পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

Rss feed news

রোদের ক্যানভাসে আদিম মনস্তত্ত্ব
রোদের ক্যানভাসে আদিম মনস্তত্ত্ব

<p>মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ছিল ‘হাওয়া’। চলচ্চিত্রটি সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মতো দর্শকহৃদয়ে আছড়ে পড়েছিল। এই দর্শক আসলে কারা? উত্তরটা সহজ—যাঁরা মুখিয়ে থাকেন ভালো সিনেমার জন্য। বাংলাদেশে এমন একটি দর্শকশ্রেণি তৈরি হয়েছে, যাঁরা ভিন্নমাত্রার চলচ্চিত্রের আশায় অপেক্ষা করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে বাঁকবদলের চমৎকার সম্ভাবনা উঁকি দিলে তাঁরা নিজে থেকেই সাড়া দেন। মিথ, রহস্য, প্রকৃতি, জীবননির্ভর জটিল মনস্তত্ত্ব সব সময়ই মানুষকে টানে। সেসব দৃশ্য রূপকের আড়ালে প্রকাশ করলে মানুষ গ্রহণ তো করেই, উপরন্তু সিনেমার ইতিহাসে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। তবে ‘হাওয়া’র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন যেন দীর্ঘদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যান। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নীরবতার প্রহর কাটিয়ে তিনি ফিরে আসেন তাঁর দ্বিতীয় নির্মাণ ‘রইদ’ নিয়ে।</p><p> ‘রইদ’ আঁকড়ে ধরেছে তপ্ত মাটির ওপর বেঁচে থাকার প্রাগৈতিহাসিক লড়াইকে, আর ‘হাওয়া’র গল্প গড়ে উঠেছিল সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়া আর মানবীয় সংশয় ঘিরে। তপ্ত রোদে মাটির বুকে লেপ্টে থাকা রুক্ষ জীবনের এই গল্প মানুষের আদিম বাসনার নির্মোহ রূপক। সরাসরি চলচ্চিত্রটি দেখা, আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত নানা বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, ‘রইদ’ হচ্ছে সমাজের প্রচলিত মোহযুক্ত বিশ্বাস ও মেকি প্রথা ভাঙার দৃশ্যমান শিল্প। সাজানো সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আদিম মনস্তত্ত্ব, প্রকৃতিবিরুদ্ধতা। সিনেমাটি মানুষের আদিম প্রবৃত্তি, ক্ষুধা ও প্রকৃতির সার্বভৌমত্বের এক পৌরাণিক রূপক হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার আড়ালে এখানে রয়েছে একটি কালোত্তীর্ণ ক্যানভাস।</p><p>‘রইদ’ সিনেমায় ‘অ্যাডাম’ ও ‘ইভ’-এর আদি পাপ, লিবিডো কামনা ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তালের রূপকে, যা গন্ধমের স্থলাভিষিক্ত বলে ভাবা যেতে পারে। নামহীন নারী চরিত্রটির প্রতীকে অঙ্কিত হয়েছে প্রথার শৃঙ্খল ভাঙার প্রচেষ্টা। পাগলবেশে এ নারী যেন এক অনিয়ন্ত্রিত বন্য প্রকৃতি। নায়ক হিসেবে রাখাল সাধু প্রথাগত সমাজের ভয়ভীতি ও দাসত্বের রূপক। ভীতিপ্রদ সমাজ তাকে দিনের পর দিন বন্দী করে রেখেছে, সাধু সেই ক্রূর ব্যবস্থারই নিঃশব্দ শিকার।</p><blockquote>‘রইদ’ সিনেমায় ‘অ্যাডাম’ ও ‘ইভ’-এর আদি পাপ, লিবিডো কামনা ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তালের রূপকে, যা গন্ধমের স্থলাভিষিক্ত বলে ভাবা যেতে পারে। নামহীন নারী চরিত্রটির প্রতীকে অঙ্কিত হয়েছে প্রথার শৃঙ্খল ভাঙার প্রচেষ্টা। পাগলবেশে এ নারী যেন এক অনিয়ন্ত্রিত বন্য প্রকৃতি। নায়ক হিসেবে রাখাল সাধু প্রথাগত সমাজের ভয়ভীতি ও দাসত্বের রূপক। ভীতিপ্রদ সমাজ তাকে দিনের পর দিন বন্দী করে রেখেছে, সাধু সেই ক্রূর ব্যবস্থারই নিঃশব্দ শিকার।</blockquote><p>সিনেমাটিতে স্পষ্ট কোনো খলনায়কের উপস্থিতি নেই। প্রকৃতিকে সব সময় জয় করা যায় না, আবার প্রকৃতিবিরুদ্ধতা দিয়েও মানুষের প্রার্থিত ফল আসে না, এমনকি মানুষ নিজেই নিজের বন্ধু কিংবা শত্রু—এই সব দর্শনে অভিষিক্ত হয়েছে ‘রইদ’–এর গল্প। পাগলির পেটের সন্তান নিয়ে নায়ক চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। সন্তানটিতে হত্যা করতে চায়। একসময় পাগলি নিজেই হারিয়ে যায়, অথবা মৃত্যুবরণ করে। গর্ভবতী ছাগলের প্রতীকে সে যেন সাধুর মধ্যে নতুন চৈতন্য জাগ্রত করে। সেই সদ্য সন্তানপ্রসবা ছাগলটিকে সাধু হত্যা করে। তারপর তার সব মাংস গোগ্রাসে খেয়ে ফেলে। সে কি তার হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে নিজের ভেতরে ধারণ করতে চায়? বর্তমান সমাজে ‘ক্যানিবালিজম’ প্রথা জাগ্রত হয় কি? কুলসুম নামের পাগলির প্রিয় ছাগলটাই যেন সাধুর আত্মায় ভর করে। অন্যদিকে পুরুষতন্ত্র জীবন বা সৃষ্টিশীলতাকে সম্মান জানায় না। বলাবাহুল্য, মন্দ সিস্টেমে বন্দী ব্যক্তিরা অপরকে সম্মান জানাতে অপারগ হয়। এটাই হয়তোবা তাদের নিয়তি। শুভত্ব ও সম্ভাবনার সবকিছু পায়ে পিষে নারী কেবলই ‘পণ্য’ বা ভোগপণ্যে পরিণত হয়। প্রখর রোদ ও অবিরাম বৃষ্টির প্রাকৃতিক বৈপরীত্য দেখা যায় সিনেমায়। মানবাত্মার ভেতরে চলতে থাকা নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, ক্ষয়, কামনা, ভয়—‘রইদে’ সবকিছুই যেন বিশ্বস্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।</p><p>‘রইদ’ সিনেমার গল্পটা ওপর থেকে দেখলে অতিসাধারণ এক গ্রামীণ জীবনের আখ্যান মনে হতে পারে। কিন্তু এর পরতের পর পরত অত্যন্ত জটিল ও মেটাফোরিক বা রূপকনির্ভর। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক সহজ-সরল, পিতৃহীন-মাতৃহীন রাখাল বালক—সাধু (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান)। সে সমাজের এক বিত্তবান গৃহস্থের বাড়িতে কাজ করে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের মেঠো পথে গরুর পাল চড়ায়, মাছের খাবার দেয়। এই সাধুর জীবনেও থাকে স্বপ্ন, ঘর বাঁধার অভিপ্রায়। অনিশ্চিত সামাজিক অবস্থান সত্ত্বেও তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার কমতি নেই। যদিও অযাচিত সন্তান মেরে ফেলে কেবল বউকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা সে পোষণ করে। অথচ সন্তানটি সমগ্র পৃথিবীর, তার তো একার নয়। তবে সেই ধারণা সাধু একা তৈরি করেনি, পুরো সমাজই তার আয়োজক। এভাবে গড়ে ওঠে সমাজশৃঙ্খল, বিশ্বাস ও সংস্কারের বেড়াজাল তথা খণ্ডিত নীতিবোধ।</p><p>সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত, উন্মাদ নারীকে (নাজিফা তুষি) সাধু বিয়ে করে নিয়ে এলে সাধুর জীবনের গল্পটাও যেন নতুন মোড় নেয়। সিনেমার পুরো ক্যানভাস জুড়ে অনামা নারী চরিত্রটি পুরো গ্রামবাসীর কাছে ‘সাধুর বউ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সাধু নিজেও তার নাম জানে না, জানারও প্রয়োজন বোধ করেনি। তার পরিচয়ের যেন দরকার ছিল না; কেবল অন্যের জিজ্ঞাসার উত্তর দিতেই নামটির প্রয়োজন হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-11/pylyrvg6/7683923464647061255580842808188394628583097n.jpg"><figcaption>‘রইদ’–এর শুটিংয়ে নাজিফা তুষি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে </figcaption></figure><p>কাহিনির প্রারম্ভেই সাধু বিয়ে করে গরুর গাড়িতে ঘরে ফেরে। বাচ্চা ছেলেরা তাদের পিছু নেয়, পাগলি বলে নতুন বউকে খেপায়, বউটিও যাচ্ছেতাই বকাবকি করে। প্রথম দৃশ্য থেকেই সিনেমাটি যেন তার চিরাচরিত ট্রাজেক্টোরি বা গতিপথ বদলে ফেলে। সাধুর বউ কোনো প্রথাগত লাজুক গ্রামীণ কনে নয়; তার আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে মনোবিকারজনিত উগ্রতা, অবাধ্য বন্যতা এবং সামাজিক নিয়মের প্রতি চরম অবজ্ঞা। সে বাচ্চাদের গালাগাল তো করেই, গায়ে থুতু মারে, ভরা মজলিসে কুকুর নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলে, জুতা হারানোর আশঙ্কায় প্রথাগত সামাজিক শিষ্টাচারকে তুচ্ছ করে, এমনকি টিভিতে হিন্দি গানের দৃশ্য দেখে জনসমক্ষে নাচে।</p><p>‘রইদ’ সিনেমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘সময়হীনতা’। পুরো চলচ্চিত্রে কোনো আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, ঘড়ি কিংবা সমসাময়িক সামাজিক অনুষঙ্গ রাখা হয়নি। মেজবাউর রহমান সুমন খুব সচেতনভাবেই এই গল্পকে সময়ের নির্দিষ্ট বন্ধন থেকে মুক্ত করেছেন। ফলে দৃশ্যপট রূপ নিয়েছে আদিম মানবসভ্যতার ক্যানভাসে। আব্রাহামিক মিথের অ্যাডাম ও ইভের সেই আদি পাপ, ক্ষুধা, কাম, বেঁচে থাকার আদিম লড়াই এবং প্রথাবন্দী হওয়ার মনস্তত্ত্ব এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে প্রখর রোদ, অন্যদিকে অবিরাম বৃষ্টি—প্রকৃতির চরম আবহাওয়ার এই বৈপরীত্য যেন মানুষের নিভৃত লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।</p><p>‘রইদ’ চলচ্চিত্রে গ্রামবাংলার সাধারণ সমাজকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিষ্ঠুর রূপকের মাধ্যমে। সমাজে নারীকে কীভাবে দেখা হয়? তাদের বহুমাত্রিক রূপ—একটি মানবিক ও সৃষ্টিকর্তার অনন্য রূপ, আরেকটি ব্যবহার্য পণ্য বা উৎপাদনযন্ত্র। এই দ্বিধারিক রূপকের উপস্থাপন সিনেমাটির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। একটি গর্ভবতী ছাগল বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে অসম্ভব যন্ত্রণা সহ্য করে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে—মর্মান্তিক দৃশ্যটি সাংঘাতিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে, জীবনের এই স্পন্দন সৃষ্টি করার মুহূর্তে ছাগলটির জীবন রক্ষা করা কিংবা তার কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করাই হতো স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু সেই দৃশ্যে রাখাল সাধু অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ওই মৃত্যুপথযাত্রী ছাগলটিকে জবাই করে তার মাংস খাওয়ার জন্য উদ্যত। সাধুর কাছে ছাগলটি জীবনের প্রতীক নয়, তা কেবলই একটি ‘পণ্য’ বা আর্থিক সম্পদ; নতুবা তা মানুষের ভেতরের সেই আদিম ও বন্য ক্ষুধা উদ্যাপনেরই অন্তঃসার। তবে এ ঘটনা চলচ্চিত্রের একটি অসাধারণ মেটাফোর। আমাদের গ্রামীণ বা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ঠিক একইভাবে নারীদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করে। তাদের আবেগ, মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও হৃদয়কে উপেক্ষা করে কেবল ‘উপকরণ’ বা ‘পণ্য’ হিসেবে রূপান্তর করে। সাধুর বউয়ের সামাজিক উন্মাদনা কিংবা অসংলগ্ন আচরণ আসলে ওই অবরুদ্ধ ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার অবচেতন মনের বন্য প্রতিবাদ।</p><blockquote>সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত, উন্মাদ নারীকে (নাজিফা তুষি) সাধু বিয়ে করে নিয়ে এলে সাধুর জীবনের গল্পটাও যেন নতুন মোড় নেয়। সিনেমার পুরো ক্যানভাস জুড়ে অনামা নারী চরিত্রটি পুরো গ্রামবাসীর কাছে ‘সাধুর বউ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সাধু নিজেও তার নাম জানে না, জানারও প্রয়োজন বোধ করেনি। তার পরিচয়ের যেন দরকার ছিল না; কেবল অন্যের জিজ্ঞাসার উত্তর দিতেই নামটির প্রয়োজন হয়।</blockquote><p>শুধু গল্প ও নির্মাণে নয়, ক্ষুরধার অভিনয়েও ‘রইদ’ বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। প্রধান দুটি চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি যেভাবে চরিত্রকে যাপন করেছেন এবং নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে ‘গুলতি’ চরিত্রে নাজিফা তুষি যে চমক দেখিয়েছিলেন, ‘রইদ’-এ তিনি তাকে বহু যোজন পেছনে ফেলে গেছেন। সাধুর বউ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন তিনি। কেবল সাজসজ্জার পরিবর্তন নয়; চরিত্রের মনস্তত্ত্বকে রক্তে-মাংসে ধারণ করার প্রয়াস রেখেছেন। ত্বকে গ্রামের কড়া রোদের তামাটে পোড়া ছাপ, উষ্কখুষ্ক চুল, আর কৃত্রিম দাঁতের প্রলেপ দিয়ে মুখের শারীরিক গঠন পর্যন্ত বদলে ফেলেছেন। তুষির চোখমুখের তীব্র বন্যতা, উন্মাদের মতো চাহনি, খামখেয়ালি আর সামাজিক অবজ্ঞা—এসবই দর্শকদের অভূতপূর্ব অস্বস্তি ও ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয়।</p><p>বাংলা চলচ্চিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান (সাধু) সব সময়ই এক স্বকীয়, অথচ অনালোচিত প্রতিভার নাম। ‘রইদ’-এ তিনি একজন অসহায়, প্রথাতাড়িত অথচ অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত মানুষ। রাখালের চরিত্রে ও পাগলির স্বামী হিসেবে তিনি অভাবনীয় পারফর্ম করেছেন। সমাজের কাছে তিনি নিঃস্ব, বিত্তবানের দয়ায় বেঁচে থাকা এক চরিত্র; আবার ঘরের ভেতরে নিজের ওই উগ্র স্ত্রীর বন্য আচরণের সামনে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ইমরানের শারীরিক ভাষা, ভয়ার্ত দৃষ্টি ও সংলাপের প্রখর অভিব্যক্তি সিনেমাটিকে অন্য রকম করে তুলেছে।</p><p>এ ছাড়া পার্শ্বচরিত্রের অন্যান্য অভিনেতাও গ্রামীণ জীবনের সেই রুক্ষ ও মেকি প্রথার প্রতিচ্ছবি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।</p><p>মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মাণশৈলী স্বতন্ত্র। দৃশ্য-নির্মাণে তিনি কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেন না। পারিপার্শ্বিক আবহকে তিনি এমনভাবে কাজে লাগান, যা নিজেই একটি আলাদা চরিত্র হয়ে ওঠে। ‘রইদ’-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সিনেমায় নীরবতা ও ‘এনভায়রনমেন্টাল সাউন্ড’-এর কাজ অবিশ্বাস্য রকমের নিখুঁত। শুকনা পাতায় মচমচ শব্দ, প্রখর রোদে খড়খড় করতে থাকা মাটির শব্দ, কাদার ছপছপ শব্দ, কিংবা গরুর গাড়ির চাকার ঘষা খাওয়ার আওয়াজ—এসবই নেপথ্য বাদ্যযন্ত্রের চেয়ে বেশি নাটকীয়তা তৈরি করেছে। বাস্তুভিটায় মানুষ, পশুপাখি ও প্রকৃতি—সবকিছুই যেন এক নিবিড় সহাবস্থানে একাকার। সজীব রঞ্জন বিশ্বাস ও রশীদ শরীফ শোয়েবের আবহসংগীত গল্পকে অতিনাটকীয় না করে দৃশ্যের মনস্তাত্ত্বিক চাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গল্পের গতি এখানে ধীর, কিন্তু দৃশ্যগুলোর অন্তর্নিহিত উত্তেজনা দর্শকদের প্রতিমুহূর্তে অদৃশ্য থ্রিলের মধ্যে আটকে রাখে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-11/bk0ptr1c/76579690146470611855808492040463158050420543n.jpg"><figcaption>‘রইদ’–এর শুটিংয়ে নাজিফা তুষি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে </figcaption></figure><p>জোয়াহের মুসাব্বিরের ক্যানভাস ও ক্যামেরা সঞ্চালন ‘রইদ’ সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই চলচ্চিত্রের মূল চালিকা শক্তিই হলো এর ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ বা দৃশ্যভাষা। সিনেমাটোগ্রাফির প্রধান চার অনুষঙ্গ—প্রাকৃতিক আলো, ফ্রেম ও স্কেলের খেলা, সূক্ষ্ম টেক্সচারধর্মী ক্লোজআপ ও ক্যামেরার ছন্দময় সঞ্চালন—‘রইদ’–এ পেয়েছে অসাধারণ নান্দনিক রূপ।</p><p>সিনেমাটি তার শিরোনামের সার্থকতা বজায় রেখেছে। অর্থাৎ আলো এখানে কেবল দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলেনি, গল্পের মানসিক আবহ তৈরি করেছে। বলা ভালো, আলো নিজেই এই গল্পের কেন্দ্রীয় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রে কৃত্রিম আলোর বদলে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে প্রাকৃতিক সূর্যরশ্মি। কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা এবং সিলেটের নানা দুর্গম গ্রামীণ প্রান্তরে রোদের যে খড়খড়ে, তপ্ত ও পোড়া ভাব তা ক্যামেরায় অসাধারণভাবে ধরা পড়েছে। সকালের নরম আলো থেকে দুপুরের প্রখর রোদের উত্তাপ এবং বিকেলের হেলে পড়া ছায়া—সবকিছুকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যারেক্টার মুডের সঙ্গে মেলানো হয়েছে।</p><p>সিনেমার ফ্রেম নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোয়াহের মুসাব্বির প্রকৃতি ও মানুষের অনুপাতকে দুর্দান্তভাবে ব্যবহার করেছেন। বিশাল জনমানবহীন টিলা, খাঁ খাঁ করা প্রান্তর কিংবা গভীর বনের পরিবেশে মানুষকে ধারণ করা হয়েছে। মানুষের ক্ষুদ্রত্ব ও অসহায়ত্বকে ফ্রেমের এক কোণে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ফ্রেম স্ট্রাকচার স্পষ্ট করে—প্রকৃতির বিশালতা ও আদিমতার সামনে মানুষের অহংকার ও সামাজিক পরিচয় কতটা তুচ্ছ।</p><p>ক্যামেরার লেন্সের কাজে টেক্সচার বা উপাদানের রূপকে দারুণ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোদে শুকিয়ে চৌচির হওয়া মাটি, মানুষের ঘাম, তামাটে চামড়া, প্যাচপ্যাচে ভেজা কাদা, চোখের ভেতরে উন্মত্ত আলো-ছায়ার খেলা—এসবের ‘এক্সট্রিম ক্লোজআপ শটগুলো’ পর্দায় অতিজীবন্ত। দর্শক তাদের শরীর ও মন একাকার করে রোদের উত্তাপ ও মাটির গন্ধ অনুভব করতে পারেন।</p><p>সিনেমায় ক্যামেরার মুভমেন্ট অত্যন্ত শান্ত, ধীর ও স্থির। অনর্থক জুম বা দ্রুত প্যানিং এড়িয়ে দৃশ্যকে স্বাভাবিকভাবে এগোতে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সিঙ্গেল শটগুলোর কারণে দৃশ্যের আবহ একটানা বজায় থাকে। দর্শকেরা বিচ্ছিন্ন না হয়ে নিমেষেই সেই উত্তপ্ত গ্রামীণ পরিবেশে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাঁরা সরাসরি সেই গ্রামের তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যে যেন নিজেরাই আটকা পড়ে যান। ক্যামেরার প্রতিটি অ্যাঙ্গেল একেকটি স্থিরচিত্র বা পেইন্টিংয়ের মতো সুবিন্যস্ত।</p><blockquote>বাংলা চলচ্চিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান (সাধু) সব সময়ই এক স্বকীয়, অথচ অনালোচিত প্রতিভার নাম। ‘রইদ’-এ তিনি একজন অসহায়, প্রথাতাড়িত অথচ অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত মানুষ। রাখালের চরিত্রে ও পাগলির স্বামী হিসেবে তিনি অভাবনীয় পারফর্ম করেছেন। সমাজের কাছে তিনি নিঃস্ব, বিত্তবানের দয়ায় বেঁচে থাকা এক চরিত্র; আবার ঘরের ভেতরে নিজের ওই উগ্র স্ত্রীর বন্য আচরণের সামনে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ইমরানের শারীরিক ভাষা, ভয়ার্ত দৃষ্টি ও সংলাপের প্রখর অভিব্যক্তি সিনেমাটিকে অন্য রকম করে তুলেছে।</blockquote><p>কোনো শিল্পই আসলে শতভাগ ত্রুটিহীন হয় না। ‘রইদ’-ও এর ব্যতিক্রম নয়। মেজবাউর রহমান সুমন রূপক ও প্রতীকের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের মেটান্যারেটিভ বা মহা-আখ্যানকে নানাভাবে চ্যালেঞ্জ করেন। ‘রইদ’-এ প্রতীকের প্রাচুর্য এতই বেশি যে সাধারণ দর্শক কেবল দৃশ্য দেখে গল্পের মূল অনুভূতির সঙ্গে তাৎক্ষণিক সংযোগ ঘটাতে বা মেলাতে অসুবিধা বোধ করতে পারেন। রূপকের অতিরিক্ত ভার অনেক সময় স্বভাবজাত আবেগপ্রবাহকে ব্যাহত করে। অনেক সময় প্রান্তিক পরিবেশে সংলাপ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্থানিক ও স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততার চেয়ে মাঝেমধ্যে অতিদার্শনিকতা ফুটে উঠেছে। বাস্তব জীবনের রুক্ষতার বিপরীতে কিছু দৃশ্য অতিপরিকল্পিত বা থিয়েটারধর্মী মনে হতে পারে। সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বকারী পার্শ্বচরিত্রগুলোর (যেমন লুৎফর রহমান জর্জ বা সমরের চরিত্র) বিকাশ তুলনামূলকভাবে একরৈখিক বলে মনে হয়েছে।</p><p>তবে ‘রইদ’ যেন ধুলাবালু, রোদ আর মাটির খুব কাছাকাছি। এটি হয়ে উঠেছে সাধুর হাতে জ্বলন্ত পোড়াকাঠের মতো নির্মোহ মানবিক উপাখ্যান। চিরাচরিত রুপালি পর্দার মিষ্টি প্রেমের গল্প বা নাটকীয় সংঘর্ষের সিনেমা নয় ‘রইদ’। আদিম বাসনা, সমাজের মেকি মুখোশ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অমোঘ নিয়তির লড়াই এতে সূচিত। সিনেমার সমাপ্তি যেন ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’-এর ব্যঞ্জনামুখর। ‘শো’ শেষে দর্শকের মনের মধ্যে থাকে ঝুড়িভরা প্রশ্ন এবং তীব্র কিছু খটকা। ফলে দর্শক কেবল শিল্পে আকণ্ঠ নিমজ্জিত বা বুঁদ হয়ে থাকেন না; বরং তাঁদের ভেতরেও আলাদা ব্যাখ্যা ও অনুভবের অবকাশ তৈরি হয়। পরিচালক সম্ভবত দর্শককে ক্ষণিকের মোহাচ্ছন্নতায় আটকে রাখতে চাননি; চেয়েছেন আত্মবিশ্লেষণের দুয়ার খুলে দিয়ে সৃজনশীল চিন্তার প্রদীপটি নিরন্তর জ্বালিয়ে রাখতে।</p><p>সিনেমার শেষ দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে দর্শক যেন কোনো এক প্রাগৈতিহাসিক কাহিনির পুনর্জন্ম হতে দেখেন। তাঁরা নিজেদের ভেতরের সেই আদিম ও প্রশ্নবিদ্ধ মানবসত্তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান। অসাধারণ কাস্টিং, নিখুঁত শব্দ পরিকল্পনা ও জোয়াহের মুসাব্বিরের অবিস্মরণীয় সিনেমাটোগ্রাফির সৌজন্যে ‘রইদ’ বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক ক্যানভাসে আরেকটি নতুন, সাহসী ও বৈপ্লবিক অধ্যায়ে উন্নীত করেছে বলা যায়। চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুখ্যাতি অর্জন করুক এবং বাংলাদেশে এমন চিন্তার খোরাক জোগানো সিনেমা নির্মাণের ধারা অব্যাহত থাকুক—এই প্রত্যাশায় আজকের মতো এখানেই ইতি টানছি।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার নিন্দা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার
রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার নিন্দা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার

গতকাল শনিবার ওই হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
দুর্গাপূজায় দেশীয়র নতুন কালেকশন, শাড়ি কেনাকাটায় ছাড়ের সঙ্গে লুডু খেলেও মিলবে ডিসকাউন্ট
দুর্গাপূজায় দেশীয়র নতুন কালেকশন, শাড়ি কেনাকাটায় ছাড়ের সঙ্গে লুডু খেলেও মিলবে ডিসকাউন্ট

দুর্গাপূজার সাজে চাই রঙের উৎসব, পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য আর নিজস্ব স্টাইলের ছোঁয়া। উৎসবের এই আয়োজনকে সামনে রেখে দেশীয়র অনলাইন ফেসবুক পেজ ও শোরুম সেজেছে নারীদের জন্য নানা নকশা ও রঙের পোশাকে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
আমিরাতে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন জাহেদ, হঠাৎ আগুনে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে প্রাণ গেল
আমিরাতে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন জাহেদ, হঠাৎ আগুনে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে প্রাণ গেল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সন্ধ্যায় সারা দিনের খবর
সন্ধ্যায় সারা দিনের খবর

<p>শুভসন্ধ্যা। আজ রোববার। রাজনীতি, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, ক্রীড়া, বিনোদনসহ আলোচিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিনভর প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নানা খবর। এর অনেকগুলোই হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। সন্ধ্যার অবসরে চোখ বুলিয়ে নিন সারা দিন প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত আলোচিত পাঁচ খবরে:</p><h3>‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয় এক কোটি টাকায়</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/auifhygh/Salman_3.jpg"><figcaption>গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা হয়। হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়</figcaption></figure><p>রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা দিয়ে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয়। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে প্রকল্পে হামলা করেন। হামলায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়েছিল। <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/q4q5qaybek">বিস্তারিত পড়ুন... </a><br></p><h3>সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে, হবে নতুন সড়ক</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/pexlfbj9/fair-fielddipu1711.jpg"><figcaption>সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে</figcaption></figure><p>রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়ের ভেতরে আর কোনো নতুন ভবন হবে না। সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে শেরেবাংলা নগরে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক সভায় গত বুধবার সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/dp32pf374j">বিস্তারিত পড়ুন... </a><br></p><h3>পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/cue7eki8/Shehbaz-Sharif-chairs.jpg"><figcaption>মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ১১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। আজ রোববার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। <a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/o0kovpa9iu">বিস্তারিত পড়ুন... </a><br></p><h3>ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/x0g0bery/d1050117-ac8f-4aa6-acbd-7a1fca0bc11d.jpg"><figcaption>আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও চাচাতো বোন জায়েন মারি খান</figcaption></figure><p>ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও চাচাতো বোন জায়েন মারি খান। মুক্তির পর আটকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। <a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/i6g6sa36tz">বিস্তারিত পড়ুন... </a></p><h3>রোনালদোকে নভেম্বরেই দলে ফেরাতে চান পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/vai03kx1/2026-10-09T173506Z1100100099UP1EMA91CUHHFRTRMADP3SOCCER-SAUDI-NSR-DRA.JPG"><figcaption>ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন আল নাসরে ব্যস্ত</figcaption></figure><p>ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। তবে নিষেধাজ্ঞা কত দিনের বা কত ম্যাচের, তা জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। <a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/53vmw5fdjz">বিস্তারিত পড়ুন... </a></p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ২ বাংলাদেশি নিহত
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ২ বাংলাদেশি নিহত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ২ বাংলাদেশি নিহত

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছোটবেলায় ফিট থাকা শিশুরা বড় হয়ে বিষণ্নতায় কম ভোগে, নতুন গবেষণা
ছোটবেলায় ফিট থাকা শিশুরা বড় হয়ে বিষণ্নতায় কম ভোগে, নতুন গবেষণা

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ছোটবেলায় দৌড়ঝাঁপ ও খেলাধুলা করে, তারা বড় হয়ে মধ্যবয়স পর্যন্ত ভালো মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারে

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ইংরেজি শিক্ষায় নতুন ভাবনার খোঁজ
ইংরেজি শিক্ষায় নতুন ভাবনার খোঁজ

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/r9ncaax8/DH07682026100948A8125.jpg"><figcaption>৯ অক্টোবর ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউল্যাব–টেসল বিডি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ইএসপি সম্মেলন ২০২৬</figcaption></figure><p>কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি। অথচ বিদেশে কাজ করতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্যেই চোস্ত ইংরেজি শিখে ফেলেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। অন্যদিকে ১২ থেকে ১৬ বছর পাঠ্যক্রমে ইংরেজি থাকার পরও আমাদের অনেক স্নাতক সাহস করে ইংরেজি বলতে পারেন না। ইন্টারভিউ ও অফিসে ইংরেজি বলতে ভয় পান। ই–মেইল লিখতেও দ্বিধায় পড়েন। তাহলে ইংরেজি শেখার সাফল্য কি শুধু পরীক্ষার ফলাফলে, নাকি বাস্তব জীবনে ভাষাটি ব্যবহার করতে পারার মধ্যেও? </p><p>এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই ৯ অক্টোবর ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউল্যাব–টেসল বিডি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ইএসপি সম্মেলন ২০২৬। ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ ও টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করে। সহযোগী হিসেবে ছিল প্রথম আলো।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/7thidrgltf">খাবার নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে তান্‌হা পেয়েছেন জার্মানির নিমন্ত্রণ</a></aside><p>এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্রম মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম: রিস্ট্রাকচারিং ইনস্টিটিউশনাল ইএসপি ফর সাসটেইনেবল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’। অর্থাৎ নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য ইংরেজি শিক্ষা বা ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাসেসকে (ইএসপি) শিক্ষাব্যবস্থার প্রান্তিক বিষয় হিসেবে না দেখে মূলধারায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।</p><p>ইএসপির ধারণাটা সহজ। সবার জন্য একই ধরনের ইংরেজি শেখানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, পেশা কিংবা কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষা শেখানো। একজন গণমাধ্যমকর্মীর সংবাদ লেখা ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, একজন প্রকৌশলী, আইনজীবী বা ব্যাংকারের চাহিদা তাঁর চেয়ে আলাদা। তাই শুধু ব্যাকরণ ও শব্দভান্ডার শেখানো নয়, কোন পরিস্থিতিতে ভাষাটি ব্যবহার করতে হবে, সেটিও শিক্ষার অংশ হওয়া দরকার।</p><p>সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শুধু ভাষা জানলেই কর্মজীবনে সফল হওয়া যায় না। ব্যবসা, প্রকৌশল, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান ও বোঝার সক্ষমতাও প্রয়োজন।</p><p>ইউল্যাবের উপাচার্য সামসাদ মর্তূজার বক্তব্যেও উঠে আসে শেখা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যকার ব্যবধান। তাঁর ভাষায়, ‘১২ বছর স্কুলের শিক্ষা শেষ করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের যদি আবার প্রাথমিক পর্যায়ের ইংরেজি শেখাতে হয়, তাহলে তা জাতীয়ভাবে লজ্জার বিষয়। আমাদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা কেন শিক্ষার্থীদের অনুচ্ছেদ বা রচনা লেখার মতো বিষয় শেখাব? শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষার জন্য অনেক টাকা টিউশন ফি দেয়। অথচ তারা কী শিখতে চায়, আর বাস্তবে তাদের কী শেখানো হচ্ছে—এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/pp798y3c/DH076820261009UV7117.jpg"><figcaption>সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ</figcaption></figure><p>এই ব্যবধান কমাতে শিক্ষকদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন সামসাদ মর্তূজা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে ইংরেজি শিক্ষাকে পেশাগত জগতের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।</p><p>ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গ তোলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম, আমার জীবনে একটা আফসোস আছে, আমি ইংরেজিতে দুর্বল। আবার জন্ম নিলে আমি ইংরেজি শিখব। এই সাক্ষাৎকার পড়ে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন, আরেকবার জন্ম নিতে হবে না। এখন থেকেই শিখতে শুরু করো। আমার বুয়েটের বন্ধুরা যাঁরা বিদেশে আছেন, তাঁরা বলেন বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা স্মার্ট। কিন্তু তাঁরা পিছিয়ে পড়েন শুধু নিজেকে ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারেন না বলে।’ আনিসুল হকের মতে, ইংরেজি শেখার পাশাপাশি তা ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস অর্জনও জরুরি।</p><p>সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিয়েলি ইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক। গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমার অভিজ্ঞতায় এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। যুক্তরাজ্যেও আমরা এমন শিক্ষার্থী পাই, যাঁদের আইইএলটিএস স্কোর ৬ দশমিক ৫, কিন্তু বাস্তবে ইংরেজি ব্যবহারের দক্ষতা সেই মানের নয়। জাপানের মতো দেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্ব নিতে হয়। আমার মতে, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্ত হওয়া উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজের পরিচালক ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফাহিম হাসান। সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ও আলোচনার ফলাফল কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে ইউল্যাবের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।</p><p>ব্যাংক, আইন, প্রকৌশল, শিক্ষকতা ও এনজিও খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে ইংরেজি শিক্ষার সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাগত ই–মেইল লেখা, প্রতিবেদন তৈরি, উপস্থাপনা ও ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব উঠে আসে।</p><p>সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনা, কর্মশালা, ঘটনাভিত্তিক বিশ্লেষণেরও আয়োজন ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ রাইহান এম শরীফ ইংরেজি চর্চার বাস্তব সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তাঁর মতে, পডকাস্ট, ভিডিও ও চলচ্চিত্রের মতো উপকরণ শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারের অনুশীলনে সহায়তা করতে পারে।</p><p>সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পেশার চাহিদা অনুযায়ী ইংরেজি শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এআইকে আত্মোন্নয়ন ও ভাষাচর্চার সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।</p><p>সম্মেলনটির সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ম্যানেজিং পার্টনার ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বাংলাদেশের কর্মবাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ১১, ২০২৬
কে এই নিদাল হাসান, যার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
কে এই নিদাল হাসান, যার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
বিবিসি বাংলার ৮৫ বছর: রেডিও থেকে স্মার্টফোনের পর্দায় বিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা
বিবিসি বাংলার ৮৫ বছর: রেডিও থেকে স্মার্টফোনের পর্দায় বিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা

গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
'ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার', জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প
'ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার', জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
পত্রিকা: 'রাতে একা চলতে ভয় পুলিশের'
পত্রিকা: 'রাতে একা চলতে ভয় পুলিশের'

আজ রোববার ঢাকার পত্রিকাগুলোয় দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং গ্রেফতারের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের খবরে গুরুত্ব পেয়েছে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি, নারিকেল চারা আমদানিতে অনিয়ম,নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এ ছাড়া সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
দিল্লির 'দুর্গে' বিক্ষোভকারী দেখলেই আটক, 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তর' হতেই দিল না পুলিশ,আটক অন্তত তিন হাজার
দিল্লির 'দুর্গে' বিক্ষোভকারী দেখলেই আটক, 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তর' হতেই দিল না পুলিশ,আটক অন্তত তিন হাজার

একেকটি ছোট দল আসে, স্লোগান তোলে বা প্ল্যাকার্ড বের করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায় - এটাই ছিল সকাল থেকে দিল্লির ছবি। এই ছবিই সকাল থেকে দেখা গেল যন্তর মন্তরে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে জবিতে ছয় দিনের ছুটি ঘোষণা
শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে জবিতে ছয় দিনের ছুটি ঘোষণা

শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছয় দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদির সব স্থানে হামলার হুমকি হুথিদের
মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদির সব স্থানে হামলার হুমকি হুথিদের

মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য স্থানে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। রবিবার হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই হুমকি দিয়েছেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
১৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প: ৯ বছরেও শেষ হয়নি জামালপুর হাই-টেক পার্কের অর্ধেক কাজ
১৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প: ৯ বছরেও শেষ হয়নি জামালপুর হাই-টেক পার্কের অর্ধেক কাজ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ভারত সরকারের অর্থায়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলেও গতি বাড়েনি। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
কেসিসির প্যানেল মেয়র টিপু গ্রেপ্তার 
কেসিসির প্যানেল মেয়র টিপু গ্রেপ্তার 

আওয়ামী লীগ নেতা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক প্যানেল মেয়র ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

অক্টোবর ১১, ২০২৬
চিঠির খামে অপ্রতিমের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি
চিঠির খামে অপ্রতিমের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে চিঠির আবেগ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চিঠি উৎসব’।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদি আরবে হামলার নিন্দা ধর্মমন্ত্রীর, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় তৎপর সরকার
সৌদি আরবে হামলার নিন্দা ধর্মমন্ত্রীর, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় তৎপর সরকার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ কয়েকজন হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল: ধ্রুব রাঠি
আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল: ধ্রুব রাঠি

বাড়ি ফেরার পর ‘এক্স’ -এ দেওয়া এক পোস্টে রাঠি বলেন, আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
পাঁচ মামলায় এনামুর রহমানের জামিন স্থগিত
পাঁচ মামলায় এনামুর রহমানের জামিন স্থগিত

একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভার থানায় দায়ের করা মো. হৃদয় হত্যা মামলায় এনামুর রহমানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তার জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬