বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সোমবার চোরাচালানের সন্দেহে বিএসএফ সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতন করেন।
<p>বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদি। বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ বলে মন্তব্য করেন জলিল রাহিমি। তিনি বলেন, সমঝোতার নামে আত্মসমর্পণ মেনে নেবে না ইরান। সংঘাতের তৃতীয় দফায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের হামলা হলে ইরান পাল্টা জবাব দেবে।</p><p>ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল হারলেও ইরান ইস্যুতে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচনের ফল যা-ই হোক না কেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।</p><p>এদিকে ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাবের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক।</p><p>জলিল রাহিমি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে ইরান কখনোই সেসব দেশে হামলা করত না।</p>
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ককাসের চেয়ারপারসন ফাহিমা নাসরিন।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/692i55q5/kishorgonj_shahriar_jaman.jpg"><figcaption>মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান</figcaption></figure><p>কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন তাঁর বাবা আখতারুজ্জামান। বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।</p><p>আহত শাহরিয়ার জামানকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।</p><p>বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান।</p><p>স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গচিহাটা গ্রামে। সেখানে তাঁদের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহরিয়ার জামান বেশির ভাগ সময় গ্রামে থাকেন এবং পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে দলটির মনোনয়ন চেয়েও পাননি।</p><blockquote>শাহরিয়ার জামানের বাবা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ছেলের ওপর হামলার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন</blockquote><p>স্থানীয় লোকজন জানান, রাত আটটার দিকে শাহরিয়ার জামান গচিহাটা বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/vnep1djm75">বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আখতারুজ্জামান</a></aside><p>ঘটনার সময় শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। তিনি বলেন, শাহরিয়ার জামানের শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, বুকের আঘাতটি গুরুতর। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।</p><p>হামলার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।</p><p>তবে শাহরিয়ার জামানের বাবা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ছেলের ওপর হামলার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার সহস্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তাঁর ছেলের ওপর হামলা করেছেন এবং ছুরিকাঘাত করে আহত করেছেন।</p><p>আখতারুজ্জামান আরও লেখেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর ছেলে গচিহাটায় থাকেন এবং সেখানে খামার দেখাশোনা করেন। ছেলের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/2a4jgvwghu">আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ</a></aside><p>কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।</p><p>অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আখতারুজ্জামান ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।</p>
এত দিন কংগ্রেসে সংখ্যালঘু দল হওয়ায় ইনফান্তিনোকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাধ্য করার ক্ষমতা ছিল না ডেমোক্র্যাটদের।
২৮ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৩.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০ টা পর্যন্ত হবে এ মাসের অফলাইন সাধারণ সভা। সভায় অংশ নিতে তোমাকে পূরণ করতে হবে নিচের ফরমটি। ফরম পূরণের আগের অবশ্যই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করার নিয়মগুলো পড়ে নিতে হবে
<p>চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে। এতে শ্রমিক, পোশাকশিল্প ও দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।</p><p>আজ বুধবার রাতে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।</p><p>মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে যাঁরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সাথে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সবার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি সুনিশ্চিত করবেন।’</p><p>মাহদী আমিন জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিবিড়ভাবে কাজ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়েই বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পরিচিতি পেয়েছে। সরকার সব সময় সর্বোচ্চ মমত্ববোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে।</p><p>পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ সভায় শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধি এবং সরকার—আমরা সবাই মিলে একসাথে বসেছি। কারণ, এই দেশটাকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়, তবে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।’</p><p>পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মাঝে কিছু বহিরাগত এসে উসকানি দিচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’</p><p>মাহদী আমিনের দাবি, কিছু সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটলেও নিরীহ সাধারণ শ্রমিকেরা এসবের সঙ্গে জড়িত নন। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।</p><p>ত্রিপক্ষীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।</p>
<p>দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্প নিয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করলেন প্রথম আলোর কর্মীরা। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর ঢাকা ও সারা দেশের সর্বস্তরের কর্মীরা সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের দ্রুত খাপ খাইয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা ও সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার ওপর জোর দিয়েছেন।</p><p>সকাল নয়টায় প্রথম আলোর কর্মীরা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আসতে থাকেন। পুরুষদের গায়ে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী কর্মীরা পরেছিলেন শাড়ি। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের আবহে সৃষ্টি হয়েছিল এক আলাদা ঐকতান। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় অনেকে আর সঙ্গে নেই, আবার নতুন মুখ এসেছে অনেক। নতুন-পুরোনোতে মেলামেশা, প্রীতিসম্ভাষণ, কুশলবিনিময় আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অন্তরঙ্গ কেটেছে সারা দিন। </p><p>অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনা দিয়ে। প্রথম আলোর লক্ষ্য তারুণ্যের শক্তি ও উদ্যমের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া। ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ কর্মী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের পরিচালনায়। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বললেন, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর তিনি অংশ নিয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেন। সব বাধা অতিক্রম করে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সত্য প্রকাশে অবিচল থাকার উৎসাহ দিতেন। প্রথম আলো সেই পথেই চলেছে। মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ করেও প্রথম আলোকে সত্যানুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। এ নিয়েই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তথ্যচিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।</p><aside><cite>ম তামিম, উপাচার্য, আইইউবি</cite>‘প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে’</aside><p>তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘স্বপ্ন ও স্মৃতি দিয়ে গড়া আমাদের এ দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রথম আলো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে যাবে। প্রথম আলো অতীতে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করেনি, জঙ্গিদের খুশি করতে পারেনি, সবার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করতে পারেনি। সে কারণে ২৮তম বর্ষপূর্তির দিন প্রথম আলো বলছে, ‘স্যরি’। এই আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত থাকবে, অটল থাকবে প্রথম আলো।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/fxtd0shzjz">স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি </a></aside><h3>প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে প্রথম আলো </h3><p>প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর কর্মী ছাড়াও বেশ কিছু লেখক, পাঠক, মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী আসেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। এবার এসেছিলেন ম তামিম, আরিফ দৌলা, রুবানা হক ও মোশাররফ করিম। তাঁদের মঞ্চে আহ্বান করলেন সঞ্চালক কথা শোনার জন্য।</p><p>ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরার পর যখন প্রথম আলোতে তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল। তিনি বলেন, প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের রোষানলে পড়েছে প্রথম আলো। এ থেকে প্রমাণিত হয় প্রথম আলো সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে হামলার ঘটনার পরও প্রথম আলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।</p><aside><cite>আরিফ দৌলা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসিআই লিমিটেড </cite>প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকর অনেক রকমের কাজ করে’ </aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/5627n5x0/Prothom-Alo28th06.jpg"><figcaption>মঞ্চে বাঁ থেকে আরিফ দৌলা, ম তামিম, রুবানা হক ও মোশাররফ করিম। </figcaption></figure><p>এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা বলেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকর অনেক রকমের কাজ করে, অনেক উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে বিশেষ করে গণিত নিয়ে সারা দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথম আলোর যে কার্যক্রম, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশের বর্তমান পর্যায়ে এআই এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। প্রথম আলোকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব পরিবর্তন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে।’</p><p>পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক বলেন, ‘প্রথম আলো সত্যের আলো জ্বালিয়েছে। সেই আলোয় আমরা আমাদের চারপাশটা দেখতে পাই। ভবিষ্যতেও প্রথম আলো ন্যায্যতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখবে।’ পাঠক কী পড়তে চায়, সে বিষয়টি সম্পর্কে মনোযোগী হতে তিনি পরামর্শ দেন।</p><aside><cite>মতিউর রহমান, প্রথম আলো সম্পাদক</cite>বাধা আসবে, অতীতেও এসেছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না। সত্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারই হলো আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকের আস্থা আমাদের পুঁজি।</aside><p>অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম বলেন, ‘বহু দিন থেকেই প্রথম আলোর সঙ্গে আছি। প্রথম আলোর অনেক আয়োজনে যুক্ত থেকেছি। আজও আছি। সহজ কথায় বলতে গেলে প্রথম আলো আমাকে ভালোবাসে। আমিও প্রথম আলোকে ভালোবাসি।’ অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয় হলেও মোশাররফ করিম কবিতার চর্চাও করেন। সঞ্চালকের অনুরোধে তিনি তাঁর ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।</p><p>প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অতিথিদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।</p><h3>ভবিষ্যতের প্রথম আলো </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/wiedw6jx/IMG_3957.JPG"><figcaption>মঞ্চে বাঁ থেকে সাজ্জাদ শরিফ, শওকত হোসেন, জাবেদ সুলতান ও মোমেনুর রশিদ সিদ্দিকী</figcaption></figure><p>ছাপা পত্রিকা থেকে অনলাইন, ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—এরপর সামনের লক্ষ্য কী। এ নিয়ে একটি সীমিত পরিসরের আলোচনায় ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হলো এই পর্বে। সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বললেন, ‘১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর যখন আমরা প্রথম আলো নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন এত কিছু ভাবিনি। এখন ভাবতে হচ্ছে, ২০৩০-এ পাঠক ঘুম থেকে উঠে কীভাবে খবর দেখবেন? তিনি কি ছাপা পত্রিকা পড়বেন? অনলাইনে সার্চ করবেন? না অন্য কোনো কিছু? মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে। টিকে থাকতে হলে আমাদেরও সেভাবে বদলে ফেলতে হবে। উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রথম আলো তেমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাপ নতুন করে সাজানো হয়েছে। ‘শর্টস’, ‘ক্লিপস’, ‘গেমস’ নামে তিনটি নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আরও নতুন নতুন ফিচার আসবে। এ ক্ষেত্রে বার্তাকক্ষের ভূমিকা কেমন হবে?</p><aside><cite>মোশাররফ করিম, অভিনয়শিল্পী </cite>‘প্রথম আলো আমাকে ভালোবাসে। আমিও প্রথম আলোকে ভালোবাসি’</aside><p>এ প্রশ্নে হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন বলেন, ‘এত দিন ধরে আমাদের ছাপা পত্রিকাকেন্দ্রিক একটি অভ্যস্ততা আছে। সেখান থেকে মানসিকভাবে আমাদের সরে আসতে হবে। ডিজিটালই প্রথম—এই মনোভাব থাকতে হবে। এর পাশাপাশি রিপোর্টের বিষয়বস্তু, লেখা ও উপস্থাপনার ধরন—সবই ডিজিটাল মাধ্যমের উপযোগী করে তুলতে হবে। এসব নিয়ে অনেক কাজ চলছে।’</p><p>হেড অব ডিজিটাল বিজনেস জাবেদ সুলতান বলেন, আগামী দিনে ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট ছাড়া আরও অনেক ক্ষেত্র আছে, সেখান থেকে আয় বৃদ্ধি করতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/2fhthckv/Prothom_Alo_anniversary_Tanvir_041126__57.jpg"><figcaption>প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে পুরস্কৃত সেরা কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মীরা। </figcaption></figure><p>হেড অব রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোমেনুর রশিদ সিদ্দিকী বলেন, আগামী দিনে প্রথম আলোর ডিজিটালের গুরুত্ব নানা দিক থেকেই বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত ছাপা পত্রিকাই সামাজিক প্রভাব, জনসাধারণের আস্থা ও আয়ের প্রধান উৎস। সে কারণে ছাপা পত্রিকার গুরুত্ব এখনো আছে।</p><p>উপসংহারে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে নতুন পথ ধরে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করতে হবে।’</p><h3>সত্যর প্রতি অঙ্গীকারই আমাদের শক্তি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/pu1a9mhr/PAlo_28_Aniversary_MIR_031126_47.jpg"><figcaption>প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান</figcaption></figure><p>শেষ আলোচক হিসেবে মঞ্চে আসেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রথম আলোকে একটি এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রথম আলো এখন আরও বেশি ভবিষ্যৎমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সব বিভাগ নিজেদের তেমন করেই গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে।</p><p>সম্পাদক বলেন, ‘ছাপা পত্রিকার প্রচারসংখ্যা বাড়ানো এখনো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটিই একমাত্র লক্ষ্য নয়। আমাদের সাংবাদিকতার গুণমান বাড়াতে হবে। স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের আয় থেকে চলতে পারার কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এসব বিষয় আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’</p><figure></figure><p>মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আরও অনেক বহুমুখী কাজ করব। আমাদের প্রত্যেক বিভাগের কর্মীকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। টিকে থাকতে হলে এটা সবাইকে করতে হবে। বাধা আসবে, অতীতেও এসেছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না। সত্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারই হলো আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকের আস্থা আমাদের পুঁজি। এই শক্তি নিয়েই ভবিষ্যতের পথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’</p><h3>পুরস্কার ও গানে গানে সমাপনী </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/yt0sufgl/Palo_28_Dipu_041126_76.jpg"><figcaption>কর্মী সম্মেলনের শেষে ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’ ব্যান্ডের পরিবেশনায় সংগীতশিল্পী ইমন চৌধুরী, এরফান মৃধা শিবলু ও আলেয়া বেগম। </figcaption></figure><p>আলোচনার পালা শেষ হলে ছিল পুরস্কার বিতরণী। প্রথম আলোর কর্মীদের কুইজ প্রতিযোগিতা, লেখা প্রতিযোগিতা ও সেরা কর্মীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এই পর্বে।</p><p>অনুষ্ঠান শেষ হয় হয় বেঙ্গল সিম্ফনির মনমাতানো গানে গানে। শিল্পীরা তুমুল যন্ত্রবাদন ও ‘বারো মাসে বারো ফুল’, ‘ঘুমাইলা ঘুমাইলা বন্ধু’, ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’, ‘আটটা বাজে’, ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গেয়ে কর্মীদের মাতিয়ে রাখেন।</p><p>গানের পরে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষপূর্তির আনন্দঘন এই আয়োজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/sppq3k75nx">প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেরা কর্মী যাঁরা</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/rg8h050s/1.-Barishal-water-play.jpg"><figcaption>বুখাইনগর নদে ফুটবল নিয়ে দুরন্তপনায় মেতেছে শিশুরা। টুঙ্গিবাড়িয়া, বরিশাল, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/5yoioi6z/2.-Gazipur-protest-garments.jpg"><figcaption>মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ভোগড়া, গাজীপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/jf1m5umk/3.-Faridpur-Bamboo-basket.jpg"><figcaption>নিজের তৈরি বাঁশের ঝাঁকা ভ্যানে সাজিয়ে বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে যাচ্ছেন এক কারিগর। বদরপুর, ফরিদপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/56ywzx7n/4.-Faridpur-vagetable.jpg"><figcaption> এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করেছেন কৃষক সিরাজ শেখ। ভালো ফলন হওয়ায় শুরু করেছেন বিক্রি। ধোপাকান্দি, ফরিদপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/layft539/5.-Sirajgonj-flower.jpg"><figcaption>চারদিকে লাল রং ছড়িয়ে ফুটেছে কলাবতী ফুল। ষোলমাইল, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ৪ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/od7hsel2/6.-Barishal-boat.jpg"><figcaption>মাছ শিকার শেষে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাড়ি ফিরছেন জেলেরা। টুঙ্গিবাড়িয়া, বরিশাল, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/djbbeeh0/7.-Khulna-Shapla.JPG"><figcaption>বিল থেকে শাপলা তুলে বাড়ি ফিরছে দুই শিশু। গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খুলনা, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/lmn2o56j/8.-Khulna-bird.JPG"><figcaption>ঘেরের বাঁশের বেষ্টনীর ওপর বিশ্রাম নিচ্ছে পানকৌড়ি। গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খুলনা, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/9f0dfbt1/9.-Narayangonj-Garments-protest.jpg"><figcaption>৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। কাঠেরপুল, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ৪ নভেম্বর</figcaption></figure>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।