জেলা

‘আমার মনে হয় না তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন’

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
‘আমার মনে হয় না তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন’
‘আমার মনে হয় না তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন’
<p>গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া শিশুটির বাবা হুমকি পাওয়ার কথা গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকার কথাও বলেছিলেন তিনি। এর মধ্যে গতকাল রাত ১১টার পর খবর ছড়িয়ে পড়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি দেশ ছেড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিশুটির বাবার আইনজীবী মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।</p><p>এই আইনজীবী আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এই মুহূর্তে তিনি (শিশুটির বাবা) দেশের বাইরে গিয়েছেন। বিষয়টি যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, তিনি দেশের বাইরে গেলে ইমিগ্রেশন থেকে জানাজানি হতো। প্রতিপক্ষ মব সৃষ্টি করতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে হয়তো তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না।’</p><p>শিশুটির বাবার সঙ্গে আজ মঙ্গলবার একাধিকার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। তবে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।</p><p>শিশুটির বাবা দেশ ছেড়েছেন কি না, পুলিশের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর (শিশুটির বাবা) দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি আলোচনা হচ্ছে।’</p><p><strong>নিরাপত্তাহীনতা</strong></p><p>সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে বলেছেন, হুমকি পাওয়া ও আতঙ্কের কারণে নিরাপত্তার কারণে শিশুটির পরিবার টঙ্গীর বাসায় আপাতত থাকছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে তাদের ফ্ল্যাটে (বাসায়) গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ওই সময় শিশুটির বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর।</p><p>১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়।</p><p>শিশুর বাবার করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেমকে ২১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ২৫ অক্টোবর তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/cm49h5rmes">টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ix6jx9tm/gazipur1.jpg"><figcaption>টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ</figcaption></figure><p>শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা ইতিমধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে ২৪ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনো তদন্তের কাজ চলমান।’</p><p>যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরদিন ২০ অক্টোবর শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। হাতে ছিল মিষ্টির প্যাকেট। তবে পরিবার সাড়া না দেওয়ায় ফ্ল্যাটের (বাসা) দরজা থেকে ফিরে যান তিনি। ওই ভবনের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে এই দৃশ্য দেখা গেছে।</p><p>ফ্ল্যাটে ঢুকতে না পেরে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে একটি খুদে বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। তাতে লেখা ছিল, ‘আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।’</p><p>তবে ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফিরে যান। ওই সময় শিশুটির বাবা বাসায় ছিলেন না।</p><p><strong>পাল্টা মামলা</strong></p><p>শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে টাকা নেওয়া বা সরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে অন্য কোনো তথ্য–প্রমাণ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশও তদন্ত করছে।</p><p>যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ এবং টাকা লুটের মামলার তদন্ত পৃথকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/aiwwwi9ikb">‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ</a></aside>

Prothomalo

View more
দ্রুত সময়ের মধ্যে আইজিপির দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম
দ্রুত সময়ের মধ্যে আইজিপির দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম

<p>‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।</p><p> মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরে এনসিপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, আইজিপির দায়িত্বে থাকার আর অধিকার নাই। আমরা আইজিপির অপসারণ চেয়েছি। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে যাঁর আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা ছিল, তিনি বলছেন ক্রসফায়ার করবেন সরকারের নির্দেশ পেলে। এইটা তো শেখ হাসিনার আমলেও আমরা এইভাবে খুল্লামখুল্লা কাউকে বলতে দেখি নাই। ফলে অবশ্যই পুলিশ বাহিনীর সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।’</p><p>উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে।</p><p>স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির নেতারা আধিপত্য বিস্তার করছেন। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে না পারলে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হবে। বিগত সরকারের মতো দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।</p><p>সরকার ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের মতো স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপির দলীয় লোকজন প্রশাসনে ঢোকানো হচ্ছে। পুলিশের আইজিপি ক্রসফায়ারের হুমকি দিচ্ছেন। কেউ সমালোচনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা কঠিন।</p><p>মতবিনিময় সভায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলেও পোশাকশ্রমিকদের বেতন না বাড়ানোর সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।</p><p>এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ গাজীপুর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালায় জুলাই আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা মো. বাপ্পিকে দেখতে যান নাহিদ ইসলাম।</p><p>সেখানে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সরকার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ফসল। এ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে, সরকারের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হয়েছে এই হাজারো মানুষের জীবনদান, তাদের অঙ্গদান, পঙ্গুত্বের কারণে। রাজনীতিসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে যাতে এই আহত ভাইবোনদের প্রতি সরকারের দৃষ্টি থাকে এবং কোনো প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তাদের এই চিকিসা গাফিলতি না হয়।’</p>

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে দুই স্ত্রীসহ গ্রামছাড়া করা হলো যুবককে
শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে দুই স্ত্রীসহ গ্রামছাড়া করা হলো যুবককে

শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে দুই স্ত্রীসহ গ্রামছাড়া করা হলো যুবককে

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী
ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী

<p>বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।</p><p>ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) ভোট দেওয়া যাবে। ভোটের আগে বিভিন্ন জরিপে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তাতে কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নির্বাচনী ফলাফলে চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।</p><p> ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ১২০ আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে ৬১টি আসন প্রয়োজন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। যদিও আইজেনকটের জোটের দলগুলোর নিজেদের মধ্যেও অনেক মতবিরোধ রয়েছে। কোনো জোট শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ভোটের পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে সরকার গঠনের জন্য কঠিন দর-কষাকষি চলতে পারে।</p><p>২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। সমালোচকদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ও তাঁর অতি ডানপন্থী সরকার ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দেশটির উদার গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর শক্ত সমর্থকগোষ্ঠী এখনো রয়েছে। এই সমর্থকেরা তাঁর নেতৃত্বকে অপরিহার্য মনে করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside><p>আইজেনকটের জোটে  নানা মতাদর্শের মানুষ ও দল রয়েছে। বামপন্থী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী থেকে শুরু করে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরাও আছেন। আছেন মধ্যপন্থী টেকনোক্র্যাট ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোও। তবে সবার লক্ষ্য একটিই—নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।</p><p>ভোট গণনার পর প্রতিটি দলকে তাদের পাওয়া ভোটের অনুপাতে আসন দেওয়া হবে। ভোটের পর সম্ভাব্য যে চার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/k6iyt23d/Israel_Info.jpeg"></figure><h3>দৃশ্যপট–১ : ভঙ্গুর জোট</h3><p>ভোটের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যে জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, সেই দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রেসিডেন্ট।</p><p>আইজেনকটের ক্ষমতায় যাওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট পথ হলো নেতানিয়াহুর অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে জোট গড়া। তাঁরা নিজেদের ‘পরিবর্তনের জোট’ বলে পরিচয় দেন। তাঁদের মধ্যে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু দলের আভিগদর লিবারম্যান যেমন আছেন, তেমনি আছে ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী দ্য ডেমোক্র্যাটস দলও।</p><blockquote>নেতানিয়াহুকে সরাতে চান এমন নেতাদের মধ্যে আইজেনকটই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলে ধারণা। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বেনেট বা লিবারম্যানের মতো অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রধানমন্ত্রীর পদ দাবি করতে পারেন।</blockquote><p>বিরোধী নেতাদের অনেকে ২০২১ সালেও এমন একটি জোট গড়েছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এক বছর পরই সেই জোট ভেঙে যায়। এবারও একই ধরনের জোটের একই পরিণতি হতে পারে। ২০২১ সালে নেতানিয়াহুর লিকুদ এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ইয়েশ আতিদ সবচেয়ে বেশি ভোট পায়। দুই দলই জোট গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। </p><p>এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে দর-কষাকষি চলে। এরপর নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন অনেক ছোট ডানপন্থী দল ইয়ামিনাকে জোটে আনতে প্রধানমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগিতে রাজি হয় ইয়েশ আতিদ। ঠিক হয়, পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন দুই দলের নেতা। প্রথমে দায়িত্ব পাবেন বেনেট। </p><blockquote>জনমত জরিপ বলছে, ৬১ আসনের সীমা ছুঁতে আইজেনকটকে হয়তো মনসুর আব্বাস ও তাঁর দল রামের ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের সরকারে কোনো আরব দলকে যুক্ত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।</blockquote><p>মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আরব ইসলামপন্থী দল রামও এতে যোগ দেয়। এর ফলে জোটটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে এই জোটের গড়া সরকার শুরু থেকেই বিভক্ত ছিল। ২০২২ সালে ইয়ামিনার সংসদ সদস্যরা দল ছাড়তে শুরু করেন। এতে সরকারের পতন ঘটে। নভেম্বরে আবার ভোট দিতে হয় ইসরায়েলিদের। সেই ভোটে জিতে আসে নেতানিয়াহুর জোট। প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।</p><p>জনমত জরিপ বলছে, ৬১ আসনের সীমা ছুঁতে আইজেনকটকে হয়তো আব্বাস ও তাঁর দল রামের ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের সরকারে কোনো আরব দলকে যুক্ত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।</p><p>নেতানিয়াহুকে সরাতে চান এমন নেতাদের মধ্যে আইজেনকটই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বেনেট বা লিবারম্যানের মতো অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রধানমন্ত্রীর পদ দাবি করতে পারেন। সেই পদ না পেলে সমর্থন দেবেন না বলেও হুমকি দিতে পারেন তাঁরা।</p><h3>দৃশ্যপট–২: স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা</h3><p>আরেকটি সম্ভাবনা হলো, জরিপের হিসাব ভুল প্রমাণিত হবে। কোনো একটি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ২০২২ সালে এমনটাই হয়েছিল। সে সময় নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা নভেম্বরের নির্বাচনে ৬৪টি আসন পান। যদিও তাঁরা মোট ভোটের প্রায় ৪৮ শতাংশ পেয়েছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/t3ofpnwb/Israel_Info.jpeg"></figure><p>সে সময় ইসরায়েলের নির্বাচনব্যবস্থা থেকে সুবিধা পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে ঢুকতে কোনো দলকে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। আপনি এমন কোনো দলকে ভোট দিলেন, যারা এই সীমা পার হতে পারল না। সে ক্ষেত্রে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত হিসাবে আপনার ভোট কোনো প্রভাব ফেলবে না।<br>নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দল প্রয়োজনীয় ভোট পায়নি। একটি বামপন্থী মেরেৎস। অন্যটি ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী দল ব্যালড। ফলে বিরোধী জোটের দুই লাখের বেশি ভোট কাজে আসেনি। তাদের এই ক্ষতিতে লাভ হয় নেতানিয়াহুর। মোট ভোটের হিসাবে তাঁর জোটের আনুপাতিক অংশ বেড়ে যায়।</p><p>নেতানিয়াহু সম্ভবত ২০২২ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি চাইছেন। ২০২২ সালের সাফল্য তাঁকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গড়ার সুযোগ দিয়েছিল। বছরের পর বছর যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেও তাঁর জোট স্থিতিশীল থেকেছে। টিকে আছে চার বছর ধরে।</p><p>প্রায় কোনো জনমত জরিপেই নেতানিয়াহুর মিত্রদের আবার সেই সাফল্য পাওয়ার ইঙ্গিত নেই। এবার নির্বাচনের অঙ্ক তাঁর বিরুদ্ধেও যেতে পারে। নতুন অতি ডানপন্থী দল আমখা ইসরায়েলের সমর্থন জরিপে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে সংসদে একটিও আসন না পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে দলটি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/90f3xg6t6a">নেতানিয়াহু না জিতলে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি</a></aside><p>ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের ভোট দেওয়ার হার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন দুই পক্ষের রাজনীতিকেরা। ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি ইসরায়েলিদের তুলনায় আরব নাগরিকেরা কম হারে ভোট দেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার তাঁরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে এলে বিরোধীরা সুবিধা পেতে পারেন।</p><h3>দৃশ্যপট–৩: অচলাবস্থা</h3><p>আরেকটি সম্ভাব্য পরিণতির কথা খুব কম ইসরায়েলিই ভাবতে চান। তা হলো, কেউই স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারবেন না। এতে আরেক দফা নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।</p><p>আগেও এমন হয়েছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছিল ইসরায়েল। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচটি নির্বাচন হয়।<br>জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট ৬১ আসনের সীমা থেকে অনেক পিছিয়ে থাকতে পারে। তাঁর বিরোধীরা চাইলে তাঁর সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে পারেন। তবে তাঁদের বেশির ভাগই তেমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। নেতানিয়াহুর শাসন টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করলে তাঁরা নিজেদের সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন।</p><aside><cite></cite>অচলাবস্থা চলতে থাকলে সবচেয়ে লাভবান হতে পারেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তিনি।</aside><p>তবে বড় কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সাময়িক জাতীয় ঐক্যের জোট গঠনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। যেমন ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে। ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর নেতানিয়াহুর কয়েকজন বিরোধী সাময়িকভাবে তাঁর সঙ্গে ‘যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায়’ যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আইজেনকটও ছিলেন। গাজায় সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে তাঁরা যোগ দেন।</p><p>নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সমস্যা থেকে যেতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুকে যতটা কঠোরভাবে বর্জন করেন, একে অপরকেও ততটাই করেন। যেমন আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট জয়েন্ট লিস্ট কয়েকটি আসন পেতে পারে। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েল বেইতেনুর মতো ডানপন্থী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/cfmqndp71q">ইসরায়েলে ৫০ বছরের মধ্যে রেকর্ড ভোট, বেশি ভোটার উপস্থিতি কার পক্ষে যেতে পারে</a></aside><p>নতুন ডানপন্থী দল রিজার্ভিস্টস পার্লামেন্টে যাওয়ার মতো ভোট পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। দলটি ঘোষণা দিয়েছে, অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল কিংবা আরব দলগুলো আছে, এমন কোনো জোটে তারা যাবে না। অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলো নেতানিয়াহুর সবচেয়ে সম্ভাব্য মিত্র। অন্যদিকে আরব দলগুলো আইজেনকটকে সহযোগিতা করতে পারে।<br>অচলাবস্থা চলতে থাকলে সবচেয়ে লাভবান হতে পারেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তিনি। ইসরায়েল আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কয়েক মাস এভাবে দায়িত্বে থাকতে পারেন তিনি।</p><h3>দৃশ্যপট–৪: সংখ্যালঘু সরকার</h3><p>কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে আইজেনকট বা তাঁর কোনো মিত্র সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। ইসরায়েলে এমন ঘটনা বিরল। এ জন্য আরব দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে না এনেও তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে আইজেনকটকে।<br>তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন জোটের পক্ষে সরকার চালানো কঠিন হবে। এ জন্য নেতানিয়াহুর তুলনামূলক বাস্তববাদী ডানপন্থী মিত্রদের কয়েকজনকেও পক্ষ বদলাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিজের জোটের ওপর নেতানিয়াহুর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্ত। এই নিয়ন্ত্রণের জোরে তাঁর সমর্থকদের ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঠেকিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4e6h7eeuye">ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ril9kyq0pv">দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফেদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও</a></aside>

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
জিপিএ–৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থী ও চা–দোকানি মা-বাবাকে সংবর্ধনা
জিপিএ–৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থী ও চা–দোকানি মা-বাবাকে সংবর্ধনা

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/jqhrbu7t/No.-1-Babar-GPA-5-Achievers-1.JPG"><figcaption>এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ ১৩৫ জন কৃতী শিক্ষার্থী ও তাঁদের চা–দোকানি বাবা–মাকে সংবর্ধনা দিয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’। ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>তাঁদের সবার বাবা–মা পেশায় চা–দোকানি। অভাব–অনটনের মধ্যেই লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন জিপিএ–৫ পেয়ে। সারা দেশের এরকম ১৩৫ জন কৃতী শিক্ষার্থী ও তাঁদের বাবা–মাকে সংবর্ধনা দিয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’।</p><p> মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বাবা ও মায়েদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় মেডেল।</p><p> অনুষ্ঠানে ১৩৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও এককালীন শিক্ষাবৃত্তির অর্থ। এ ছাড়া তাঁদের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আগামী দুই বছর শিক্ষাসহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে ব্র্যান্ডটি। এ উদ্যোগের আওতায় কৃতী শিক্ষার্থীরা অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম ‘টেন মিনিট স্কুলে’র এইচএসসি প্রস্তুতিমূলক একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ পাবে।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আয়মান সাদিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার, চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (অডিট) সাজ্জাদ হোসেন, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্র্যান্ড) মো. মাহবুবুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার অর্জুন চন্দ্র নাথ, আব্দুর রহিম শেখ এবং রতন মজুমদারসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন তমা রশিদ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/yxqouah8/02.-No.-1-Babar-GPA-5-Achievers.JPG"><figcaption>অতিথি ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃতী শিক্ষার্থী ও তাঁদের চা–দোকানি মা–বাবাদের একাংশ। ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>সংবর্ধনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘জীবনে বড় হওয়ার জন্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা, পরিশ্রম করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস। তোমাদের অনেকের পরিবার হয়তো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা যেন তোমাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। নিজেদের যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা পরিবার ও সমাজের জন্য গর্ব বয়ে আনবে—এটাই প্রত্যাশা।’</p><p>মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বাইরেও নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড গ্রাহকদের জন্য নানা কাজ করে। তারই অংশ হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক গ্রাহকদের অনুপ্রেরণা দিতে এ আয়োজন। চা–দোকানিদের সন্তানদের অর্জনই আমরা উদ্যাপন করতে চেয়েছি, যাতে তাঁরা সৎ, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন।’</p><p>চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এ উদ্যাপন শুধু আজকের আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি। উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছরসহ শিক্ষার পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত আমরা তাঁদের সঙ্গে থাকব। কারণ, অনেক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার আগেই ঝরে পড়তে দেখা যায়।’</p><p>শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আয়মান সাদিক বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে তোমরা নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছ। এবার এই অর্জনকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে এইচএসসিতে ভালো করতে পারবে। তোমাদের শিক্ষাযাত্রায় নাম্বার ওয়ানের এই সহায়তা যেন কাজে লাগে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’</p><p>অনুষ্ঠানের অতিথি ‘লিলিপুট ফারহান’ খ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফারহান সাদিক বলেন, ‘তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে, আমি যদি আমার মা-বাবাকে এভাবে সম্মানিত করার সুযোগ পেতাম, ভালো লাগত।’</p><h3>তাঁদের চোখে স্বপ্ন, মুখে সাফল্যের হাসি</h3><p>জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা থেকে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছে নুসরাত জাহান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। বাবাকে ধন্যবাদ, তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমি নির্ভার থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছি। এমন সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সাফল্য উদ্যাপনের জন্য নাম্বার ওয়ানকে ধন্যবাদ।’</p><p>সংবর্ধনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের বাবা জহির উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘আজ আমি খুব খুশি। আমার ছেলের রেজাল্ট শোনার পর যতটা আনন্দ পেয়েছিলাম, আজকের অনুষ্ঠানে এসে ততটাই আনন্দ লাগছে।’</p><p>কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নাম্বার ওয়ানের এই আয়োজন আমাদের জন্য অনেক উৎসাহের। এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দুই বছরের শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার সুযোগ আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে নিজের পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’</p><p>আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’ দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করে আসছে। প্রান্তিক পর্যায়ের চা–দোকানিদের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক আয়োজন করা হয়।</p><p>২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আয়োজনটি এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো। গত দুই বছরে ১৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা এখন দেশের বিভিন্ন নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান
ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/2014aj2a/WhatsApp-Image-2026-10-28-at-12.00.46-AM.jpeg"><figcaption>শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ স্মরণে সংগীতানুষ্ঠানে সংগীতপরিবেশেন করেন শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছায়াটন মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতকে যে বরণীয় শিল্পীরা প্রান্তিক অঞ্চলের শ্রোতার আসর থেকে নাগরিক সমাজের কাছে উপস্থাপন করে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। যদিও তিনি ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী হিসেবেই সমধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়। তবে ভাওয়াইয়া ছাড়াও নজরুলসংগীত ও আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তিনি বিশেষ পারঙ্গম ছিলেন। বিশেষত ইসলামি গানের শিল্পী হিসেবে রয়েছে তাঁর বিশেষ অবদান। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ইসলামি গান রচনার ক্ষেত্রেও তিনি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদের গাওয়া ইসলামি গানগুলো কালজয়ী হয়ে আছে।</p><p> আজ মঙ্গলবার ছিল এই কিংবদন্তি শিল্পীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে স্মরণ করে আজ সন্ধ্যায় সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট।</p><p>ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদকে স্মরণ করে সূচনা বক্তব্য দেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, ‘সংগীতের ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। ছায়ানট এই উত্তরাধিকারের সঙ্গে জনসাধারণের পরিচয় করিয়ে দেওয়া সাধনা করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ গানের আসরের আয়োজন করে হয়ে থাকে। এবার গানের আসরের মাধ্যমে শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। বাংলার গ্রামীণ জনপদে আমাদের গীতিকার ও সুরকারেরা যে লোকজ সাংগীতিক ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন, এতে সমাজের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর লোকসংগীতশিল্পীরা সেই সংগীতকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। এই শিল্পীদের মধ্যে আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদ ছিলেন অন্যতম।’</p><p>অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি গান ‘এ কোন মধুর শারাব দিলে’ পরিবেশনা দিয়ে। তরুণ শিল্পী প্রিয়ন্ত দেব পরিবেশন করেন গানটি। তাঁর গাওয়া পরের গানটিও কাজী নজরুল ইসলামের ‘বসিয়া নদীকূলে, এলোচুলে কে উদাসীনী’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/qdft3ua3/WhatsApp-Image-2026-10-28-at-12.01.36-AM.jpeg"><figcaption>শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ স্মরণে সংগীতানুষ্ঠানে সংগীতপরিবেশেন করেন শিল্পী শরিফা খাতুন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছায়াটন মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছিল আব্বাসউদ্দীন আহ্‌মদের গাওয়া কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন, আবদুল করিম ও আশুতোষ চৌধুরীর লেখা ও সংগৃহীত গান দিয়ে। সুমন মজুমদার ছিলেন দ্বিতীয় শিল্পী। তিনি তিনটি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। ‘বিশ্ব দুলালি নবী নন্দিনী খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী’, ‘তোমার আকাশে উঠেছিনু চাঁদ’ এবং ‘সাধ জাগে মনে পরজনমে’। এরপর ছিল লোকসংগীতের পরিবেশনা। শরিফা খাতুন প্রথমে গেয়েছেন ‘ফান্দে পড়িয়া বগা’ (সংগৃহীত), পরে আবদুল করিমের লেখা ভাওয়াইয়া ‘ওকি একবার আসিয়া’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/5vm1d92c/WhatsApp-Image-2026-10-28-at-12.02.07-AM.jpeg"><figcaption>শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ স্মরণে সংগীতানুষ্ঠানে সংগীতপরিবেশেন করেন শিল্পী প্রিয়ন্ত দেব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছায়াটন মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>জসীমউদ্‌দীনের লেখা ‘আমায় এত রাইতে ক্যানে ডাক দিলি’, ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’ এবং ‘গুরুর পদে প্রেম ভক্তি’ (সংগৃহীত) গেয়ে শুনিয়েছেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। এরপর আবুল কালাম আজাদ গেয়ে শুনিয়েছেন জসীমউদ্‌দীনের লেখা ‘নদীর কূল নাই কিনার নাই রে’ এবং দুটি সংগৃহীত ভাওয়াইয়া গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ ও ‘আবো নওদারিটা মারিয়া’। চন্দনা মুজমদারের গাওয়া গানের মধ্যে ছিল জসীমউদ্‌দীনের লেখা ‘প্রাণ সখী রে ওই শোন’, নজরুলসংগীত ‘নদীর নাম সই অঞ্জনা’এবং সংগৃহীত ‘ওই না মাধবী বনেতে লুকাইল’।</p><p>শেষে ছিল কিরণ চন্দ্র রায়ের পরিবেশনা। তিনি গেয়েছেন আশুতোষ চৌধুরীর লেখা ‘ও পরানের মাঝি’। পরের দুটি গান সংগৃহীত। ‘কোনবা রঙে বাইন্ধাচো ঘারখানি’। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’র পরিবেশনা দিয়ে। সংগীতশিল্পীদের যন্ত্রবাদন করেছেন তবলায় গৌতম কুমার সরকার, দোতারায় রতন কুমার রায়, ঢোলে দশরথ দাশ, বাঁশিতে মামুনুর রশীদ ও মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র
জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র

পাঠচক্রে কবির প্রতি বন্ধুদের ভাবনা, তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। সঞ্চালক বলেন, ‘আমার মনে হয়, কুসুমকুমারী দাশের লেখা “আদর্শ ছেলে” কবিতার সেই আদর্শ ছেলেটিই জীবনানন্দ দাশ। তিনি ছিলেন খুব চুপচাপ স্বভাবের এবং কাজের বেলায় বেশ পটু।’

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়া থেকে সুরক্ষায় চালু ‘অক্সিজেন বাস’
ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়া থেকে সুরক্ষায় চালু ‘অক্সিজেন বাস’

<p>দাবানলের কারণে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের একটি শহরের বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। খুব শিগগির আগুন নেভার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে চালু করা হয়েছে বিশেষ একধরনের বাস। সেগুলোতে ধোঁয়া থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে থাকবে অক্সিজেন ও চিকিৎসাকর্মী।</p><p> ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়মিতই দেখা যায়। মূলত সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এ ধরনের আগুন বেশি লাগে। তবে এবারের দাবানলকে বলা হচ্ছে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এই দাবানলের জেরে ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের আকাশও ধোঁয়ায় কমলা রঙের হয়ে উঠেছে।</p><p>বোর্নিও দ্বীপের যে শহরটিতে অক্সিজেন বাস চালু করা হয়েছে, সেটির নাম পালাংকা রায়া। এটি সেন্ট্রাল কালিমানতান প্রদেশের মধ্যে পড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই বাসে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। শহরের বাসিন্দারা বাসে উঠে নলের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ মিনিট অক্সিজেন নিতে পারছেন।</p><p>বাসগুলোর রং নীল ও সাদার মিশেলে। এমন একটি বাসে থাকা এক চিকিৎসাকর্মী বলেন, সেখানে আসা বেশির ভাগ মানুষের কাশি হচ্ছে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আর বাসে এসে অক্সিজেন নেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ওকতাভিনা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি প্রকৃতির কারণে সৃষ্টি হওয়া একটি দুর্যোগ। আমাদের করার তেমন কিছুই নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/nubl16rs/indo-2.JPG"><figcaption>সড়কের ধারে অক্সিজেন বাস। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পালাংকা রায়া শহরে</figcaption></figure><p>ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দাবানলের কারণে দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে আগস্ট থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সেন্ট্রাল কালিমানতান প্রদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ হাজার।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

<p>রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ ও হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এর স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। চারটি প্যাকেজের আওতায় এই দুই নতুন মেট্রোরেলের ৮ উড়াল স্টেশন ও ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর ও পূর্বাচলে দুই মেট্রোরেলে ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। </p><p>আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনে আলাদা আলাদাভাবে চারটি প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদার নিয়োগের চুক্তি সই হয়। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটিতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়ন রয়েছে। এই দুই মেট্রোরেল নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হবে দুই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন–১–এ খরচ হবে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। আর এমআরটি লাইন–৫–এ খরচ হবে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এমআরটি লাইন–১–এর দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের। আর এমআরটি লাইন–৫ হবে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলে স্টেশন থাকবে ২১টি। আর হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেলে স্টেশন থাকবে ১৪টি। এই দুটি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।</p><p>এদিকে নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএল এ তথ্য জানিয়েছে।</p><h3>চার প্যাকেজে যেসব কাজ হবে </h3><p>ডিএমটিসিএলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় চুক্তি অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের জন্য ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের সঙ্গে। এ ছাড়া এই লাইনের ৫ কিলোমিটার উড়ালপথ ও জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি স্টেশন নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে চীনের সিআরইসি ও এমবিইসি এবং জাপানের এমআইএলের সঙ্গে।</p><p>এমআরটি লাইন-৫ ডিপোর জন্য প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে তাইওয়ানের সিপিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানিলের সঙ্গে। এ ছাড়া অন্য প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা—এই পাঁচ স্টেশন নির্মাণের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি–এমআইএল–এমবিইসির সঙ্গে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে পরওয়ারের বৈঠক, এ অভিযোগ রাশেদকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জামায়াতের
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে পরওয়ারের বৈঠক, এ অভিযোগ রাশেদকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জামায়াতের

<p>জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এর জবাবে জামায়াত বলছে, যিনি বা যাঁরা এমন অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে।</p><p> আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।</p><p>বিবৃতিতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রেখে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কিন্তু সম্প্রতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াতের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>বিবৃতিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা ও তথ্যের সঠিকতা যাচাইপূর্বক প্রমাণ সাপেক্ষে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা প্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক থেকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।</p><p>যিনি বা যাঁরা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জড়িয়ে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়ে সংবাদ ছড়িয়েছেন, তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, তাঁদের উচিত অভিযোগের সত্যতা জাতির সামনে প্রকাশ করা। অসত্য তথ্য দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জাতির কাছে বিতর্কিত করার হীন ও নোংরা প্রয়াস সফল হবে না।</p><p>গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন।</p><p>রাশেদ আরও লিখেন, ‘যারা সারা দিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে, তারা কী কারণে, কোন স্বার্থে ভারতীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে? কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা, আর ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হওয়া এক জিনিস নয়।’</p><p>প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী লিখেন, ‘মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতি করে থাকেন, আশা করি তিনি গোপন এই বৈঠকের বিষয়টি খোলাসা করবেন। অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!’</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”