খুলনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নির্দেশনা ফাঁস, তদন্তে কমিটি গঠন
মাজ সাদাকাতের বিধ্বংসী ৯৬ ও সাহিবজাদা ফারহানের ঝড়ো ৭৩ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২১৫ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব নেহা বোরা
রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দিয়েছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। সেই সঙ্গে গভর্নরের শাসন।
<p>ব্যাংক খাতের অর্থ লুটপাটের দায় থেকে রেহাই পাবে না কোনো সরকারই। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কারোরই তুলনা করা যাচ্ছে না। তখন সব ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাট হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে চরম ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময়ের সরকারের চাওয়া মেনে লুটপাটের সব ধরনের অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।</p><p> এর ফলে দেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এই মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশই দেশের মাত্র ১০টি ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত। সব মিলিয়ে বিশ্বে এখন সর্বোচ্চ ঋণখেলাপির দেশ আমরা। এর দায় অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের।</p><p>সেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এখন বলছেন, জনগণের অর্থ লুটপাট হয়েছে, আর সেই লুটপাটের টাকা জনগণকেই দিতে হবে। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ভাষায়, জনগণকে জরিমানা দিতে হবে। এই জরিমানার একটি হিসাবও দিয়েছেন তিনি। অঙ্কটি বেশ বড়। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে ধসে পড়া ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে। আর এই অর্থ দিতে হবে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ধরে।</p><p>পাঁচ বছর ধরে দিলে মোট ব্যয় হবে ৩ লাখ কোটি টাকা, আর আট বছর হলে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এখন যদি আমরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে প্রতিবছরে দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ অর্থ।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর অবশ্য একটা তুলনামূলক হিসাবও দিয়েছেন। যেমন ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বছরে দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা করা সম্ভব বা দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।</p><h3>আমরা কেন জরিমানা দেব </h3><p>বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা ধরে হিসাব করলে মাথাপিছু জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৪৩২ টাকা।</p><p>এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের করের টাকা না নিলে এই অর্থ কি কোনো দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ হিসাবে পাবে? পাবে না। কারণ, এখন কোনো দাতা সংস্থাই লুটপাট হওয়া ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটাতে ঋণ দেবে না।</p><p>আমরা জানি, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য বিশ্বব্যাংকের একটি ঋণ কর্মসূচি চালু আছে। ৪৫ কোটি ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় আছে আমানত সুরক্ষা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি। অর্থাৎ ক্ষতি কাটানোর কোনো অর্থ বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে না। সুতরাং একমাত্র ভরসা দেশের জনগণের করের টাকা।</p><p>মনে রাখা দরকার, কোনো দাতাই কিন্তু শর্ত ছাড়া ঋণ দেয় না। বিশ্বব্যাংকের কাছে যে অর্থ পাচ্ছে, তাতেও অনেক শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে। দাতারা যদি ঋণ দেওয়ার সময় শর্ত জুড়ে দেয়, তাহলে জনগণ কেন শর্ত ছাড়া জরিমানার নামে নিজের করের টাকা দেবে?</p><p>সুতরাং প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন জরিমানা দেব। আর এর বিনিময়ে আমরা কী পাব?</p><h3>সরকারের সদিচ্ছা আছে কতটা </h3><p>সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাংক খাত ঠিক করতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আসলে কতটা আছে? এ নিয়ে সন্দেহ করার কিছু কারণ তো অবশ্যই আছে।</p><p>যেমন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৯ মে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বিএনপি সরকার এসে সংসদে যে আইনটি পাস করে, তাতে নতুন একটি ধারা যুক্ত করে। সেখানে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের আবার মালিকানা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। সমালোচনা ছিল নির্দিষ্ট একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে ফেরাতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলে শেষ পর্যন্ত ধারাটি বাতিল করা হয়। দাতারাও আপত্তি তুলেছিল।</p><p>বিগত সরকারের সময়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বেসরকারি ব্যাংকের পরিবারতন্ত্র কায়েম। আগের সরকার এটি করেছিল লুটপাটের সুযোগ দেওয়ার জন্যই। সবারই প্রত্যাশা ব্যাংক খাতে আর পরিবারতন্ত্র কায়েম হবে না। আর এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাব দিয়েছিল যে একই পরিবার থেকে পরিচালকের সংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুজন করা হবে এবং পরিচালক থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ টানা ১২ বছর থেকে কমিয়ে ৬ বছর করা হবে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) দুটি প্রস্তাবই বাতিল করে দিয়েছে। তারা একজন পরিচালকের টানা মেয়াদের সীমা ১২ বছর থেকে কমিয়ে ৯ বছর এবং একই পরিবার থেকে সর্বোচ্চ তিনজন পরিচালক রাখার বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলেছে।</p><blockquote>* ব্যাংক খাতে ৫-৮ বছরে লাগতে পারে ৩ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।* সম্ভাব্য ব্যয় মাথাপিছু প্রায় ৩ হাজার ৪৩২ টাকা।* পরিবারতন্ত্র কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ভিন্ন অবস্থানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন উঠেছে।* মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেনের অভিজ্ঞতায় একীভূতকরণের পাশাপাশি ছিল ঋণ পুনর্গঠন, মূলধন জোগান ও জবাবদিহি।* করদাতার অর্থ ব্যয়ের আগে সংস্কার, অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।</blockquote><p>অতীতেও দেখা গেছে, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই সরকার ব্যাংক খাত তদারকের নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে টিকিয়ে রাখে। এখনো তা দেখা যাচ্ছে। যদিও নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি আর্থিক খাত সংস্কারে একটি কমিশন গঠন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করার কথা বলেছিল। নির্বাচিত হওয়ার পরে এ দুই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় প্রমাণ।</p><p>এ ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে আইএমএফের তৈরি একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করতে চাই। যদিও ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্ট্যাবিলিটি রিভিউ’ নামের সেই প্রতিবেদনটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। সেই প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছিল, ‘সমাজের একটি অংশের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা রয়েছে। কিছু প্রভাবশালী ও ধনী ব্যবসায়ীরা বুঝে গেছেন যে তাঁদের ঋণ পরিশোধে বাধ্য করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা দেশে নেই। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। পরিস্থিতি এমনই যে মাত্র তিনজন বড় ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলেই একটি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।’ এখন আবারও সেই ব্যবস্থা যদি ফিরে আসে, তাহলে জনগণের জরিমানা দেওয়া পুরোটাই বিফলে যাবে।</p><h3>ঋণ ফেরত পাওয়ার কী ব্যবস্থা </h3><p>সরকারি হিসাবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের জন্য দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দেশে রয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ। বিদেশে থাকা সম্পদের মূল্য ১৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।</p><p>আমরা জানি বিদেশে থাকা সম্পদ ফেরত আনা সহজ নয়। এ জন্য নানা ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে জব্দ হওয়া সম্পদ দেশেই বেশি। এগুলো উদ্ধার করলেও তো ব্যাংক খাত খানিকটা স্বস্তি পেত। এ জন্য কেবল টাস্কফোর্স গঠনের কথা বললেই জরিমানা দেওয়া জনগণ আশ্বস্ত হবে না। দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাইবে সবাই।</p><h3>কেবল ক্ষতি কাটালেই ব্যাংক সবল হয় না </h3><p>বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করেছে। এটি সফল হবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে কেবল একীভূত করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না।</p><p>দুর্বল ব্যাংক খাত কীভাবে ঠিক করতে হয়, তার উদাহরণ হচ্ছে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কিছু দেশ। ১৯৯৭ সালের আর্থিক সংকটে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাংক খাত ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসার গল্প বাংলাদেশের জন্য বড় উদাহরণ হতে পারে।</p><p>এশীয় আর্থিক সংকটের পর মালয়েশিয়া খেলাপি ঋণ কিনে ব্যবস্থাপনার জন্য দানাহার্তা, ব্যাংকে মূলধন জোগানোর জন্য দানামোদাল এবং বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দেনা পুনর্গঠনের জন্য করপোরেট ঋণ পুনর্গঠন কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দেশটির ব্যাংক খাত একীভূত করে ৫১টি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে ১০টি ব্যাংকিং গ্রুপে আনা হয়। অর্থাৎ শুধু খারাপ ঋণ সরানো হয়নি, ব্যাংকের মূলধন ও কাঠামোও বদলানো হয়েছিল।</p><p>সংকটের সময় দক্ষিণ কোরিয়া কয়েকটি অদক্ষ ব্যাংক বন্ধ করে দেয়। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় কোরিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনকে। আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সরকার সাময়িকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের নিশ্চয়তা দেয়।</p><p>এর আগে ১৯৯০-এর দশকের ব্যাংক সংকটে সুইডেন একটি বিশেষ ব্যাংক সহায়তা কর্তৃপক্ষ গঠন করেছিল। সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা যাচাই করে যেগুলোকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব, সেগুলোতে মূলধন জোগানো হয়। যেগুলোকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না, সেগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণে নেয়। খেলাপি সম্পদ সামলাতে ‘সেকুরাম’ ও ‘রেত্রিভা’ নামে আলাদা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানও গড়া হয়। সরকার ব্যাংক খাতের অবস্থা ও সহায়তার তথ্য প্রকাশ করায় জবাবদিহিও ছিল এই কর্মসূচির অংশ।</p><h3>জনগণেরও শর্ত আছে </h3><p>দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নিলে সেই অর্থ ব্যবহারের শর্ত পূরণ করতে হয়, অগ্রগতির হিসাবও দিতে হয়। ব্যাংক বাঁচাতে সাধারণ মানুষের করের টাকা ব্যবহার করলেও একইভাবে শর্ত পূরণ করতে হবে। স্পষ্ট করতে হবে যে এই অর্থের বিনিময়ে কী সংস্কার হবে, কী ফল মিলবে এবং ব্যর্থ হলে দায় কার, আর পূর্বের সংকটের জন্য কে কী শাস্তি পেল। ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অর্থ প্রয়োজন, কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক খাত কতটা বদলাবে, সেটিও দেখাতে হবে।</p>
আমরা যা দেখি, তার সবটুকু সত্য নয়। স্যাটায়ার বা কৌতুক অনেক সময় ভুয়া খবরের রূপ নেয়, আবার ব্যক্তিগত বিবাদকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়
অ্যান কারসন কানাডার একজন লেখক। তিনি কবিতা, প্রবন্ধ আর অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা রয়েছে।
২০১২ সাল থেকে নোবেল বিজয়ীদের এই বিখ্যাত প্রতিকৃতিগুলো এঁকে আসছেন সুইডিশ শিল্পী নিকলাস এলমেহেড। কেমন করে তিনি এই চমৎকার ছবিগুলো আঁকেন আর এর পেছনের গল্পটাই–বা কী, চলো জেনে নেওয়া যাক
<p>আঁকাবাঁকা গ্রামের পথে সাইকেলের বেল বাজিয়ে ছুটে চলেন আলী আকবর। প্রায় ২৮ বছর ধরে এভাবেই চিঠি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি প্রাপকের কাছে। আনোয়ারার মানুষের কাছে তিনি ‘রানার আকবর’ নামে পরিচিত। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাইকেলে চেপে এক ডাকঘর থেকে আরেক ডাকঘরে ছুটে চলাই তাঁর প্রতিদিনের কাজ। এই কাজের আয়েই চলে তাঁর পাঁচ সন্তানের সংসার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/m0jrd9lw/1.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাইকেলের বেল বাজিয়ে ছুটে চলেছেন আলী আকবর। প্রায় ২৮ বছর ধরে এভাবেই চিঠি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/pi1cmvw2/2.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>কখনো সাইকেলে, কখনো পায়ে হেঁটে গ্রামের পথে ছুটে চলেন আলী আকবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/hiezblpe/3.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>পথের ক্লান্তি দূর করতে একটি স্কুলের টিউবওয়েলে হাত-মুখ ধুয়ে পানি পান করছেন তিনি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/amf1ylx4/4.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>গ্রামের ভেতরের পথ ধরে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন আলী আকবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/5x7qlb2q/5.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>সাইকেল চালিয়ে তৈলারদ্বীপ ডাকঘরে পৌঁছেছেন তিনি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/awzmhlca/6.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>তৈলারদ্বীপ ডাকঘরে চিঠির বস্তা নিয়ে ঢুকছেন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/vlu178o5/7.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>পোস্টমাস্টারের কাছে চিঠির বস্তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন আলী আকবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/ftbf3se3/8.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>আলী আকবরের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির বস্তা খুলছেন পোস্টমাস্টার</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/zasi9uu9/9.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>চিঠির বস্তা বুঝে নিয়ে তালিকায় সিল মারছেন পোস্টমাস্টার</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/npz3ferd/10.-chattogram-postman-jewel-11102026.JPG"><figcaption>মাটির তৈরি তৈলারদ্বীপ ডাকঘর </figcaption></figure>
<p>দূরশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রসারে দেশের অন্যতম অগ্রণী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধীনে ‘ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই)’ প্রোগ্রামের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (১২তম ব্যাচ) প্রথম টার্ম প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মজীবী শিক্ষার্থী কিংবা যাঁরা নির্দিষ্ট ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও তথ্যপ্রযুক্তির মতো আধুনিক ও চাহিদাপূর্ণ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চান, তাঁদের জন্য বাউবির এই প্রোগ্রাম এক অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/506v85alq1">শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা</a></aside><p><strong>আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা</strong></p><p>এই প্রফেশনাল ও আধুনিক প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ–৩.০০ (স্কেল–৫) অথবা দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিন বা চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা সম্পাদনকারী শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম সিজিপিএ–২.৫০ (স্কেল–৪) বা দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে থাকলে আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন (ডিসিএসএ)’ প্রোগ্রাম থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এই কোর্সে আবেদন করতে পারবেন।</p><figure></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/8trtoqq7rp">পড়াশোনার সঙ্গে কাজ, ইউরোপের যে ১০ দেশে আয় বেশি</a></aside><p><strong>অনলাইন আবেদনের প্রক্রিয়া ও গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি</strong></p><p>আগ্রহী প্রার্থীদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইন আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর এবং তা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আবেদন ফি বাবদ এক হাজার টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ৫ নভেম্বর। ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাবে ৩ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি–ইচ্ছুক প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা গাজীপুরের বোর্ড বাজারে বাউবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত হবে এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-30/9mtn2203/795583362223215818429544893052763434653784n.jpg"></figure><p><strong>ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন ও প্রশ্নপদ্ধতি</strong></p><p>উচ্চমাধ্যমিক সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে এই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, যার মধ্যে এমসিকিউ অংশে পদার্থবিজ্ঞানে ২৫ এবং গণিতে ২৫ নম্বর থাকে। এ ছাড়া বর্ণনামূলক অংশে পদার্থবিজ্ঞানে ১০ ও গণিতে ১০ নম্বর এবং লিখন দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বাংলায় ৫ ও ইংরেজিতে ৫ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। </p><p>এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের আনুপাতিক হার থেকে ২০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা থেকে ১০ নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়। ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাউবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (<a href="https://www.bou.ac.bd/" target="_blank" rel="nofollow">www.bou.ac.bd</a> বা <a href="https://www.bousst.edu.bd/" target="_blank" rel="nofollow">www.bousst.edu.bd</a>) থেকে জানা যাবে।</p><p>*<a href="https://www.facebook.com/photo/?fbid=1403004651984395&set=a.413255834292620" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত সব তথ্যের জন্য এখানে দেখুন</a></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/ne6l21btqr">টাইমস হায়ার র্যাঙ্কিং: শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই ঢাবি-বুয়েট, আছে ৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়</a></aside>
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।
আজ ঢাকার পত্রিকাগুলোতে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। সাথে রয়েছে রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা খবর।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
পাবনার বেড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের (উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে সভায় বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফিরেছিলেন বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহেদ আহম্মেদ (৩৬)।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারো হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এতে একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে তার কথিত প্রেমিক রাজুকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।
আয়কর রিটার্ন দাখিল সহজ করা এবং করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দিতে উৎসাহিত করতে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নাটোরে জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার উইবারের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় জারি করা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশের ঘটনায় দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে খুলনা জেলা পুলিশ।