অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন
অবশেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের হস্তক্ষেপে মাকে নিজের কাছ রাখতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>জাপানে সন্তান লালন-পালনের মূল ভিত্তি হলো ‘শিৎসুকে’ নামের একটি পদ্ধতি, যার আক্ষরিক অর্থ ‘আত্মশৃঙ্খলা’। আমাদের দেশে শৃঙ্খলা বলতে যা বোঝায়, এটি তা থেকে অনেকটাই আলাদা। বকাঝকা না করে শান্তভাবে বুঝিয়ে এ পদ্ধতিতে শিশুদের শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার শেখানো হয়।</p><p>জাপানিরা অমনোযোগী শিশুকে বকাঝকা না করে তাদের একাগ্রতা বাড়াতে বিশেষ কিছু কাজ করেন। এতে ফল হয় খুব দ্রুত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ডিজিটাল মিডিয়া ওয়েবসাইট আপওয়ার্দির এক নিবন্ধে লেখিকা সেসিলি নোবলার বিষয়টি তুলে ধরেন। নিচের এই তিনটি নিয়ম বা কৌশল মেনে আপনিও আপনার সন্তানকে শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে পারেন।</p><h3>১. সন্তানের মধ্যে যে আচরণ দেখতে চান, নিজেই তার আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠুন</h3><figure><img alt="জাপানি শিশু ও মা–বাবা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/yhugp7m4/young-family-spending-time-with-their-toddler-1.jpg"><figcaption>জাপানিরা বিশ্বাস করেন, শিশুরা মা–বাবাকে যে রকম আচরণ করতে দেখে, তাদের আচরণও সেভাবে গড়ে ওঠে</figcaption></figure><p>জাপানিরা বিশ্বাস করেন, শিশুরা দেখে শেখে। বিশেষ করে মা–বাবাকে যে রকম আচরণ করতে দেখে, শিশুদের আচরণও সেভাবে গড়ে ওঠে। আপনি যদি চান আপনার সন্তান শান্ত স্বভাবের হোক, তবে আগে আপনাকেও শান্ত থাকতে হবে। আপনি যদি চান সন্তান বিনয়ী হোক, তবে হতাশাজনক পরিস্থিতিতে আপনাকেও বিনয়ী আচরণ করতে হবে। </p><p>আপনি যদি চান রাগের মাথায়ও আপনার সন্তান চিৎকার-চেঁচামেচি না করুক, তবে রাগের সময় আপনারও মেজাজ হারানো চলবে না। রাগ হলেই আমরা শিশুদের বকাঝকা করি। রূঢ় আচরণে শিশুরা ভয় পায়। </p><p>কিন্তু মা–বাবা কী বলতে চাইছেন, তা বোঝে না। শিশুরা ভুল করলে রাগ না দেখিয়ে, ধৈর্য ধরতে শিখুন। রাগ কমলে শিশুকে কাছে ডেকে ভালোবাসার সঙ্গে তার ভুল দেখান। ভুলের পরিণাম বুঝিয়ে বলুন। একবারে পরিবর্তন না এলেও ধীরে ধীরে শিশু বুঝবে। মা–বাবা রেগে চিৎকার করলে শিশুরাও তা–ই শেখে। তাঁদের অনুকরণ করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/gbgdlmqs8y">যতটা ভাবছেন, আপনি হয়তো তার চেয়েও বেশি মানসিকভাবে শক্তিশালী, মিলিয়ে নিন ১০টি লক্ষণ</a></aside><h3>২. স্পষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলুন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন</h3><figure><img alt="জাপানি শিশু ও মা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/oh7t8s0o/young-family-spending-time-with-their-toddler.jpg"><figcaption>শিশু কোনো কিছু নিয়ে জেদ বা কান্নাকাটি করলে কীভাবে সেই অনুভূতি সামলাবে, সেই শিক্ষা দেওয়া হয় শিৎসুকে</figcaption></figure><p>গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের যখন কোনো সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে বলা হয়, তখন তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কম থাকে। সত্যি বলতে, শিশুরা নিয়মকানুন পছন্দ করে না, বিষয়টা ঠিক নয়; বরং কোনো স্পষ্ট নিয়ম না থাকাই তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। </p><p>বিষয়টি এভাবে ভেবে দেখুন—ধরুন, আপনি কর্মস্থলে গেলেন, কিন্তু আপনার বস আপনাকে কখনোই বললেন না যে কখন পৌঁছাতে হবে, আপনার কাজ কী, কিংবা মিটিং কখন শুরু হবে। তখন সারা দিনই আপনি দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকবেন। স্পষ্ট নিয়মকানুন না থাকলে আপনার সন্তানও ঠিক একই রকম অনুভব করে। </p><p>আর অনিশ্চয়তা বা অপ্রত্যাশিত বিষয় আমাদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিশুদের নিরাপদ বোধ করাতে নিয়ম বেঁধে দিন। যেমন ঘুমানোর সময় হয়েছে, এখন বিছানায় যেতে হবে বা খাওয়ার সময় মুঠোফোন দেখা যাবে না। শিশুদের কাছে আগে থেকেই নির্দেশনা থাকলে তারা নিশ্চিন্ত বোধ করে এবং নিয়ম পালন করাও তাদের জন্য সহজ হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/ld7elcm0iy">সাইকেল চালালে কি লম্বা হওয়া যায়</a></aside><h3>৩. দুষ্টুমি বা অবাধ্য আচরণকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলুন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/kbmhurvj/pexels-alex-green-5692281.jpg"><figcaption>শিশুরা ভুল করলে রাগ না দেখিয়ে,কাছে ডেকে ভালোবাসার সঙ্গে তার ভুল দেখান</figcaption></figure><p>কখনো কখনো কড়া শাসনে শিশুরা বিগড়ে যায়। তাই ‘ওটা কোরো না’ বা ‘দুষ্টুমি বন্ধ করো’—এসব বলার পরিবর্তে শিৎসুকে এ পরিস্থিতিতে সন্তানের কোন দক্ষতা আয়ত্তের প্রয়োজন, সেটা খুঁজে বের করতে শেখায়। যেমন ধরুন, সন্তান কোনো কিছু পাওয়ার জন্য প্রচণ্ড জেদ বা কান্নাকাটি করছে; তার মানে হতাশাকে কীভাবে সামলাতে হয়, সে বুঝতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তাকে বলতে পারেন, দেখি তুমি কান্না থামিয়ে শান্ত হতে পারো কি না। </p><p>আবার হয়তো ভাগাভাগি করে একই খেলনা নিয়ে খেলতে গিয়ে গন্ডগোল বাধিয়ে ফেলছে। কারণ, সে শেখেনি কীভাবে অপেক্ষা করতে হয়। তখন তাকে বুঝিয়ে বলুন, তোমার পালা এলে তুমিও খেলতে পারবে। সে পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করো। এভাবেই বকা না দিয়ে ইতিবাচক কথার মাধ্যমে শিশুদের এই দক্ষতাগুলো শেখানোর চেষ্টা করুন।</p><p>এই পদ্ধতির মূল বিশেষত্ব হলো, এটি ভুলত্রুটিকে কেবল ভুল হিসেবে না দেখে সেগুলোকে শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করে। কারণ, আপনি যখন কোনো অবাঞ্ছিত আচরণের জন্য শাস্তি না দিয়ে বরং অনুপস্থিত দক্ষতাটি সক্রিয়ভাবে শেখাতে শুরু করেন, তখনই তার মধ্যে প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী বাধ্যতা গড়ে ওঠে। কারণ, তখন আপনার সন্তান শিখে যায় কোন পরিস্থিতিতে কোন আচরণ করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/98252z96vp">এআই কীভাবে সত্যিই ‘সব মানুষকে মেরে ফেলতে’ পারে? সবচেয়ে সম্ভাব্য পাঁচটি পরিস্থিতি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/1uk1cid3/pexels-ketut-subiyanto-4473440.jpg"><figcaption>শিশুদের যখন কোনো সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে বলা হয়, তখন তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কম থাকে</figcaption></figure><p>বিশেষজ্ঞরা শিৎসুকে–কে সবকিছু বদলে দেওয়া জাপানি নিয়ম হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ পদ্ধতিতে কোনো আচরণগত সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তার সমাধানের পরিবর্তে, সমস্যাটিই যাতে না ঘটে, সেটাই প্রাধান্য পায়। তাই ভুলের জন্য সন্তানকে শাস্তি বা বকা না দিয়ে নিজেদের এই চিন্তার জায়গায় আমরা যদি পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে জাপানিদের মতো আমরাও আমাদের সন্তানদের সেসব দক্ষতা শেখাতে পারব, যা তাদের মধ্যে অনুপস্থিত।</p><p><sup>সূত্র: আপওয়ার্দি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/0exzxrnu6l">যে ৫ কারণে জাপানিরা মোটা হয় না</a></aside>
<p>গ্রাহক সুবিধা বাড়াতে স্মার্ট কুরিয়ার লকার ‘ডিজিবক্স’ স্থাপন শুরু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। আপাতত ব্যাংকের শাখাগুলোর সামনে এসব বক্স বসানো হয়েছে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল স্টেশনেও এই বক্স স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ব্যাংক দুটি।</p><p> ব্যাংকের শাখায় যাঁরা এটিএম কার্ড, চেক বই এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণীর জন্য আবেদন জমা দিচ্ছেন, তাঁরা খুদে বার্তা পাওয়ার পর যেকোনো সময় এসব বক্স থেকে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারছেন। এর ফলে একদিকে শাখায় গ্রাহকের চাপ কমেছে, অন্যদিকে গ্রাহকেরা নিজের সুবিধামতো সময়ে কার্ড ও চেক সংগ্রহ করতে পারছেন।</p><p> জানা যায়, গত জুনে ব্র্যাক ব্যাংক প্রথম গুলশান নর্থ শাখায় ডিজিবক্স স্থাপন করে। এরপর ব্যাংকটি গুলশান, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সাত মসজিদ শাখাতেও এই বক্স বসিয়েছে। সম্প্রতি সিটি ব্যাংক তাদের গুলশান শাখায় এ ধরনের সেবা চালু করেছে। ব্যাংকটি তাদের এই সেবার নাম দিয়েছে অ্যাকসেস প্লাস।</p><h3>কী এই ‘ডিজিবক্স’ </h3><p>ডিজিবক্স মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় বা স্মার্ট লকার সিস্টেম। কোনো সেবার জন্য গ্রাহক সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনে করলে শাখার কর্মকর্তারা সেই কার্ড বা চেক বই লকারে রেখে যান। পার্সেল লকারে রাখার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকের মোবাইলে একটি ওটিপি বা সিকিউরিটি কোডসহ বার্তা যায়। এরপর গ্রাহক তাঁর সুবিধাজনক সময়ে সেখানে গিয়ে কোডটি ব্যবহার করে লকার থেকে নিজেই নিজের পার্সেলটি সংগ্রহ করতে পারেন। এর ফলে সেবাটি পেতে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।</p><h3>সুযোগ-সুবিধা </h3><p>ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চেক বই ও এটিএম কার্ড গ্রাহকের স্বাক্ষর ছাড়া দেওয়া হয় না। আবার নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকের ঠিকানায় কুরিয়ারও করা হয় না। আবার চেক বই ও এটিএম কার্ডের জন্য শাখায় এসে আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর ওই কার্ড বা চেক বই শাখায় আসতে কয়েক দিন সময় লাগে। ফলে একজন গ্রাহককে দুবার শাখায় আসতে হয়। ডিজিবক্সের মাধ্যমে কোনো গ্রাহক কার্ড বা চেক বই গ্রহণ করতে চাইলে সেটিকেই স্বাক্ষর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে নতুন চালু করা সেবাটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান ব্যাংক দুটির কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, নতুন এই বক্স সব শাখায় স্থাপন করা গেলে গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ওটিপি-ভিত্তিক লকার হওয়ায় গ্রাহকের পার্সেল সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।</p><h3>কী বলছে ব্যাংক দুটি </h3><p>নতুন এই সেবার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মাহীয়ুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত জুনে এ ধরনের বক্স প্রথম নর্থ গুলশান শাখায় বসানো হয়। আমরা দেখলাম, অনেকে রাতেও বক্স থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। এরপর আমরা অন্য শাখাতেও একই ধরনের বক্স বসিয়েছি। সেবাটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’</p><p>এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অরূপ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চলতি বছরে ১৫টি শাখায় এই বক্স স্থাপন করব। এতে গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা সেবা পাবেন। ফলে গ্রাহকদের আর ব্যাংকিং সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।</p>
<p>বিয়ের পর নতুন বউ সোফায় বসে আছেন। স্বামী একজন অতিথিকে গাড়িতে করে পৌঁছে দিতে গেছেন। হঠাৎ খবর আসে, স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছেন। খবর শুনে চিৎকার দিয়ে সিঁড়ির দিকে ছুটতে হবে নববধূকে। পরিচালকের নির্দেশমতো দৌড় দিলেন নায়িকা। কিন্তু সিঁড়ির কাছে পৌঁছাতেই পেছন থেকে আচমকা ধাক্কা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গড়িয়ে পড়লেন নিচে। ব্যথায় কাতর অভিনেত্রী। অথচ ক্যামেরার পেছনে তখন হাততালি। দৃশ্যটি দারুণ হয়েছে!</p><p>ঘটনাটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের। ছবির নায়িকা ছিলেন নাসিমা খান। পরিচালক নজরুল ইসলামের আচমকা ধাক্কায় সেদিন সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এতটাই আঘাত পেয়েছিলেন যে পরের তিন দিন ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারেননি। অথচ দৃশ্যটি ধারণের আগে তাঁকে জানানো হয়নি যে সত্যিই এভাবে ধাক্কা দেওয়া হবে।</p><p>বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে দেখা হচ্ছে তাঁর অভিনয়জীবনের নানা অধ্যায়। সেসব স্মৃতির মধ্যেই রয়েছে ‘কার বউ’ ছবির শুটিংয়ের এ ঘটনা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/dgysbx0jy2">নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়েই মারা গেলেন অভিনেত্রী নাসিমা খান</a></aside><p>১৯৯০ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত এক আত্মকথনে নিজের অভিনয়জীবনের অনেক অজানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন নাসিমা খান। চলচ্চিত্র সমালোচক মাহমুদা চৌধুরীর অনুলিখিত সেই স্মৃতিচারণা পরে পুনঃপ্রকাশ করে বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি)। সেখানেই তিনি বিস্তারিত জানিয়েছিলেন এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/dxfoyjo6/Kar_Bou.jpg"><figcaption>‘কার বউ’ সিনেমার পোস্টার</figcaption></figure><p><strong>এক নায়িকা, ছয় স্বামী!</strong><br>নাসিমা খানের ভাষায়, ‘কার বউ’ ছিল বাংলাদেশের প্রথম দিককার হাসির চলচ্চিত্রগুলোর একটি। ছবিতে একমাত্র নায়িকা ছিলেন তিনি। নায়ক অবশ্য একজন নন, বেশ কয়েকজন। হারুন, গোলাম মুস্তাফা, সুভাষ দত্তসহ একাধিক অভিনেতা অভিনয় করেছিলেন তাঁর বিপরীতে।<br>গল্পটিও ছিল বেশ অভিনব। বিয়ের দিন এক দুর্ঘটনার পর নায়িকা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। এরপর যাঁকেই দেখেন, তাঁকেই নিজের স্বামী মনে করতে থাকেন। অথচ তাঁর প্রকৃত স্বামী হারুন। এমনই এক পরিস্থিতি থেকে তৈরি হয় ছবির নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনা। এই ছবির শুটিং করতে গিয়েই বিপত্তির মুখে পড়েন নাসিমা খান।<br>সেই সময় অভিনয়শিল্পীদের জন্য এখনকার মতো বডি ডাবল বা ডামি ব্যবহারের সুযোগ তেমন ছিল না। শুটিংয়ে ঘোড়ায় চড়া থেকে শুরু করে সাইকেল, মোটরগাড়ি চালানো কিংবা বিপজ্জনক দৃশ্যে অংশ নেওয়ার কাজও করতে হতো তাঁদের। নাসিমা খান স্মৃতিচারণায় জানিয়েছিলেন, সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ার মতো দৃশ্যও নিজেরাই করতেন অভিনয়শিল্পীরা।<br>‘কার বউ’ ছবির একটি দৃশ্যে ঠিক এমনভাবেই সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। পরিচালক নজরুল ইসলাম তাঁকে দৃশ্যটি বুঝিয়ে দেন। এরপর ক্যামেরাম্যান আফজাল চৌধুরীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করেন। নাসিমা খান তখনো জানতেন না, কী অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য।</p><p><strong>ধাক্কা খেয়ে নিচে, তারপর হাততালি</strong><br>নাসিমা খান স্মৃতিচারণায় জানিয়েছিলেন, দৃশ্যটি দুটি শটে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথমে তাঁকে স্বামীর দুর্ঘটনার খবর শুনে চিৎকার করতে হবে। এরপর দৌড়ে যেতে হবে সিঁড়ির দিকে। পরিচালকের নির্দেশমতো অভিনয় শুরু করলেন তিনি। সিঁড়ির দিকে দৌড় দেওয়ার পরপরই ঘটল অপ্রত্যাশিত ঘটনা।<br>নাসিমা খানের ভাষায়, ‘এরই মধ্যে নজু ভাই হঠাৎ করে এমন এক ধাক্কা মারলেন আমাকে যে তালগোল পাকিয়ে গড়াতে গড়াতে আমি একেবারে নিচে।’</p><p>পড়ে যাওয়ার পর ব্যথায় কাতর অভিনেত্রী। কিছুটা সামলে ওঠার পর শুনতে পেলেন ক্যামেরাম্যান আফজাল চৌধুরী হাততালি দিচ্ছেন। বলছেন, ‘ওয়েল ডান, ওয়েল ডান বাবলী।’ বাবলী ছিল নাসিমা খানের ডাকনাম। দৃশ্যটি ভালোভাবে ধারণ করতে পারায় ক্যামেরার পেছনের মানুষদের মধ্যে তখন উচ্ছ্বাস। কিন্তু যাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাঁর অবস্থা মোটেও ভালো নয়।<br>আঘাতের চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন কাউকে কিছু না জানিয়ে এমন কাজ করায়। রাগে, অভিমানে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, ‘গাত্রদাহের চেয়ে মনদাহ তখন আমার প্রবল।’<br>এরপর জানতে চান, কে তাঁকে ধাক্কা দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী বলেছিলেন, যিনি ধাক্কা দিয়েছেন, তাঁকেও একইভাবে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চান, গড়িয়ে পড়ার কষ্ট কতটা।<br>ঘটনাটি নিয়ে পরে হাসিঠাট্টা করলেও সেদিনের আঘাত সহজে কাটিয়ে উঠতে পারেননি নাসিমা খান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারেননি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/hshesjqq/WhatsApp_Image_2026_10_11_at_9_38_28_PM.jpeg"><figcaption> ঢাকা ও লাহোরের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি</figcaption></figure><p><strong>রাগ-অভিমানের মধ্যেও ছিল আন্তরিকতা</strong><br>নাসিমা খান অবশ্য ঘটনাটি স্মরণ করতে গিয়ে পরিচালকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেননি বরং সেই সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনের আন্তরিক সম্পর্কের কথাও বলেছেন। পরিচালক নজরুল ইসলামকে তিনি ডাকতেন ‘নজু ভাই’ বলে। তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে পরিচালককে ঘিরে নানা হাসিঠাট্টার কথা। নাসিমা খান জানিয়েছিলেন, নজরুল ইসলাম কানে কিছুটা কম শুনতেন। তাই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হতো উচ্চ স্বরে। বিষয়টি নিয়ে মাঝেমধ্যে মজা করতেন অভিনেত্রী। পরিচালকের সঙ্গে এমন রসিকতার সম্পর্কই ছিল তাঁদের।</p><p>সেই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে নিজের সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেছিলেন নাসিমা খান। তাঁর মতে, তখন অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল বেশি। পরিচালক থেকে শুরু করে শিল্পী ও কলাকুশলীরা কাজ করতেন অনেকটা পরিবারের সদস্যদের মতো।<br>কেউ কারও ক্লোজ শট বেশি নেওয়া হলো কি না, পর্দায় কে বেশি গুরুত্ব পেলেন, এসব নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতেন না তাঁরা। বরং চরিত্রটি কতটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা গেল, সেদিকেই থাকত নজর। নাসিমা খানের ভাষায়, ‘আমি যখন নায়িকা ছিলাম, সে সময় আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের চাইতেও বড় ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/2jqe50e8/WhatsApp_Image_2026_10_11_at_9_37_02_PM.jpeg"><figcaption>প্রথম চলচ্চিত্রের পরই আরও কাজের সুযোগ আসে নাসিমা খানের</figcaption></figure><p><strong>আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, নায়িকা বদলে ফেলতে</strong><br>‘কার বউ’ ছবির সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাই নাসিমা খানের একমাত্র কঠিন শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নয়। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে ‘সূর্যস্নান’ চলচ্চিত্রেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালে মুক্তি পাওয়া সালাহউদ্দিন পরিচালিত ছবিটিতে দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাসিমা খান। তাঁর বিপরীতে ছিলেন আনোয়ার হোসেন। গল্পে আনোয়ার হোসেন একজন মিলশ্রমিক, নাসিমা তাঁর স্ত্রী। একটি দৃশ্যে স্বামী কাজ শেষে ঘরে ফিরে স্ত্রীকে কাছে টেনে নেবেন। স্বামীর বুকে মাথা রেখে ভালোবাসার আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হবে নাসিমাকে। কিন্তু তখনো স্কুলপড়ুয়া অভিনেত্রীর পক্ষে সেই আবেগ প্রকাশ করা সহজ হচ্ছিল না। বারবার দৃশ্য ধারণ করতে হচ্ছিল। একের পর এক শট বাতিল হচ্ছিল। একপর্যায়ে অধৈর্য হয়ে আনোয়ার হোসেন পরিচালককে বলেছিলেন, ‘সালাউদ্দিন ভাই, আপনার নায়িকা বদল করুন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/ak1t8v79/WhatsApp_Image_2026_10_12_at_11_16_06_AM.jpeg"><figcaption>গোলাম মুস্তাফার সঙ্গে</figcaption></figure><p>এ কথা শুনে আরও ঘাবড়ে যান নাসিমা। তবে পরিচালক হাল ছাড়েননি। কীভাবে মাথা রাখতে হবে, কখন মুখ তুলতে হবে, কীভাবে হাসতে হবে—সবকিছু বুঝিয়ে দেন তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ বার চেষ্টার পর দৃশ্যটি ধারণ করা সম্ভব হয়। পরে ‘সূর্যস্নান’ প্রশংসিত হয়। ছবিটির সাফল্য নাসিমা খানের অভিনয়ের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/25o59xnt/480308325_1171133445020223_4140378270404827792_n.jpg"><figcaption>বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান</figcaption></figure><p><strong>অভিনয় শিখেছিলেন অভিজ্ঞদের কাছে</strong><br>চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করার সময় নাসিমা খান ছিলেন স্কুলছাত্রী। তাঁর পরিবারে অভিনয় নিয়ে প্রথমে আপত্তি থাকলেও পরে অনুমতি দেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল, পড়াশোনায় অবহেলা করা যাবে না। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক। পরে ‘তানহা’, ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’সহ একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।<br>সেই সময় দেশে অভিনয় শেখার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সীমিত ছিল। নাসিমা খান তাই অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকদের কাছ থেকে কাজ শিখতেন। নিজের অভিনয় উন্নত করতে নিয়মিত বই পড়তেন। বিশেষ করে গল্প, উপন্যাস, নাটক ও কবিতার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমান তাঁকে উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জোরে জোরে কবিতা আবৃত্তি ও গল্প পড়তে বলেছিলেন তিনি। নাসিমা খান জানিয়েছিলেন, সেই পরামর্শ তাঁর অভিনয়জীবনে কাজে লেগেছিল। এরপর বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেন নাসিমা খান। ঢাকার পাশাপাশি লাহোরেও অভিনয় করেন। কাজ করেন জহির রায়হানসহ সে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতাদের সঙ্গে।</p><p><strong>বর্ণাঢ্য জীবন পেছনে ফেলে চিরবিদায়</strong><br>এক বর্ণাঢ্য জীবন পেছনে ফেলে গতকাল চিরবিদায় নিলেন নাসিমা খান । ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম তাঁর। পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল খান বিক্রমপুর থেকে ঢাকায় এসে বসতি গড়েছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/bjfjr30d/480786035_1171133628353538_4388240801283953201_n.jpg"><figcaption>চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করার সময় নাসিমা খান ছিলেন স্কুলছাত্রী</figcaption></figure><p>সংস্কৃতিমনস্ক এক যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠেন নাসিমা। পড়াশোনা করেন কামরুন্নেসা স্কুলে, ছোটবেলা থেকেই শিখতেন নাচ। তাঁদের প্রতিবেশী ছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমান। মাত্র ১২ বছর বয়সে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথমে পরিবারের আপত্তি থাকলেও বড় চাচার সমর্থনে অভিনয়ের অনুমতি মেলে। শর্ত ছিল, পড়াশোনায় অবহেলা করা চলবে না। এরপর ‘তানহা’, ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঢাকার পাশাপাশি লাহোরের উর্দু চলচ্চিত্রেও পরিচিতি পান। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের টানে লাহোরের প্রতিষ্ঠিত অভিনয়জীবন ছেড়ে ফিরে আসেন ঢাকায়। স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রের বদলে যাওয়া পরিবেশে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান। ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেন চলচ্চিত্রজগতের বাইরের একজনকে। সংসার ও দুই সন্তানকে ঘিরেই কাটতে থাকে তাঁর জীবন। ১৯৭৯ সালে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবার পর্দায় ফেরেন। পরে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/eaj723qu/WhatsApp-Image-2026-10-11-at-9.51.17-PM.jpeg"><figcaption>ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে যে কজন অভিনেত্রী পরিচিতি পেয়েছিলেন, নাসিমা খান তাঁদের অন্যতম</figcaption></figure><p>জীবনের শেষ অধ্যায়টা অবশ্য সুখের ছিল না নাসিমা খানের। স্বামীর মৃত্যুর পর ঢাকার আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় থাকতেন তিনি। বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। ছেলের সন্ধান চেয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কোথায় আছে, কী খাচ্ছে, কেমন আছে ছেলে—এসব ভেবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছিল তাঁর। এর মধ্যেই শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সাত দিন আগে তাঁকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।</p><p><br><sup>তথ্যসূত্র: নাসিমা খানের আত্মকথন, সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’, ঈদসংখ্যা, ১৯৯০; অনুলিখন: মাহমুদা চৌধুরী</sup></p>
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিরিনের স্বামী দুলাল হাওলাদারকে আটক করেছে। দুলাল পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তানিয়া আক্তার ও তাঁর মা কবরী বেগমকে আটক করা হয়েছে। মোহাম্মদ আকাশ, ফোরকানসহ অন্যদের আটক করতে অভিযান চলমান।
পুলিশের তথ্যমতে, অমীমাংসিত হত্যা মামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইটে ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় এআই মডেলটি এমন একজনের পরিচয়ে তথ্য দেয়, যিনি মামলাটির বিষয়ে জানেন বলে দাবি করছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেকটি সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা ও আন্তসংস্থা সমন্বয়ের ঘাটতি।
তাল মাটিতে জন্মায় কিন্তু তার মাথা থাকে আকাশের দিকে। তালগাছের শিকড় গ্রামে অথচ তালের উপস্থিতি ছড়িয়ে আছে মানুষের খাবার, ভাষা, কবিতা ও স্মৃতিতে। শরৎ শেষে গাছ থেকে ঝরে পড়ে শেষ ফলটিও; কিন্তু তালের স্বাদ থেকে যায় রান্নাঘরে, পুরোনো রেসিপিতে কিংবা স্মৃতিতে। শরতের সঙ্গে যার এত সখ্য, সেই তাল হয়ে উঠুক আমাদের মৌসুমি খাদ্যাভ্যাসের আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।
আজ ঢাকার পত্রিকাগুলোতে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। সাথে রয়েছে রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা খবর।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
একসময় জীবিকার সন্ধানে বন-জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করতেন গাছের ছাল, শিকড়, লতা ও পাতা। সেই উপাদান বিক্রি করেই চলত সংসার। সময়ের সঙ্গে বদলেছে কাজের ধরন, বেড়েছে বাণিজ্যের পরিধি।
টলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি বনি সেনগুপ্ত ও কৌশানী মুখার্জি। সিনেমায় এ জুটির রসায়নে বরাবরই মুগ্ধ হন দর্শকরা। ব্যক্তিগত জীবনেও চুটিয়ে প্রেম করছেন তারা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন।
পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব গিয়ে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫)।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
কয়েক দিন আগে ভারতের গোয়াতে নিজের খামারবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর।
বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকাদের বেছে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।