ব্যাংক

ইউসিবিতে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা কাটল, ৩০% শেয়ার ধারণেও ছাড়

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ইউসিবিতে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা কাটল, ৩০% শেয়ার ধারণেও ছাড়
ইউসিবিতে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা কাটল, ৩০% শেয়ার ধারণেও ছাড়
ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছাড় দিয়েছে। গত সোমবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

Prothomalo

View more
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে কে এই বাংলাদেশি ফুয়াদ আবদুল–আজিজ
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে কে এই বাংলাদেশি ফুয়াদ আবদুল–আজিজ

<p>২৭ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জমকালো আয়োজন। রথী-মহারথীদের সামনে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলার হ্যারি কেইন। সেই আয়োজনের লালগালিচায় ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজ। রোনালদো নাজারিও ও হ্যারি কেইনের সাক্ষাৎকার নেওয়া কে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর?</p><figure><img alt="কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/x1iyycvo/bdef8df5-bd62-4ad4-ad56-33e342d6f23e.jpg"><figcaption>কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়</figcaption></figure><p>ফুয়াদ আবদুল–আজিজ নামটি অনেকের কাছে নতুন মনে হলেও লন্ডনের ফুটবল কমিউনিটিতে বেশ পরিচিত নাম। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া, চ্যানেল—সবখানেই তাঁকে দেখা যায় কিংবা শোনা যায় তাঁর কণ্ঠস্বর।</p><p>কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। ছোটবেলায়ই পাড়ি জমান লন্ডনে, সেখানেই বসবাস তাঁর। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে যোগ দেন স্পোর্টস কনটেন্ট ক্রিয়েশনে। শুরুটা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে।</p><p>২০১৮ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভাইপার স্পোর্টস’ চালু করেন। এর পর থেকেই আসেন আলোচনায়। শুরুর দিকে বক্সিং নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করলেও করোনাকালে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন ফুটবলের ওপর।</p><p>এরপরই বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক আসতে থাকে তাঁর। করোনা–পরবর্তী সময়ে কাজ করেছেন বিবিসি, ওহ মাই গোল, ডাজোনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্টে ফুয়াদ ছিলেন নিয়মিত মুখ। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন বিশ্বখ্যাত ফুটবল প্ল্যাটফর্ম ‘৪৩৩’-এর সঙ্গে।</p><figure><img alt="হ্যারি কেইন ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/azrw5mr5/86997586910912739537456006948018926388541166n.jpg"><figcaption>ব্যালন ডি’অরজয়ী হ্যারি কেইনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফুয়াদ আবদুল–আজিজ</figcaption></figure><p>ফুয়াদ প্রথম বাংলাদেশিদের নজরে আসেন ফুটবলার কিউবা মিচেলকে নিয়ে বানানো একটা ভিডিও থেকে। এ ছাড়া হামজা চৌধুরীর উত্থানের সময় থেকে ফুয়াদ নজর রাখতেন তাঁর খেলায়। এরপর বাংলাদেশের খেলা দেখতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে উড়ে গেছেন তিনি।</p><p>বুম হাতে যেমন চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার খেলা দেখেছেন, তেমনি বাংলাদেশের খেলা দেখতে উড়ে গিয়েছিলেন মালেশিয়ায়। আরব কাপ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ—মাইক হাতে পুরো ফুটবল–দুনিয়া দেখা হয়েছে তাঁর। বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কনটেন্ট বানাতে দেখা যায় তাঁকে।</p><figure><img alt="কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/80w01wpy/72175721617511601660693888170059502687806449n.jpg"><figcaption>ফুয়াদ যেখানেই যান, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই যান</figcaption></figure><p>ফুয়াদকে এবারের ব্যালন ডি’অরের লালগালিচায় যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ব্রিটিশ চ্যানেল ডাজোন। লালগালিচায় অনুষ্ঠান–পূর্ববর্তী আয়োজনের উপস্থাপক ছিলেন তিনি। ফাব্রিজিও রোমানোর মতো ট্রান্সফার স্পেশালিস্টের সঙ্গে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফুটবলারদের। লালগালিচায় হ্যারি কেইনকে প্রশ্ন করার সুযোগও হয়েছে তাঁর।</p><p>ফুয়াদ যে শুধু ফুটবলারদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তা কিন্তু নয়। বরং আয়োজনে আসা ফুটবলারদের জন্য উপহারও রেখেছিলেন। কুকুরেয়া, রদ্রি, এমবাপ্পে থেকে শুরু করে রোনালদো নাজারিওর হাতে তুলে দিয়েছেন লন্ডনের স্যুভেনির লাল বাসের চাবির রিং।</p><p>ফুয়াদের পোশাকেও ছিল বাংলাদেশের ছোঁয়া। যে স্যুটে হাজির হয়েছিলেন ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে, সেখানে ছিল বাংলাদেশের পতাকার কোট পিন। ফুয়াদ যেখানেই যান, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/dc94bk4le7">কালো স্যুটে গোলাপি পালকের ব্রোচ, নজর কাড়লেন লামিনে ইয়ামাল</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রংপুর বন্ধুসভার সঙ্গে জাতীয় পর্ষদের মতবিনিময়
রংপুর বন্ধুসভার সঙ্গে জাতীয় পর্ষদের মতবিনিময়

রংপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক ও সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি। ২৩ অক্টোবর বিকেলে প্রথম আলো রংপুর অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি

<p>দেশের বড় একটি অঞ্চলে আজ মঙ্গলবার যে বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে, সেটির কারণ জানতে তদন্ত কমিটি করেছে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। তাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p> বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে সঞ্চালন-২–এর প্রধান প্রকৌশলী (অতি. দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।</p><p>আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিপর্যয়ের পর বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর এক এক করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়তে থাকে।</p><p>পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক আছে।</p><p>দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরে তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/kc2mnlkc4m">ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুই ঘণ্টা পর সরবরাহ শুরু </a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
বাংলাদেশের জালে ভারতের ১৩ গোল
বাংলাদেশের জালে ভারতের ১৩ গোল

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এর আগে মাত্র একবার খেলেছে বাংলাদেশ।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য খবর
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য খবর

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেন্ট মার্টিনে রাতে থাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ভালো চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায়, পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ৫ হাজার ডলারে ‘বিক্রি’
ভালো চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায়, পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ৫ হাজার ডলারে ‘বিক্রি’

<p>ভালো চাকরি ও সচ্ছল জীবনের আশায় কম্বোডিয়ায় যান দুই বাংলাদেশি তরুণ। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয় প্রায় ছয় লাখ টাকা করে। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয় একটি স্ক্যাম সেন্টারে। সেখানে জোর করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো তাঁদের। কাজ করতে না চাইলে চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।</p><p> দুই তরুণকে কম্বোডিয়ায় পাচার ও প্রতারণার কাজে বাধ্য করার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তাঁদের বাড়ি গাজীপুরের পুবাইল এলাকায়।</p><p>প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে সিআইডি জানায়, স্ক্যাম সেন্টারে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল করলেও তাঁদের নির্যাতন করা হতো। সেখান থেকে নিজের ইচ্ছায় বেরিয়ে আসা বা নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ ছিল না।</p><p>দেশে ফিরতে কয়েক দফায় মুক্তিপণ আদায় করার কথা উল্লেখ করে সিআইডি জানায়, একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই তরুণ। স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রির পরে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে তাঁদের পরিবারের কাছে আরেক দফা পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণ দেন। মুক্তির পরও মানব পাচারকারীরা তাঁদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের জন্যও আরেক দফা টাকা আদায় করা হয়।</p><p>সিআইডি জানায়, মুক্তির পরও তাঁরা প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে থাকেন। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সহায়তায় গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাংলাদেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ২৬ অক্টোবর এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।</p><p><strong>নতুন বাজারের নামে প্রতারণা</strong></p><p>বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার কিছুটা সংকোচিত হয়ে আসছে। এ জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক দিক দিয়ে কিছুটা সচ্ছল ব্যক্তিরা রাশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। রাশিয়ায় অন্য কাজ দেওয়ার নাম করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক বাংলাদেশি হতাহতও হয়েছেন।</p><p>বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় যেতে ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি ছাড়পত্র নিয়েছেন। দেশটি ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে ৮ নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে। রাশিয়ান ফেডারেশনে গেছেন ৪ হাজার ৭২৭ জন। রাশিয়া রয়েছে ১৩ নম্বর অবস্থানে।</p><p>কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের নেওয়া হয় কলসেন্টারে চাকরির নামে। এরপর তাঁদের দিয়ে করানো হয় অনলাইন প্রতারণা। আন্তর্জাতিক চাপে সম্প্রতি এসব ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর জুনে ফিরে এসেছেন ৬৪৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। প্রতিদিন ফিরছেন, আরও অনেকে ফেরার অপেক্ষায়।</p><p>খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কম্বোডিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো নয়। সেখানে চাকরির সুযোগ কম। তারপরও সেখানে কর্মীদের পাঠানো হয় স্ক্যাম সেন্টারের জন্য। কেউ কেউ দেশে ফিরতে পেরেছেন। অনেকেই দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বার্তা পাঠাচ্ছেন।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিলেন জেসিন্ডা আরডার্ন
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিলেন জেসিন্ডা আরডার্ন

<p>নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। চলতি মাস থেকেই তিনি দেশটির প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।</p><p> বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জেসিন্ডা আরডার্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য অনুষদের অধীন জনস্বাস্থ্য স্কুলে কাজ করবেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন, বিশেষ কর্মশালা পরিচালনা করবেন এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সহমর্মী নেতৃত্ব, সামাজিক ঐক্য, নাগরিক আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা হবে তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি গবেষণাগার ও উপাচার্যের দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি সরাসরি যুক্ত থাকবেন।</p><p>সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মার্ক স্কট আরডার্নকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জনজীবনে আরডার্নের সাহস ও মানবিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত। তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সমৃদ্ধ করবে।</p><p>নতুন দায়িত্ব নিয়ে জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, রাজনীতি ছাড়ার পর থেকেই তিনি নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে কাজ করছেন। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি সমাজের সেবায় অবদান রাখতে চান।</p><p>২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হন জেসিন্ডা আরডার্ন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াইট দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও করোনা মহামারি দৃঢ়তার সঙ্গে সামলে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পান। রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।</p><p>চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান আরডার্ন। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে বর্তমানে তাঁরা সিডনির উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রসৈকত এলাকায় বসবাস করছেন।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

<p>বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে কাদের দুর্বলতায় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দিনভর তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছিল, সে প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।</p><p> জামায়াতের আমির বলেন, ‘তখনো তো চার–দলীয় সরকার ছিল। সারা দিনভর, মাগরিবের আগপর্যন্ত তারা (আওয়ামী লীগ) তাণ্ডব চালানোর এই সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই নির্মম হত্যাকাণ্ড হলো, তারা কাউকে একটু হাত ধরে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করল না কেন? তাহলে এখানে কি অন্য কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র এবং নোংরা খেলা ছিল? এটা জাতির বিরাট প্রশ্ন।’</p><p>আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।</p><p>আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই এরা বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা চেয়েছিল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।’</p><p>বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সমান তালে সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজি, নারীদের ইজ্জত নষ্ট করেছিল। শেষ পর্যন্ত শাসকের ছেলে ব্যাংক ডাকাত হয়েছিল। ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করা হয়েছিল। তাদের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়ে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পেরেছিল, এ দেশের মানুষ ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন দেবে না। এ জন্য তারা বাকশাল ও রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।</p><blockquote>জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত।</blockquote><p>২০০৬ সালে চার–দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা–কর্মীদের লগি–বৈঠা হাতে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে পিচঢালা রাস্তায় নৌকা চলে না। এই লগি–বৈঠা আনা হয়েছিল মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের দোসর বামপন্থীরাও এতে শরিক ছিল।</p><p>জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত। আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিতে পারেনি। ধিকৃত, লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সে রাস্তা এখন অন্য কেউ অবলম্বন করতে চাইলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। এ দেশ কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে ইজারা দেওয়া হবে না।</p><p>ফ্যাসিবাদীদের কেউ কেউ আশকারা দিচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। এই সাপই ছোবল দিয়ে কিন্তু শেষ করে দেবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/ici8rp8p/WhatsApp-Image-2026-10-27-at-9.46.34-PM.jpeg"></figure><p>বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।</p><p>আলোচনা সভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি গণ–আকাঙ্ক্ষার অংশীজন হিসেবে নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিল, সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।</p><p>জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন।</p><p>আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় নিহত গোলাম কিবরিয়ার বাবা তাজুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার, মুজাহিদুল ইসলামের মামা মিজান আহমেদ, হাবিবুর রহমানের ছেলে রুবেল মৃধা প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পুলিশ কেন মব নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না?
পুলিশ কেন মব নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না?

রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”