নোয়াখালীতে জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরি
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
সন্তান একটু ভুল কাজ করলেই বলা হয়, ‘তুমি পাপ করেছ, আল্লাহ তোমার ওপর কষ্ট পাচ্ছেন’ কিংবা ‘তোমার এই কাজে ফেরেশতারা লজ্জা পাচ্ছেন।’
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বরাবরই তাঁর স্বতন্ত্র ফ্যাশন–সেন্স দিয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করেন। সম্প্রতি সমুদ্র সবুজ পোশাকে ক্যামেরায় ধরা দিয়ে আবারও নজর কাড়লেন তিনি।
লামিনে ইয়ামালের গাঁথা আক্রমণের মালায় গোল করেছেন জোয়াও কানসেলো, ফেরমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমিরা।
স্পেনে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে যাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-০ গোলে হেরেছে। ক্লাব ব্রুগার কাছে ইন্টার মিলানের হার ৪-৩ গোলে।
<p>কলকাতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক নারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী তখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন।</p><p>তবে পুলিশ হামলা বা কোনো ধারালো বস্তুর কথা উল্লেখ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীকে আটক করা হয়েছে।</p><p>এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক দোলা সেন। অভিযোগে তিনি ওই নারীর নাম তন্নিষ্ঠা সাহা বলে উল্লেখ করেন। দোলা সেন জানান, তন্নিষ্ঠা একজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং তিনি নিজেকে মমতার ভাগনি বলে দাবি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, সন্ধ্যা ছয়টায় মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হলে তন্নিষ্ঠা তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মমতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন।</p><p>সিভিক ভলান্টিয়াররা চুক্তিভিত্তিক কর্মী। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ তাঁদের নিয়োগ দেয়। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো ও জননিরাপত্তার কাজে তাঁরা পুলিশকে সহায়তা করেন।</p><p>তৃণমূলের মমতা-অংশের দাবি, ওই নারী মাদকাসক্ত। জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া একজনের বাড়ির কাছে কেউ কীভাবে পৌঁছে গেল, সে প্রশ্নও তুলেছে দলটি। এর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।</p><p>অভিযোগে দোলা সেন লিখেছেন, ‘তিনি গালিগালাজ করছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় অষ্টম মুখ্যমন্ত্রীকে আঘাত করতে তিনি রাস্তায় শুয়েও পড়েন।’</p><p>অভিযোগের একটি অনুলিপি এক্সে পোস্ট করেছেন দলের মুখপাত্র সাকেত গোখলে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ একজন মাদকাসক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন। বাংলার অবস্থা এমনই যে জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীও নিরাপদ নন। দিদি দিল্লিতে বিজেপিকে শেষ করে দিতে বদ্ধপরিকর বলেই কি এটা বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?’</p><p>এর কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ওই নারীর পরিচয় জানায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর নাম অনুসূয়া সাহা, বয়স ৩৮ বছর। পুলিশ ঘটনাটিকে ‘বাগবিতণ্ডা’ বলেছে এবং জানিয়েছে, তাঁকে আটক করা হয়েছে।</p><p>পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে একটি ঘটনা ঘটে। অনুসূয়া সাহা নামের এক নারী তাঁর মুখোমুখি হন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে আটক করেন। এদিকে তৃণমূলের সদস্যরা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’</p><p><strong>আগেও হামলা</strong></p><p>গত মে মাসে টানা তিন মেয়াদের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারায় তৃণমূল। এরপর রাজ্য ও জাতীয় দুই পর্যায়েই দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে। ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলের মমতা-অংশের নেতা-কর্মীরা কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন।</p><p>আগস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কলকাতার শ্যামবাজার এলাকায় তাঁর গাড়িতে একটি বড় পাথর ছোড়া হয়েছিল। এতে তাঁর বুকে ব্যথা হয়, যা কয়েক দিন ছিল।</p><p>মে মাসে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক দিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। জেলাটি তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।</p><p>গত শনিবার বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদারের গাড়িতেও হামলা হয়। বিভাস সরদার বলেন, একদল লোক তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে, তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় এবং গাড়ির সামনের কাচে ইট ছোড়ে। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন বলে জানান।</p>
<p>ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিবাদ মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ।</p><p>তৃণমূল কংগ্রেস আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, মঙ্গলবার বেলা দুইটায় কলকাতার রাজাবাজার মোড় থেকে মিছিল বের হবে। মিছিলটি যাওয়ার কথা ছিল পার্ক সার্কাস মোড় পর্যন্ত। এতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা ছিল।</p><p>কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিল করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশের কাছ থেকে কোনো আগাম অনুমতি নেয়নি। মিছিল কোথা থেকে শুরু হবে, কোথায় শেষ হবে, তাতে কতজন থাকবেন—এসব কিছুই পুলিশকে জানানো হয়নি।</p><p>তাই বেলা দুইটার আগেই পুলিশ গিয়ে রাজাবাজার মোড় আটকে দেয়। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেখান থেকে মিছিল করার অনুমতি নেয়নি তৃণমূল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মিছিলে যোগ দিতে রাজাবাজার মোড়ে জড়ো হলেও পুলিশ কার্যত তাঁদের সেখানেই আটকে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/5wtt5dg5/kolkata-2.jpg"><figcaption>মিছিল আটকাতে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে এখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। রাজাবাজার মোড়, কলকাতা, ভারত, ১৩ অক্টোবর</figcaption></figure><p>তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও অশোক দেব এবং সাংসদ দোলা সেনসহ দলের নেতারা সেখানে উপস্থিত হন। মিছিলে যোগ দিতে না পেরে তাঁরা রাজাবাজার মোড়েই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।</p><p>সেখানে বসেই তৃণমূলের নেতারা কয়েকটি দাবি তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, এসআইআর বাতিল, বাদ পড়া ভোটারদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় তোলা এবং পুরোনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।</p><p>তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজাবাজার মোড়ের জমায়েতে আসেননি। মিছিলে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উদ্যোগও নেননি তিনি।</p><p>এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অনুমতি না নিয়ে যেন কোনো মিছিল বের না হয়। পুলিশও কার্যত সেই নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেখান থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা, পুলিশ সেখানেই তা শেষ করুক।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/soy8o5ts/IFIC-Bank-PR50-Years-Celebration-2026.jpeg"><figcaption>দেশব্যাপী আইএফআইসি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়</figcaption></figure><p>৮ অক্টোবর ছিল আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০তম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে গত শনিবার রাজধানীর আইএফআইসি টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়।</p><p>‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতে আইএফআইসির ৫০ বছরের পথচলা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এই অর্জনকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলেছে গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশা।</p><p>এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইএফআইসি ব্যাংকের চলমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।</p><p>স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, ‘গ্রাহকদের অবিচল বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আইএফআইসির পাঁচ দশকের পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমরা এমন এক আইএফআইসি রেখে যেতে চাই, যা আগামী ৫০ বছরেও মানুষের বিশ্বাস ও নির্ভরতার ঠিকানা হয়ে থাকবে।’</p><p>বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. এবতাদুল ইসলাম, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী মো. মাহবুব কাশেম এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা।</p><p>এর আগে ৮ অক্টোবর দেশব্যাপী আইএফআইসি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/kh3g6711/Loto_Bangladesh_Image.jpeg"><figcaption>ঢাকার গুলশান ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জামিল ইসলাম</figcaption></figure><p>স্পোর্টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘লোটো’, বাংলাদেশে তাদের পথচলার ১৫ বছর পূর্ণ করেছে। ৭ অক্টোবর ঢাকার গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং লোটো বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ ১৫ বছরের অগ্রযাত্রা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।</p><p>দেশের গ্রাহকদের কাছে ব্র্যান্ডটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটওয়্যার, অ্যাপারেল ও অ্যাকসেসরিজ পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে লোটোর ১৩৭টি ফ্ল্যাগশিপ এবং ১১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ মোট ২৪৭টি আউটলেট রয়েছে।</p><p>১৫তম বর্ষপূর্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নতুন কারখানার উদ্বোধন করেছে লোটো বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলে গঠিত এই কারখানায় টিপিআর, ইভিএ, পিইউ ও পিভিসি–ভিত্তিক স্পোর্টস ও লেদার ফুটওয়্যার উৎপাদিত হবে। বিশ্বমানের এই কারখানা দেশের বাজার ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেওয়া হয়, লোটো বাংলাদেশ সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও স্থানীয় ব্যবসা বিকাশে ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (এন্টারপ্রেনিউর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) চালু করতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবসার রূপরেখা দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল উদ্যোক্তারা ১০ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২০টি পর্যন্ত দোকানের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন। এতে ব্র্যান্ডটির খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।</p><p>লোটো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জামিল ইসলাম বলেন, ‘একজন গ্রাহক দিয়ে শুরু করা এই দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তিই ছিল ক্রেতাদের অকৃত্রিম বিশ্বাস। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের তরুণ সমাজ। সঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে এই তরুণ উদ্যোক্তারাই নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’</p>
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে।
সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন।
প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েটের এই অচলবস্থা কেন?
"আমার ছেলে সেদিন অনেক কান্না করেছে। এই কাজ হওয়ার পরে আমার ছেলে খুব মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ছিল। তার আধাঘণ্টা পরে সে আবার এসে নির্যাতন করেছে। আমার ছেলে ব্যাথায় ফজরের নামাজের জন্য পরে আর উঠতে পারে নাই।"
দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ করা যাবে না- নরেন্দ মোদীর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এটিকে "মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত" বলে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে ডিজেল আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?
স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
নোয়াখালী জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কমিশন বৃদ্ধি, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
কারিগর-সংকটের কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রতিমাশিল্পী পরাণ পাল বলেন, একসময় শুধু পালবংশের লোকেরাই প্রতিমা তৈরি করতেন। বর্তমানে তাদের বংশধরেরা এ কাজে আসছেন না। তারা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এটি বছরের নির্দিষ্ট সময়ের কাজ। অন্য পেশায় প্রতি মাসেই আয় করা যায়। তা ছাড়া বাজারমূল্য অনুযায়ী মজুরি কম পাওয়ায় কারিগরদের এখন আর এ কাজে পোষাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যের ওপর হামলা চেষ্টার ঘটেছে। মঙ্গলবা রাতে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে মমতার বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলবাজ তারা যে পরিচয় বা অবস্থানেই থাকুক না কেন, কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ।
রংপুর রেঞ্জের গত সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পরিস্থিতি ও সার্বিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ জেলা নির্বাচিত হয়েছে নীলফামারী জেলা পুলিশ। একইসঙ্গে রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই গ্রামের শাহাবুদ্দিন নতুন টিনশেড ঘর তুলেছেন। ওই ঘরে বিদ্যুৎ নেয়ার জন্য লাইন টানা হচ্ছিল। ওই তারের লিকেজ থেকে স্টিলের দরজায় বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় দুই শিশু ঘরের ভিতরে ছিল। দরজা খোলে বাইরে বের হওয়ার সময় তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন।