পাঠচক্রে কবির প্রতি বন্ধুদের ভাবনা, তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। সঞ্চালক বলেন, ‘আমার মনে হয়, কুসুমকুমারী দাশের লেখা “আদর্শ ছেলে” কবিতার সেই আদর্শ ছেলেটিই জীবনানন্দ দাশ। তিনি ছিলেন খুব চুপচাপ স্বভাবের এবং কাজের বেলায় বেশ পটু।’
<p>দাবানলের কারণে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের একটি শহরের বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। খুব শিগগির আগুন নেভার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে চালু করা হয়েছে বিশেষ একধরনের বাস। সেগুলোতে ধোঁয়া থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে থাকবে অক্সিজেন ও চিকিৎসাকর্মী।</p><p> ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়মিতই দেখা যায়। মূলত সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এ ধরনের আগুন বেশি লাগে। তবে এবারের দাবানলকে বলা হচ্ছে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এই দাবানলের জেরে ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের আকাশও ধোঁয়ায় কমলা রঙের হয়ে উঠেছে।</p><p>বোর্নিও দ্বীপের যে শহরটিতে অক্সিজেন বাস চালু করা হয়েছে, সেটির নাম পালাংকা রায়া। এটি সেন্ট্রাল কালিমানতান প্রদেশের মধ্যে পড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই বাসে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। শহরের বাসিন্দারা বাসে উঠে নলের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ মিনিট অক্সিজেন নিতে পারছেন।</p><p>বাসগুলোর রং নীল ও সাদার মিশেলে। এমন একটি বাসে থাকা এক চিকিৎসাকর্মী বলেন, সেখানে আসা বেশির ভাগ মানুষের কাশি হচ্ছে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আর বাসে এসে অক্সিজেন নেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ওকতাভিনা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি প্রকৃতির কারণে সৃষ্টি হওয়া একটি দুর্যোগ। আমাদের করার তেমন কিছুই নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/nubl16rs/indo-2.JPG"><figcaption>সড়কের ধারে অক্সিজেন বাস। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পালাংকা রায়া শহরে</figcaption></figure><p>ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দাবানলের কারণে দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে আগস্ট থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সেন্ট্রাল কালিমানতান প্রদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ হাজার।</p>
<p>রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ ও হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এর স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। চারটি প্যাকেজের আওতায় এই দুই নতুন মেট্রোরেলের ৮ উড়াল স্টেশন ও ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর ও পূর্বাচলে দুই মেট্রোরেলে ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। </p><p>আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনে আলাদা আলাদাভাবে চারটি প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদার নিয়োগের চুক্তি সই হয়। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটিতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়ন রয়েছে। এই দুই মেট্রোরেল নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হবে দুই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন–১–এ খরচ হবে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। আর এমআরটি লাইন–৫–এ খরচ হবে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এমআরটি লাইন–১–এর দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের। আর এমআরটি লাইন–৫ হবে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলে স্টেশন থাকবে ২১টি। আর হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেলে স্টেশন থাকবে ১৪টি। এই দুটি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।</p><p>এদিকে নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএল এ তথ্য জানিয়েছে।</p><h3>চার প্যাকেজে যেসব কাজ হবে </h3><p>ডিএমটিসিএলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় চুক্তি অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের জন্য ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের সঙ্গে। এ ছাড়া এই লাইনের ৫ কিলোমিটার উড়ালপথ ও জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি স্টেশন নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে চীনের সিআরইসি ও এমবিইসি এবং জাপানের এমআইএলের সঙ্গে।</p><p>এমআরটি লাইন-৫ ডিপোর জন্য প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে তাইওয়ানের সিপিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানিলের সঙ্গে। এ ছাড়া অন্য প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা—এই পাঁচ স্টেশন নির্মাণের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি–এমআইএল–এমবিইসির সঙ্গে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।</p>
<p>জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এর জবাবে জামায়াত বলছে, যিনি বা যাঁরা এমন অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে।</p><p> আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।</p><p>বিবৃতিতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রেখে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কিন্তু সম্প্রতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াতের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>বিবৃতিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা ও তথ্যের সঠিকতা যাচাইপূর্বক প্রমাণ সাপেক্ষে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা প্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক থেকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।</p><p>যিনি বা যাঁরা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জড়িয়ে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়ে সংবাদ ছড়িয়েছেন, তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, তাঁদের উচিত অভিযোগের সত্যতা জাতির সামনে প্রকাশ করা। অসত্য তথ্য দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জাতির কাছে বিতর্কিত করার হীন ও নোংরা প্রয়াস সফল হবে না।</p><p>গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন।</p><p>রাশেদ আরও লিখেন, ‘যারা সারা দিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে, তারা কী কারণে, কোন স্বার্থে ভারতীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে? কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা, আর ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হওয়া এক জিনিস নয়।’</p><p>প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী লিখেন, ‘মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতি করে থাকেন, আশা করি তিনি গোপন এই বৈঠকের বিষয়টি খোলাসা করবেন। অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!’</p>
<p>ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ। আমি গ্রামের ছেলে। আমার বাপ-দাদার চৌদ্দগোষ্ঠীই কৃষিকাজ করেছেন। তবে আমার বাবা ছিলেন পরিবারের প্রথম ব্যক্তি, যিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।</p><p> এর পেছনেও একটি ইতিহাস আছে। ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এলাকায় নীলচাষের প্রচলন শুরু হয়েছিল। নীলচাষকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ওপর অত্যাচার, অবিচার ও নির্যাতনের বন্যা বয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় ছোটখাটো রাজাদের প্রভাবের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার ছিল? শেষ পর্যন্ত আমার দাদা পরিকল্পনা করলেন, বাবাকে পুলিশ প্রশাসনে যুক্ত করবেন। বাবার চেহারা ও শারীরিক গঠন সম্ভবত তৎকালীন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।</p><p> কিন্তু সরকারি চাকরি করলেও বাবা কৃষিকাজ ছেড়ে দেননি। তাঁর ৩০ বছরের কর্মজীবনে যেমন কৃষিকাজ চলেছে, তেমনি অবসর গ্রহণের পরও তিনি জমি ও কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কৃষি তাঁর কাছে কেবল জীবিকা ছিল না, ছিল পারিবারিক ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p><p>প্রায় ২০ বছর আগে আমার মা–বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমরা দেশের বাইরে থাকলেও আমাদের জমিতে কৃষিকাজ এখনো চলছে। তবে জমিজমার ভোগদখল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও লক্ষ করছি। সময় ও যথেষ্ট গুরুত্বের অভাবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু মনে হচ্ছে, এবার কিছু একটা করা প্রয়োজন। কারণ, পূর্বপুরুষের সম্পত্তি শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার বিষয় নয়, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও উত্তরসূরিদের।</p><p>সুইডেনে অবসর সময়ে আমি কৃষিকাজ করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের দেশীয় শাকসবজি চাষ করে আসছি কয়েক বছর ধরে। মজার ব্যাপার হলো, শীতপ্রধান সুইডেনেও গ্রীষ্মের মৌসুমে বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের শাকসবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে। মনে মনে ভাবি, কৃষির প্রতি আগ্রহ, নতুন পদ্ধতি ও কিছুটা পরিশ্রম কাজে লাগাতে পারলে শীতের দেশেও গ্রীষ্মকালে একধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটানো সম্ভব।</p><p>আমার বাগানে লাউয়ের চাষ বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক সুইডিশও এখন নিজেদের বাড়ির আঙিনায় লাউ চাষ শুরু করেছেন। আমি সবজিটিকে লাউ বলেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছি, মূলত উচ্চারণের সুবিধার্থে। এভাবেই বাংলাদেশের একটি পরিচিত সবজি সুইডেনের মানুষের কাছেও ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।</p><p>আমার বাগানের পাশে রান্নাবান্নার ব্যবস্থাও আছে। বাংলাদেশের শাকসবজি দিয়ে সেখানে রান্না করি। প্রায়ই মাঠের পরিবেশে সবাই মিলে বসে খাওয়াদাওয়া করি। চারপাশের প্রকৃতি, তাজা সবজি, রান্নার ঘ্রাণ আর একসঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ আমাকে বারবার শৈশবের গ্রামীণ জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মনে হয়, দেশ থেকে বহু দূরে থেকেও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা যায়।</p><p>কিছুদিন আগে লাউ দিয়ে একটি বিশেষ খাবার রান্না করেছিলাম, যার নাম ‘দুধকদু’। বাংলাদেশে আঞ্চলিক ভাষায় এই খাবারের আরও কোনো নাম আছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে খাবারটি তৈরির উপকরণ ও পদ্ধতি বেশ সহজ। লাউ কুচি কুচি করে কেটে তার সঙ্গে গরুর দুধ, নারিকেলের দুধ, খেজুরের গুড় বা চিনি, চালের সুজি বা গুঁড়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে রান্না করা হয়। তৈরি হওয়ার পর এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্নে পরিণত হয়।</p><p>সবাই খেয়ে বলল, খাবারটি নাকি অমৃত! তা হবে না কেন? দেশীয় সবজির স্বাদ, দুধের ঘ্রাণ, নারিকেলের মিষ্টতা আর খেজুরের গুড়ের পরিচিত সুবাস একসঙ্গে মিশলে খাবারটি সুস্বাদু হওয়ারই কথা।</p><p>কিন্তু খাওয়া শেষ হতেই সবার মুখে একটি প্রশ্ন: রান্না করার আগে যার নাম লাউ, রান্নার পর সে কদু হলো কীভাবে?</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>আমি নিজের মতো করে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই স্ত্রী মারিয়া হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘যে লাউ সেই কদু!’</p><p>কথাটি শুনে আমি তো অবাক! এ কীভাবে সম্ভব? এমন একটি প্রচলিত বাংলা প্রবাদ তিনি ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গায় ব্যবহার করলেন কীভাবে?</p><p>পরে জানা গেল, এর পেছনে রয়েছে আরও একটি মধুর স্মৃতি।</p><p>১৯৯৫ সালে মারিয়া প্রথম বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তখন আমার মা নিজের হাতে দুধকদু রান্না করেছিলেন। খেজুরের রসের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে চিতই পিঠা পরিবেশন করা, দুধকদু রান্না করা এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়াদাওয়ার সেই দিনগুলোর স্মৃতি মারিয়ার মনে আজও অমলিন। এত বছর পর সুইডেনের মাটিতে একই ধরনের খাবার খেয়ে তাঁর সেই স্মৃতিগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।</p><p>আমার মা আজ আর পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তাঁর হাতে তৈরি খাবারের স্মৃতি, আতিথেয়তা ও ভালোবাসা আজও আমাদের সংসারে বেঁচে আছে। মায়ের রান্না করা একটি খাবার যে এত বছর পরও অন্য একটি দেশের মানুষের মনে এত গভীরভাবে জায়গা করে থাকবে, তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।</p><p>এখানেই আমার কাছে গল্পটির প্রকৃত সৌন্দর্য।</p><p>একটি খাবার কেবল ক্ষুধা নিবারণ করে না। কখনো কখনো তা মানুষকে অতীতের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে আপন করে তোলে এবং দূরত্বের মধ্যেও সম্পর্কের সেতু গড়ে দেয়। আমার মায়ের রান্না করা দুধকদু তাই মারিয়ার কাছে কেবল একটি খাবার নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়ের একটি জীবন্ত স্মৃতি।</p><p>আর মারিয়ার বলা সেই কথাটি, ‘যে লাউ সেই কদু’, আমাকে ভাবিয়েছে অন্যভাবে।</p><p>আমরা একই জিনিসকে ভিন্ন নামে চিনি, ভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করি, ভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে তার অর্থ খুঁজে নিই। কিন্তু নামের পার্থক্য সব সময় মূল বিষয়ের পার্থক্য তৈরি করে না। লাউ ও কদুর এই গল্পে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি আছে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে বোঝার একটি সহজ শিক্ষা।</p><p>আমাদের সমাজেও এমন অনেক পার্থক্য আছে, যেগুলো নিয়ে মানুষ অকারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অঞ্চল, ভাষা, সামাজিক পরিচয়, রাজনৈতিক মত কিংবা জীবনযাপনের ভিন্নতা আমাদের পরস্পরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ পার্থক্যকে বোঝার চেষ্টা করলে তার মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব।</p><p>তবে এই উপলব্ধির অর্থ এই নয় যে সব পার্থক্য উপেক্ষা করতে হবে। ন্যায় ও অন্যায়, সততা ও অসততার পার্থক্য অবশ্যই বুঝতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান ও সহমর্মিতা দিয়ে দূরত্ব কমানো সম্ভব, সেখানে বিভেদ বাড়িয়ে কী লাভ?</p><p>আমার নিজের জীবনও আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামে কৃষিকাজের মধ্য দিয়ে যে জীবন শুরু হয়েছিল, আজ সুইডেনের মাটিতে সেই কৃষির মধ্যেই আমি আনন্দ খুঁজে পাই। দেশ বদলেছে, পরিবেশ বদলেছে, কিন্তু মাটির প্রতি ভালোবাসা বদলায়নি। আমার বাবা সরকারি চাকরি করেও কৃষিকে আঁকড়ে রেখেছিলেন, আর আমি বিদেশে থেকেও সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত আছি। এ যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা সম্পর্কের ধারাবাহিকতা।</p><p>এই ধারাবাহিকতার মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। কৃষিকে অবহেলা করে কোনো জাতি দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গ্রামীণ জীবনের শক্ত ভিত নিশ্চিত করতে পারে না। কৃষি শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়, ভবিষ্যতেরও সম্ভাবনা। জ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে আমাদের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।</p><p>একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পাওয়া জমি, সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষা করাও একটি দায়িত্ব। শুধু অতীতের গৌরব নিয়ে কথা বললে হবে না, বর্তমানের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর উত্তরাধিকার রেখে যেতে হবে।</p><p>সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সন্তানদের জন্য শুধু অর্থসম্পদ রেখে যাওয়াই যথেষ্ট নয়। তাদের মনে সততা, পরিশ্রম, মানবিকতা, শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের প্রতি সম্মানবোধ জাগিয়ে তোলাও জরুরি। কারণ, সম্পদ হয়তো এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তর করা যায়, কিন্তু মূল্যবোধ টিকে থাকে মানুষের আচরণে, স্মৃতিতে ও জীবনের চর্চায়।</p><p>আজ সুইডেনের বাগানে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশের লাউ দেখি, তখন শুধু একটি সবজি দেখি না। দেখি আমার শৈশব, আমার পূর্বপুরুষ, আমার বাবার কৃষির প্রতি ভালোবাসা, মায়ের রান্নাঘর এবং একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি। আর যখন সবাই মিলে সেই লাউ দিয়ে তৈরি দুধকদু খাই, তখন মনে হয়, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষের জীবনযাত্রা বদলালেও ভালোবাসা ও স্মৃতির ভাষা খুব একটা বদলায় না।</p><p>মারিয়ার একটি ছোট্ট মন্তব্য তাই আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। কখনো কখনো জীবনের বড় শিক্ষা আসে একেবারেই ছোট্ট কোনো ঘটনা থেকে। তার জন্য বড় বক্তৃতা লাগে না, জটিল তত্ত্বেরও প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু ঘটনাটির ভেতরের অর্থ উপলব্ধি করার ক্ষমতা।</p><p>যে লাউ সেই কদু। কথাটি হাসির ছলে বলা হলেও এর মধ্যে আমি খুঁজে পাই শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ এবং নিজের দায়িত্ব পালনের শিক্ষা।</p><p>আমরা যদি নিজেদের শিকড়কে ভালোবাসতে শিখি, কৃষি ও শ্রমের মর্যাদা দিতে পারি, অন্যের ভিন্নতাকে সম্মান করি এবং ন্যায়ের প্রশ্নে আপস না করে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে মূল্য দিই, তাহলে আমাদের সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠবে।</p><p>শেষ পর্যন্ত মানুষ কী নামে পরিচিত, কোথায় বসবাস করে কিংবা কোন সংস্কৃতির অনুসারী, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সে কী রেখে যাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।</p><p>একটি লাউ থেকে দুধকদু হতে পারে, একটি পুরোনো স্মৃতি নতুন করে জীবন্ত হতে পারে, আর একটি সাধারণ পারিবারিক ঘটনা হয়ে উঠতে পারে জীবনের মূল্যবান শিক্ষা।</p><p>আমাদেরও তাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা উচিত, যেখানে শিকড় থাকবে অটুট, কৃষি পাবে মর্যাদা, উত্তরাধিকার থাকবে সুরক্ষিত, ভিন্নতার মধ্যে তৈরি হবে সম্প্রীতি এবং মানুষের পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠবে তার সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা।</p>
<p>চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যবসা বেড়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিদেশি কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৭৩ কোটি টাকার বা ৪ শতাংশের বেশি। তারপরও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) শেষে লোকসান বেড়েছে সিঙ্গারের। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। </p><p> গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনিরীক্ষিত এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি।</p><p>কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। ব্যবসা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গারের পরিচালনা মুনাফাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটি পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি টাকা। কিন্তু সেই পরিচালন মুনাফা শেষ পর্যন্ত বড় লোকসানে পরিণত হয়েছে চূড়ান্ত হিসাবে এসে। কারণ, ব্যাংকঋণের সুদ, সরকারের কর পরিশোধ ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের খরচের পর পরিচালন মুনাফা লোকসানে পরিণত হয়।</p><p>আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকঋণের সুদাসল বাবদ কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খরচ বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল খাতে গত ৯ মাসে কোম্পানিটির খরচ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ের যার পরিমাণ ছিল ১০১ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার কর বাবদ সরকারকে দিয়েছে ১১ কোটি টাকা। আর এসব খরচের পর গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে সিঙ্গারের লোকসান দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সিঙ্গারের লোকসান বেড়েছে ৪ কোটি টাকা।</p><p>লোকসানের কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটি বলেছে, মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পণ্য বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি কোম্পানিটির। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজার বাস্তবতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এসব কারণে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও মুনাফায় ফিরতে পারেনি কোম্পানিটি।</p>
<p>সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি উভয়ের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাতের অস্তিত্ব নেই। এ হত্যাকাণ্ড পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভিকটিমদের (সাগর–রুনি) দেহে অনেকগুলো ক্ষত ছিল, যা অধিক রক্তক্ষরণের জন্য দায়ী। তবে প্রতীয়মান হয়, ভিকটিম মৃত্যুর পূর্বে অনেকক্ষণ ক্ষতসহ জীবিত ছিলেন। ঘাড়ে ও পিঠে, চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ক্রাইম সিন ও ভিকটিমদের ক্ষতের পরিমাণ দেখে বোঝা যায়, খুনিরা তাড়াহুড়া করেনি।</p><p> সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ অংশে—এমনটাই উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রাখা হয়েছে। </p><p><strong>দুই অজ্ঞাতনামা পুরুষের ডিএনএ, পরিচয় উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি</strong></p><p>ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সাগর সরওয়ারকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং মেহেরুন রুনির টি-শার্ট থেকে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষায় দুটি অপরিচিত পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায় বলে অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই অপরিচিত অপরাধী শনাক্তের জন্য ডিএনএ প্রস্তুতকারী দুটি (যুক্তরাষ্ট্রের) ল্যাবে প্রচেষ্টা চালিয়েও অপরাধীদের শনাক্তে ছবি প্রস্তুত করা যায়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ডিএনএর অধিক মিশ্রণ। ফলে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ সব ব্যক্তি বা আসামির ডিএনএর সঙ্গে ওই অজ্ঞাত ডিএনএর মিল আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।</p><p>তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভাষ্য, মামলায় জব্দ করা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির ব্যাট এবং সাগর ও রুনির পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত ও ২৫ জন ব্যক্তির বাকাল সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। আলামতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে পাঠানো ব্যক্তিদের ডিএনএ ম্যাচিং হয়নি বলে ডিএনএ ল্যাবের পাঠানো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।</p><p>ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনাস্থলে মোট চারজন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন এই মামলার ভিকটিম সাগর সরওয়ার এবং একজন নারী মেহেরুন নাহার রুনি বলে শনাক্ত হয়। বাকি দুজন অজ্ঞাতনামা পুরুষ ব্যক্তি কারা, তা উদ্ঘাটন করা যায়নি।…দীর্ঘ তদন্তেও ওই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা এখনো সুনির্দিষ্ট করা যায়নি।</p><p><strong>পারিবারিক কিংবা পেশাগত বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি</strong></p><p>পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহত্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে—এ ধরনের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন এই দম্পতি দেশের বাইরে জার্মানিতে ছিলেন, মৃত্যুর সাত মাস আগে দেশে আসেন। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টিভির সহকর্মী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তাঁর কোনো শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।</p><p>সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে, ২০১৩ সালে যার নির্মাণকাজ শুরু হয় উল্লেখ করে অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তাঁদের হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি না, তদন্তকালে এ ধরনের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, কারও সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।</p><p><strong>উদ্ধার হয়নি মোবাইল ও ল্যাপটপ</strong></p><p>সাগর–রুনি হত্যা মামলা একটি আলোচিত হত্যা মামলা উল্লেখ করে অগ্রগতি প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়, পিবিআই, সিআইডি, পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কর্তৃক এ মামলায় লুণ্ঠিত মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এ মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, হত্যা মামলাটি নিয়ে মিডিয়া মুখপাত্র ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তোবা মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য কিংবা দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।</p><p><strong>জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর–সংশ্লিষ্টতা যেভাবে এল</strong></p><p>তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এ মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন যে দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়। এ–সংক্রান্তে জিয়াউল আহসানের ওর্ডারলি (একজন সেনাসদস্য) জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উল্লিখিত প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা পান বলে বর্ণনা দেন। জোহার বক্তব্য সমর্থন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, তাঁদের তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত পিবিআইয়ের তদন্তকারীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।</p><p>অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্যসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনাকালে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীরের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তা তদন্ত করে যাচাই–বাছাই করছেন মর্মে জানান। তাঁদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যাদি পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এক স্মারকের (১৩ অক্টোবর ২০২৬) মাধ্যমে তাদের কাছে সংরক্ষিত মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য–উপাত্ত তদন্তের জন্য হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তথ্যাদি পাওয়া যায়নি।</p><p>মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধী শনাক্ত করাসহ গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আইসিটি প্রাপ্ত তথ্যাদি তদন্ত করে যাচাই–বাছাইসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অগ্রগতি প্রতিবেদনে।</p><p><strong>১৪ বছর আগে হত্যা ও মামলার পূর্বাপর</strong></p><p>২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করছিল গোয়ান্দা পুলিশ (ডিবি)। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের এক আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব।</p><p>তদন্তের জন্য মামলাটি র্যাবের কাছে পাঠানোর আদেশ সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। আদালতের আদেশের পর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়।</p><p>আগের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ এপ্রিল বিষয়টি আদালতে ওঠে। তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ সেদিন ৯ মাস সময়ের আরজি জানায়। আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর বিষয়টি আদালতে ওঠে। সেদিন সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও ছয় মাস সময় দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদেশের জন্য চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালতে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানায়। ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় আদেশের জন্য ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানায়। ছয় মাস সময় মঞ্জুর করে আদালত আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করে আদেশ দেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স।</p><p>আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরে শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।</p>
<p>মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। আগামী ৮ নভেম্বর ইউনিভার্সিটি মালায়ার দুটি ফুটবল মাঠে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হবে।</p><p> প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের ফুটবল ক্লাব ‘বিডি এফসি মালয়েশিয়া’ ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেসের যৌথ আয়োজনে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।</p><p>রোববার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর চোকিটের এসটো হোটেলের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিডি এফসির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন। মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে পাবে ৬ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, রানার্সআপ দল পাবে ৩ হাজার রিঙ্গিত এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত। পুরস্কারের পাশাপাশি বিজয়ী দলগুলোর জন্য থাকবে ট্রফি ও মেডেল। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্যও বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিডি এফসির যুগ্ম সম্পাদক যুবায়ের রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিডি এফসির সভাপতি রাফেজ রহমান রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আলী আজগর মিলন ও মো. সোহাগ আহম্মেদ, সহসভাপতি শাহাজান আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক অপু রাইহান এবং বিডি এফসির প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল হোসেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/qptv5q81/5.jpg"></figure><p>এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মাজারুল আলম ও ইব্রাহিম, উপদেষ্টা আবদুল মবিন ভূঁইয়া, মোস্তফা ইমরান রাজু এবং বিভিন্ন দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়েরা।</p><p>আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ টুর্নামেন্ট মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা ও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।</p>
<p>শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা চালু করেছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।</p><p> বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দর্শনার্থীরা জাদুঘরের প্রবেশমুখ থেকেই সরাসরি হুইলচেয়ার সেবা নিতে পারবেন। দর্শনার্থীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা স্বজন থাকলে তাঁরা হুইলচেয়ার পরিচালনা করে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন। কোনো দর্শনার্থী একা এলে তাঁকে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবেন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা।</p><p>জাদুঘরের অবকাঠামো ও প্রদর্শনী কক্ষগুলো যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বাধাহীন ও নির্বিঘ্ন থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।</p><p>এই সেবা নিয়ে জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, জুলাই জাদুঘর এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের স্মৃতি ও অনুভূতির জায়গা। শারীরিক কোনো সীমাবদ্ধতা যেন কারও ইতিহাস জানা ও জাদুঘর পরিদর্শনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্যই এই বিশেষ সেবা যুক্ত করা হয়েছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”