মেয়েটি কোনো প্রশ্ন না করেই তুষিকে বলেন,‘আই লাভ ইউ, তুষি আপু। আমি আপনার মতো অভিনয়শিল্পী হতে চাই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেড়া থানার পুলিশের পাশাপাশি সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা এবং পাবনা পুলিশ লাইনসের পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে রেফারির দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন, যার জেরে একাধিক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আছেন।
<p>১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করেন যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীরা। দেখুন ভিডিওতে…</p><figure></figure>
<p>সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজির এলপিজি বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও বাজারের অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। অবস্থানভেদে ২০০০-২৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে রইল কয়েকটি আইডিয়া ভেবেছেন সৌমেন্দ্র গোস্বামী এবং একেঁছেন আবু নাফিজ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/j1a157kq/Untitled-1-03.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/e67ff7yany">যাত্রা বিড়ম্বনা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/uw52c84wv8">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside>
বৈঠকে উপস্থাপন করা মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬৫ লাখ।
<p>সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। এই হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা গেছে। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
গুগলের পক্ষ থেকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোখের কোণ থেকে জল গড়ানো হলুদ বৃত্তের ইমোজিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমোজির স্বীকৃতি পেয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত চ্যাটে সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ বার!
<p>শফিক সাহেব ভাবছে আজ সে অফিসে যাবে না। এই একঘেয়ে জীবন আর ভালো লাগে না। জীবনে কিছুটা বাড়তি স্বাদ প্রয়োজন। কিছুটা বাড়তি রং। লাল, নীল, বেগুনি। রংধনুর সাত রং। কিংবা তিনটি মৌলিক রং। যে রং দিয়ে যেমন খুশি তেমন রঙে সাজানো যাবে জীবন। তাই শফিক সাহেব ভাবছে আজ অফিস পালাবে সে। অফিস পালানো! ব্যাপারটা একটু কেমন যেন। শুনতে কিছুটা বেখাপ্পা শোনায়। তা শুনতে যেমন লাগে লাগুক, অফিস সে পালাবেই। কিন্তু অফিস পালানোর পরে বসের রিঅ্যাক্ট কেমন হবে? সেটাই চিন্তা করছে শফিক সাহেব। সে হয়তো ব্যাখ্যা চাইতে পারে।<br> - শফিক সাহেব কাজটা কি ঠিক হলো?<br> - কোন কাজটা স্যার?<br> - এই যে অফিস ফাঁকি দিলেন?<br> - এটাতো একটা মহৎ কাজ স্যার?<br> - মানে?<br> - স্যার পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষের মাঝে এ লক্ষণগুলো থাকে। এটা ঠিক অফিস ফাঁকি দেওয়া না। ভুলো মন বলতে পারেন।<br> - তার মানে আপনি ভুল করে অফিসে আসতে গিয়ে অন্য জায়গায় চলে গেছেন?<br> - ঠিক ধরেছেন স্যার। যেমন কলম্বাস ভারত আসতে গিয়ে ভুল করে আমেরিকা আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। আমার ব্যাপারটাও অনেকটা তেমনি স্যার। অফিসে আসতে গিয়ে ভুল করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেলাম। শাশুড়ি বলেন তা এসেছোই যখন আজ থেকে যাও। আমি আর না করতে পারলাম না স্যার। গুরুজনের আদেশ। কী বলেন স্যার?</p><p>- আমি আর কী বলব? যা বলার আপনিই তো বলছেন।<br>- স্যার আপনি কাজী নজরুলের ঘটনা জানেন?<br>- কোন ঘটনা?<br>- ওই যে কবির বউ একদিন ভীষণ অসুস্থ।<br>- তো?<br>- হুম সেটাই বলছি স্যার। কবির বউ বললেন, যাও বাজার থেকে আমার জন্য ওষুধ নিয়ে আস। কবি বললেন, যথা আজ্ঞা। কবি বাজারে গেলেন। ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ালেন। এর মাঝে একটা গাড়িতে লেটোগানের দল যাচ্ছে কোথাও গান করতে। তারা কবিকে ডাকলেন। কোথায় বউ আর কোথায় ওষুধ। কবি চলে গেলেন গান করতে। তিন দিন এখানে সেখানে গান গেয়ে কবির হঠাৎ পতির কথা মনে হলো! স্যার আমার ব্যাপারটা তেমনি ঘটেছে। আসতেছিলাম অফিসে, ওদিকে ঘটে গেছে উল্টো।<br>আচ্ছা এ ধরনের উদাহরণে স্যার কি কনভিন্স হবে? শফিক সাহেবের অফিসে এক পিয়ন ছিল। অফিস ফাঁকি দেওয়ার পরের দিন তার কোনো না কোনো আত্মীয় মারা যেত। একবার সে প্রায় সাত-আট দিন অফিসে এল না। ওদিকে স্যার তো পুরাই ক্ষ্যাপা। এবার আর রক্ষা নেই বেচারার। একদম বরখাস্ত করে সার্ভিস বইয়ে লাল কালি দিয়ে বিষয়টা লিখে রাখতে হবে। তো সাত-আট দিন ফাঁকিবাজি করে সে অফিসে এল। এসেই বলল, স্যার কোথায়? স্যার তো ভেতরে। সে তো কুড়াল হাতে বসে আছে। আজ আপনার নিস্তার নাই। এটা শুনেই সে চুলগুলো হাত দিয়ে নেড়ে উষ্কখুষ্ক করে, একটা মলিন চেহারা নিয়ে কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে স্যারের রুমে প্রবেশ করল। ঢুকেই সে কি কান্না। স্যার আমার অমুক আত্মীয় মারা গেছে। বড় ভালো লোক ছিল স্যার। আমি না গেলে তার পরিবার বিশাল বিপদে পড়ত। স্যা...র। তার কান্না দেখে স্যারও ঠিক থাকতে পারে না। আচ্ছা কাঁদবেন না। আমি আবার কারও কান্না সইতে পারি না। সব ঠিক হয়ে যাবে। যান অফিস করেন। সে কাঁদতে কাঁদতে স্যারের রুম থেকে বের হয়ে হাসিমুখে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।<br>- স্যার সব ঠিক কইরা দিছি।<br>- কী ঠিক করলেন?<br>- সব স্যার। আর কোনো সমস্যা নাই। হাজিরা খাতাটা দেন স্বাক্ষর করি।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote><p>যা হোক শফিক সাহেব আজ অফিস পালাবেই। যা থাকে কপালে। শফিক সাহেবের অবশ্য ছোটবেলায় স্কুল পালানোর অভ্যাস ছিল। ক্লাস করতে করতে ক্লান্ত। একঘেয়ে জীবন। অঙ্ক ক্লাসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা। নিয়ম করে শপাং শপাং বেতের বাড়ি খাওয়া। ইংরেজি ক্লাসে স্যারের হাতে গিট্টু খাওয়া, সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে সাল তারিখ মনে না থাকায় কান মলা খাওয়া। এসব আর কত ভালো লাগে? তাই শফিক সাহেব মাঝে মাঝে স্কুল পালাত। মাঠ ঘাট পেরিয়ে একটা বিশাল বিলের মাঝে শান্ত পুকুর পাড়ে একাকী বসে থাকত। পুকুরের পাড়ে নানা রকমের গাছ। ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা মায়াময় পরিবেশ। কোথা থেকে যেন একঝাঁক বক ও পানকৌড়ির দল পুকুরে সাঁতার কাটত। ছোট ছোট মাছ পুকুরে কিলবিল করত। বক ও পানকৌড়ির দল মাছের লোভে কোন অজানা দেশ হতে এখানে এসে ভিড় করত তা শফিক সাহেবের মনে বিস্ময়ের উদ্রেক করত। শফিক সাহেব মাঝে মাঝে পুকুরে পা ডুবিয়ে দিত। মাছগুলো তার পা ঠুকরে দিত। কিছুটা সুড়সুড়ি লাগলেও বিষয়টা উপভোগ করত। টানা ক্লাসের মাঝে এ রকম এক আধটু স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার বিষয়টা মন্দ ছিল না। মনের বোঝা হালকা হয়ে যেত। তবে এ স্কুল পালানোর জন্য তাঁকে শাস্তিও পেতে হতো। তাঁর নাম হয়ে গেল স্কুল পালানো শফিক। কিন্তু আজ এত বছর পরে স্কুল পালানোর সঙ্গে অফিস পালানোর বিষয়টি শফিক সাহেব মেলাতে পারছে না। তবু আজ অফিস সে পালাবেই। তার নাম হবে অফিস পালানো শফিক। বিষয়টা ভাবতেই মনে কেমন জোশ আসে। একটা রোমাঞ্চ রোমাঞ্চ ভাব। আসলে জীবনে কিছুটা রোমাঞ্চ না হলে চলে না। শফিক সাহেব অফিস পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। হঠাৎ গিন্নি হন্তদন্ত করে রুমে প্রবেশ করে।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/ayojon/s3zi06qibs">বিশ্ব বাঁশ সম্মেলন</a></aside><p>- তোমার স্যারের ফোন।<br>- স্যারের ফোন! এত সকালে!<br>শফিক সাহেব আজ এক ঘণ্টা আগে অফিসে আসতে হবে।<br>- কে..ন স্যা..র? শফিক সাহেব আমতা আমতা করে।<br>- মানে কী? আপনার মনে নেই আজ টেন্ডার ড্রপ। দ্রুত এসে সব রেডি করেন, নইলে একটা কেলেঙ্কারি বেধে যাবে।<br>- জ্বি...জ্বি স্যার।<br>শফিক সাহেব হতাশ। ছেলেবেলায় স্যারদের ফাঁকি দিয়ে স্কুল পালালেও বসদের ফাঁকি দিয়ে অফিস পালানো সত্যিই অসম্ভব।<br>*লেখক: সুলতান মাহমুদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শরীয়তপুর।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/reader/5n2f038t13">সুখের অসুখ</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন