধরা দিল। এ ক্ষেত্রে আপনি ইলেকট্রনকে একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতেই অবস্থান করতে দেখবেন। অর্থাৎ তরঙ্গ ফাংশন ও সুপারপজিশন ভেঙে যায় বলে এ অবস্থায় ইলেকট্রন শুধু একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতেই অবস্থান করে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/1o23mhrz3t">ইলেকট্রন আসলে কী এবং কেন</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন। তাঁরা একটি ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে দেখলেন, ইলেকট্রন তখন ওই খোলা ছিদ্রটি দিয়ে ঢুকে পর্দায় কেবল একটি বিন্দুর মতোই ছাপ ফেলছে।</blockquote><h2>৩</h2><p>তাহলে ইলেকট্রন কি আসলেই একই সময়ে দুটি আলাদা জায়গায় থাকতে পারে?</p><p>এককথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, ইলেকট্রন দেখতে আমাদের পরিচিত জগতের কোনো মার্বেল বা বলের মতো নয়। কোয়ান্টাম জগতে কণাদের সংজ্ঞাই আলাদা। মহাবিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বলক্ষেত্রের একেকটি নির্দিষ্ট স্পন্দনই আমাদের কাছে একেকটি কণা হিসেবে প্রকাশ পায়।</p><p>আসলে কোয়ান্টাম জগৎ দাঁড়িয়ে আছে কিছু জটিল গাণিতিক ভিত্তির ওপর। আমাদের সাধারণ জগতের অভিজ্ঞতা দিয়ে এই জগৎ পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা কঠিন। এখানে ওয়েভ ফাংশন নামের গাণিতিক ধারণাটিই মূল জাদুকর। কণারা ইচ্ছা করে ভুতুড়ে আচরণ করে, তা নয়; তাদের প্রকৃতিটাই অমন। একই কণা একই সময়ে একাধিক জায়গায় থাকতে পারে—কথাটি শুনতে রোমাঞ্চকর লাগলেও বাস্তবে ব্যাপারটি ঠিক এমন নয়। বিজ্ঞানীরা হিসাবের সুবিধার্থে বা সুপারপজিশন বোঝানোর খাতিরে এমনটা বললেন। কোয়ান্টামের এই ব্যাপার আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা না করাই ভালো। এটি একধরনের বিমূর্ত গাণিতিক ধারণা। তাই একে কোয়ান্টাম জগতের অন্যতম বড় মিথ বলা যায়।</p><h4>লেখক: সাংবাদিক</h4><h4>সূত্র: কোয়ান্টা ম্যাগাজিন</h4><h4>*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/hdi44le03i">কোনো পরমাণুতে ইলেকট্রন না থাকলে কি হবে?</a></aside>
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন নিয়ে থানার ফটকে অবস্থান ও হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (রিপন) বিরুদ্ধে। আজ রোববার রুহিয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রশ্ন হলো, ভুল হয় কেন? তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ভুলের দায় কার এবং তার খরচ কে বহন করবে?
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিয়াদগামী যাত্রীদের বিড়ম্বনা নিয়ে ছবির গল্প।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে গত শুক্রবার শুরু হয় তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী। আজ রোববার প্রদর্শনীর শেষ দিন।
সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সেখানে কার্যক্রম স্থগিত করায় রোববার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সাতটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার পত্রিকাগুলোয় দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং গ্রেফতারের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের খবরে গুরুত্ব পেয়েছে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি, নারিকেল চারা আমদানিতে অনিয়ম,নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এ ছাড়া সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
একেকটি ছোট দল আসে, স্লোগান তোলে বা প্ল্যাকার্ড বের করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায় - এটাই ছিল সকাল থেকে দিল্লির ছবি। এই ছবিই সকাল থেকে দেখা গেল যন্তর মন্তরে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ নেতা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক প্যানেল মেয়র ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে চিঠির আবেগ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চিঠি উৎসব’।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ কয়েকজন হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাড়ি ফেরার পর ‘এক্স’ -এ দেওয়া এক পোস্টে রাঠি বলেন, আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভার থানায় দায়ের করা মো. হৃদয় হত্যা মামলায় এনামুর রহমানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তার জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, আবেদনের প্রক্রিয়া ও স্কলারশিপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দুই মাসব্যাপী সেমিনার সিরিজ শুরু হয়েছে।
পটুয়াখালীতে মা ইলিশ রক্ষার বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নদ-নদীতে জাল ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাল ফেলার সময় অভিযান চালিয়ে ৮ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে ওই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।