বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি
<p>দেশের বড় একটি অঞ্চলে আজ মঙ্গলবার যে বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে, সেটির কারণ জানতে তদন্ত কমিটি করেছে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। তাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p> বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে সঞ্চালন-২–এর প্রধান প্রকৌশলী (অতি. দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।</p><p>আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিপর্যয়ের পর বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর এক এক করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়তে থাকে।</p><p>পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক আছে।</p><p>দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরে তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/kc2mnlkc4m">ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুই ঘণ্টা পর সরবরাহ শুরু </a></aside>

Prothomalo

View more
ব্যবসা বেড়েছে, তারপরও লোকসান বাড়ল সিঙ্গারের
ব্যবসা বেড়েছে, তারপরও লোকসান বাড়ল সিঙ্গারের

<p>চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যবসা বেড়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিদেশি কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৭৩ কোটি টাকার বা ৪ শতাংশের বেশি। তারপরও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) শেষে লোকসান বেড়েছে সিঙ্গারের। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। </p><p> গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনিরীক্ষিত এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি।</p><p>কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। ব্যবসা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গারের পরিচালনা মুনাফাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটি পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি টাকা। কিন্তু সেই পরিচালন মুনাফা শেষ পর্যন্ত বড় লোকসানে পরিণত হয়েছে চূড়ান্ত হিসাবে এসে। কারণ, ব্যাংকঋণের সুদ, সরকারের কর পরিশোধ ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের খরচের পর পরিচালন মুনাফা লোকসানে পরিণত হয়।</p><p>আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকঋণের সুদাসল বাবদ কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খরচ বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল খাতে গত ৯ মাসে কোম্পানিটির খরচ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ের যার পরিমাণ ছিল ১০১ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার কর বাবদ সরকারকে দিয়েছে ১১ কোটি টাকা। আর এসব খরচের পর গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে সিঙ্গারের লোকসান দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সিঙ্গারের লোকসান বেড়েছে ৪ কোটি টাকা।</p><p>লোকসানের কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটি বলেছে, মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পণ্য বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি কোম্পানিটির। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজার বাস্তবতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এসব কারণে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও মুনাফায় ফিরতে পারেনি কোম্পানিটি।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মৃত্যুর আগে ক্ষতসহ অনেকক্ষণ জীবিত ছিলেন সাগর ও রুনি, তদন্তে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি
মৃত্যুর আগে ক্ষতসহ অনেকক্ষণ জীবিত ছিলেন সাগর ও রুনি, তদন্তে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি

<p>সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি উভয়ের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাতের অস্তিত্ব নেই। এ হত্যাকাণ্ড পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভিকটিমদের (সাগর–রুনি) দেহে অনেকগুলো ক্ষত ছিল, যা অধিক রক্তক্ষরণের জন্য দায়ী। তবে প্রতীয়মান হয় যে, ভিকটিম মৃত্যুর পূর্বে অনেকক্ষণ ক্ষতসহ জীবিত ছিল। ঘাড়ে ও পিঠে, চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ক্রাইমসিন এবং ভিকটিমদের ক্ষতের পরিমাণ দেখে বোঝা যায় খুনিরা তাড়াহুড়া করেনি।</p><p> সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ অংশে—এমনটাই উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রাখা হয়েছে। </p><p><strong>দুই অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ, পরিচয় উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি</strong></p><p>ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সাগর সরওয়ারকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং মেহেরুন রুনির টি-শার্ট থেকে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষায় দুটি অপরিচিত পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায় বলে অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ অপরিচিত অপরাধী শনাক্তের জন্য ডিএনএ প্রস্তুতকারী দুটি (যুক্তরাষ্ট্রের) ল্যাবে প্রচেষ্টা চালিয়েও অপরাধীদের শনাক্তে ছবি প্রস্তুত করা যায়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ডিএনএ’র অধিক মিশ্রণ, ফলে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ সব ব্যক্তি বা আসামির ডিএনএ’র সঙ্গে ওই অজ্ঞাত ডিএনএর মিল আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।</p><p>তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভাষ্য, মামলায় জব্দ করা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বটি, ছুরির ব্যাট এবং সাগর ও রুনির পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত ও ২৫ জন ব্যক্তির বাকাল সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। আলামতে পাওয়া ডিএনএ–এর সঙ্গে পাঠানো ব্যক্তিদের ডিএনএ ম্যাচিং হয়নি বলে ডিএনএ ল্যাবের পাঠানো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।</p><p>ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ঘটনাস্থলে মোট চারজন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন এই মামলার ভিকটিম সাগর সরওয়ার এবং একজন নারী হলেন মেহেরুন নাহার রুনি বলে শনাক্ত হয়। বাকি দুজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তি কারা তা উদঘাটন করা যায়নি।…দীর্ঘ তদন্তেও ওই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত তা এখনোও সুনির্দিষ্ট করা যায়নি।</p><p><strong>পারিবারিক কিংবা পেশাগত বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি</strong></p><p>পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহত্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে এ ধরনের কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দিন এই দম্পতি দেশের বাইরে জার্মানিতে ছিল, মৃত্যুর সাত মাস আগে দেশে আসেন। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টিভির সহকর্মী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তার কোনো শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।</p><p>সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে, ২০১৩ সালে যার নির্মাণকাজ শুরু হয় উল্লেখ করে অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তাদের হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি না তদন্তকালে এই ধরনের কোনো তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, কারও সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই।</p><p><strong>উদ্ধার হয়নি মোবাইল ও ল্যাপটপ</strong></p><p>সাগর–রুনি হত্যা মামলা একটি আলোচিত হত্যা মামলা উল্লেখ করে অগ্রগতি প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়, পিবিআই, সিআইডি, পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কর্তৃক এই মামলায় লুন্ঠিত মোবাইল ফোন সেট ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, হত্যা মামলাটি নিয়ে মিডিয়া মুখপাত্র ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। উল্লেখিত ব্যক্তিদের তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো বা মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য কিংবা দিক নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।</p><p><strong>জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা যেভাবে এলো</strong></p><p>তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এ মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন যে, দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়। এ–সংক্রান্তে জিয়াউল আহসানের ওর্ডারলী (একজন সেনা সদস্য) জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উল্লিখিত প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা পান বলে বর্ণনা দেন। জোহার বক্তব্য সমর্থন করে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, তাঁদের তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পিবিআইয়ের তদন্তকারীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।</p><p>অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্যসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনাকালে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তা তদন্ত করে যাচাই বাছাই করছেন মর্মে জানান। তাঁদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যাদি পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এক স্মারকের (১৩ অক্টোবর, ২০২৬) মাধ্যমে তাদের কাছে সংরক্ষিত মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য উপাত্ত তদন্তের জন্য হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তথ্যাদি পাওয়া যায়নি।</p><p>মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাধী শনাক্তকরাসহ গ্রেপ্তার, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আইসিটি প্রাপ্ত তথ্যাদি তদন্ত করে যাচাই–বাছাইসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অগ্রগতি প্রতিবেদনে।</p><p><strong>১৪ বছর আগে হত্যা ও মামলার পূর্বাপর</strong></p><p>২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করছিল গোয়ান্দা পুলিশ (ডিবি)। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের এক আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।</p><p>তদন্তের জন্য মামলাটি র‍্যাবের কাছে পাঠানোর আদেশ সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। আদালতের আদেশের পর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়।</p><p>আগের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ এপ্রিল বিষয়টি আদালতে ওঠে। তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ সেদিন ৯ মাস সময়ের আরজি জানায়। আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর বিষয়টি আদালতে ওঠে। সেদিন সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও ছয় মাস সময় দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদেশের জন্য চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালতে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানায়। ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় আদেশের জন্য ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানায়। ছয় সময় মঞ্জুর করে আদালত আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করে আদেশ দেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স।</p><p>আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরে শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬
মালয়েশিয়ায় ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬

<p>মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। আগামী ৮ নভেম্বর ইউনিভার্সিটি মালায়ার দুটি ফুটবল মাঠে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হবে।</p><p> প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের ফুটবল ক্লাব ‘বিডি এফসি মালয়েশিয়া’ ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেসের যৌথ আয়োজনে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।</p><p>রোববার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর চোকিটের এসটো হোটেলের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিডি এফসির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন। মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে পাবে ৬ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, রানার্সআপ দল পাবে ৩ হাজার রিঙ্গিত এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত। পুরস্কারের পাশাপাশি বিজয়ী দলগুলোর জন্য থাকবে ট্রফি ও মেডেল। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্যও বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিডি এফসির যুগ্ম সম্পাদক যুবায়ের রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিডি এফসির সভাপতি রাফেজ রহমান রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আলী আজগর মিলন ও মো. সোহাগ আহম্মেদ, সহসভাপতি শাহাজান আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক অপু রাইহান এবং বিডি এফসির প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল হোসেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/qptv5q81/5.jpg"></figure><p>এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মাজারুল আলম ও ইব্রাহিম, উপদেষ্টা আবদুল মবিন ভূঁইয়া, মোস্তফা ইমরান রাজু এবং বিভিন্ন দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়েরা।</p><p>আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ টুর্নামেন্ট মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা ও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা

<p>শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা চালু করেছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।</p><p> বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দর্শনার্থীরা জাদুঘরের প্রবেশমুখ থেকেই সরাসরি হুইলচেয়ার সেবা নিতে পারবেন। দর্শনার্থীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা স্বজন থাকলে তাঁরা হুইলচেয়ার পরিচালনা করে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন। কোনো দর্শনার্থী একা এলে তাঁকে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবেন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা।</p><p>জাদুঘরের অবকাঠামো ও প্রদর্শনী কক্ষগুলো যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বাধাহীন ও নির্বিঘ্ন থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।</p><p>এই সেবা নিয়ে জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, জুলাই জাদুঘর এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের স্মৃতি ও অনুভূতির জায়গা। শারীরিক কোনো সীমাবদ্ধতা যেন কারও ইতিহাস জানা ও জাদুঘর পরিদর্শনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্যই এই বিশেষ সেবা যুক্ত করা হয়েছে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
‘আমার মনে হয় না তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন’
‘আমার মনে হয় না তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন’

<p>গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া শিশুটির বাবা হুমকি পাওয়ার কথা গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকার কথাও বলেছিলেন তিনি। এর মধ্যে গতকাল রাত ১১টার পর খবর ছড়িয়ে পড়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি দেশ ছেড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিশুটির বাবার আইনজীবী মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।</p><p>এই আইনজীবী আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এই মুহূর্তে তিনি (শিশুটির বাবা) দেশের বাইরে গিয়েছেন। বিষয়টি যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, তিনি দেশের বাইরে গেলে ইমিগ্রেশন থেকে জানাজানি হতো। প্রতিপক্ষ মব সৃষ্টি করতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে হয়তো তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না।’</p><p>শিশুটির বাবার সঙ্গে আজ মঙ্গলবার একাধিকার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। তবে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।</p><p>শিশুটির বাবা দেশ ছেড়েছেন কি না, পুলিশের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর (শিশুটির বাবা) দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি আলোচনা হচ্ছে।’</p><p><strong>নিরাপত্তাহীনতা</strong></p><p>সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে বলেছেন, হুমকি পাওয়া ও আতঙ্কের কারণে নিরাপত্তার কারণে শিশুটির পরিবার টঙ্গীর বাসায় আপাতত থাকছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে তাদের ফ্ল্যাটে (বাসায়) গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ওই সময় শিশুটির বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর।</p><p>১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়।</p><p>শিশুর বাবার করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেমকে ২১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ২৫ অক্টোবর তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/cm49h5rmes">টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ix6jx9tm/gazipur1.jpg"><figcaption>টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ</figcaption></figure><p>শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা ইতিমধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে ২৪ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনো তদন্তের কাজ চলমান।’</p><p>যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরদিন ২০ অক্টোবর শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। হাতে ছিল মিষ্টির প্যাকেট। তবে পরিবার সাড়া না দেওয়ায় ফ্ল্যাটের (বাসা) দরজা থেকে ফিরে যান তিনি। ওই ভবনের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে এই দৃশ্য দেখা গেছে।</p><p>ফ্ল্যাটে ঢুকতে না পেরে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে একটি খুদে বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। তাতে লেখা ছিল, ‘আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।’</p><p>তবে ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফিরে যান। ওই সময় শিশুটির বাবা বাসায় ছিলেন না।</p><p><strong>পাল্টা মামলা</strong></p><p>শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে টাকা নেওয়া বা সরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে অন্য কোনো তথ্য–প্রমাণ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশও তদন্ত করছে।</p><p>যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ এবং টাকা লুটের মামলার তদন্ত পৃথকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/aiwwwi9ikb">‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নেতানিয়াহু না জিতলে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি
নেতানিয়াহু না জিতলে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি

<p>ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু না জিতলে ফল চ্যালেঞ্জ করে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল লিকুদ পার্টি। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে অভিযোগ তুলেছিলেন, লিকুদ পার্টিও একই কায়দায় প্রচার চালানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে।</p><p> ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরব জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য জালিয়াতির একাধিক অভিযোগের খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করে রেখেছে লিকুদ পার্টি। দলটির নেতা–কর্মীরা পুরো মুখ ঢাকা বোরকা পরা নারী ভোটার এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা সময়ে ভোট নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ধরে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।</p><p>এসব কেন্দ্রে ‘নজরদারি’ করতে লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত এলাকায় ইতিমধ্যে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী পাঠিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান বিধিমালায় এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও জালিয়াতির অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি।</p><p>ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরিস্থিতি মাথায় রেখে দলটির শীর্ষ নেতারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছেন। সেখানে ব্যাপকভাবে কারচুপির অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।</p><p>নেতানিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ সূত্র হারেৎজকে বলে, পরাজয়ের ক্ষেত্রে কী করণীয়, তা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সেখানে ২০২০ সালে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ‘নির্বাচনে ভোট চুরি ও কারচুপি হয়েছে’ বলে প্রচার চালানোর পক্ষে স্পষ্ট মতামত এসেছে। এসব আলোচনায় নেতানিয়াহু নিজে যুক্ত ছিলেন না। তবে নির্বাচনে হারলে ফল চ্যালেঞ্জ করার বিকল্পটি তিনি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>আরব এলাকায় সম্ভাব্য ভোট জালিয়াতি নিয়ে লিকুদ পার্টির একটি সূত্র হারেৎজকে বলেন, ‘ধরা যাক, একজন নারী বোরকা পরে ভোট দিতে এলেন। এর কয়েক মিনিট পর আরেকজন নারী বোরকা পরে এলেন। তিনি আগের নারীই কি না, তা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’</p><p>হারেৎজ জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের পরিচয় জানতে চাওয়ার কোনো এখতিয়ার দলীয় কর্মীদের নেই। কোনো নারী তাঁদের কাছে নিজের পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মীরা কী করবেন, সে বিষয়েও লিকুদ সূত্রটি স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে ওই সূত্র দাবি করে, ‘আরব এলাকায় জালিয়াতি ঠেকাতে আমরা সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছি।’</p><p>লিকুদ পার্টি ও তাদের কট্টর ডানপন্থী মিত্র রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি আরব ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুই হাজার কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এসব কর্মীর কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা নজরদারির আইনি এখতিয়ার নেই।</p><p>আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে জালিয়াতির আশঙ্কা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা লিকুদ ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি ব্যাখ্যা করেনি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক দিন লিবনে সাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ নেই এবং বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাই যথেষ্ট। অন্যদিকে ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট ইন ইসরায়েল’ জানিয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটামাত্র কর্তৃপক্ষকে জানাতে তারা একটি হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
খাটে বসলে আলো জ্বলে, আছে গেমিং চেয়ার
খাটে বসলে আলো জ্বলে, আছে গেমিং চেয়ার

<p>খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল কিংবা আলমারি—ঘর সাজানোর আসবাবের মেলা চলছে রাজধানীতে। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য চলছে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। পাশাপাশি নকশা, রং ও প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে দেশীয় ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানগুলো।</p><p> মেলায় আসা কাঠের আসবাবে অ্যান্টিক ও গোল্ডেন রঙের ব্যবহার বেশি এবং সোফায় কাপড়ের বদলে আসছে কৃত্রিম চামড়ার আবরণ। আবার খাটে যুক্ত হয়েছে এমন প্রযুক্তি—কেউ ওই খাটে বসলে চারদিকে হালকা আলো জ্বলে ওঠে। মেলায় এসেছে গেমিং চেয়ার। এই হলো মেলার চমক।</p><p> রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) আয়োজনে এবারের মেলায় ৪৪টি প্রতিষ্ঠান ৩২৩টি স্টলে নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করছে। আয়োজকদের দাবি, মেলায় শুধু দেশে বানানো আসবাব প্রদর্শন করা হচ্ছে।</p><p>মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আইসিসিবির হল-২, হল-৩ ও হল-৪-এ দর্শনার্থীরা মেলা ঘুরে দেখতে পারবেন। প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগবে না।</p><p>মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী নকশা ও রঙে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি আসবাবের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ছোট জায়গায় ব্যবহারযোগ্য সোফা কাম বেড, সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন সোফা এবং নতুন প্রযুক্তির খাটও রয়েছে প্রদর্শনীতে।</p><p>মেলায় আসা ক্রেতাদের কেউ আসবাব কিনতে এসেছেন, কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নকশা ও দাম তুলনা করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন খিলক্ষেতের তারেক কায়সার। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আসবাব ঘুরে দেখছেন তিনি।</p><p>স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আবদুল জলিল। তাঁর মতে, আগের মতো পাকা কাঠের আসবাব এখন কম দেখা যায়। নতুন আসবাব দেখতে সুন্দর হলেও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে তাঁর কিছুটা সংশয় রয়েছে। তাই কেনার আগে বিভিন্ন পণ্য দেখছেন এবং তুলনা করছেন তিনি।</p><p><strong>অ্যান্টিক ও গোল্ডেন রঙে নতুনত্ব</strong></p><p>মেলায় ভিক্টোরিয়ান ও ক্ল্যাসিক্যাল নকশার পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনের ফার্নিচার দেখা গেছে। রঙের ক্ষেত্রে অ্যান্টিক ও গোল্ডেনের ব্যবহারও চোখে পড়ছে।</p><p>সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আখতার ফার্নিচারের নকশায় ভিক্টোরিয়ান ধারা থেকে ক্ল্যাসিক্যাল ও আধুনিক ডিজাইনের দিকে পরিবর্তন এসেছে। মেলায় প্রথমবারের মতো সোনালি রঙের একটি কিং সাইজের খাট এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। যশোরের মেহগনি কাঠের তৈরি খাটটির দাম ৯৪ হাজার টাকা।</p><p>অটবির স্টলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আসবাবে অ্যান্টিক রঙের ব্যবহার রয়েছে। ভিক্টোরিয়ান নকশার খাটের চাহিদা রয়েছে। মেলায় অটবির খাটের দাম ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা, আলমারি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ড্রেসিং টেবিল ৪৪ হাজার টাকা।</p><p>ব্রাদার্স ফার্নিচারের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম বলেন, আসবাবে হালকা রঙের ব্যবহার বেশি থাকলেও এখন অ্যান্টিক রঙের দিকে ঝোঁক বেড়েছে। মেলা উপলক্ষে রেক্সিনের হাতলযুক্ত একটি নতুন নকশার সোফার দাম চাওয়া হচ্ছে ৯১ হাজার টাকা।</p><p><strong>সোফায় কৃত্রিম চামড়া, বিছানায় সেন্সর</strong></p><p>নাদিয়া ফার্নিচারের স্টলে গিয়ে দেখা গেছে, একটি বিছানায় সেন্সর প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এতে কেউ বসলে চারদিকে আলো জ্বলে ওঠে। খাটটির দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।</p><p>নাভানা ফার্নিচারের নতুন সোফায় পিইউ বা কৃত্রিম চামড়ার আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ময়লা কম লাগে এবং স্প্রে করে পরিষ্কার করা যায়। নাভানার পাঁচ আসনের একটি সোফার দাম লেখা আছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। একই ধরনের আবরণযুক্ত ডাবল সাইজের বিছানার দাম ৬৫ হাজার টাকা।</p><p>পারটেক্স ফার্নিচারের প্রতিনিধি খালেদ হোসেন বলেন, কম জায়গায় ব্যবহার করা যায় বলে সোফা-কাম-বেডের চাহিদা রয়েছে। তাঁদের এ ধরনের একটি পণ্যের দাম ৪৫ হাজার টাকা। টি-টেবিলসহ পাঁচ আসনের সোফার দাম ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং কুইন সাইজের বিছানা ৯৫ হাজার টাকা।</p><p><strong>গেমিং চেয়ার এনেছে রিগ্যাল</strong></p><p>রিগ্যাল ফার্নিচার মেহগনি কাঠের লো-বেডের দাম ৫১ হাজার টাকা। এ ছাড়া নাইলন মেশের তৈরি গেমিং চেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৩ হাজার টাকায়। এ ধরনের চেয়ারে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার সুবিধা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী।</p><p><strong>ছাড় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত</strong></p><p>মেলায় প্রতিষ্ঠানভেদে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অ্যাথেনাসের ফার্নিচারে ২৫ শতাংশ ছাড় রয়েছে। সেগুন কাঠের সোফার দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু।</p><p>এমজি ১২ শতাংশ, ওমেগা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ, পি-টু-পি ১৫ শতাংশ, লিগ্যাসি ১৫ শতাংশ ও নাদিয়া ফার্নিচার ১২ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার
স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার

মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেটের তোপে ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা; ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে প্রথম দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
গণতন্ত্র ও ভিন্নমত চর্চার অধিকারের ওপর আঘাত সহ্য করা হবে না: সিপিবির সাধারণ সম্পাদক
গণতন্ত্র ও ভিন্নমত চর্চার অধিকারের ওপর আঘাত সহ্য করা হবে না: সিপিবির সাধারণ সম্পাদক

<p>বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দলের কার্যালয়ে হামলা কিংবা নেতা–কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অধিকার কারও নেই।</p><p> আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন ক্বাফী রতন। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনে হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এই সমাবেশ হয়। যুক্তফ্রন্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p>সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গতকাল সোমবার রাত ১০টায় লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তি ভবনের সামনে জড়ো হন। তাঁরা দাবি করেন সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন। প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সিপিবির নেতা–কর্মীরা বাধা দেন। তখন হামলায় কয়েকজন আহত হন। পুলিশ এসে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখেন।</p><p>বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবির বহু নেতা–কর্মী জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানেও মুক্তি ভবন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সেখানে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।</p><p>সমাবেশ থেকে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচার এবং রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক সংগঠনের কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান নেতারা।</p><p>গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা জয়দেব ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, মুশতাক হোসেন, ইকবাল কবির জাহিদ, মোশরেফা মিশু, আব্দুল আলী, সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/gqp5ph6k/cpb.jpg"><figcaption>সিপিবি কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র ও যুব ইউনিয়ন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ২৭ অক্টোবর, ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>শাহবাগে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ</strong></p><p>সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করা ও নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।</p><p>সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।</p><p>সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মানুষকে মবের শিকার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। সরকারের উদ্দেশে যুব ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো এমন একটি কার্ড চালু করুন, যা দেখিয়ে মানুষকে প্রমাণ করতে হবে না যে তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। মুক্তিযুদ্ধের কথা বললে, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে কথা বললে কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে মানুষকে যেন আটক, হয়রানি ও মবের শিকার হতে না হয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষ এই ভোগান্তি চায় না।</p><p>সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার বলেন, গতকাল নেতা–কর্মীরা যখন কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন পুলিশ ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালায়। মব সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত না করে যাঁরা মবের শিকার হয়েছেন, পুলিশ তাঁদের ওপরই চড়াও হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারের চরিত্র স্পষ্ট হয়েছে।</p><p>সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাদুঘরের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।</p><p>সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল। তাঁর মুক্তির পর রাতে পুরানা পল্টনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সিপিবির নেতা–কর্মীরা। ওই মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে সিপিবির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা এবং দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে নানা স্লোগান দেন হামলাকারীরা।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”